প্রতিদিনের যে ৭টি অভ্যাস নীরবে চোখের দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ
দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ অভ্যাস ধীরে ধীরে চোখের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখের বিভিন্ন সমস্যা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে পারে। তবে কিছু অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখলে এসব সমস্যার অগ্রগতি ধীর করা এবং দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় সহায়তা করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাঙ্গোন হেলথের চক্ষুবিদ্যার অধ্যাপক ড. ডগলাস লাজারো।
লাজারোর মতে, বংশগত কারণ ও বয়স চোখের বিভিন্ন রোগের বড় কারণ হলেও দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাসও চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তিনি বিশেষ করে সাতটি অভ্যাসের কথা উল্লেখ করেছেন।
এর মধ্যে প্রথমটি হলো রোদে বের হলে চোখের সুরক্ষা না নেওয়া। দীর্ঘ সময় অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং চোখের লেন্স ঘোলাটে হয়ে যাওয়া ছানি পড়ার অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। লাজারো জানিয়েছেন, তাঁর নিজের চিকিৎসা অভিজ্ঞতায় তিন দশক আগের তুলনায় এখন পাঁচ থেকে ১০ বছর আগেই ছানি দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে অতিবেগুনি রশ্মির দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। উজ্জ্বল রোদে সানগ্লাস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
দ্বিতীয় অভ্যাস হলো কম আলোয় পড়াশোনা বা বই পড়া। পর্যাপ্ত আলো না থাকলে চোখে চাপ বাড়তে পারে এবং কোনো কিছুর ওপর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে অল্প আলো থেকে উজ্জ্বল আলোতে বা উজ্জ্বল পরিবেশ থেকে অন্ধকারে চোখের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। তাই পড়ার সময় পর্যাপ্ত আলো রাখার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো।
তৃতীয় বিষয়টি হলো অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস। পুষ্টিকর খাবার ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে, আর এসব রোগ চোখের দৃষ্টিশক্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। লাজারোর মতে, উচ্চ কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিসজনিত চোখের সমস্যাকে আরও খারাপ করতে পারে। চোখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা চলছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো আরও গবেষণা প্রয়োজন।
চতুর্থ অভ্যাস হলো পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখ শুষ্ক হওয়ার সমস্যা বা ড্রাই আই তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যেতে পারে। এতে চোখ লাল, চুলকানি ও অস্বস্তি হতে পারে। শরীরে পানিশূন্যতা থাকলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে গরমের দিনে বাইরে থাকার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো। এতে চোখের সামনের স্বচ্ছ অংশ কর্নিয়া আর্দ্র রাখতে সহায়তা করতে পারে।
পঞ্চম অভ্যাস হলো নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া। বিশেষ করে স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন লাজারো। এ ধরনের ঘুমের সমস্যার সঙ্গে গ্লুকোমা এবং চোখের কিছু রক্তনালিসংক্রান্ত সমস্যার বেশি উপস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। রাতে রক্তসঞ্চালনে ওঠানামার কারণে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া চোখের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাঁর মত।
ষষ্ঠ অভ্যাস হলো বারবার চোখ ঘষা। লাজারোর মতে, চোখ ঘষার অভ্যাস কেরাটোকোনাসের একটি ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। কেরাটোকোনাস এমন একটি চোখের সমস্যা, যেখানে কর্নিয়া ধীরে ধীরে স্বাভাবিক গোলাকার আকৃতি হারিয়ে সামনে দিকে উঁচু হয়ে শঙ্কুর মতো আকৃতি নিতে পারে। চোখ ঘষার অভ্যাস সরাসরি এ রোগ সৃষ্টি করে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে পুরোপুরি একমত না থাকলেও বারবার চোখ ঘষলে কর্নিয়ার আকৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই এ অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো।
সপ্তম এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত চোখ পরীক্ষা না করানো। গ্লুকোমা অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই ধীরে ধীরে চোখের অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ কারণে নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ চোখ পরীক্ষা করানো রোগটি দ্রুত শনাক্ত করার অন্যতম উপায় বলে জানিয়েছেন লাজারো। তিনি গ্লুকোমাকে এমন একটি রোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা দৃষ্টিশক্তির বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে এর প্রকোপও বাড়তে পারে।
লাজারো প্রাপ্তবয়স্কদের বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। শুধু কাছের জিনিস দেখতে সমস্যা শুরু হওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে নিয়মিত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। মধ্যবয়সে প্রেসবায়োপিয়া নামের একটি স্বাভাবিক বয়সজনিত পরিবর্তনের কারণে কাছের জিনিসে ফোকাস করতে সমস্যা হতে পারে এবং অনেকের পড়ার চশমার প্রয়োজন হয়।
তিনি আরও জানিয়েছেন, নিয়মিত চোখ পরীক্ষার সময় চোখের পাতায় ত্বকের ক্যানসার ও টিউমারের মতো সমস্যাও পরীক্ষা করা যেতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতিরিক্ত রোদে থাকার সঙ্গে ছানি ও ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের পাশাপাশি চোখের পাতার কিছু ক্যানসারের সম্পর্কও থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এসব সমস্যা দ্রুত শনাক্ত হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই তা অপসারণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।
চোখের রোগের ক্ষেত্রে বয়স ও বংশগতির মতো নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, রোদে চোখের সুরক্ষা, পর্যাপ্ত আলোয় পড়া, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম, চোখ না ঘষা এবং নিয়মিত পরীক্ষা—এই অভ্যাসগুলো চোখের দীর্ঘমেয়াদি যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
স্বাস্থ্য
View moreবিশ্বজুড়ে ক্যান্সারের একটি বড় অংশের পেছনে রয়েছে এমন কিছু সংক্রমণ, যেগুলো প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। নতুন এক বৈশ্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে বিশ্বে আনুমানিক ২৩ লাখ নতুন ক্যান্সারের ঘটনা বিভিন্ন সংক্রমণের কারণে হয়েছে। এই সংখ্যা ওই বছরে শনাক্ত হওয়া মোট নতুন ক্যান্সারের প্রায় ১২ শতাংশ। অর্থাৎ বিশ্বে প্রায় প্রতি আটটি নতুন ক্যান্সারের একটি সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত। আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা বা আইএআরসির এই গবেষণাটি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দ্য ল্যানসেট অনকোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ২০২৪ সালের বৈশ্বিক ক্যান্সার পরিস্থিতির তথ্য বিশ্লেষণ করে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে—এমন ১২টি সংক্রমণকারী এজেন্টের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষণাটি আইএআরসির গ্লোবাল ক্যান্সার অবজারভেটরির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। গবেষণায় বিবেচনায় নেওয়া ১২টি সংক্রমণের মধ্যে রয়েছে হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি বা এইচ পাইলোরি, হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা এইচপিভি, হেপাটাইটিস বি ভাইরাস, হেপাটাইটিস সি ভাইরাস, এপস্টেইন-বার ভাইরাস বা ইবিভি, কাপোসি সারকোমা-সংশ্লিষ্ট হারপিসভাইরাস, শিস্টোসোমা হেমাটোবিয়াম, হিউম্যান টি-সেল লিম্ফোট্রপিক ভাইরাস টাইপ-১, অপিসথোরকিস ভিভেরিনি, ক্লোনোরকিস সিনেনসিস, মার্কেল সেল পলিওমাভাইরাস এবং এইচআইভি। তবে সব সংক্রমণের ভূমিকা সমান নয়। গবেষণায় সবচেয়ে বেশি ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া গেছে এইচ পাইলোরির। ২০২৪ সালে এই ব্যাকটেরিয়ার কারণে আনুমানিক ৭ লাখ ৬০ হাজার নতুন ক্যান্সারের ঘটনা ঘটেছে বলে হিসাব করা হয়েছে। এরপর রয়েছে এইচপিভি, যার সঙ্গে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার নতুন ক্যান্সারের ঘটনা সম্পর্কিত ছিল। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের সঙ্গে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার, এপস্টেইন-বার ভাইরাসের সঙ্গে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার এবং হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের সঙ্গে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ক্যান্সারের ঘটনা যুক্ত ছিল। অর্থাৎ এই পাঁচটি সংক্রমণ—এইচ পাইলোরি, এইচপিভি, হেপাটাইটিস বি, এপস্টেইন-বার ভাইরাস এবং হেপাটাইটিস সি—মিলে সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের প্রায় পুরো বোঝার জন্য দায়ী। গবেষণার এই ফলাফল দেখাচ্ছে, ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে শুধু জীবনযাপন ও পরিবেশগত ঝুঁকির দিকে নজর দিলেই হবে না; কিছু নির্দিষ্ট সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় অঞ্চলভেদেও বড় পার্থক্য দেখা গেছে। সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় বোঝা ছিল পূর্ব এশিয়ায়। ২০২৪ সালে এই অঞ্চলে প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার এমন ক্যান্সারের ঘটনা ঘটেছে, যা বিশ্বব্যাপী সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের প্রায় ৪২ শতাংশ। পূর্ব এশিয়ায় এইচ পাইলোরি ও হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের বোঝায় বড় ভূমিকা রেখেছে। সাব-সাহারান আফ্রিকাতেও সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের হার বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি ছিল। সেখানে এইচপিভি ও কাপোসি সারকোমা-সংশ্লিষ্ট হারপিসভাইরাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এইচআইভিও ওই অঞ্চলের সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে। গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি। এসব দেশেই সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের তিন-চতুর্থাংশের বেশি ঘটনা ঘটেছে। টিকা, রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের সুযোগ সব জায়গায় সমান না হওয়ায় এই বৈষম্য তৈরি হয়েছে বলে গবেষণার ফলাফলে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এপস্টেইন-বার ভাইরাসের বিষয়টিও গবেষণায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের বৈশ্বিক হিসাব অনুযায়ী এটি চতুর্থ বৃহত্তম সংক্রমণকারী কারণ। গবেষণায় সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে এপস্টেইন-বার ভাইরাসের সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যান্সারের একটি অংশের সম্পর্কও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগে যেসব হিসাব করা হয়েছিল, নতুন গবেষণায় তার তুলনায় সংক্রমণ ও ক্যান্সারের সম্পর্কের আরও বিস্তৃত চিত্র পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলাফলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের একটি বড় অংশ প্রতিরোধের সুযোগ রয়েছে। এইচপিভি ও হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে টিকা রয়েছে। এইচ পাইলোরি, হেপাটাইটিস বি ও সি এবং এইচআইভি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এইচপিভি-সম্পর্কিত কিছু ক্যান্সারের ক্ষেত্রে নিয়মিত স্ক্রিনিংও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে সমানভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। অর্থের অভাব, স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং অন্যান্য কাঠামোগত বাধার কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় টিকা, পরীক্ষা ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। ফলে সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের বোঝা কমানোর ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে। গবেষকরা বিশেষ করে এপস্টেইন-বার ভাইরাসের মতো সংক্রমণের ক্ষেত্রে নতুন প্রতিরোধমূলক পদ্ধতি তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর টিকা নেই। তাই ভবিষ্যতে নতুন টিকা ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো হলে সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের বৈশ্বিক বোঝা আরও কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে গবেষণার এই ফলাফলকে এমনভাবে দেখা ঠিক হবে না যে ক্যান্সারের বেশিরভাগ ঘটনাই সংক্রমণের কারণে হয়। গবেষণাটি নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংক্রমণের ভূমিকা বিশ্লেষণ করেছে। সামগ্রিকভাবে ক্যান্সারের আরও অনেক কারণ ও ঝুঁকির উপাদান রয়েছে। গবেষণার মূল বার্তা হলো, ক্যান্সার প্রতিরোধের বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে পরিচিত ক্যান্সারসৃষ্টিকারী সংক্রমণগুলোকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে।
প্রতিদিনের যে ৭টি অভ্যাস নীরবে চোখের দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ
সাইবেরিয়ার প্লেগ গবেষণাকর্মীর মৃ ত্যুর পর রাশিয়াকে সহায়তার কথা বলেছেন ট্রাম্প
আর্থিক চাপে নর্থওয়েল হেলথ, নিউইয়র্কে সীমিতসংখ্যক চাকরি বিলুপ্তের ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের একটি অংশের জন্য মেডিকেইডের নতুন যোগ্যতার নিয়ম ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে এতদিন মেডিকেইডের আওতায় থাকা কিছু অভিবাসী এখন কভারেজ হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। তবে এই পরিবর্তন সব বৈধ অভিবাসীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, আয়, অঙ্গরাজ্য এবং অন্যান্য যোগ্যতার ওপর নির্ভর করছে তিনি মেডিকেইড সুবিধা পাবেন কি না। নতুন নিয়মের প্রভাব নিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে প্রবাসী কমিউনিটিতে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেইডের ওপর নির্ভর করে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের অনেকের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কভারেজ না থাকলে চিকিৎসার খরচ কীভাবে চালাবেন। মিশিগান থেকে সামসুল হক আমেরিকা বাংলাকে জানিয়েছেন, নতুন পরিবর্তনের মধ্যে তিনি তার মেডিকেইড কভারেজ হারিয়েছেন। সামসুল হকের একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে এবং নিয়মিত বেশ কয়েকটি ওষুধ সেবন করতে হয়। তার শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। কভারেজ হারানোর পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ কীভাবে চালাবেন, তা নিয়ে তিনি গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কভারেজ ফিরে পাওয়া যায় কি না কিংবা বিকল্প কোনো হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা করা সম্ভব কি না, তা জানতে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও সহায়তাকারী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। সামসুল হকের অভিজ্ঞতা সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে, একই পরিস্থিতিতে পড়া অন্য প্রবাসীদের করণীয় কী। কারণ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা একজন রোগীর জন্য হেলথ ইন্স্যুরেন্স কভারেজ হারানো মানে শুধু একটি সরকারি সুবিধা হারানো নয়। নিয়মিত ডাক্তার দেখানো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ চালিয়ে যাওয়াও তখন বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ২০২৫ সালে পাস হওয়া ফেডারেল ব্যয় আইনের মাধ্যমে মেডিকেইড ও শিশুদের স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচিতে বৈধ অভিবাসীদের যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন স্ট্যাটাস ফেডারেল অর্থায়নে পূর্ণ মেডিকেইড কভারেজের জন্য আর যোগ্য থাকছে না। তবে গ্রিন কার্ডধারীসহ নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী এখনো যোগ্য থাকতে পারেন এবং কিছু অঙ্গরাজ্যে নিজস্ব অর্থায়নে অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও রয়েছে। এ কারণে মেডিকেইড কভারেজ হারানোর বিষয়টি সবার জন্য এক নয়। একজন অভিবাসীর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, আয়, বয়স, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং তিনি কোন অঙ্গরাজ্যে বসবাস করছেন, তার ওপর যোগ্যতা নির্ভর করতে পারে। ফলে অন্য কারও কভারেজ বন্ধ হয়েছে শুনে নিজের কভারেজও বন্ধ হয়ে যাবে এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তবে যাদের কভারেজ ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের জন্য বিষয়টি জরুরি। বিশেষ করে যাদের নিয়মিত ওষুধ বা চিকিৎসার প্রয়োজন, তাদের কভারেজের বিকল্প খুঁজে বের করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অঙ্গরাজ্যের মেডিকেইড অফিস, হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস, কমিউনিটি হেলথ সেন্টার এবং যোগ্য অভিবাসীদের সহায়তা করা বিভিন্ন সংগঠনের কাছ থেকে বিকল্পের তথ্য নেওয়া যেতে পারে। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইমার্জেন্সি মেডিকেইডের সুযোগ থাকতে পারে। তবে এটি পূর্ণ মেডিকেইড কভারেজের বিকল্প নয় এবং সাধারণ চিকিৎসা বা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার সব খরচ এতে কভার হয় না। সামসুল হকের মতো যাদের নিয়মিত চিকিৎসা চলছে, তাদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কভারেজ হারানোর কারণটি নিশ্চিত করা এবং নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ও আয়ের ভিত্তিতে অন্য কোনো স্বাস্থ্যবীমা বা সরকারি স্বাস্থ্যসেবার জন্য যোগ্যতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা। মেডিকেইডের নতুন নিয়ম কার্যকর হলেও চিকিৎসার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে কভারেজ হারানো প্রবাসীদের জন্য এখন দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, নিজের যোগ্যতা যাচাই এবং বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থার সন্ধান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বর থেকে দ্রুত নিউমোনিয়া, নিউমোনিক প্লেগের যেসব উপসর্গ জানা জরুরি
ল্যাবকর্মীর মৃ ত্যুর পর রাশিয়ায় প্লে গের শঙ্কা, পরিস্থিতি নজরদারিতে যুক্তরাষ্ট্র
বয়স কি উল্টো পথে চলে? তরুণ শরীরে ট্রান্সপ্লান্ট এর পর বদলে যাচ্ছে বয়স্ক হৃদপিণ্ড
সাধারণত বয়স্কদের রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও গত প্রায় তিন দশকে তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্ট্রোকের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেটার সিনসিনাটি ও নর্দার্ন কেনটাকি অঞ্চলের ওপর দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সীদের মধ্যে স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালের তুলনায় ২০২০ সালে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গবেষণাটি ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল ‘নিউরোলজি’-তে প্রকাশিত হয়। গবেষণায় ১৯৯৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ওই অঞ্চলে ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী মানুষের প্রথমবারের স্ট্রোকের ২ হাজার ৭৬টি ঘটনা শনাক্ত করা হয়। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালে ছিল ৩৩ দশমিক ৯টি। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬২ দশমিক ২টিতে। একই সময়ে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্ট্রোকের হার বরং কমেছে, যা তরুণদের ক্ষেত্রে দেখা যাওয়া বিপরীত প্রবণতাটিকে আরও গুরুত্ববহ করে তুলেছে। গবেষকদের মতে, এই বৃদ্ধির বড় অংশই হয়েছে ইস্কেমিক স্ট্রোকের কারণে। এ ধরনের স্ট্রোক মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে ঘটে এবং এটি স্ট্রোকের সবচেয়ে সাধারণ ধরন। তরুণদের মধ্যে ইস্কেমিক স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালে প্রতি এক লাখে ২৩ দশমিক ৮টি থেকে বেড়ে ২০২০ সালে ৪৭ দশমিক ৩টিতে পৌঁছায়। অন্যদিকে মস্তিষ্কের ভেতরে রক্তক্ষরণ বা মস্তিষ্কের চারপাশে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের ক্ষেত্রে একই ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়নি। তরুণদের মধ্যে স্ট্রোক বাড়ার পেছনে ঠিক কোন কারণ সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সময়ের সঙ্গে স্ট্রোকে আক্রান্ত তরুণদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্যন্ত্রের অনিয়মিত স্পন্দন এবং মাদক বা অন্যান্য নেশাজাতীয় পদার্থ ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব ঝুঁকির কারণের সঙ্গে স্ট্রোকের হার বৃদ্ধির সম্পর্ক দেখা গেলেও এগুলোই পুরো বৃদ্ধির কারণ, এমন সিদ্ধান্ত এই গবেষণা থেকে দেওয়া যায় না। গবেষণাটিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের হার বাড়লেও স্ট্রোকের পর ৩০ দিনের মধ্যে মৃত্যুর হার সামান্য কমেছে। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ হার ছিল ১১ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২০ সালে নেমে আসে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে। অর্থাৎ আগের তুলনায় বেশি তরুণ স্ট্রোক থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বেঁচে যাচ্ছেন। তবে এর অর্থ একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক বা স্নায়বিক জটিলতা নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের সংখ্যাও বাড়তে পারে। বস্টনের টাফটস মেডিকেল সেন্টারের ভাসকুলার নিউরোলজিস্ট ডা. মিশেল লেপার্ট বলেন, তরুণদের মধ্যে স্ট্রোক বাড়ার প্রবণতার বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তিনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো ঝুঁকির কারণের দিকে ইঙ্গিত করলেও বলেন, শুধু এসব কারণ দিয়ে পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা যায় না। তরুণদের মধ্যে হৃদ্রোগের হার একইভাবে না বাড়ায় বিষয়টি আরও গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজন রয়েছে। লেপার্ট আরও জানান, ৪৫ বছরের কম বয়সী নারীদের মধ্যেও স্ট্রোকের ঘটনা পুরুষদের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে, যা গবেষকদের জন্য বিশেষ আগ্রহের বিষয়। বিশেষ করে যেসব নারী অরা-সহ মাইগ্রেনে ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অরা-সহ মাইগ্রেন বলতে মাথাব্যথার আগে বা সঙ্গে দৃষ্টিতে ঝিলমিল, আলোর ঝলক বা অন্য ধরনের সাময়িক স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দেওয়াকে বোঝায়। চিকিৎসকেরা বলছেন, তরুণ বয়স মানেই স্ট্রোকের ঝুঁকি নেই, এমন ধারণা বিপজ্জনক হতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরলসহ অনেক ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করা সম্ভব। তাই ২০, ৩০ বা ৪০-এর কোঠায় থাকা ব্যক্তিদেরও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশন ‘বি ফাস্ট’ পদ্ধতির মাধ্যমে ভারসাম্য হারানো, চোখ বা দৃষ্টিতে হঠাৎ পরিবর্তন, মুখের এক পাশ ঝুলে পড়া, হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং কথা বলায় সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেয়। হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা বা নতুন কোনো স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিলেও তা উপেক্ষা না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে গবেষকেরা এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, নতুন গবেষণাটি মূলত একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। গ্রেটার সিনসিনাটি ও নর্দার্ন কেনটাকির ওই পাঁচ-কাউন্টি এলাকার জাতিগত বৈচিত্র্য, শিক্ষা ও আর্থসামাজিক বৈশিষ্ট্য যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক জনসংখ্যার সঙ্গে তুলনামূলকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও এটিকে সরাসরি পুরো দেশের প্রতিটি তরুণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। গবেষণাটি বরং তরুণদের মধ্যে স্ট্রোক বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রবণতার শক্তিশালী ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং এর কারণ খুঁজতে আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। সূত্র: ডব্লিউসিভিবি
পাকা চুলের সঙ্গে ক্যানসারের অপ্রত্যাশিত যোগসূত্র খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা
নিজেকে নিয়েই মগ্ন, অন্যের অনুভূতির মূল্য নেই: আত্মকেন্দ্রিক মানুষকে চেনার উপায় ও করণীয়