সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
জাপানের ওকিনাওয়ায় নারী হ ত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তার
জাপানের ওকিনাওয়ায় নারী হ ত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তার

জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের একটি হোটেল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক মার্কিন মেরিন সেনাকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর) পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   এর আগে, শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে নাহা শহরের একটি হোটেলের কক্ষ থেকে ৩৯ বছর বয়সী ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীর মরদেহের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মাথা কামানো বিদেশি চেহারার এক ব্যক্তি ওই নারীর সঙ্গে হোটেল কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন।   পরবর্তীতে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি একাই ওই নারীর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহ উদ্ধারের পর দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ এবং ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে রোববার রাত ১টার দিকে শহরের রাস্তায় ঘোরাফেরা করার সময় ওই সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ বছর বয়সী ওই তরুণ মার্কিন সেনা ওকিনাওয়ার ফুতেনমা এয়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন।   এই ঘটনার পর টোকিওতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানানো হয়েছে, ওকিনাওয়ায় জাপানি নাগরিকের মৃত্যু ও মার্কিন মেরিন সেনাকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে।   ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে জাপানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ জানতে স্থানীয় পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৬:২৮
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে মেট্রো-নর্থ স্টেশনের পাশে ১ বিলিয়ন ডলারের আবাসন প্রকল্প, বিক্রির অপেক্ষায় জমি
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে মেট্রো-নর্থ স্টেশনের পাশে ১ বিলিয়ন ডলারের আবাসন প্রকল্প, বিক্রির অপেক্ষায় জমি

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে প্রস্তাবিত নতুন পার্কচেস্টার/ভ্যান নেস্ট মেট্রো-নর্থ স্টেশনের কাছে অবস্থিত ৭ দশমিক ৪ একরের একটি বিশাল আবাসন ও বাণিজ্যিক সাইট বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হচ্ছে। 'হিমেল + মেরিঙ্গফ (এইচ+এম)' এবং তাদের যৌথ উদ্যোগের অংশীদার 'অ্যাফিনিউস ক্যাপিটাল' ১৬০১ ব্রঙ্কসডেল অ্যাভিনিউয়ের এই আকর্ষণীয় প্রজেক্টটি বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে।   নিউইয়র্ক শহরের সবচেয়ে বড় ও সম্পূর্ণ অনুমোদিত এই আবাসন উন্নয়ন সাইটটি ব্রঙ্কসের আবাসন খাতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   ২০১৯ সালে প্রায় ৮৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই জায়গাটি কিনেছিল এইচ+এম। ইতিমধ্যে সেখানে ২ দশমিক ৪১ মিলিয়ন বর্গফুটের ছয়টি ভবন নির্মাণের জন্য শহরের প্রয়োজনীয় সব অনুমোদনও পেয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রকল্পে থাকছে ২৩০০টি পর্যন্ত অ্যাপার্টমেন্ট, পাবলিক প্লাজা, খুচরা বিক্রি বা রিটেইল ও কমিউনিটি স্পেস এবং ৬৪০টি পার্কিং স্পেস।   সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, প্রস্তাবিত নতুন মেট্রো-নর্থ স্টেশনের সঙ্গে এর সরাসরি হাঁটার পথ সংযুক্ত থাকবে, যা মূলত ব্রঙ্কসে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণে রাজ্য ও শহরের বৃহত্তর পরিকল্পনারই একটি অংশ।   বর্তমানে এই জায়গায় একটি ৩ লাখ ৫৪ হাজার বর্গফুটের শিল্প ভবনসহ বেশ কিছু বাণিজ্যিক স্থাপনা রয়েছে, যা থেকে মালিকপক্ষের নিয়মিত নগদ আয় (ক্যাশ ফ্লো) আসছে। প্রপার্টিটি বাজারজাত করার জন্য সিইও বব ন্যাকালের নেতৃত্বাধীন রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান 'বিকেআরইএ'-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, মালিকপক্ষ জায়গাটি বিক্রি করে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা করছেন।   সিইও বব ন্যাকালের মতে, এই প্রপার্টিটি নিউইয়র্ক শহরের রিয়েল এস্টেট বাজারের একটি অনন্য উদাহরণ; যেখানে একই সঙ্গে বর্তমানের বাণিজ্যিক আয়, সুবিশাল জমি, ভবিষ্যৎ ট্রানজিট সংযোগ এবং হাজার হাজার বাড়ি তৈরির অবারিত সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৬:৪
বাংলাদেশি আইটি ইঞ্জিনিয়ার শাহ মো. আরদি
নিউইয়র্কে ম র্মান্তিক সড়ক দু র্ঘটনায় প্রাণ গেল ২৪ বছরের বাংলাদেশি আইটি ইঞ্জিনিয়ার শাহ মো. আরদির

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শাহ মো. আরদি নামের এক বাংলাদেশি তরুণ আইটি ইঞ্জিনিয়ার নিহত হয়েছেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সী এই তরুণের দেশের বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে।   তিনি যুক্তরাষ্ট্রে একজন আইটি পেশাজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় সময় শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে নিউইয়র্কের মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।   পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষ করে শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজের বাসার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন আরদি।   পথিমধ্যে মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে পৌঁছালে তিনি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই তরুণ প্রাণ।   নিহত শাহ মো. আরদি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চুনারুঘাট অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইনকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ মো. ছাদেক মিয়ার ছোট ভাই শাহ মো. আসাদ মিয়ার বড় ছেলে।   নিজের ও পরিবারের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় তিনি দেশটিতে কর্মরত ছিলেন। তরতাজা এই তরুণের এমন আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে তাঁর নিজ পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চুনারুঘাট প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৫:৩৭
নিউইয়র্কের ব্যয়বহুল জীবন ছেড়ে ইতালিতে ১৩ হাজার ডলারে বাড়ি, নতুন ঠিকানায় মার্কিন দম্পতি
নিউইয়র্কের ব্যয়বহুল জীবন ছেড়ে ইতালিতে ১৩ হাজার ডলারে বাড়ি, নতুন ঠিকানায় মার্কিন দম্পতি

সাফল্যের মাপকাঠি বলতে বড় বাড়ি, নতুন গাড়ি আর ব্যস্ত শিডিউল—যুক্তরাষ্ট্রে বড় হওয়া অনেকের মতোই এমন ধারণার মধ্যেই বেড়ে উঠেছিলেন মার্কিন দম্পতি অ্যালেক্স নিনম্যান ও তাঁর স্ত্রী। কিন্তু একটা সময় গিয়ে তাঁরা উপলব্ধি করেন, এসবের কোনোটিই আসলে তাঁদের সুখী করছে না।   তাই যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে ২০১৯ সালে নিউইয়র্ক শহর ছেড়ে ইউরোপে পাড়ি জমান তাঁরা। এরপর ২০২০ সালে চেক প্রজাতন্ত্রে থাকার সময় কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে তাঁরা ইতালির আব্রুজ্জো অঞ্চলের একটি ছোট গ্রামে বসবাস করছেন, যা রাজধানী রোম থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত। নিউইয়র্কের মতো ব্যয়বহুল শহর ছেড়ে ইতালির এই অপরিচিত গ্রামে মাত্র ১৩ হাজার ১০০ ডলারে বাড়ি কিনে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জীবনধারার সূচনা করেছেন এই দম্পতি।   ইতালির এই ছোট গ্রামে বসবাস করার সুবাদে যুক্তরাষ্ট্রের মতো গৃহঋণের বিশাল আর্থিক বোঝা কাঁধে নিতে হয়নি তাঁদের। নগদ মাত্র ১১ হাজার ৫০০ ইউরো বা প্রায় ১৩ হাজার ১০০ ডলারের বিনিময়ে ১০৭৬ বর্গফুটের দোতলা একটি বাড়ি কিনেছেন তাঁরা। বাড়িটির বেজমেন্ট ও চিলেকোঠায় রয়েছে আরও দুটি ঘর।   বাড়িটি সংস্কারের পেছনে পরবর্তীতে আরও প্রায় ১৭ হাজার ১০০ ডলার ব্যয় করেছেন এই দম্পতি। তাঁরা জানিয়েছেন, কেবল আর্থিক সুবিধার জন্যই নয়, বরং একটি নিবিড় সামাজিক বন্ধন ও সম্প্রদায়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তাঁরা এখানে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   ইতালিতে খাবার, শিশুদের লালনপালনসহ দৈনন্দিন অন্যান্য খরচ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেকটাই কম। জীবনযাত্রার এই স্বল্প ব্যয়ের কারণে বেশি আয়ের পেছনে ছোটার চাপ কমেছে তাঁদের। প্রথমদিকে দূরনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে নিউইয়র্কের টেক স্টার্টআপের চাকরিটি চালিয়ে গেলেও, গুছিয়ে ওঠার পর সেটি ছেড়ে দেন স্ত্রী।   বর্তমানে তিনি একটি ইতালিয়ান ট্রাভেল কোম্পানির মার্কেটিংয়ের কাজ ও কন্টেন্ট তৈরি করছেন। সেখানে আয় কিছুটা কম হলেও কাজের দারুণ স্বাধীনতা রয়েছে। ফলে পাঁচ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে নিশ্চিন্তে সময় কাটানোর পাশাপাশি নতুন নতুন জায়গা ঘুরে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা।   যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইতালির এই গ্রামের সামাজিক বন্ধনও বেশ দৃঢ়। এখানে প্রতিবেশীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে গল্প করেন, হঠাৎ করেই খোঁজখবর নিতে বাড়িতে চলে আসেন, যাকে কেউ অনুপ্রবেশ বা বিরক্তি হিসেবে দেখে না। গ্রীষ্মের ছুটিতে এখানকার সমাজজীবনের আসল রূপ ফুটে ওঠে।   রাতের খাবারের পর পরিবারের সবাই পিয়াজ্জায় (জনসমাগমের জায়গা) জড়ো হয়, আর বাচ্চারা নিরাপদে সারা গ্রামজুড়ে খেলাধুলা করে। রাত ১১টা-১২টা পর্যন্ত বাচ্চাদের বাইরে থাকাটা এখানে খুবই স্বাভাবিক। তাঁদের মেয়ে এরই মধ্যে ইংরেজি, চেক এবং ইতালীয় ভাষার পাশাপাশি স্থানীয় উপভাষাও শিখতে শুরু করেছে, যা তাকে স্থানীয় সংস্কৃতিরই একটি অংশে পরিণত করছে।   অবশ্য ইতালির এই জীবনও পুরোপুরি নিখুঁত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পরিবার ও বন্ধুদের শূন্যতা তাঁরা প্রতিনিয়ত অনুভব করেন। এছাড়া ইতালির মন্থর গতির আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও কখনো কখনো হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়; যেমন, বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ নিতে গিয়েও স্বাস্থ্যবিমার কার্ডের কপি জমা দিতে হয়েছে তাঁদের!   তা সত্ত্বেও, এই দম্পতির মতে তাঁরা এমন কিছু অর্জন করেছেন যা হয়তো অর্থের অঙ্কে পরিমাপ করা কঠিন। এখন তাঁদের দৈনন্দিন জীবন বস্তুগত অর্জনের চেয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক ও আনন্দের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। আব্রুজ্জোর এই ছোট গ্রামটিতে তাঁরা কেবল একটি বাড়িই কেনেননি, বরং নিজেদের এবং সন্তানের জন্য খুঁজে পেয়েছেন এক অমূল্য শান্তির নীড়।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৫:১১
প্রীতম ও শেহতাজের বিবাহবিচ্ছেদ: পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবেই দাম্পত্য জীবনের আনুষ্ঠানিক ইতি
প্রীতম ও শেহতাজের বিবাহবিচ্ছেদ: পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবেই দাম্পত্য জীবনের আনুষ্ঠানিক ইতি

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা প্রীতম হাসান এবং মডেল-অভিনেত্রী শেহতাজ মনিরা হাশেমের দাম্পত্য জীবনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটতে যাচ্ছে। রোববার রাতে নিজেদের ফেসবুক পেজে আলাদা পোস্টের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন দুজনই।   সংবাদমাধ্যমের কাছে বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিতও করেছেন শেহতাজ। মূলত পারস্পরিক বোঝাপড়ায় বড় ধরনের পার্থক্যের কারণেই দীর্ঘ দশ বছরের পথচলার পর আলাদা হওয়ার এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।   প্রীতম ও শেহতাজ উভয়েই তাঁদের পোস্টে জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ চিন্তাভাবনা এবং নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর, দুই পরিবারের পূর্ণ সম্মতি ও সমর্থন নিয়েই তাঁরা বিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তবে একসঙ্গে কাটানো সময় ও স্মৃতিগুলোর প্রতি তাঁরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং একে অপরের প্রতি সর্বদা সম্মান ও শুভকামনা থাকবে বলেও জানিয়েছেন।   পাশাপাশি, জীবনের এই কঠিন ও রূপান্তরকালীন সময়ে বন্ধু, সহকর্মী এবং গণমাধ্যমের কাছে নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন এই জুটি।   ২০১৭ সালে প্রীতমের জনপ্রিয় গান ‘জাদুকর’-এর মিউজিক ভিডিওতে কাজ করতে গিয়েই মূলত তাঁদের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সেই পরিচয় ধীরে ধীরে প্রেমে গড়ায় এবং দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রেমের পর ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর শ্রীমঙ্গলের একটি হোটেলে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা।   বিয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের সুন্দর মুহূর্তগুলো ভক্তদের নজর কাড়লেও, বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছিল। অবশেষে সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো এবং আনুষ্ঠানিকভাবেই আলাদা পথে হাঁটার ঘোষণা দিলেন এই তারকা জুটি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:৪৭
যু দ্ধের সময় আশ্রয়, মহামারিতে টিকাদান; ১০০ বছর ধরে মানুষের পাশে লন্ডনের ফজল মসজিদ
যু দ্ধের সময় আশ্রয়, মহামারিতে টিকাদান; ১০০ বছর ধরে মানুষের পাশে লন্ডনের ফজল মসজিদ

ঠিক এক শতাব্দী আগে লন্ডনের বুকে গড়ে ওঠা প্রথম মসজিদ 'ফজল মসজিদ' বা 'লন্ডন মসজিদ' তার শতবর্ষ উদ্‌যাপন করছে। ওয়ান্ডসওয়ার্থের সাউথফিল্ডস এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদটি যুক্তরাজ্যের আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।   শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বর্তমানে সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, যার অংশ হিসেবে গৃহহীন মানুষদের জন্য ১০ হাজার বিনা মূল্যের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৯২৪ সালে যখন মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়, তখন প্রায় ৬০০ জন বিশিষ্ট অতিথির উপস্থিতিতে একটি রুপালি চাবি দিয়ে এর বিশাল কালো দরজা খোলা হয়েছিল।   এই মসজিদ নির্মাণের পেছনে রয়েছে এক অনন্য ত্যাগের ইতিহাস। ভারতের কাদিয়ানের একদল আহমদিয়া মুসলিম এর জন্য অর্থায়ন করেছিলেন, যাঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন নারী। নিজেদের অলংকার বিক্রি করে তাঁরা লন্ডনের প্রথম এই মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন, যদিও তাঁরা জানতেন যে এই মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার সুযোগ হয়তো তাঁদের কখনোই হবে না।   ২০১৮ সালে 'হিস্টোরিক ইংল্যান্ড' এই ভবনটিকে সংরক্ষিত স্থাপনার মর্যাদা দেয়। ১০০ বছর পেরিয়ে গেলেও এর ছিপছিপে জানালা, সবুজ গম্বুজ, শুভ্র দেয়াল এবং চারপাশের মনোরম গোলাপ বাগানের খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।   শুধুমাত্র উপাসনালয় নয়, বরং ফজল মসজিদ বিভিন্ন সময়ে মানবতার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি বিমান হামলার হাত থেকে বাঁচতে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে রক্তদান কর্মসূচি এবং কোভিড-১৯ টিকাদান কেন্দ্রও পরিচালিত হয়েছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই মসজিদ।   ঈদের সময় শিশুদের মিষ্টি বিতরণ, প্রতিবেশীদের বড়দিনের শুভেচ্ছা জানানো কিংবা অন্য ধর্মের মানুষের ওপর হামলার প্রতিবাদ—সবকিছুতেই তারা সোচ্চার। তাদের মূলমন্ত্র হলো 'সবার জন্য ভালোবাসা, কারও জন্য ঘৃণা নয়'।   মসজিদটি বিশ্ব ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও নীরব সাক্ষী। ১৯৩০-এর দশকে এই মসজিদের তৎকালীন ইমাম আবদুর রহিম দারদ এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন। সে সময় ভারতের রাজনীতি নিয়ে হতাশ হয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ লন্ডনে স্থায়ীভাবে আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু ইমাম দারদ তাঁকে বুঝিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফিরে যেতে রাজি করান।   এই ফজল মসজিদের বাগানে দাঁড়িয়েই জিন্নাহ একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে ভারত ভাগ এবং স্বাধীন পাকিস্তানের জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছিল।   মসজিদটির অতীত ও বর্তমান নিয়ে আহমদিয়া মুসলিম কমিউনিটির বর্তমান প্রধান মির্জা মাসরুর আহমদ বলেন, এই মসজিদের ইতিহাস প্রতিবেশীদের সেবা করা এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সঙ্গে শান্তি বজায় রাখার নীতিকে দারুণভাবে প্রতিফলিত করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই মসজিদটি আগামী প্রজন্মের জন্যও শান্তির বাতিঘর হয়ে থাকবে। ফজল মসজিদ প্রমাণ করেছে যে, তাদের সম্প্রীতির বার্তাটি চিরন্তন এবং এর কোনো মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নেই।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:৩৬
আড়াই বছরের ক্যান্সার লড়াই শেষে সুস্থ ৭ বছরের শিশু, বাবার ব্রেসলেট কেটে উদযাপন
আড়াই বছরের ক্যান্সার লড়াই শেষে সুস্থ ৭ বছরের শিশু, বাবার ব্রেসলেট কেটে উদযাপন

দীর্ঘ আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে চলা ক্যান্সারের কঠিন চিকিৎসার পর অবশেষে সুস্থ হয়ে উঠেছে সাত বছর বয়সী শিশু অ্যাডেলিন টেলর। নিজের এই বিজয় উদযাপন করতে গত ১৩ জুলাই ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক চিলড্রেনস-এ এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেয় সে।   চিকিৎসার শেষ দিনে চিকিৎসাকেন্দ্রের 'ব্রেভারি বেল' বা সাহসিকতার ঘণ্টা বাজানোর পাশাপাশি সে তার বাবার হাতে থাকা একটি বিশেষ ব্রেসলেট কেটে ফেলে। অ্যাডেলিনের রোগ শনাক্ত হওয়ার প্রথম দিন থেকেই তার বাবা ক্রিস টেলর 'অ্যাডেলিন স্ট্রং' লেখা ওই ব্রেসলেটটি পরে আসছিলেন।   ব্রেসলেট কাটার এই মুহূর্তটি ছিল বাবা ও মেয়ের এক নীরব প্রতিজ্ঞার বাস্তবায়ন। ক্রিস টেলর জানান, তিনি মেয়েকে কথা দিয়েছিলেন যে যেদিন সে ক্যান্সারকে জয় করবে, সেদিন নিজ হাতে এই ব্রেসলেটটি কেটে ফেলবে। এই কাজটিকে রোগের শৃঙ্খল ভেঙে পুরোপুরি মুক্ত হওয়ার একটি প্রতীকী রূপ হিসেবে দেখছেন তিনি। বাবা-মেয়ের এই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত নিয়ে ছোট্ট অ্যাডেলিন জানায়, সে সময় তার ভেতরে অনেক রকম অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছিল।   মাত্র চার বছর বয়সে অ্যাডেলিনের শরীরে 'বি-সেল অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া' ধরা পড়ে, যা অস্থিমজ্জা থেকে শুরু হওয়া একটি দ্রুত বর্ধনশীল ব্লাড ক্যান্সার।   অ্যাডেলিনের চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কেমোথেরাপি এবং ইমিউনোথেরাপি উভয়ই অন্তর্ভুক্ত ছিল। দীর্ঘ এই লড়াই শেষে স্ক্যান রিপোর্টে তার শরীর সম্পূর্ণ ক্যান্সারমুক্ত বলে নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। শেষ দিনে উপস্থিত পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং চিকিৎসক দলের সদস্যদের উল্লাসের মধ্যে দিয়ে সে যখন ব্রেভারি বেলের দিকে ছুটে যায়, তখন তার মা লিন্ডা টেলর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।   তিনি বলেন, মেয়ের এই আনন্দমাখা ছুটে যাওয়ার দৃশ্য তাদের এতো দিনের সব কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে। বাবা ক্রিস জানান, শিশুদের মানসিক দৃঢ়তা মাঝে মাঝে অভিভাবকদেরও অবাক করে দেয় এবং তিনি নিজেও মেয়ের এমন সাহসিকতা থেকে অনুপ্রেরণা খোঁজেন।   অ্যাডেলিন ক্যান্সারমুক্ত হলেও চিকিৎসকরা এখন তাকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখবেন। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক চিলড্রেনস-এর পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজিস্ট-অনকোলজিস্ট ডা. ইলিয়া বুহতোইয়ারভ আশা প্রকাশ করেন যে, অ্যাডেলিনের সুস্থ হয়ে ওঠার এই অভিজ্ঞতা শৈশবকালীন লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত অন্যান্য পরিবারগুলোকে সাহস জোগাবে।   তিনি জানান, শিশুদের ক্ষেত্রে লিউকেমিয়া সবচেয়ে সাধারণ একটি ক্যান্সার হলেও আধুনিক চিকিৎসার কল্যাণে এটি এখন অনেকাংশেই নিরাময়যোগ্য। 'লিউকেমিয়া' শব্দটি ভীতিকর হলেও এর শেষ প্রান্তে যে আশা বেঁচে আছে, সেটিই সবার মনে রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:১০
টানা ৯০ দিন জামাতে নামাজ আদায় করায় ৩২ শিশুকে বাইসাইকেল উপহার
টানা ৯০ দিন জামাতে নামাজ আদায় করায় ৩২ শিশুকে বাইসাইকেল উপহার

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার একটি মসজিদে টানা ৯০ দিন জামাতে নামাজ আদায়ের চ্যালেঞ্জে বিজয়ী ৩২ জন শিশু-কিশোরকে পুরস্কার হিসেবে বাইসাইকেল দেওয়া হয়েছে। শিশুদের মসজিদমুখী করতে এবং জামাতে নামাজ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করে পাঠাননগর ইউনিয়নের উত্তর হরিপুর কুতুব উল্যাহ ভূঁইয়া জামে মসজিদ কমিটি।   শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ী শিশুদের হাতে এই আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।   মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হেলালীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মুফতি শামসুদ্দোহা নূরী।   সভাপতি নজরুল ইসলাম হেলালী জানান, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তোলা, মসজিদে নিয়মিত উপস্থিতিতে উৎসাহ দেওয়া এবং একটি মসজিদকেন্দ্রিক ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল।   পুরস্কার হিসেবে নতুন বাইসাইকেল পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত শিশু-কিশোররা। তারা জানিয়েছে, আগামী দিনেও তারা নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায় করবে এবং নিজেদের বন্ধুদেরও মসজিদে আসতে উৎসাহিত করবে। স্থানীয়রা মসজিদ কমিটির এই উদ্যোগকে ব্যাপকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন।   তাদের মতে, এ ধরনের চমৎকার আয়োজন শিশুদের ধর্মীয় চর্চা, শৃঙ্খলাবোধ এবং নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে মসজিদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এই উদ্যোগ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৩:৫৩
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বৃহত্তম মসজিদের ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ইমামকে দেশত্যাগের নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বৃহত্তম মসজিদের ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ইমামকে দেশত্যাগের নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় মসজিদ 'ইসলামিক সোসাইটি অফ মিলওয়াকি'-এর প্রেসিডেন্ট সালাহ সারসৌরকে দেশত্যাগের (ডিপোর্টেশন) নির্দেশ দিয়েছেন একজন মার্কিন ইমিগ্রেশন বিচারক। ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এই নাগরিক তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং তিনি একজন মার্কিন স্থায়ী বাসিন্দা (পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট)।   শিকাগো ইমিগ্রেশন আদালতের বিচারক জেইমি সালিনার্ডি গত বুধবার এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়েছে, স্নায়ুযুদ্ধকালীন 'ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট' অনুযায়ী সারসৌর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। তবে, গ্রিন কার্ডের আবেদনে সারসৌরের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার যে অভিযোগ সরকার এনেছিল, বিচারক তা খারিজ করে দিয়েছেন।   সালাহ সারসৌর ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরে জন্মগ্রহণ করেন এবং বেড়ে ওঠেন। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। তবে, কিশোর বয়সে এবং পরবর্তীতে ইসরায়েলি সামরিক আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর ওপর পাথর ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপ এবং অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছিল।   সারসৌর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, তাকে নির্যাতন করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছিল। তাঁর আইনজীবীরা বলছেন, ইসরায়েলি সামরিক আদালতে ফিলিস্তিনিদের বিচারের নামে যে ব্যবস্থা চালু আছে, সেখানে ৯৬ শতাংশ ক্ষেত্রেই সাজা দেওয়া হয় এবং জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।   মার্কিন সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলা বেশ কয়েকজন ব্যক্তি গ্রেপ্তার ও দেশত্যাগের হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। 'ইসলামিক সোসাইটি অফ মিলওয়াকি' দাবি করেছে যে, সারসৌরকে তার ফিলিস্তিনি ও মুসলিম পরিচয় এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়ার কারণেই টার্গেট করা হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই ফিলিস্তিনপন্থী কণ্ঠস্বরগুলোকে ইহুদিবিদ্বেষী এবং চরমপন্থীদের সমর্থক হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে। তবে, অধিকারকর্মীরা বলছেন, ইসরায়েলি সরকারের সমালোচনা ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কথা বলা কোনোভাবেই ইহুদিবিদ্বেষ বা চরমপন্থার সমর্থন হতে পারে না।   সারসৌরকে মার্চ মাসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) আটক করেছিল, তবে জুনের মাঝামাঝি সময়ে এক ফেডারেল বিচারক তাঁর আটকের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। সারসৌর টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগছেন এবং আইসিই-এর হেফাজতে থাকার সময় তাঁর ওজন ৩০ পাউন্ডের বেশি কমে গেছে বলে তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন। সারসৌর এই রায়কে "গভীর হতাশাজনক" বলে অভিহিত করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।   যতক্ষণ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা যাবে না। সারসৌর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, তাঁকে পশ্চিম তীরে ফেরত পাঠানো হলে তাঁর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৩:২৮
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে ঢাবিকে বিশ্বসেরাদের কাতারে নেওয়ার আহ্বান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত করে প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাতারে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   বঙ্গভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।   রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ নয়, এটি দেশের রাজনীতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর অবস্থান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।    সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দনও জানান।    উপাচার্য আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দলে ছিলেন উপ-উপাচার্য শিক্ষা অধ্যাপক আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য প্রশাসন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।    সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন এবং প্রেস সচিব সরওয়ার আলমও উপস্থিত ছিলেন।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অবস্থান নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে অগ্রগতির তথ্য পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের কিউএস বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের শীর্ষ ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে এবং বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।    এ ছাড়া টাইমস হায়ার এডুকেশনের ২০২৬ সালের প্রভাবভিত্তিক র‌্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বব্যাপী ৮০১ থেকে ১০০০তম অবস্থানের বন্ধনীতে ছিল। আগের বছরের তুলনায় এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। এই র‌্যাঙ্কিংয়ে শিক্ষা, গবেষণার পরিবেশ, গবেষণার মান, আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করা হয়।    বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকেও আন্তর্জাতিক মান আরও উন্নত করার জন্য গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণ, মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ এবং দেশ-বিদেশের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আরও সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।    সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে। এ জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রয়োজন এবং গণতন্ত্র কার্যকর রাখতে প্রতিপক্ষ ও বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত পরিসর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।    রাষ্ট্রপতির এই আহ্বানের মূল লক্ষ্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে অগ্রগতির পাশাপাশি গবেষণা ও আন্তর্জাতিকীকরণে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো থেকে দেখা যায়।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৩:৮
যুক্তরাষ্ট্রে চার বছরের ডিগ্রি ছাড়াও ভালো আয় ও স্থায়ী পেশাজীবন গড়ার সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
কলেজে না পড়েও যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ২ লাখ ডলার আয়, খুলছে নতুন ক্যারিয়ার পথ

যুক্তরাষ্ট্রে চার বছরের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি না থাকলেও ভালো আয় এবং স্থায়ী পেশাজীবন গড়ার সুযোগ রয়েছে। দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং কাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা থাকলে কিছু পেশায় ধাপে ধাপে উন্নতি করে বছরে এক লাখ থেকে দুই লাখ ডলার বা তারও বেশি আয় করা সম্ভব। এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো ফাস্টফুড ও খাবারের দোকান পরিচালনার কাজ। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের ৪ অক্টোবর ২০২৬-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির কয়েকটি বড় খাবারের দোকান প্রতিষ্ঠানে সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করে ধীরে ধীরে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে উঠে উচ্চ আয় করা সম্ভব। তবে শুরুতেই এত বেশি বেতন পাওয়া যায় না। দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, নেতৃত্বের যোগ্যতা এবং পদোন্নতির মাধ্যমে একজন কর্মী দোকান ব্যবস্থাপকের পদে পৌঁছালে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন-এন-আউট প্রতিষ্ঠানের দোকান ব্যবস্থাপকদের গড় বার্ষিক আয় প্রায় ২ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। পান্ডা এক্সপ্রেসের দোকান ব্যবস্থাপকদের আয় প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ডলার, চিপোটলের প্রায় ৯৩ হাজার ডলার এবং টাকো বেলের প্রায় ৭৫ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। কর্মদক্ষতার ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত পুরস্কার বা প্রণোদনা যুক্ত হলে মোট আয় আরও বাড়তে পারে। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি। ফাস্টফুডের সাধারণ কর্মীরা বছরে ২ লাখ ডলার আয় করেন না। এই ধরনের উচ্চ আয় মূলত ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ পদে পৌঁছানো কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ একজন নতুন কর্মী সাধারণত কম বেতন দিয়ে কাজ শুরু করেন এবং অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের পর ধাপে ধাপে উচ্চ পদে যেতে পারেন। এই খাতে একজন কর্মীর কর্মজীবনের শুরু হতে পারে খাবার প্রস্তুত করা, গ্রাহকের কাছ থেকে অর্ডার নেওয়া, দোকান পরিষ্কার রাখা বা অন্যান্য সাধারণ দায়িত্ব দিয়ে। এরপর ভালো কাজের ভিত্তিতে তিনি দলনেতার দায়িত্ব পেতে পারেন। পরবর্তী সময়ে সহকারী ব্যবস্থাপক এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ ব্যবস্থাপক বা দোকান ব্যবস্থাপক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।   সাধারণ কর্মী থেকে দলনেতা হতে প্রায় ছয় থেকে ১৮ মাস সময় লাগতে পারে। এরপর দলনেতা থেকে সহকারী ব্যবস্থাপক হতে এক থেকে দুই বছর এবং সহকারী ব্যবস্থাপক থেকে সাধারণ ব্যবস্থাপক হতে আরও দেড় থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। তবে এই সময় নির্দিষ্ট নয়। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম, কর্মীর যোগ্যতা, কাজের মান, অভিজ্ঞতা এবং খালি পদের ওপর পদোন্নতির সময় নির্ভর করে। দোকান ব্যবস্থাপক হওয়ার জন্য শুধু পরিশ্রম করলেই হয় না। কর্মী পরিচালনা, গ্রাহকসেবা, পণ্য মজুত, কর্মীদের কাজের সময় নির্ধারণ, খাবারের অপচয় কমানো, খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব বোঝার মতো দক্ষতা প্রয়োজন। একজন সম্ভাব্য ব্যবস্থাপককে জানতে হয় কীভাবে নতুন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিতে হয়, কর্মী সংকটের মধ্যেও একটি কাজের পালা পরিচালনা করতে হয় এবং অসন্তুষ্ট গ্রাহকের অভিযোগ শান্তভাবে সমাধান করতে হয়। একই সঙ্গে কর্মীদের উৎসাহ দেওয়া, দুর্বল কর্মীদের উন্নত করা এবং একটি কার্যকর দল তৈরি করাও ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, একজন কর্মীর মধ্যে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনা থাকলে তাকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। তাই শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করাই যথেষ্ট নয়। একজন কর্মী যদি অন্যদের প্রশিক্ষণ দিতে পারেন, নতুন কর্মীদের কাজে দক্ষ করে তুলতে পারেন এবং নিজের অনুপস্থিতিতেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো সহকর্মী তৈরি করতে পারেন, তাহলে তার পদোন্নতির সম্ভাবনা বাড়ে। যোগাযোগের দক্ষতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যস্ত পরিবেশে চাপ সামলে সহকর্মীদের সঙ্গে সঠিকভাবে কথা বলা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা বোঝা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত জানানো একজন ব্যবস্থাপকের গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি শ্রম পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফাস্টফুড ও কাউন্টার কর্মীদের বড় অংশের ক্ষেত্রে আগে কোনো কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয় না। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, এই পেশার ৯৮ দশমিক ১ শতাংশ কর্মীর জন্য আগের কাজের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক ছিল না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে কাজ শুরু করতে চান এমন অনেক মানুষের জন্য এটি প্রবেশের তুলনামূলক সহজ একটি ক্ষেত্র। তবে সাধারণ কর্মীদের বেতন এবং ব্যবস্থাপকদের বেতনের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ফাস্টফুড ও কাউন্টার কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি ছিল প্রায় ১৫ ডলার ৪৬ সেন্ট। গড় বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৩২ হাজার ১৫০ ডলার। ফলে ২ লাখ ডলারের আয়কে সাধারণ কর্মীর বেতন হিসেবে দেখা যাবে না। ফাস্টফুড খাত ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ছাড়াই বিভিন্ন পেশায় ভালো আয়ের সুযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, কারিগরি কাজ, নির্মাণ, বৈদ্যুতিক কাজ, যানবাহন মেরামত, ট্রাক চালনা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণভিত্তিক পেশায় দক্ষ কর্মীদের চাহিদা রয়েছে। কিছু পেশায় আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের ডিগ্রির পরিবর্তে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ, সনদ বা কারিগরি শিক্ষা প্রয়োজন হয়। যেমন দন্ত পরিচর্যা সহকারী, পারমাণবিক প্রযুক্তিবিদসহ কিছু পেশায় বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে তুলনামূলক ভালো আয় করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সামগ্রিক চিত্র থেকে বোঝা যায়, শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদই সাফল্যের একমাত্র পথ নয়। নির্দিষ্ট কাজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব, যোগাযোগ এবং দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাও কর্মজীবনে বড় ভূমিকা রাখে। ফাস্টফুড খাতের উদাহরণটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ একজন কর্মী তুলনামূলক সহজ একটি প্রবেশ পর্যায়ের কাজ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে ধীরে ধীরে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যেতে পারেন। তবে এই পথ দ্রুত ধনী হওয়ার কোনো সহজ উপায় নয়। উচ্চ আয় অর্জনের জন্য কয়েক বছর ধরে দক্ষতা বাড়ানো, অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়া এবং ধারাবাহিকভাবে ভালো কাজ করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, যারা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে কর্মজীবন শুরু করতে চান তারা শুরু থেকেই শুধু বেতনের দিকে না তাকিয়ে ভবিষ্যৎ পদোন্নতির সুযোগও বিবেচনা করবেন। কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, কোথায় পদোন্নতির সুযোগ বেশি এবং কোন দক্ষতা অর্জন করলে উচ্চ পদে যাওয়া সম্ভব, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অর্থাৎ কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে কর্মজীবনের সুযোগ শেষ হয়ে যায় না। সঠিক প্রশিক্ষণ, বাস্তব অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের গুণ এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন সাধারণ কর্মীও সময়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনার পদে যেতে পারেন। আর কিছু প্রতিষ্ঠানে সেই পর্যায়ে পৌঁছালে বছরে এক লাখ থেকে দুই লাখ ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১২:৫৮
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন করে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা ইরানের, সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন করে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রোববার ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার জন্য নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না। একই দিনে ইয়েমেনের হুতি বাহিনী সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও খুরাইস এলাকায় রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনর্দখলে বড় সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রস্তাব দিলেও তেহরান একতরফা শর্ত মেনে নেবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জুনের অন্তর্বর্তী সমঝোতায় নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।  ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবশ্য জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ এখনো রয়েছে। তেহরানের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপে ফিরলে ইরানও প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।  হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ এটি। ফলে দীর্ঘ সময় এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।  সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হরমুজ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনের হুতি বাহিনী সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, রিয়াদ ও খুরাইস এলাকায় সৌদি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। হুতিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই আক্রমণ চালানো হয়।  আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে রিয়াদের দক্ষিণে একটি আরামকো স্থাপনার কাছে আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে। তবে হামলার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ নিশ্চিতকরণ দেয়নি। ফলে হুতিদের দাবির সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।  ইয়েমেনে শুরু বড় সামরিক অভিযান এর মধ্যেই ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি হুতিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবশিষ্ট ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার এবং পুরো দেশে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অভিযান শুরু করা হয়েছে।    ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এরই মধ্যে রাজধানী সানা ও উত্তরাঞ্চলের সাদা প্রদেশে হুতি অবস্থানে হামলার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে তাইজ শহরের আশপাশে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাইজের সঙ্গে এডেনের যোগাযোগপথ নিয়ন্ত্রণের লড়াইও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।   হুতিরা সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগরের উপকূল এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ফলে হরমুজের পাশাপাশি বাব আল-মান্দাব ঘিরেও সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি বাড়ছে।   বিশ্লেষকদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হচ্ছে, একই সময়ে হরমুজ ও লোহিত সাগর অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ, আর বাব আল-মান্দাব লোহিত সাগর ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। ইরান বলছে তারা কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছে। অন্যদিকে ইয়েমেনে নতুন সামরিক অভিযান শুরু হওয়ায় সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাত আবার বড় আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১২:৪৯
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নতুন বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
এআই আধিপত্য ধরে রাখতে ট্রাম্পের বড় পদক্ষেপ, গঠিত হলো ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কার্যক্রম সমন্বয় করতে নতুন একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। এর নাম দেওয়া হয়েছে “সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স”।    এই নতুন উদ্যোগের নেতৃত্ব দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন। ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব বজায় রাখা এবং প্রযুক্তিটির সুফল সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।   টাস্কফোর্সে ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, পেন্টাগনের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এমিল মাইকেল এবং অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্কট কুপার।    ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একই সঙ্গে ব্যাপক বিনিয়োগ, প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে শীর্ষ এআই কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এআই উন্নয়নে স্বনিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে একটি স্বেচ্ছামূলক সমঝোতার কথাও সামনে এসেছে।    নতুন টাস্কফোর্স শুধু সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করবে না। ট্রাম্পের ঘোষণায় ভোক্তা, জনস্বার্থবিষয়ক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং এআই কোম্পানিগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগের কথা বলা হয়েছে।    এ উদ্যোগের মাধ্যমে এআইকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও জাতীয় সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আরও জোরালোভাবে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে দ্রুত বিকাশমান এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি ও নিরাপত্তা বিষয়গুলো নিয়েও ফেডারেল পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১২:৩৬
ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে মামুনুর রশীদের নাটক ‘অমানুষ’। ছবি: সংগৃহীত
ভার্জিনিয়ায় আজ মঞ্চস্থ হচ্ছে ‘অমানুষ’, জান্নাতুল টুম্পার নির্দেশনায় প্রথমবার তমালিকা ও সাঈদ বাবু

ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় আজ, রোববার ৪ অক্টোবর, মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে নাট্যকার মামুনুর রশীদের রচনা ‘অমানুষ’। সূচনা থিয়েটারের প্রযোজনায় নাটকটির নির্দেশনায় রয়েছেন জান্নাতুল টুম্পা। এই প্রদর্শনীতে প্রথমবারের মতো তাঁর নির্দেশনায় অভিনয় করছেন তমালিকা কর্মকার ও সাঈদ বাবু। আলেকজান্দ্রিয়ার লি সেন্টারে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় নাটকটির প্রদর্শনী শুরু হবে।   ‘অমানুষ’ নাটকটির এটি চতুর্থ প্রদর্শনী। এর আগে নিউ জার্সিতে দুটি এবং নিউইয়র্কে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগের প্রদর্শনীগুলোতে সংশ্লিষ্ট চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মিতালী দাস ও হীরা চৌধুরী। এবার সেই চরিত্রে অভিনয় করছেন তমালিকা কর্মকার ও সাঈদ বাবু।   নাটকের গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন একজন আদর্শবাদী শিক্ষক। শিক্ষিত ও মানবিক একটি সমাজ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা এই মানুষটি দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সামাজিক চাপের মুখে ধীরে ধীরে নিজের আদর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। হতাশা ও বাস্তবতার সংঘাত তাঁকে গভীর সংকটের দিকে নিয়ে যায়। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্ন ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে তা ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।   সমাজের অবক্ষয়, মানুষের মূল্যবোধ এবং প্রতিকূল বাস্তবতার সঙ্গে ব্যক্তির সংঘাতই নাটকটির মূল বিষয়। গল্পের মধ্য দিয়ে দর্শকের সামনে উঠে আসে মানুষের মানবিকতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সামাজিক চাপ, অনিয়ম ও বাস্তবতার কাছে মানুষ কি একসময় নিজের মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলে, সেটিই নাটকের অন্যতম কেন্দ্রীয় ভাবনা।   ‘অমানুষ’ দিয়েই প্রথমবার মঞ্চনাটক নির্দেশনায় আসেন জান্নাতুল টুম্পা। প্রায় দুই দশক ধরে নাট্যপ্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আগে মঞ্চ নির্দেশনার পরিকল্পনা ছিল না তাঁর। নাট্যকার মামুনুর রশীদের আগ্রহেই তিনি এই নাটকের নির্দেশনার দায়িত্ব নেন।   গত ১৪ জুন নিউ জার্সির নিউ ব্রান্সউইকে অনুষ্ঠিত ২১তম সাউথ এশিয়ান থিয়েটার ফেস্টিভ্যালে দুটি প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে ‘অমানুষ’-এর যাত্রা শুরু হয়। পরে নিউইয়র্কে তৃতীয় প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এবার ভার্জিনিয়ার মঞ্চে নতুন অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে নাটকটির চতুর্থ প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে।   দীর্ঘ বিরতির পর ‘অমানুষ’ নাটকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মঞ্চে ফিরছেন তমালিকা কর্মকার। বাংলাদেশের মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। যুক্তরাষ্ট্রে মঞ্চে ফেরার আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বহু বছর পর আবার মঞ্চে ওঠার কারণে তাঁর মধ্যে যেমন আনন্দ রয়েছে, তেমনি দর্শকের সামনে নতুন করে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার অনুভূতিও রয়েছে।   আজকের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে আলেকজান্দ্রিয়ার ১১০৮ জেফারসন স্ট্রিটের লি সেন্টারে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দর্শকদের জন্য দরজা খোলা হবে বিকেল ৫টায় এবং নাটক শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায়। টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ ও ৫০ ডলার।   ভার্জিনিয়া ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাট্যপ্রেমীদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে বিশেষ একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন। মামুনুর রশীদের লেখা, জান্নাতুল টুম্পার নির্দেশনা এবং তমালিকা কর্মকার ও সাঈদ বাবুর অভিনয়ে ‘অমানুষ’ আজ আলেকজান্দ্রিয়ার মঞ্চে দর্শকদের সামনে তুলে ধরবে মানুষের পরিচয়, সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিকতার নানা প্রশ্ন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১২:২৩
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে অতিরিক্ত আবাসন ব্যয় দারিদ্র্যের অন্যতম বড় কারণ। ছবি: সংগৃহীত
মেরিল্যান্ডে বাড়িভাড়ার চাপে বাড়ছে দারিদ্র্য, ২১ শতাংশ দারিদ্র্যের পেছনে আবাসন ব্যয়

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে অতিরিক্ত আবাসন ব্যয় দারিদ্র্যের অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে। নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যটিতে পরিমাপ করা মোট দারিদ্র্যের প্রায় ২১ শতাংশের সঙ্গে গড়ে ওঠা আবাসন ব্যয়ের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণাটি প্রকাশ করেছে দ্য পিউ চ্যারিটেবল ট্রাস্টস। পিউ-এর বিশ্লেষণে মেরিল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সেই ১০টি অঙ্গরাজ্যের একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে গড়ের তুলনায় বেশি আবাসন ব্যয় দারিদ্র্যের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। তালিকায় রয়েছে হাওয়াই, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, কলোরাডো, মেরিল্যান্ড, কানেকটিকাট, নিউইয়র্ক ও নিউ হ্যাম্পশায়ার। প্রতিবেদনটির ভিত্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূরক দারিদ্র্য পরিমাপ পদ্ধতি। প্রচলিত দারিদ্র্য পরিমাপের তুলনায় এই পদ্ধতিতে পরিবারের আয় ছাড়াও সরকারি সহায়তা, কর, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বিশেষ করে স্থানীয় আবাসন ব্যয়ের পার্থক্য বিবেচনা করা হয়। ফলে কোনো এলাকায় বাড়ি বা ভাড়া বেশি হলে সেই অতিরিক্ত ব্যয় পরিবারের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। মেরিল্যান্ডে ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই সম্পূরক দারিদ্র্য পরিমাপ অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ছিল ১১ দশমিক ১ শতাংশ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হার ছিল ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ জাতীয় গড়ের তুলনায় মেরিল্যান্ডের সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার কিছুটা কম হলেও উচ্চ আবাসন ব্যয় রাজ্যের নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।    যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। দেশটিতে আনুমানিক ৪০ লাখ থেকে ৭০ লাখ বাড়ির ঘাটতি রয়েছে বলে পিউ-এর বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত নতুন বাড়ি তৈরি না হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকছে এবং এর ফলে ভাড়া ও বাড়ির দাম দীর্ঘমেয়াদে উঁচু থাকছে। মেরিল্যান্ডের নিজস্ব আবাসন-চিত্রও একই সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। রাজ্যের ২০২৫ সালের আবাসন চাহিদা মূল্যায়ন অনুযায়ী, মেরিল্যান্ডে প্রায় ৭ লাখ ৬৫ হাজার ভাড়াটিয়া পরিবার রয়েছে এবং তাদের মধ্যে প্রায় ৪৭ শতাংশ আবাসন ব্যয়ের চাপে রয়েছে। অর্থাৎ এসব পরিবার তাদের আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ বাসস্থানের পেছনে ব্যয় করছে। রাজ্য সরকারের গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মেরিল্যান্ডে সাশ্রয়ী আবাসনের বড় ঘাটতি রয়েছে। ৮০ শতাংশের নিচে মধ্যম আয়সীমার পরিবারের জন্য ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি সাশ্রয়ী ভাড়ার বাড়ির ঘাটতি রয়েছে বলে হিসাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে করোনা মহামারির পর আবাসন নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি সামাল দিতে মেরিল্যান্ডে প্রায় ৫ লাখ ৯০ হাজার নতুন আবাসিক ইউনিট প্রয়োজন হবে বলে রাজ্যের আবাসন চাহিদা মূল্যায়নে বলা হয়েছে। বর্তমান নির্মাণের গতি বজায় থাকলে এই প্রয়োজন পূরণ করা কঠিন হবে। রাজ্য সরকারের প্রতিবেদনে স্থানীয় ভূমি-ব্যবহার নীতি, কম ঘনত্বের নির্মাণ এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক বাধাকেও আবাসন সরবরাহ কম থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পিউ-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আবাসন সরবরাহ বাড়িয়ে ভাড়া কমানো গেলে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোতে মূল্যস্ফীতি সমন্বিত ভাড়া প্রায় ২০ শতাংশ কমানো সম্ভব হলে দারিদ্র্য ১৮ থেকে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে এবং শিশু দারিদ্র্য কমতে পারে ২১ থেকে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত। শুধু খাদ্য সহায়তা বা নগদ সহায়তা বাড়ালেই নিম্নআয়ের পরিবারের আর্থিক সংকট পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। কারণ পরিবারের আয়ের বড় একটি অংশ যদি বাড়িভাড়া বা আবাসন ব্যয়ে চলে যায়, তাহলে অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর জন্য অর্থ কমে যায়। পিউ-এর গবেষণাও দেখিয়েছে, উচ্চ আবাসন ব্যয় সরকারি দারিদ্র্যবিরোধী কর্মসূচির কিছু ইতিবাচক প্রভাবকে দুর্বল করে দিতে পারে। মেরিল্যান্ডে এই সংকটের প্রভাব শুধু নিম্নআয়ের ভাড়াটিয়াদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য গড় দামের বাড়ি কেনার সক্ষমতা ৭৫ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। একই সময়ে বাড়ির দাম ও ভাড়ার চাপ বাড়তে থাকায় মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও আবাসন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। পিউ-এর গবেষণার মূল বার্তা হলো, দারিদ্র্য কমাতে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসন ব্যয় কমানো এবং পর্যাপ্ত নতুন বাড়ি নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। মেরিল্যান্ডের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ বাড়ানো, জমি ব্যবহারের বিধিনিষেধ পর্যালোচনা এবং আবাসন সরবরাহের ঘাটতি কমানো হলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতে পারে। ফলে মেরিল্যান্ডের জন্য আবাসন সংকট এখন শুধু রিয়েল এস্টেট বা ভাড়ার বাজারের সমস্যা নয়; এটি দারিদ্র্য, পারিবারিক ব্যয় এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১২:১৫
জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে নতুন বিশেষ দূত নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
জিম্মি উদ্ধারে নতুন বিশেষ দূত নিয়োগ ট্রাম্পের, দায়িত্ব পেলেন বেলারুশে সফল আলোচক জন কোয়েল

জিম্মি ও বিদেশে আটক মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে নতুন বিশেষ দূত নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেলারুশে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বিশেষ দূত ও আইনজীবী জন কোয়েলকে ‘স্পেশাল প্রেসিডেনশিয়াল এনভয় ফর হোস্টেজ অ্যাফেয়ার্স’ পদে মনোনীত করেছেন তিনি। নতুন দায়িত্বে কোয়েলের পদমর্যাদা রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের হবে বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন। ৪ অক্টোবর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় বলেন, জন কোয়েল গত এক বছরে বেলারুশ থেকে ৬৫ জনের বেশি মার্কিন নাগরিক ও মিত্র দেশের নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রেখেছেন। একই সময়ে পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ৮০০-এর বেশি রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির আলোচনাতেও তিনি কাজ করেছেন বলে ট্রাম্প দাবি করেন। কোয়েলের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বেলারুশ। তিনি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সরকারের সঙ্গে বন্দিদের মুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছেন। সেপ্টেম্বরেও তার আলোচনার পর বেলারুশ কয়েক দফায় বন্দি মুক্তি দেয়। ১৬ সেপ্টেম্বর বেলারুশ ২৫ জন বন্দিকে মুক্তি দেয়। সে সময় কোয়েল জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বেলারুশের মধ্যে আলোচনা আরও জোরদার হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সংখ্যায় বন্দি মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে মার্চে আরও বড় পরিসরে বন্দি মুক্তির ঘটনা ঘটেছিল। কোয়েল নিজেই জানিয়েছিলেন, তার আলোচনার মাধ্যমে মোট ৮০০ থেকে ৯০০ জন পর্যন্ত বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে, বেলারুশে এখনো বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক বন্দি আটক রয়েছেন। ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্তে কোয়েল সাবেক বিশেষ দূত অ্যাডাম বোহলারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বোহলার তার দায়িত্বকালে ১৯৬ জন জিম্মিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছেন। নতুন পদে কোয়েলের নিয়োগের পর বোহলার প্রশাসনের সঙ্গে সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের জিম্মি বিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্ব হলো বিদেশে আটক বা জিম্মি হয়ে থাকা মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও সরকারি সংস্থার প্রচেষ্টার সমন্বয় করা। নতুন দায়িত্বে কোয়েলকে শুধু বেলারুশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির জন্য আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। কোয়েলের নিয়োগ এমন এক সময়ে হলো, যখন ওয়াশিংটন ও মিনস্কের সম্পর্কেও কিছুটা কূটনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে বেলারুশের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে এবং বন্দি মুক্তির বিনিময়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনাও এগিয়েছে। তবে এই কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগও রয়েছে। তাদের বক্তব্য, বন্দি মুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও বেলারুশে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং আরও বহু রাজনৈতিক বন্দি এখনো কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিতে বন্দি ও জিম্মিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনা কার্যকর ফল দিচ্ছে। জন কোয়েলের নতুন দায়িত্ব সেই নীতিরই আরও বিস্তৃত প্রয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর কোয়েলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিদেশে আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করা এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে এসব আলোচনার সমন্বয় করা। ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, বেলারুশে কোয়েলের সাম্প্রতিক সাফল্য নতুন দায়িত্বেও কাজে লাগবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১২:৭
যুক্তরাষ্ট্রে শোল মাছ স্নেকহেড নামে পরিচিত। ছবি: সংগৃহীত
‘স্নেকহেড’ কি সত্যিই খাওয়া যায় না? যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য যা জানা জরুরি

বাংলাদেশের পরিচিত শোল মাছ যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্নেকহেড’ নামে পরিচিত। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে এই মাছ কিনে বা মাছ ধরে খেয়ে থাকেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্নেকহেড মাছ খাওয়া নিয়ে নানা ধরনের দাবি ও সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়ায় অনেকের মধ্যেই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। আসলে যুক্তরাষ্ট্রে শোল বা স্নেকহেড মাছ খাওয়া কি নিষিদ্ধ, নাকি বিষয়টি অন্য কিছু? সরকারি তথ্য বলছে, বিষয়টি বোঝার ক্ষেত্রে খাবার হিসেবে মাছটি এবং জীবিত স্নেকহেড মাছ নিয়ে পরিবেশগত আইনকে আলাদা করে দেখা জরুরি।   যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএর সিফুড তালিকায় বাংলাদেশের শোল মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Channa striata। এ মাছের গ্রহণযোগ্য বাজারজাত নাম হিসেবে ‘Channa’ ও ‘Snakehead’ উল্লেখ রয়েছে। একই তালিকায় ‘Shoil’ নামটিও এই প্রজাতির সঙ্গে পরিচিত নাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের শোল মাছ এবং যুক্তরাষ্ট্রে পরিচিত স্নেকহেডের মধ্যে সরাসরি প্রজাতিগত সম্পর্ক রয়েছে।    তবে ‘স্নেকহেড’ একটি সাধারণ নাম, এর অধীনে একাধিক প্রজাতির মাছ রয়েছে। যেমন Northern Snakehead-এর বৈজ্ঞানিক নাম Channa argus, আর বাংলাদেশের শোল মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Channa striata। তাই কোনো স্নেকহেড মাছ দেখেই সেটিকে বাংলাদেশের শোল মাছ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মাছের প্রজাতি শনাক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, স্নেকহেড মাছ কি যুক্তরাষ্ট্রে খাওয়া নিষিদ্ধ? এফডিএর বর্তমান সিফুড তালিকায় Channa striata খাবার হিসেবে বাজারজাত হওয়া মাছের তালিকায় রয়েছে। তাই ‘যুক্তরাষ্ট্রে স্নেকহেড মাছ খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ’ এমন সাধারণ দাবি সরকারি তথ্যের সঙ্গে মেলে না। তবে স্নেকহেড মাছের ক্ষেত্রে খাবারের নিরাপত্তা এবং জীবিত মাছ নিয়ে পরিবেশগত নিয়ম আলাদা বিষয়।    স্বাস্থ্যগত দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো মাছটি কাঁচা বা আধাসেদ্ধ অবস্থায় না খাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি বলছে, কাঁচা বা আধাসেদ্ধ মিঠাপানির মাছের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পরজীবী সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় নির্দিষ্ট পরজীবী পাওয়া যায়, সেখানকার মিঠাপানির মাছ কাঁচা বা কম রান্না করে খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।    সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, মাছের ভেতরের তাপমাত্রা কমপক্ষে ১৪৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রান্না করা নিরাপদ প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। শুধু লবণ দেওয়া, ধোঁয়ায় শুকানো বা আচার করার মতো পদ্ধতিকে পরজীবী ধ্বংসের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা উচিত নয়। ফলে শোল বা স্নেকহেড মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে ভালোভাবে রান্না করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতার বিষয়।    আর যারা যুক্তরাষ্ট্রে নিজেরাই মাছ ধরে খান, তাদের জন্য আরও একটি বিষয় জানা জরুরি। মাছটি কোন জলাশয় থেকে ধরা হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা বলছে, বিভিন্ন হ্রদ ও নদীর মাছের মধ্যে পারদ ও পিসিবির মতো দূষক থাকতে পারে। তাই স্থানীয়ভাবে ধরা মাছ খাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট জলাশয়ের মাছ খাওয়ার বিষয়ে কোনো সরকারি সতর্কতা রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।    জর্জিয়ায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস বলছে, রাজ্যে স্নেকহেড মাছের যেকোনো প্রজাতি আমদানি, পরিবহন, বিক্রি, হস্তান্তর বা নিজের কাছে রাখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বন্যপ্রাণী লাইসেন্সের নিয়ম রয়েছে। তাই কেউ মাছ ধরে ফেললে সেটিকে অন্য কোথাও জীবিত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া বা স্থানান্তর করার আগে রাজ্যের নিয়ম জানা জরুরি। এই বিধিনিষেধের মূল উদ্দেশ্য মাছটির সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা, খাবার হিসেবে মাছটি বিষাক্ত—এমন ঘোষণা নয়।    ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘স্নেকহেড মাছ খাওয়া যায় না’ ধরনের সরল দাবি দিয়ে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। বাংলাদেশের শোল মাছ যুক্তরাষ্ট্রে স্নেকহেড নামে পরিচিত এবং এফডিএর সিফুড তালিকায় Channa striata রয়েছে। তবে মাছটি কাঁচা বা আধাসেদ্ধ না খাওয়া, যথাযথ তাপমাত্রায় রান্না করা এবং নিজে মাছ ধরলে সংশ্লিষ্ট জলাশয়ের মাছ খাওয়ার সরকারি সতর্কতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য মূল সতর্কতাটি তাই আতঙ্কের নয়, সচেতনতার। শোল মাছ খাওয়ার আগে মাছটি ঠিক কোন প্রজাতির, কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, সেদিকে নজর দেওয়াই নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে নিজে ধরা মিঠাপানির মাছের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারি মাছ খাওয়ার পরামর্শও বিবেচনায় রাখা উচিত।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১১:৪৬
ফ্লোরিডার সমুদ্রসৈকত ও পর্যটন এলাকা ঘুরে অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য তিনজনকে নিয়োগের দারুণ সুযোগ। ছবি: সংগৃহীত
খাওয়া-ঘোরা আর সমুদ্রসৈকতে সূর্যাস্ত দেখার চাকরি, ১০ দিনেই মিলবে ১০ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ১০ দিন ঘুরে খাবার, বিনোদন, শিল্পকলা ও সমুদ্রসৈকতের সূর্যাস্তের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য তিনজনকে নিয়োগ দিচ্ছে সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের সরকারি পর্যটন বিপণন সংস্থা ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার। নির্বাচিত প্রত্যেকে পাবেন ১০ হাজার মার্কিন ডলার। সঙ্গে থাকবে যাওয়া-আসার বিমানভাড়া, ১০ দিনের থাকার ব্যবস্থা এবং বিশেষ অভিজ্ঞতার সুযোগ। আগ্রহীদের ২২ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন করতে হবে।   নতুন এই কর্মসূচির আওতায় তিনটি আলাদা স্বল্পমেয়াদি দায়িত্ব রাখা হয়েছে। এগুলো হলো চিফ ভাইবস অফিসার, চিফ ফ্লেভার এক্সপ্লোরার এবং চিফ সানসেট কিউরেটর। প্রতিটি দায়িত্বই ১০ দিনের। নির্বাচিত ব্যক্তিদের সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে স্থানীয় মানুষ, খাবার, বিনোদন, শিল্পকলা ও সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।   ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার পিনেলাস কাউন্টির সরকারি পর্যটন বিপণন ও ব্যবস্থাপনা সংস্থা। পর্যটকদের কাছে এলাকার সমুদ্রসৈকত, শিল্পকলা, খাবার এবং অন্যান্য আকর্ষণ তুলে ধরাই সংস্থাটির কাজ। নতুন কর্মসূচিটিও এলাকার পর্যটন অভিজ্ঞতা নতুনভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য চালু করা হয়েছে।   তবে বাইরে থেকে এটি ১০ দিনের ছুটির মতো মনে হলেও নির্বাচিত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান লোয়াক জানিয়েছেন, নির্বাচিত ব্যক্তিদের খাওয়া, পান করা, ঘুরে দেখা এবং এলাকার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নেওয়ার কাজ থাকবে। পাশাপাশি যেসব জায়গা, মানুষ ও অভিজ্ঞতা তাঁদের আকৃষ্ট করবে, সেগুলো অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে।   রাতের বিনোদন ও সংগীতে আগ্রহীদের জন্য রয়েছে চিফ ভাইবস অফিসারের দায়িত্ব। নির্বাচিত ব্যক্তিকে সরাসরি সংগীত, রাতের বিনোদন এবং বিভিন্ন জনপ্রিয় স্থান ঘুরে দেখতে হবে। স্থানীয় বার, বিশেষ পানশালা, ছাদের ওপরের বিনোদনকেন্দ্র, সংগীতের স্থান এবং বিভিন্ন জনপ্রিয় জায়গার অভিজ্ঞতা তাঁর কাজের অংশ হবে।   খাবারপ্রেমীদের জন্য রাখা হয়েছে চিফ ফ্লেভার এক্সপ্লোরারের দায়িত্ব। নির্বাচিত ব্যক্তি এলাকার বিভিন্ন খাবার ও পানীয়ের অভিজ্ঞতা নেবেন। স্বীকৃত রেস্তোরাঁর খাবার থেকে শুরু করে সদ্য ধরা সামুদ্রিক মাছ, স্থানীয়দের পছন্দের খাবারের জায়গা এবং বিভিন্ন দেশের খাবারও এই অনুসন্ধানের অংশ হতে পারে।   তৃতীয় দায়িত্ব চিফ সানসেট কিউরেটরের। নামের সঙ্গে সূর্যাস্ত থাকলেও দায়িত্ব শুধু সমুদ্রসৈকতে বসে সূর্যাস্ত দেখা নয়। নির্বাচিত ব্যক্তিকে সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের শিল্পকলা, রং ও সৃজনশীলতাও তুলে ধরতে হবে। স্থানীয় শিল্পী, জাদুঘর, বিভিন্ন এলাকার দেয়ালচিত্র এবং মেক্সিকো উপসাগরের সূর্যাস্ত তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।   এই দায়িত্বের আওতায় দালি জাদুঘর এবং মিউজিয়াম অব আমেরিকান আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস মুভমেন্টের মতো স্থানও রয়েছে। একই সঙ্গে ৬ থেকে ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য শাইন মুরাল ফেস্টিভ্যালের সময় তৈরি বিভিন্ন দেয়ালচিত্র ঘুরে দেখার সুযোগও থাকতে পারে।   তিনটি পদের জন্য নির্বাচিত প্রত্যেক ব্যক্তি আলাদাভাবে ১০ হাজার ডলার পাবেন। অর্থাৎ ১০ হাজার ডলার তিনজনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে না। প্রত্যেকের জন্য যাওয়া-আসার বিমানভাড়া ও থাকার ব্যবস্থাও থাকবে। পাশাপাশি তাঁদের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতার ব্যবস্থাও করবে আয়োজক সংস্থা।   তবে নির্বাচিত ব্যক্তিদের বিনিময়ে কাজও করতে হবে। অবস্থানের সময় তাঁরা যেসব মানুষ, স্থান ও মুহূর্তের অভিজ্ঞতা পাবেন, সেগুলো অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে আকর্ষণীয় গল্প ও কনটেন্ট তৈরি করতে সক্ষম ব্যক্তিদেরই এই দায়িত্বের জন্য খোঁজা হচ্ছে।   আবেদনকারীর বয়স আবেদন করার সময় কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর থেকে ২২ নভেম্বরের মধ্যবর্তী সময়ে নির্ধারিত টানা ১০ দিনের দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁকে সময় দিতে হবে।   আবেদন প্রক্রিয়ায় অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার পাশাপাশি ভিডিও সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচনের সময় তাঁদের নিজস্বতা ও গল্প বলার দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও মৌলিকত্ব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি ও দর্শকদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরির সক্ষমতা বিবেচনা করা হবে।   আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২২ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট। নির্বাচিত ব্যক্তিরা প্রথম ১০ দিনের দায়িত্ব শেষ করার পর ভবিষ্যতে তাঁদের অভিজ্ঞতা আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার জন্য অন্য কার্যক্রমেও যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।   সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার সাদা বালুর সমুদ্রসৈকত ও সূর্যাস্তের জন্য পরিচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলাকাটিতে বছরে গড়ে ৩৬১ দিন সূর্যালোক থাকে। তবে নতুন এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু সমুদ্রসৈকত নয়। খাবার, রাতের বিনোদন, সংগীত, শিল্পকলা, জাদুঘর, দেয়ালচিত্র এবং স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতাও এর মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।   সব মিলিয়ে এটি সাধারণ অর্থে স্থায়ী চাকরি নয়, বরং ১০ দিনের অর্থপ্রদত্ত স্বল্পমেয়াদি দায়িত্ব। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমও পদগুলোকে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছে। তিনজন নির্বাচিত ব্যক্তি প্রত্যেকে ১০ হাজার ডলার, বিমানভাড়া ও থাকার সুবিধা পাবেন। বিনিময়ে তাঁদের সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার ঘুরে সেখানকার খাবার, সংস্কৃতি, বিনোদন, শিল্পকলা ও সূর্যাস্তের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১১:৩৪
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বছরের সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা কতটা বাড়বে তা জানা যাবে চলতি অক্টোবরে। ছবি: সংগৃহীত
সোশ্যাল সিকিউরিটির নতুন আপডেট আসছে অক্টোবরে, ভাতার সঙ্গে বদলাবে আয়ের লিমিটও

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা কতটা বাড়বে, তা জানা যাবে চলতি অক্টোবরে। দ্য সিনিয়র সিটিজেনস লিগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৪ অক্টোবর বার্ষিক মূল্যস্ফীতি সমন্বয় বা কোলা ঘোষণা করার কথা রয়েছে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের। তবে মাসিক ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মরত সুবিধাভোগীদের আয়ের সীমা, সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্সের আওতাধীন সর্বোচ্চ আয় এবং কাজের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ক্রেডিট অর্জনের হিসাবও নতুন বছরের জন্য হালনাগাদ হওয়ার কথা। ফলে এই ঘোষণা অবসরপ্রাপ্তদের পাশাপাশি এখনো কাজ করছেন, এমন ব্যক্তিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।    দ্য সিনিয়র সিটিজেনস লিগের সর্বশেষ পূর্বাভাসে ২০২৭ সালের কোলা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এটি চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত নয়। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত সংগঠনটির এই পূর্বাভাস আগের মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট কম। তবে পূর্বাভাসটি ঠিক হলে বৃদ্ধির হার ২০২৬ সালের ২ দশমিক ৮ শতাংশের চেয়ে বেশি হবে। উদাহরণ হিসেবে সংগঠনটি জানিয়েছে, বর্তমানে মাসে ২ হাজার ডলার ভাতা পাওয়া কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ সমন্বয় হলে মাসিক অঙ্ক দাঁড়াবে ২ হাজার ৭০ ডলার। নতুন বছরের সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্টে এই সমন্বয়ের প্রভাব পড়বে।    কোলা নির্ধারণে কোনো একটি মাসের মূল্যস্ফীতির হার সরাসরি ব্যবহার করা হয় না। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নিয়ম অনুযায়ী, শহরের মজুরিভিত্তিক কর্মী ও কেরানি পর্যায়ের কর্মীদের জন্য নির্ধারিত ভোক্তা মূল্যসূচক, অর্থাৎ সিপিআই ডব্লিউয়ের তৃতীয় প্রান্তিকের গড় পরিবর্তন থেকে এই হিসাব করা হয়। তৃতীয় প্রান্তিক বলতে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরকে বোঝায়। তাই সেপ্টেম্বরের তথ্য প্রকাশের আগে ২০২৭ সালের চূড়ান্ত হার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এই সমন্বয়ের উদ্দেশ্য হলো মূল্যস্ফীতির কারণে সুবিধাভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রভাব মোকাবিলা করা।    যাঁরা পূর্ণ অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগেই সোশ্যাল সিকিউরিটি রিটায়ারমেন্ট ভাতা নিচ্ছেন এবং পাশাপাশি কাজ করছেন, তাঁদের জন্য আয়ের সীমার ঘোষণাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে সারা বছর পূর্ণ অবসরের বয়সের নিচে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বার্ষিক সীমা ২৪ হাজার ৪৮০ ডলার। এর বেশি প্রতি ২ ডলার আয়ের জন্য ভাতা থেকে ১ ডলার আটকে রাখা হয়। আবার যাঁরা ২০২৬ সালেই পূর্ণ অবসরের বয়সে পৌঁছাবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সেই বয়সে পৌঁছানোর মাসের আগের আয় গণনায় সীমা ৬৫ হাজার ১৬০ ডলার। ওই সীমার বেশি প্রতি ৩ ডলার আয়ের জন্য ১ ডলার আটকে রাখা হয়। পূর্ণ অবসরের বয়সে পৌঁছানোর মাস থেকে আয়ের কারণে এই কর্তন আর প্রযোজ্য হয় না। এই হিসাবে চাকরির বেতন ও সেলফ এমপ্লয়মেন্টের নিট আয় ধরা হয়; পেনশন, বিনিয়োগের আয় বা সুদ ধরা হয় না।  আয়ের কারণে ভাতা আটকে রাখার বিষয়টিকে স্থায়ীভাবে পুরো অর্থ হারানো হিসেবে দেখাও ঠিক নয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানায়, পূর্ণ অবসরের বয়সে পৌঁছানোর পর যেসব মাসে ভাতা কমানো বা আটকে রাখা হয়েছিল, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে মাসিক ভাতার অঙ্ক পুনর্নির্ধারণ করা হয়। মূল প্রতিবেদনে ২০২৭ সালে কর্মরত সুবিধাভোগীদের আয়ের সীমা বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নতুন সীমা কত হবে, তা সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।    কর্মীদের পেচেক থেকে সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স কাটার সর্বোচ্চ আয়সীমাও আলাদা হিসাবে নির্ধারিত হয়। ২০২৬ সালে একজন কর্মীর প্রথম ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয়ের ওপর ৬ দশমিক ২ শতাংশ সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স প্রযোজ্য। নিয়োগকর্তাও সমপরিমাণ দেন। সেলফ এমপ্লয়েড ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই অংশের হার ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। সর্বোচ্চ আয়সীমা বাড়লে উচ্চ আয়ের কর্মীদের আয়ের আরও বড় অংশ এই ট্যাক্সের আওতায় আসতে পারে। তবে কোলার সঙ্গে এই সীমা একই হারে বাড়ে না। কোলা মূল্যস্ফীতির সূচকের সঙ্গে যুক্ত, আর ট্যাক্সের আয়সীমা নির্ধারণে জাতীয় গড় মজুরির পরিবর্তন ব্যবহার করা হয়।    অবসরের ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সোশ্যাল সিকিউরিটি ক্রেডিটের হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে। নিজের কাজের রেকর্ডের ভিত্তিতে রিটায়ারমেন্ট ভাতা পেতে সাধারণভাবে ৪০টি ক্রেডিট প্রয়োজন। বছরে সর্বোচ্চ চারটি ক্রেডিট অর্জন করা যায়। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্সের আওতাধীন প্রতি ১ হাজার ৮৯০ ডলার আয়ে একটি ক্রেডিট পাওয়া যায়। চারটি ক্রেডিটের জন্য প্রয়োজন ৭ হাজার ৫৬০ ডলার আয়। তাই ১০ বছর কাজের কথা বলা হলেও, প্রতি বছর পুরো সময় কাজ করতেই হবে, এমন নিয়ম নেই। প্রয়োজনীয় আয় কম সময়েও অর্জন করা যায়। আবার ন্যূনতম প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্রেডিট থাকলেই মাসিক ভাতা বাড়ে না; ভাতার অঙ্ক নির্ধারণে কর্মজীবনের আয়ের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ।    কোলার প্রভাব সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই পেমেন্টেও পড়বে। ২০২৬ সালে এই কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ ফেডারেল মাসিক পেমেন্ট একজন যোগ্য ব্যক্তির জন্য ৯৯৪ ডলার এবং যোগ্য দম্পতির জন্য ১ হাজার ৪৯১ ডলার। তবে আয় ও অন্যান্য প্রযোজ্য শর্তের কারণে ব্যক্তিভেদে পেমেন্ট কম হতে পারে। অন্যদিকে, যাঁদের সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট থেকে মেডিকেয়ার পার্ট বি প্রিমিয়াম কেটে নেওয়া হয়, তাঁদের হাতে কতটা অতিরিক্ত অর্থ থাকবে, তা বুঝতে মেডিকেয়ারের নতুন প্রিমিয়ামও জানতে হবে। এই প্রিমিয়াম কোলা ঘোষণার বাইরে আলাদাভাবে জানানো হয়। ফলে ভাতা বৃদ্ধির হার জানা গেলেও হাতে পাওয়া অর্থের সম্পূর্ণ হিসাব তখনই স্পষ্ট হবে, যখন সংশ্লিষ্ট কর্তনের নতুন অঙ্কও প্রকাশিত হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১১:১১
বারিধারায় ফুটপাতে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহতের মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়া ১৭ বছর বয়সী সেই কিশোর। ছবি: সংগৃহীত
বারিধারায় কিশোরের জামিন নাকচ, বিচারক বললেন, 'প্রশ্রয় পেলে বিচারকে সহজ ভাববে বিত্তবানরা'

রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার ১৭ বছর বয়সী কিশোরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার, ৪ অক্টোবর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।   রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন মামুন প্রথম আলোকে আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কিশোরের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করেন। কিশোরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান।    গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে একটি প্রাইভেট কার চাপা দেয়। পরে পথচারী ও নির্মাণশ্রমিকেরা গাড়িটি তুলে তাঁকে উদ্ধার করেন। পুলিশ তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।    নিহত মেহেদীর বয়স ছিল ২৪ বছর। তাঁর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে। মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ভাই মুক্তাদির ইসলাম ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় মামলা করেন। এজাহারে গাড়িচালক হিসেবে ৪৪ বছর বয়সী আকাশ মারাকের নাম উল্লেখ করা হলেও আটক কিশোরের নাম ছিল না।   দ্য ডেইলি স্টারের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। সিসিটিভি ফুটেজে গাড়ির ডান পাশের চালকের আসনের দরজা দিয়ে তাকে বের হতে দেখা যায়। অন্য পাশের দরজা দিয়ে বের হন মধ্যবয়সী আরেক ব্যক্তি। পুলিশের আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার সঙ্গে কিশোরের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।    ২৪ সেপ্টেম্বর কিশোরকে আদালতে হাজির করে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গুলশান থানার উপপরিদর্শক আরেফিন ইসলাম। আদালত তাকে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সে সময় তার পক্ষে জামিনের আবেদনও করা হয়।   ওই দিনের শুনানির পর কিশোরের পক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন দাবি করেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। ডেইলি স্টারের হাতে পাওয়া আপসনামায় বলা হয়, দাফন ও আনুষ্ঠানিকতার জন্য এক লাখ টাকা এবং নিহতের বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আরও আট লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে আপসনামায় কোনো তারিখ ছিল না।   আপসনামায় দুর্ঘটনার সময় আকাশ মারাক গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং কিশোর যাত্রী ছিল বলে দাবি করা হয়। এই বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। আপসে মামলার বাদীর সম্মতির বিষয়ে জানতে ডেইলি স্টার সে সময় তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন বন্ধ পায়।    রোববারের শুনানিতে আদালত কিশোরকে জামিন দেননি। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এজাহারে নাম থাকা গাড়িচালক আকাশ মারাককে পুলিশ তখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। দুর্ঘটনার দায় এবং কে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে পুলিশি তদন্তের তথ্য ও অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১০:৪৮