সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরস্থানের উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে
আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরস্থানের উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে

শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ, তাঁর মা-বাবার থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে প্রাথমিকভাবে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।   মঙ্গলবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই অর্থ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।   উন্নয়নকাজ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য রংপুরের জেলা প্রশাসককে নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।   আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণের কথা উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ভূমিকা ও স্মৃতি আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে সরকার কাজ করতে চায়।   এ সময় রংপুর স্টেডিয়াম আবু সাঈদের নামে করার আগ্রহের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্তে রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের নাম ইতোমধ্যে ‘শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম’ করা হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ০:২৯
যুক্তরাষ্ট্রের ছয় অঙ্গরাজ্যে বাড়ির ইন্স্যুরেন্স বছরে ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের ছয় অঙ্গরাজ্যে বাড়ির ইন্স্যুরেন্স বছরে ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির ইন্স্যুরেন্সের বার্ষিক গড় খরচ ৫ হাজার ডলারের বেশি। এর মধ্যে ফ্লোরিডায় খরচ সবচেয়ে বেশি - ৮ হাজার ৪৭১ ডলার। দেশটির গড় ২ হাজার ৮৭২ ডলারের তুলনায় যা প্রায় তিন গুণ। ইন্স্যুরেন্স ডটকমের জন্য সংগ্রহ করা ২০২৬ সালের মূল্যতথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।    ফ্লোরিডার পর সবচেয়ে বেশি খরচ নেব্রাস্কায়, বছরে গড়ে ৫ হাজার ৫১৩ ডলার। কলোরাডোয় ৫ হাজার ৫১১, ওকলাহোমায় ৫ হাজার ৩৭৮, কানসাসে ৫ হাজার ২৮৯ এবং লুইজিয়ানায় ৫ হাজার ১৮৫ ডলার। এই ছয় অঙ্গরাজ্যের বাইরে টেক্সাসেও খরচ জাতীয় গড়ের অনেক ওপরে - বছরে ৪ হাজার ৫৮২ ডলার।    ফ্লোরিডায় গত বছরের তুলনায় গড় প্রিমিয়াম ৫৪৩ ডলার বেড়েছে। আর নেব্রাস্কায় বেড়েছে ৯৬০ ডলার, যা এই হিসাব অনুযায়ী অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ডলার বৃদ্ধি। ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও হারিকেনের মতো দুর্যোগের ঝুঁকির পাশাপাশি বাড়ি মেরামত বা পুনর্নির্মাণের ব্যয় ইন্স্যুরেন্সের দাম বাড়াতে পারে। তবে কোনো একটি কারণ দিয়ে সব অঙ্গরাজ্যের মূল্যবৃদ্ধি ব্যাখ্যা করা যায় না।   নিউইয়র্কে একই ধরনের পলিসির বার্ষিক গড় খরচ ১ হাজার ৮৪৪ ডলার। গত বছরের চেয়ে তা ১৩৯ ডলার বেশি। নিউ জার্সিতে গড় ১ হাজার ৪৪৯ ডলার, পেনসিলভানিয়ায় ১ হাজার ৪৩৪ এবং জর্জিয়ায় ২ হাজার ৩০১ ডলার। ফলে ৫ হাজার ডলারের তালিকায় না থাকলেও নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকদের খরচ বেড়েছে।   এই পরিসংখ্যান সব বাড়ির মালিকের প্রকৃত বিলের গড় হিসেবে পড়া ঠিক হবে না। কোয়াড্রান্ট ইনফরমেশন সার্ভিসেস ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের একটি একক পরিবারের বাড়ি এবং একই ধরনের কভারেজ ধরে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পলিসির মূল্য সংগ্রহ করেছে। হিসাবে বাড়ির কাঠামোর জন্য ৩ লাখ ডলারের কভারেজ ও সাধারণ ক্ষতির ক্ষেত্রে ১ হাজার ডলার ডিডাক্টিবল ধরা হয়েছে। বাড়ির ঠিকানা, নির্মাণের ধরন এবং বেছে নেওয়া কভারেজ অনুযায়ী কারও প্রিমিয়াম এই অঙ্কের চেয়ে কম বা বেশি হতে পারে।    অধিকাংশ সাধারণ বাড়ির ইন্স্যুরেন্সে বন্যার ক্ষতি কভার করা হয় না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বন্যা ইন্স্যুরেন্স কর্মসূচি। তাই বন্যার ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় আলাদা কভারেজ প্রয়োজন হলে বাড়ি রক্ষার মোট খরচ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রিমিয়ামের চেয়ে বেশি হতে পারে। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ০:১৫
মোহাম্মদ আব্দুর রহিম
মেয়েকে ড্রাইভিং শেখাতে গিয়ে বাংলাদেশি বাবার মৃত্যু, পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটির তহবিল সংগ্রহ

মিশিগানের ওয়ারেনে মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখানোর সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি আমেরিকান মোহাম্মদ আব্দুর রহিম। রোববার বিকেলে নিজ বাসার সামনে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটির উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহও শুরু হয়েছে।    স্থানীয় সময় ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ওয়ারেনের ওয়ার্নার অ্যাভিনিউয়ের ২৪ হাজার ব্লকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৬২ বছর বয়সী আব্দুর রহিম তার ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাচ্ছিলেন। গাড়ি ঘুরিয়ে পার্ক করার অনুশীলনের একপর্যায়ে গাড়িটি হঠাৎ পেছনের দিকে চলে গিয়ে তাকে ধাক্কা দেয় এবং কিছু দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।    দুর্ঘটনার সময় তার মেয়ে ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। ঘটনাটি তদন্ত করছে ওয়ারেন পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক ক্র্যাশ রিকনস্ট্রাকশন ইউনিট। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার সঙ্গে মাদক বা অ্যালকোহলের সংশ্লিষ্টতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী বা ঘটনার বিষয়ে তথ্য থাকা ব্যক্তিদের তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বানও জানিয়েছে পুলিশ।    আমেরিকা বাংলার কমিউনিটি সূত্রে নিহতের নাম মোহাম্মদ আব্দুর রহিম এবং তার বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিবার ও কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে বড় মেয়ের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন। তার একমাত্র ছেলে বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। ঢাকার ধানমন্ডিতে তাদের পারিবারিক বাড়ি রয়েছে বলেও জানা গেছে।    আব্দুর রহিমের আকস্মিক মৃত্যুতে মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। যে বাবা মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই শেখানোর সময়ই ঘটে গেল তার জীবনের শেষ দুর্ঘটনা।   এদিকে পরিবারের আর্থিক সংকটও আরও গভীর হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আব্দুর রহিম ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। তার আকস্মিক মৃত্যুতে একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে জানাজা ও দাফনের খরচ, বাসাভাড়া, খাবার, বিল এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ পরিবারের ওপর এসে পড়েছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত মেয়েটিও কঠিন মানসিক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে পরিবারকে সহায়তার জন্য শুরু করা তহবিল সংগ্রহের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   পরিবারের সম্মতিতে তাদের পাশে দাঁড়াতে অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু করা হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা করার জন্য কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা সম্ভব না হলে তহবিল সংগ্রহের তথ্যটি অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং পরিবারের জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।   মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ এগিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি পুলিশ।     সহযোগিতা করতে: https://www.launchgood.com/v4/campaign/help_a_grieving_warren_family?src=6954850

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২৩:২৩
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে  কনস্যুলার ফি পরিশোধ
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে ১ অক্টোবর থেকে কনস্যুলার ফি পরিশোধে নতুন নিয়ম

বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, নিউইয়র্কে আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে কনস্যুলার সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ফি পরিশোধের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে। কনস্যুলেটের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্বশরীরে সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের সব ধরনের কনস্যুলার ফি শুধুমাত্র ডেবিট অথবা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।   বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, নিউইয়র্ক বুধবার, ১ জুলাই প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। কনস্যুলার সেবাকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে কনস্যুলেটে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে মানি অর্ডার বা ব্যাংক সার্টিফাইড চেক গ্রহণ করা হবে না। নগদ অর্থ দিয়েও কনস্যুলার ফি পরিশোধের সুযোগ থাকবে না।   তবে ডাকযোগে পাঠানো আবেদনের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। এসব আবেদনের জন্য আগের নিয়মই বহাল থাকবে এবং মানি অর্ডার অথবা ব্যাংক সার্টিফাইড চেকের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে।   কনস্যুলেটে সেবা নিতে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধ ও সক্রিয় ডেবিট অথবা ক্রেডিট কার্ড সঙ্গে রাখার জন্য অনুরোধ করেছে কনস্যুলেট। একই সঙ্গে সেবা গ্রহণের আগে ফি পরিশোধের নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   কনস্যুলেট জানিয়েছে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আরও দক্ষ, সময়োপযোগী ও জবাবদিহিমূলক কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করাই এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য। নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে প্রবাসীদের সহযোগিতাও কামনা করেছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, নিউইয়র্ক।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২২:৫৩
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠানোর পথ খুলল সুপ্রিম কোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠানোর পথ খুলল সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রে নিজ দেশের বাইরে অন্য দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর নীতি আপাতত চালু রাখতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের একটি রায় স্থগিত করেছে। তবে নীতিটি বৈধ কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। আদালত ডিসেম্বরে মামলাটির শুনানি করবে।    এখানে ‘তৃতীয় দেশ’ বলতে এমন দেশ বোঝানো হচ্ছে, যেটি ফেরত পাঠানো ব্যক্তির নিজের দেশ নয় এবং যেখানে তাঁর আগে কোনো সম্পর্কও নাও থাকতে পারে। এই নীতি মূলত তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে, যাঁদের নামে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার চূড়ান্ত আদেশ রয়েছে, কিন্তু আদেশে উল্লেখিত কোনো দেশে তাঁদের পাঠানো যাচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্ট সব অভিবাসীকে যেকোনো দেশে পাঠানোর সাধারণ অনুমতি দেয়নি। নির্দিষ্ট এই নীতির ওপর নিম্ন আদালতের বাধা স্থগিত করেছে।    মামলার কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হলো, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গন্তব্য জানিয়ে সেখানে নির্যাতন বা নিপীড়নের আশঙ্কা তুলে ধরার যথাযথ সুযোগ দিতে হবে কি না। ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক ব্রায়ান মারফি নীতিটিকে বেআইনি বলে রায় দিয়েছিলেন। আপিল আদালতও তাঁর রায়ের অধিকাংশ বহাল রাখে। সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় আপাতত স্থগিত করেছে; তিন বিচারপতি স্থগিতাদেশের বিরোধিতা করেছেন।   কোন দেশে পাঠানো হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এ নীতির আওতায় মানুষকে মেক্সিকো, দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা, নিরক্ষীয় গিনি, লাইবেরিয়া ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রসহ বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সংকলিত হিসাবে, ২০২৫ সাল থেকে ২৯টি তৃতীয় দেশে ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে পাঠানো হয়েছে; তাঁদের অধিকাংশকে পাঠানো হয়েছে মেক্সিকোয়। এটি সংগঠনগুলোর হিসাব, আদালতের অনুমোদিত দেশের তালিকা নয়।   ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, যাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না, তাঁদের অপসারণে তৃতীয় দেশের ব্যবস্থা প্রয়োজন। অন্যদিকে মামলাকারীদের আইনজীবীরা বলছেন, গন্তব্য ও ঝুঁকি সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ ছাড়া কাউকে পাঠালে তিনি নিপীড়ন বা নির্যাতনের মুখে পড়তে পারেন। আদালতের মঙ্গলবারের আদেশে এই বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি; ডিসেম্বরে শুনানির পর চূড়ান্ত রায় আসবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২২:২৮
নাহিদুল হক খান সাহেলের মেয়ে নাওয়ার খান
জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নাহিদুল হক খান সাহেলের মেয়ে নাওয়ার খান, আইনজীবী হিসেবে শপথ

জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনজীবী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জর্জিয়ার বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত মুখ নাহিদুল হক খান সাহেলের মেয়ে নাওয়ার খান। মেয়ের এই সাফল্যে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন তার বাবা-মা। নাওয়ারের মায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আবেগঘন পোস্টের পর জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ তাকে ও তার পরিবারকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।   নাওয়ারের মা তার পোস্টে জানান, গত সপ্তাহে মেয়ে তাদের জানায় যে সে জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এরপর এই সপ্তাহে পরিবারের সদস্যরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিতে দেখেন। এর মধ্য দিয়ে আইনজীবী হিসেবে নাওয়ারের পেশাজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।   মেয়ের এই অর্জনকে পরিবারের জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তার মা বলেন, আইনজীবী হওয়ার পথটি সহজ ছিল না। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে নাওয়ারকে নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। দীর্ঘ সেই পথ পেরিয়ে বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনজীবী হিসেবে শপথ নিতে দেখা বাবা-মায়ের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের।   পোস্টে তিনি আরও জানান, মেয়ের আইন পড়া এবং একদিন আইনজীবী হয়ে ওঠা ছিল বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন। তবে নাওয়ার সেই স্বপ্নকে নিজের স্বপ্নে পরিণত করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। মেয়ের সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি নাওয়ারের জীবনের আরও অনেক অর্জনের কেবল শুরু।   নাওয়ারের বাবা নাহিদুল হক খান সাহেল জর্জিয়া তথা যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটিতে পরিচিত মুখ এবং তিনি জর্জিয়া স্টেট বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক। রাজনৈতিক ও কমিউনিটি কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত নাহিদুল হক খান সাহেল। উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি প্রবাসীদের অন্যতম পরিচিত সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা বা ফোবানার সঙ্গেও তার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।   ২০২৫ সালে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ফোবানার ৩৯তম সম্মেলনের কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নাহিদুল হক খান সাহেল।   নাওয়ারের সাফল্যের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন। বিভিন্ন মন্তব্যে নাওয়ারের ভবিষ্যৎ পেশাজীবনের সাফল্য কামনা করার পাশাপাশি তার বাবা-মাকেও অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। একজন বাংলাদেশি আমেরিকান তরুণীর আইন পেশায় প্রবেশের এই অর্জনকে অনেকেই নতুন প্রজন্মের জন্য আনন্দ ও গর্বের একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।   জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নাওয়ার খান এখন আইন পেশায় তার নতুন যাত্রা শুরু করলেন। পরিবারের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের এই মুহূর্তে নাওয়ারের সাফল্যে আনন্দিত তার বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জর্জিয়ার বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির শুভকামনাও।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২২:১০
চ্যাটজিপিটির নতুন প্ল্যান মাসে ৫০০ ডলার, বদলাচ্ছে ২০০ ডলারের সুবিধাও
চ্যাটজিপিটির নতুন প্ল্যান মাসে ৫০০ ডলার, বদলাচ্ছে ২০০ ডলারের সুবিধাও

চ্যাটজিপিটির সবচেয়ে বেশি ব্যবহারসীমার নতুন প্ল্যান ‘প্রো ৫০০’ চালু করেছে ওপেনএআই। মাসে ৫০০ ডলারের এই প্ল্যানে চ্যাটজিপিটি প্লাসের তুলনায় ২৫ গুণ ব্যবহারসীমা এবং ‘আলট্রাফাস্ট’ সুবিধা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে মাসে ২০০ ডলারের প্রো প্ল্যানে নতুন গ্রাহক নেওয়া আবার শুরু হয়েছে, তবে তাঁদের জন্য আগের তুলনায় কম ব্যবহারসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ডেভডে সম্মেলনে নতুন প্ল্যানের ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।   ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত গ্রাহকদের জন্য এখন মাসে ১০০, ২০০ ও ৫০০ ডলারের তিনটি প্রো প্ল্যান রয়েছে। তিনটিতেই প্রো মডেল, কোডেক্স, ডিপ রিসার্চ, ছবি তৈরি ও ফাইল আপলোডের মতো সুবিধা আছে। তবে সবচেয়ে বেশি অন্তর্ভুক্ত ব্যবহারসীমা প্রো ৫০০-তে। ব্যক্তিগত প্রো প্ল্যানগুলোর মধ্যে আলট্রাফাস্টও শুধু এটিতেই পাওয়া যাচ্ছে।    আলট্রাফাস্ট দিয়ে জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা মডেল চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক ও কোডেক্সে ব্যবহার করা যায়। কোডেক্সে এই মোডে প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৩০০ টোকেন তৈরি হতে পারে বলে ওপেনএআইয়ের দাবি, যা সাধারণ মোডের তুলনায় সর্বোচ্চ আট গুণ দ্রুত। টোকেন হলো এআইয়ের লেখা প্রক্রিয়া ও তৈরির একক। এই গতি সব ধরনের কাজ আট গুণ আগে শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা নয়। পাশাপাশি আলট্রাফাস্ট চালালে প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত ব্যবহারসীমাও সাধারণ মোডের তুলনায় আট গুণ হারে খরচ হয়।    নতুন প্ল্যানের পাশাপাশি ২০০ ডলারের গ্রাহকদের জন্য পরিবর্তনটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিজনেস ইনসাইডারের হিসাবে, নতুন প্রো ২০০ প্ল্যানে ওয়ার্ক ও কোডেক্সের ব্যবহারসীমা প্লাসের ২০ গুণ থেকে কমে ১০ গুণ হচ্ছে। চ্যাটে জিপিটি-৬ প্রো ব্যবহারের সীমা সপ্তাহে ২০০ বার থেকে ১০০ বার হবে। ওপেনএআই তার সহায়তা পাতায় কম ব্যবহারসীমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে মাসিক মূল্য ২০০ ডলারই রেখেছে।    যোগ্য পুরোনো প্রো ২০০ গ্রাহকেরা তাঁদের আগের ব্যবহারসীমা ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারবেন। এরপর নতুন সীমা কার্যকর হবে; যাঁদের ওপর পরিবর্তনটি প্রযোজ্য, তাঁদের ইমেইলে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে ওপেনএআই। পুরোনো সীমা সাময়িকভাবে বহাল থাকলেও তাঁরা আলট্রাফাস্ট পাবেন না। প্রো ১০০ বা প্রো ২০০ গ্রাহকেরা অতিরিক্ত ক্রেডিট কিনেও আপাতত ওই সুবিধা চালু করতে পারবেন না।    বেশি খরচের প্ল্যানটির লক্ষ্য মূলত নিয়মিত বড় গবেষণা, বিশ্লেষণ ও কোডিংয়ের কাজে ওয়ার্ক ও কোডেক্স ব্যবহারকারীরা। তবে ৫০০ ডলার দিলেই সব সুবিধা সীমাহীন হয়ে যায় না। কাজের ধরন, ব্যবহৃত মডেল ও সেটিংস অনুযায়ী ব্যবহারসীমা কত দ্রুত শেষ হবে, তা বদলায়। গ্রাহকেরা অ্যাকাউন্টের ‘ইউসেজ’ অংশে অবশিষ্ট সীমা ও তা পুনরায় চালু হওয়ার সময় দেখতে পারবেন। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২১:৫৫
কেনার কয়েক সপ্তাহেই রং বদলাচ্ছে ১,১৯৯ ডলারের নতুন আইফোন
কেনার কয়েক সপ্তাহেই রং বদলাচ্ছে ১,১৯৯ ডলারের নতুন আইফোন, টাকা ফেরত চাইছেন ক্রেতারা

নতুন আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের বাইরের রং নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ক্রেতা। তাঁদের দাবি, ফোনের পেছনের ক্যামেরা লেন্সের চারপাশে রং ফিকে হয়ে যাচ্ছে। ফোন ফেরত দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ। ১৮ সেপ্টেম্বর বাজারে আসা আইফোন ১৮ প্রোর যুক্তরাষ্ট্রে শুরুর দাম ১ হাজার ১৯৯ ডলার।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারগান্ডি রঙের একটি প্রো ম্যাক্সের ছবি দিয়ে এক ক্রেতা জানান, তিনটি ক্যামেরা লেন্সের চারপাশের অংশ মূল রঙের তুলনায় হালকা ও গোলাপি দেখাচ্ছে। সেখানে ময়লা বা আঁচড় নেই এবং পরিষ্কার করার পরও রঙের পার্থক্য দূর হয়নি বলে তাঁর দাবি। আরও কয়েকজন ব্যবহারকারী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। কালো রঙের মডেল নিয়েও অভিযোগ এসেছে।   তবে ফোনের রং স্থায়ীভাবে বদলে যাচ্ছে, নাকি ক্যামেরার আশপাশের উপরিভাগে অন্য কোনো কারণে রঙের পার্থক্য দেখা দিচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কতটি ফোনে এমন হয়েছে বা নির্দিষ্ট কোনো উৎপাদন ব্যাচে সমস্যা রয়েছে কি না, সে তথ্যও পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে অ্যাপল এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।   এর আগে আইফোন ১৭ প্রোর কমলা রঙের কিছু ফোন গোলাপি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় রং বসানোর পর অ্যালুমিনিয়ামের উপরিভাগ সিল করার প্রক্রিয়া নিয়ে সম্ভাব্য প্রশ্ন তুলেছিল প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম অ্যাপলইনসাইডার। কিন্তু নতুন আইফোনের অভিযোগের পেছনেও একই কারণ রয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   অ্যাপলের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আইফোন ১৮ প্রোর ক্যামেরার আশপাশের বিশেষ উপরিভাগে অন্য জিনিসের উপাদান লেগে কখনো দাগের মতো দেখাতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে তা পরিষ্কার করা যায়। তবে ছবিসহ অভিযোগ করা ক্রেতা জানিয়েছেন, তাঁর ফোনে পরিষ্কার করার পরও পার্থক্য রয়ে গেছে। ফোনটি পরীক্ষা ছাড়া তাঁর অভিযোগের কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।    যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি অ্যাপল থেকে কেনা পণ্য হাতে পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে নির্ধারিত শর্তে ফেরত বা বদলের সুযোগ রয়েছে। অন্য বিক্রেতার কাছ থেকে কিনলে সেই প্রতিষ্ঠানের নিয়ম প্রযোজ্য হবে। রং পরিবর্তন ওয়ারেন্টির আওতায় পড়বে কি না, তা নির্ভর করবে অ্যাপলের পরীক্ষায় উৎপাদনগত ত্রুটি পাওয়া যায় কি না তার ওপর।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২১:২৬
ডাকাতির নাটক সাজিয়ে ইউ ভিসার চেষ্টা
ডাকাতির নাটক সাজিয়ে ইউ ভিসার চেষ্টা, ক্যামেরায় ফাঁসের পর দোকানকর্মীকে ভারতে ফেরত

যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধের শিকার দেখিয়ে এক দোকানকর্মীর জন্য ইউ ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সাউথ ক্যারোলাইনার বিরেনকুমার রমেশভাই প্যাটেল। সেই উদ্দেশ্যে দোকানে সাজানো ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা তিনি ফেডারেল আদালতে স্বীকার করেছেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় জড়িত ভারতীয় নাগরিক দোকানকর্মীকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।   তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ মার্চ ফেয়ারফিল্ড কাউন্টির একটি দোকানে ঘটনাটি সাজানো হয়। প্যাটেল মুখ ঢেকে ডাকাতের ভূমিকায় ছিলেন। ঘটনার পর জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করা হয় এবং পুলিশ এসে দোকানের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও দেখে। প্রথমে ঘটনাটি ডাকাতি মনে হলেও ভিডিও আরও খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা সেটি সাজানো বলে শনাক্ত করেন।   পরে প্যাটেল ও দোকানকর্মী পুলিশের ঘটনার প্রতিবেদন সংগ্রহ করেন। এরপর দোকানকর্মীকে গুরুতর হামলার শিকার হিসেবে দেখিয়ে ইউ ভিসার আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় একটি প্রত্যয়নপত্রে শেরিফের স্বাক্ষর চাওয়া হয়। মার্কিন বিচার বিভাগের বক্তব্য, এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য ছিল দোকানকর্মীর জন্য অভিবাসন সুবিধা পাওয়া।   ইউ ভিসা নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের জন্য একটি সাময়িক অভিবাসন মর্যাদা। শর্ত পূরণ করলে এর মাধ্যমে পরে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পথ তৈরি হতে পারে। তাই এ ঘটনায় সরাসরি ‘গ্রিন কার্ড নেওয়ার জন্য ডাকাতি’ বললে ভিসা ও স্থায়ী বসবাসের মর্যাদার পার্থক্যটি আড়াল হয়।    প্যাটেল ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে দোষ স্বীকার করেছেন, তবে তাঁর সাজা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এ অপরাধে তাঁর সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। বিচারক সাজা ঘোষণার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবেন। দোকানকর্মীকে ইতিমধ্যে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে; প্যাটেলকে নয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২১:০
টেক্সাসের বেলেয়ারের কিটিং পরিবারের সদস্য
ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া টেক্সাসের পরিবারে ইমিগ্রেশন জটিলতায় বিচ্ছেদের শঙ্কা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন টেক্সাসের বেলেয়ারের কিটিং পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের ধারণা ছিল, তাঁর প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন ব্যবস্থা মূলত অপরাধীদের লক্ষ্য করবে। এখন পরিবারের পুত্রবধূ আনিই হার্নান্দেজ-এসকোবারকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্বামী, ছোট মেয়ে এবং সাত বছরের ছেলেকে নিয়ে পরিবারটির সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত আসবে।   হন্ডুরাসের নাগরিক আনিই ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এসে আশ্রয়ের আবেদন করেন। পরে তিনি মার্কিন নাগরিক প্যাট্রিক কিটিংকে বিয়ে করেন। তাঁদের একটি ছোট মেয়ে আছে। আনিইর আগের সম্পর্কের ছেলে ড্যানিয়েলকেও ছোটবেলা থেকে নিজের সন্তানের মতো বড় করছেন প্যাট্রিক।   বিয়ের ভিত্তিতে আনিইর অভিবাসন প্রক্রিয়া এগোচ্ছিল। তাঁদের বিয়ে বৈধ বলে দাখিল করা আবেদন প্রায় দুই বছর পর গত জুনে অনুমোদন পায়। তবে সেই অনুমোদন নিজে থেকে আনিইকে গ্রিন কার্ড দেয়নি। আইনজীবী জেনিফার লোপেজের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী ধাপে এগোনোর জন্য আদালতে চলা তাঁর অভিবাসন মামলাটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা প্রয়োজন ছিল। গত মাসে একজন অভিবাসন বিচারক সেই আবেদন নাকচ করেন।   এর পেছনে রয়েছে অভিবাসন মামলার কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখার একটি নিয়ম নিয়ে পরিবর্তন। ২০২৪ সালে চালু হওয়া নিয়মটি এমন কিছু ক্ষেত্রে বিচারকদের মামলা স্থগিত রাখার সুযোগ দিয়েছিল, যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার অন্য কোনো পথের আবেদন করছিলেন। গত জুনে টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের করা মামলার পর একটি ফেডারেল আদালত নিয়মটির প্রয়োগ বন্ধ করে দেন।   পরিবারটির আইনজীবী হিউস্টন ক্রনিকলকে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আনিইকে হন্ডুরাসে গিয়ে সেখান থেকে ভিসার প্রক্রিয়া চালাতে হতে পারে। তাঁর হিসাবে, তাতে অন্তত এক বছর অপেক্ষার পর আরও কয়েক মাস লাগতে পারে। এটি আইনজীবীর দেওয়া সম্ভাব্য সময়সীমা; আনিইর দেশ ছাড়ার বা ফিরে আসার কোনো চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।    পরিবারটির সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ড্যানিয়েলকে নিয়ে। আনিই, প্যাট্রিক ও তাঁদের ছোট মেয়ে হন্ডুরাসে গেলে সাত বছরের ড্যানিয়েলকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হতে পারে বলে পরিবারটি আশঙ্কা করছে। প্যাট্রিক জানান, তিনি ছেলেটিকে বড় করলেও এখনো তাঁর আইনগত অভিভাবকত্ব নেই। পরিবারটি ড্যানিয়েলের দেখাশোনার ব্যবস্থা করতে আইনি সহায়তা নিচ্ছে।   আনিইর শাশুড়ি ইনগ্রিড কিটিং বলেন, তিনি এখনো সীমান্ত নিরাপত্তার পক্ষে। কিন্তু নীতির প্রভাব নিজের পরিবারে পড়ায় পরিস্থিতিটি তাঁর কাছে অন্য রকম হয়ে উঠেছে। আর প্যাট্রিক বলেন, ভোট বদলে দিয়ে যদি এই সংকট এড়ানো যেত, তাহলে তিনি ট্রাম্পের পরিবর্তে কমলা হ্যারিসকে ভোট দিতেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২০:২৮
কারাবন্দি নারীর অর্থ দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে ৬৫ হাজার ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সরকারি কর্মী
কারাবন্দি নারীর অর্থ দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে ৬৫ হাজার ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সরকারি কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কারাবন্দি এক নারীর আর্থিক বিষয়াদি দেখভালের দায়িত্ব পেয়ে প্রায় ৬৫ হাজার ডলার আত্মসাতের অভিযোগে জেসিকা এলিজাবেথ ম্যাকভে (৪৮) নামের এক সরকারি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত জেসিকা ফ্লোরিডার ১২তম জুডিশিয়াল সার্কিটের পাবলিক ডিফেন্ডার অফিসে ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।   সারাসোটা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মানাটি কাউন্টি জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় এক ভুক্তভোগী নারী ভরসা করে জেসিকাকে নিজের আর্থিক বিষয়াদি পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু এই বিশ্বাসের চরম অপব্যবহার করে জেসিকা অননুমোদিত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, ব্যাংক ট্রান্সফার, এটিএম থেকে অর্থ উত্তোলন এবং কেনাকাটার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন।   পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী জেলে থাকাকালীন তার অজান্তেই জেসিকা নিজের নামে খোলা একাধিক ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ করেছেন ওই নারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে। আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য ১৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে আইনজীবী নিয়োগের কথা বলে জেসিকা একটি 'পাওয়ার অব অ্যাটর্নি' নথিতে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর নেন।   কিন্তু পরবর্তীতে কোনো আইনজীবী নিয়োগ না করেই জেসিকা সেই অর্থ নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেন। গত ১৩ আগস্ট জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী যখন জেসিকার সঙ্গে দেখা করেন, তখন জেসিকা দাবি করেন যে, সাক্ষীরা যেন আদালতে হাজির না হন সেজন্য তিনি এক লাখ ডলার ঘুষ দিয়েছেন এবং সে কারণেই ওই নারী মুক্তি পেয়েছেন।   পরদিন ১৫ আগস্ট ব্যাংক স্টেটমেন্ট হাতে পাওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী তার অ্যাকাউন্টে এসব অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর ১৮ আগস্ট তিনি সারাসোটা পুলিশের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তে নামে কর্তৃপক্ষ।   ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে গত ২৩ সেপ্টেম্বর জেসিকার বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড থেফট, প্রতারণা ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরিসহ মোট পাঁচটি গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে সারাসোটা কাউন্টিতে জেসিকা ম্যাকভের বিচারকাজ চলছে এবং আগামী ৩০ অক্টোবর আদালতে তার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এই প্রতারণার শিকার আরও কেউ আছেন কি না, তা নিয়েও নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২০:১৬
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনে সরকারি তহবিলের ২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনে সরকারি তহবিলের ২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গুণগান গেয়ে তৈরি প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনে করদাতাদের তহবিলের দুই কোটি (২০ মিলিয়ন) ডলার ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) বিরুদ্ধে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগমুহূর্তে জাতীয় স্তরের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও আমেরিকান ফুটবল লীগের সম্প্রচারের সময় প্রচারিত এই বিজ্ঞাপনগুলোকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক ও তোলপাড় শুরু হয়েছে।   বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের শীর্ষ নেতারাও একে জনগণের অর্থের নজিরবিহীন অপব্যবহার এবং প্রোপাগান্ডা-বিরোধী আইনের চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে তীব্র সমালোচনার মুখেও হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, বিজ্ঞাপনগুলো মূলত জনসচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ।   মঙ্গলবার ডিএইচএস সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিনকে পাঠানো এক চিঠিতে সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্যাটি মারে এবং ক্রিস মারফি অভিযোগ করেন যে, ট্রাম্পের 'ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল'-এর আওতায় মূলত সীমান্ত সুরক্ষায় ব্যবহারের জন্য রাখা অর্থ অনৈতিকভাবে এই বিজ্ঞাপনী প্রচারণায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   সিনেটররা একে 'চুরির সমতুল্য' উল্লেখ করে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। বিজ্ঞাপন বিশ্লেষক সংস্থা 'অ্যাডইমপ্যাক্ট'-এর তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহেই তিনটি বিজ্ঞাপনের পেছনে আড়াই মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি নথি অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বাজেট দপ্তর থেকে এই অর্থ ছাড় করার পরদিন মেরিল্যান্ডভিত্তিক 'এলএমডি এজেন্সি'কে ২০ মিলিয়ন ডলারের একটি জাতীয় প্রচারণার চুক্তি দেওয়া হয়।   বিজ্ঞাপনগুলোর ধরন ও উপস্থাপন রীতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সাধারণ জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনে সরকারি সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া তুলে ধরা হলেও ট্রাম্পের এসব বিজ্ঞাপনে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক স্লোগান, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ফুটেজ এবং পটভূমিতে 'লাভ মি, লাভ মি' গানের ব্যবহার দেখা গেছে।   এমনকি একটি বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পকে যুদ্ধবাজদের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত লড়াই’-এর বার্তা দিতে দেখা যায়, যার নিচে লেখা থাকে ‘পেইড ফর বাই দ্য ইউএস গভর্নমেন্ট’। এমন বিজ্ঞাপনের সমালোচনা করে রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস একে হাঙ্গেরির কর্তৃত্ববাদী প্রচারণার সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং সিনেট মেজরিটি লিডার জন থুন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এ ধরনের রাজনৈতিক কাজের ব্যয় জনগণের করের টাকা থেকে আসা উচিত নয়।   সামনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউস ও সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ইরান যুদ্ধের মতো সংকট নিয়ে সাধারণ ভোটারদের ক্ষোভ যখন বাড়ছে, তখন ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি 'মাগা আইএনসি'-তে শত শত মিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় তহবিলের কোটি কোটি ডলার এভাবে অপচয় করায় ক্ষোভে ফুঁসছেন সচেতন নাগরিকরা।   ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় ফিরলে তারা ক্ষমতার এই নির্লজ্জ অপব্যবহার ও অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত পরিচালনা করবেন এবং জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনবেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৯:৫৫
নিউইয়র্কের বাফেলোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভ্রাম্যমাণ সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা
নিউইয়র্কের বাফেলোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভ্রাম্যমাণ সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা

নিউইয়র্কের বাফেলো ও পশ্চিম নিউইয়র্ক এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অপ্রত্যাশিত এক দুঃসংবাদ এসেছে। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নিউইয়র্কের পক্ষ থেকে বাফেলোতে তাদের ভ্রাম্যমাণ কনসুলার সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।   সোমবার রাতে কনস্যুলেটের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অনিবার্য কারণবশত’ বাফেলোতে এই সেবা স্থগিত করা হলো। তবে বিজ্ঞপ্তিতে সেবা বন্ধের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি, যা স্থানীয় কমিউনিটিতে নানা জল্পনা-কল্পনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রায় ৩৭০ মাইল দূরে অবস্থিত বাফেলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পাসপোর্ট ও অন্যান্য জরুরি সেবা নেওয়ার ভোগান্তি কমাতে কনস্যুলেট নিয়মিতভাবে সেখানে ভ্রাম্যমাণ সেবা প্রদান করে আসছিল। আগামী ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর বাফেলোতে এই সেবার সময়সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং এবারই প্রথম সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা দেওয়ার কথাও ছিল।   কিন্তু আকস্মিক এই ঘোষণায় প্রবাসীদের সেই প্রত্যাশা সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কনস্যুলেটের বর্তমান সরকারি ওয়েবসাইটে বাফেলোর সেবা বন্ধের কারণ বা পুনরায় চালুর নতুন কোনো সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   সেবা বন্ধের প্রকৃত কারণ নিয়ে বাফেলোর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে, কনসুলার সেবা আয়োজন ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের মধ্যে নেতৃত্ব, ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে।   এর আগে ২০২৪ ও ২০২৬ সালেও সংগঠনগত বিরোধ এবং স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছিল। অনেকেই ধারণা করছেন, প্রবাসী সংগঠনগুলোর এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়হীনতার কারণেই কনস্যুলেট সেবা স্থগিতের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। যদিও কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ স্পষ্ট করা হয়নি।   সাধারণ প্রবাসীরা এই পরিস্থিতিতে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সংগঠনের নেতৃত্ব বা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। কিন্তু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বলি হয়ে সাধারণ প্রবাসীদের কনসুলার সেবার মতো মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের অনেকেই প্রস্তাব করেছেন, রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে থাকা কোনো নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম বা গ্রহণযোগ্য সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে এই সেবা পুনরায় চালু করা হোক। বাফেলোর প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা, কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দ্রুত পুনর্বিবেচনা করবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে একটি নিরপেক্ষ ব্যবস্থায় বাফেলোতে ভ্রাম্যমাণ কনসুলার সেবা পুনরায় চালু করবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৯:৪০
ভাইকে বিয়ের অভিযোগ, ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব কি বাতিল করতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন?
ভাইকে বিয়ের অভিযোগ, ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব কি বাতিল করতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন?

মার্কিন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে কথিত অভিবাসন জালিয়াতির তদন্ত শুরু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মিনেসোটার এই ডেমোক্র্যাট নেত্রীর নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে বলেও গুঞ্জন উঠেছে। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের ‘বর্ডার জার’ টম হোম্যান নিশ্চিত করেছেন যে, প্রগতিশীল ‘স্কোয়াড’ সদস্য ওমরের বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) একটি 'ফৌজদারি' তদন্ত পরিচালনা করছে।   মূলত নিজের ভাইকে বিয়ে করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার পুরনো অভিযোগ থেকেই এই তদন্তের সূত্রপাত, যদিও ইলহান ওমর শুরু থেকেই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন। প্রথম মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ওমরকে এর আগেও একাধিকবার সোমালিয়ায় ফেরত পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।   তবে সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর ও অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবী মাইকেল ওয়াইল্ডসের মতে, ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা তদন্তকারীদের জন্য বেশ কঠিন একটি কাজ হবে। কারণ, আদালতে সফলভাবে বৈবাহিক জালিয়াতি প্রমাণের জন্য সরকারকে সন্দেহাতীতভাবে দেখাতে হবে যে, ওমর শুধুমাত্র মার্কিন অভিবাসন আইন ফাঁকি দিয়ে সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই ইচ্ছাকৃতভাবে আহমেদ নুর সাইদ এলমিকে বিয়ে করেছিলেন।   ওয়াইল্ডস জানান, বিয়ের পর যদি ওমর ও এলমি মনেও করে থাকেন যে এই বিয়ে এলমির মার্কিন অভিবাসনের পথ সহজ করবে, তবু আদালতে এটিকে জালিয়াতি হিসেবে গণ্য করা হবে না। এ ধরনের মামলায় প্রমাণ দাখিল করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উচ্চ মাপকাঠি পেরোতে হয়। তবে যদি প্রমাণ হয় যে তারা সত্যিই জালিয়াতি করেছেন, তাহলে ওমরের পাঁচ বছরের জেল, আড়াই লাখ ডলার জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।   ২০০৯ সালে হওয়া ওই বিয়ের কারণে আইনি সীমাবদ্ধতার জন্য সরাসরি ফৌজদারি মামলা করা কঠিন হতে পারে। এর বদলে ইলহান ওমরকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করার (ডিন্যাচারালাইজেশন) পথ খোলা রয়েছে, যাকে টম হোম্যান একটি 'গুরুতর আইনি প্রক্রিয়া' বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এর জন্য প্রমাণ করতে হবে যে, ২০০০ সালে নাগরিকত্ব নেওয়ার সময় ওমর বা তার বাবা মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন।   ওমরের দাবি, তার বাবা যখন নাগরিকত্ব পান, তখন তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নাগরিক হয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেসের রেকর্ড ও অনলাইনে অনেকেই দাবি করছেন যে সে সময় তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন না এবং তার জন্মতারিখ পরিবর্তন করা হয়েছিল। এই অভিযোগের সত্যতা মিললে, কিংবা তার বাবাও যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকেন, তবে ওমরের নাগরিকত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।   গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে ইলহান ওমর জানান, ডিএইচএস থেকে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি এবং তার বিয়ে বা অভিবাসন সংক্রান্ত কোনো তদন্তের বিষয়ে তিনি অবগত নন। ডানপন্থিরা সবসময় এমন অপপ্রচার চালায় বলে তিনি এই বিষয়টিকে পাত্তা দিচ্ছেন না। তবে মাইকেল ওয়াইল্ডস জানিয়েছেন, তদন্তের বিষয়ে ওমরের না জানাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।   সরকার নিজেদের আইনি প্রক্রিয়া গুছিয়ে আনার আগে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই তদন্তের তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য নয়। পরিশেষে তিনি যোগ করেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও একজন কংগ্রেস সদস্যের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন কোনো অভিযোগ আনা অনুচিত এবং প্রসিকিউশনকে অবশ্যই সঠিক প্রমাণ সাপেক্ষে অগ্রসর হতে হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৯:১৫
চীন থেকে নকল ওজন কমানোর ওষুধ এনে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি, ৭১ বছরের জেলের মুখে দুই ভারতীয়
চীন থেকে নকল ওজন কমানোর ওষুধ এনে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি, ৭১ বছরের জেলের মুখে দুই ভারতীয়

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নকল ওষুধ পাচার এবং বিক্রির অভিযোগে দুই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ইন্ডিক্টমেন্ট) গঠন করেছে একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, অভিযুক্ত স্বপনদীপ রায় এবং ভিকি রামানচা চীন থেকে জনপ্রিয় ওজন কমানোর ওষুধ 'ওজেম্পিক'-এর নকল সংস্করণ পাচার করে মার্কিন ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে বিক্রি করতেন।   গত মঙ্গলবার ইতালি থেকে প্রত্যর্পণের পর ফ্লোরিডার আদালতে হাজির করা হলে স্বপনদীপ রায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত এই জালিয়াতি চক্রটি সক্রিয় ছিল। তারা নকল প্যাকেজিং, লেবেল ও নির্দেশিকা ব্যবহার করে ক্রেতাদের বোঝাতেন যে এগুলো আসল ওজেম্পিক ওষুধ।   মূলত রোগীদের প্রতি মাসে এই ওষুধের জন্য শত শত ডলার খরচ করতে হয়, আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তরা বিশাল ডিসকাউন্টে নকল ওষুধগুলো বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে বিক্রি করতেন।   এমনকি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) কিছু নকল ওজেম্পিক বাজেয়াপ্ত করে জনসতর্কতা জারি করার পরও এই চক্রটি তাদের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে গিয়েছিল।   অভিযুক্ত স্বপনদীপ রায় এবং ভিকি রামানচার বিরুদ্ধে নকল ওষুধ পাচার, প্রতারণার ষড়যন্ত্র এবং অবৈধভাবে বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। যদি তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়, তবে প্রত্যেককে সর্বোচ্চ ৭১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।   মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আমেরিকার ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থায় যারা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে, তাদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৮:৫০
ছোট্ট বয়সে বড় অর্জন, যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ৩০০ তরুণ উদ্ভাবকের তালিকায় আইজা হাসান
ছোট্ট বয়সে বড় অর্জন, যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ৩০০ তরুণ উদ্ভাবকের তালিকায় আইজা হাসান

নিউ জার্সির ম্যানালাপান হাইস্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আইজা হাসান যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের থার্মো ফিশার সায়েন্টিফিক জুনিয়র ইনোভেটরস চ্যালেঞ্জের সেরা ৩০০ জুনিয়র উদ্ভাবকের তালিকায় স্থান পেয়েছে। অষ্টম শ্রেণিতে মার্লবোরো মেমোরিয়াল মিডল স্কুলে পড়ার সময় মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে করা গবেষণার জন্য এই জাতীয় স্বীকৃতি পেয়েছে আইজা।   সোসাইটি ফর সায়েন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় ১ হাজার ৯৯৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩০০ জন শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্র ও এর বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যম স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক গবেষক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আইজা তাদেরই একজন।   আইজার গবেষণার বিষয় ছিল ‘নেচার’স সলিউশন টু মাইক্রোপ্লাস্টিকস: ইকো-ফ্রেন্ডলি রিমুভাল অব মাইক্রো-অ্যান্ড ন্যানোপ্লাস্টিকস ইউজিং প্ল্যান্ট অ্যান্ড ফাঙ্গাই-ডেরাইভড বায়োপলিমারস’। অর্থাৎ উদ্ভিদ ও ছত্রাক থেকে তৈরি বায়োপলিমার ব্যবহার করে পানি থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক পরিবেশবান্ধব উপায়ে অপসারণের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করেছে সে।   সোসাইটি ফর সায়েন্সের প্রকাশিত তালিকায় আইজাকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে মার্লবোরো মেমোরিয়াল মিডল স্কুলের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। তার গবেষণাটি ডেলাওয়্যার ভ্যালি সায়েন্স ফেয়ারের মাধ্যমে জাতীয় প্রতিযোগিতায় পৌঁছায়। ডেলাওয়্যার ভ্যালি সায়েন্স ফেয়ারের ২০২৬ সালের ফলাফলেও আইজার নাম রয়েছে।   থার্মো ফিশার সায়েন্টিফিক জুনিয়র ইনোভেটরস চ্যালেঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যম স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম প্রধান বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক গবেষণা প্রতিযোগিতা। সোসাইটি ফর সায়েন্স পরিচালিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রথমে সোসাইটি-অনুমোদিত বিজ্ঞান মেলায় নিজেদের গবেষণা উপস্থাপন করতে হয়। স্থানীয় বিজ্ঞান মেলায় শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে থাকা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় আবেদন করার সুযোগ পায়।   ২০২৬ সালের সেরা ৩০০ শিক্ষার্থী ৩৪টি অঙ্গরাজ্য, পুয়ের্তো রিকো ও গুয়াম থেকে নির্বাচিত হয়েছে। তাদের গবেষণার বিষয়ের মধ্যে পরিবেশ, প্রকৌশল, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক অপসারণও এবারের নির্বাচিত গবেষণাগুলোর অন্যতম বিষয়।   সোসাইটি ফর সায়েন্স জানিয়েছে, সেরা ৩০০ থেকে ৩০ জনকে চূড়ান্ত প্রতিযোগী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে এবং তারা অক্টোবর মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালস উইকে অংশ নেবে। তবে আইজা সেরা ৩০০-তে স্থান পেলেও চূড়ান্ত ৩০ জনের তালিকায় তার নাম রয়েছে কি না, তা এই প্রতিবেদনের জন্য ব্যবহৃত তথ্য থেকে নিশ্চিত করা যায়নি।   পরিবেশ দূষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে অল্প বয়সে গবেষণার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়া আইজা হাসানের এই অর্জন তার বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৮:২৫
৩৪ বছরের দাম্পত্যে ইতি টানতে আদালতে ক্রিস্টি নোয়েম, পেছনে স্বামীর নারীসাজের কেলেঙ্কারি
৩৪ বছরের দাম্পত্যে ইতি টানতে আদালতে ক্রিস্টি নোয়েম, পেছনে স্বামীর নারীসাজের কেলেঙ্কারি

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) সেক্রেটারি এবং সাউথ ডাকোটার সাবেক গভর্নর ক্রিস্টি নোয়েম তাঁর স্বামী ব্রায়নের বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন। দীর্ঘ ৩৪ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জানা গেছে, 'বিম্বোফিকেশন' নামে পরিচিত এক অদ্ভুত নারীসাজের স্ক্যান্ডালে স্বামীর সম্পৃক্ততার খবর প্রকাশ্যে আসার কয়েক মাস পরই তিনি এই আইনি পদক্ষেপ নিলেন।   নিজ অঙ্গরাজ্য সাউথ ডাকোটার হ্যামলিন কাউন্টি আদালতে 'মীমাংসার অযোগ্য মতপার্থক্য'-এর কারণ দেখিয়ে এই বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জমা দিয়েছেন তিনি। ১৯৯২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির কাসিডি, কেনেডি এবং বুকার নামে প্রাপ্তবয়স্ক তিন সন্তান রয়েছে।   গত মার্চের শেষের দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে ডিএইচএস প্রধানের পদ হারানোর কয়েক দিন পরই ব্রায়নের এই কেলেঙ্কারির খবর প্রকাশ্যে আসে। সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ব্রায়ন নিয়মিত এমন নারীদের সঙ্গে অনলাইনে চ্যাট করতেন যারা 'বিম্বোফিকেশন' ট্রেন্ডের অংশ। এই প্রক্রিয়ায় প্রাপ্তবয়স্ক মডেলরা বার্বি ডলের মতো কৃত্রিম লুক পাওয়ার জন্য নিজেদের শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন আনেন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্রায়ন মডেলদের কাছে পাঠানো শত শত বার্তায় নিজের অদ্ভুত আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি গোলাপি রঙের হট প্যান্ট এবং নকল বক্ষযুক্ত মেয়েলি পোশাক পরা নিজের ছবিও শেয়ার করেছিলেন তিনি।   এই কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর ক্রিস্টি নোয়েমের একজন প্রতিনিধি জানিয়েছিলেন যে, এমন খবরে তিনি এবং তাঁর পরিবার অত্যন্ত 'বিপর্যস্ত' ও হতবাক হয়েছেন। তবে ৫৪ বছর বয়সী ক্রিস্টি নোয়েম নিজেও ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি থেকে মুক্ত নন। ট্রাম্পের সাবেক প্রচারাভিযান উপদেষ্টা কোরি লেওয়ানডস্কির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের গুঞ্জন রয়েছে।   লেওয়ানডস্কি বিবাহিত এবং চার সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও গত মাসে এই জুটিকে মিনেসোটার লেক মিননেটঙ্কার তীরে একসঙ্গে সাইকেল চালাতে ও অন্তরঙ্গ সময় কাটাতে দেখা গেছে।   রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রিস্টি নোয়েমের বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং সম্প্রতি তাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বহুজাতিক নিরাপত্তা উদ্যোগ ‘শিল্ড অফ দ্য আমেরিকাস’-এর বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই পদে ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অফ পিসে তিনি একটি কার্যালয়ও পেয়েছেন। অন্যদিকে, লেওয়ানডস্কি তাঁর সরকারি ও জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানে ফিরে গেছেন।   অনেকেই ধারণা করছেন, ২০১৬ সালের প্রাইমারিতে ট্রাম্পের জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা লেওয়ানডস্কি খুব শিগগিরই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কোনো পদে পুনরায় ফিরে আসবেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৮:১৩
এআইয়ের বিপদকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই, ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বকে সতর্ক করলেন পোপ লিও
এআইয়ের বিপদকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই, ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বকে সতর্ক করলেন পোপ লিও

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ কোনো ‘ভুয়া খবর’ বা ‘ফেক নিউজ’ নয়; বরং এসব বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনা ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও। সোমবার চার দিনের ফ্রান্স সফর শেষে রোমে ফেরার পথে বিমানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।   কীভাবে এআইয়ের বিপর্যয়কর ঝুঁকি থেকে মানবতাকে রক্ষা করা যায় এবং এ বিষয়ে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভূমিকা কী হওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে পোপ লিও এই মন্তব্য করেন। তিনি এমন সময়ে এই সতর্কবার্তা দিলেন, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআইয়ের বিপদকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাচিত ইতিহাসের প্রথম পোপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লিও তাঁর ১৬ মাসের মেয়াদে শুরু থেকেই এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করে আসছেন। এমনকি তিনি তাঁর প্রথম ‘এনসাইক্লিকাল’ বা পোপের আনুষ্ঠানিক পত্রটিও এআই এবং এর প্রভাব থেকে মানবতাকে রক্ষার ওপর উৎসর্গ করেছিলেন।   সংবাদ সম্মেলনে পোপ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীদেরও তীব্র সমালোচনা করেন, যারা এআই প্রযুক্তির ওপর কোনো ধরনের সুরক্ষাবলয় বা সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরোধী। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের উদাহরণ টেনে পোপ লিও সংশয় প্রকাশ করেন।   কারণ তিনি একদিকে এআই মডেলে নিরাপত্তা বেষ্টনী যুক্ত করার কথা বললেও, অন্যদিকে সরকারি নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে আসছেন এবং এআই নিয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগকে অতিরঞ্জিত বলে ট্রাম্পের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।   পোপ নির্বাচিত হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এআই প্রযুক্তিকে মানবতার জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন পোপ লিও। সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে ভ্যাটিকানের সেতুবন্ধন তৈরির অংশ হিসেবে, গত মে মাসে ভ্যাটিকানে অ্যানথ্রোপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টোফার ওলাহকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এআই বিষয়ক তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক পত্র প্রকাশ করেন।   বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সোমবার পোপ লিও বলেন, রাজনৈতিক নেতা, এআই বিশেষজ্ঞ এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এআই যাতে মানবতা ধ্বংসের মতো কোনো বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে সংলাপ ও গবেষণার ওপর জোর দেন তিনি। পরিশেষে পোপ সতর্ক করে বলেন, “আমরা শুধু হাত গুটিয়ে বসে থেকে এমন ভান করতে পারি না যে, কিছুই ঘটবে না। আমাদের এ নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।”

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৭:৫৩
কানাডার অ্যালকোহল-মোটরসাইকেলসহ ১০০ কোটি ডলারের পণ্যে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা
কানাডার অ্যালকোহল-মোটরসাইকেলসহ ১০০ কোটি ডলারের পণ্যে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা

দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ এবার আরও চরম আকার ধারণ করেছে। মঙ্গলবার থেকে কানাডার প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। হোয়াইট হাউসের নথি অনুযায়ী, অ্যালকোহল থেকে শুরু করে মোটরসাইকেল ও দুগ্ধজাতীয় পণ্য এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে।   ডানপন্থি আমেরিকান অ্যাকশন ফোরামের বাণিজ্য নীতিবিষয়ক পরিচালক জ্যাকব জেনসেন জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কানাডা থেকে বছরে প্রায় ৯৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারের আমদানি প্রভাবিত হবে। এর মধ্যে প্রতি ১০ ডলারের ৯ ডলারই অ্যালকোহল জাতীয় পানীয়, যা এই নিষেধাজ্ঞার প্রধান লক্ষ্যবস্তু। কানাডার কিছু প্রদেশ সম্প্রতি মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   নিষেধাজ্ঞার তালিকায় বিয়ার, ওয়াইন, হুইস্কি, ভদকা, রাম এবং ব্র্যান্ডির মতো অ্যালকোহল জাতীয় পানীয়র পাশাপাশি কিছু মপেড ও মোটরসাইকেল রয়েছে। এছাড়াও ডেইরি থেকে তৈরি জনপ্রিয় প্রোটিন-সমৃদ্ধ উপাদান ‘হুই’ এবং গুড় ও নন-অ্যালকোহলিক বিয়ারও নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে।   যদিও এই নিষেধাজ্ঞা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানাডিয়ান আমদানির একটি ক্ষুদ্র অংশ, তবুও এটি সাপ্লাই চেইনে প্রভাব ফেলবে। ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩৮ হাজার ১০০ কোটি ডলারের কানাডিয়ান পণ্য আমদানি করেছিল, অর্থাৎ এই নিষেধাজ্ঞা মোট আমদানির মাত্র ০.২ শতাংশের ওপর প্রভাব ফেলবে।   এদিকে, মার্কিন অ্যালকোহল সরবরাহ চেইনের সঙ্গে যুক্ত ‘টোটস নট ট্যারিফস কোয়ালিশন’ এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আমেরিকার রেস্তোরাঁ, বার, খুচরা বিক্রেতা এবং সাধারণ ভোক্তারা এমন এক বাণিজ্য বিরোধের গভীরে জড়িয়ে পড়ছেন, যা এরই মধ্যে মার্কিন উৎপাদকদের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।   গত আগস্টে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে দুদেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের এই যুদ্ধ শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় কানাডাও চলতি মাসের শুরুতে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে, যা মার্কিন শুল্কের সমপরিমাণ।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন যে, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ভোক্তা বাজারের সুবিধা নিলেও মার্কিন বিক্রেতাদের তাদের বাজারে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি কানাডাকে ব্যবসার জন্য বিশ্বের অন্যতম ‘নিকৃষ্ট’ দেশ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “কানাডার আমাদের দরকার, আমাদের তাদের দরকার নেই!” অন্যদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্কিন শুল্ক আরোপকে চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে সমালোচনা করেছেন।   তিনি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, সংঘাত বাড়ানো কোনো গঠনমূলক সমাধান নয়, তবে নিজেদের অর্থনীতি, কর্মী ও কোম্পানিগুলোকে রক্ষা করতেই কানাডাকে পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে হয়েছে। মার্কিন কোম্পানিগুলোকে করমুক্ত সুবিধা দিয়ে নিজেদের রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে দিতে রাজি নয় কানাডা প্রশাসন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৭:৩৭
যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের নিজ দেশের বদলে অন্য দেশে বিতাড়নে ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি
যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের নিজ দেশের বদলে অন্য দেশে বিতাড়নে ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি

যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের তাদের নিজ দেশের পরিবর্তে তৃতীয় কোনো দেশে দ্রুত বিতাড়ন করার বিতর্কিত নীতি পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এক আদেশে বস্টনের নিম্ন আদালতের এক বিচারকের দেওয়া স্থগিতাদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয় শীর্ষ আদালত।   এর ফলে কোনো অভিবাসী সংশ্লিষ্ট তৃতীয় দেশে গিয়ে নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার হতে পারেন কি না, তা আদালতে তুলে ধরার সুযোগ না দিয়েই তাদের তাৎক্ষণিকভাবে দেশান্তর করতে পারবে প্রশাসন। শীর্ষ আদালতের ৬-৩ রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এই আদেশ দেওয়া হয়, যেখানে তিনজন উদারপন্থী বিচারপতি ভিন্নমত পোষণ করেন। আগামী ডিসেম্বরে এই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।   অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর দায়ের করা একটি যৌথ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইউএস জেলা জজ ব্রায়ান মারফি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এই তৃতীয় দেশে বিতাড়ন নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। বিচারক মারফির মতে, যথাযথ নোটিশ এবং শুনানির সুযোগ না দিয়ে অভিবাসীদের পাঠিয়ে দেওয়া মার্কিন সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর লঙ্ঘন।   অধিকার কর্মীদের হিসাব অনুযায়ী, নীতিটি চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৫ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে ২৯টি দেশে পাঠানো হয়েছে, যার সিংহভাগই পাঠানো হয় মেক্সিকোতে। এছাড়া রাজনৈতিকভাবে চরম অস্থিতিশীল ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ সতর্কতায় থাকা দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা, নিরক্ষীয় গিনি, লাইবেরিয়া এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতেও অনেককে পাঠানো হয়েছে।   আদালতের এই আদেশকে স্বাগত জানিয়ে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জেনারেল কাউন্সেল জেমস পারসিভাল মন্তব্য করেছেন, এটি অপরাধী অবৈধ অভিবাসী এবং সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার সমর্থকদের জন্য একটি ‘খারাপ দিন’। তবে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন লিটিগেশন অ্যালায়েন্সের আইনজীবী ট্রিনা রিয়েলমুতো একে অত্যন্ত উদ্বেগজনক সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।   তিনি সতর্ক করেন যে, কোনো প্রকার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাওয়ার আগেই অভিবাসীদের এমন দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে যেখানে তারা চরম নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। বাদীদের অভিযোগ, অতীতে বহু অভিবাসীকে তৃতীয় দেশে পাঠানোর পর সেখান থেকে তাদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং অনেকেই মারধর, যৌন নির্যাতন ও গুমের শিকার হয়েছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৭:২২