সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
স্বাস্থ্য

নিজেকে নিয়েই মগ্ন, অন্যের অনুভূতির মূল্য নেই: আত্মকেন্দ্রিক মানুষকে চেনার উপায় ও করণীয়

অলি উল্লাহ আল মাসুদ প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২:২২
How Self-Absorbed, Self-Centered People’s Behavior Affects Relationships and Mental Health
How Self-Absorbed, Self-Centered People’s Behavior Affects Relationships and Mental Health

কথা বলছেন আপনি, কিন্তু আলোচনার বিষয় বারবার ঘুরে যাচ্ছে তার দিকে। আপনার কষ্টের কথা বললে তিনি নিজের সমস্যার কথা সামনে আনছেন। কোনো ভুল নিয়ে প্রশ্ন তুললে উত্তর না দিয়ে উল্টো আপনাকেই দোষী বানিয়ে দিচ্ছেন। কখনো হয়তো মনে হচ্ছে, সম্পর্কের শান্তি ধরে রাখার দায়িত্বটা শুধু আপনারই।

 

শুরুতে এসব আচরণকে হয়তো ভালোবাসার অতিরিক্ত প্রকাশ, আত্মবিশ্বাস কিংবা একটু জেদ হিসেবে মনে হতে পারে। কিন্তু একই আচরণ যদি দিনের পর দিন চলতে থাকে, তাহলে সম্পর্কের ভেতরে তৈরি হতে পারে এক ধরনের অদৃশ্য চাপ। ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতেও দ্বিধা হতে পারে, নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন জাগতে পারে, এমনকি মনে হতে পারে—সমস্যাটা বোধহয় আমারই।

 

এখানেই আত্মকেন্দ্রিক আচরণ নিয়ে সচেতন হওয়ার প্রয়োজন।

 

মনোবিজ্ঞানে অতিরিক্ত আত্মকেন্দ্রিক বা আত্মমুগ্ধ আচরণের সঙ্গে নিজের গুরুত্বকে অতিরঞ্জিতভাবে দেখা, অতিরিক্ত প্রশংসা ও স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং অন্যের অনুভূতির প্রতি কম সহানুভূতি দেখানোর মতো বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। তবে একজন মানুষ আত্মকেন্দ্রিক আচরণ করলেই তাকে নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত বলা যায় না। এটি একটি নির্দিষ্ট মানসিক স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং এর নির্ণয় প্রশিক্ষিত পেশাজীবীর বিষয়।

 

ভালোবাসার সম্পর্কে যখন ‘আমি’ হয়ে ওঠে সবকিছু

 

একটি সুস্থ প্রেমের সম্পর্কে দুজন মানুষের চাওয়া, অনুভূতি ও মতামতের জায়গা থাকে। কিন্তু একজন সঙ্গী যদি সবসময় নিজের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেন, তাহলে সম্পর্কের ভারসাম্য ধীরে ধীরে নষ্ট হতে পারে।

 

আপনি হয়তো কোথাও যেতে চান, কিন্তু সিদ্ধান্ত হবে তার পছন্দ অনুযায়ী। আপনি কোনো বিষয়ে কষ্ট পেয়েছেন, কিন্তু আপনার অনুভূতির বদলে আলোচনায় উঠে আসবে তার কষ্ট। কোনো সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলে নিজের ভুল স্বীকারের পরিবর্তে তিনি হয়তো ব্যাখ্যা করবেন কেন সমস্যাটির জন্য আপনিই দায়ী।

 

এভাবে চলতে থাকলে সম্পর্কের মধ্যে একজন কথা বলবেন আর অন্যজন শুধু মানিয়ে নেবেন—এমন এক অসমতা তৈরি হতে পারে।

 

বিশেষ করে তরুণদের প্রেমের সম্পর্কে এ ধরনের আচরণ অনেক সময় প্রথমদিকে সহজে বোঝা যায় না। অতিরিক্ত খোঁজ নেওয়া কখন নিয়ন্ত্রণে পরিণত হচ্ছে, ভালোবাসার নামে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কমে যাচ্ছে কি না, কিংবা মতের অমিল হলেই অপরাধবোধ তৈরি করা হচ্ছে কি না—এসব পার্থক্য বোঝা জরুরি।

 

বিয়ের পর চাপটা কেন আরও জটিল হয়

 

দাম্পত্য জীবনে শুধু আবেগ নয়, অর্থনীতি, সন্তান, পরিবার, সামাজিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মতো অসংখ্য বিষয় জড়িয়ে থাকে। ফলে একজন সঙ্গীর অতিরিক্ত আত্মকেন্দ্রিক আচরণ পুরো সম্পর্কের পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।

 

যদি একজন সব সিদ্ধান্ত নিজের হাতে রাখতে চান, অন্যের মতামতকে গুরুত্ব না দেন কিংবা প্রতিটি সমস্যার দায় জীবনসঙ্গীর ওপর চাপান, তাহলে ঘরে থেকেই মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।

 

সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো, এই ধরনের সম্পর্কের সমস্যা বাইরে থেকে সবসময় বোঝা যায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা পরিচিতদের সামনে সম্পর্কটি স্বাভাবিক দেখালেও ব্যক্তিগত জীবনে একজন মানুষ প্রতিদিন নিজের কথা বলার সুযোগ, নিজের সিদ্ধান্ত এবং নিজের অনুভূতির স্বীকৃতির জন্য লড়াই করতে পারেন।

 

যখন নিজের অনুভূতিকেই সন্দেহ হতে শুরু করে

 

দীর্ঘদিন দোষারোপ, অস্বীকার কিংবা বাস্তব ঘটনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করার মতো আচরণের মধ্যে থাকলে একজন মানুষ নিজের উপলব্ধি নিয়েই প্রশ্ন তুলতে পারেন। এটিই গ্যাসলাইটিং নামে পরিচিত একটি আচরণগত ধরন।

 

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, কোনো ঘটনা আপনাকে কষ্ট দিয়েছে। আপনি সেটি নিয়ে কথা বললেন। কিন্তু অপর পক্ষ ঘটনাটি অস্বীকার করলেন বা এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করলেন যে শেষ পর্যন্ত আপনারই মনে হলো, হয়তো আপনি ঘটনাটিকে ভুলভাবে বুঝেছেন।

 

একটি বিচ্ছিন্ন মতবিরোধকে অবশ্য গ্যাসলাইটিং বলা যায় না। এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো আচরণের ধারাবাহিকতা এবং তার প্রভাব।

 

দীর্ঘস্থায়ী এমন অভিজ্ঞতা আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান এবং মানসিক শান্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। কারও ক্ষেত্রে উদ্বেগ, অপরাধবোধ বা নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের অভিজ্ঞতা মানসিক ট্রমার মতো প্রভাবও ফেলতে পারে।

 

কেন অনেকেই সম্পর্ক ছাড়তে পারেন না

 

কখনো কষ্টদায়ক সম্পর্কের মধ্যেও ভালোবাসা, ক্ষমা চাওয়া, ভালো সময় বা সাময়িক পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা থাকতে পারে। ফলে একজন মানুষ মনে করতে পারেন, পরিস্থিতি হয়তো আবার আগের মতো ভালো হয়ে যাবে।

 

এই টানাপোড়েনকে কখনো ‘ট্রমা বন্ড’ বলা হয়। কষ্টের পাশাপাশি পাওয়া ইতিবাচক মুহূর্তগুলো সম্পর্কটি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তকে কঠিন করে তুলতে পারে।

 

তবে প্রত্যেক মানুষের অভিজ্ঞতা আলাদা। তাই কাউকে শুধু একটি শব্দ বা কয়েকটি আচরণের ভিত্তিতে বিচার করার পরিবর্তে পুরো সম্পর্কের ধরন, পরিস্থিতি এবং নিজের মানসিক অবস্থার দিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

 

আত্মকেন্দ্রিক মানুষের সঙ্গে থাকলে যে ৭টি বিষয় মনে রাখবেন

 

১. আবেগের বশে প্রতিক্রিয়া দেবেন না

 

উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সঙ্গে সঙ্গে রাগ বা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালে আলোচনা আরও জটিল হতে পারে। সম্ভব হলে কিছুটা সময় নিয়ে শান্তভাবে নিজের বক্তব্য জানান।

 

২. বারবার নিজেকে প্রমাণ করতে যাবেন না

 

প্রতিটি অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে দীর্ঘ তর্কে জড়িয়ে পড়ার প্রয়োজন নেই। নিজের অবস্থান পরিষ্কার ও সংক্ষিপ্তভাবে জানানো যথেষ্ট হতে পারে।

 

৩. আচরণের পুনরাবৃত্ত ধরন লক্ষ্য করুন

 

একটি ঘটনা নয়, বরং একই ধরনের আচরণ বারবার ঘটছে কি না দেখুন। গ্যাসলাইটিং, দোষ চাপানো, নিজের ভুল অস্বীকার করা কিংবা অভিযোগ উল্টো আপনার দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো লক্ষ্য করা গুরুত্বপূর্ণ।

 

৪. নিজের সীমারেখা ঠিক করুন

 

কোন আচরণ আপনি মেনে নেবেন এবং কোন আচরণ মেনে নেবেন না, তা নিজের কাছে পরিষ্কার রাখুন। প্রয়োজন হলে অপর পক্ষকেও সেই সীমারেখা জানিয়ে দিন।

 

৫. প্রয়োজন ছাড়া যোগাযোগ বাড়াবেন না

 

সম্পূর্ণ যোগাযোগ বন্ধ করা সম্ভব না হলে প্রয়োজনীয় বিষয়েই কথা সীমিত রাখুন। সংক্ষিপ্ত, শান্ত ও তথ্যভিত্তিক যোগাযোগ অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব কমাতে পারে।

 

৬. অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনায় নিরপেক্ষ থাকুন

 

‘গ্রে রক’ পদ্ধতিতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত আবেগ বা প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করা হয়। তবে এটি সব পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত নয়। সম্পর্কের মধ্যে নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পেশাদার সহায়তা নেওয়া জরুরি।

 

৭. নিজের জীবনকে আবার নিজের করে নিন

 

অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের মধ্যে থাকতে থাকতে অনেকেই নিজের বন্ধু, পরিবার, আগ্রহ কিংবা ব্যক্তিগত লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যান। সেখান থেকে ধীরে ধীরে নিজের জায়গাগুলো ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ।

 

নিজের আত্মসম্মান পুনর্গঠন করা, কাছের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

সবচেয়ে বড় ‘জবাব’ নিজের ভালো থাকা

 

আত্মকেন্দ্রিক বা আত্মমুগ্ধ মানুষের আচরণ সামলানোর বিষয়টি শেষ পর্যন্ত প্রতিশোধের গল্প নয়। বরং এটি নিজের সীমারেখা, আত্মসম্মান এবং মানসিক শান্তি ফিরে পাওয়ার গল্প।

 

অন্য একজন মানুষ কীভাবে আচরণ করবেন, সেটি সবসময় নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু সেই আচরণের সামনে নিজের সীমা কোথায় হবে, কোন পরিস্থিতিতে দূরত্ব প্রয়োজন এবং কখন সহায়তা চাইতে হবে—এসব সিদ্ধান্ত নিজের হাতে রাখা যায়।

 

কারও আচরণকে বদলে দেওয়ার দায়িত্ব নিজের ওপর নেওয়ার চেয়ে নিজের সুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়া অনেক বেশি বাস্তবসম্মত। কারণ একটি সম্পর্ক তখনই সুস্থ হতে পারে, যখন সেখানে শুধু একজনের চাওয়া নয়, দুজন মানুষের অনুভূতি ও মর্যাদারও জায়গা থাকে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

স্বাস্থ্য

View more
হারপিসের চিকিৎসায় নতুন মুখে খাওয়ার ওষুধ
হারপিসের জটিল সংক্রমণে নতুন ওষুধের অনুমোদন দিল এফডিএ, আশার আলো রোগীদের

হারপিসের সংক্রমণে আক্রান্ত যেসব রোগীর শরীর প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধে সাড়া দিচ্ছে না, তাঁদের চিকিৎসায় নতুন একটি ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। ‘প্রিটেলিভির’ নামের মুখে খাওয়ার এই ওষুধটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, যাঁদের হারপিসের ঘা প্রচলিত চিকিৎসায় সারছে না।   গত ৯ অক্টোবর ওষুধটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর বাণিজ্যিক নাম হোভিলপ্রি। জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আসাহি কাসেই ওষুধটি বাজারজাত করবে। তবে ওষুধটি সব ধরনের হারপিস সংক্রমণের জন্য নয়। নির্দিষ্ট কিছু রোগীর ক্ষেত্রে প্রচলিত চিকিৎসায় কাজ না করলে এটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের সংক্রমণে সাধারণত ঠোঁট, নাক, চোখ, যৌনাঙ্গ কিংবা ত্বক ও শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির অন্যান্য স্থানে ঘা বা ফোসকা দেখা দিতে পারে। ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করার পর থেকে যায়। বর্তমানে এর সংক্রমণ পুরোপুরি নির্মূল করার চিকিৎসা নেই। তবে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মাধ্যমে সংক্রমণের লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সাধারণত অ্যাসাইক্লোভির, ভ্যালাসাইক্লোভির ও ফ্যামসাইক্লোভিরের মতো ওষুধ হারপিসের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এসব ওষুধে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায় না। বিশেষ করে যাঁদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাঁদের সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাইরাস প্রচলিত ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতাও তৈরি করে। ফলে ঘা সারানো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন ওষুধটির বিশেষত্ব হলো, এটি প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মতো একই পদ্ধতিতে কাজ করে না। প্রিটেলিভির ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় কিছু প্রোটিনের কার্যক্রমে বাধা দেয়। এর ফলে ভাইরাস নিজের জিনগত উপাদানের অনুলিপি তৈরি করতে পারে না এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। প্রচলিত কিছু অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ কাজ করার আগে ভাইরাসের একটি এনজাইমের মাধ্যমে সক্রিয় হতে হয়। ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তনের কারণে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। প্রিটেলিভিরের কাজ করার পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় প্রচলিত চিকিৎসায় সাড়া না দেওয়া কিছু সংক্রমণের ক্ষেত্রে এটি নতুন বিকল্প হতে পারে। ওষুধটির অনুমোদনের পেছনে রয়েছে ১০১ জন রোগীকে নিয়ে পরিচালিত শেষ পর্যায়ের একটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা। এতে অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে যাঁরা প্রিটেলিভির পেয়েছিলেন, তাঁদের ৬২ দশমিক ৭ শতাংশের ঘা ২৮ দিনের মধ্যে পুরোপুরি সেরে যায়। অন্য চিকিৎসা পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৩৪ শতাংশ। পরীক্ষায় প্রিটেলিভিরের সঙ্গে চিকিৎসকদের বেছে নেওয়া অন্যান্য চিকিৎসার ফল তুলনা করা হয়। এসব চিকিৎসার মধ্যে ছিল শিরায় প্রয়োগ করা ফসকারনেট এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অনুমোদিত ব্যবহারের বাইরে প্রয়োগ করা সিডোফোভির ও ইমিকুইমড। ফসকারনেট এমন রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প, যাঁদের প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধে কাজ হচ্ছে না। পরীক্ষায় প্রিটেলিভির গ্রহণকারীদের মধ্যে মাথাব্যথা, ডায়রিয়া, বমিভাব, ক্ষুধা কমে যাওয়া, বমি এবং মাথা ঘোরার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে ওষুধের উপকারিতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটি ব্যবহার করা প্রয়োজন। নতুন ওষুধ অনুমোদিত হওয়া মানেই এটি সব রোগীর জন্য উপযুক্ত বা ঝুঁকিমুক্ত—এমন নয়। ওষুধটির সম্ভাব্য বাজার নিয়েও প্রত্যাশা রয়েছে। আসাহি কাসেইয়ের আগের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন প্রায় ১৫ হাজার রোগীর জন্য প্রিটেলিভির কার্যকর চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে শেষভাগের মধ্যে ওষুধটির বার্ষিক বিক্রি ৪০ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে এটি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক অনুমান, নিশ্চিত বিক্রির হিসাব নয়। প্রিটেলিভিরের অনুমোদন এমন রোগীদের জন্য নতুন চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করেছে, যাঁদের হারপিসের সংক্রমণ প্রচলিত ওষুধে নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বিশেষ করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় যাঁদের সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, তাঁদের ক্ষেত্রে মুখে খাওয়ার ওষুধটি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে সহজ করতে পারে। তবে এর ব্যবহার নির্দিষ্ট রোগীদের মধ্যেই সীমিত থাকবে। রোগীর অবস্থা, আগের চিকিৎসার ফল এবং চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ওষুধটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৬:৩৪
রাতে দেরি করে খাবার খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে গবেষণা

ঘুমানোর আগে খাবার খাওয়ার অভ্যাস যেভাবে বাড়াতে পারে যকৃতে চর্বি জমার ঝুঁকি

১৩ বছরে ২০ সন্তান হারিয়ে আশা ছেড়েছিলাম, এক মাস পরই. হলান যমজ সন্তানের মা

১৩ বছরে ২০ সন্তান হারিয়ে আশা ছেড়েছিলাম, এক মাস পরই. হলান যমজ সন্তানের মা

হামের সংক্রমণ

হামের সংক্রমণ বাড়ায় নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আক্রান্ত প্রায় চার হাজার

অ্যাম্বুলেন্স সেবা
অ্যাম্বুলেন্স সেবা বাধ্যতামূলক করার দাবি, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চান কর্মীরা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা আরও নির্ভরযোগ্য করতে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা।ট্রেন্টনের অঙ্গরাজ্য আইনসভায় অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে তাঁরা বলেছেন, প্রতিটি এলাকার বাসিন্দার জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।   পাশাপাশি সেবার জন্য অর্থায়ন বাড়ানো, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ সহজ করা এবং অঙ্গরাজ্যজুড়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে। নিউ জার্সির আইনসভায় অনুষ্ঠিত শুনানিতে প্রায় এক ডজন বক্তা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।   তাঁদের অধিকাংশই এমন আইন প্রণয়নের পক্ষে মত দেন, যার মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দিষ্ট জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব ইতিমধ্যে আইনসভার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোতে প্রাথমিক সমর্থন পেয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের শুনানিতে প্রস্তাবগুলোর ওপর চূড়ান্ত ভোট হয়নি।    জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের মতে, বর্তমানে অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা পরিচালিত হয় স্বেচ্ছাসেবী দল, হাসপাতাল, অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। ফলে এক এলাকার সঙ্গে অন্য এলাকার সেবার ধরন ও সক্ষমতায় পার্থক্য থাকতে পারে। স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হচ্ছে।   সড়ক দুর্ঘটনা, মাদকজনিত জরুরি পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং আকস্মিক অসুস্থতার মতো ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পর্যাপ্ত কর্মী ও অর্থায়ন না থাকলে জরুরি সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হতে পারে বলে শুনানিতে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।    শুনানিতে অঙ্গরাজ্যজুড়ে জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির প্রস্তাবও তোলা হয়। এর মাধ্যমে কোন এলাকায় কতজন কর্মী প্রয়োজন, কোথায় অ্যাম্বুলেন্সের ঘাটতি রয়েছে এবং রোগীর কাছে সহায়তা পৌঁছাতে কত সময় লাগছে, সেসব বিষয় মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।পরিকল্পনায় প্রশিক্ষণ, কর্মী নিয়োগ, তথ্য সংগ্রহ এবং সেবার মান পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স দলগুলোর জন্য কর থেকে অর্থ দেওয়ার বার্ষিক সীমা ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার তুলে দেওয়ার দাবিও উঠেছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা দূর হলে স্থানীয় পর্যায়ে জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানো সহজ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।    শুনানিতে অঙ্গরাজ্যের সিনেটর অ্যান্ড্রু জুইকার বলেন, জরুরি চিকিৎসাসেবার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন, তদারকি এবং তথ্য সংগ্রহের বিষয়গুলো নিয়ে আইন প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। অন্য আইনপ্রণেতারাও স্বেচ্ছাসেবকদের দ্রুত প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে যুক্ত করার প্রক্রিয়া সহজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১০:৫২
অ্যামাজনে বিক্রি হওয়া ব্যথার ওষুধের বোতল প্রত্যাহার

অ্যামাজনে বিক্রি হওয়া ব্যথার ওষুধের ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি বোতল প্রত্যাহার

লেজার হেয়ার রিমুভালের পর ত্বকে লালচে দানা দেখা দেওয়া একটি সাধারণ শারীরিক প্রতিক্রিয়া মাত্র। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

লেজার হেয়ার রিমুভালের পর ত্বকে লাল ফোলা দানা, বিশেষজ্ঞ জানালেন সম্ভাব্য কারণ

সংক্রমণের তীব্র গতি।

নিউইয়র্কে হামের সংক্রমণ বাড়ছে, ফেডারেল সহায়তা চাইলেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল

মৌসুমি অ্যালার্জি ও ঠান্ডার লক্ষণে বিভ্রান্তি বাড়ে
মৌসুমি অ্যালার্জি নাকি ঠান্ডা, লক্ষণ দেখে যেভাবে সহজেই বুঝবেন পার্থক্য

যুক্তরাষ্ট্রে শরৎ নামার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই শুরু হয় হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা কাশির মতো সমস্যা। কিন্তু এসব উপসর্গ দেখেই বোঝা যায় না, এটি মৌসুমি অ্যালার্জি নাকি সাধারণ ঠান্ডা। কারণ দুই ধরনের সমস্যার অনেক লক্ষণ একই রকম। আবার ফ্লুর সঙ্গেও কিছু উপসর্গের মিল থাকায় অনেকেই শুরুতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।   শরতের আবহাওয়ায় তাপমাত্রার পরিবর্তনও এ ধরনের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। উষ্ণ আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা পরিবেশে যাওয়ার পাশাপাশি বাতাসে থাকা পরাগরেণু ও ছত্রাকের সংস্পর্শে এলে অ্যালার্জির উপসর্গ দেখা দিতে পারে বা বেড়ে যেতে পারে।   মৌসুমি অ্যালার্জি মূলত কোনো ভাইরাসজনিত অসুস্থতা নয়। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা পরাগরেণু, ছত্রাক বা পোষা প্রাণীর লোমের মতো তুলনামূলকভাবে ক্ষতিকর নয় এমন কোনো উপাদানকে হুমকি হিসেবে শনাক্ত করলে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তখন হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা চোখ চুলকানোর মতো সমস্যা শুরু হয়।   মৌসুমি অ্যালার্জির সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বারবার হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ থাকা, চোখ চুলকানো ও পানি পড়া, নাক বা গলায় চুলকানি, গলার পেছনে শ্লেষ্মা নামা এবং হালকা কাশি। বিশেষ করে চোখ ও নাকে চুলকানি থাকলে অ্যালার্জির সম্ভাবনা বেশি হতে পারে।   অন্যদিকে সাধারণ ঠান্ডা ভাইরাসের কারণে হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি কথা বলার সময়, কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় এবং শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারেন। কাছাকাছি অবস্থানে থাকা ব্যক্তির নাক, মুখ বা চোখে ভাইরাস পৌঁছালে সংক্রমণ হতে পারে।   সাধারণ ঠান্ডার উপসর্গের মধ্যে রয়েছে নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, হাঁচি, গলা ব্যথা ও কাশি। এর সঙ্গে হালকা ক্লান্তি এবং শরীরব্যথাও থাকতে পারে। ঠান্ডার উপসর্গ সাধারণত কয়েক দিন স্থায়ী হয় এবং সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে কমে আসে।   অ্যালার্জি ও ঠান্ডার মধ্যে আরেকটি পার্থক্য হলো উপসর্গের ধরন। অ্যালার্জিতে চোখ চুলকানো বা পানি পড়ার মতো সমস্যা বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে গলা ব্যথা, ক্লান্তি ও শরীরব্যথা থাকলে ভাইরাসজনিত ঠান্ডার সম্ভাবনা বেশি হতে পারে।   ফ্লুর ক্ষেত্রে উপসর্গ সাধারণ ঠান্ডার তুলনায় অনেক বেশি তীব্র হতে পারে। হঠাৎ করে প্রচণ্ড দুর্বল লাগা, শরীরব্যথা, জ্বর এবং শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলে শুধু অ্যালার্জি বা সাধারণ ঠান্ডা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।   মৌসুমি অ্যালার্জির ক্ষেত্রে উপসর্গ কমানোর একটি কার্যকর উপায় হলো অ্যালার্জেনের সংস্পর্শ কমানো। বাইরে থাকলে পরাগরেণু ও অন্যান্য অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে আসার সুযোগ বাড়ে। উপসর্গ বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিহিস্টামিন বা নাকের স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।   সাধারণ ঠান্ডার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রচুর তরল পান করা গুরুত্বপূর্ণ। কাশির ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ বা মধু ব্যবহার করা হয়। জ্বর বা শরীরব্যথায় অ্যাসিটামিনোফেন কিংবা আইবুপ্রোফেনের মতো ওষুধও ব্যবহার করা যেতে পারে।   তবে কিছু নাক খোলার স্প্রে টানা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা উচিত নয়। অক্সিমেটাজোলিনজাতীয় স্প্রে সাধারণত তিন দিনের বেশি ব্যবহার করলে উল্টো নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হতে পারে।   জ্বরের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ঠান্ডার ক্ষেত্রে জ্বর খুব সাধারণ লক্ষণ নয়। তাই জ্বরের সঙ্গে তীব্র শরীরব্যথা বা দুর্বলতা থাকলে ফ্লুর মতো অন্য সংক্রমণের সম্ভাবনাও বিবেচনা করতে হবে।   বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ ঠান্ডা বা ফ্লু-সদৃশ উপসর্গ সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই কমে যায়। তবে উপসর্গ ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে, ক্রমেই খারাপ হলে কিংবা সাধারণ চিকিৎসায় উপকার না মিললে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।   তাই শরতে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা কাশি হলেই সেটিকে ঠান্ডা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। চোখ-নাক চুলকানো ও বারবার হাঁচির মতো উপসর্গ অ্যালার্জির দিকে ইঙ্গিত করতে পারে, আর গলা ব্যথা, ক্লান্তি, শরীরব্যথা বা জ্বর থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। তবে শুধু উপসর্গ দেখে নিশ্চিত রোগ নির্ণয় করা যায় না। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৪:০
আলঝেইমারের মতো জৈবিক পরিবর্তন নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে আফ্রিকান গ্রিন বানর। ছবি: সংগৃহীত

আলঝেইমার রোগের চিকিৎসায় নতুন পথ দেখাচ্ছে আফ্রিকান বানর

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানচিত্রে প্লেগ আক্রান্ত দেশগুলো

রাশিয়ায় প্লেগ সংক্রমণের আশঙ্কা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানচিত্রে উঠে এলো আক্রান্ত দেশগুলো

নিউইয়র্কের রকল্যান্ড কাউন্টিতে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম

নিউইয়র্কে হাম ছড়িয়ে পড়ায় রাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা, বাড়ছে টিকাদান ও স্বাস্থ্য সতর্কতা

0 Comments