সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
মন্ত্রী-এমপিদের ব্যাংক হিসাব তলব আমাকে দিয়ে শুরু হোক
মন্ত্রী-এমপিদের ব্যাংক হিসাব তলব আমাকে দিয়ে শুরু হোক: হাসনাত আব্দুল্লাহ

মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি তাঁদের নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাব প্রতি বছর তলবের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার এই প্রক্রিয়া নিজের ব্যাংক হিসাব দিয়ে শুরু করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।   শুক্রবার, ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে হাসনাত এ দাবি জানান। বার্তা বাজারের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় স্বার্থে অন্য কারও ব্যাংক হিসাব তলব করা হলে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।    পোস্টে হাসনাত সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আর্থিক তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি তাঁদের নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাব নিয়মিত তলবের কথা বলেন। এই দাবির সঙ্গে নিজের হিসাবও যাচাই করার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমাকে দিয়ে তা শুরু হোক।’    ব্যাংক হিসাব তলবের ক্ষেত্রে সরকারের সমালোচকদের বেছে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন হাসনাত। দৈনিক সংবাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি রাষ্ট্রের ব্যাংক হিসাব চাওয়ার ক্ষমতা নিয়ে আপত্তি জানাননি। তবে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার পর এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মন্তব্য করেন। এটি হাসনাতের অভিযোগ; ব্যাংক হিসাব তলবের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার বিষয়টি ওই বক্তব্যে প্রমাণিত হয়নি।    একই পোস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ঘোষিত আয়, সম্পদ বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা জনস্বার্থে খতিয়ে দেখার দাবি জানান। এসব বক্তব্য হাসনাতের উত্থাপিত প্রশ্ন ও দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের সিদ্ধান্ত নয়।    হাসনাত আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা দায়িত্ব গ্রহণের আগে ও পরের সম্পদের হিসাব নিজেরাই প্রকাশ করেছেন। সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   সূত্র: বার্তা বাজার

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১:৪
কোটিপতি ভিক্ষুক মঙ্গিলাল! ভিক্ষার টাকা দিয়ে হয়েছেন তিন বাড়ি ও গাড়ির মালিক
কোটিপতি ভিক্ষুক মঙ্গিলাল! ভিক্ষার টাকা দিয়ে হয়েছেন তিন বাড়ি ও গাড়ির মালিক

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে ভিক্ষাবৃত্তিবিরোধী অভিযানে নিয়ে যাওয়া মঙ্গিলালের তিনটি বাড়ি, তিনটি অটোরিকশা ও একটি গাড়ি থাকার দাবি করেছে প্রশাসন। তবে মঙ্গিলাল ভিক্ষা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও কিছু সম্পত্তি ও যানবাহনের মালিকানা নিয়ে প্রশাসনের দাবির বিরোধিতা করা হয়েছে। ঘটনাটি ২০২৬ সালের জানুয়ারির।    টাইমস অব ইন্ডিয়ার ১৯ জানুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শারীরিক প্রতিবন্ধী মঙ্গিলাল ইন্দোরের সরাফা বাজারে চাকা লাগানো লোহার একটি ছোট গাড়িতে চলাফেরা করতেন। মধ্যপ্রদেশের নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগের দল তাঁকে পুনর্বাসনের জন্য নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর সম্পত্তি ও আয়ের বিষয়ে খোঁজ শুরু করে।   অভিযানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীনেশ মিশ্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গিলালের সঙ্গে ভগত সিং নগরের একটি তিনতলা বাড়ি, শিবনগরের ৬০০ বর্গফুটের একটি বাড়ি এবং আলওয়াসার এক কক্ষের একটি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া যায়। কর্মকর্তাদের দাবি, প্রতিবন্ধিতার ভিত্তিতে সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় রেড ক্রসের মাধ্যমে ফ্ল্যাটটি পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর তিনটি অটোরিকশা ভাড়ায় চলত এবং একটি মারুতি ডিজায়ার গাড়িও ছিল বলে তাঁরা জানান।    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, মঙ্গিলাল সরাসরি কারও কাছে টাকা চাইতেন না। বাজারে তাঁকে দেখে পথচারীরা অর্থ দিতেন। তাঁদের হিসাবে, এভাবে দিনে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ রুপি পেতেন তিনি। সরাফা এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি সুদে ধার দেওয়ার তথ্যও কর্মকর্তারা জানান।    তবে ২১ জানুয়ারি নবভারত টাইমসে প্রকাশিত পরবর্তী প্রতিবেদনে মঙ্গিলাল এসব অভিযোগের ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তাঁর দাবি, তিনি পরিবহন ব্যবসা ও সুদে অর্থ ধার দেওয়ার কাজ করেন। সরাফা বাজারে গিয়েছিলেন ধার দেওয়া অর্থের সুদ সংগ্রহ করতে। তিনি কখনো ভিক্ষা করেননি এবং নিজের উপার্জনে বাড়ি করেছেন বলেও দাবি করেন।    একই প্রতিবেদনে তাঁর ভাতিজা ভীম সিং চৌহান দাবি করেন, তিনতলা বাড়িটি তাঁর মায়ের নামে নিবন্ধিত। তিনটি অটোরিকশার মধ্যে দুটি তাঁর নিজের নামে এবং গাড়িটি তাঁর বোনের। ফলে প্রশাসন যেসব সম্পদের কথা জানিয়েছে, সেগুলোর সবই মঙ্গিলালের নামে কি না, তা নিয়ে বিরোধ রয়েছে।    জানুয়ারির প্রতিবেদনে প্রশাসন জানিয়েছিল, মঙ্গিলালের ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তির নথি ও আয়ের উৎস যাচাই করা হচ্ছে। দীনেশ মিশ্র তখন বলেন, তাঁর সম্পদের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের কাজ বাকি রয়েছে। তাই তাঁকে নিশ্চিতভাবে কোটি টাকার সম্পদের মালিক বলা কিংবা সব সম্পদ ভিক্ষার অর্থে গড়া বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো চূড়ান্ত তথ্য ওই প্রতিবেদনে ছিল না।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ০:৩৪
প্রথমবার বাড়ি কেনার জন্য সবচেয়ে কঠিন শহর এখন নিউইয়র্ক
প্রথমবার বাড়ি কেনার জন্য সবচেয়ে কঠিন শহর এখন নিউইয়র্ক, আর্থিক চাপে ক্রেতারা

প্রথমবার বাড়ি কিনতে ডাউন পেমেন্ট জমানোর হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের বড় আবাসন বাজারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন অবস্থানে রয়েছে নিউইয়র্ক সিটি। রকেটের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্থানীয় একটি মধ্যম আয়ের পরিবার বছরে আয়ের ৫ শতাংশ সঞ্চয় করলে গবেষণায় পাওয়া মধ্যম ডাউন পেমেন্টের সমপরিমাণ অর্থ জমাতে প্রায় ৬৫ বছর লাগতে পারে। ২ অক্টোবর নিউইয়র্ক পোস্ট এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।    তবে এই হিসাবের অর্থ বাড়ি কিনতে সবাইকে ৬৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে, এমন নয়। এটি নির্দিষ্ট সঞ্চয়হার ধরে তৈরি একটি তুলনামূলক হিসাব। রকেট মর্টগেজের প্রথমবার বাড়ি কেনা গ্রাহকদের ডাউন পেমেন্ট এবং স্থানীয় পরিবারের আয়ের ব্যবধান বোঝাতে বিশ্লেষণটি করা হয়েছে।    গবেষণায় নিউইয়র্কে প্রথমবারের ক্রেতাদের মধ্যম ডাউন পেমেন্ট পাওয়া গেছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ডলার, যা বাড়ির ক্রয়মূল্যের প্রায় ৩০ শতাংশ। ব্যবহৃত মধ্যম বার্ষিক পারিবারিক আয় ৮১ হাজার ২২৮ ডলার। এর ৫ শতাংশ সঞ্চয় করলে বছরে জমে প্রায় ৪ হাজার ৬১ ডলার। সেই হিসাবে ওই ডাউন পেমেন্ট জমাতে সময় লাগে ৬৫ দশমিক ২ বছর।    রকেটের বিশ্লেষণটি জুনে প্রকাশিত হয়। এতে ২০২৫ সালের ২০ মে থেকে ২০২৬ সালের ১৯ মে পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে মর্টগেজ নিয়ে প্রথম বাড়ি কেনা গ্রাহকদের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। পরিবারের আয়ের তথ্য নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনসাস ব্যুরোর ২০২৪ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে থেকে। ফলে ফলাফলটি সব ক্রেতার অভিজ্ঞতা বা মর্টগেজের ন্যূনতম ডাউন পেমেন্টের শর্তকে প্রতিনিধিত্ব করে না।    একই পদ্ধতির হিসাবে সান ফ্রান্সিসকোয় মধ্যম ডাউন পেমেন্ট জমাতে প্রয়োজন ৫৭ দশমিক ২ বছর এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে ৪১ দশমিক ৫ বছর। বিপরীতে মিশিগানের ওয়ারেনে সময় লাগে প্রায় ৩ দশমিক ১ বছর, ডেট্রয়েটে ৩ দশমিক ৯ বছর। ওই দুই বাজারে প্রথমবারের ক্রেতাদের মধ্যম ডাউন পেমেন্ট যথাক্রমে ৮ হাজার ৭৯৭ ও ৭ হাজার ৬০০ ডলার।    এই ব্যবধানের পেছনে বাড়ির দাম ছাড়াও শুরুতে ক্রেতারা কত শতাংশ অর্থ দিচ্ছেন, সেটি বড় বিষয়। নিউইয়র্কে গবেষণার মধ্যম ডাউন পেমেন্ট ক্রয়মূল্যের ৩০ শতাংশ হলেও ওয়ারেন ও ডেট্রয়েটে তা প্রায় ৫ শতাংশ।    রেডফিনের নিউইয়র্কভিত্তিক এজেন্ট জেসন ওয়ার্নার রকেটের প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, শহরের অনেক কো-অপ ও কনডো ভবনে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের শর্ত থাকে। বেশি অর্থ শুরুতে দিলে মর্টগেজের পরিমাণ ও মাসিক কিস্তি কমে, যা ঋণদাতার আয় ও ঋণের অনুপাতসংক্রান্ত শর্ত পূরণেও সহায়তা করতে পারে।    সঞ্চয়ের এই হিসাবে বোনাস, বিনিয়োগের আয়, পরিবারের সহায়তা বা ডাউন পেমেন্ট সহায়তার অর্থ ধরা হয়নি। এসব কারণে একজন ক্রেতার বাস্তব প্রস্তুতির সময় গবেষণার হিসাব থেকে আলাদা হতে পারে। বিশ্লেষণটির মূল বার্তা হলো, প্রথম বাড়ি কেনার জন্য শুরুতে প্রয়োজনীয় অর্থ জমানোর বাধা একেক আবাসন বাজারে একেক রকম।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ০:২৮
বাংলাদেশে থেকে পড়তে আসা মাহফুজ আহমেদের এখন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা
বাংলাদেশে থেকে পড়তে আসা মাহফুজ আহমেদের এখন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা

পড়াশোনার জন্য বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসামাহফুজ আহমেদ গড়ে তুলেছেন এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যার বার্ষিক রাজস্ব এক বিলিয়ন ডলারের বেশি। ভার্জিনিয়ার ম্যাকলিনভিত্তিক তাঁর প্রতিষ্ঠিত ডেক্সিয়ানের ২০২৫ সালের রাজস্ব ছিল ১.১৪ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ১১৪ কোটি ডলার। শিক্ষার্থী হিসেবে শুরু করা জীবনের পর প্রযুক্তি খাতে চাকরি এবং সেখান থেকে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার দীর্ঘ পথ পেরিয়েছেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী।    ভার্জিনিয়া বিজনেসের ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৭০টি স্থানে ডেক্সিয়ানের প্রায় ১২ হাজার কর্মী রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি কর্মী সরবরাহ, তথ্যপ্রযুক্তি ও কর্মী ব্যবস্থাপনা সেবা দেয়। তাদের গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে ফরচুন ৫০০ তালিকাভুক্ত দুই শতাধিক কোম্পানি।    মাহফুজের যুক্তরাষ্ট্রের জীবনের শুরু জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, ঢাকার বাড়ি ছেড়ে তিনি এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসায় সেখানে পড়তে যান। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে কখনো চাকরি করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাবে তাঁর প্রথম কাজই পরবর্তী প্রযুক্তি পেশার ভিত্তি তৈরি করে। ১৯৯৩ সালে তিনি ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হন।    স্নাতক হওয়ার পরের বছর, ১৯৯৪ সালে মাহফুজ প্রতিষ্ঠা করেন ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেমস, সংক্ষেপে ডিসিস। এটিই পরে ডেক্সিয়ান নামে পরিচিত হয়। নর্থরপ গ্রুম্যানে পরামর্শক এবং মবিল অয়েলে জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি নিজের ব্যবসা গড়ে তোলেন।    নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ওয়াই টু কে বা ২০০০ সাল ঘিরে কম্পিউটারের তারিখসংক্রান্ত ত্রুটির আশঙ্কা প্রযুক্তি খাতে বাড়তি কাজের সুযোগ তৈরি করে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কম্পিউটার ব্যবস্থা প্রস্তুত করতে শুরু করলে ডিসিস প্রথম বড় গ্রাহকদের পায়। ব্যবসার বিস্তারে এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।    ডেক্সিয়ানের বিবরণ অনুযায়ী, শুরু থেকেই ব্যবসার কৌশল ও উন্নয়নে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯৮ সালে মারুফের সহপ্রতিষ্ঠিত একটি আইটি কর্মী সরবরাহ ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পরের বছর ডিসিসের সঙ্গে একীভূত হয়। তখন মারুফ আনুষ্ঠানিকভাবে অংশীদার ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন।    এরপর সম্প্রসারণ ও অধিগ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসার পরিধি বাড়ে। ২০২১ সালে ডিসিস ফ্লোরিডাভিত্তিক সিগনেচার কনসালট্যান্টস অধিগ্রহণ করে। দুই প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য অধিগ্রহণ করা ব্যবসার কার্যক্রম একত্র করে ২০২৩ সালে ডেক্সিয়ান ব্র্যান্ড চালু করা হয়।    একই বছরের ৬ জুলাই মারুফকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দেয় ডেক্সিয়ান। এর আগে তিনি প্রেসিডেন্ট ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ছিলেন। মাহফুজ প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব ছেড়ে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হন এবং প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত থাকেন।    ভার্জিনিয়া বিজনেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ডেক্সিয়ানের রাজস্ব ছিল ১.১৫ বিলিয়ন ডলার। পরের বছরও তা এক বিলিয়ন ডলারের ওপরে থাকে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ওয়াশিংটন বিজনেস জার্নালের ওয়াশিংটন ডিসি অঞ্চলে অশ্বেতাঙ্গ মালিকানাধীন বৃহত্তম কোম্পানির তালিকায় প্রতিষ্ঠানটি শীর্ষে ছিল।    ব্যবসার পাশাপাশি নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও সম্পর্ক ধরে রেখেছেন মাহফুজ। ২০২২ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জর্জ মেসনের কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটিংয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অনুদানের অঙ্গীকার করা হয়। এই অর্থে ডিনস টেকনোলজি ইনোভেশন ফান্ড গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় দুই ভাইয়ের সাফল্য ও অবদানকে সম্মান জানায়। সেই আয়োজনে তাঁদের ছাত্রজীবনের একটি স্মৃতিও জায়গা পায়। পড়াশোনার খরচ জোগাতে মারুফ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ পরিচর্যার কাজ করতেন। ফেনউইক লাইব্রেরির সামনের গার্বেজ বিন পরিষ্কার করাও ছিল তাঁর দায়িত্ব। ডাইনিং হলেও কাজ করেছেন তিনি।    বহু বছর পর দুই ভাই বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ করেন, লাইব্রেরির কাছের একটি গার্বেজ বিন তাঁদের সম্মানে উৎসর্গ করা হোক। বিশ্ববিদ্যালয় সেই অনুরোধ রাখে। হলুদ রঙের বিনটির পাশে বসানো হয় মারুফের বক্তব্যসংবলিত ফলক। যে ক্যাম্পাসে কাজ করে পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছিলেন, সেখানেই তাঁদের ব্যবসায়িক সাফল্যের স্মারক হয়ে আছে ছাত্রজীবনের সেই কাজের স্মৃতি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ০:১৪
টেক্সাসের বিগ বেন্ড অঞ্চলে সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণে ফেডারেল আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার পর স্বস্তিতে পরিবেশবাদীরা। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসের বিগ বেন্ড অঞ্চলে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ সাময়িকভাবে আটকে দিল আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বিগ বেন্ড অঞ্চলে সীমান্ত দেয়াল ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণ সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবারের এই আদেশের ফলে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় নতুন করে মাটি খননসহ সীমান্ত অবকাঠামোর নির্মাণকাজ চালাতে পারবে না ট্রাম্প প্রশাসন। আদেশটি জারি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক ক্যাথলিন কার্ডোন।   আদালতের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন মেক্সিকো সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা অবকাঠামো সম্প্রসারণের বড় কর্মসূচি চালাচ্ছে। পুরো দক্ষিণ সীমান্তে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারের এই কর্মসূচির আওতায় ৩০ ফুট উচ্চতার ইস্পাত দেয়াল, যানবাহন ঠেকানোর প্রতিবন্ধক, সড়ক ও নজরদারি প্রযুক্তি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিগ বেন্ড অঞ্চলেও কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   বিচারক কার্ডোন তার আদেশে বলেন, মামলাকারীরা অন্তত একটি দাবিতে আইনি লড়াইয়ে সফল হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখাতে পেরেছেন। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা না দিলে তাদের গুরুতর ও অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট স্বার্থ ও জনস্বার্থও নির্মাণকাজ সাময়িক বন্ধ রাখার পক্ষে রয়েছে। ফলে মামলার মূল বিষয়গুলো আদালতে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   মামলাটি করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি, ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে কাজ করা ফ্রেন্ডস অব দ্য রুইডোসা চার্চ এবং বিগ বেন্ড এলাকার এক নদীভ্রমণ গাইড ও জমির মালিক। মামলাকারীদের অভিযোগ, সীমান্ত অবকাঠামো দ্রুত নির্মাণের জন্য প্রশাসন পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ফেডারেল আইনের বিধান থেকে ব্যাপক ছাড় নিয়েছে। তাদের দাবি, এভাবে নিয়ম শিথিল করে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।   বিগ বেন্ড অঞ্চলের সবচেয়ে আলোচিত অংশ বিগ বেন্ড ন্যাশনাল পার্ক। এর বিস্তৃত মরুভূমি, চুনাপাথরের পাহাড়, গভীর গিরিখাত এবং দূষণমুক্ত রাতের আকাশের জন্য এলাকাটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ও পর্যটন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। পার্কের ভেতরে সীমান্ত নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবাদী সংগঠন, ব্যবসায়ী ও জমির মালিকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়।   আগস্টে পার্কের ভেতরে নির্মাণযন্ত্র দিয়ে জমি পরিষ্কার করার কাজ শুরু হলে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। এরপর ১৭ আগস্ট ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি পার্কের ভেতরের নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। সেই বিরতি ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে আদালতের নতুন নিষেধাজ্ঞায় বিগ বেন্ড অঞ্চলে নির্মাণকাজ আবারও আইনি বাধার মুখে পড়ল।   এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বিগ বেন্ড অঞ্চলের পার্কের বাইরে হাডস্পেথ কাউন্টিতে ৪৭ মাইল দীর্ঘ একটি এলাকায় ৩০ ফুট উচ্চতার ইস্পাতের সীমান্ত দেয়ালের প্রথম অংশ বসানোর কাজ শুরু করে প্রশাসন। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর সীমান্ত অবকাঠামো কর্মসূচির অংশ। তবে পার্ক ও আশপাশের এলাকায় পরিকল্পিত সড়ক, যানবাহন ঠেকানোর প্রতিবন্ধক এবং অন্যান্য অবকাঠামো নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধিতা অব্যাহত ছিল।   বিগ বেন্ডের সীমান্ত প্রকল্প নিয়ে বিরোধিতা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। স্থানীয় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট নেতা, জমির মালিক, ব্যবসায়ী এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের একটি অংশ নির্মাণকাজ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের মূল বক্তব্য, এই অঞ্চলের দুর্গম ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি নিজেই সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি করে। একই সঙ্গে দেয়াল ও সড়ক নির্মাণে প্রাকৃতিক পরিবেশ, নদীর প্রবেশাধিকার এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও তারা তুলে ধরেছে।   অন্যদিকে, প্রশাসনের অবস্থান হলো সীমান্তের দুর্গম এলাকাতেও অবকাঠামো প্রয়োজন, যাতে সীমান্তে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যায়। সিবিপি বলেছে, তারা সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিগ বেন্ডের অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় নিচ্ছে। আদালতের আদেশের পর সংস্থাটি জানিয়েছে, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে তারা বিচার বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে।   বিগ বেন্ড অঞ্চলে নির্মাণ পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধ এখনো শেষ হয়নি। শুক্রবারের আদেশটি মামলার চূড়ান্ত রায় নয়, বরং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত অবকাঠামো প্রকল্পের বৈধতা ও পরিবেশগত বিধি থেকে নেওয়া ছাড়ের বিষয়টি এখন আদালতে আরও বিস্তৃতভাবে পর্যালোচনা হবে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ০:৭
শিশু লুনার মৃত্যুর পর তদন্ত শুরু করে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিনে মিলল ৪ মাস বয়সী শিশুর মরদেহ, হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিন থেকে চার মাস বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার ১৯ বছর বয়সী মায়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। তাকিয়াহ রোশেল বাবার্সের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং শিশুর মৃত্যুর কারণ হওয়া নির্যাতনের একটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০ লাখ ডলার জামিনে আটক রয়েছেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের (এলএপিডি) তথ্য অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের আলবা স্ট্রিটের ৫২০০ ব্লকে একটি শিশুকে ডাস্টবিনের ভেতর পাওয়া যাওয়ার খবর পেয়ে নিউটন ডিভিশনের কর্মকর্তারা সেখানে যান। ঘটনাস্থলে তারা শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে লস অ্যাঞ্জেলেসের দমকল বিভাগের কর্মীরা তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।   পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে উদ্ধারের সময় তার মরদেহ একটি আবর্জনার পাত্রের ভেতরে ছিল এবং ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারের আগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে সেখানে রাখা হয়েছিল। ঘটনাটি প্রথমে মৃত্যুর তদন্ত হিসেবে নেওয়া হলেও পরে পুলিশ এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে শিশুটির মা তাকিয়াহ বাবার্সকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয় এবং ২৯ সেপ্টেম্বর তাকে কোনো ধরনের ঘটনার সৃষ্টি ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়।   পরিবারের সদস্যরা শিশুটির নাম লুনা বাবার্স বলে জানিয়েছেন। তার দেখাশোনা করতেন লরা লেসি ও হারম্যান জনসন, যারা বাবার্সের পালক অভিভাবক। ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তারা শিশুটিকে তার মায়ের কাছে রেখে যান। পরে শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে তারা এলাকায় ফিরে আসেন এবং জানতে পারেন, কাছাকাছি একটি ডাস্টবিন থেকে একটি শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটিকে যেখানে পাওয়া যায় সেটি পুয়েব্লো দেল রিও আবাসিক এলাকার কাছাকাছি। স্থানীয় এক বাসিন্দা রাতে ডাস্টবিনে আবর্জনা ফেলতে গিয়ে ভেতরে একটি কালো কাপড়ের ব্যাগ দেখতে পান। প্রথমে তিনি সেটিকে পুতুল মনে করেছিলেন। পরে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে তিনি আরেক প্রতিবেশীর সঙ্গে জরুরি সেবায় ফোন করেন।   শিশুটির পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। লরা লেসি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, লুনা তার কাছে ছিল এবং ঘটনার আগে তিনি শিশুটিকে বাবার্সের কাছে রেখে গিয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বাবার্সের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুটির মৃত্যুর অভিযোগ তোলা হলেও, এসব বক্তব্য এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তকারীরাও শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বা ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য প্রকাশ করেননি।   ঘটনার পর দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের ওই এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটির স্মরণে মোমবাতি, ফুল ও বেলুন দিয়ে একটি অস্থায়ী স্মৃতিচিহ্ন তৈরি করেন। ৩০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনেরা লুনার স্মরণে একটি মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরিবারের সদস্যরা সেখানে শিশুটির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তাদের শিশু নির্যাতন তদন্তকারী ইউনিট ঘটনাটির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। শিশুটির মৃত্যুর কারণ নির্ধারণসহ ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ বলেছে, এ বিষয়ে তথ্য থাকা ব্যক্তিদের তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।   ১ অক্টোবর আদালতে বাবার্সের প্রাথমিক শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং তিনি কোনো আবেদন বা জবানবন্দি দেননি। তার পরবর্তী আদালত-শুনানি ৩০ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। হত্যাসহ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন, তাই আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, এবিসি৭

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ২৩:৫৪
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড ও কুইন্স এলাকায় নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ অভিযান। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে তিন দিনের অভিযানে নিখোঁজ ৩৪ শিশু-কিশোর উদ্ধার

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড ও কুইন্সে তিন দিনের বিশেষ অভিযানে নিখোঁজ ৩৪ শিশু ও কিশোরকে খুঁজে বের করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শিশু সুরক্ষা সংস্থাগুলো। ৭ থেকে ১৮ বছর বয়সী এসব শিশু-কিশোরের নিখোঁজ হওয়ার সময়কাল ছিল কয়েক দিন থেকে শুরু করে প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশিরভাগই বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। তবে কয়েকজন শোষণ ও মানবপাচারের শিকার হয়েছিল।   শুক্রবার নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকলের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলে এই বিশেষ অভিযান। ‘লং আইল্যান্ড মিসিং চাইল্ড রেসকিউ অপারেশন’ নামের এই উদ্যোগের সমন্বয় করা হয় নাসাউ কাউন্টির গার্ডেন সিটিতে স্থাপিত একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার থেকে। সেখানে বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা একসঙ্গে বসে নিখোঁজ শিশুদের অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধারের কাজ পরিচালনা করেন।   উদ্ধার হওয়া ৩৪ জনের মধ্যে ১৮ জন নাসাউ কাউন্টি, ১২ জন সাফোক কাউন্টি এবং চারজন কুইন্সের নিখোঁজ তালিকায় ছিলেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের আওতায় থাকা এসব শিশুকে খুঁজে পাওয়ার পর শুধু পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা, পরামর্শ, নিরাপদ আশ্রয়, পোশাক, খাবার ও অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।   এই অভিযানে প্রায় ৪০টি সংস্থা ও সংগঠনের শতাধিক পেশাজীবী অংশ নেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি শিশু সুরক্ষা ও সমাজসেবা সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্তকরণে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এতে যুক্ত ছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, এক জায়গায় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করার ফলে তথ্য আদান-প্রদান দ্রুত হয়েছে এবং প্রতিটি মামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে।   ন্যাশনাল চাইল্ড প্রোটেকশন টাস্ক ফোর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন ব্রানজেত্তি বলেন, নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের প্রতিটি ঘটনা নাটকীয় অভিযানের মাধ্যমে শেষ হয় না। অনেক সময় দ্রুত শিশুটিকে শনাক্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সে কোনো বিপদের মুখে পড়ার আগেই নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যায়। তিনি বলেন, শিশুকে খুঁজে পাওয়া কেবল প্রথম ধাপ; এরপর কেন সে বাড়ি ছেড়েছিল, নিখোঁজ থাকার সময়ে কী ঘটেছিল এবং তাকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সেদিকেও নজর দিতে হয়।   নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে শিশু নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি যে বড় ধরনের উদ্বেগের, তার একটি চিত্র পাওয়া যায় সরকারি পরিসংখ্যানেও। নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট স্টিভেন জেমসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অঙ্গরাজ্যজুড়ে ১৮ বছরের কম বয়সী ১০ হাজার ৬২৯ শিশুকে নিখোঁজ হিসেবে পুলিশে রিপোর্ট করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৯৪ শতাংশ ঘটনাকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল। একই বছরে ২০২৫ বা তার আগের সময়ে নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট হওয়া শিশুদের ১০ হাজার ৬৭২টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। তবে বছরের শেষে অঙ্গরাজ্যে ১ হাজার ৭৯টি সক্রিয় নিখোঁজ শিশু মামলা ছিল।   লং আইল্যান্ডের এই অভিযান নিউইয়র্কে এ ধরনের চতুর্থ বড় আকারের শিশু উদ্ধারের উদ্যোগ। এর আগে এরি কাউন্টি, ক্যাপিটাল রিজিয়ন এবং ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টিতে একই ধরনের সমন্বিত অভিযান চালানো হয়েছিল। আগের তিনটি অভিযানে মোট ১৬৮ নিখোঁজ শিশু ও কিশোরকে খুঁজে পাওয়া হয়েছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরিচালিত অভিযানে ৪৩ নিখোঁজ ও বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া শিশু-কিশোরকে খুঁজে পাওয়া যায়। ওই অভিযানে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য, ফেডারেল সরকার ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রায় ৭০টি সংস্থা যুক্ত ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তারা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বেশি ছিল এমন কয়েকটি এলাকায় বিশেষভাবে নজর দিয়েছিলেন।   লং আইল্যান্ডের সাম্প্রতিক অভিযানে উদ্ধার হওয়া শিশুদের প্রত্যেকের পরিস্থিতি এক ছিল না। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশই বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। তবে কিছু শিশু শোষণ ও মানবপাচারের মতো গুরুতর পরিস্থিতির মধ্যে ছিল। এসব মামলার পৃথক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই কারণে উদ্ধার হওয়া প্রত্যেক শিশু কোথায় পাওয়া গেছে বা তাদের সবাইকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানো হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩৪ শিশুকে খুঁজে পাওয়ার পরও কাজ শেষ হয়নি। লং আইল্যান্ড ও কুইন্সে আরও নিখোঁজ শিশুর মামলা রয়েছে এবং সেগুলোর তদন্ত অব্যাহত থাকবে। কর্মকর্তাদের মতে, দ্রুত শনাক্তকরণ, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং শিশুকে উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   নিউইয়র্কের এই ধারাবাহিক অভিযানগুলোতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের ক্ষেত্রে শুধু পুলিশি অনুসন্ধান যথেষ্ট নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিশু সুরক্ষা সংস্থা, সমাজসেবা কর্মী এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়। লং আইল্যান্ডের অভিযানে প্রায় ৪০টি সংস্থার শতাধিক মানুষকে একই কমান্ড সেন্টার থেকে সমন্বয় করার মাধ্যমে সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়েছে।   সূত্র: নিউইয়র্ক গভর্নরের কার্যালয়, নিউইয়র্ক স্টেট ডিভিশন অব ক্রিমিনাল জাস্টিস সার্ভিসেস ও সিবিএস নিউজ নিউইয়র্ক

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ২৩:৩৯
ক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বজনদের পুনর্মিলনে দীর্ঘ অপেক্ষার মুখে পড়তে হয় অনেককে। ছবি: সংগৃহীত
ভাই-বোন আমেরিকার নাগরিক, তবু কেন যেতে পারছি না যুক্তরাষ্ট্রে? আসল কারণ জানলে অবাক হবেন

আমেরিকায় থাকা ভাই বা বোন নাগরিক হওয়ার পরও বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, “আমাকে এখনো আমেরিকায় নিয়ে যাচ্ছে না কেন?” বাস্তবে বিষয়টি সব সময় ইচ্ছা বা চেষ্টা না করার কারণে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা নির্দিষ্ট নিয়মে ভাই-বোনের জন্য ইমিগ্রেশন আবেদন করতে পারেন। তবে ভাই-বোনের আবেদন এফ-৪ ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিতে পড়ে এবং এই ক্যাটাগরিতে ভিসার সংখ্যা সীমিত। ফলে আবেদন করার পরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।   অক্টোবর ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের এফ-৪ ক্যাটাগরিতে বর্তমানে ২২ অক্টোবর ২০১১-এর আগের প্রায়োরিটি ডেটের আবেদনগুলো ভিসার জন্য বিবেচিত হচ্ছে। অর্থাৎ এখন নতুন করে ভাই-বোনের জন্য আবেদন করলে অপেক্ষার সময় প্রায় ১৫ বছরের কাছাকাছি হতে পারে। তবে এই সময় নির্দিষ্ট নয়। ভিসা বুলেটিনের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে অপেক্ষার সময় ভবিষ্যতে কমতেও পারে, আবার বাড়তেও পারে।   অনেকেই মনে করেন ভাই-বোনকে আনার আবেদন মানে শুধু একটি ফর্ম পূরণ করা। বাস্তবে প্রক্রিয়াটি এত সহজ নয়। প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে ফর্ম আই-১৩০ জমা দিতে হয় এবং ভাই-বোনের সম্পর্কের প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হয়। বর্তমানে আই-১৩০-এর সরকারি ফাইলিং ফি অনলাইনে ৬২৫ ডলার এবং কাগজে জমা দিলে ৬৭৫ ডলার। এর বাইরে জন্মসনদ, নাগরিকত্বের প্রমাণ, নাম পরিবর্তনের কাগজসহ পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন ডকুমেন্ট লাগতে পারে।   অনেক আবেদনকারী নিজেরা ইমিগ্রেশন ফর্ম পূরণ করতে পারেন না। তখন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি বা অনুমোদিত প্রতিনিধির সহায়তা নিতে হয়, যার জন্য সরকারি ফি’র বাইরে আলাদা পেশাগত খরচ হতে পারে। ডকুমেন্ট সংগ্রহ, অনুবাদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের খরচও থাকতে পারে। ফলে শুরু থেকেই এটি একটি সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়াতে পারে।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী, ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান এবং ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী বাবা-মাকে ইমিডিয়েট রিলেটিভ হিসেবে আনার সুযোগ পান। এসব সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভাই-বোনের মতো বার্ষিক ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ভিসা কোটার দীর্ঘ অপেক্ষা থাকে না। তবে আবেদনকারী ও যার জন্য আবেদন করা হচ্ছে, উভয়ের নির্ধারিত যোগ্যতা ও অন্যান্য ইমিগ্রেশন শর্ত পূরণ করতে হয়।   প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ক্ষেত্রেও নিয়ম আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত সন্তান এফ-১ এবং বিবাহিত সন্তান এফ-৩ ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিতে পড়েন। ফলে তাদের ক্ষেত্রেও ভিসা নম্বর পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কোন ক্যাটাগরিতে কত সময় লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরি, প্রায়োরিটি ডেট এবং ভিসা বুলেটিনের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে।   ভাই-বোনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং আবেদন প্রক্রিয়ার খরচ ও কাগজপত্রের জটিলতার কারণে অনেক বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক আবেদন করার বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। কেউ ভাবেন, এত বছর পর ভাই-বোনের বয়স, পরিবার বা পরিস্থিতি বদলে যাবে। আবার কেউ মনে করেন, এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলে এখন আবেদন করে লাভ কী। ফলে কেউ আবেদন করেন না, আবার অনেকে আবেদন করে বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন।   তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি। ভাই-বোনের জন্য আবেদন করা এবং দ্রুত আমেরিকায় নিয়ে আসা এক বিষয় নয়। একজন যোগ্য মার্কিন নাগরিক আবেদন করে প্রায়োরিটি ডেট তৈরি করতে পারেন, কিন্তু ভিসা নম্বর পাওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। তাই আমেরিকায় থাকা ভাই বা বোন আপনাকে দ্রুত নিয়ে আসতে পারছেন না মানেই তিনি চেষ্টা করছেন না, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে মূল বাধা হলো দীর্ঘ ভিসা ব্যাকলগ ও সীমিত ভিসা সংখ্যা।   পরিবারের কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার পরিকল্পনা থাকলে তাই আগে বুঝতে হবে সম্পর্কটি কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে পড়ছে, সেই ক্যাটাগরিতে ভিসার সংখ্যা কীভাবে নির্ধারিত হয় এবং বর্তমান ভিসা বুলেটিনে তার অবস্থান কোথায়। কারণ স্বামী বা স্ত্রী, বাবা-মা, নাবালক অবিবাহিত সন্তান, ভাই-বোন এবং প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান সবার জন্য একই নিয়ম বা একই অপেক্ষার সময় প্রযোজ্য নয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ২৩:৩৭
যুক্তরাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক চাকরিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বেতন ও অবসর সুবিধা। ছবি: সংগৃহীত
পুলিশ, শেরিফ নাকি সেনাবাহিনী, যুক্তরাষ্ট্রে কোন চাকরিতে বেতন ও সুবিধা বেশি?

যুক্তরাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে চাকরির সুযোগ অনেক। সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, শেরিফের অফিস, স্টেট ট্রুপার, ইউনিভার্সিটি পুলিশ, কারেকশন অফিসার থেকে শুরু করে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা সংস্থা এবং আর্মি, নেভি, এয়ার ফোর্স, মেরিন কর্পস ও কোস্ট গার্ড, প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে আলাদা বেতন কাঠামো, অবসর সুবিধা ও অন্যান্য বেনিফিট। কোন চাকরিতে বেতন বেশি, আর কোনটিতে দীর্ঘমেয়াদে সুবিধা বেশি, সেটি নির্ভর করে সংস্থা, অঙ্গরাজ্য, পদ ও অভিজ্ঞতার ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ ও ডিটেকটিভ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৭৭ হাজার ৩১০ ডলার। পুলিশ ও শেরিফের পেট্রোল অফিসারদের মধ্যম বেতন ছিল ৭৬ হাজার ২১০ ডলার। ডিটেকটিভ ও ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটরদের ক্ষেত্রে তা ছিল ৯৩ হাজার ৭৯০ ডলার। এই পেশায় পেইড ওভারটাইমও বেশ সাধারণ।   সিটি পুলিশ অফিসারদের বেতন সংশ্লিষ্ট শহর ও পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ওপর নির্ভর করে। বড় শহরে বেস বেতনের সঙ্গে ওভারটাইম, নাইট শিফট, হলিডে পে ও বিশেষ দায়িত্বের অর্থ যোগ হয়ে মোট আয় বাড়তে পারে। শেরিফের অফিসও পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে আলাদা। শেরিফ সাধারণত কাউন্টি পর্যায়ে কাজ করেন এবং তাঁর অধীনে ডেপুটি শেরিফরা পেট্রোলিং, তদন্ত, কোর্ট সিকিউরিটি ও জেল পরিচালনার মতো দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এসব চাকরির পেনশন ও হেলথ ইন্স্যুরেন্সও কাউন্টি বা শহরভেদে আলাদা।   স্টেট ট্রুপার বা স্টেট পুলিশ অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে আইন প্রয়োগ করেন। হাইওয়ে প্যাট্রোল, ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট, দুর্ঘটনা তদন্তসহ বিভিন্ন দায়িত্ব তাদের রয়েছে। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি পুলিশ মূলত ক্যাম্পাস ও বিশ্ববিদ্যালয়-সম্পত্তির নিরাপত্তায় কাজ করে। কারেকশন অফিসারদের ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৫৮ হাজার ৯৪০ ডলার। ফেডারেল সরকারের অধীনে এই পেশায় মধ্যম বেতন ছিল ৭৪ হাজার ৬৩০ ডলার।   ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা চাকরিতে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ অবসর সুবিধা রয়েছে। প্রথম ২০ বছরের কভার্ড সার্ভিসে হাই-৩ গড় বেতনের প্রতি বছরের জন্য ১ দশমিক ৭ শতাংশ হারে অবসর সুবিধা হিসাব করা হয়। কিছু ফেডারেল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটর আবার যোগ্যতা পূরণ করলে বেসিক পের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অ্যাভেইলেবিলিটি পে পেতে পারেন। তবে এসব সুবিধা সব ফেডারেল কর্মীর জন্য প্রযোজ্য নয়।   সামরিক বাহিনীর ক্ষেত্রে শুধু বেসিক পে দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। আর্মি, নেভি, এয়ার ফোর্স, মেরিন কর্পস ও কোস্ট গার্ডের সদস্যদের বেসিক পের পাশাপাশি বিএএইচ বা হাউজিং অ্যালাউন্স এবং বিএএস বা খাবার ভাতা রয়েছে। এর সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, অবসর সুবিধা এবং যোগ্য সদস্যদের জন্য পোস্ট-৯/১১ জিআই বিলের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুবিধাও রয়েছে। সামরিক বাহিনীর ব্লেন্ডেড রিটায়ারমেন্ট সিস্টেমে পেনশনের পাশাপাশি থ্রিফট সেভিংস প্ল্যানে সরকারি অবদান ও ম্যাচিং কনট্রিবিউশনের সুযোগ রয়েছে। যোগ্য ভেটেরান ও সার্ভিস মেম্বারদের জন্য জিআই বিলের মাধ্যমে কলেজের টিউশন, হাউজিং অ্যালাউন্স এবং বই-সরঞ্জামের সহায়তাও পাওয়া যেতে পারে।   তাই যুক্তরাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা বা সামরিক চাকরি বেছে নেওয়ার সময় শুধু বেতন নয়, ওভারটাইম, অ্যালাউন্স, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, পেনশন, রিটায়ারমেন্ট সেভিংস, ছুটি এবং পরিবারের জন্য সুবিধাগুলোও হিসাব করতে হয়। পুলিশ ও শেরিফের চাকরিতে স্থানীয় পেনশন ও ওভারটাইম গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, ফেডারেল চাকরিতে বিশেষ অবসর ও অতিরিক্ত পে গুরুত্বপূর্ণ, আর সামরিক বাহিনীতে বেতন, হাউজিং ও খাবার ভাতা, স্বাস্থ্যসেবা, অবসর ও শিক্ষাসুবিধা মিলিয়ে পুরো প্যাকেজটি বিবেচনা করতে হয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ২৩:১২
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে হামলার নতুন কারণ জানালেন ট্রাম্প, পাঠানো হচ্ছে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

ইরানে চলমান সংঘাতের পেছনে এতদিন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ঠেকানোকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার সেই বক্তব্যের পাশাপাশি নতুন একটি কারণ সামনে এনেছেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের যেসব স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি মাদক তৈরিরও সম্পর্ক ছিল।   শুক্রবার টেক্সাসে এক সমাবেশে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গে বলেন, সেখানে পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদক নিয়েও কাজ চলছিল। তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ব্যাখ্যায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই মাদক-সংক্রান্ত দাবির পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ বা নির্দিষ্ট স্থাপনের তথ্য প্রকাশ্যে দেওয়া হয়নি। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টও জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যাখ্যায় ট্রাম্প এর আগে মূলত দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়টিই সামনে এনেছিলেন।   ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে প্রায় ৯ হাজার অতিরিক্ত নাবিক ও মেরিন পাঠাচ্ছে। এই বহরে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বাধীন স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ রয়েছে। এই মোতায়েনের ফলে অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরী থাকতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।   এর মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে আবার বড় ধরনের হামলা চালানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো নির্ধারিত নয়। এর আগে ইরানের একটি সাম্প্রতিক শান্তি প্রস্তাবকে যথেষ্ট নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেন তিনি এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনার কথা জানান। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও অব্যাহত রয়েছে।   ইরানও সম্ভাব্য নতুন হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের হামলা পুনরায় শুরু করলে তেহরান আরও কঠোর সামরিক জবাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সময়ে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান সংঘাত বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো শর্ত নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।   উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে একটি সাম্প্রতিক বিমানঘটনা। বুধবার একটি ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজে সহকারী পাইলট তার ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের সহায়তায় তাকে নিয়ন্ত্রণে আনার পর উড়োজাহাজটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে। ট্রাম্প বলেছেন, ওই ঘটনার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। তবে এখন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে ওই ঘটনার যোগসূত্র নিশ্চিত হয়নি এবং তদন্ত চলছে।   এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সেনা ও নৌবাহিনী মোতায়েন এবং ইরানকে ঘিরে নতুন করে হামলার আশঙ্কায় তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে, কারণ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল।   ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অবশ্য জানিয়েছেন, তার দেশ নিজেদের রক্ষা করতে থাকবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ফলে একদিকে সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টাপাল্টি হুমকি বাড়ছে, অন্যদিকে সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক যোগাযোগও চালু রয়েছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কারণ হিসেবে পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি মাদক তৈরির অভিযোগও যুক্ত হলো। তবে নতুন এই দাবির বিস্তারিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। একই সময়ে প্রায় ৯ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা ও তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানোর ঘটনা সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ২৩:২
রোমানিয়ার ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা দিতে ঢাকায় আসছে দেশটির কনস্যুলার প্রতিনিধিদল। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদনে সহায়তা দিতে ঢাকায় আসছে রোমানিয়ার প্রতিনিধিদল

রোমানিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা দিতে ঢাকায় আসছে দেশটির দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল। আগামী ৮ থেকে ১১ অক্টোবর ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে।   শুক্রবার, ২ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে অবস্থিত রোমানিয়ার দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে। দূতাবাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের আওতায় প্রাথমিকভাবে উচ্চশিক্ষার জন্য রোমানিয়ায় যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের অন্যান্য জরুরি কনস্যুলার অনুরোধও বিবেচনা করা হবে।   তবে এই বিশেষ সেবা নিতে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। রোমানিয়ার দূতাবাস জানিয়েছে, শুধু দেশটির সরকারি ই-ভিসা পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিশ্চিতকরণ পাওয়া ব্যক্তিদের আবেদন গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ অনলাইন ব্যবস্থায় নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত না হলে ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশনে গিয়ে নতুন করে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।   রোমানিয়ার সরকারি ই-ভিসা ব্যবস্থায় প্রথমে অনলাইনে আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হয়। আবেদনটি যাচাই ও অনুমোদিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার মিশনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়ে মূল কাগজপত্রের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অনুলিপিও সঙ্গে রাখতে হয়।   বাংলাদেশি নাগরিকদের রোমানিয়ায় প্রবেশের জন্য ভিসা প্রয়োজন। দেশটির সরকারি ই-ভিসা পোর্টালের তালিকায় বাংলাদেশকে ভিসা-প্রয়োজনীয় দেশগুলোর মধ্যে রাখা হয়েছে। তাই উচ্চশিক্ষা, কাজ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে রোমানিয়ায় যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের নির্ধারিত ভিসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।   ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশন নিয়ে দূতাবাস আবেদনকারীদের বিশেষভাবে সতর্ক করেছে। অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিশ্চিতকরণে দেওয়া তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হওয়ার পাশাপাশি ভিসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অসম্পূর্ণ নথি বা অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্যের সঙ্গে অসঙ্গতি থাকলে আবেদন গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।   রোমানিয়ার সরকারি ভিসা ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত উপস্থিতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ই-ভিসা পোর্টালে আবেদন সম্পন্ন করলেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয় না। আবেদনকারীর নির্ধারিত কনস্যুলার মিশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে রোমানিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজছেন এমন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকায় এই অস্থায়ী কনস্যুলার সেবা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ সাধারণ নিয়মে কনস্যুলার মিশনে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়। ঢাকায় প্রতিনিধিদলের উপস্থিতির ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগ্য আবেদনকারীরা সরাসরি প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।   তবে এই উদ্যোগকে ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ভিসা আবেদন গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর নথি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে। রোমানিয়ার সরকারি ই-ভিসা পোর্টালেও উল্লেখ রয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়ার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। ৮ থেকে ১১ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠেয় এই ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশনে যেতে আগ্রহীদের তাই প্রথমে রোমানিয়ার সরকারি ই-ভিসা পোর্টালে নিজেদের আবেদন ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য যাচাই করা এবং দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: রোমানিয়ার দূতাবাস

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ২২:৩৮
দুটি বৈদ্যুতিক স্কুটারের ওপর সোফা বসিয়ে সড়কে চলছিলেন দুই ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত
রাস্তায় গাড়ির বদলে সোফা চালাচ্ছিলেন দুই ব্যক্তি, থামাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে সড়কে টহল দেওয়ার সময় অস্বাভাবিক এক দৃশ্যের মুখোমুখি হয়েছে শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ। দুই ব্যক্তি একটি দুই আসনের সোফা দুটি বৈদ্যুতিক স্কুটারের ওপর বসিয়ে সেটিকে চলাচলের বাহন হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। শহরের একটি সড়কে এমন অবস্থায় চলার সময় তাদের থামিয়ে দেয় পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবি প্রকাশ করে বিভাগটি।   লিভনাও ফক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি গত সপ্তাহান্তে ঘটে। পরে শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগ তাদের ফেসবুক পাতায় ওই অস্বাভাবিক বাহনের ছবি প্রকাশ করে। ছবিতে দেখা যায়, একটি দুই আসনের সোফা দুটি বৈদ্যুতিক স্কুটারের ওপর স্থাপন করা হয়েছে এবং দুই ব্যক্তি সেটিতে করে সড়কে চলাচল করছেন। স্থানীয় আরেক প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল হিসেবে শার্লটের সাউথ ট্রায়ন স্ট্রিটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   পুলিশ বিষয়টিকে শুধু ব্যতিক্রমী একটি যান দেখার ঘটনা হিসেবে নেয়নি, বরং সড়ক নিরাপত্তার দিকটিও সামনে এনেছে। তাদের বক্তব্যের সারাংশ হলো, প্রচলিত যানবাহনের বাইরে কোনো অস্বাভাবিক বাহন রাস্তায় চলাচল করলে তা অন্য চালকদের হঠাৎ বিস্মিত বা বিভ্রান্ত করতে পারে। এতে চালকের মনোযোগ সড়ক থেকে সরে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় পুলিশ মানুষকে রাস্তায় কোনো বাহন ব্যবহারের আগে সেটি অন্যদের জন্য কতটা নিরাপদ, তা বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে এমন কিছু রাস্তায় নেওয়া উচিত কি না, যা অন্য গাড়ির চালকদের অপ্রত্যাশিতভাবে চমকে দিতে পারে, সে বিষয়টি ভেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের বক্তব্যে মূল গুরুত্ব ছিল বাহনটি কতটা নিরাপদ এবং সড়কের অন্যান্য ব্যবহারকারীদের ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে, সেই প্রশ্নে।   পুলিশের প্রকাশিত ছবিটি দ্রুত অনলাইনে মানুষের আগ্রহ তৈরি করে। অস্বাভাবিক কাঠামোর এই বাহন দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মজা ও কৌতুকপূর্ণ মন্তব্যও করেন। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ বিভাগের পোস্টটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে বিপুলসংখ্যক প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য জমা পড়ে।   তবে এই ঘটনার পর দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্য সীমিত। লিভনাও ফক্স জানিয়েছে, তারা বৈধ লাইসেন্স নিয়ে ওই বাহন চালাচ্ছিলেন কি না এবং তাদের কোনো টিকিট দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি। ফলে ঘটনাটির পর সম্ভাব্য জরিমানা বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।   শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগের একটি বিশেষ ইউনিটও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাউথ ট্রায়ন স্ট্রিটসহ শার্লটের বিনোদনকেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে রাতের সময়ে সড়ক ও জননিরাপত্তা নজরদারিতে পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো কাজ করে। সেই নিয়মিত টহলের মধ্যেই এই অস্বাভাবিক বাহনটি কর্মকর্তাদের নজরে আসে।   সড়কে বৈদ্যুতিক স্কুটার ও অন্যান্য ব্যক্তিগত চলাচলের বাহনের ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব বাহন কীভাবে এবং কোথায় ব্যবহার করা যাবে, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিধিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শার্লটের ঘটনাটি সেই বৃহত্তর সড়ক নিরাপত্তা আলোচনার একটি বিচিত্র উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।   সূত্র: লিভনাও ফক্স, শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগ

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ২২:১৮
রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়ামবাহী কার্গো বিমান ঢাকায় পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের আকাশসীমা পেরিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রূপপুরের ইউরেনিয়ামবাহী বিমান

রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়ামবাহী প্রথম কার্গো বিমান ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে জটিলতার কারণে সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত চালান পিছিয়ে যাওয়ার পর শুক্রবার, ২ অক্টোবর রাতে বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাত প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে বিমানটি ঢাকায় পৌঁছায় এবং এরপর জ্বালানি নামানোর কাজ শুরু হয়।   এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রথম ব্যাচের পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আসার কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের ছাড়পত্র না পাওয়ায় ওই চালান স্থগিত হয়। পরে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে কারিগরি ও পদ্ধতিগত বিষয় হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য ছিল, কূটনৈতিক ফ্লাইট ও ওভারফ্লাইট অনুমোদনের আবেদন নির্ধারিত নিয়ম এবং বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক প্রটোকল অনুযায়ী প্রক্রিয়া করা হয়।   পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ফ্লাইটের রুট ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমোদনের সঙ্গে বিভিন্ন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে কখনো কখনো নির্ধারিত সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। দেশটি বিষয়টিকে কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছিল।   এদিকে জটিলতা কাটার পর নতুন সূচিতে রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটম জানিয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। চুক্তি ও প্রকল্পের সময়সূচি অনুযায়ী কয়েকটি কার্গো ফ্লাইটে এসব জ্বালানি বাংলাদেশে পাঠানো হবে।   ঢাকায় পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী ইউরেনিয়ামবাহী চালান গ্রহণ ও নামানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় চালানটি পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হবে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ পরিবহনের নিরাপত্তায় নেতৃত্ব দেবে। মহাসড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।   রূপপুর প্রকল্পের প্রশাসন বিভাগের প্রধান গোলাম মাহবুব জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে মোট নয়টি ফ্লাইটে ২০০টির বেশি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আসবে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি অ্যাসেম্বলি রয়েছে। একই সঙ্গে প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত প্রয়োজন মেটাতেও জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক পারমাণবিক জ্বালানি ২০২৩ সালেই বাংলাদেশে পৌঁছেছিল। চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোড করার মাধ্যমে কমিশনিং প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং মে মাসের মধ্যে রিঅ্যাক্টরে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হয়।   প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। সম্প্রতি ইউনিটটির চাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চচাপ পরীক্ষা সফল হয়েছে। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাকি পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করা গেলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন চালানটি তাই রূপপুর প্রকল্পের পরবর্তী ধাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার কারণে সরবরাহ সূচিতে যে বিলম্ব হয়েছিল, নতুন চালান আসার মধ্য দিয়ে সেই বাধা কাটিয়ে জ্বালানি সরবরাহ আবার শুরু হলো। ডিসেম্বরের মধ্যে ধারাবাহিক ফ্লাইটে বাকি জ্বালানি দেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।   সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, রসাটম

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ২১:৫৫
নতুন অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য নতুন সুযোগ ও কাট-অফ ডেট ঘোষণা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য নতুন সুযোগ, অক্টোবরেই কার্যকর হচ্ছে যেসব নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ অর্থবছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। নতুন অর্থবছরে অভিবাসী ভিসার সংখ্যা পুনর্বণ্টন হওয়ায় পারিবারিক ও কর্মভিত্তিক বিভিন্ন শ্রেণিতে আবেদন করার সুযোগ এবং কাট-অফ তারিখে পরিবর্তন দেখা গেছে। একই সময়ে গ্রিন কার্ড আবেদনের ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা গ্রহণের প্রভাব এবং বিনিয়োগভিত্তিক ইবি-৫ কর্মসূচির ফি নিয়েও পরিবর্তন সামনে এসেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে নতুন অর্থবছর ২০২৭ শুরু হয়েছে। প্রতি অর্থবছরের শুরুতে নির্দিষ্ট অভিবাসী ভিসা শ্রেণির জন্য নতুন ভিসা সংখ্যা পাওয়া যায়। এর ফলে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে কাট-অফ তারিখ এগিয়েছে, আবার কিছু কর্মভিত্তিক শ্রেণিতে চাহিদা ও বার্ষিক সীমার কারণে তারিখ পিছিয়েও দেওয়া হয়েছে।   সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর একটি দেখা গেছে ভারতীয় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে। সেপ্টেম্বরে বার্ষিক সীমা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ভারতের ইবি-২ শ্রেণি সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ ছিল। অক্টোবরের নতুন বুলেটিনে এই শ্রেণি আবার চালু হয়েছে এবং এর চূড়ান্ত অনুমোদনের কাট-অফ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ নভেম্বর ২০১৩। ভারতের অনির্ধারিত ইবি-৫ শ্রেণিও আবার চালু হয়েছে, যার চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৩। ভারতের ইবি-১ শ্রেণির তারিখও ১৫ অক্টোবর ২০২২ থেকে এগিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ হয়েছে।   তবে সব শ্রেণিতে অগ্রগতি হয়নি। বেশিরভাগ দেশ, মেক্সিকো ও ফিলিপাইনের জন্য ইবি-২ শ্রেণির চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ‘কারেন্ট’ অবস্থা থেকে ১ জানুয়ারি ২০২৫ করা হয়েছে। একইভাবে বেশিরভাগ দেশ ও মেক্সিকোর ইবি-৩ শ্রেণির তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে পিছিয়ে ১৫ মে ২০২৪ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অর্থবছরের ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক ভিসা সীমার মধ্যে সংখ্যা রাখতে কিছু শ্রেণিতে এই ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়েছে।   চীনা আবেদনকারীদের জন্যও কর্মভিত্তিক কিছু শ্রেণিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ইবি-৩-এর আবেদন করার তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২২ থেকে এগিয়ে ১ এপ্রিল ২০২৪ হয়েছে। অনির্ধারিত ইবি-৫ শ্রেণির তারিখও ১ মার্চ ২০১৭ থেকে এগিয়ে ১ মার্চ ২০২১ হয়েছে। পারিবারিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য এফ-২এ শ্রেণির চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ বেশিরভাগ দেশের ক্ষেত্রে ২২ আগস্ট ২০২৬ থেকে এগিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ হয়েছে।   গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘ডেটস ফর ফাইলিং’ এবং ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’-এর পার্থক্য। ডেটস ফর ফাইলিং নির্ধারণ করে কখন যোগ্য আবেদনকারী প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন। অন্যদিকে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট নির্ধারণ করে কখন অভিবাসী ভিসা নম্বর পাওয়া গেলে গ্রিন কার্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া সম্ভব। তাই আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড অনুমোদিত হওয়া নয়।   অক্টোবর ২০২৬-এর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস কোন চার্ট ব্যবহার করে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ করবে, সেটি আবেদনকারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা বুলেটিনের চার্ট এবং ইউএসসিআইএসের সংশ্লিষ্ট মাসের নির্দেশনা মিলিয়ে দেখে আবেদন করার যোগ্যতা নির্ধারণ করতে হয়।   এদিকে গ্রিন কার্ড আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে তারা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা মূল্যায়নের সময় বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক অবস্থা, সম্পদ ও দায়, শিক্ষা এবং দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যক্তি গ্রিন কার্ডের জন্য অযোগ্য হয়ে যান না। কোন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা তার অভিবাসন শ্রেণি ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।   অন্যদিকে ইবি-৫ বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচিতে আবেদন ফিও বাড়ানোর কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ নভেম্বর থেকে মূল বিনিয়োগকারীর আবেদনের ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার হবে। আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদনকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য ফি বেড়ে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার হবে। ইউএসসিআইএসের ভাষ্য অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়াকরণ, পটভূমি যাচাই এবং কর্মসূচির তদারকির ব্যয় মেটাতেই এই ফি পরিবর্তন করা হচ্ছে।   ইবি-৫ কর্মসূচির কিছু পুরোনো বিনিয়োগকারীর জন্য নতুন ধরনের আবেদনে ১০ হাজার ৩৩০ ডলারের ফি নির্ধারণের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের হিসাব অনুযায়ী, ফি পরিবর্তনের প্রভাব বছরে প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ আবেদনকারীর ওপর পড়তে পারে। অভিবাসন আইনজীবী জ্ঞানামুকান সেন্টুরজোথি নিউজউইককে বলেন, অক্টোবরের ভিসা বুলেটিন বিশেষ করে ভারতীয় গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য কিছু নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে তার মতে, নতুন অর্থবছরে ভিসা সংখ্যা আবার পাওয়া এবং দীর্ঘদিনের গ্রিন কার্ড জট কমে যাওয়া এক বিষয় নয়। অন্যদিকে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা রিকি মারে অক্টোবরের পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন বুলেটিন প্রকাশের সময় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   ফলে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য অক্টোবর মাসটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদা। পারিবারিক বা কর্মভিত্তিক কোন শ্রেণিতে আবেদন করা হয়েছে, অগ্রাধিকারের তারিখ কী এবং কোন দেশের জন্য চার্জযোগ্য হিসেবে আবেদনটি বিবেচিত হচ্ছে, এসব তথ্যের ওপর আবেদন করার সময় নির্ভর করে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট মাসের ভিসা বুলেটিন ও ইউএসসিআইএসের ফাইলিং নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।   সূত্র: নিউজউইক

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ২১:৪৩
দীর্ঘ ২১৭ বছর পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পাঠোদ্ধার হওয়া নেপোলিয়ন বোনাপার্টের লেখা সেই সাংকেতিক চিঠি। ছবি: সংগৃহীত
২১৭ বছর পর নেপোলিয়নের রহস্যময় চিঠির গোপন সংকেত উন্মোচন করল এআই

দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রহস্য হয়ে থাকা ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের একটি সাংকেতিক চিঠির পাঠোদ্ধার করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায়। ১৮০৯ সালে লেখা চিঠিটির মূল বার্তা ২১৭ বছর পর উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সেন্টিনেলওয়ানের প্রকৌশলী কার্টার চার্চ।   চিঠিটি লেখা হয়েছিল ইউরোপে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার যুদ্ধের সময়। ১৮০৯ সালের মার্চে নেপোলিয়নের সৎপুত্র ও তৎকালীন ইতালির ভাইসরয় ইউজিন দ্য বোহারনে ফরাসি জেনারেল অগুস্ত দ্য মারমোঁকে চিঠিটি পাঠান। সে সময় মারমোঁর সেনারা অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের অপর পারে ডালমাটিয়া অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন এবং অন্যান্য ফরাসি ও মিত্রবাহিনী থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিলেন।   চিঠিটির প্রথম লাইন ছিল স্বাভাবিক ফরাসি ভাষায়। এরপরের ২৪টি লাইনে দেখা যায় অক্ষর, সংখ্যা ও হাতে আঁকা বিভিন্ন প্রতীকের জটিল সমন্বয়। ধারণা করা হয়, তৎকালীন সময়ে এই সংকেত পড়ার জন্য একটি আলাদা চাবি বা নিয়মাবলি ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই পদ্ধতি হারিয়ে যায়। ফলে চিঠির বাকি অংশ দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অপাঠ্য থেকে যায়।   কার্টার চার্চ সম্প্রতি চিঠিটির একটি ছবি নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পুরো সংকেত বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেন। তার দাবি, এআইয়ের সহায়তায় পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লেগেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, কাজটির সবচেয়ে কঠিন অংশ শুধু সংকেত ভাঙা ছিল না। বরং ছবির প্রতীকগুলো শনাক্ত করা, একই প্রতীকের ভিন্ন হাতের লেখার ধরন মিলিয়ে দেখা, সেগুলো তালিকাভুক্ত করা এবং পরে অনুবাদ করে অর্থ বের করাও ছিল বড় কাজ।   চার্চের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহৃত ছবিটির আকার ছিল ১ হাজার ২০২ বাই ১ হাজার ৮৩৬ পিক্সেল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রথমে ছবিটিকে সারিতে ভাগ করে প্রতীকগুলো শনাক্ত করে। এরপর হাতে আঁকা প্রায় ১৭৫টি আলাদা চিহ্নের মধ্যে কোনগুলো একই প্রতীকের ভিন্ন রূপ, তা নির্ধারণ করা হয়। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শুরু হয় মূল সংকেত পাঠোদ্ধারের কাজ। পাঠোদ্ধারের পর জানা যায়, চিঠিতে মূলত যুদ্ধের সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছিল। নেপোলিয়ন ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে থাকা ফরাসি ও মিত্রবাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে মারমোঁকে জানাচ্ছিলেন। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন অবস্থানে থাকা মারমোঁকে মনোবল না হারানোর এবং সীমিতসংখ্যক শত্রুসেনা দেখে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।   চিঠিতে নেপোলিয়ন লিখেছিলেন, রুশ বাহিনী অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে অগ্রসর হচ্ছে এবং ফ্রিউলি অঞ্চলে ফরাসি বাহিনীর সংখ্যা তখন প্রায় ৮০ হাজার। ডালমাটিয়ায় থাকা সেনাদের সঙ্গে পেছনের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিত রিজার্ভ বাহিনী যোগ করলে অস্ট্রিয়া একসঙ্গে বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণের মুখে পড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রিয়া পরাজয়ের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। মারমোঁকে নেপোলিয়ন আরও নির্দেশ দেন, অগ্রসর হওয়ার আদেশ পাওয়ার পর যেন তিনি কয়েকটি বিচ্ছিন্ন সেনাদল বা অনিয়মিতভাবে জড়ো হওয়া লোকজনের কারণে ভীত না হন। চিঠির শেষদিকে তিনি মারমোঁর কাছ থেকে খবর পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বলেও জানান।   চিঠিটির সামরিক প্রেক্ষাপটও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ১৮০৯ সালের মে মাসে ভিয়েনার কাছে অ্যাসপার্ন-এসলিংয়ের যুদ্ধে নেপোলিয়ন অস্ট্রিয়ার আর্চডিউক চার্লসের বাহিনীর কাছে পরাজিত হন। যুদ্ধটিতে উভয় পক্ষের ব্যাপক প্রাণহানি হয় এবং প্রায় ২৩ হাজার ফরাসি সেনা নিহত বা আহত হওয়ার তথ্য ঐতিহাসিক নথিতে পাওয়া যায়। তবে পরাজয়ের পর নেপোলিয়ন দ্রুত সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করেন। একই বছরের জুলাইয়ে ওয়াগ্রামের যুদ্ধে তিনি আর্চডিউক চার্লসের বাহিনীকে পরাজিত করেন। ওই বিজয়ের পর অস্ট্রিয়া ফ্রান্সের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে যেতে বাধ্য হয় এবং ফ্রান্সবিরোধী পঞ্চম জোট কার্যত ভেঙে পড়ে।   চিঠির সংকেত পাঠোদ্ধারকারী কার্টার চার্চ অবশ্য মনে করেন, সংকেতটি নিজে খুব জটিল ছিল না। তার মতে, পর্যাপ্ত সময় ও শ্রম পেলে পেশাদার সংকেত বিশ্লেষকেরাও এটি সমাধান করতে পারতেন। তবে পুরো কাজটির জন্য ইতিহাস, পুরোনো হাতের লেখা শনাক্তকরণ, প্রতীক বিশ্লেষণ, ভাষা ও সংকেতবিদ্যার মতো একাধিক ক্ষেত্রের সমন্বয় প্রয়োজন ছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই বহুমাত্রিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পেরেছে বলেই তার দাবি।   এই ঘটনা ইতিহাসের পুরোনো নথি পাঠোদ্ধারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাও নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে এমন নথি, যেখানে পুরোনো হাতের লেখা, অস্পষ্ট প্রতীক ও হারিয়ে যাওয়া সংকেত পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণে এ ধরনের প্রযুক্তি গবেষকদের সময় কমিয়ে দিতে পারে। তবে ঐতিহাসিক নথির ক্ষেত্রে এআইয়ের পাঠোদ্ধারকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞদের যাচাই প্রয়োজন বলেও মনে করেন গবেষকেরা।   কার্টার চার্চের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের কাজের বড় সম্ভাবনা রয়েছে এমন অনেক ঐতিহাসিক সমস্যার ক্ষেত্রে, যেগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও জনবল সাধারণত গবেষকদের হাতে থাকে না। নেপোলিয়নের এই চিঠির পাঠোদ্ধার সেই সম্ভাবনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।   সূত্র: কার্টার চার্চের গবেষণা প্রতিবেদন, নিউইয়র্ক পোস্ট।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ২১:২৪
সান ফ্রান্সিসকোতে বাসা ভাড়া মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে বেশি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের চেয়েও ব্যয়বহুল সান ফ্রান্সিসকোর দুই বেডরুমের বাসা, ভাড়া ৬,৩৪০ ডলার

সান ফ্রান্সিসকোতে বাড়িভাড়ার চাপ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাড়া বাজার নিয়ে জাম্পারের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শহরটিতে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া মাসে ৪ হাজার ৪০০ ডলারে উঠেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৪০ ডলারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।   জাম্পারের তথ্য অনুযায়ী, দুই বেডরুমের ভাড়ার ক্ষেত্রে সান ফ্রান্সিসকো নিউইয়র্ক সিটিকেও ছাড়িয়ে গেছে। নিউইয়র্কে একই ধরনের বাসার মধ্যম ভাড়া ৫ হাজার ৪৫০ ডলার। অর্থাৎ দুই বেডরুমের বাসার ক্ষেত্রে সান ফ্রান্সিসকোতে মধ্যম ভাড়া নিউইয়র্কের তুলনায় মাসে ৮৯০ ডলার বেশি। এক বেডরুমের ক্ষেত্রে অবশ্য নিউইয়র্ক এখনো এগিয়ে। নিউইয়র্কে এর মধ্যম ভাড়া ৪ হাজার ৫৮০ ডলার, সান ফ্রান্সিসকোতে ৪ হাজার ৪০০ ডলার।   সান ফ্রান্সিসকোর এক বেডরুমের ভাড়া শুধু নিউইয়র্কের কাছাকাছি পৌঁছেছে তা নয়, গত এক বছরে এর বৃদ্ধির হারও উল্লেখযোগ্য। জাম্পারের হিসাব বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে এক বেডরুমের ভাড়া মাসিক হিসাবে ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং বার্ষিক হিসাবে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। দুই বেডরুমের ক্ষেত্রে মাসিক বৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধি ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ। জুলাই মাসেই দুই বেডরুমের মধ্যম ভাড়া প্রথমবারের মতো ৬ হাজার ডলার ছাড়িয়েছিল।   ভাড়ার এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে জাম্পার জানিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে কর্মসংস্থানের দ্রুত বৃদ্ধি। সান ফ্রান্সিসকো ও আশপাশের এলাকায় এ খাতের নতুন কর্মসংস্থান বাড়ায় আবাসনের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় নতুন আবাসন সরবরাহ সীমিত থাকায় ভাড়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। জাম্পারের প্রধান নির্বাহী শন মুলাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এখন একক কোনো ভাড়া বাজার নেই, বিভিন্ন শহরে আবাসন সরবরাহ ও চাহিদার পার্থক্যের কারণে পরিস্থিতি আলাদা হয়ে উঠেছে।   সান ফ্রান্সিসকোর এই পরিস্থিতি পুরো বে এরিয়া অঞ্চলের সঙ্গে তুলনা করলেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জাম্পারের সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, পাশের সান হোসেতে এক বেডরুমের মধ্যম ভাড়া ২ হাজার ৮৯০ ডলার। অন্যদিকে ওকল্যান্ডে একই ধরনের বাসার মধ্যম ভাড়া ২ হাজার ১০০ ডলার। অর্থাৎ সান ফ্রান্সিসকোর ৪ হাজার ৪০০ ডলারের তুলনায় এই দুই শহরে ভাড়া অনেক কম।   জাতীয় চিত্র আরও বড় পার্থক্য দেখাচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া ছিল ১ হাজার ৫১৮ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেশি। দুই বেডরুমের মধ্যম ভাড়া ছিল ১ হাজার ৯০৩ ডলার, যা বার্ষিক হিসাবে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ জাতীয় বাজারে ভাড়ার পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকলেও সান ফ্রান্সিসকোতে বৃদ্ধি অনেক বেশি।   জাম্পারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে সান ফ্রান্সিসকো যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর মধ্যে এক বেডরুমের ভাড়া বৃদ্ধির দিক থেকেও শীর্ষে ছিল। এক বছরে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধির পর শহরটির পরেই ছিল ভার্জিনিয়া বিচ, যেখানে এক বেডরুমের ভাড়া বেড়েছে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে অতিরিক্ত আবাসন সরবরাহের কারণে টেক্সাসের কয়েকটি শহরে ভাড়া কমেছে।   ভাড়ার চাপ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোর মেয়র ড্যানিয়েল লুরি চলতি মাসে শহরের আবাসন পরিস্থিতিকে ‘ভাড়া জরুরি অবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ভাড়ার দ্রুত বৃদ্ধি এবং উচ্ছেদের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় ভাড়া বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ নির্ধারণ এবং ভাড়াটিয়াদের আইনি সহায়তার জন্য প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তহবিলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।   জাম্পারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ সান ফ্রান্সিসকোতে তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৬৫০টি ভাড়ার বাসা তালিকাভুক্ত ছিল। শহরটির সামগ্রিক মধ্যম ভাড়া ছিল প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ডলার, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় ১৩৭ শতাংশ বেশি। তবে জাম্পারের হিসাব মূলত অনলাইনে প্রকাশিত ভাড়ার তালিকার মধ্যম মূল্যভিত্তিক। অর্থাৎ এটি শহরের প্রতিটি বাসার প্রকৃত চুক্তিভিত্তিক ভাড়া বা সব ভাড়াটিয়ার পরিশোধ করা অর্থের সরাসরি পরিমাপ নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের জাতীয় ভাড়া সূচক যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার দিক থেকে ১০০টি বড় শহরের এক ও দুই বেডরুমের সক্রিয় ভাড়ার তালিকা বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়।   সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ২১:৭
ম্যানচেস্টারের ইহুদি সম্প্রদায়কে ঘিরে কথিত হামলার পরিকল্পনার তদন্ত করছে ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ, গ্রেপ্তার দুই ইরানি নাগরিক

উত্তর ইংল্যান্ডের ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে দুই ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, ইয়ম কিপুরের আগে ম্যানচেস্টারে হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ইয়ম কিপুর ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র দিন।   অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন ৩৫ বছর বয়সী রহমান সালেহি ও ৩৬ বছর বয়সী সালাম আহমাদিয়ান। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটনের প্রস্তুতি নেওয়া বা অন্য কাউকে এমন কর্মকাণ্ডে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি সন্ত্রাসবাদ আইন ২০০৬-এর ৫ ধারার অধীনে করা হয়েছে।   যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে যে দুই ব্যক্তি একটি ঘরে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সরঞ্জাম সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যস্থলও তারা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন বলে পুলিশের দাবি। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত পরিকল্পনার বিষয়ে তারা বিদেশে থাকা এক তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন, যিনি সম্ভবত ইরানে অবস্থান করছিলেন।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি ম্যানচেস্টার ও বৃহত্তর ম্যানচেস্টার এলাকায় ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে কথিত পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসও জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান এবং উভয়ের ন্যায্য বিচারের অধিকার রয়েছে।   যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, দেশটি ইরানি সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরনের গুরুতর নিরাপত্তা হুমকির মুখোমুখি। তার দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা এবং বিদেশে সমালোচকদের চুপ করানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকে। এসব কর্মকাণ্ডে প্রক্সি ও অপরাধী নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি। তবে ইরান বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।   সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের জাতীয় সমন্বয়কারী ভিকি ইভান্স বলেন, পবিত্র দিনগুলোর সময় কথিত হামলার পরিকল্পনার খবর ইহুদি সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক সিনাগগে গত বছরের প্রাণঘাতী হামলার বর্ষপূর্তিও ঘনিয়ে এসেছে।   ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক হিব্রু কংগ্রেগেশন সিনাগগে হামলার ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হন। যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলাকারী গাড়ি নিয়ে উপাসনালয়ের বাইরে থাকা মানুষের ওপর আঘাত করার পর ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক মিনিটের মধ্যেই হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করে।   এদিকে নতুন মামলার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের আরেকটি সাম্প্রতিক নিরাপত্তা তদন্তের কোনো সম্পর্ক নেই বলে পুলিশ জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিকে ঘিরে কথিত হামলার পরিকল্পনার তদন্তে গত বৃহস্পতিবার এক দ্বৈত ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে শুক্রবারের মামলায় অভিযুক্ত সালেহি ও আহমাদিয়ানের সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।   যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই অভিযুক্ত কয়েক বছর আগে ছোট নৌকায় করে ইউরোপ থেকে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাদের একজনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল এবং অন্যজনের আশ্রয়ের আবেদন তখনও চলমান ছিল।   দুই অভিযুক্তকে শুক্রবার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের ৩ অক্টোবর লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করার কথা ছিল। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, দ্রুত পরিচালিত সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তের পর আদালতে অভিযোগ উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে বলে প্রসিকিউটররা মনে করেছেন। তবে সেটি কোনোভাবেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়।   সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ২০:৪৮
জীবন বাঁচানো পুলিশ সদস্যদের জড়িয়ে ধরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন শিশু ঝাইলারের মা জেনিবেল। ছবি: সংগৃহীত
দমবন্ধ হয়ে আসা ১১ মাসের শিশুকে বাঁচালেন নিউইয়র্কের দুই পুলিশ কর্মকর্তা, মায়ের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

দুই এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ১১ মাসের এক শিশুকে শ্বাসরোধের পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করার পর তাদের ধন্যবাদ জানাতে মায়ের সঙ্গে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের ৪৪তম প্রিসিন্কটের স্টেশনে হাজির হয় শিশুটি। শুক্রবারের ওই সাক্ষাতে পরিবার ও দুই কর্মকর্তার মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ ও নিউজ ১২ ব্রঙ্কসের প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে ২৬ সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১৬৮তম স্ট্রিট ও গ্র্যান্ড কনকোর্স এলাকার কাছে দায়িত্ব পালন করছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা জুলিও আরিয়াস ও ক্যারোলিন আব্রেউ-গার্সিয়া। তারা একটি চিহ্নিত পুলিশ গাড়িতে করে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় এক পথচারী তাদের থামিয়ে দেন। তিনি আতঙ্কিত অবস্থায় থাকা ২১ বছর বয়সী জ্যানিবেল মন্টানোর দিকে ইঙ্গিত করেন। তার কোলে তখন অচেতন অবস্থায় ছিল ১১ মাসের ছেলে জাইহলার মন্টানো।   পুলিশ কর্মকর্তাদের শরীরে থাকা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত শিশুটিকে কোলে তুলে নেন আরিয়াস। শিশুটিকে উপুড় করে ধরে তার পিঠে একের পর এক চাপড় দিতে থাকেন তিনি। ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি তখন ডাইনোসরের পোশাক পরা ছিল এবং তার এক পায়ে ডোরাকাটা মোজা ছিল। কয়েকবার পিঠে চাপড় দেওয়ার পর হঠাৎ শিশুটি কেঁদে ওঠে।   শিশুটির কান্নার শব্দ শুনেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পান আরিয়াস। ভিডিওতে তাকে শিশুটিকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, সে ঠিক আছে কি না। পরে সাংবাদিকদের কাছে আরিয়াস বলেন, শিশুটির কান্না শোনার পরই তিনি বুঝতে পারেন যে সে ঠিক আছে। তার সঙ্গী আব্রেউ-গার্সিয়া এ সময় অ্যাম্বুলেন্সের জন্য রেডিওতে যোগাযোগ করছিলেন।   আব্রেউ-গার্সিয়া বলেন, শিশুটিকে কাঁদতে দেখে তার মনে হয় যেন তিনি আবার স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন। পুরো ঘটনাটিতে দ্রুত সমন্বয় করে একজন কর্মকর্তা শিশুটিকে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার দিকে মন দেন, আর অন্যজন জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করেন।   শুক্রবার ৪৪তম প্রিসিন্কটে গিয়ে জ্যানিবেল মন্টানো দুই কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর করেন কর্মকর্তারা এবং পরিবারের সঙ্গে ছবি তোলেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জ্যানিবেল বলেন, তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং একই সঙ্গে তাদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এমন পরিস্থিতিতে দুই কর্মকর্তাকে কীভাবে যথেষ্ট ধন্যবাদ জানাবেন, তা তিনি জানেন না বলেও জানান।   আরিয়াস বলেন, শিশুটিকে বাঁচানোর সময় তার পিঠে চাপড় দেওয়ার পর শিশুটি কিছু বের করে দেয়, যার সামান্য অংশ তার জুতায়ও লাগে। তবে তখন এসবের দিকে তার কোনো মনোযোগ ছিল না। শিশুটি ঠিক আছে কি না, সেটিই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরে তিনি শিশুটিকে এত জোরে পিঠে চাপড় দিতে হয়েছে বলে দুঃখও প্রকাশ করেন।   দুই সন্তানের বাবা আরিয়াস জানান, পুলিশি প্রশিক্ষণ তাকে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করেছে। নিজের দুই মাস বয়সী সন্তান থাকার বিষয়টিও ওই মুহূর্তে তাকে পরিস্থিতিটি আরও দ্রুত বুঝতে সহায়তা করেছে বলে তিনি মনে করেন।   জুলিও আরিয়াস ২০২২ সালে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন এবং ব্রঙ্কসের ৪৪তম প্রিসিন্কটে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রিসিন্কটের আওতায় ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম, গ্র্যান্ড কনকোর্স ও হাইব্রিজ এলাকার বড় একটি অংশ রয়েছে। ক্যারোলিন আব্রেউ-গার্সিয়া ২০২১ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন এবং তিনিও একই প্রিসিন্কটে দায়িত্ব পালন করছেন।   শিশুটিকে উদ্ধারের ঘটনার পর ধারণ করা শরীরে পরা ক্যামেরার ভিডিও এবং পরিবারের সঙ্গে কর্মকর্তাদের পরবর্তী সাক্ষাতের ছবি ঘটনাটিকে জনসমক্ষে নিয়ে আসে। শুক্রবারের সাক্ষাতে ছোট্ট জাইহলারকে কোলে নিয়ে দুই কর্মকর্তার সঙ্গে পরিবারের পুনর্মিলন সেই উদ্ধার অভিযানের একটি মানবিক পরিণতি হয়ে ওঠে।   সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ২০:৩৩
চীন-পাকিস্তানের সেনা অংশ নেওয়া রুশ মহড়া ৫৫টি দেশের প্রতিনিধিদল
চীন-পাকিস্তানের সেনা অংশ নেওয়া রুশ মহড়া ৫৫টি দেশের প্রতিনিধিদলসহ পর্যবেক্ষণ করলেন পুতিন

রাশিয়ার উরাল পর্বতমালা অঞ্চলে চীন, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের সেনাদের অংশগ্রহণে চলা সামরিক মহড়া পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার, ২ অক্টোবর চেলিয়াবিনস্ক অঞ্চলের চেবারকুলস্কি প্রশিক্ষণ মাঠে ‘সেন্টার-২০২৬’ মহড়ার শেষ পর্যায় দেখেন তিনি।   পুতিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরো মহড়ায় প্রায় ৪৭ হাজার সেনাসদস্য অংশ নিয়েছেন। রাশিয়ার ১১টি প্রশিক্ষণ মাঠ ও কাস্পিয়ান সাগরে আক্রমণ প্রতিহত করার অনুশীলন চলছে। তবে ৪৭ হাজার সেনা চেবারকুলস্কির মাঠে ছিলেন না; সেখানে শুক্রবারের শেষ পর্যায়ে অংশ নেন রাশিয়া ও অন্য দেশগুলোর প্রায় ৬ হাজার সেনাসদস্য।    রুশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মহড়ায় চীন, পাকিস্তান ও মঙ্গোলিয়ার পাশাপাশি বেলারুশ, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানের সেনারাও অংশ নিয়েছেন। পুতিন জানিয়েছেন, ৫৫টি দেশের প্রতিনিধিদল পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিল। পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিতি আর মহড়ায় সেনা পাঠানো পৃথক বিষয়।    ‘সেন্টার-২০২৬’-এর সঙ্গে সাবেক সোভিয়েত কয়েকটি দেশকে নিয়ে গঠিত নিরাপত্তা জোটের ‘ইন্টারঅ্যাকশন-২০২৬’ মহড়াও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মহড়া শুরু হয়েছে সোমবার; শনিবার পর্যন্ত চলার কথা।    প্রশিক্ষণ মাঠ পরিদর্শনের সময় পুতিন বিভিন্ন অস্ত্রও দেখেন। এর মধ্যে ছিল ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর ব্যবহৃত নতুন জেটচালিত ‘গেরান’ ড্রোন।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৯:৪২
দন্ত চিকিৎসক ও ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা ডা. ওরাকাতুল জান্নাত
শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রীভোগান্তি লাইভে তুলে ধরে ভাইরাল ডা. ওরাকাতুল জান্নাত

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীভোগান্তির প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ফেসবুক লাইভে তুলে ধরে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন দন্ত চিকিৎসক ও ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা ডা. ওরাকাতুল জান্নাত। ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে ট্রলি ও লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, যাত্রীদের দীর্ঘ সারি এবং পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভিডিওটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং শুক্রবার পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।    বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ওমরাহ শেষে দেশে ফেরার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ডা. ওরাকাতুল জান্নাত। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁদের বহনকারী বিমানটি সকাল ৯টা বাজার প্রায় পাঁচ মিনিট আগে ঢাকায় অবতরণ করে। এরপর ট্রলি সংগ্রহের জন্য তাঁকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। ট্রলি পাওয়ার পরও লাগেজের জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লাগেজ হাতে পান তাঁরা।    লাইভে ডা. ওরাকাতুল জান্নাত বিমানবন্দরের ব্যাগেজ ক্লেইম এলাকায় দীর্ঘ সারির চিত্রও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, কোথাও কোথাও সারি ৫০০ মিটার থেকে এক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ ছিল। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার মধ্যে বয়স্ক মানুষ, শিশু ও অন্যান্য যাত্রীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।    ওমরাহ শেষে ফেরার কারণে জমজমের পানি নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এই চিকিৎসক। তাঁর অভিযোগ, যাত্রীরা জমজমের পানি না পাওয়ার পর সেটি কখন আসবে বা কেন আসেনি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাননি। একই সময়ের বিমানবন্দর পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত অন্যান্য প্রতিবেদনেও জমজমের পানি ও লাগেজ সরবরাহ নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে।    বিমানবন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডা. ওরাকাতুল জান্নাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তাঁর বক্তব্যে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে তাঁর বক্তব্যগুলো তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করাই সাংবাদিকতার দিক থেকে যথাযথ।    তাঁর ভিডিওটি আলোচনায় আসার সময়ই শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা নিয়ে আরও নানা ঘটনা সংবাদে আসে। লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার একটি পৃথক ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর অবসরপ্রাপ্ত আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। ফলে একই সময়ে বিমানবন্দরের সেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।    ডা. ওরাকাতুল জান্নাতের ঘটনাটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে এ কারণে যে, তিনি কোনো দূরবর্তী ঘটনা নিয়ে মন্তব্য না করে নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ক্যামেরায় ধারণ করে তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। একজন যাত্রী হিসেবে তিনি যে সমস্যাগুলো দেখেছেন, সেগুলো অন্য যাত্রীদের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও কতটা মিলে যায়, তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে আলোচনা হয়েছে।    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সময়ে নাগরিকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা দ্রুত বৃহত্তর আলোচনায় পরিণত হতে পারে। ডা. ওরাকাতুল জান্নাতের লাইভও তার একটি উদাহরণ। তবে কোনো অভিযোগ বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও যাচাই করা তথ্য সামনে আনা জরুরি। তাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাটি শুধু ক্ষোভ প্রকাশে সীমাবদ্ধ না থেকে যাত্রীসেবার বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।   শাহজালাল বিমানবন্দরের ওই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ডা. ওরাকাতুল জান্নাত যে ব্যাপক মানুষের নজরে এসেছেন, তা এখন স্পষ্ট। তাঁর ভিডিও নতুন করে সামনে এনেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক প্রশ্ন—দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একজন যাত্রী যেন নিরাপদ, স্বচ্ছন্দ ও সম্মানজনক সেবা পান, সেটি নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৯:৭