- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন হাইস্কুলে চারতলা ভবন থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাইল্যান্ড পার্ক এলাকায় অবস্থিত স্কুলটিতে এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই পুরো স্কুল ক্যাম্পাস অবরুদ্ধ (লকডাউন) করে দেওয়া হয় এবং পুলিশ এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে ওপর থেকে এক ছাত্রের পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কিশোরকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এলএপিডি) সংবাদমাধ্যম ‘পিপল’-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এবিসি৭-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীটি যেখানে পড়েছিল সেখানে একটি শামিয়ানা টাঙিয়ে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সবুজ সংকেত পাওয়ার আগে প্রায় তিন ঘণ্টা ক্যাম্পাস পুরোপুরি লকডাউন ছিল। নিহত শিক্ষার্থীর নাম, বয়স বা ঠিক কীভাবে সে নিচে পড়ে গেল—এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। এলএপিডি জানিয়েছে, ঘটনাটিকে আপাতত ‘মৃত্যুর ঘটনা’ হিসেবে রেকর্ড করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে ফক্স ১১ লস অ্যাঞ্জেলেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, অন্য এক ছাত্রের সঙ্গে হাতাহাতির পরই ওই কিশোর ওপর থেকে পড়ে যায়। ফক্স ১১-এর হাতে আসা একটি ভিডিওতেও দেখা গেছে, দুই ছাত্রের মধ্যে মারামারি হচ্ছে এবং এক পর্যায়ে একজনকে করিডর দিয়ে তাড়া করা হলে সে রেলিং টপকে নিচে পড়ে যায়। যদিও এনবিসি৪-এর খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো অপরাধের প্রমাণ পায়নি। নিহত ওই কিশোর ক্লাসের সবচেয়ে শান্ত স্বভাবের ছিল এবং খুব একটা কথা বলত না বলে জানিয়েছে তার এক সহপাঠী। চোখের সামনে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু দেখে স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বুধবার বিকেলে স্কুলগেটের বাইরে নিহত শিক্ষার্থীর স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর একটি জায়গা তৈরি করা হয়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে স্কুলটিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য সেখানে শোক কাউন্সেলরদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও স্কুল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট যৌথভাবে এই ঘটনার নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলায় আদিবাসী অধ্যুষিত প্রত্যন্ত এলাকায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, মে মাস থেকে রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয় এক বিধায়ক গত কয়েক মাসে ৪৩ শিশুর মৃত্যুর দাবি করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ওই ৪৩টির মধ্যে রোগজনিত মৃত্যুর পাশাপাশি অন্য কারণের মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ঘটনাটি মূলত বালাঘাটের বাইহার ও বিরসা এলাকার কয়েকটি দুর্গম বাইগা আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামে বেশি দেখা গেছে। আক্রান্ত শিশুদের অনেকেরই জ্বর, শরীরে র্যাশ, শ্বাসকষ্ট, বমি, পানিশূন্যতা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ ছিল। পরীক্ষায় হাম বা মিজলস, ম্যালেরিয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে দুই রোগের একসঙ্গে সংক্রমণ পাওয়া গেছে। তবে সব মৃত্যুর জন্য একটি মাত্র রোগকে দায়ী করা যায়নি বলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সংকট আরও জটিল হয়েছে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছাতে দেরি এবং কিছু পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাসভিত্তিক চিকিৎসা বা স্থানীয় বিশ্বাস নির্ভর চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরতার কারণে। আগস্টে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে চিকিৎসক ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, কিছু পরিবার অসুস্থ শিশুদের হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় ধর্মীয় চিকিৎসক বা ‘ফেইথ হিলার’-এর কাছে নিয়ে যাচ্ছিল। কোথাও কোথাও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানও করা হয়েছে। এর ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়েছে বলে চিকিৎসকদের অভিযোগ। বিবিসির সাম্প্রতিক মাঠ-রিপোর্টেও এমন কয়েকটি পরিবারের কথা উঠে এসেছে। একটি ঘটনায় তিন বছরের এক শিশু জ্বর ও শরীরে ক্ষত নিয়ে অসুস্থ হওয়ার পর স্থানীয় বিশ্বাসভিত্তিক চিকিৎসার আশ্রয় নেয় পরিবারটি। পরে শিশুটির মৃত্যু হয়। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাস থেকে বালাঘাটের প্রত্যন্ত কয়েকটি গ্রামে অন্তত ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে শিশুদের মৃত্যু সরাসরি ধর্মীয় চিকিৎসার কারণে হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো প্রমাণ নেই। চিকিৎসা দেরি, দুর্গম এলাকা, অপুষ্টি, ম্যালেরিয়া, হাম, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য সংক্রমণ মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে সরকারি তদন্তে উঠে এসেছে। সরকারি স্বাস্থ্য অভিযানে বিপুলসংখ্যক শিশুর অপুষ্টির চিত্রও পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭,৭১১ শিশুর গুরুতর অপুষ্টি শনাক্ত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৫১৮ জনকে পুষ্টি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করতে হয়েছে। একই সময়ে ১৩ হাজারের বেশি শিশুর ডায়রিয়া এবং ২৭৪ শিশুর গুরুতর নিউমোনিয়ার চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুর শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা হারায়। এর সঙ্গে রক্তস্বল্পতা, পানিশূন্যতা এবং চিকিৎসা পেতে দেরি যুক্ত হলে সাধারণ সংক্রমণও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতীয় কেন্দ্র ও মধ্যপ্রদেশ সরকার মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা বাড়িয়েছে। ১২ আগস্ট জাতীয় পর্যায়ের একটি যৌথ আউটব্রেক রেসপন্স টিম বালাঘাটে পাঠানো হয়। আইসিএমআরসহ বিভিন্ন সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানও তদন্তে যুক্ত হয়েছে। প্রায় ৫০টি গ্রামে নজরদারি, বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, ৩২ হাজারের বেশি মানুষকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ৪৩১ শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৭৯ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে এবং ৫২ জন চিকিৎসাধীন বা পর্যবেক্ষণে ছিল। এছাড়া ১ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের অতিরিক্ত মিজলস-রুবেলা টিকা দেওয়ার কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। শিশু মৃত্যুর ঘটনায় মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টও হস্তক্ষেপ করেছে। বালাঘাটে ৩০-এর বেশি শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় আদালত রাজ্য সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ, নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের কাছে জবাব চেয়েছে। মামলায় প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসা সুবিধার ঘাটতি ও পর্যাপ্ত হাসপাতাল শয্যার অভাবের বিষয়ও উত্থাপিত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৩২ শিশুর মৃত্যুর সরকারি সংখ্যা থাকলেও প্রতিটি মৃত্যুর কারণ এখনো একইভাবে নির্ধারিত নয়। সরকারি পর্যালোচনায় হাম, ম্যালেরিয়া, দুই রোগের যৌথ সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট, পানিশূন্যতা, অপুষ্টি, রক্তস্বল্পতা ও শকের মতো একাধিক কারণ পাওয়া গেছে। ফলে ঘটনাটিকে শুধু ‘ধর্মীয় চিকিৎসার কারণে মৃত্যু’ হিসেবে দেখার পরিবর্তে রোগ, অপুষ্টি, চিকিৎসা পেতে বিলম্ব এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা সংকট—সবগুলো কারণ একসঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনী পরিবারগুলোর নিট সম্পদের পরিমাণ শত শত বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেলেও অনেকের কাছেই তাদের নামগুলো বেশ অজানা। দশকের পর দশক ধরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ব্যবসার প্রসারের মাধ্যমে তারা এই বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। বছরে শত বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব আয় করা এই পরিবারগুলো কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতেই গভীর প্রভাব রাখছে। ওয়ালমার্টের মতো রিটেইল জায়ান্ট থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় সব ক্যান্ডি উৎপাদনকারী মার্স পরিবারের মতো রাজবংশগুলো তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিপুল ধনসম্পদ রেখে যাচ্ছে। নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায় সক্রিয় থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক কাঠামোকেই বদলে দিয়েছে। ৫২০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনী পরিবারের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ওয়ালটন পরিবার। তারা বিশ্বের বৃহত্তম রিটেইল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৬২ সালে স্যাম ওয়ালটনের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা ওয়ালমার্টের বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৪ হাজার ৬০০টির বেশি শাখা রয়েছে। একইসঙ্গে তারা স্যামস ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছে, যার শাখা রয়েছে বিশ্বজুড়ে। পরিবারের সদস্যরা এখনও ওয়ালমার্টের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত আছেন এবং ২০২২ সালে তারা ৪.৬৫ বিলিয়ন ডলারে এনএফএলের ডেনভার ব্রঙ্কস নামে একটি স্পোর্টস টিম কিনেছেন। ১৫৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কোচ পরিবার। ১৯৪০ সালে রাসায়নিক প্রকৌশলী ফ্রেড সি কোচ একটি তেল শোধনাগার কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই সাম্রাজ্যের ভিত্তি গড়েন, যা পরবর্তীতে কোচ ইন্ডাস্ট্রিজ (বর্তমানে শুধু কোচ) নামে পরিচিতি পায়। তাঁর ছেলে চার্লস কোচ বর্তমানে এর কো-সিইও এবং চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠানটি তেল, গ্যাস, রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারিত করেছে এবং বর্তমানে ৫০টিরও বেশি দেশে এর কার্যক্রম চলমান। ১২৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের অধিকারী মার্স পরিবার মূলত ক্যান্ডি ও পোষা প্রাণীর খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মার্স ইনকর্পোরেটেডের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯১১ সালে ফ্র্যাঙ্কলিন ক্ল্যারেন্স মার্সের হাত ধরে ওয়াশিংটনে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে থ্রি মাস্কেটিয়ার্স, স্নিকার্স, এমঅ্যান্ডএমস ও স্কিটলস-এর মতো বিশ্বখ্যাত সব ক্যান্ডি ব্র্যান্ড তৈরি করেছে। সম্প্রতি তারা পোষা প্রাণীর যত্নের ক্ষেত্রেও বড়সড় বিনিয়োগ করেছে। ৬৯.৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে জনসন পরিবার। ১৯৪৬ সালে এডওয়ার্ড সি জনসন দ্বিতীয়-এর প্রতিষ্ঠিত ফিডেলিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ কোম্পানিটি আর্থিক পরিষেবা, মিউচুয়াল ফান্ড এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি বিশাল শক্তিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মিউচুয়াল ফান্ড প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত, যারা ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ পরিচালনা করছে এবং ৪ কোটিরও বেশি মানুষকে আর্থিক সেবা দিচ্ছে। ৬৭.৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক কারগিল-ম্যাকমিলান পরিবারের ব্যবসার শুরুটা হয়েছিল ১৮৬৫ সালে ছোট একটি শস্য মজুদের কোম্পানি হিসেবে। পরবর্তীতে উইলিয়াম ওয়ালেস কারগিল এবং তাঁর জামাতা জন এইচ ম্যাকমিলান সিনিয়রের হাত ধরে এটি বিশ্বজুড়ে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বিতরণের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান কারগিল ইনকর্পোরেটেডে পরিণত হয়। ম্যাকডোনাল্ডসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে তারা কাজ করছে। বর্তমানে ৭০টি দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ছুটিতে এসে ফ্লোরিডাকে ভালো লেগেছিল। তাই ফ্রান্সের প্যারিস ছেড়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন এক নারী। কিন্তু ১০ বছর পর তাঁর উপলব্ধি, কোনো জায়গায় বেড়াতে যাওয়া আর সেখানে প্রতিদিনের জীবন কাটানো এক অভিজ্ঞতা নয়। প্রচণ্ড গরম, জীবনযাত্রার ভিন্ন ছন্দ ও স্বদেশের প্রতি টান তাঁকে এখনো ভাবায়। ৩০ সেপ্টেম্বর বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত নিজের অভিজ্ঞতাভিত্তিক লেখায় এসব কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্যারিসের চার ঋতু ছেড়ে ফ্লোরিডার সারা বছরের রোদ প্রথমে আকর্ষণীয় মনে হয়েছিল। পরে বুঝেছেন, এপ্রিল থেকে নভেম্বরের গরমে দিনের বেলা বাইরে কাজ করা বা ঘুরে বেড়ানো তাঁর জন্য কঠিন। রাতের আর্দ্রতা ও মশাও অস্বস্তি বাড়ায়। শীতের আবহাওয়া তাঁর ভালো লাগে, তবে সে সময় পর্যটকদের ভিড়ে পছন্দের সৈকতে যাওয়া এবং রাস্তায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে বলে তিনি লিখেছেন। আবহাওয়ার পাশাপাশি বদলাতে হয়েছে দৈনন্দিন অভ্যাস। প্যারিসে কাজ শেষে রাতে ধীরেসুস্থে খাবার খেতে অভ্যস্ত ছিলেন তিনি। ফ্লোরিডায় এসে দেখেন, তাঁর পরিচিত অনেকেই দিন শুরু করেন আগে, রাতের খাবারও খান তুলনামূলক তাড়াতাড়ি। পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সঙ্গে টেবিলে বসে দীর্ঘ সময় ধরে খাওয়ার অভ্যাসটি তাঁর বিশেষভাবে মনে পড়ে। সামাজিক আচরণেও পার্থক্য অনুভব করেন তিনি। ফ্লোরিডার অনানুষ্ঠানিক পোশাক ও কথাবার্তা শুরুতে ভালো লাগলেও এখন প্যারিসের পরিচিত রীতিনীতির অভাব বোধ করেন। তবে ফ্লোরিডার প্রাণচাঞ্চল্য ও নানা দেশের মানুষের উপস্থিতি তাঁর ভালো লাগে। তাই অভিজ্ঞতাকে পুরোপুরি নেতিবাচক বলছেন না। ভবিষ্যতে ফ্রান্সের জীবনযাত্রার সঙ্গে বেশি মিল আছে, এমন কোথাও যাওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।
দীর্ঘ ১৪ বছর কোমায় থেকে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের বাসিন্দা হিদার ব্রাউন। ২০১২ সালে কোমায় আচ্ছন্ন থাকা অবস্থাতেই তিনি তাঁর প্রথম সন্তানের জন্ম দিয়ে বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) হিদারের স্বামী শন ব্রাউন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন হিদার। ২০১২ সালের দিকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মস্তিষ্কের অ্যানিউরিজমের কারণে হিদারের তীব্র খিঁচুনি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে একপর্যায়ে তিনি কোমায় চলে যান। সে সময় তাঁর স্বামী শন ব্রাউন সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে আফগানিস্তানে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত দেশে ফিরে আসেন। ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর কোমায় থাকা অবস্থাতেই ৩৪ সপ্তাহের মাথায় জরুরি সি-সেকশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় তাঁদের পুত্রসন্তান জন। জন্মের সময় জনের ওজন ছিল মাত্র ৪ পাউন্ড ৬ আউন্স। বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হিদারের চিকিৎসার খবর ও তাঁর জীবনের গল্প মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ‘ব্রিংগিং হোম দ্য ব্রাউনস’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছিল। সেখান থেকেই শন নিয়মিত স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার আপডেট জানাতেন। ২০১৩ সালে হিদারকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সন্তান জন্মের দুই বছর পর তিনি একবার অস্পষ্ট স্বরে ছেলের নাম উচ্চারণ করেছিলেন, যা চিকিৎসায় বড় উন্নতির লক্ষণ বলে মনে করা হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি আর কখনোই পুরোপুরি চেতনা ফিরে পাননি। গত বছরও ফেসবুকের একটি আপডেটে ছেলে জনকে মায়ের পাশে বসে বই পড়ে শোনাতে দেখা গিয়েছিল। হিদারের মৃত্যুর খবর জানিয়ে শনের দেওয়া ফেসবুক পোস্টটিতে ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষ মন্তব্য করে শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ২টায় টেক্সাসের লংভিউ এলাকার গ্রেগটন মিশনারি ব্যাপটিস্ট চার্চে এই লড়াকু মায়ের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভারতের বেঙ্গালুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরার ভুল শনাক্তকরণ নিয়ে তৈরি হয়েছে বেশ আলোচিত এক ঘটনা। এবার কোনো মানুষ নয়, মোটরসাইকেলে বহন করা গিটারকেই হেলমেটবিহীন যাত্রী ভেবে ট্রাফিক মামলা করেছে ক্যামেরা। ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬। বেঙ্গালুরুর হেব্বাল এলাকার বাসিন্দা সৌভিক দত্ত তাঁর স্ত্রীর বৈদ্যুতিক স্কুটার নিয়ে টিন ফ্যাক্টরির দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁর মাথায় হেলমেট ছিল এবং তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন। তবে পিঠে বাঁধা ছিল একটি গিটার। পরে স্কুটারের নিবন্ধিত মালিক তাঁর স্ত্রী একটি ৫০০ রুপির ট্রাফিক চালান পান। অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, স্কুটারে থাকা পিলিয়ন যাত্রী হেলমেট পরেননি। কিন্তু চালানের সঙ্গে থাকা ছবিতে দেখা যায়, স্কুটারে দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। পিঠে বাঁধা গিটারকেই ক্যামেরা সম্ভবত দ্বিতীয় আরোহী হিসেবে শনাক্ত করেছিল। সৌভিক দত্ত বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করেন। তিনি বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশকে ট্যাগ করে চালানটি বাতিল করার অনুরোধ জানান। তাঁর পোস্টে চালানের নোটিশ নম্বর 86202541 উল্লেখ ছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশ তাঁকে ভুল শনাক্তকরণ সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট ই-মেইলে যোগাযোগ করতে বলে। পরবর্তী এক আপডেটে দত্ত জানান, চালানটি বাতিল করা হয়েছে। বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশের Intelligent Traffic Enforcement Management System (ITEMS)-এ স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ এবং ট্রাফিক-ভায়োলেশন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যবস্থাটিতে ২৫০টি ANPR ক্যামেরা এবং ৮০টি ভায়োলেশন-এভিডেন্স ক্যামেরা রয়েছে, যা শহরের ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক জংশনে স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি হেলমেট না পরা, অতিরিক্ত আরোহী, লাল বাতি অমান্য, স্টপলাইন অতিক্রম, অতিরিক্ত গতি, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক লঙ্ঘন শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। তবে গিটারকে যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করার ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম সব পরিস্থিতি শতভাগ নির্ভুলভাবে বুঝতে পারে না। একটি প্রতিবেদনে বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এ ধরনের ভুল শনাক্তকরণ মাঝে মাঝে হতে পারে এবং অভিযোগ করা হলে তা যাচাই করে সংশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে এআইনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থায় মানবিক যাচাই ও ভুল শনাক্তকরণ সংশোধনের ব্যবস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
বাংলাদেশ থেকে সুইডেনের শেনজেন ভিসার জন্য আবেদনকারীদের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ঢাকায় অবস্থিত সুইডেন দূতাবাস ভিসা আবেদনের বিষয়ে যাচাই-বাছাই বা চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না। এর পরিবর্তে বাংলাদেশ থেকে জমা পড়া সব শেনজেন ভিসা আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরাসরি সুইডেনে অবস্থিত সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির মাধ্যমে নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ঢাকায় অবস্থিত সুইডেন দূতাবাস। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিসা আবেদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্থান পরিবর্তন হলেও আবেদনকারীদের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার মূল প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রদবদল হচ্ছে না। অর্থাৎ, আগের নিয়ম অনুযায়ীই আবেদনকারীদের ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতেই শেনজেন ভিসার জন্য আবেদন জমা দিতে হবে। নতুন এই পরিবর্তনের ফলে আবেদনকারীদের শুধু আবেদনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেন্দ্রটি পরিবর্তিত হচ্ছে, যা ঢাকার দূতাবাসের হাত থেকে সরাসরি সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির কাছে স্থানান্তরিত হচ্ছে। শেনজেন ভিসা আবেদনের এই নতুন ব্যবস্থাসহ যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয়ে জানতে আবেদনকারীদের সুইডেন দূতাবাসের প্রকাশিত হালনাগাদ নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, আগামী ১৫ অক্টোবরের পর থেকে যাঁরা সুইডেনের শেনজেন ভিসার জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক, তাঁদের ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে আগের প্রক্রিয়ায় আবেদন জমা দিয়ে সুইডেনের মাইগ্রেশন এজেন্সির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর হিসেবে পরিচিত সান ফ্রান্সিসকো। যেখানে সাধারণ একটি রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খেতেই মোটা অঙ্কের অর্থ গুনতে হয়, সেখানে ১০ ডলারের নিচে সুস্বাদু ও ভরপেট খাবার পাওয়া এক প্রকার অবিশ্বাস্য ব্যাপার। তবে সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে শহরটির চায়নাটাউনে অবস্থিত ‘রাইস রোল এক্সপ্রেস’ নামের একটি সাধারণ খাবারের দোকান। মাত্র ৯ দশমিক ২১ ডলারে তাদের তৈরি বিশেষ ভাপা চালের নুডল রোল—যা ‘চেউং ফান’ নামে পরিচিত—খেতে শহরবাসীর আগ্রহের শেষ নেই। উদ্বোধনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিদিন দুপুরের খাবারের সময় দোকানটির বাইরে ভোজনরসিকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। দোকানটির প্রধান আকর্ষণ তাদের সিগনেচার পদ ‘রাইস রোল এক্সপ্রেস স্পেশাল’। এতে পাতলা ভাপে সেদ্ধ চালের নুডলসের ভেতর স্তরে স্তরে সাজিয়ে দেওয়া হয় গরুর মাংস, শুকরের মাংস, বারবিকিউ পর্ক এবং ডিম; যার মূল্য মাত্র ৯ দশমিক ২১ ডলার। এছাড়া তাজা চিংড়ি, শুকনো চিংড়ি ও পেঁয়াজকলি দিয়ে তৈরি আরেকটি জনপ্রিয় পদ ‘শ্রিম্প ফিস্ট’-এর দাম রাখা হয়েছে ১০ দশমিক ৭৮ ডলার। স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোর বাজারদর বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘মার্কেট পালস’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে সান ফ্রান্সিসকোর রেস্তোরাঁগুলোতে একেকটি খাবারের গড় মূল্য ছিল ২৫ দশমিক ৫১ ডলার। সেই তুলনায় রাইস রোল এক্সপ্রেসের বিশেষ খাবারের দাম অর্ধেকেরও কম। ফলে সাশ্রয়ী মূল্যে দারুণ স্বাদের খাবার পেতে প্রায় ২৫ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভেতরে একটু বসার জায়গার জন্য অপেক্ষা করতে ক্রেতারা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করছেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তোলা এই খাবারের জনপ্রিয়তায় শামিল হয়েছেন স্বয়ং সান ফ্রান্সিসকোর মেয়র ড্যানিয়েল লুরিয়ে। সম্প্রতি ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি জানান, রাইস রোল এক্সপ্রেসের খ্যাতি শুনে তিনি নিজে গিয়ে বারবিকিউ পর্ক রাইস রোল খেয়েছেন এবং এর সঙ্গে দেওয়া বিশেষ মরিচ তেল ও মিষ্টি সয়া সসের স্বাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। কোনো কৃত্রিম বিপণন নয়, বরং দোকানের মালিক টম ঝেনের নিখাদ পরিশ্রম ও ঐতিহ্যবাহী রন্ধনপ্রণালীই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নিশ্চিত ক্যারিয়ার ছেড়ে ২৯ বছর বয়সে পারিবারিক ঐতিহ্যে ফিরে এসে সান ফ্রান্সিসকোতে এই রেস্তোরাঁ খোলেন তিনি। প্রতিদিন রাতে ভিজিয়ে রাখা চাল সকালে পিষে ভাপ দিয়ে অত্যন্ত যত্নসহকারে এই নরম নুডলস তৈরি করা হয়। পরিবেশনের পর ক্রেতারা দোকানের নিজস্ব ‘ডিআইওয়াই’ সস কাউন্টার থেকে নিজেদের পছন্দমতো ঘরে তৈরি চিলি অয়েল, মিষ্টি সয়া সস, ভিনেগার কিংবা সিরাচা সস মিশিয়ে উপভোগ করেন। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই ১১৩১ স্টকটন স্ট্রিটে অবস্থিত এই দোকানটিতে ভোজনরসিকদের ভিড় বেড়েই চলেছে। উল্লেখ্য, এই দোকানে কোনো ধরনের ব্যাংক কার্ড নেওয়া হয় না; তবে নগদ অর্থের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।
সাউথ ক্যারোলাইনায় দোকানকর্মীকে ইউ ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ভুয়া ডাকাতির ঘটনা সাজানোর অভিযোগে দোকানমালিক বীরেনকুমার রমেশভাই প্যাটেল দোষ স্বীকার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৪৭ বছর বয়সী প্যাটেল ও তার দোকানের ভারতীয় কর্মী ২০২৫ সালের ৯ মার্চ ফেয়ারফিল্ড কাউন্টির একটি কনভেনিয়েন্স স্টোরে ডাকাতির নাটক সাজান। পরে তদন্তে ঘটনাটি ভুয়া প্রমাণিত হলে ওই কর্মীকে ভারতে ডিপোর্ট করা হয়। প্যাটেল এখন ফেডারেল সাজা ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন। ইউ ভিসা নির্দিষ্ট অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস। যোগ্যতা পূরণ করে ইউ ভিসা পাওয়ার পর নির্দিষ্ট শর্তে অন্তত তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে একজন আবেদনকারী গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য ইমিগ্রেশন সুবিধা পাওয়ার পথ তৈরি করতেই দোকানকর্মীকে অপরাধের শিকার হিসেবে দেখানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ৯ মার্চ দোকানে ডাকাতির খবর জানিয়ে ৯১১ নম্বরে কল করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কর্মী ঘটনাটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন এবং পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্যাটেলও ঘটনাস্থলে এসে ডাকাতির বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। কিন্তু নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার পর তদন্তকারীরা দেখতে পান, ঘটনাটি আসলে সাজানো ছিল। তদন্তে জানা যায়, প্যাটেল নিজেই ডাকাতের ভূমিকায় ছিলেন। পরিচয় গোপন করতে তিনি মুখ ঢেকেছিলেন এবং লম্বা হাতার জ্যাকেট পরেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে দোকানকর্মীকে সত্যিকারের অপরাধের শিকার হিসেবে দেখানো যায় এবং তার ইউ ভিসার আবেদনকে সমর্থন করার মতো নথি তৈরি করা সম্ভব হয়। ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর, ২৫ মার্চ ২০২৫, প্যাটেল ও কর্মী ওই ডাকাতির ঘটনার পুলিশ রিপোর্টের কপি চান। এরপর ৩ এপ্রিল এমন একটি ফেডারেল সার্টিফিকেশন ফেয়ারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের দপ্তরে পাঠানো হয়, যাতে দোকানকর্মীকে ‘ফেলোনিয়াস অ্যাসল্ট’-এর শিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর চাওয়া হয়। তদন্তকারীরা পরে নিশ্চিত হন, কর্মী ভারতের নাগরিক এবং ইউ ভিসা পেলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সুযোগ পেতে পারতেন। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্যাটেল ইউ ভিসা অবৈধভাবে পাওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেন। আদালত এখনো তার চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারে। এর পাশাপাশি সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা, ক্ষতিপূরণ এবং কারাদণ্ড শেষে সর্বোচ্চ তিন বছর তত্ত্বাবধানে থাকার শাস্তিও হতে পারে। মামলাটি তদন্ত করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস ও ফেয়ারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। প্যাটেলের দোষ স্বীকারের পর এখন আদালতের সাজা ঘোষণার প্রক্রিয়াই পরবর্তী ধাপ। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ইউএস প্রোবেশন অফিসের প্রস্তুত করা সাজা সংক্রান্ত রিপোর্ট পর্যালোচনার পর বিচারক তার চূড়ান্ত সাজা নির্ধারণ করবেন।
পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় জলযান বা ড্রোন পরিচালনা করে নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে চীনের একটি গবেষক দল। কোনো ধরনের মানবিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ক্ষুদ্র এসব জলযান পানির নিচে নির্ধারিত পথে সমন্বিতভাবে চলাচল করে এই অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গত ২৯ আগস্ট গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই রোমাঞ্চকর প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে ‘একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি স্বয়ংক্রিয় জলযানের চলাচল’ ক্যাটাগরিতে বিশ্বরেকর্ডের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং শি’আন তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিসের যৌথ গবেষক দল এই যুগান্তকারী রেকর্ডটি গড়েছে। পরীক্ষামূলক এই প্রদর্শনীতে TH-৬১৮ মডেলের ১১৬টি আন্ডারওয়াটার অটোনমাস ভেহিকল পানিতে নামানোর পর সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে শুরু করে। প্রায় ৩৪ মিনিট স্থিতিশীলভাবে চলার পর ড্রোনগুলো ৫০০ মিটারেরও বেশি পূর্বনির্ধারিত পথ সফলভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। পানিতে নামানোর পর পরই যানগুলোর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে অনবোর্ড স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার হাতে চলে যায়। রিয়েল-টাইম ভিজ্যুয়াল পারসেপশন প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতিটি ড্রোন নিজস্ব অবস্থান ও চারপাশের পরিবেশ শনাক্ত করে নির্দিষ্ট বিন্যাস বজায় রাখে। এমনকি কোনো ড্রোন সাময়িকভাবে পথচ্যুত হলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধন করে পুনরায় নির্ধারিত পথে ফিরে আসার দারুণ সক্ষমতা প্রদর্শন করে। পানির নিচে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক স্বয়ংক্রিয় যান পরিচালনা করা প্রযুক্তিগত দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। কারণ সেখানে সাধারণ বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা বা স্যাটেলাইট নেভিগেশন কার্যকর হয় না। পানির উচ্চ চাপ, কম দৃশ্যমানতা এবং সীমিত পরিবেশগত তথ্যের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই দীর্ঘ সময় যানগুলো পরিচালনা করাকে আন্ডারওয়াটার স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এক বিশাল অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। রেকর্ড গড়া এই জলযানগুলোর প্রতিটির ওজন মাত্র ৫ দশমিক ১৪ কেজি, যা একজন মানুষ সহজেই পানিতে নামাতে পারেন। এগুলো সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার পরিসরে একটানা আট ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করতে সক্ষম। নেভিগেশনের জন্য এসব যানে অত্যাধুনিক ক্যামেরাভিত্তিক ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্রোতের ধাক্কায় পথচ্যুত হলেও পরিস্থিতি বুঝে অবস্থান সংশোধন করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ব্যবহারিক ক্ষেত্র অত্যন্ত বিস্তৃত ও সম্ভাবনাময়। সমুদ্রের তলদেশ জরিপ থেকে শুরু করে পানির নিচের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং তেল-গ্যাসের পাইপলাইন পরিদর্শনের মতো জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে আগামীতে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় জলযানের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যেতে পারে।
নয়াদিল্লি: নারীদের নিরাপত্তা জোরদারে দিল্লি পুলিশে বিশেষায়িত ‘পিংক ফোর্স’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষিত নারী পুলিশ সদস্যদের নিয়ে এই বিশেষ টহল ইউনিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তরণজিৎ সিং সান্ধু। প্রস্তাবিত এই বাহিনীর মূল লক্ষ্য হবে স্কুল, কলেজ, মেট্রো স্টেশনসহ নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় দৃশ্যমান পুলিশি উপস্থিতি বাড়ানো। বিশেষ করে যেসব সময় ও স্থানে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তাঝুঁকি বেশি থাকে, সেসব এলাকায় নিয়মিত টহল ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। দিল্লির এই উদ্যোগের মডেল হিসেবে নেওয়া হচ্ছে গোয়া পুলিশের ‘পিংক ফোর্স’। গোয়ায় ২০২১ সালে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং দ্রুত পুলিশি সহায়তার জন্য বিশেষায়িত এই ইউনিট চালু করা হয়েছিল। দিল্লিতে নতুন ইউনিটটি আসলে একেবারে নতুন ধরনের নারী পুলিশিং নয়। এর আগে থেকেই দিল্লি পুলিশ নারী সদস্যদের স্কুটার ও বিট প্যাট্রোলে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বাজার ও মেট্রো স্টেশনের আশপাশে মোতায়েন করে আসছে। নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য এসব কার্যক্রমকে একটি আলাদা ও সমন্বিত ‘পিংক ফোর্স’-এর আওতায় আনা। এই উদ্যোগের পেছনে দিল্লিতে সাম্প্রতিক কয়েকটি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ১০ দিনের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ওপর যৌন নির্যাতনের চারটি ঘটনা সামনে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার পর জননিরাপত্তা ও পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর নতুন করে জোর দেওয়া হয়। পিংক ফোর্সের পাশাপাশি দিল্লি পুলিশকে ‘অপারেশন শিষ্টাচার’-এর আওতায় প্রকাশ্য স্থানে নারীদের উত্ত্যক্ত ও হয়রানির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুল, কলেজ, বাজার ও পরিবহনকেন্দ্রিক এলাকায় পায়ে হাঁটা ও মোটরসাইকেল টহলও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশি অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ‘জন শুনানি’ কার্যক্রমের অভিযোগগুলো ডিজিটালভাবে ট্র্যাক করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলোতে শিশু সুরক্ষা, POCSO আইন, সাইবার অপরাধ, মাদক ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লিতে নারী নিরাপত্তায় এরই মধ্যে ১১৬টি ‘পিংক বুথ’, সর্ব-মহিলা PCR ভ্যান এবং অন্যান্য নারী-কেন্দ্রিক পুলিশি উদ্যোগ চালু রয়েছে। জুন ২০২৬-এ উত্তর দিল্লির সবজি মান্ডি এলাকায় রাজধানীর প্রথম সর্ব-মহিলা থানাও চালু করা হয়। তবে ‘পিংক ফোর্স’ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—এটি এখনো পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে। বাহিনীতে কতজন সদস্য থাকবেন, কোন কোন জেলায় কতজন মোতায়েন হবেন এবং ঠিক কবে থেকে নিয়মিত টহল শুরু হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।
মাঝ আকাশে সহকারী পাইলটের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত এবং রক্তাক্ত। কিন্তু এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও নিজের অসীম সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার জোরে ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন রক্ষা করলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিথ মছা। দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ঘটা এই রোমহর্ষক ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে বন্দিত হচ্ছেন এই সাহসী পাইলট। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—সবাই তাঁকে ‘বাস্তবের নায়ক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে ইসরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা দেয় ফ্লাইদুবাইয়ের ওই যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটি। বিমানটি ওমানের আকাশসীমায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই ককপিটের ভেতর ক্যাপ্টেন স্মিথের ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁরই এক সহকারী পাইলট। ধারণা করা হচ্ছে, মাঝ আকাশে যাত্রীবোঝাই বিমানটিকে বিধ্বস্ত করার ভয়ংকর উদ্দেশ্য নিয়েই এই হামলা চালানো হয়েছিল। কিন্তু ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে জখম হওয়ার পরও দমে যাননি স্মিথ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দেওয়া তথ্যমতে, স্মিথ রক্তাক্ত অবস্থাতেই হামলাকারীর সঙ্গে লড়াই করেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। এতে কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা মিলে ওই হামলাকারীকে কাবু করতে সক্ষম হন। হামলাকারীকে প্রতিহত করার পর চরম সংকটাপন্ন অবস্থাতেই বিমানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন ক্যাপ্টেন স্মিথ। তিনি দ্রুত বিমানের গতিপথ সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে দেন এবং তাবুক শহরের বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটির সফল জরুরি অবতরণ করান। তাঁর এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী সিদ্ধান্তে মাঝ আকাশে একটি নিশ্চিত বড় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পান ফ্লাইটের সব যাত্রী ও ক্রু। পরবর্তীতে ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের যাত্রীদের সৌদি আরব থেকে নিরাপদে ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পেশাগত জীবনে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চালানোর ক্ষেত্রে ১৩ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্যাপ্টেন স্মিথ ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে সবসময়ই ‘নিরাপত্তার প্রতি গভীর মনোযোগ’ দেওয়ার কথা নিজের পেশাগত বিবরণীতে উল্লেখ করেছিলেন তিনি, যা তিনি বাস্তবে প্রমাণ করে দেখালেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, মুম্বাইয়ের ঘাটকোপার ইস্ট এলাকায় বসবাসরত স্মিথের পরিবারও এই দুঃসংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরেই সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে শত শত মানুষের প্রাণ বাঁচানো এই পাইলটের বীরত্ব এখন গোটা বিশ্বের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় প্রায় ৩০০ ডলারসহ একটি মানিব্যাগ খুঁজে পেয়ে মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছিল ১৪ বছরের কোডি চালমার্স। ছেলের সততার কথা মা ফেসবুকে লিখলে পরিবারের অপরিচিত এক ব্যক্তি কোডিকে উপহার দেন তার পছন্দের বৈদ্যুতিক অফরোড সাইকেলটি। এটি ২০২৫ সালের এপ্রিলের ঘটনা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অ্যারিজোনাস ফ্যামিলি প্রথম খবরটি প্রকাশ করে ১ মে; পরে ইনসাইড এডিশনসহ অন্য সংবাদমাধ্যমও ঘটনাটি তুলে ধরে। চ্যান্ডলারের কুইন ক্রিক রোড ও অ্যারিজোনা অ্যাভিনিউয়ের কাছে সাইকেল চালানোর সময় রাস্তায় মানিব্যাগটি দেখতে পায় কোডি। ভেতরে থাকা এক নারীর পরিচয়পত্রের ছবি মাকে পাঠায় সে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনে খুঁজে তাঁরা ওই নারীর ফোন নম্বর বের করেন। কোডির ভাষ্য অনুযায়ী, মানিব্যাগটি হারানোর প্রায় আধা ঘণ্টা পরই মালিক তা ফেরত পান। মানিব্যাগে নগদ টাকার পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্স, ক্রেডিট কার্ড ও স্বাস্থ্যবিমার কার্ড ছিল বলে মালিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান। কোডি বলেছে, জিনিসটি হারিয়ে মালিক নিশ্চয়ই দুশ্চিন্তায় পড়বেন - এই ভেবেই সে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কয়েক বছর আগে তার বাবার মানিব্যাগ চুরি যাওয়ার পর পরিবারের উদ্বেগও তার মনে ছিল। কোডির মা ক্যারি স্ট্রেকার জানান, ছেলে কয়েক মাস ধরে একটি বৈদ্যুতিক অফরোড সাইকেল কেনার জন্য টাকা জমাচ্ছিল। সাইকেলটির দাম ছিল প্রায় চার হাজার ডলার। মানিব্যাগ ফেরত দেওয়ার ঘটনাটি তিনি স্থানীয় ফেসবুক গ্রুপে লেখেন। সেই পোস্ট দেখে তাঁদের অপরিচিত এক ব্যক্তি সাইকেলটি কিনে কোডিকে উপহার দেন। পরবর্তী প্রতিবেদনে উপহারদাতার নাম অ্যাডাম বেইলি বলে উল্লেখ করা হয়েছে; প্রথম স্থানীয় প্রতিবেদনে তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। কোডি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছে, মানিব্যাগ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এমন কিছু পাবে, তা তার কল্পনায়ও ছিল না। তার মা ছেলের ঘটনাটি প্রকাশ করেছিলেন অন্যদের জানাতে যে কিশোরদের ভালো কাজও নজরে আনার মতো।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির ভিসা যাচাই ও বাতিলের অভিযান ব্যাপকভাবে জোরদার হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ভিসাগুলোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের কারণ রয়েছে। এর মধ্যে ভিসার শর্ত ভঙ্গ, অপরাধে জড়ানো, প্রতারণা, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকির বিষয়গুলো রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ভিসা বাতিলের সঙ্গে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের বিষয়টি জড়িত বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই ব্যবস্থায় বিদেশি নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ভিসা বাতিলের গতি ২০২৬ সালে আরও বেড়েছে। আগস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর তখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ওই সময় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাসে গড়ে প্রায় ৮ হাজার ভিসা বাতিল হলেও ২০২৬ সালে মাসিক সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি পর্যায়ে উঠেছিল। তুলনায়, জো বাইডেনের শেষ পূর্ণ বছর ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৪০ হাজার ভিসা বাতিল করেছিল বলে আগের সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ভিসা বাতিলের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বৈধ ভিসা থাকা বিদেশিদের ওপরও ধারাবাহিক যাচাই চলছে। এর লক্ষ্য হলো কেউ ভিসার শর্ত পূরণ করছেন কি না, জননিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছেন কি না এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বা প্রবেশের যোগ্যতা বজায় রেখেছেন কি না তা পর্যালোচনা করা। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা ব্যবস্থার পাশাপাশি অভিবাসন নীতিতেও একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরে আদালতের আদেশের পর ২১ আগস্ট থেকে সেই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। তবে ভিসা বাতিল এবং ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখা এক বিষয় নয়। কোনো ভিসা বাতিল হলে সেটি আগে ইস্যু করা ভিসার বৈধতা প্রত্যাহার; আর কোনো দেশের নাগরিকদের নতুন ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা আলাদা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন আরও জানিয়েছিল, আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২ লাখ মানুষের B1/B2 ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক গণভিসা বাতিলের উদ্যোগ হতে পারে বলে তখন Associated Press জানিয়েছিল। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে নিরাপত্তা যাচাই, অপরাধ, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন ও ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব পদক্ষেপের কিছু অংশ নিয়ে অভিবাসন অধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সমালোচনা ও আইনি বিতর্কও চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনে চার বছরের মেয়ে ভিভিয়ান সাভেলাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, আদালত শিশুটিকে বাবার জিম্মায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর একই দিন সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, মা আত্মহত্যার চেষ্টা করে আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হিউস্টন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে শহরের পশ্চিমাঞ্চলে টেরা রিজার্ভ প্লেসের একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ যায়। সেখানে ভিভিয়ানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। গুরুতর আহত মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশের ধারণা, তিনি বেঁচে যাবেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিআরসি জানিয়েছে, ওই দিন শিশুটির হেফাজত নিয়ে আদালতে শুনানি হয়েছিল। পরিবারের আইনজীবীর মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, বিচারক ভিভিয়ানকে তার বাবা অ্যারন সাভেলার প্রধান তত্ত্বাবধানে রাখার নির্দেশ দেন। সন্ধ্যায় মেয়েটির বাবার কাছে যাওয়ার কথা ছিল। ঘটনার সময় শিশুটির সৎবাবা ও দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা একজন বাড়িতে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা গুলির শব্দ শুনেছেন, তবে ঘটনাটি সরাসরি দেখেননি। তদন্তকারীরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, আইনজীবীর মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে পরিবার জানায়, ভিভিয়ানের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। বাবা ও কাছের মানুষদের স্নেহে বেড়ে উঠছিল শিশুটি। শোকের এই সময়ে পরিবার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানানোর অনুরোধ করেছে।
ভারতের কেরালার ত্রিশূরে একটি লজ থেকে তরুণীকে অপহরণ করে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষ বন্ধুকেও মারধর করা হয়। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির স্ত্রী হামলাকারীদের ভাড়া করেছিলেন বলে তদন্তে অভিযোগ উঠে এসেছে। গত সেপ্টেম্বরে ওই তরুণী তাঁর বিবাহিত পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে ত্রিশূরের একটি লজে ওঠেন। লজটি কেরালা রাজ্য পরিবহন সংস্থার বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত। এনডিটিভি জানিয়েছে, পাঁচজনের একটি দল পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁদের কক্ষে ঢোকে। এরপর দুজনকে বেঁধে গাড়িতে করে তামিলনাড়ুর দিকে নিয়ে যায়। পথে পুরুষ সঙ্গীকে মারধর করা হয়। তাঁর হাত-পায়ে হাড় ভাঙার আঘাত লাগে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিরুপুরের একটি হাসপাতালের বাইরে ওই ব্যক্তিকে ফেলে রেখে হামলাকারীদের দুজন তরুণীকে অন্য গাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। তরুণীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তামিলনাড়ু পুলিশ মামলা করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব ত্রিশূর সিটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তকারীদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরুষ সঙ্গীর স্ত্রী তাঁর স্বামীর ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে হামলাকারীদের কাছে তথ্য পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলার পরিকল্পনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।
কংগ্রেসের নির্বাচনে প্রথম চেষ্টা সফল হয়নি। তবে দুই বছর পর জর্জিয়ার স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাবিলাহ ইসলাম পার্কস। ২০২২ সালে ডিস্ট্রিক্ট ৭ থেকে নির্বাচিত এই ডেমোক্র্যাট ছিলেন জর্জিয়ার স্টেট সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী। তাঁর বেড়ে ওঠা বাংলাদেশ থেকে আসা এক শ্রমজীবী অভিবাসী পরিবারে। নাবিলাহ নরক্রস ও লরেন্সভিলে বড় হয়েছেন। বাবা-মাকে দীর্ঘ সময় কাজ করে সংসার চালাতে দেখেছেন তিনি। জর্জিয়া সিনেটের সরকারি জীবনীতে বলা হয়েছে, একাধিক চাকরি করেও তাঁর পরিবারকে অনেক সময় দৈনন্দিন খরচ মেটাতে সংগ্রাম করতে হয়েছে। পরিবারের সেই অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে প্রভাব ফেলেছে। জর্জিয়া উইন লিস্টের প্রকাশিত পরিচিতি অনুযায়ী, নাবিলাহ হাইস্কুলে পড়ার সময় তাঁর মা ওয়্যারহাউজে কাজ করতে গিয়ে আহত হন। পরিবারের চিকিৎসাসংক্রান্ত সংকট কাছ থেকে দেখার পর হেলথ কেয়ার সহজলভ্য করা ও মেডিকেইড সম্প্রসারণের পক্ষে কাজ শুরু করেন তিনি। গুইনেট কাউন্টির পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা শেষে নাবিলাহ জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় ডিগ্রি অর্জন করেন। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে কাজ করেন। ২০২০ সালে জর্জিয়ার সপ্তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি তিনি। এরপর ২০২২ সালে অঙ্গরাজ্যের সপ্তম সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হন। কংগ্রেসের আসন ও স্টেট সিনেটের আসন দুটি আলাদা নির্বাচনী পদ। তবে নাবিলাহ বর্তমানে স্টেট সিনেটর নন। লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে নির্বাচনী প্রচারে পূর্ণ সময় দেওয়ার জন্য ২০২৬ সালের ১৩ মার্চ সিনেট থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ফক্স ফাইভ আটলান্টার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর প্রতিনিধিত্ব করা এলাকার মধ্যে ডুলুথ ও পিচট্রি কর্নার্স ছিল। পরে লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির রানঅফে অংশ নেন নাবিলাহ। ১৬ জুনের সেই নির্বাচনে তাঁকে হারিয়ে দলের মনোনয়ন পান জশ ম্যাকলরিন। ফলে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো ২০২২ সালের ঐতিহাসিক সিনেট জয়, যার পর তিনি অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আরও বড় পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা গুণী ব্যক্তি ও শিক্ষাবিদদের রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন ও পুরস্কৃত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের শিক্ষার মান উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা বাড়ানো এবং আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বঙ্গভবনে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফরহাত আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকালে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি জানান, বর্তমান সময়ের চাহিদা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, লাইফ সায়েন্স, অ্যাগ্রো টেকনোলজি ও নার্সিংসহ বিভিন্ন উদীয়মান ও কর্মসংস্থানমুখী বিষয়ে পাঠদান ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরেন উপাচার্য। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত করতে হবে। শুধু প্রচলিত শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নতুন প্রযুক্তি, গবেষণা ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। রাষ্ট্রপতি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করার তাগিদ দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণার পরিধি বাড়ানো এবং জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ সময় বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো করা বাংলাদেশিদের জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। বিশেষ করে যারা বিদেশে শিক্ষা, গবেষণা, পেশা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করছেন, তাদের অবদানকে দেশে যথাযথভাবে মূল্যায়নের বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে যারা বিশেষ অবদান রাখছেন, তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন ও পুরস্কৃত করা উচিত। এর মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকেও শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করা সম্ভব হবে—এমন বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। বৈঠকে পুরোনো চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক, যুগোপযোগী ও কর্মমুখী শিক্ষানীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ও কর্মক্ষেত্র দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের শুধু প্রথাগত জ্ঞান নয়, বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। বিশেষ করে এআই, জীবনবিজ্ঞান, কৃষি প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকেও এসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়। সাক্ষাৎকালে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন। বঙ্গভবনের এই সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রারও বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশিদের সাফল্যের স্বীকৃতি এবং শিক্ষাকে কর্মমুখী করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে যে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে তা হলো, পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক করার প্রয়োজনীয়তা।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আইনজীবী ছাড়াই অভিবাসন আদালতে হাজির হওয়া ১৩ বছরের হন্ডুরান শিশু অ্যাঞ্জেলের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর হারলিনজেনের আদালতে শুনানির সময় দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্নের মুখে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। সিএনএনের প্রতিবেদনে ঘটনাটি উঠে এসেছে। অ্যাঞ্জেল বিচারককে জানায়, তার মা ও পরিবারের প্রায় সবাই যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং হন্ডুরাসে ফিরে যাওয়া বিপজ্জনক। বিচারক তাকে অ্যাসাইলামের যোগ্য নয় বলে জানিয়ে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার আবেদন করবে কি না, জানতে চান। কী করবে বুঝতে না পেরে শিশুটি কাঁদতে শুরু করে। পরে বিচারক বহিষ্কারের আদেশ দিয়ে আপিলের সময় দেন। সিএনএন জানিয়েছে, দেশজুড়ে দুই বছর বয়সী শিশুরাও অভিবাসন আদালতে হাজির হচ্ছে, অনেকেই আইনজীবী ছাড়া। হারলিনজেনের ওই শুনানিতে তিন বছরের মাতেও মাইক্রোফোন নিয়ে খেলছিল। তবে তার আইনজীবী দূর থেকে শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন। অভিবাসন আদালত পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ অফিস ফর ইমিগ্রেশন রিভিউ বা ইওআইআরের তথ্য অনুযায়ী, এসব মামলায় আইনজীবী বা অনুমোদিত প্রতিনিধির সহায়তা নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে সেই প্রতিনিধিত্বের খরচ সরকারকে বহন করতে হয় না। ফলে আদালতে হাজির হলেই বিনা খরচে সরকারি আইনজীবী পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে অ্যাকেশিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের সঙ্গে আইনি সেবার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়ন করেনি ট্রাম্প প্রশাসন। ওই ব্যবস্থায় প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠান ২০ হাজারের বেশি অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুকে সহায়তা দিত। আগস্টে বিকল্প আইনি সেবার জন্য ইউএস কমিটি ফর রেফিউজিস অ্যান্ড ইমিগ্র্যান্টসকে সর্বোচ্চ দুই কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের বক্তব্য, শিশুদের আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে ইওআইআর শিশুদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অস্বাভাবিকভাবে তাড়াহুড়া করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের জন্য করা ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৩৮টি এন-৪০০ আবেদন গত ৩০ জুন পর্যন্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। এপ্রিল থেকে জুন - এই তিন মাসে ইউএসসিআইএস নতুন আবেদন পেয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭২টি, আর অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দিয়েছে ৭০ হাজার ৫৩৯টির। সংস্থাটির ২০২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ হিসাব উঠে এসেছে। অপেক্ষমাণ ৭ লাখ ৪২ হাজার আবেদন শুধু ওই তিন মাসে জমা পড়েনি। এটি জুনের শেষ দিনে আগের আবেদনসহ মোট অনিষ্পন্ন আবেদনের সংখ্যা। প্রান্তিকটিতে নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনগুলোর মধ্যে ৫৭ হাজার ৬৯৭টি অনুমোদিত এবং ১২ হাজার ৮৪২টি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। অফিসভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন অপেক্ষমাণ ছিল টেক্সাসের হিউস্টনে - ৩১ হাজার ৫৭টি। এরপর ডালাসে ২৮ হাজার ৬৬২টি, শিকাগোতে ২৩ হাজার ৬২৩টি, স্যান হোসেতে ২০ হাজার ৮৯৯টি এবং স্যান অ্যান্টোনিওতে ১৮ হাজার ৯৯৯টি। এসব সংখ্যায় সাধারণ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নাগরিকত্বের আবেদনও একসঙ্গে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্ক অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আবেদন অপেক্ষমাণ। শুধু সাধারণ নাগরিকত্বের আবেদন ধরলে নিউইয়র্ক অফিসে ১৭ হাজার ২৮টি, ব্রুকলিনে ১৫ হাজার ৬২৭টি, কুইন্সে ১১ হাজার ৯০৮টি এবং লং আইল্যান্ডে ৯ হাজার ৮০৩টি আবেদন জুনের শেষে অনিষ্পন্ন ছিল। নিউ জার্সির নিউয়ার্ক অফিসে এই সংখ্যা ১৭ হাজার ৬৭০। সাধারণ নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে দেশজুড়ে মধ্যম সময় ছিল ৯ দশমিক ৫ মাস। এটি জাতীয় হিসাব, কোনো নির্দিষ্ট অফিস বা আবেদনকারীর জন্য প্রতিশ্রুত সময়সীমা নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত যোগ্য বাংলাদেশি গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রেও একই এন-৪০০ আবেদনপ্রক্রিয়া প্রযোজ্য; প্রকাশিত পরিসংখ্যানে বাংলাদেশিদের আবেদন আলাদা করে দেখানো হয়নি।