- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
জুলাই আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আন্দোলনের নেতৃত্ব ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করেন তিনি। একই পোস্টে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলেও মন্তব্য করেন। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, উমামার অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময় অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোকে বাদ দিয়ে শিবির ও ছাত্রশক্তির একটি গোষ্ঠীর সদস্যদের সমন্বয়ক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব নির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে বলে দাবি করেন তিনি। আন্দোলনের আগে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রামের সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকা অনেকেই পরে নেতা হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন উমামা। এ প্রসঙ্গে সালাউদ্দীন আম্মারের নাম উল্লেখ করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত তৈরির ধরন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন উমামা। তাঁর দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তিকে কৃত্রিমভাবে তরুণদের কাছে ‘হিরো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তরুণদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। পোস্টে দেশের রাজনীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জামায়াত আর আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য নেই।’ জামায়াত নিজেদের অতীতের ‘গণহত্যার কালিমা’ ঢাকতে দেশকে যেকোনো পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব বক্তব্য উমামা ফাতেমার ব্যক্তিগত মন্তব্য ও অভিযোগ। ডেইলি বাংলাদেশের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলোর পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্লোরিডায় ২০২৮ সালে হাইস্কুল শেষ করা শিক্ষার্থীদের ব্রাইট ফিউচারস স্কলারশিপ পেতে আগের ব্যাচের চেয়ে বেশি নম্বর লাগবে। অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগের আগস্টে হালনাগাদ করা নির্দেশিকায় দুটি প্রধান স্কলারশিপেরই এসএটি পরীক্ষার ন্যূনতম নম্বর বাড়ানো হয়েছে। পরিবর্তনটি ২০২৮ সালের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য; ২০২৭ সালে হাইস্কুল শেষ করা শিক্ষার্থীদের নম্বরের শর্ত আগের মতোই রয়েছে। ফ্লোরিডা অ্যাকাডেমিক স্কলারস ক্যাটাগরিতে ২০২৮ সালের গ্র্যাজুয়েটদের এসএটিতে অন্তত ১৩৫০ পেতে হবে। ২০২৭ সালের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য প্রয়োজন ১৩৩০। একই ক্যাটাগরিতে সিএলটি পরীক্ষার ন্যূনতম নম্বর ৯৫ থেকে ৯৬ হলেও এসিটির শর্ত ২৯-ই থাকছে। ফ্লোরিডা মেডালিয়ন স্কলারস ক্যাটাগরিতে এসএটির শর্ত ১১৯০ থেকে ১২০০, এসিটির শর্ত ২৪ থেকে ২৫ এবং সিএলটির শর্ত ৮২ থেকে ৮৩ হচ্ছে। অর্থাৎ ২০২৮ সালের শিক্ষার্থীদের জন্য সব পরীক্ষার নম্বরের শর্ত একই হারে বাড়েনি। তবে পরীক্ষার নম্বর পেলেই স্কলারশিপ নিশ্চিত হয় না। অ্যাকাডেমিক স্কলারসের জন্য নির্ধারিত কোর্সে ন্যূনতম ৩ দশমিক ৫০ এবং মেডালিয়ন স্কলারসের জন্য ৩ দশমিক ০০ ওয়েটেড জিপিএ প্রয়োজন। পাশাপাশি নির্ধারিত কোর্স, স্বেচ্ছাসেবা বা বেতনভুক্ত কাজের ঘণ্টা এবং আবেদনসংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হয়। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্কলারশিপ পেতে শিক্ষার্থীকে ফ্লোরিডার বাসিন্দা এবং মার্কিন নাগরিক অথবা যোগ্য অনাগরিকও হতে হবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো হাইস্কুল শেষ করার বছর অনুযায়ী শর্ত মিলিয়ে দেখা। ফ্লোরিডার সরকারি তথ্যপত্র অনুযায়ী, পরীক্ষার নম্বর অর্জন করতে হবে গ্র্যাজুয়েশনের বছরের ৩১ আগস্টের মধ্যে; বছরের মাঝামাঝি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য আলাদা সময়সীমা রয়েছে। একই বছরের ৩১ আগস্টের মধ্যে ফ্লোরিডা ফিন্যান্সিয়াল এইড আবেদনও জমা দিতে হয়।
নিউইয়র্কে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ন্যূনতম মজুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ার কথা থাকলেও চাকরির সংখ্যা কমে যাওয়ায় সেই বৃদ্ধি আটকে যাচ্ছে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি, লং আইল্যান্ড ও ওয়েস্টচেস্টারে ঘণ্টাপ্রতি সাধারণ ন্যূনতম মজুরি ১৭ ডলার এবং অঙ্গরাজ্যের বাকি এলাকায় ১৬ ডলারই থাকার কথা। অঙ্গরাজ্যের শ্রম বিভাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আসার কথা বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস ইউনিয়ন। অঙ্গরাজ্যের আইনে ২০২৭ সাল থেকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিবছর ন্যূনতম মজুরি সমন্বয়ের ব্যবস্থা আছে। তবে একই আইনে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হলে বৃদ্ধি স্থগিত রাখার বিধানও রয়েছে। জানুয়ারি ও এপ্রিলের তুলনায় জুলাইয়ে নিউইয়র্কের মৌসুমি সমন্বয় করা মোট কৃষিবহির্ভূত চাকরির সংখ্যা কম থাকলে এই বিধান কার্যকর হয়। এ বছর জানুয়ারিতে অঙ্গরাজ্যে এমন চাকরি ছিল এক কোটির বেশি। এপ্রিল মাসে তা কমে প্রায় ৯৯ লাখ ৭০ হাজার এবং জুলাইয়ে প্রায় ৯৯ লাখ ৬০ হাজারে দাঁড়ায়। জুলাইয়ের সংখ্যা জানুয়ারি ও এপ্রিল - দুই মাসের চেয়েই কম হওয়ায় মজুরি বৃদ্ধির পথে আইনি বাধা তৈরি হয়েছে। এই হিসাবকে শুধু বেসরকারি খাতের চাকরির সংখ্যা বলা ঠিক হবে না। গভর্নর ক্যাথি হকুল আইনটি সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাবে সামান্য চাকরি কমলেই মজুরি বৃদ্ধি বন্ধ হওয়ার বদলে চাকরি কমার হার বিবেচনা করা হবে। টাইমস ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নিয়মে নির্দিষ্ট কয়েকটি সময়ের চাকরির হিসাব মিলিয়ে অন্তত শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ পতন হয়েছে কি না, তা দেখা হবে। তবে এটি এখনো প্রস্তাব; আইনসভায় অনুমোদন পায়নি। হকুলের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। চাকরির সংখ্যা কমার পেছনে পর্যটন ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাতের সমস্যার কথাও বলছে তাঁর প্রশাসন। এগুলো প্রশাসনের ব্যাখ্যা; মজুরি বৃদ্ধি স্থগিতের আইনি কারণ হলো নির্ধারিত মাসগুলোর চাকরির সংখ্যায় পতন। নিউইয়র্কের আইনসভা জানুয়ারিতে পরবর্তী অধিবেশনে ফিরবে। তাই আইন পরিবর্তন না হলে জানুয়ারিতে প্রচলিত মজুরির হারই বহাল থাকার কথা। তবে এই সিদ্ধান্তকে পুরো ২০২৭ সালেই কোনো মজুরি পরিবর্তন হবে না - এমন ঘোষণা হিসেবে ধরা যাবে না; পরবর্তী সময়ে আইন সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
আফগানিস্তানের দুটি প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছে দুই দেশ। ইসলামাবাদের দাবি, হামলায় ২২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার বলছে, হামলায় নারী ও শিশুসহ নয়জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। কোনো পক্ষের হতাহতের হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আফগানিস্তানের দুটি স্থানে জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ জন নিহত হওয়ার তথ্যটি প্রাথমিক হিসাব। আস্তানাগুলোতে রাখা অস্ত্র ও গোলাবারুদও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়। অস্ত্র জব্দের তথ্য তারা দেয়নি। অন্যদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, কুনার ও হেলমান্দ প্রদেশে তিনটি বাড়ি হামলার শিকার হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা নারী ও শিশু বলে তাঁর দাবি। তিনি পাকিস্তানের এই হামলাকে আগ্রাসন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। পাকিস্তান বলছে, তারা বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করেনি। দুই পক্ষের দেওয়া সংখ্যাকে এক করে মোট নিহতের হিসাব করা যাচ্ছে না। পাকিস্তান যে ২২ জনকে জঙ্গি বলছে এবং আফগানিস্তান যে নয়জনকে বেসামরিক মানুষ বলছে, তাঁদের পরিচয় বা এই দুটি হিসাবের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত হয়নি। হামলাটি এমন সময় হলো, যখন সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ আবার বেড়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালায়। তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন চলতি বছর সীমান্তবর্তী সহিংসতায় দেশটিতে ১ হাজার ১০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে। এটি বৃহস্পতিবারের হামলার হতাহতের হিসাব নয়।
কয়েক দিন ধরে নিয়োগের অনিশ্চয়তায় থাকা ময়মনসিংহের ২০ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রার্থী অবশেষে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। পুলিশ ভেরিফিকেশন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ত্রুটির কারণে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে ছিল। নিয়োগের দাবিতে বুধবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে কাফনের কাপড় জড়িয়ে অবস্থান নেওয়ার পর তাদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, যেসব প্রার্থীর কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি ছিল, সেগুলো পুনরায় যাচাই করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ২০ জনকে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের নিয়োগপত্র ডাকযোগে নিজ নিজ ঠিকানায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ময়মনসিংহ জেলা থেকে ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি ১৮ জন। ফলে বাকি ২৪১ জনকে নিয়ে নিয়োগের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। প্রথম পর্যায়ে ২১৯ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হলেও পুলিশ ভেরিফিকেশন ও বিভিন্ন সনদসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ২২ জনের নিয়োগ আটকে যায়। এতে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন এসব প্রার্থী। নিয়োগের দাবিতে বুধবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। একপর্যায়ে কাফনের কাপড় পরে তারা সেখানে অবস্থান নেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হলে ওই রাতেই সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পুনরায় যাচাই করা হয়। এরপর ২০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের তৃতীয় ধাপের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে আটকে থাকা ২২ জনের মধ্যে এখনো দুজনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাদের নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়। নিয়োগের খবর পাওয়ার পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা। নবনিযুক্ত শিক্ষক মোশাররফ হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে তাদের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছিল। নিয়োগ পাওয়ার খবরে সেই অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। আরেক নবনিযুক্ত শিক্ষক হাসি আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার পর তারা নিয়োগ পেয়েছেন। এতে তারা খুবই আনন্দিত। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নথিপত্রে ছোটখাটো ত্রুটি থাকা প্রার্থীদের তথ্য পুনরায় যাচাই করে ২০ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। তারা দ্রুত নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে পারবেন। আর বাকি দুজনের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসির বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। তদন্তে পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি ছাপাখানা বিজি প্রেসের কর্মী এবং দালালদের সমন্বয়ে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের তথ্য উঠে এসেছে। সিআইডির তদন্ত নথি অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র চুরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে পাশ কাটাতে ব্যবহার করা হয়েছে নানা কৌশল। কোথাও ট্রাংকের তালা কেটে প্রশ্নপত্র বের করা হয়েছে, আবার কোথাও কর্মকর্তার কক্ষের ফটোকপি মেশিন ব্যবহার করে প্রশ্নের কপি করা হয়েছে। বিজি প্রেস থেকেও প্রশ্নপত্র বাইরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে সবচেয়ে আলোচিত তথ্যগুলোর একটি এসেছে পিএসসির অফিস সহায়ক মো. সাজেদুল ইসলামকে ঘিরে। অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার আগে তিনি পিএসসির এক কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, কর্মকর্তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে চাবি সংগ্রহ করে ওই কক্ষে ঢোকেন সাজেদুল। এরপর হ্যাকসো ব্লেড দিয়ে একটি ট্রাংকের তালা কেটে ফাইনাল মডারেশনের চার সেট হাতে লেখা প্রশ্নপত্র বের করেন।প্রশ্নপত্র বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে তিনি ওই কর্মকর্তার কক্ষেই থাকা অফিসিয়াল ফটোকপি মেশিন ব্যবহার করে চার সেট প্রশ্নের কপি করেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর মূল প্রশ্নপত্রগুলো আবার ট্রাংকে রেখে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। তদন্ত নথি অনুযায়ী, ওই চার সেট প্রশ্নপত্রে মোট ৮০০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ছিল। পরে প্রশ্নগুলো এক জায়গায় না লিখে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার কম্পিউটারের দোকানে অল্প অল্প করে কম্পোজ করানো হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।সিআইডির তদন্ত অনুযায়ী, এসব প্রশ্নের বিনিময়ে সাজেদুল ইসলাম ৭৫ লাখ টাকা পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর হিসেবে তদন্তে উঠে এসেছে সরকারি ছাপাখানা বিজি প্রেসের নাম। সেখানে কর্মরত কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র বাইরে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, বিজি প্রেসের কর্মী মোহাম্মদ আকরাম হোসেন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী মজনু মিয়া প্রশ্নপত্রের ছবি তোলা কিংবা কাগজ বাইরে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র শরীরে লুকিয়ে বাইরে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে পিএসসির সাবেক কর্মী মো. খলিলুর রহমানের নাম। অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চাকরি হারিয়েছিলেন। পরে পুনর্বহাল হওয়ার পর আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। সিআইডির তদন্তে পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর নামও গুরুত্বপূর্ণভাবে এসেছে। তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির কথোপকথন ও যোগাযোগের তথ্য তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও চাকরি বিক্রির একটি বড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তে এসেছে। এ ঘটনায় সিআইডি মোট ৫৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিজি প্রেসের কর্মী এবং মধ্যস্থতাকারীদের সমন্বয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেটওয়ার্কের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের পাশাপাশি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। বিভিন্ন পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের হিসাব, প্রার্থীদের তথ্য এবং যোগাযোগের নথি উদ্ধারের কথাও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য সিআইডির তদন্ত ও অভিযোগপত্রে উত্থাপিত অভিযোগ। আদালতের চূড়ান্ত রায়ে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপন করা উচিত। এই তদন্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে। একটি প্রশ্নপত্র কীভাবে নিরাপত্তাবেষ্টিত কক্ষ থেকে বেরিয়ে বাজারে পৌঁছাল, কারা কোথায় সহায়তা করেছে এবং এত দীর্ঘ সময় ধরে এই নেটওয়ার্ক কীভাবে চলেছে—এসব বিষয়ই তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় আরও স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
এবার মশার বিরুদ্ধেই যেন ‘যু দ্ধ’ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! ওয়াশিংটন ডিসিতে রোগবাহী ও আক্রমণাত্মক মশার সংখ্যা কমাতে বড় ধরনের অভিযান শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। লক্ষ্য—নির্দিষ্ট কিছু মশার সংখ্যা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা। মঙ্গলবার সই করা এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মশা ও টিক নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত কর্মসূচি তৈরি ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই উদ্যোগের আওতায় দুই বছরের মধ্যে এলাকায় টিকের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, ফেডারেল নিয়ন্ত্রণাধীন ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন এলাকায় মশা ও টিকের প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। এ কাজে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ও রাসায়নিকবিহীন পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনায় মশা ও টিক নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি কাঠামো তৈরির কথাও বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মশা ও টিকবাহিত রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আদেশে মশার পাশাপাশি টিকের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। টিকের মাধ্যমে লাইম ডিজিজসহ বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে। টিকের কামড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত আলফা-গাল সিনড্রোম নিয়েও গবেষণা ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এদিকে ফ্লোরিডায় স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া ডে ঙ্গু নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ট্রাম্পের এই উদ্যোগ সামনে এলো। ২০২৬ সালে রাজ্যটির ছয়টি কাউন্টিতে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ১৯০টি ডে ঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে বলে ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। এর মধ্যে হিলসবরো কাউন্টিতেই ১৭০টি ঘটনা রয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ফ্লোরিডায় এ ধরনের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক। ভারী বৃষ্টিপাতসহ আবহাওয়ার বিভিন্ন পরিস্থিতি মশার সংখ্যা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। ডে ঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। মূলত সংক্রমিত এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে এটি মানুষের শরীরে ছড়ায়। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে রোগটি বেশি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় এর বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে মশা ও টিকবাহিত রোগ প্রতিরোধে সরকারি গবেষণা কর্মসূচি, নতুন প্রযুক্তি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। নতুন চিকিৎসা ও প্রতিরোধ পদ্ধতি উদ্ভাবনে গবেষকদের উৎসাহিত করতে পুরস্কারভিত্তিক কর্মসূচি চালুর কথাও রয়েছে। এ ছাড়া আলফা-গ্যালাকটোজ নামের উপাদান উল্লেখযোগ্য পরিমাণে থাকা পণ্যের লেবেলিংয়ের বিষয়টিও পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টিকের কামড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত আলফা-গাল সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে লাল মাংস খাওয়ার পর গুরুতর অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ডিসিতে রোগবাহী মশা ও টিকের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও কার্যকর পদ্ধতিগুলো প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
হেলমেট পরে একাই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন ভারতের বেঙ্গালুরুর এক যুবক। কিন্তু পরদিন তার স্ত্রীর মোবাইলে আসে ৫০০ রুপির ট্রাফিক চালানের বার্তা। অভিযোগ, মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা যাত্রী হেলমেট পরেননি। চালানের ছবি দেখেই চমকে ওঠেন যুবকটি। কারণ, তার মোটরসাইকেলে কোনো যাত্রীই ছিলেন না—পেছনে বাঁধা ছিল একটি গিটার। ঘটনাটি বেঙ্গালুরুর। সৌভিক দত্ত নামে ওই যুবক গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে তার স্ত্রীর ই-স্কুটার নিয়ে হেব্বাল থেকে টিন ফ্যাক্টরির দিকে যাচ্ছিলেন। তার মাথায় হেলমেট ছিল এবং তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন। তবে পিঠে বাঁধা ছিল একটি গিটার। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রীর মোবাইলে একটি ই-চালানের বার্তা আসে। সেখানে ‘হেলমেট ছাড়া পিলিয়ন রাইডিং’-এর অভিযোগে ৫০০ রুপি জরিমানা করা হয়। চালানের সঙ্গে থাকা ছবিতে দেখা যায়, স্কুটারের পেছনে কোনো মানুষ নেই। বরং সৌভিকের পিঠে থাকা গিটারটিই ক্যামেরার নজরে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা গিটারটিকে পেছনে থাকা একজন যাত্রী হিসেবে ভুলভাবে শনাক্ত করেছে। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন সৌভিক। বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশকে ট্যাগ করে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন এবং তার পিঠে ছিল একটি গিটার। একই সঙ্গে তিনি ভুল চালানটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। পোস্টে তিনি চালানের নোটিশ নম্বর ৮৬২০২৫৪১ উল্লেখ করেন। সৌভিকের পোস্ট নজরে আসার পর বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশ তাকে বিষয়টি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলে। পাশাপাশি ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর এবং নির্দিষ্ট ফোন নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঘটনাটি এআইনির্ভর ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থার ভুল শনাক্তকরণের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করতে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, প্রযুক্তির এমন ভুলের সম্ভাবনাও রয়েছে। একটি গিটারকে যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করার এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জরিমানা বা চালানের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রযুক্তির শনাক্তকরণ সঠিক কি না, তা যাচাই করা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
আমেরিকানদের সঞ্চয় লু টতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিশাল ‘স্ক্যাম সিটি’ বা প্র তা র ণার ঘাঁটি। এসব ঘাঁটি থেকে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের টার্গেট করে অনলাইন, ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্র তা র ণা চালানো হচ্ছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অভিযান জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, ‘অপারেশন ব্ল্যাকআউট’-এর আওতায় বিদেশে থাকা বিশাল প্র তা র ণা কমপ্লেক্সগুলো শনাক্ত, অচল ও ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, এসব চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। প্যাটেলের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘাঁটি কোনো ছোটখাটো অফিস নয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় এমন কমপ্লেক্স রয়েছে, যেগুলো দেখতে অনেকটা পুরো শহর বা গ্রামের মতো। সেখানে পা চা রের শিকার মানুষদের জো র করে কাজ করানো হয় এবং তাদের ব্যবহার করে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা আমেরিকানদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। প্যাটেল বলেন, এসব প্র তা র ণার শিকারদের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক নাগরিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফোন কল, খুদে বার্তা এবং টেলিগ্রামের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রথমে বিশ্বাস তৈরি করা হয়। প্র তা র ণার একটি প্রচলিত কৌশল হলো অনলাইনে বন্ধুত্ব বা প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করা। পরে সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ভুক্তভোগীকে ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে অর্থ দিতে উৎসাহিত করা হয়। শুরুতে সেখানে বড় অঙ্কের লাভ দেখানো হতে পারে। কিন্তু টাকা তুলতে গেলে দেখা যায়, অর্থ আর ফেরত নেওয়া যাচ্ছে না। প্যাটেল এসব ঘাঁটিকে ‘শহর’ ও ‘গ্রাম’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সেখানে এমন অবকাঠামো রয়েছে যেখানে মানুষকে জো র করে শ্রম দিতে বাধ্য করা হয়। আগস্টে কম্বোডিয়ার প্রায় ২০০ একর আয়তনের ওসমাচ রিসোর্টে এমন একটি ঘাঁটিতে অভিযান চালানো হয়। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিন দিন ধরে ২৮টি ভবনে তল্লাশি চালিয়ে ১১৩টি হার্ডড্রাইভ, ১৫টি কম্পিউটার এবং ৩৫টি বাক্সভর্তি আলামত জব্দ করা হয়। শুধু অভিযান চালানো নয়, মানুষ যাতে প্র তা র ণার শিকারই না হন, সে বিষয়েও কাজ করছে এফবিআই। ‘অপারেশন লেভেল আপ’-এর মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ প্র তা র ণার শিকারদের আগেভাগে শনাক্ত করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এফবিআই জানিয়েছে, এই উদ্যোগের আওতায় ১০ হাজার ৪০৬ জন সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকে সতর্ক করা হয়েছে। এর ফলে আনুমানিক ৬৬০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ১২২ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ বা ফ্রিজ করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, যাদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছে, তাদের ৭৭ শতাংশই শুরুতে বুঝতে পারেননি যে তারা প্র তা র ণার শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া ৫৮৪টি প্র তা র ণামূলক ওয়েবসাইট জব্দ এবং ৭ হাজার ৬৭০টি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টের তথ্য বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেপ্টেম্বরে মাদাগাস্কারে ১৩টি প্র তা র ণা কেন্দ্র বন্ধ করতেও মার্কিন বিচার বিভাগের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করে। অভিযানে ৩ হাজার ২০০টির বেশি ইলেকট্রনিক ডিভাইস প্রক্রিয়া করা হয়। এফবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কেন্দ্র চীনা সংগঠিত অ প রা ধ চক্র পরিচালনা করছিল। তবে এসব চক্রের অবস্থানও বদলে যাচ্ছে। প্যাটেল জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের পর এখন মধ্য ও সাব-সাহারান আফ্রিকার দিকে নিজেদের ঘাঁটি সরিয়ে নিচ্ছে কিছু প্র তা র ণা চক্র। নতুন এসব এলাকাতেও অভিযান চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে এফবিআইয়ের। এফবিআইয়ের সাম্প্রতিক তথ্যেও অনলাইন প্র তা র ণার বড় ঝুঁকি উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সাইবারভিত্তিক অ প রা ধে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। ফলে বিশ্বজুড়ে গড়ে ওঠা এসব ‘স্ক্যাম সিটি’ এখন শুধু অনলাইন প্র তা র ণার কেন্দ্র নয়, বরং সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত একটি বড় অ প রা ধ নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে এফবিআইয়ের নজরে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবার আরও প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে। সন্ত্রাসবাদ, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং বাণিজ্য ও শুল্কনীতি—একাধিক ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতির সমালোচনা করেছে নয়াদিল্লি। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগকে ওয়াশিংটন যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা এবং ভারতের ওপর প্রভাব ফেলা বাণিজ্যনীতিও নয়াদিল্লির জন্য উদ্বেগের কারণ। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সাধারণত পর্দার আড়ালে আলোচনা করত নয়াদিল্লি। কিন্তু কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর ভারত এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতপার্থক্যগুলো আরও খোলাখুলিভাবে তুলে ধরছে। বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে বড় বিরোধ দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় সমস্যা এখন বাণিজ্য। ২০২৫ সালে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ভারতের পক্ষে প্রায় ৫৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল। জয়শঙ্কর বলেন, কোনো দেশ নিজের স্বার্থকে এমনভাবে অগ্রাধিকার দিতে পারে না, যাতে অন্য দেশের মানুষের জীবন কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বিশেষ করে কৃষি খাতের বিষয়টি তুলে ধরেন। ভারতের কৃষকদের সুরক্ষার জন্য দেশটি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিপণ্যের বাজারে নানা ধরনের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। জয়শঙ্করের ভাষায়, আলোচনায় মোটামুটি একটি সমঝোতা তৈরি হয়েছে এবং চুক্তিটি সম্পন্ন হলে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত হতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রুশ তেল কেনা নিয়েও ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে ভারত সতর্ক করেছিল, রুশ তেল কেনার কারণে নতুন মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তান নিয়ে ভারতের আপত্তি সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতেও ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতপার্থক্য রয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, পাকিস্তান থেকে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের যে হুমকির কথা ভারত বলে আসছে, সেটিকে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না। ভারতের জন্য বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়েছে কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। গত বছরের ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের পর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিতে নিজের ভূমিকার কথা বারবার উল্লেখ করেছেন। ভারত অবশ্য কাশ্মীরসহ এসব বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের নেতৃত্ব ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রশংসা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এ অবস্থায় ভারতের কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। মোদি সরকারের ওপরও বাড়ছে চাপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের পাশাপাশি ভারতের অভ্যন্তরেও মোদি সরকারের ওপর চাপ রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে ভারত বারবার নতি স্বীকার করছে—এমন অভিযোগ বিরোধীদের কাছ থেকে আসছে। এই পরিস্থিতিতে জয়শঙ্করের প্রকাশ্য বক্তব্যকে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন কয়েকজন বিশ্লেষক। তাদের মতে, নয়াদিল্লি এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি নিজেদের স্বার্থ ও মতপার্থক্যগুলোও প্রকাশ্যে তুলে ধরতে চাইছে। ভারতীয়দের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বহু বছর ধরে বিদেশে দক্ষ ভারতীয় কর্মীদের কাজের সুযোগকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হলেও এখন অভিবাসননীতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে। সম্পর্ক কি পুরোপুরি ভেঙে যাচ্ছে? তবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যাচ্ছে—এমনটা বলছেন না বিশ্লেষকেরা। চ্যাথাম হাউসের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক চিয়েটিগ বাজপেয়ি মনে করেন, দুই দেশই সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা ধরে রেখেছে। তাঁর মতে, একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও বাণিজ্য, সন্ত্রাসবাদ, পাকিস্তান ও অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বলছে, নয়াদিল্লি আগের তুলনায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আনতে এখন বেশি প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রে কাঁচা দুধ ও কাঁচা দুধ দিয়ে তৈরি পণ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক একটি পনির প্রত্যাহার এবং ক্যালিফোর্নিয়ার একটি খামারকে ঘিরে তদন্তে দেখা যাচ্ছে, অপরিশোধিত বা পাস্তুরাইজেশন না করা দুধজাত পণ্যের সঙ্গে যুক্ত খাদ্যজনিত অসু স্থতায় ছোট শিশুরাই বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। কাঁচা দুধ বলতে এমন দুধকে বোঝায়, যা ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বং স করার জন্য পাস্তুরাইজেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ওয়েলনেস বা স্বাস্থ্যসচেতন গোষ্ঠীর মধ্যে কাঁচা দুধ পান জনপ্রিয় হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রও বিভিন্ন সময়ে কাঁচা দুধের কথিত উপকারিতার পক্ষে কথা বলেছেন এবং এর ওপর খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের সমালোচনা করেছেন। তবে চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কাঁচা দুধের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। তাদের মতে, পাস্তুরাইজেশন না করা দুধে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকার ঝুঁকি থাকে, যা গুরুতর অসু স্থতার কারণ হতে পারে। পনিরে ই কো লাই সং ক্রমণ সম্প্রতি কাঁচা দুধ আবার আলোচনায় আসে সিয়েরা নেভাদা চিজ কোম্পানির তৈরি গ্র্যাজিয়ার্স ব্র্যান্ডের কাঁচা দুধের পনির ঘিরে। এসব পনিরের সঙ্গে যুক্ত একাধিক অঙ্গরাজ্যে ই কো লাই সং ক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর পণ্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহার করা পণ্যের মধ্যে ছিল মিডিয়াম চেডার, শার্প চেডার, জালাপেনো জ্যাক এবং মন্টেরি জ্যাক। এগুলো ৮ ও ১৬ আউন্স প্যাকেটের পাশাপাশি ৫ পাউন্ডের বড় লোফ আকারেও বিক্রি করা হয়েছিল। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাদা, ওরেগন, ইউটাহ, কলোরাডো, জর্জিয়া, টেনেসি, কেনটাকি ও মিশিগান—এই ৯ অঙ্গরাজ্যে মোট ১৩ জন অসু স্থ হয়েছেন। আক্রান্তদের অর্ধেকেরও বেশি বয়স ৫ বছর বা তার কম। আক্রান্তদের মধ্যে ৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তিনজনের হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোম বা এইচইউএস হয়েছে। এটি একটি বিরল কিন্তু গুরুতর জটিলতা, যা কিডনি বিকল হওয়া এমনকি মৃ ত্যুর কারণও হতে পারে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই এই জটিলতায় তুলনামূলক বেশি আক্রান্ত হয়। কাঁচা দুধের আরও একটি ঘটনা কাঁচা দুধের ঝুঁকি নিয়ে এটি একমাত্র ঘটনা নয়। প্রোপাবলিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অনুমোদনহীন খামারের কাঁচা দুধ পান করার পর দুই শিশু গুরুতর অসু স্থ হয়ে পড়ে। পরে রাজ্য কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করে এবং খামারটিকে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কাঁচা দুধ খাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত শত শত অসু স্থতার ঘটনা ঘটেছে। কেন শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে? খাদ্যজনিত সং ক্রমণে শিশুরা বড়দের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ায় ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন হতে পারে। অসু স্থ হলে ছোট শরীরের কারণে শিশুরা দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে। ই কো লাইয়ের মতো ব্যাকটেরিয়ার সং ক্রমণে তাদের গুরুতর জটিলতা তৈরি হওয়ার এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকিও বেশি। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, কাঁচা দুধে সালমোনেলা, ই কো লাই ও লিস্টেরিয়ার মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। সংস্থাটি দুধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাস্তুরাইজেশনকে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে সমর্থন করে। বর্তমানে ভোক্তাদের কাঁচা দুধ ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রত্যাহার সংক্রান্ত সরকারি সতর্কতা খেয়াল রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এমন পনির থাকলে ফ্রিজে থাকা পণ্যগুলো প্রত্যাহার তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পরামর্শ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট লোনের ঋণগ্রহীতাদের জন্য সুদের হার কমানোর বিশেষ সুযোগের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। যারা অটো পেমেন্ট বা স্বয়ংক্রিয় পরিশোধ ব্যবস্থায় যুক্ত হয়ে ঋণের সুদ ১ শতাংশ কমানোর সুবিধা নিতে চান, তারা এখন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা দপ্তর আগে এই সুবিধা নিতে মঙ্গলবারের মধ্যে অটো পেমেন্টে যুক্ত হওয়ার সময়সীমা দিয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে বছরের শেষ দিন পর্যন্ত করা হয়েছে। সাধারণভাবে ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনে অটো পেমেন্ট চালু করলে যে সুদের ছাড় পাওয়া যায়, নতুন এই সুবিধা তার তুলনায় চার গুণ বেশি। অর্থাৎ যোগ্য ঋণগ্রহীতারা অটো পেমেন্ট চালু করলে অতিরিক্ত ১ শতাংশ সুদ কমানোর সুবিধা পাবেন। শিক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, এই উদ্যোগ চালুর পর ইতোমধ্যে প্রায় ২০ লাখ ঋণগ্রহীতা অটো পেমেন্টে যুক্ত হয়েছেন। দপ্তরের দাবি, এর ফলে ঋণ পরিশোধের হার বাড়ছে এবং ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিস্থিতিও উন্নত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট লোনের মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণও অনেক বড়। নিউইয়র্ক ফেডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটিতে স্টুডেন্ট লোনের বকেয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এদিকে মহামারির সময় চালু হওয়া স্টুডেন্ট লোন পরিশোধ স্থগিত রাখার ব্যবস্থা শেষ করে ঋণগ্রহীতাদের আবার নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সময়ে নতুন কিছু পরিশোধ পরিকল্পনাও চালু করা হয়েছে। শিক্ষা দপ্তর বলছে, অটো পেমেন্ট চালু করলে নির্ধারিত তারিখে কিস্তি দিতে ভুলে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। নতুন রিপেমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্ল্যান বা আরএপি ব্যবস্থার সুবিধা পেতেও সময়মতো কিস্তি পরিশোধ গুরুত্বপূর্ণ। এই ১ শতাংশ সুদ কমানোর সুবিধা ১ জুলাই ২০১২-এর পর ইস্যু করা যোগ্য ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সুবিধাটি ২০২৮ সালের জুনের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। শিক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বিপুলসংখ্যক ঋণগ্রহীতা ইতোমধ্যে এই সুবিধায় যুক্ত হওয়ায় সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা সচিব লিন্ডা ম্যাকমাহন বলেছেন, বছরের শেষ পর্যন্ত আরও বেশি ঋণগ্রহীতাকে অটো পেমেন্টে যুক্ত করাই তাদের লক্ষ্য। যারা বর্তমানে অটো পেমেন্টে নেই, তারা নিজেদের স্টুডেন্ট লোন সার্ভিসারের অ্যাকাউন্টে লগইন করে অটো পেমেন্টের অপশন নির্বাচন করতে পারবেন। এরপর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য দিয়ে পেমেন্টের বিস্তারিত নিশ্চিত করতে হবে। তবে ঋণগ্রহীতা যদি ডিফল্ট অবস্থায় থাকেন, তাহলে সরাসরি অটো পেমেন্টে যুক্ত হওয়া যাবে না। তাদের প্রথমে StudentAid.gov-এ লগইন করে যোগ্য ঋণগুলো একত্র করতে এবং নতুন রিপেমেন্ট প্ল্যানে আবেদন করতে হবে। এরপর অটো পেমেন্ট চালু করার সুযোগ পাবেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে দেশটির সঙ্গে চুক্তি না হলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান নিয়ে সিদ্ধান্ত খুব শিগগিরই নেওয়া হবে এবং বিষয়টি ‘একভাবে না একভাবে’ শেষ হবে। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন দুটি পথ—ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো অথবা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া। ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কীভাবে আলোচনা করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও কঠোর ভাষায় বলেন, চুক্তি না হলে তাদের ‘উড়িয়ে দেওয়া’ হতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে বুধবার ইরানি কর্মকর্তারা জানান, দুই দেশের মধ্যে মূল মতপার্থক্যের একটি বড় বিষয় হলো চুক্তি বাস্তবায়নের সময়সূচি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিক্রিয়া প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও মন্ত্রিসভার কাছে তুলে ধরেছেন বলে সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন। ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, চুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে তার সরকার সব ধরনের চেষ্টা চালাবে এবং ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষায় দৃঢ় থাকবে। তার ভাষায়, সম্ভাব্য চুক্তি অবশ্যই দুই পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য বা ‘উইন-উইন’ ভিত্তির হতে হবে। ইরানের অর্থনীতিও দীর্ঘ যুদ্ধের চাপে আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর দেশটির মুদ্রা রিয়ালের দর এক ডলারের বিপরীতে ২৫ লাখেরও বেশি রিয়ালে নেমে যায়, যা নতুন রেকর্ড। এর মাত্র ২৭ দিন আগে, ২ সেপ্টেম্বর, প্রতি ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর প্রায় ২২ লাখে নেমেছিল। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন পক্ষ দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথ খুঁজছে। আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন শর্ত উঠে আসছে। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। সেপ্টেম্বরে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছিল। তবে ১ অক্টোবর সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তেলের দাম কিছুটা কমেছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, কূটনৈতিক সমঝোতার পাশাপাশি সামরিক বিকল্পও আলোচনার কেন্দ্রেই রয়েছে। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল এখনো অনিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বা ডিএইচএসের অর্থে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তুলে ধরে তৈরি কয়েকটি বিজ্ঞাপন ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এসব বিজ্ঞাপনের জন্য প্রায় ২ কোটি ডলার সরকারি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আইনপ্রণেতা ও নীতিশাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের একাংশের প্রশ্ন, কংগ্রেসের অনুমোদিত সরকারি অর্থ এ ধরনের প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা আইনসঙ্গত কি না। বিজ্ঞাপনগুলো গত সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক, কেবল চ্যানেল এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রচার শুরু হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পের বক্তব্য, তার প্রশাসনের নীতির প্রশংসা এবং দেশপ্রেমমূলক বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পকে কমিউনিজমের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখা যায়। পাশাপাশি পর্দায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বড় কর কমানো, দেশটির উৎপাদন ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশকে সমর্থনের মতো বার্তা দেখানো হয়। আরেকটি প্রায় এক মিনিটের বিজ্ঞাপনে রাতে মাউন্ট রাশমোরের দৃশ্যের সঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া তার বক্তব্যের অংশও রয়েছে। তৃতীয় বিজ্ঞাপনটি ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার একটি বিজ্ঞাপনের সঙ্গে প্রায় একই ধরনের। সাদা-কালো ফুটেজে ট্রাম্পকে একটি করিডোর দিয়ে হাঁটতে দেখা যায় এবং তার কণ্ঠে ‘চূড়ান্ত লড়াই’ ও বৈশ্বিক রাজনীতির বিভিন্ন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা শোনা যায়। বিজ্ঞাপনের শেষে লেখা রয়েছে—‘পেইড ফর বাই দ্য ইউএস গভর্নমেন্ট’, অর্থাৎ বিজ্ঞাপনটির অর্থ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। হাউস ডেমোক্র্যাটদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অর্থ থেকে ২ কোটি ডলার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য সরানো হয়। পরদিন ‘ন্যাশনাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন’ নামে একই পরিমাণের একটি চুক্তি মেরিল্যান্ডভিত্তিক এলএমডি এজেন্সিকে দেওয়া হয়। অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি বিজ্ঞাপনে গত সাত দিনে ২৫ লাখ ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। তবে প্রকৃত ব্যয় আরও বেশি হতে পারে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে ও ক্রিস মারফি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিনকে চিঠি দিয়ে বিজ্ঞাপনের অর্থ ও চুক্তি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তাদের বক্তব্য, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জন্য বরাদ্দ করা অর্থ রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়ে থাকলে তা সরকারি অর্থ ব্যবহারের নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে এ নিয়ে শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই প্রশ্ন ওঠেনি। রিপাবলিকান সিনেটর ও সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনও বলেছেন, এ ধরনের বিজ্ঞাপনের অর্থ করদাতাদের অর্থ থেকে দেওয়া উচিত নয়। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস আবার ট্রাম্পের বিজ্ঞাপনগুলোর সঙ্গে হাঙ্গেরির সাবেক নেতা ভিক্টর অরবানের ব্যবহৃত বিজ্ঞাপনের তুলনা করেছেন। বিজ্ঞাপনগুলো আইনসঙ্গত কি না, তা এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। কয়েকজন আইন ও নীতিশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ ব্যবহার করে সরকারি প্রচার বা রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের ওপর থাকা বিধিনিষেধের সঙ্গে বিজ্ঞাপনগুলো সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে সরকারি অর্থে কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেআইনি—এমন সিদ্ধান্তও এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। সরকারি জবাবদিহি সংস্থা জিএওর ব্যাখ্যায় সরকারি প্রচারের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা গোপন করা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান বিজ্ঞাপনগুলোতে সরকারি অর্থে প্রচারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে হোয়াইট হাউস বিজ্ঞাপনগুলোকে রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে দেখছে না। প্রশাসনের ভাষ্য, এগুলো ‘পাবলিক সার্ভিস অ্যানাউন্সমেন্ট’ বা জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন, যার উদ্দেশ্য দেশপ্রেম ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভালোবাসার বার্তা তুলে ধরা। প্রশাসন অতীতের বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনের উদাহরণও দিয়েছে। তবে সমালোচক ও কিছু বিশেষজ্ঞের বক্তব্য, আগের অনেক সরকারি বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে নির্দিষ্ট সরকারি কর্মসূচি বা সেবা সম্পর্কে জানানো। বর্তমান বিজ্ঞাপনগুলোর ক্ষেত্রে সেই উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয় বলে তারা মনে করছেন। নির্বাচনের আগে সরকারি অর্থে এসব বিজ্ঞাপন প্রচার হওয়ায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। বিজ্ঞাপনগুলো সরকারি জনসচেতনতামূলক প্রচারের সীমার মধ্যে রয়েছে, নাকি রাজনৈতিক প্রচারণার পর্যায়ে পড়ছে—এ নিয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও গতি পাচ্ছে উৎপাদন খাত। ২০২৬ সালের আগস্টে দেশটির ম্যানুফ্যাকচারিং খাত সম্প্রসারণের অবস্থানেই ছিল। ইনস্টিটিউট ফর সাপ্লাই ম্যানেজমেন্টের ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই আগস্টে ৫৪ দশমিক ৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে এই সূচক ছিল ৫৫ দশমিক ৬, যা ২০২২ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ। তবে এই ইতিবাচক চিত্রের আড়ালে রয়েছে বড় একটি সমস্যা। কারখানাগুলো বাড়লেও তাদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক উপাদান, শ্রমিক, ইস্পাতসহ বিভিন্ন উপকরণের সরবরাহ এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে। সরবরাহকারীদের পণ্য পৌঁছানোর গতিও টানা নবম মাসে ধীর হয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ এগোলেও সেই উৎপাদন ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। শুধু কারখানা বানালেই হবে না যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ফিরিয়ে আনার আলোচনা বা ‘রিশোরিং’ এখন মূলত নতুন কারখানা নির্মাণ ও বড় অঙ্কের বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে হচ্ছে। কিন্তু একটি বড় কারখানা কখনোই একা চলে না। এর পেছনে থাকে অসংখ্য ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান। কেউ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তৈরি করে, কেউ মেশিনের অংশ বানায়, কেউ বিশেষ ধরনের টুল তৈরি করে, আবার কেউ কারখানার যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ করে। তাই বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা তৈরিতে উৎসাহিত করাই যথেষ্ট নয়। সেই কারখানাগুলো চালু হওয়ার পর প্রয়োজনীয় উপকরণ ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ করার মতো দেশীয় সক্ষমতাও থাকতে হবে। ছোট প্রতিষ্ঠানই বড় ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ছোট মেশিন শপ ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেরই দক্ষ কর্মী, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভালো ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু আধুনিক উৎপাদনের চাহিদা পূরণে তাদের অনেকেই যন্ত্রপাতি, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া আধুনিক করার প্রয়োজন অনুভব করছে। সমস্যাটি সবসময় দক্ষতার অভাব নয়। অনেক সময় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় একটি ছোট প্রতিষ্ঠান তার সক্ষমতা বড় পরিসরে কাজে লাগাতে পারে না। আধুনিক উৎপাদনে শুধু ফোন বা ই-মেইলের মাধ্যমে অর্ডারের অবস্থা জানানো যথেষ্ট নয়। ক্রেতাদের জানতে হয় একটি অর্ডারের কতটুকু কাজ শেষ হয়েছে, কোথায় রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ করা সম্ভব হবে কি না। এই তথ্য দ্রুত দিতে না পারলে ভালো মানের পণ্য তৈরি করেও কোনো সরবরাহকারী বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য দুর্বল অংশ হয়ে উঠতে পারে। মান নিয়ন্ত্রণও বড় বিষয় যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়লে স্থানীয় সরবরাহকারীদের প্রতিযোগিতাও বাড়বে। তখন শুধু একটি যন্ত্রাংশ তৈরি করতে পারলেই হবে না; একই মানের পণ্য বারবার, নির্ভুলভাবে এবং নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ করতে হবে। মেশিন তৈরির ক্ষেত্রে অনেক সময় এক ইঞ্চির হাজার ভাগের এক ভাগের মতো অতি ক্ষুদ্র মাপের পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। উৎপাদনের সময় আধুনিক পরিমাপ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো অংশে ত্রুটি তৈরি হচ্ছে কি না তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। এ ধরনের আধুনিকায়ন হয়তো বিলিয়ন ডলারের নতুন কারখানার মতো আলোচনায় আসে না। কিন্তু নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এর গুরুত্ব অনেক। শুধু নতুন মেশিন কিনলেই সমাধান নয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হলেও শুধু দামি মেশিন কিনলেই সমস্যার সমাধান হবে না। একটি ছোট মেশিন শপে যদি প্রতিটি যন্ত্রাংশ তৈরিতে বারবার মেশিন সেটআপ করতে হয়, অতিরিক্ত হাতে কাজ করতে হয় বা দীর্ঘ সময় মেশিন বন্ধ রাখতে হয়, তাহলে বড় পরিসরে প্রতিযোগিতা করা কঠিন। আধুনিক মাল্টি-অপারেশন মেশিন একই যন্ত্রে একাধিক কাজ করার সুযোগ দিতে পারে। এতে পণ্য এক মেশিন থেকে অন্য মেশিনে নেওয়ার প্রয়োজন কমে, সময় বাঁচে এবং বেশি পরিমাণে উৎপাদন করা সহজ হয়। লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি কেনা নয়। লক্ষ্য হলো এমন একটি উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীরা মান, সরবরাহের সময় এবং খরচ—তিন ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতা করতে পারে। দক্ষ কর্মীর ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, তা পরিচালনা করার মতো দক্ষ মানুষ না থাকলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো কঠিন। আধুনিক ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে মেশিন প্রোগ্রাম করা, পরিচালনা করা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ত্রুটি শনাক্ত করার জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন ধরে অভিজ্ঞ মেশিন অপারেটর ও কারিগরদের কাছ থেকে হাতে-কলমে কাজ শিখে নতুন প্রজন্মের কর্মীরা দক্ষতা অর্জন করেছে। কিন্তু অভিজ্ঞ কর্মীরা অবসরে গেলে তাদের বহু বছরের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের কর্মীদের এমন একটি শিল্পে প্রবেশ করতে হচ্ছে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি সফটওয়্যার, অটোমেশন, পরিমাপ প্রযুক্তি ও আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থার জ্ঞানও প্রয়োজন। তাই ভবিষ্যতের উৎপাদন খাতে দক্ষ কারিগরি কর্মী ও আধুনিক প্রযুক্তি—দুটিকেই একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। সরকারও ছোট উৎপাদন প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসন বা এসবিএও এই ঘাটতি মোকাবিলায় উদ্যোগ নিচ্ছে। ২০২৬ সালের মে মাসে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও বিশেষায়িত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে মতামত চেয়েছে। একই সঙ্গে ছোট সরবরাহকারীদের বড় পরিসরে কাজ করার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া বড় শিল্প ক্রেতা ও ছোট সরবরাহকারীদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করতে এসবিএ সরবরাহকারী ম্যাচমেকিং কর্মসূচিও আয়োজন করেছে। ছোট উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য এসবিএ ৫ কোটি ডলারের অনুদান কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে। রিশোরিংয়ের অর্থ শুধু কারখানা ফিরিয়ে আনা নয় যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ফিরিয়ে আনার প্রকৃত সাফল্য শুধু কতগুলো কারখানা তৈরি হলো বা কত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হলো—তা দিয়ে মাপা যাবে না। এর সঙ্গে দেখতে হবে, ওই কারখানাগুলোকে সরবরাহ করার মতো ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যাপ্ত মেশিন, দক্ষ কর্মী, অর্থায়ন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা আছে কি না। ম্যাককিনসির গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের উৎপাদিত পণ্য আমদানি করেছে। এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ পণ্য সরবরাহের ঘনত্ব, জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্ব এবং ভূরাজনৈতিক দূরত্বসহ বিভিন্ন কারণে বিশেষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এতে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু বড় কারখানা নয়, স্থিতিশীল দেশীয় সরবরাহ নেটওয়ার্কও গুরুত্বপূর্ণ। আসল পরীক্ষা হবে কারখানার ভেতরে যুক্তরাষ্ট্র যত ইচ্ছা বড় বড় কারখানা নির্মাণের ঘোষণা দিতে পারে। কিন্তু সেসব কারখানায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও উপকরণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে না পারে, দক্ষ কর্মী তৈরি করতে না পারে এবং আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করতে না পারে, তাহলে উৎপাদন ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে। কারখানা উদ্বোধনের বড় আয়োজনের চেয়ে তাই তার পেছনে থাকা হাজারো ছোট ব্যবসার সক্ষমতার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। একটি উৎপাদন অর্থনীতির শক্তি শুধু কতগুলো কারখানা তৈরি করা যায়, তার ওপর নির্ভর করে না। বরং সেই কারখানাগুলো সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী, দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য—তার ওপরও নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতের পরবর্তী ধাপে তাই বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি মেশিন শপ, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী, প্রযুক্তিবিদ এবং দক্ষ কর্মীদের সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশ্বজুড়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বড় ধরনের খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবের সঙ্গে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান দুই যু দ্ধ একসঙ্গে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমানে বিশ্ব একই সময়ে জ্বালানি, খাদ্য, সার ও অর্থায়ন—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে চাপের মুখে রয়েছে। এর প্রভাব উন্নয়নশীল ও গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে। জ্বালানি সংকট বাড়াচ্ছে চাপ বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তাও খাদ্য সংকটের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। কারণ কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য পরিবহনের সঙ্গে জ্বালানির দাম সরাসরি যুক্ত। তেলের বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। এরই মধ্যে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা এবং দেশটির ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপের ডিজেল ফিউচারসের দাম রেকর্ড পর্যায়ে উঠেছে। রাশিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ডিজেল রপ্তানিও গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। শস্য সরবরাহেও বাড়ছে উদ্বেগ খাদ্য সংকটের আরেকটি বড় কারণ হতে পারে শস্যের বৈশ্বিক সরবরাহে বাধা। ইউক্রেন যু দ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে গমসহ বিভিন্ন শস্যের রপ্তানি দীর্ঘদিন ধরেই নানা বাধার মুখে পড়ছে। বিশ্বের বড় শস্য রপ্তানিকারক দেশগুলো যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠাতে না পারে, তাহলে সরবরাহ কমে গিয়ে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে দরিদ্র ও আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সারের সংকটও বড় সমস্যা কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সার উৎপাদনকারী কয়েকটি দেশ মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় অবস্থিত। এসব অঞ্চলে সংঘাত ও উৎপাদন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের সংকট দেখা দিতে পারে। সারের দাম ও সরবরাহে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত খাদ্যপণ্যের বাজারেও পড়তে পারে। শক্তিশালী এল নিনো নিয়ে সতর্কতা জয়শঙ্করের সতর্কতার কেন্দ্রে রয়েছে শক্তিশালী এল নিনো। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার ধরন বদলে দিতে পারে। এর ফলে কোথাও অতিরিক্ত খরা, আবার কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে খাদ্য সরবরাহে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের হিসাব অনুযায়ী, চলমান এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত প্রায় ৫ লাখ তাপজনিত মৃ ত্যু হতে পারে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোতে। একই সময়ে বিশ্বের স্থলভাগের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জয়শঙ্কর নীতিনির্ধারকদের অন্য দেশগুলোর ওপর এসব সংকটের প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, একটি দেশের সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু সেই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বৈশ্বিক জ্বালানি, খাদ্য ও অর্থনীতির আন্তঃনির্ভরতার কারণে এর প্রভাব অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
দ্রুত নগরায়ণ, আবাসন সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতের বাড়িঘর কেমন হবে, তা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন স্থপতি ও প্রকৌশলীরা। এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে মাটির নিচে বা মাটিকে বাড়ির কাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যবহার করে বসবাসের ধারণা। চরম আবহাওয়ার প্রভাব কমানো এবং জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের বাড়ির সম্ভাবনা থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সঙ্গে রয়েছে বেশ কিছু বড় প্রকৌশলগত, আর্থিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ। মাটির নিচে বাড়ির ধারণা নতুন নয় মাটিকে ব্যবহার করে ঘরকে প্রাকৃতিকভাবে উষ্ণ বা ঠান্ডা রাখার পদ্ধতি আধুনিক স্থাপত্যের অনেক আগের। আইসল্যান্ডে শত শত বছর ধরে মাটি ও ঘাস দিয়ে ঘরের দেয়াল ও ছাদ আচ্ছাদিত করে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও বাতাস থেকে সুরক্ষা নেওয়া হয়েছে। আধুনিক স্থাপত্যে সেই ধারণাকেই উন্নত জলরোধী ব্যবস্থা, প্রকৌশল ও নকশার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। উত্তর চীনে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড হাউস অব দ্য ফিউচার’ নামে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পে মাটির নিচে ভল্ট আকৃতির কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার স্কটসডেলেও মাটির নিচে নামানো উঠানকে ঘিরে বাড়ির নকশা দেখা গেছে। মেক্সিকোর স্থপতি হাভিয়ের সেনোসিয়াইনের ‘কাসা অর্গানিকা’ও এ ধরনের নকশার উদাহরণ। বাড়িটির ওপর ঘাস ও মাটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা শীতকালে তাপ ধরে রাখতে এবং গ্রীষ্মে ঘর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। কোবার পেডিতে বাস্তব উদাহরণ অস্ট্রেলিয়ার খনিশহর কোবার পেডি ভূগর্ভস্থ বসবাসের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণগুলোর একটি। সেখানে আনুমানিক অর্ধেক মানুষ মাটির নিচের বাড়িতে বসবাস করেন। ভূগর্ভস্থ এসব ঘরে সারা বছর প্রায় ২৩ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় থাকে। এর কারণ, মাটির কয়েক ফুট নিচের তাপমাত্রা বাইরের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল। স্থপতি এরলা দোগ ইনজালদোত্তিরের মতে, সঠিক জায়গায় মাটিকে বাড়ির কাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যবহার করলে তাপমাত্রার ওঠানামা কমানো, গরম ও ঠান্ডা করার প্রয়োজনীয়তা কমানো এবং কিছু চরম আবহাওয়া থেকে বাড়িকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। দাবানল ও অতিরিক্ত গরমে সুবিধা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত তাপ, দাবানল ও প্রবল বাতাসের ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে মাটির নিচে বা আংশিকভাবে মাটিতে আবৃত বাড়ি কিছু এলাকায় বাড়তি সুরক্ষা দিতে পারে। জলবায়ু-সহনশীল আবাসন নিয়ে কাজ করা দ্য পাওলেলে হালে অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ডেভিড গিলিল্যান্ড বলেন, উপযুক্ত ভৌগোলিক এলাকায় মাটিকে বাড়ির বাইরের আবরণ হিসেবে ব্যবহার করলে তাপমাত্রার বড় ওঠানামা কমানো এবং গরম ও ঠান্ডা করার চাহিদা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বাতাস, দাবানল ও কিছু চরম আবহাওয়ার প্রভাব থেকেও সুরক্ষা মিলতে পারে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি গবেষণাতেও নগর ভূগর্ভস্থ স্থানকে জলবায়ু পরিবর্তন ও সম্পদের ঘাটতির মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্ভাবনাময় সম্পদ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পানি থেকে আলো পর্যন্ত বড় প্রকৌশল চ্যালেঞ্জ তবে মাটির নিচে বাড়ি নির্মাণ যতটা আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে, বাস্তবে তা ততটা সহজ নয়। পানি ঢোকা ঠেকানো, নিষ্কাশন ব্যবস্থা, মাটির চাপ, রেডন গ্যাস, বায়ু চলাচল, প্রাকৃতিক আলো, জরুরি সময়ে বের হওয়ার পথ এবং দীর্ঘমেয়াদি জলরোধী ব্যবস্থা—সবকিছুর পরিকল্পনা শুরু থেকেই করতে হয়। গিলিল্যান্ডের মতে, এসব সুবিধা বাস্তব হলেও প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জও যথেষ্ট। সঠিকভাবে তৈরি হলে ভূগর্ভস্থ বাড়ি কার্যকর ও টেকসই হতে পারে। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণ ভবিষ্যতে বড় আর্থিক সমস্যায় ফেলতে পারে। ইনজালদোত্তিরও সতর্ক করে বলেছেন, জলরোধী ব্যবস্থা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে ভুল করার সুযোগ নেই। প্রাকৃতিক আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করতেও দক্ষ নকশা প্রয়োজন। পাশাপাশি মাটির চাপ সামলানোর কারণে কাঠামোগত ব্যয় সাধারণ কাঠ বা স্টিলের বাড়ির তুলনায় বেশি হতে পারে। মাটির নিচে আসলে কী আছে? ভূগর্ভস্থ মানচিত্র তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান এক্সোডিগোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেরেমি সুয়ার্ডের মতে, ভূগর্ভে নির্মাণের সবচেয়ে কঠিন বিষয় শুধু প্রকৌশল নয়—বরং মাটির নিচে আগে থেকেই কী রয়েছে, সেই অনিশ্চয়তা। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির লাইনের পাশাপাশি অপ্রত্যাশিত মাটি, পাথর ও ভূগর্ভস্থ পানিও নির্মাণকাজে সমস্যা তৈরি করতে পারে। কমন গ্রাউন্ড অ্যালায়েন্সের এক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে সুয়ার্ড জানান, ভূগর্ভস্থ পরিষেবা লাইনের ক্ষতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এক বছরে ৮৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয় এবং প্রায় ৬ লাখ ৬৯ হাজার ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে মানুষের পছন্দ প্রকৌশলগত সমস্যার পাশাপাশি মানুষের মানসিক পছন্দও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে। অধিকাংশ মানুষ ঘরে প্রাকৃতিক আলো, বাইরের দৃশ্য, খোলা বাতাস এবং প্রকৃতির সঙ্গে যোগাযোগ চান। ইনজালদোত্তিরের মতে, এটাই হয়তো মাটির নিচের বাড়িকে মূলধারায় নিয়ে আসার সবচেয়ে বড় বাধা। উঠান, আলো ঢোকার ব্যবস্থা ও বড় জানালার মাধ্যমে কিছু সমস্যা কমানো গেলেও অনেক মানুষ পুরোপুরি ভূগর্ভস্থ বাড়িতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ নাও করতে পারেন। পুরোপুরি ভূগর্ভস্থ নয় বরং আংশিক মাটিসুরক্ষিত বাড়ি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে মানুষের বসবাসের জন্য পুরোপুরি জানালাবিহীন ভূগর্ভস্থ বাড়ির চেয়ে আংশিকভাবে মাটিতে আবৃত বাড়িই বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে। পাহাড়ের ঢালে বাড়ি তৈরি করে কয়েকটি দিক মাটি দিয়ে সুরক্ষিত করা এর একটি উদাহরণ। ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টেফান শ্যাভেজ-নর্গার্ডের মতে, অনেক এলাকার বর্তমান জোনিং, নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা ভূগর্ভস্থ বাড়িকে মাথায় রেখে তৈরি হয়নি। ফলে এ ধরনের নতুন আবাসন অনুমোদন ও নির্মাণে সময় এবং বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, গ্রামীণ বা অনিবন্ধিত কিছু এলাকায় তুলনামূলক নমনীয় নির্মাণবিধির কারণে এ ধরনের বাড়ি আগে দেখা যেতে পারে। তবে এর জনপ্রিয়তা নির্ভর করবে স্থানীয় আবহাওয়া, নির্মাণ ব্যয়, জ্বালানির দাম, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির ওপর। বিশেষজ্ঞদের সামগ্রিক মূল্যায়ন হলো, মাটির নিচের বাড়ি হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারের মূলধারায় পরিণত হবে না। বরং দাবানল ও অতিরিক্ত গরমপ্রবণ এলাকায় মাটি, ঘাস ও সবুজ ছাদকে বাড়ির নকশায় কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে আংশিক মাটিসুরক্ষিত আবাসন ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
নিউইয়র্কে আফগান নারীদের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এক নারী সাংবাদিকের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করে গলায় হাত চালানোর ভঙ্গি করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে হওয়া ওই কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর আচরণ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগান নারী সাংবাদিক আসিফকে প্রশ্ন করেন, আফগান নারীদের ওপর তালেবানের বিভিন্ন বিধিনিষেধ পরিবর্তনে পাকিস্তানের বার্তা কী। তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের সুসম্পর্ক থাকার সময় ইসলামাবাদ কেন এসব নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি, সেটিও জানতে চান তিনি। প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে আসিফ সাংবাদিকের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করেন। এরপর তাঁকে ওই পোশাকে আফগানিস্তানে ফিরে না যাওয়ার কথা বলতে বলতে গলার ওপর হাত চালানোর ভঙ্গি করেন। ভিডিওতে তাঁর বক্তব্য অসম্পূর্ণ শোনা গেলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী এই অঙ্গভঙ্গিকে সহিং সতার ইঙ্গিত বা হু মকির মতো বলে ব্যাখ্যা করেছেন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সমালোচকেরা বলেন, আফগান নারীদের অধিকার ও তালেবানের নীতি নিয়ে করা গুরুতর প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করা এবং এ ধরনের অঙ্গভঙ্গি করা অনুপযুক্ত। ভিডিওতে কথোপকথনের পর আসিফ ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে হাসতেও দেখা যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আলোচনার সময় আসিফ আফগানদের দীর্ঘদিন আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও পাকিস্তানের ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আফগানিস্তানকে ভালো প্রতিবেশী নয় বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি সীমান্তপারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বেড়েছে। ঘটনাটি ২৭ সেপ্টেম্বর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও ছড়িয়ে পড়লে খাজা আসিফের বক্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি নিয়ে নতুন করে সমালোচনা দেখা দেয়। তবে ভিডিওতে করা অঙ্গভঙ্গির অর্থ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ব্যাখ্যা ভিন্ন হলেও, একাধিক সংবাদমাধ্যম এটিকে সাংবাদিকের প্রতি হু মকি-সদৃশ অঙ্গভঙ্গি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন H-1B ভিসার আবেদনের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ১ লাখ ডলারের ফি আটকে দিয়েছেন আরেক ফেডারেল বিচারক। বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক হেওয়ার্ড গিলিয়াম এই নির্দেশ দেন। তার মতে, ফি কার্যকর করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা এবং পররাষ্ট্র দপ্তর প্রয়োজনীয় নিয়ম প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। ফলে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে এই ফি কার্যকর করা থেকে বিরত থাকতে হবে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিক ইউনিয়ন, নিয়োগকর্তা ও বিভিন্ন অলাভজনক সংগঠনের একটি জোট এই মামলা করে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারক গিলিয়াম ফি আটকে দেওয়ার নির্দেশ দেন। মামলাটি গত অক্টোবরে দায়ের করা হয়েছিল। বিচারক গিলিয়ামকে ২০১০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ফেডারেল বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এটি H-1B ফি নিয়ে দ্বিতীয় বড় ধরনের আদালতের বাধা। এর আগে জুনে বোস্টনের একজন ফেডারেল বিচারক ২০টি অঙ্গরাজ্যের করা পৃথক মামলায় একই ১ লাখ ডলারের ফি সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছিলেন। জুলাইয়ে বোস্টনভিত্তিক একটি আপিল আদালত সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের অনুরোধ নাকচ করে দেয়। ফলে ফি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক আইনি লড়াই একই সঙ্গে চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন নতুন H-1B ভিসার ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের এই ফি আরোপ করেছিল। এর আগে নতুন H-1B আবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ফি মিলিয়ে সাধারণত প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারত, যদিও আবেদন ও নিয়োগকর্তার ধরন অনুযায়ী অঙ্ক ভিন্ন হতে পারে। নতুন ফি সেই ব্যয়কে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। এই ফি নিয়ে আইনি বিতর্কের একটি বড় বিষয় হলো, প্রেসিডেন্ট এককভাবে এমন ফি নির্ধারণ করতে পারেন কি না। ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইনের অধীনে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে এই ব্যবস্থা নিয়েছিল। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, H-1B কর্মসূচির অপব্যবহার হয়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের জায়গা নিয়েছে। অন্যদিকে মামলাকারী সংগঠনগুলোর বক্তব্য, এত বড় অঙ্কের ফি আরোপের আগে প্রশাসনকে নির্ধারিত নিয়ম প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতো। বুধবারের রায়ে বিচারক গিলিয়াম মূলত এই প্রক্রিয়াগত বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থাৎ আদালতের বর্তমান নির্দেশটি H-1B কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা বা বিদেশি কর্মী নিয়োগের নীতিগত প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এদিকে ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে মামলা চলার মধ্যেই মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আগস্টে প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের একটি স্থায়ী ফি চালুর উদ্যোগ নেয়। সেটি চূড়ান্ত হলে নতুন করে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে ওই প্রস্তাবিত ফি নিয়ে সম্ভাব্য মামলা বর্তমান ১ লাখ ডলারের ফি সংক্রান্ত মামলাগুলোর তুলনায় ভিন্ন আইনি প্রশ্ন তৈরি করবে। ১ লাখ ডলারের ফি প্রথমে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। পরে ট্রাম্প প্রশাসন সেটির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে নতুন H-1B আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বুধবারের আদালতের আদেশ সেই বর্ধিত সময়ের মধ্যে ফি বাস্তবায়নে নতুন বাধা তৈরি করল। H-1B হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী কর্মভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগকর্তারা বিশেষায়িত দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন এমন কাজে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারেন। প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষভাবে এই কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর সাধারণভাবে ৬৫ হাজার H-1B ভিসার মূল কোটা রয়েছে। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নত ডিগ্রি অর্জনকারী কর্মীদের জন্য আরও ২০ হাজার ভিসার সুযোগ থাকে। H-1B ভিসার মেয়াদ সাধারণত তিন বছর পর্যন্ত দেওয়া হয় এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা আরও তিন বছর বাড়ানো যেতে পারে। ফলে এই কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। H-1B ভিসায় বড় অঙ্কের ফি আরোপের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন আবেদনকারীদের যাচাই প্রক্রিয়াও আরও কঠোর করেছে। একই সঙ্গে উচ্চ দক্ষতা ও বেশি বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যে ভিসা বাছাইয়ের নতুন পদ্ধতির প্রস্তাবও করা হয়েছে। এদিকে মামলাটির বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ড আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির আইনজীবী স্টিভ ব্রেসলার বলেছেন, আদালতের সিদ্ধান্ত এমন একটি ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দিচ্ছে যা হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছিল। দেশটির বৃহত্তম ব্যবসায়ী সংগঠন ইউএস চেম্বার অব কমার্সও ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে আলাদা মামলা করেছে। ওই মামলায় নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংগঠনটি আপিল করছে। ফলে H-1B ফি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতে একাধিক আইনি লড়াই চলমান রয়েছে। তবে বুধবারের রায়কে এই ফি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সংস্থাগুলোকে ১ লাখ ডলারের ফি বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের স্থায়ী ফি আলাদা আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজের জন্য H-1B কর্মসূচি ব্যবহার করে থাকেন। ফলে ভিসা ফি, আবেদন প্রক্রিয়া এবং আদালতের সিদ্ধান্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা বিদেশি পেশাজীবী ও তাদের সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: রয়টার্স
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহ-পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ভারতীয় নাগরিক ও ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। মঙ্গলবারের ওই ঘটনায় তিনি হামলাকারীকে ঠেকানোর পাশাপাশি ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার সুযোগ করে দেন, যাতে বিমানের যাত্রী ও অন্য সদস্যরা ভেতরে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারেন। পরে দায়িত্বের বাইরে থাকা দুই পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করান। ভারতীয় ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্মিত মাচ্ছারের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার ঘণ্টা উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা থাকা এই পাইলট ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থা স্পাইসজেটে প্রায় ১১ বছর কাজ করেছেন। মঙ্গলবারের ঘটনার পর তার ভূমিকার কারণে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ঘটনার সময় বিমানটি ইসরায়েলের উদ্দেশে যাচ্ছিল। উড্ডয়নের একপর্যায়ে সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের ওপর হামলা করেন বলে কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এতে তিনি একাধিকবার আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সক্রিয় করতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও অন্যরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান রয়টার্সকে জানান, আহত অবস্থায় মাচ্ছার তার অবশিষ্ট শক্তি ব্যবহার করে ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারী তখন বিমানের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের সামনে অবস্থান করছিলেন এবং সেটিতে আঘাত করছিলেন। কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই সময় বিমানটির নিয়ন্ত্রণে গুরুতর সমস্যা তৈরির আশঙ্কা ছিল। ঘটনার পর বিমানে থাকা দুই দায়িত্বের বাইরে থাকা পাইলট ককপিটে গিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। তাদের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে। অবতরণের পর আহত ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হামলাকারীও আহত হয়েছেন এবং তাকেও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে। ঘটনার পর বিমানের ভেতরের কিছু দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মাচ্ছারকে অক্সিজেন মাস্ক পরা অবস্থায় আহত অবস্থায় দেখা যায়। যাত্রীদের কয়েকজনও রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব দৃশ্যের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফ্লাইটের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় বিমানটি মাত্র ১২ মিনিটে প্রায় ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়। তীব্রভাবে উচ্চতা কমে যাওয়ার সময় বিমানের রাডারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন পর্যায়ে এই ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। হামলার ঘটনায় সহ-পাইলটকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে ওমানের নাগরিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এক বছরেরও কম সময় আগে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দিয়েছিলেন বলে জেরুজালেম পোস্টকে সূত্র জানিয়েছে। তবে তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে এবং হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনাটিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার দিক থেকেও তদন্ত করছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য বা এর সঙ্গে কোনো সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের বর্তমান শারীরিক অবস্থাও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। হামলার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তার আঘাত কতটা গুরুতর এবং বর্তমানে তিনি কেমন আছেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। বিমানটিতে মোট ১৮০ জন ছিলেন বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ককপিটে হামলার পর যাত্রীদের কয়েকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। তাদের ভূমিকার পাশাপাশি দায়িত্বের বাইরে থাকা দুই পাইলটের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয় বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিমানে এমন ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক হলেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে ককপিটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ক্রুদের প্রশিক্ষণ এবং যাত্রীদের জরুরি ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফ্লাইদুবাইয়ের এই ঘটনার তদন্তে হামলার সঠিক কারণ, ককপিটে কীভাবে পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স