সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
চোখের যত্নে প্রতিদিনের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিদিনের যে ৭টি অভ্যাস নীরবে চোখের দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ

দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ অভ্যাস ধীরে ধীরে চোখের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখের বিভিন্ন সমস্যা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে পারে। তবে কিছু অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখলে এসব সমস্যার অগ্রগতি ধীর করা এবং দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় সহায়তা করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাঙ্গোন হেলথের চক্ষুবিদ্যার অধ্যাপক ড. ডগলাস লাজারো।   লাজারোর মতে, বংশগত কারণ ও বয়স চোখের বিভিন্ন রোগের বড় কারণ হলেও দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাসও চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তিনি বিশেষ করে সাতটি অভ্যাসের কথা উল্লেখ করেছেন।   এর মধ্যে প্রথমটি হলো রোদে বের হলে চোখের সুরক্ষা না নেওয়া। দীর্ঘ সময় অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং চোখের লেন্স ঘোলাটে হয়ে যাওয়া ছানি পড়ার অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। লাজারো জানিয়েছেন, তাঁর নিজের চিকিৎসা অভিজ্ঞতায় তিন দশক আগের তুলনায় এখন পাঁচ থেকে ১০ বছর আগেই ছানি দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে অতিবেগুনি রশ্মির দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। উজ্জ্বল রোদে সানগ্লাস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।   দ্বিতীয় অভ্যাস হলো কম আলোয় পড়াশোনা বা বই পড়া। পর্যাপ্ত আলো না থাকলে চোখে চাপ বাড়তে পারে এবং কোনো কিছুর ওপর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে অল্প আলো থেকে উজ্জ্বল আলোতে বা উজ্জ্বল পরিবেশ থেকে অন্ধকারে চোখের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। তাই পড়ার সময় পর্যাপ্ত আলো রাখার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো।   তৃতীয় বিষয়টি হলো অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস। পুষ্টিকর খাবার ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে, আর এসব রোগ চোখের দৃষ্টিশক্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। লাজারোর মতে, উচ্চ কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিসজনিত চোখের সমস্যাকে আরও খারাপ করতে পারে। চোখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা চলছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো আরও গবেষণা প্রয়োজন।   চতুর্থ অভ্যাস হলো পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখ শুষ্ক হওয়ার সমস্যা বা ড্রাই আই তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যেতে পারে। এতে চোখ লাল, চুলকানি ও অস্বস্তি হতে পারে। শরীরে পানিশূন্যতা থাকলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে গরমের দিনে বাইরে থাকার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো। এতে চোখের সামনের স্বচ্ছ অংশ কর্নিয়া আর্দ্র রাখতে সহায়তা করতে পারে।   পঞ্চম অভ্যাস হলো নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া। বিশেষ করে স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন লাজারো। এ ধরনের ঘুমের সমস্যার সঙ্গে গ্লুকোমা এবং চোখের কিছু রক্তনালিসংক্রান্ত সমস্যার বেশি উপস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। রাতে রক্তসঞ্চালনে ওঠানামার কারণে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া চোখের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাঁর মত।   ষষ্ঠ অভ্যাস হলো বারবার চোখ ঘষা। লাজারোর মতে, চোখ ঘষার অভ্যাস কেরাটোকোনাসের একটি ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। কেরাটোকোনাস এমন একটি চোখের সমস্যা, যেখানে কর্নিয়া ধীরে ধীরে স্বাভাবিক গোলাকার আকৃতি হারিয়ে সামনে দিকে উঁচু হয়ে শঙ্কুর মতো আকৃতি নিতে পারে। চোখ ঘষার অভ্যাস সরাসরি এ রোগ সৃষ্টি করে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে পুরোপুরি একমত না থাকলেও বারবার চোখ ঘষলে কর্নিয়ার আকৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই এ অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো।   সপ্তম এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত চোখ পরীক্ষা না করানো। গ্লুকোমা অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই ধীরে ধীরে চোখের অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ কারণে নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ চোখ পরীক্ষা করানো রোগটি দ্রুত শনাক্ত করার অন্যতম উপায় বলে জানিয়েছেন লাজারো। তিনি গ্লুকোমাকে এমন একটি রোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা দৃষ্টিশক্তির বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে এর প্রকোপও বাড়তে পারে।   লাজারো প্রাপ্তবয়স্কদের বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। শুধু কাছের জিনিস দেখতে সমস্যা শুরু হওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে নিয়মিত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। মধ্যবয়সে প্রেসবায়োপিয়া নামের একটি স্বাভাবিক বয়সজনিত পরিবর্তনের কারণে কাছের জিনিসে ফোকাস করতে সমস্যা হতে পারে এবং অনেকের পড়ার চশমার প্রয়োজন হয়।   তিনি আরও জানিয়েছেন, নিয়মিত চোখ পরীক্ষার সময় চোখের পাতায় ত্বকের ক্যানসার ও টিউমারের মতো সমস্যাও পরীক্ষা করা যেতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতিরিক্ত রোদে থাকার সঙ্গে ছানি ও ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের পাশাপাশি চোখের পাতার কিছু ক্যানসারের সম্পর্কও থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এসব সমস্যা দ্রুত শনাক্ত হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই তা অপসারণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।   চোখের রোগের ক্ষেত্রে বয়স ও বংশগতির মতো নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, রোদে চোখের সুরক্ষা, পর্যাপ্ত আলোয় পড়া, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম, চোখ না ঘষা এবং নিয়মিত পরীক্ষা—এই অভ্যাসগুলো চোখের দীর্ঘমেয়াদি যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৬:১২
দিল্লির পাঁচ তারকা হোটেল ঘিরে নারীর অভিযোগ
জরুরি প্রয়োজনে পাঁচ তারকা হোটেলের শৌচাগার ব্যবহার করতে না দেওয়ার লাইভে এসে নারীর ক্ষোভ

জরুরি প্রয়োজনে শৌচাগার ব্যবহার করতে চাইলেও দিল্লির একটি পাঁচ তারকা হোটেল তাঁকে অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এক নারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তিনি শাংরি-লা ইরোস নিউ দিল্লি হোটেলের বাইরে দাঁড়িয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন। ঘটনাটি নিয়ে ভারতে আলোচনা শুরু হলেও ভিডিওতে হোটেলকর্মীদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন দেখা যায় না। ফলে ঠিক কী কারণে তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়নি, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ভিডিওটি ৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুনরায় প্রকাশ করা হয়। পোস্টদাতা প্রশ্ন তোলেন, হোটেলে থাকার জন্য নিবন্ধিত না হলেই জরুরি প্রয়োজনে কাউকে শৌচাগার ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না কেন। পোস্টে ভারতের ১৮৬৭ সালের সরাই আইনের কথাও উল্লেখ করা হয়।   তবে ওই আইনের উল্লেখ করে যে কেউ যেকোনো হোটেলের শৌচাগার ব্যবহার করতে পারেন, এমন দাবি প্রতিষ্ঠিত হয় না। সরাই আইনের ৭(২) ধারায় ‘অবাধ প্রবেশাধিকার’ বলতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা তাঁর অনুমোদিত ব্যক্তির পরিদর্শনের জন্য প্রবেশের কথা বলা হয়েছে। ধারাটিতে সাধারণ মানুষের হোটেলের শৌচাগার ব্যবহারের সরাসরি অধিকার লেখা নেই। অন্য কোনো স্থানীয় নিয়ম এই হোটেলে প্রযোজ্য কি না, সেটিও এই ভিডিও থেকে নির্ধারণ করা যায় না।   অনলাইনে প্রতিক্রিয়াও বিভক্ত। অনেকে বলেছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে শৌচাগার ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত। অন্যরা হোটেলের নিরাপত্তা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তুলেছেন। কেউ কেউ নারীর বর্ণনা নিয়েও প্রশ্ন করেছেন। তবে এসব মন্তব্য ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল, তার প্রমাণ নয়।   ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, তারা অভিযোগের বিষয়ে হোটেলের বক্তব্য চেয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব জানানো হয়নি। হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছাড়া নারীর অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৫:৫২
সাইবেরিয়ায় প্লেগের আশঙ্কা নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আমেরিকা
সাইবেরিয়ার প্লেগ গবেষণাকর্মীর মৃ ত্যুর পর রাশিয়াকে সহায়তার কথা বলেছেন ট্রাম্প

রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর মৃ ত্যুর পর দেশটিকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের সমস্যায় পড়লে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে ওই কর্মী প্লেগে আ ক্রা ন্ত হয়েছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি রুশ কর্তৃপক্ষ।   ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কর্মী নিউমোনিয়ায় মৃ ত্যু বরণ করেছেন। তবে তাঁর অসুস্থতার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।   গভর্নর কোবজেভ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মীদের মধ্যে নতুন করে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার ঘটনাও শনাক্ত হয়নি।   সাইবেরিয়ার ওই ঘটনার বিষয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে রাশিয়াকে সহায়তা করবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন বিষয়টির ওপর নজর রাখছে। তবে ট্রাম্পের সহায়তার প্রস্তাবের পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।   রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই কর্মীর মৃ ত্যুর সঙ্গে তাঁর গবেষণাগারের কাজের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরীক্ষাগারে জীবাণু ব্যবস্থাপনার সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা চলছে, তার পক্ষেও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জন্য জনস্বাস্থ্যঝুঁকি কম বলে মনে হচ্ছে। তবে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে ঝুঁকির মাত্রা আবার মূল্যায়ন করা হবে।   রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে প্লেগ নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মীর মৃ ত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নজর কেড়েছে। বিশেষ করে কর্মীর অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।   তবে রুশ কর্তৃপক্ষের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ওই কর্মীর মৃ ত্যু প্লেগ সংক্রমণের কারণে হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই। একইভাবে গবেষণাগারে কোনো দুর্ঘটনা থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, এমন দাবিরও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প ও রুবিও। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম বলেই মনে হচ্ছে। নতুন তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে জনস্বাস্থ্যঝুঁকির মূল্যায়নও পরিবর্তন করা হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৫:৪৩
নিউইয়র্কে ১০ হাজারের বেশি শিশুর জন্য চাইল্ড কেয়ার সহায়তা
নিউইয়র্কে অপেক্ষমাণ ১০ হাজারের বেশি শিশুকে চাইল্ড কেয়ার ভাউচার দেবে সিটি

নিউইয়র্ক সিটির চাইল্ড কেয়ার ভাউচারের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ১০ হাজারের বেশি শিশুকে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। সোমবার, ৫ অক্টোবর সিটি কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামী কয়েক সপ্তাহে তালিকায় থাকা পরিবারগুলোকে ধাপে ধাপে আবেদনের আমন্ত্রণ পাঠানো হবে। যোগ্যতা যাচাইয়ের পর তারা বিনা খরচে শিশুর যত্নের জন্য ভাউচার পাবে। ফলে ঘোষণাটি এলেও সব শিশু এখনই তালিকা থেকে বাদ পড়েনি বা সেবায় ভর্তি হয়নি।   চাইল্ড কেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের এই ভাউচার ছয় সপ্তাহ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রযোজ্য। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ১৯ বছর পর্যন্ত। ভাউচার পাওয়া পরিবার তাদের পছন্দের অংশগ্রহণকারী সেবাদাতার কাছে শিশুকে রাখতে পারবে। সিটি সম্প্রতি ভাউচার পাওয়া পরিবারগুলোর নিজস্ব খরচের অংশও তুলে দিয়েছে।   সিটির শিশু সেবা সংস্থা এসিএস জানিয়েছে, আবেদনকারীদের মধ্যে ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ৩০০ শতাংশের নিচে আয়ের পরিবার, বাসস্থানহীন পরিবার এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর পরিবার অগ্রাধিকার পাবে। অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা পরিবারগুলোকে আগামী কয়েক মাস ধরে পর্যায়ক্রমে আমন্ত্রণ পাঠানো হবে। তাই এখনো আমন্ত্রণ না পাওয়া পরিবারের আবেদন ও যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ আসতে সময় লাগতে পারে।   মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, নিউইয়র্কে চাইল্ড কেয়ার খাতে গভর্নর ক্যাথি হোকুলের ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের বরাদ্দের মধ্যে ৪৭৫ মিলিয়ন ডলার ভাউচার কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত। সিটি কর্তৃপক্ষ শিশুদের যত্নের সেবাদাতাদের খোঁজার মানচিত্রেও নতুন সুবিধা যুক্ত করেছে। সেখানে কোন লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ভাউচার গ্রহণ করে, তা পরিবারগুলো দেখতে পারবে।   অপেক্ষমাণ তালিকার সংকট অবশ্য এই ঘোষণায় পুরোপুরি কাটছে না। শিক্ষা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম চকবিটের হিসাবে, গত মাসে তালিকায় প্রায় ৩০ হাজার শিশু ছিল। প্রথম দফায় ১০ হাজারের বেশি শিশুকে সহায়তা দেওয়া হলেও আরও প্রায় ২০ হাজার শিশু অপেক্ষায় থাকতে পারে। ‘টু-কে’ নামে দুই বছর বয়সীদের জন্য সিটির আলাদা বিনা খরচের কর্মসূচি রয়েছে; নতুন ভাউচার ঘোষণা সেই কর্মসূচি থেকে পৃথক।   সূত্র: নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের কার্যালয় ও চকবিট।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৫:৩৪
উচ্চ ভবনে কাজের সময় ব্যবহৃত নিরাপত্তার দড়ি কেটে ফেললেন বৃদ্ধ
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী কমানোর বড় পরিকল্পনা বিরোধী জোটের, পরিবর্তনের প্রস্তাব শিক্ষার্থী ভিসায়

ক্ষমতায় গেলে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির বিরোধী লিবারেল ও ন্যাশনাল দলের জোট। মঙ্গলবার ঘোষিত প্রস্তাবে প্রথম দুই বছর বছরে নিট অভিবাসীর সংখ্যা ১ লাখে নামানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর একে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে অভিবাসন কমানোর সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা বলে দাবি করেছেন।   নিট অভিবাসন বলতে নির্দিষ্ট সময়ে দেশে আসা ও দেশ ছেড়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যার পার্থক্য বোঝায়। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত আগের ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়ায় এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০। বিরোধী জোটের পরিকল্পনায় প্রথম দুই বছর তা বছরে ১ লাখ এবং চতুর্থ বছরে ১ লাখ ৬০ হাজারে রাখার কথা বলা হয়েছে।   জোটের প্রকাশিত নীতিপত্রে চার বছরে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা অস্থায়ী ভিসাধারীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। সংখ্যাটি চার বছরে দেওয়া নতুন ভিসা কমানোর হিসাব নয়। নীতিপত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নতুন ভর্তি বছরে ২ লাখ ৪০ হাজারে সীমিত করা এবং টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসা কর্মসূচি বন্ধের প্রস্তাবও আছে। তবে পিএইচডি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ে অধ্যয়নরত এবং আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর জন্য পড়াশোনার পর থাকার বিকল্প ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।   মানবিক ভিসার বার্ষিক সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে ১০ হাজার করার প্রস্তাব দিয়েছে বিরোধী জোট। একই সঙ্গে দক্ষ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছে তারা। নীতিপত্র অনুযায়ী, এই পরিকল্পনায় পারিবারিক পুনর্মিলনের ভিসায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব নেই।   টেইলরের দাবি, অভিবাসীর সংখ্যা কমলে আবাসন, স্কুল, সড়ক ও অন্যান্য সেবার ওপর চাপ কমবে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য তাঁর জোটকে আগে ক্ষমতায় আসতে হবে। ফলে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে বা কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য মঙ্গলবারের ঘোষণায় ভিসার নিয়ম এখনই বদলে যায়নি।   সূত্র: বিরোধী জোটের নীতিপত্র, এএফপি ও রয়টার্স।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৫:২৫
মেঝেতে শুয়েই ওয়াইটের চুল কাটছেন নাপিত ফ্রাঞ্জ
অটিজমে আক্রান্ত শিশুর চুল কাটতে মেঝেতে শুয়ে পড়েন নাপিত, ছবি ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে

ছয় বছর বয়সী ওয়াইটের জন্য চুল কাটানো বরাবরই বেশ কঠিন একটি অভিজ্ঞতা। নাপিতের দোকানের শব্দ, শরীরে অন্য কারও স্পর্শ এবং দীর্ঘ সময় এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে থাকা—এই বিষয়গুলো তার জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অটিজমে আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি অনেক সময় আরও বেশি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ওয়াইটের ক্ষেত্রেও চুল কাটার সময় স্বাভাবিকভাবে চেয়ারে বসে থাকা সহজ নয়।   কানাডার কুইবেকে নাপিত ফ্রান্সিস ‘ফ্রাঞ্জ’ জ্যাকবের কাছে গত দুই বছর ধরে ওয়াইটের চুল কাটাচ্ছেন তার মা ফভি লাফ্রেনিয়ের। এই সময়ের মধ্যে ফ্রাঞ্জ বুঝে গেছেন, ওয়াইটকে অন্য শিশুদের মতো চেয়ারে বসিয়ে রেখে চুল কাটা সম্ভব নয়। তাই শিশুটিকে নিজের মতো করে স্বস্তিতে থাকার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে চুল কাটার কাজটি করা যায়, সেই পথই বেছে নিয়েছেন তিনি। চুল কাটার সময় ওয়াইট অনেক সময় নাপিতের চেয়ারে বসে থাকতে পারে না। সে বারবার উঠে দোকানের ভেতর হাঁটাহাঁটি করে। কখনো কোথাও দাঁড়িয়ে থাকে, আবার কখনো মেঝেতে শুয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে জোর করে চেয়ারে বসিয়ে রাখার চেষ্টা করেননি ফ্রাঞ্জ। বরং ওয়াইট যেখানে যায়, সেখানেই তাকে অনুসরণ করে চুল কাটার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এই কাজটি সহজ করার জন্য ফ্রাঞ্জ কর্ডলেস ক্লিপার কিনেছেন। ফলে বৈদ্যুতিক তার বা নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন হয় না। ওয়াইট দোকানের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে গেলেও ফ্রাঞ্জ তার সঙ্গে সঙ্গে যেতে পারেন। কখনো ওয়াইট মেঝেতে শুয়ে পড়লে ফ্রাঞ্জও মেঝেতে বসে বা শুয়ে চুল কাটার কাজ চালিয়ে যান। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুটিকে অস্বস্তিতে না ফেলে প্রয়োজনীয় কাজটি শেষ করা। সম্প্রতি ওয়াইটের চুল কাটার সময় ফ্রাঞ্জের মেঝেতে শুয়ে কাজ করার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে দেখা যায়, প্রচলিত নিয়মে চেয়ারে বসিয়ে চুল কাটার পরিবর্তে নাপিত শিশুটির অবস্থানের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে কাজ করছেন। ছবিটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে যে বিষয়টি অনেকের কাছে ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে, ফ্রাঞ্জের কাছে সেটি তার কাজেরই একটি স্বাভাবিক অংশ। তিনি নিয়মিত অটিজমে আক্রান্ত শিশু এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চুল কাটেন। তাই এসব শিশুর আচরণ, অস্বস্তি এবং প্রয়োজনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চুল কাটার ক্ষেত্রে সময়ও তুলনামূলকভাবে বেশি লাগে। ফ্রাঞ্জের ক্ষেত্রে কোনো কোনো চুল কাটার জন্য ৯০ মিনিট পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। কারণ সেখানে শুধু দ্রুত চুল কেটে দেওয়া নয়, শিশুটির স্বস্তি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওয়াইটের ক্ষেত্রেও ফ্রাঞ্জ ধৈর্য ধরে কাজ করেন। শিশু হাঁটতে চাইলে তাকে হাঁটার সুযোগ দেন। কোথাও থেমে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অপেক্ষা করেন। মেঝেতে শুয়ে পড়লে প্রয়োজনে সেখানেই চুল কাটেন। অর্থাৎ শিশুটিকে নিজের কাজের নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বদলে তিনি নিজের কাজের পদ্ধতিটিই শিশুটির প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে নিয়েছেন। ফ্রাঞ্জের এই আচরণ শুধু ওয়াইটের পরিবারের জন্যই স্বস্তির কারণ হয়নি, বরং অন্য অনেক পরিবারের কাছেও তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তার মানবিক ও ধৈর্যশীল আচরণের কথা ছড়িয়ে পড়ায় দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ তার কাছে শিশুদের চুল কাটাতে আসেন। কেউ কেউ তার কাছে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথও পাড়ি দেন। একটি শিশুর আচরণকে বিরক্তিকর বা সমস্যাজনক হিসেবে না দেখে তার প্রয়োজন বুঝে কাজ করার এই পদ্ধতিই ফ্রাঞ্জকে আলাদা করে তুলেছে। চুল কাটার মতো সাধারণ একটি কাজও অটিজমে আক্রান্ত কোনো শিশুর জন্য কতটা কঠিন হতে পারে, ওয়াইটের ঘটনাটি সেটিই সামনে এনেছে। ওয়াইটের চুল কাটার সেই ভাইরাল ছবিটি তাই শুধু একজন নাপিতের ভিন্নভাবে কাজ করার দৃশ্য নয়। এটি একজন শিশুর প্রয়োজনের প্রতি ধৈর্য, সহমর্মিতা ও সম্মান দেখানোর একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ফ্রাঞ্জের জন্য বিষয়টি হয়তো তার প্রতিদিনের কাজেরই অংশ, কিন্তু তার এই ছোট্ট উদ্যোগই অনেক মানুষের কাছে বড় মানবিকতার বার্তা হয়ে পৌঁছেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৫:৩
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘অর্থহীন’, বললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘অর্থহীন’, বললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার তেহরানে আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরারাত মিরজোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। তাঁর বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বন্ধের চেষ্টা ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ চলছে।    ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে এএফপি জানিয়েছে, পেজেশকিয়ানের অভিযোগ, আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটন আলোচনা চায় না, বরং ইরানের সরকার পরিবর্তন করতে চায় বলেও দাবি করেন তিনি।    কয়েক দিন আগেও পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপ থেকে তেহরান সরে যাবে না। সংঘাত বন্ধে ইরানের একটি প্রস্তাবের জবাব যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জানিয়েছিল। সোমবারের মন্তব্যের পর সেই যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।    দুই পক্ষের মতবিরোধের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং সংঘাত বন্ধের শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার রোববার বলেছেন, তাঁদের নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না। এই অবস্থায় পেজেশকিয়ানের নতুন বক্তব্য আলোচনা এগোনোর পথ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও স্পষ্ট করেছে।    সূত্র: এএফপি, আরব নিউজ ও রয়টার্স।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৪:৫৮
গাজায় ইসরায়েলিদের চালানো নির্যাতন ও বেসামরিক প্রাণহানি নিয়ে তথ্যচিত্র 'নাজা' যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা হলে
গাজায় ইসরায়েলিদের চালানো নির্যাতন ও বেসামরিক প্রাণহানি নিয়ে তথ্যচিত্র 'নাজা' যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা হলে

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। ইসরায়েলি পরিচালক ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সোরের ছবিটিতে কয়েকজন সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের দাবি, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণের সময় সম্ভাব্য বেসামরিক প্রাণহানির হিসাব করা হতো। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তথ্যচিত্রটির মূল অভিযোগ অস্বীকার করেছে।    গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের আইএফসি সেন্টারে ছবিটির প্রদর্শন শুরু হয়। আগামী ৯ অক্টোবর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগোসহ যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি শহরে এটি মুক্তি পাওয়ার কথা। এর আগে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নাজা’ বিশেষ জুরি পুরস্কার পায়।    তথ্যচিত্রে সাক্ষাৎকার দেওয়া ব্যক্তিদের মুখ ও কণ্ঠ গোপন রাখা হয়েছে। তাঁরা গাজায় নজরদারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং হামলার লক্ষ্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে কথা বলেছেন। নির্মাতাদের বক্তব্য, পরিচয় প্রকাশ পেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কা ছিল। সাক্ষাৎকারদাতাদের দাবিগুলো চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় যাচাই করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। তবে ছবিতে তুলে ধরা প্রতিটি ঘটনার বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।    ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, তাদের নির্দেশনায় যোদ্ধা ও বেসামরিক মানুষের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে করা হয় এবং বেসামরিক ক্ষতি কমানোর চেষ্টা থাকে। বাহিনীটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও বলেছে, হামলার লক্ষ্য গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নির্বাচন করেন এবং হামলার সিদ্ধান্ত নেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডাররা।    ছবিটি ঘিরে ইসরায়েলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে নিউইয়র্কে ছবিটির প্রদর্শনীর বাইরেও বিক্ষোভ হয়েছে। নির্মাতা আব্রাহাম বলেছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা অন্যায় ছিল; একই সঙ্গে সেই হামলা গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিকে ন্যায্যতা দেয় না।    ‘নাজা’ যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাওয়ায় গাজা যুদ্ধের পাশাপাশি ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা নিয়েও আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। তবে তথ্যচিত্রে সাক্ষাৎকারদাতাদের অভিযোগ, নির্মাতাদের বক্তব্য এবং ইসরায়েলি বাহিনীর জবাব আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি।    সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৪:৩৪
ফ্রান্স থেকে অবৈধ পথে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টায় নৌকায় দুইজনের মৃত্যু
ফ্রান্স থেকে অবৈধ পথে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টায় নৌকায় দুইজনের মৃত্যু, দগ্ধ দুই নারী

ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলীয় বের্ক উপকূল থেকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় একটি নৌকায় দুই পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধ হয়েছেন আরও দুইজন। রোববার ৪ অক্টোবর রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। ফরাসি সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের হিসাবে নৌকাটিতে প্রায় ৯০ জন ছিলেন।   উদ্ধারকারীরা দুই পুরুষকে হৃদ্‌যন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ অবস্থায় পান। পরে তাঁদের মৃত ঘোষণা করা হয়। ফরাসি কর্তৃপক্ষ এএফপিকে জানিয়েছে, একজনের বয়স ত্রিশের কোঠায়, অন্যজনের চল্লিশের কোঠায়। তাঁদের জাতীয়তা তখনো জানা যায়নি।   বুলোন-সুর-মেরের প্রসিকিউটর সেসিল গ্রেসিয়ে এএফপিকে বলেন, তাঁরা একজন নারী ও প্রায় ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে। শিশুটিকে লিলের বিশেষায়িত বার্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।    ফরাসি সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকায় থাকা পেট্রলের দীর্ঘ সংস্পর্শে দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, নৌকার ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও দুই পুরুষের মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত চলছে। আহতদের বিষয়ে প্রাথমিক ও পরবর্তী বিবরণে পার্থক্য থাকায় তদন্তের ফলের আগে ঘটনার সব দিক নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।    প্রসিকিউটরের তথ্য অনুযায়ী, হতাহতদের উদ্ধার করার পরও নৌকাটি যাত্রা চালিয়ে যায়। পরে ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দিলে বাকি যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক যে প্রতিবেদনে নৌকার ইঞ্জিনে আগুন লাগার কথা বলা হয়েছিল, সেটি ফরাসি কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বিবরণে নিশ্চিত করা হয়নি।    এর আগের দিন, রোববার, আরেকটি নৌকার প্রায় ১৪৯ জন যাত্রীকে ইংল্যান্ডের গসপোর্টে তীরে আনা হয়। সেটি বের্কের প্রাণহানির ঘটনা থেকে আলাদা। গসপোর্টে তাঁদের পৌঁছানো ঘিরে বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ।    সূত্র: ফরাসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে এএফপি ও রয়টার্স; গসপোর্টের ঘটনায় হ্যাম্পশায়ার পুলিশ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৪:১৩
আলাবামার নার্সিং বোর্ডে সাইবার হামলা, নার্সদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা
আলাবামার নার্সিং বোর্ডে সাইবার হামলা, নার্সদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা বোর্ড অব নার্সিংয়ে র‍্যানসমওয়্যার হামলার ঘটনায় নার্স ও লাইসেন্স আবেদনকারীদের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকিতে থাকা তথ্যের মধ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, ড্রাইভার লাইসেন্স নম্বর ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যও রয়েছে। ২ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড জানিয়েছে, হামলাকারীরা কিছু তথ্য সংগ্রহ ও ডাউনলোড করেছে বলে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে সবার তথ্য আক্রান্ত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা যায়নি।    বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে গত আগস্টে তাদের প্রযুক্তিব্যবস্থায় সন্দেহজনক কার্যক্রমের সন্ধান পাওয়া যায়। ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যবস্থার কিছু অংশে ক্ষতিকর কার্যক্রমের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। ওই দিন থেকে বোর্ডের সেবা ব্যাহত হতে শুরু করে।   ঘটনার পর আলাবামা অফিস অব ইনফরমেশন টেকনোলজি ও বাইরের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ শুরু করে বোর্ড। তদন্তে এফবিআই এবং আলাবামা ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিকেও সহযোগিতা করছে কর্তৃপক্ষ।   বোর্ড জানিয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় হামলার বিস্তার ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। আক্রান্ত সিস্টেমগুলো অফলাইনে নিয়ে ধাপে ধাপে নিরাপদ সেবা চালুর কাজ চলছে। তবে র‍্যানসমওয়্যার হামলার কারণে তদন্তে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় ঠিক কার কোন তথ্য দেখা বা নেওয়া হয়েছে, তা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা তথ্যের মধ্যে নাম, জন্মতারিখ এবং পেশাগত লাইসেন্সের তথ্যও রয়েছে।    নার্স ও আবেদনকারীদের অপ্রত্যাশিত ইমেইল, টেক্সট মেসেজ এবং ফোনকলের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে বোর্ড। লাইসেন্স নবায়ন, ফি, তদন্ত বা অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের কথা বলে কেউ যোগাযোগ করলে যাচাই ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া কিংবা পাঠানো লিংকে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   বোর্ডের পোর্টালে ব্যবহৃত একই বা কাছাকাছি পাসওয়ার্ড অন্য অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করে থাকলে তা পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক ধাপে পরিচয় যাচাই চালু রাখা এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্রেডিট রিপোর্ট ও হেলথ ইন্স্যুরেন্সের হিসাব নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   পরিচয় চুরির ঝুঁকি কমাতে ক্রেডিট ফ্রিজ বা ফ্রড অ্যালার্ট বিবেচনা করতেও বলা হয়েছে। বোর্ড স্পষ্ট করেছে, তারা নিজে থেকে ইমেইল, টেক্সট মেসেজ বা অপ্রত্যাশিত ফোনকলের মাধ্যমে কারও পাসওয়ার্ড চাইবে না।    সেবা পুনরুদ্ধারের মধ্যেই বোর্ডের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, বর্তমানে রেজিস্টার্ড নার্সদের লাইসেন্স নবায়নের কাগজের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। ২০২৬ সালের নবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট নার্সদের বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।    সূত্র: আলাবামা বোর্ড অব নার্সিংয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি ও সেবাসংক্রান্ত হালনাগাদ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৩:৪৯
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য বাড়ছে আইনি ঝুঁকি
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য বাড়ছে আইনি ঝুঁকি, একটি ভুলেই জেল ও ডিপোর্টেশন

যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা বা কাজের জন্য যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যৌন প্রকৃতির কথোপকথন বা দেখা করার চেষ্টা করে গুরুতর আইনি ঝুঁকিতে পড়ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এমন কয়েকটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে শুধু কোনো অভিযোগ উঠলেই ভিসা বাতিল বা ডিপোর্টেশন নিশ্চিত হয়ে যায়, এমন ধারণা সঠিক নয়। ফৌজদারি মামলার ফল, দণ্ডের ধরন এবং ইমিগ্রেশন আইনের বিভিন্ন শর্তের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করে।   ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যৌন সম্মতির সাধারণ বয়স ১৬ বছর। তবে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী কোনো ব্যক্তি ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুর সঙ্গে যৌন উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করলে সেটি ফৌজদারি অপরাধ হতে পারে। সেক্সুয়াল অফেন্সেস অ্যাক্ট ২০০৩-এর সেকশন ১৫এ অনুযায়ী, যৌন তৃপ্তির উদ্দেশ্যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুর সঙ্গে যৌন প্রকৃতির যোগাযোগ করলে, অথবা শিশুকে যৌন প্রকৃতির যোগাযোগে উৎসাহিত করলে, অপরাধ সংঘটিত হতে পারে। এই যোগাযোগ অনলাইন বা অফলাইন দুইভাবেই হতে পারে।   ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু সরাসরি শারীরিক সম্পর্কই আইনি ঝুঁকি তৈরি করে না। যৌন প্রকৃতির মেসেজ, ছবি চাওয়া, যৌন আলাপে উৎসাহ দেওয়া কিংবা যৌন উদ্দেশ্যে যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়াও আইনের আওতায় আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বয়স সম্পর্কে অভিযুক্তের যৌক্তিক বিশ্বাস ছিল কি না, যোগাযোগের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কী ধরনের বার্তা আদানপ্রদান হয়েছে, এসব বিষয় তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   সাম্প্রতিক এক মামলায় ৪৮ বছর বয়সী রুহেল মিয়া স্ন্যাপচ্যাটে নিজেকে ১৫ বছরের কিশোর হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিন কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, তিনি শিশু যৌন নির্যাতন, শিশুকে যৌন কার্যকলাপে প্ররোচিত করা এবং শিশুর সঙ্গে যৌন যোগাযোগসহ ১৫টি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে উলভারহ্যাম্পটন ক্রাউন কোর্ট তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। মামলাটি শুধু অনলাইন চ্যাটে সীমাবদ্ধ ছিল না, পরে তিনি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে যৌন অপরাধও করেছিলেন।   গ্রেটার ম্যানচেস্টারের আরেক মামলায় স্কট কার্কহ্যাম ভুয়া অনলাইন পরিচয় ব্যবহার করে কিশোরীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ৩০টি অপরাধে দোষ স্বীকার করেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত তিন বছর লাইসেন্সের আওতায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন যোগাযোগ, শিশুকে যৌন কার্যকলাপে প্ররোচিত করা এবং শিশুর সঙ্গে যৌন কার্যকলাপসহ একাধিক অভিযোগ ছিল।   যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি এবং ন্যাশনাল পুলিশ চিফস কাউন্সিল জানিয়েছে, ২০২৫ সালে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত প্রায় এক লাখ রেফারেল এনসিএর কাছে পৌঁছেছে। সংস্থাগুলোর হিসাবে, যুক্তরাজ্যজুড়ে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযানে প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার সম্ভাব্য অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং আনুমানিক ১ হাজার ২০০ শিশুকে সুরক্ষার আওতায় নেওয়া হচ্ছে।   বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি ইমিগ্রেশন ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। বর্তমান যুক্তরাজ্য ইমিগ্রেশন রুলস অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক যুক্তরাজ্যে ফৌজদারি অপরাধে দোষী হয়ে অন্তত ১২ মাসের কারাদণ্ড পেলে সাধারণভাবে ডিপোর্টেশনের আওতায় পড়তে পারেন। ২০২৬ সালের ২২ মার্চ বা তার পরে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অন্তত ১২ মাসের সাসপেন্ডেড সেন্টেন্সও এই নিয়মের আওতায় এসেছে।   তবে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব ক্ষেত্রে একই ফল দেয় না। শরণার্থী সুরক্ষা, মানবাধিকার, পারিবারিক জীবন বা আইনে নির্ধারিত অন্য ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হতে পারে। গুরুতর ক্ষতির অপরাধ বা ধারাবাহিক অপরাধের ক্ষেত্রেও হোম অফিস ডিপোর্টেশন বিবেচনা করতে পারে। ফলে শুধু গ্রেপ্তার, অভিযোগ বা তদন্ত শুরু হওয়াকেই চূড়ান্ত ডিপোর্টেশন হিসেবে দেখা ঠিক নয়।   স্টুডেন্ট, কেয়ার ওয়ার্কার বা অন্য কোনো ভিসায় যুক্তরাজ্যে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থানীয় আইন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা। অনলাইনে কারও বয়স অনুমান করে যৌন আলাপ শুরু করা, সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়া, ব্যক্তিগত ছবি চাওয়া বা দেখা করার পরিকল্পনা করা গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে।   বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ নিজের বয়স বা পরিচয় গোপন করলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই বয়স নিয়ে সন্দেহ থাকলে যৌন প্রকৃতির যোগাযোগ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকাই নিরাপদ। কোনো তদন্ত বা অভিযোগে জড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাখ্যা দেওয়ার পরিবর্তে দ্রুত যোগ্য সলিসিটর বা আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।   যুক্তরাজ্যে একটি ফৌজদারি দণ্ড শুধু কারাদণ্ডেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। চাকরি, ভিসা, ভবিষ্যৎ ইমিগ্রেশন আবেদন এবং দেশটিতে থাকার অধিকারেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। তাই অনলাইনের কয়েকটি মেসেজ বা একটি সাক্ষাৎকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই, বিশেষ করে অপর পক্ষের বয়স ১৬ বছরের নিচে হলে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৩:৪
মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড
মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড

ফেসবুকে ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিক আনোজান শিবারাসাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের একটি আপিল আদালত এই সাজা দেওয়ার পর তাঁর জীবন রক্ষায় কূটনৈতিক ও আইনি তৎপরতা শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। আনোজানের পরিবারও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমার আবেদন জানিয়েছে।   বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনোজান শিবারাসা শ্রীলঙ্কার নাগরিক এবং কর্মসূত্রে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ধর্মীয় বিতর্কের সূত্র ধরে তিনি তামিল ভাষায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর একটি মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।   ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল শ্রীলঙ্কায় একটি হিন্দু ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকে। সেখানে এক মুসলিম তরুণকে একটি কুকুরকে লাথি দিতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে বিতর্ক শুরু হলে এক ব্যক্তি হিন্দু ধর্মের একটি দেবতাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় আনোজান মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   পরে আনোজান ওই মন্তব্য মুছে ফেলেন এবং ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। কিন্তু ততক্ষণে মন্তব্যটির স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর ভাই হামসিদান শিবারাসা বিবিসিকে জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কার কয়েকজন ব্যক্তি ওই স্ক্রিনশট আনোজানের সৌদি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানে পাঠান। প্রতিষ্ঠানটি পরে বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানায়।   এরপর জুলাইয়ে আনোজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে সৌদির আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করে। পরে সাজা কমানোর জন্য তাঁর পক্ষ থেকে আপিল করা হলেও সেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়।   মামলার মোড় ঘুরে যায় ১৭ সেপ্টেম্বর। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি প্রসিকিউশন সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়াহ আইনের অধীনে আনোজানের বিচার চেয়ে পৃথক আপিল করে। আপিল আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করার পর তাঁর আগের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।   শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৮ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে জানায়, তারা আনোজানের মামলা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রিয়াদে শ্রীলঙ্কা দূতাবাস এবং কলম্বোতে সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আনোজানের স্বার্থ রক্ষা এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ পরে দেশটির পার্লামেন্টে জানান, আনোজানের মৃত্যুদণ্ড কমানো বা বাতিলের জন্য আইনি ও কূটনৈতিক দুই পথেই চেষ্টা চলছে। সৌদি আরবের আইনজীবীদের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি উচ্চতর আদালতে আপিলের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। এই মামলার আইনি ব্যয় শ্রীলঙ্কা সরকার বহন করবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।   আনোজানের পরিবার গত ২১ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে দেখা করে। পরিবারকে তিনি আশ্বস্ত করেন, মৃত্যুদণ্ড মওকুফের জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। সৌদি বাদশাহর কাছে সাধারণ ক্ষমার আবেদন জানানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।   আনোজানের মা রাসামানিক্কাম যোগালক্ষ্মী ছেলেকে ক্ষমা করে দেশে ফেরত পাঠানোর আবেদন জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে তারা আনোজানের কোনো খবর পায়নি। ফলে তাঁর বর্তমান অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও আনোজানের সাজা মওকুফের দাবি জানিয়েছেন। দেশটির একটি চার সদস্যের আইনি প্রতিনিধিদল সৌদি আরবে গিয়ে স্থানীয় আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।   এদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো তারিখ বা সময়সূচি প্রকাশ করেনি। ফলে মামলাটি এখনো আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে।   আনোজানের ঘটনা আবারও বিদেশে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। একটি অনলাইন মন্তব্য থেকে শুরু হওয়া ঘটনাটি এখন একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও আইনি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে শ্রীলঙ্কা সরকার শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড ঠেকাতে পারে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ২:৫৩
দীর্ঘ ছয় মাস পর ঘরে ফিরে বিছানায় দেখতে পান শতাধিক ‘ডিম’
দীর্ঘ ছয় মাস পর ঘরে ফিরে বিছানায় দেখতে পান শতাধিক ‘ডিম’! হতবাক ব্যক্তি

ছয় মাস পর বাড়ি ফিরে নিজের বিছানাজুড়ে শতাধিক সাদা ডিমের মতো বস্তু দেখতে পেয়েছেন এক ব্যক্তি, এমন একটি গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি শুনতে রহস্যময় ও চমকপ্রদ হলেও নির্ভরযোগ্য কোনো উৎসে এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। বরং যে ওয়েবসাইটে গল্পটি প্রকাশ হয়েছে, সেখানেই উল্লেখ আছে যে ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।   দ্য বাস্টেড নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘ ছয় মাস বাড়ির বাইরে থাকার পর ফিরে এসে ওই ব্যক্তি বিছানায় শতাধিক সাদা, নরম খোলসের মতো বস্তু দেখতে পান। এগুলো কোনো প্রাণীর ডিম কি না, তা নিয়েই তৈরি হয় কৌতূহল। তবে প্রতিবেদনে ওই ব্যক্তির নাম, ঘটনাস্থল, তারিখ বা স্থানীয় কোনো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য দেওয়া হয়নি।   ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরীসৃপের কিছু প্রজাতি নরম ও চামড়ার মতো আবরণযুক্ত ডিম পাড়ে এবং নিরিবিলি, উষ্ণ জায়গা বেছে নিতে পারে। দীর্ঘদিন খালি থাকা বাড়ি কখনো কখনো বন্যপ্রাণীর আশ্রয়স্থলেও পরিণত হতে পারে। কিন্তু সাধারণ এই তথ্য থেকে বিছানায় পাওয়া বস্তুগুলোকে সরাসরি সাপ বা অন্য কোনো সরীসৃপের ডিম বলে নিশ্চিত করা যায় না।   প্রতিবেদনটিও স্বীকার করেছে, শুধু দেখতে সাদা ও ডিমের মতো হলেই কোনো বস্তুকে নির্দিষ্ট প্রাণীর ডিম হিসেবে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। সেগুলো পাখি, সরীসৃপ বা অন্য কোনো কিছুর হতে পারে। এমনকি সেগুলো আদৌ ডিম কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।   বিষয়টি নিয়ে অন্য কয়েকটি ওয়েবসাইটেও প্রায় একই ধরনের লেখা পাওয়া গেছে। কিন্তু সেখানে ঘটনাটিকে বাস্তব ও যাচাইকৃত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার মতো কোনো শক্ত প্রমাণ নেই। একটি সাইট স্পষ্টভাবে এটিকে ‘অরিজিনাল ফিকশন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আর দ্য বাস্টেড নিউজের পাতার শেষেও উল্লেখ রয়েছে যে গল্পটি বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি কল্পকাহিনি এবং বাস্তব ব্যক্তি বা ঘটনার সঙ্গে কোনো মিল কাকতালীয়।   এ কারণে “ছয় মাস পর বাড়ি ফিরে বিছানায় শতাধিক রহস্যময় ডিম পেলেন এক ব্যক্তি” শিরোনামের গল্পটিকে নিশ্চিত সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা ঠিক হবে না। এটি মূলত একটি ভাইরাল ও বিনোদনধর্মী কনটেন্ট, যার বাস্তব ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   তবে এমন পরিস্থিতি বাস্তবে ঘটলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো অজানা ডিম বা প্রাণিজ বস্তু হাতে না নেওয়া। শিশু ও পোষা প্রাণীকে দূরে রাখা এবং স্থানীয় বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ, প্রাণী উদ্ধার সংস্থা বা লাইসেন্সধারী পেস্ট কন্ট্রোল সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা নিরাপদ।   ঘটনাটি তাই বাস্তবের চেয়ে বেশি একটি ভাইরাল রহস্যগল্প। ছবি বা বর্ণনা যতই চমকপ্রদ হোক, মূল উৎস, স্থান, তারিখ এবং স্বাধীন যাচাই ছাড়া এমন দাবিকে সত্য হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ২:৪১
অ্যাপ্লিকেশন ফি দিতে সমস্যা? যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে চাইবেন ফি ওয়েভার
অ্যাপ্লিকেশন ফি দিতে সমস্যা? যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে চাইবেন ফি ওয়েভার, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর সামনে প্রথম দিকের খরচগুলোর একটি হলো অ্যাপ্লিকেশন ফি। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলে এই ব্যয় দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তবে আর্থিক অসুবিধা থাকলে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট শর্তে অ্যাপ্লিকেশন ফি ওয়েভার বা ফি মওকুফের সুযোগ দেয়। আবেদনকারী যোগ্য হলে কখনো অ্যাপ্লিকেশন পোর্টালের মাধ্যমেই, আবার কখনো অ্যাডমিশন অফিসে আলাদা অনুরোধ পাঠিয়ে এই সুবিধা চাওয়া যায়।   ফি ওয়েভার সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই নিয়মে পাওয়া যায় না। কোথাও আর্থিক প্রয়োজনের নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে হয়, কোথাও আলাদা ফর্ম জমা দিতে হয়, আবার কোথাও সরাসরি অ্যাডমিশন অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন নির্দেশনা ভালোভাবে দেখা জরুরি।   হার্ভার্ড কলেজের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপ্লিকেশন ফি আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের জন্য আর্থিক চাপ তৈরি করলে ফি ওয়েভারের সুযোগ রয়েছে। কমন অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে আবেদনকারীরা আর্থিক প্রয়োজনের নির্দিষ্ট সূচক পূরণ করলে সেখান থেকেই ফি ওয়েভার চাইতে পারেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও আর্থিক অসুবিধা থাকলে ফি ওয়েভারের সুযোগ থাকার কথা জানিয়েছে হার্ভার্ড।   গ্র্যাজুয়েট পর্যায়েও একই ধরনের সুযোগ থাকতে পারে। স্ট্যানফোর্ডের কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে গুরুতর আর্থিক অসুবিধার কারণে নিড বেসড ফি ওয়েভার চাওয়া যায়। তবে সেখানে আবেদন শুরু করা, নির্দিষ্ট তথ্য পূরণ করা বা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার মতো শর্ত থাকতে পারে। আবার কোনো কোনো বিভাগে ফি ওয়েভারের সংখ্যা সীমিত এবং আগে আসলে আগে বিবেচনার ভিত্তিতেও সিদ্ধান্ত হতে পারে।   এ কারণে শুধু একটি সাধারণ ইমেইল পাঠালেই সব ক্ষেত্রে ফি মওকুফ হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেখতে হবে ফি ওয়েভারের জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম, পোর্টালের অপশন বা যোগ্যতার শর্ত আছে কি না। অফিসিয়াল প্রক্রিয়া থাকলে সেটিই অনুসরণ করা উচিত। কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকলে তখন অ্যাডমিশন অফিসে সংক্ষিপ্ত ও পেশাদার ভাষায় জানতে চাওয়া যেতে পারে।   ফি ওয়েভার অনুরোধে সাধারণত আবেদনকারী নিজের নাম, যে প্রোগ্রামে আবেদন করতে চান তার নাম, শিক্ষাগত পটভূমি এবং কেন অ্যাপ্লিকেশন ফি দেওয়া আর্থিকভাবে কঠিন হচ্ছে তা সংক্ষেপে উল্লেখ করতে পারেন। প্রয়োজন হলে আয়, আর্থিক সংকট বা প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যাও দেওয়া যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি প্রমাণপত্র চায়, তখন তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে।   একটি সাধারণ অনুরোধের ভাষা হতে পারে এমন, আপনি নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে আবেদন করতে আগ্রহী, কিন্তু বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে অ্যাপ্লিকেশন ফি দেওয়া আপনার জন্য কঠিন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ফি ওয়েভারের সুযোগ থাকলে আপনার আবেদনটি বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছেন। সঙ্গে প্রয়োজনীয় কোনো ফর্ম বা ডকুমেন্ট লাগলে সেটিও জানাতে বলতে পারেন।   এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজের আর্থিক পরিস্থিতি অতিরঞ্জিত না করা এবং ভুল তথ্য না দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ফি ওয়েভার অনুমোদনের মানদণ্ড আলাদা হতে পারে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শুধু নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির আবেদনকারীকে এই সুবিধা দিতে পারে, আবার অন্য বিশ্ববিদ্যালয় তুলনামূলক নমনীয় হতে পারে।   আরেকটি বিষয় হলো সময়। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট করার আগেই ফি ওয়েভার অনুমোদন নিতে বলে। কোথাও নির্দিষ্ট ডেডলাইনের আগেই অনুরোধ পাঠাতে হয়। তাই আবেদনের শেষ দিনে গিয়ে ফি ওয়েভার চাওয়ার পরিবর্তে আগেভাগেই নীতিমালা দেখে প্রক্রিয়া শুরু করা নিরাপদ।   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ নয়। হার্ভার্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আবেদনকারীর জন্যও অ্যাপ্লিকেশন ফি আর্থিক অসুবিধা তৈরি করলে ফি ওয়েভার চাওয়া যেতে পারে। তবে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে। তাই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম আলাদাভাবে যাচাই করা দরকার।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, অ্যাপ্লিকেশন ফি আছে বলে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার পরিকল্পনা শুরুতেই বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আগে দেখে নিন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি ওয়েভারের সুযোগ আছে কি না, থাকলে কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং কোন ডকুমেন্ট প্রয়োজন। সঠিক নিয়ম মেনে অনুরোধ করলে যোগ্য আবেদনকারীর জন্য এই খরচ কমানোর সুযোগ থাকতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ২:২০
ছবি: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
কাশ্মীর থেকে ১৫০ বাংলাদেশি গ্রেফতার, ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ১৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, তাঁরা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কাশ্মীর উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সোমবার, ৫ অক্টোবর বিশেষ ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি উড়োজাহাজে তাঁদের শ্রীনগর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ।   প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন এবং পুলিশের যৌথ তৎপরতায় বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করতে অভিযান ও জরিপ চালানো হয়। ওই প্রক্রিয়ায় কয়েক শ বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত বা আটক করার দাবি করেছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা। তাঁদের মধ্য থেকে প্রথম ধাপে ১৫০ জনকে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়েছে।   শ্রীনগর পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিশেষ বিমানটি সোমবার বাগডোগরায় পৌঁছানোর পর ওই ১৫০ জনকে বিএসএফের হেফাজতে দেওয়া হয়। পরবর্তী ধাপে সীমান্তের নির্ধারিত পয়েন্ট দিয়ে তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানোর কথা রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরও একটি দলকে আগামী ৭ অক্টোবর একই প্রক্রিয়ায় সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।   তবে ওই ব্যক্তিদের প্রত্যেকের নাগরিকত্ব, ভারতে প্রবেশের পথ, কত দিন ধরে তাঁরা সেখানে অবস্থান করছিলেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে কোনো মামলা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত এই ১৫০ জনের পরিচয় বা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কাশ্মীর উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় থাকা অনেক বাংলাদেশি নাগরিক অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে কাজ করতেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ভাঙারি সংগ্রহসহ দৈনিক মজুরিভিত্তিক নানা কাজে যুক্ত ছিলেন। প্রশাসনের সাম্প্রতিক যাচাই কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই তাঁদের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।   ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরে অবৈধ অভিবাসী শনাক্তে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৫০০ জনকে আটক করে শ্রীনগরের উপকণ্ঠে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছিল। অন্য কয়েকটি ভারতীয় প্রতিবেদনে শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা আরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মোট কতজন বাংলাদেশি নাগরিক বর্তমানে হেফাজতে আছেন, সে বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছু পার্থক্য রয়েছে।   ভারতীয় কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন, বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদেরও শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদেরও পর্যায়ক্রমে বহিষ্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, অঞ্চলটিতে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা এবং কয়েক শ বাংলাদেশি নাগরিক অবস্থান করছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।   এই অভিযান এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ভারত সরকার অনিয়মিত অভিবাসন ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের বিষয় পর্যালোচনায় আরও কড়াকড়ি শুরু করেছে। চলতি বছরের মে মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। পরে ওই কমিটি জম্মু ও কাশ্মীর সফর করে স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে।   তবে কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর নাগরিকত্ব যাচাই এবং বাংলাদেশ সরকারের সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সাধারণত প্রত্যাবাসনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ প্রয়োজন হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে চলমান প্রক্রিয়াকে বহিষ্কার বা প্রত্যাবাসনের অংশ বলা হলেও সব ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।   বর্তমানে নিশ্চিত তথ্য হলো, ১৫০ জনকে শ্রীনগর থেকে বাগডোগরায় নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কথা জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এই প্রক্রিয়া কখন সম্পন্ন হবে এবং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ কীভাবে তাঁদের গ্রহণ করবে, সে বিষয়ে আরও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।   সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ২:১৪
আমাজন থেকে আফ্রিকা, গল্পের খোঁজে বিশ্ব ঘুরছেন বাংলাদেশি ওয়াকিফ
আমাজন থেকে আফ্রিকা, গল্পের খোঁজে বিশ্ব ঘুরছেন বাংলাদেশি ওয়াকিফ

একদিকে ফিনল্যান্ডের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র পর্যায়ের দায়িত্ব, অন্যদিকে ক্যামেরা হাতে আমাজনের জঙ্গল থেকে আফ্রিকার প্রত্যন্ত অঞ্চল। পেশাজীবন আর ভ্রমণচিত্র নির্মাণ, দুই ভিন্ন জগতকে পাশাপাশি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশি কনটেন্ট নির্মাতা এমডি ওয়াকিফ হোসাইন। প্রজন্ম কথাকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পেশাদারভাবে ভ্লগিং শুরুর প্রায় ১০ মাসের মধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দর্শক ও অনুসারীর সংখ্যা ২৬ লাখ ছাড়িয়েছে।   ফিনল্যান্ডে বসবাসরত ওয়াকিফের ভ্রমণ কনটেন্ট সাধারণ পর্যটন ভিডিওর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নতুন কোনো দেশে গিয়ে দর্শনীয় স্থান, খাবার কিংবা ভ্রমণের খরচ দেখানোর পাশাপাশি তিনি সেখানকার মানুষ, সংস্কৃতি ও স্থানীয় জীবনের গল্প ক্যামেরায় তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তাঁর কনটেন্টে কখনো জায়গা পেয়েছে আমাজনের জঙ্গলে একা সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা, কখনো আফ্রিকার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবন।   প্রজন্ম কথার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেশাদারভাবে ভ্লগিং শুরুর পর অল্প সময়েই বড় দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করেছেন ওয়াকিফ। তাঁর ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার ৫ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে এবং ফেসবুকে অনুসারী ১৬ লাখের বেশি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মিলিয়ে তাঁর মোট দর্শক ও অনুসারীর সংখ্যা ২৬ লাখের বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব সংখ্যা দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় এগুলো প্রকাশের সময়কার হিসাব।   ওয়াকিফের আলোচিত ভ্রমণগুলোর একটি আমাজন জঙ্গলে একা ২৪ ঘণ্টা কাটানো। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই রেইনফরেস্টে নিজের অভিজ্ঞতা ভিডিওতে তুলে ধরেছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় ভ্রমণের সময় আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, সেখানে বন্দুকের মুখে তাঁর ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেই ঘটনাও দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।   কেনিয়া সফরে একটি স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতাও তাঁর কনটেন্টে জায়গা পেয়েছে। তাদের জীবনযাপন ও সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি ওই সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে ইসলামের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি জানিয়েছেন। ফলে ওয়াকিফের ভিডিওতে শুধু কোনো অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, সেখানকার মানুষের জীবনও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।   অ্যাডভেঞ্চার অবশ্য তাঁর জীবনে ভ্লগিংয়ের আগেই ছিল। প্রজন্ম কথার প্রতিবেদনে ওয়াকিফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পেশাদার কনটেন্ট নির্মাণ শুরুর আগে তিনি সাতবার একক স্কাইডাইভ করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সার্ফিং, পর্বতারোহণ এবং তিমি হাঙরের সঙ্গে সাঁতার কাটার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।   তবে ক্যামেরা হাতে বিশ্বভ্রমণই তাঁর একমাত্র পেশা নয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারফেক্টে সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ওয়াকিফ। নিয়মিত করপোরেট দায়িত্বের পাশাপাশি সময় বের করে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ এবং ভিডিও নির্মাণ করছেন তিনি। অর্থাৎ পূর্ণকালীন পেশাজীবন এবং কনটেন্ট নির্মাণ, দুটি ধারাকেই একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছেন।   কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছেন ওয়াকিফ। প্রজন্ম কথার প্রতিবেদনে আইএমও মেসেঞ্জার, এসিই মানি ট্রান্সফার, ফ্যাসেট, এসিআই লিমিটেড, রবি, বিকাশ, ট্যাপট্যাপ সেন্ড ও গোযায়ানের মতো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব কাজের ধরন ও সময়কাল সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   তাঁর সামনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও একটি কাজ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ভারতের বস্ত্রপ্রতিষ্ঠান আজমেরা ফ্যাশন লিমিটেডের একটি ব্র্যান্ডের প্রচারণামূলক ভিডিও তৈরির জন্য তাঁকে ফিনল্যান্ড থেকে ভারতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কাজটি সম্পন্ন হলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে তাঁর কনটেন্ট নির্মাণের অভিজ্ঞতায় আরেকটি অধ্যায় যুক্ত হবে।   ওয়াকিফের নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর লক্ষ্য শুধু কোনো জায়গার সুন্দর দৃশ্য দেখানো নয়। একটি দেশের মানুষ কীভাবে জীবনযাপন করে, একটি সংস্কৃতির পেছনে কী গল্প রয়েছে এবং নির্দিষ্ট কোনো স্থানের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কেমন, সেই বিষয়গুলোও ভ্রমণচিত্রের মধ্যে তুলে ধরতে চান তিনি।   বাংলাদেশের ভ্রমণভিত্তিক কনটেন্টে এমন গল্প বলার ধরনকে নিজের কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখছেন ওয়াকিফ। একটি ব্যস্ত করপোরেট জীবন সামলে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছুটে বেড়ানো এবং সেই অভিজ্ঞতাকে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই যাত্রায় তাঁর কাছে ভ্রমণ শুধু নতুন কোনো দেশে পৌঁছানো নয়। প্রতিটি সফরের সঙ্গে নতুন মানুষ, সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতার গল্প খুঁজে বের করাই তাঁর কনটেন্টের মূল লক্ষ্য। সূত্র: প্রজন্ম কথা

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১:৪২
কাপড় শুকাতে ভবন কর্মীর ১২০ মিটার দড়ি কেটে নিলেন বাসিন্দা
কাপড় শুকাতে ভবন কর্মীর ১২০ মিটার দড়ি কেটে নিলেন বাসিন্দা, অল্পের জন্য রক্ষা

চীনের গুয়াংডং প্রদেশের ফোশান শহরে বহুতল ভবনের বাইরের অংশে কাজ করা এক কর্মীর সেফটি রোপের ১০ মিটারের বেশি অংশ কেটে নেওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ওই কর্মী প্রায় ৩০ তলা থেকে নিচে নামার পর দেখতে পান, তাঁর ১২০ মিটার দীর্ঘ সেফটি রোপের একটি অংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে রোপটি কাটার সময় কেউ সেটি ব্যবহার করে উচ্চতায় কাজ করছিলেন না।    সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, লিউ পদবির ওই কর্মী একটি বহুতল ভবনের বাইরের দেয়াল মেরামতের কাজ করছিলেন। প্রায় ৩০ তলা থেকে নেমে দ্বিতীয় তলার একটি প্ল্যাটফর্মে পৌঁছানোর পর তিনি দেখতে পান, তাঁর একটি সেফটি রোপ কাটা। কাটা অংশের কিছু অংশ তখনও প্ল্যাটফর্মে পড়ে ছিল।    পরে জানা যায়, রোপটির মোট দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১২০ মিটার। এর মধ্যে ১০ মিটারের বেশি অংশ কেটে নেওয়া হয়েছিল। ফলে রোপটি আর ভবনের প্রথম তলা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছিল না এবং লিউ নিরাপদভাবে নিচে নামার কাজ শেষ করতে পারেননি।    ঘটনার তদন্তে ভবনের দ্বিতীয় তলায় বসবাসকারী সত্তরের শেষ বয়সী এক বাসিন্দার সম্পৃক্ততার কথা উঠে আসে। ওই বাসিন্দার দাবি, তিনি জানতেন না রোপটি বহুতল ভবনের কাজের জন্য ব্যবহৃত সেফটি ইকুইপমেন্ট। তিনি সেটিকে সাধারণ দড়ি মনে করে কাপড় শুকানোর কাজে ব্যবহারের জন্য একটি অংশ কেটে নিয়েছিলেন।    ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, রোপটি এমন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল যেখানে সামান্য ভুলও প্রাণঘাতী হতে পারত। তবে রোপ কাটার মুহূর্তে কোনো কর্মী ওই নির্দিষ্ট রোপে ঝুলে কাজ করছিলেন না। এ কারণেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। কেউ আহতও হননি।    লিউ পরে ওই বাসিন্দার বয়স বিবেচনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ না করার সিদ্ধান্ত নেন। ভবন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর ক্ষতিগ্রস্ত রোপের জন্য ৪০০ ইউয়ান ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ভবন ব্যবস্থাপনার মধ্যস্থতায় মীমাংসার দিকে যায়।    ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলো কয়েক কোটি ভিউ পেয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, একটি সেফটি রোপের গুরুত্ব না জেনে সেটি কেটে নেওয়া কীভাবে সম্ভব হলো। আবার কেউ কেউ বলেছেন, কারও অজ্ঞতা বা বয়স এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজের গুরুত্ব কমিয়ে দেয় না।    স্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্যের সেফটি রোপ কেটে নেওয়া সম্পত্তির অধিকার লঙ্ঘনের আওতায় পড়তে পারে। কাজ বন্ধ হয়ে আর্থিক ক্ষতি হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণও চাইতে পারেন। তবে এ ঘটনায় লিউ যে ৪০০ ইউয়ান দাবি করেছেন, সেটিই ক্ষতিগ্রস্ত রোপের সরাসরি ক্ষতিপূরণ হিসেবে সামনে এসেছে।  ঘটনায় কেউ আহত না হলেও এটি বহুতল ভবনে কাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। কারণ উচ্চতায় কাজ করা কর্মীদের জন্য সেফটি রোপ জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম। সেটি অননুমোদিতভাবে কেটে নেওয়া বা সরিয়ে ফেলা যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, ফোশানের এই ঘটনাই তার বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১:৩৪
পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদের মূল উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবীর গ্রেপ্তার
পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদের মূল উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবীর গ্রেপ্তার, মুর্শিদাবাদে উত্তেজনা

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান ও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর সকালে ভোট দেওয়ার পর পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। পরে দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁকে রেজিনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম তাঁকে আটক করার কথা জানালেও পরবর্তী আপডেটে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।    সকালে ভোট দেওয়ার পর হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, তাঁর দলের পোলিং এজেন্ট ও সমর্থকদের বিভিন্ন জায়গায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে না। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলে পুলিশ তাঁকে দলীয় কার্যালয় থেকে নিয়ে যায়।    বাংলা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের সঙ্গে বিতর্কের সময় হুমায়ুন কবীর কঠোর ভাষায় পুলিশ প্রশাসনের সমালোচনা করেন। পুলিশ তাঁর বক্তব্য ও আচরণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলে মনে করে। এরপর তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কোন ধারায় মামলা হয়েছে বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কী, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।    ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন রেজিনগরে গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচন চলছে। এই আসনটি আগে হুমায়ুন কবীরের দখলে ছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি রেজিনগর ও নওদা দুই আসন থেকেই জয়ী হন। পরে নওদা আসন ধরে রেখে রেজিনগর থেকে পদত্যাগ করায় সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।    রেজিনগরের এই উপনির্বাচনে হুমায়ুন কবীরের দল আমজনতা উন্নয়ন পার্টির পক্ষ থেকে তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএমসহ আরও কয়েকটি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। ভোটের দিন সকাল থেকেই বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে।    হুমায়ুন কবীর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৫ সালে মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। একই বছরের ডিসেম্বরে ওই উদ্যোগের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তাঁর অবস্থানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করে। পরে তিনি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন।    বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সে সময় রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছিল। হুমায়ুন কবীর জানিয়েছিলেন, বিরোধিতা হলেও তিনি পরিকল্পনা থেকে সরে যাবেন না। অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব প্রকাশ্যে তাঁর উদ্যোগ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেয়। বিজেপিও ওই উদ্যোগের সমালোচনা করেছিল।    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেও হুমায়ুন কবীর ও পুলিশের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের ষড়যন্ত্রের অভিযোগসংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁকে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। সে সময় তাঁকে আবার থানায় হাজির হওয়ার নোটিশও দেওয়া হয়। কবীর তখন অভিযোগ করেছিলেন, উপনির্বাচনের আগে তাঁকে ও তাঁর দলকে লক্ষ্য করে পুলিশি চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর সেই রাজনৈতিক অভিযোগের সমর্থনে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।    মঙ্গলবারের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ভোটগ্রহণ বন্ধ হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। রেজিনগরসহ সংশ্লিষ্ট উপনির্বাচনের ভোট গণনা হওয়ার কথা ৯ অক্টোবর।    হুমায়ুন কবীরকে প্রথমে আটক করা হয়েছে নাকি সরাসরি গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা নিয়ে দিনের শুরুতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়। এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা প্রথম দিকে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার কথা জানায়। পরে আজতক ও বাংলা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের আপডেটে তাঁকে গ্রেপ্তার করার কথা বলা হয়। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলার ধারা এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ হওয়ার পর ঘটনাটির পূর্ণ চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।   সূত্র: চ্যানেল ২৪

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১:২৪
‘ইন্ডিয়ান জাস্টিন বিবার’, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোটে ‘দেশের সবচেয়ে সুদর্শন’ হিসেবে নির্বাচিত
‘ইন্ডিয়ান জাস্টিন বিবার’, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোটে ‘দেশের সবচেয়ে সুদর্শন’ হিসেবে নির্বাচিত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের ‘সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ’ হিসেবে সূরজ চাভানের নাম ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁকে কেউ কেউ ‘ইন্ডিয়ান জাস্টিন বিবার’ বলেও ডাকছেন। তবে এই উপাধি কোনো সরকারি, জাতীয় বা স্বীকৃত প্রতিযোগিতার ফল নয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল দাবি।   মহারাষ্ট্রের বারামতির কাছের মোঢভে গ্রামের বাসিন্দা সূরজ চাভানের জীবনের পথ অবশ্য সত্যিই নাটকীয়। সীমিত সুযোগ ও আর্থিক কষ্টের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা সূরজ একসময় দিনমজুর হিসেবেও কাজ করেছেন বলে বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পরে ছোট ভিডিও ও নিজস্ব কথাবার্তার ধরনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পেতে শুরু করেন তিনি।   সেই জনপ্রিয়তা তাঁকে নিয়ে যায় টেলিভিশনের বড় মঞ্চে। ২০২৪ সালে ‘বিগ বস মারাঠি’ সিজন ফাইভের প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নিয়ে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হন সূরজ। ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ফাইনালে অভিজিৎ সাওয়ান্তকে পেছনে ফেলে ট্রফি জেতেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সে সময় তাঁর জয়ের খবর প্রকাশ করে।   রিয়েলিটি শোর সাফল্যের পর অভিনয়েও সুযোগ আসে সূরজের। ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া মারাঠি রোমান্টিক চলচ্চিত্র ‘ঝাপুক ঝুপুক’-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। জিও স্টুডিওস প্রযোজিত ছবিটি ২৫ এপ্রিল মুক্তি পায়। এতে সূরজের সঙ্গে অভিনয় করেন জুই ভাগবতসহ আরও কয়েকজন অভিনয়শিল্পী।   এর মধ্যেই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন সূরজ। তাঁর একটি বিশেষ হেয়ারস্টাইল ও কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক ব্যবহারকারী তাঁকে পপতারকা জাস্টিন বিবারের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেন। সেখান থেকেই ‘ইন্ডিয়ান জাস্টিন বিবার’ নামটি আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে।   একই সময় কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও কয়েকটি বিনোদনভিত্তিক ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়, ভারতের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের মধ্যে ভোটে সূরজকে ‘সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ’ নির্বাচিত করা হয়েছে। কিন্তু এই দাবির পক্ষে কোনো স্বীকৃত জাতীয় ভোট, প্রতিযোগিতা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়নি।   ভারতের এবিপি মাঝাসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বিষয়টি যাচাই করে জানায়, সূরজকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভারতের সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ’ ঘোষণা করা হয়নি। এমন কোনো সরকারি বা স্বীকৃত জাতীয় ভোটব্যবস্থারও প্রমাণ নেই। ফলে এই উপাধিকে আনুষ্ঠানিক অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।   তবে ভাইরাল দাবির বাইরে সূরজের বাস্তব সাফল্য নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। গ্রামের সাধারণ জীবন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা, সেখান থেকে ‘বিগ বস মারাঠি’ জয় এবং পরে সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয়, কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁর ক্যারিয়ারে এসেছে বড় পরিবর্তন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে তাঁর অনাড়ম্বর উপস্থাপন, নিজস্ব সংলাপ এবং স্থানীয় ভাষার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ‘বিগ বস মারাঠি’ জয়ের পর তাঁর পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয় এবং বিনোদন জগতেও তাঁর উপস্থিতি শক্ত হয়।   তাই সূরজ চাভানের গল্পে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ‘ভারতের সবচেয়ে সুদর্শন’ উপাধি নয়। বরং সীমিত সুযোগ থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে একটি বাস্তব বিনোদন ক্যারিয়ার তৈরি করাই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। ‘ইন্ডিয়ান জাস্টিন বিবার’ কিংবা ‘মোস্ট হ্যান্ডসাম ম্যান’ নামগুলো ভাইরাল হতে পারে, কিন্তু তাঁর রিয়েলিটি শো জয় ও অভিনয়জীবনের সাফল্যই যাচাইযোগ্য বাস্তবতা।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ০:৫৩
৩৭ বছর বয়সে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে, লক্ষ্য নিউরোলজিস্ট হওয়া
৩৭ বছর বয়সে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে, লক্ষ্য নিউরোলজিস্ট হওয়া

স্বপ্ন পূরণের জন্য বয়স যে সব সময় বাধা নয়, তারই এক উদাহরণ তৈরি করেছেন ৩৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। জীবনের এমন একটি সময়ে এসে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ফ্লোরিডায় নতুন করে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের পড়াশোনা শুরু করেছেন, যখন অনেকেই হয়তো নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার কথা ভাবেন না। তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য আরও বড়। ভবিষ্যতে তিনি একজন নিউরোলজিস্ট হতে চান।    তথ্য অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ফ্লোরিডায় জীববিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে ভর্তি হয়েছেন তিনি। এখান থেকেই চিকিৎসাশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় একাডেমিক ভিত্তি তৈরি করে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।   ৩৭ বছর বয়সে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ফেরা সহজ সিদ্ধান্ত নয়। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন করে পড়াশোনার নিয়মে অভ্যস্ত হওয়া, অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া এবং তুলনামূলক কম বয়সী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই পরিবেশে নিজের একাডেমিক যাত্রা শুরু করা, সব মিলিয়ে এটি একটি বড় পরিবর্তন। তবে বয়সের হিসাবের চেয়ে নিজের দীর্ঘদিনের লক্ষ্যকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।   তার সামনে পথটিও সংক্ষিপ্ত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে নিউরোলজিস্ট হওয়ার জন্য প্রথমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করতে হয়। এরপর মেডিকেল স্কুলে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাবিদ্যার ডিগ্রি অর্জন এবং পরবর্তী পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট রেসিডেন্সি ট্রেনিং সম্পন্ন করতে হয়। ফলে ৩৭ বছর বয়সে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট দিয়ে শুরু করা মানে সামনে আরও কয়েক বছরের কঠোর পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।   ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ফ্লোরিডা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনভিলে অবস্থিত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে জীববিজ্ঞান, বায়োমেডিকেল সায়েন্সসহ স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। মেডিকেল স্কুলে যাওয়ার লক্ষ্য থাকা শিক্ষার্থীদের জন্যও সেখানে প্রি হেলথ একাডেমিক প্রস্তুতির সুযোগ রয়েছে।   নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরা নিয়ে আলোচনার সবচেয়ে বড় জায়গাটি অবশ্য তার বয়স। প্রচলিত ধারণায় স্কুল ও কলেজ শেষ করার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া এবং নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে পেশাগত জীবন শুরু করাকে স্বাভাবিক পথ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে উচ্চশিক্ষায় ফেরার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা নেই। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, পরিবার, কর্মজীবন কিংবা নতুন পেশাগত লক্ষ্য থেকে অনেকেই জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে আবার শিক্ষাজীবনে ফিরে আসেন।   ৩৭ বছর বয়সে তার এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও মূল বিষয় হয়ে উঠেছে ভবিষ্যতের লক্ষ্য। নিউরোলজি চিকিৎসাবিজ্ঞানের এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রোগ নিয়ে চিকিৎসা ও গবেষণা করা হয়। সেই পেশায় পৌঁছানোর দীর্ঘ পথ জেনেই তিনি নতুন করে একাডেমিক যাত্রা শুরু করেছেন বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে তার ব্যক্তিগত পরিচয়, পূর্বের শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবন এবং ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ফ্লোরিডায় তার নির্দিষ্ট একাডেমিক মেজর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া অতিরিক্ত কোনো দাবি করা হচ্ছে না।   এই গল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নয়। বরং জীবনের ৩৭তম বছরে এসে দীর্ঘ সময়ের পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হবে জেনেও নতুন একটি পেশাগত লক্ষ্য অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া।   বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন থেকে নিউরোলজিস্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ অনেক দীর্ঘ। সেই পথ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে, সেটি ভবিষ্যৎই বলে দেবে। তবে নতুন করে শুরু করার সিদ্ধান্তটিই দেখায়, উচ্চশিক্ষা কিংবা নতুন পেশার পথে যাত্রার জন্য সবার সময়সূচি এক নয়। কারও সেই পথ শুরু হয় ১৮ বা ২০ বছর বয়সে, আবার কারও জন্য নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে ৩৭ বছরেও।   সূত্র: abronotes

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ০:৪৮