সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ভাইকে বিয়ের অভিযোগ, ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব কি বাতিল করতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৯:১৫
ভাইকে বিয়ের অভিযোগ, ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব কি বাতিল করতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন?
ভাইকে বিয়ের অভিযোগ, ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব কি বাতিল করতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন?

মার্কিন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে কথিত অভিবাসন জালিয়াতির তদন্ত শুরু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মিনেসোটার এই ডেমোক্র্যাট নেত্রীর নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে বলেও গুঞ্জন উঠেছে। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের ‘বর্ডার জার’ টম হোম্যান নিশ্চিত করেছেন যে, প্রগতিশীল ‘স্কোয়াড’ সদস্য ওমরের বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) একটি 'ফৌজদারি' তদন্ত পরিচালনা করছে।

 

মূলত নিজের ভাইকে বিয়ে করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার পুরনো অভিযোগ থেকেই এই তদন্তের সূত্রপাত, যদিও ইলহান ওমর শুরু থেকেই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন। প্রথম মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ওমরকে এর আগেও একাধিকবার সোমালিয়ায় ফেরত পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

 

তবে সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর ও অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবী মাইকেল ওয়াইল্ডসের মতে, ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা তদন্তকারীদের জন্য বেশ কঠিন একটি কাজ হবে। কারণ, আদালতে সফলভাবে বৈবাহিক জালিয়াতি প্রমাণের জন্য সরকারকে সন্দেহাতীতভাবে দেখাতে হবে যে, ওমর শুধুমাত্র মার্কিন অভিবাসন আইন ফাঁকি দিয়ে সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই ইচ্ছাকৃতভাবে আহমেদ নুর সাইদ এলমিকে বিয়ে করেছিলেন।

 

ওয়াইল্ডস জানান, বিয়ের পর যদি ওমর ও এলমি মনেও করে থাকেন যে এই বিয়ে এলমির মার্কিন অভিবাসনের পথ সহজ করবে, তবু আদালতে এটিকে জালিয়াতি হিসেবে গণ্য করা হবে না। এ ধরনের মামলায় প্রমাণ দাখিল করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উচ্চ মাপকাঠি পেরোতে হয়। তবে যদি প্রমাণ হয় যে তারা সত্যিই জালিয়াতি করেছেন, তাহলে ওমরের পাঁচ বছরের জেল, আড়াই লাখ ডলার জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

 

২০০৯ সালে হওয়া ওই বিয়ের কারণে আইনি সীমাবদ্ধতার জন্য সরাসরি ফৌজদারি মামলা করা কঠিন হতে পারে। এর বদলে ইলহান ওমরকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করার (ডিন্যাচারালাইজেশন) পথ খোলা রয়েছে, যাকে টম হোম্যান একটি 'গুরুতর আইনি প্রক্রিয়া' বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এর জন্য প্রমাণ করতে হবে যে, ২০০০ সালে নাগরিকত্ব নেওয়ার সময় ওমর বা তার বাবা মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন।

 

ওমরের দাবি, তার বাবা যখন নাগরিকত্ব পান, তখন তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নাগরিক হয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেসের রেকর্ড ও অনলাইনে অনেকেই দাবি করছেন যে সে সময় তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন না এবং তার জন্মতারিখ পরিবর্তন করা হয়েছিল। এই অভিযোগের সত্যতা মিললে, কিংবা তার বাবাও যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকেন, তবে ওমরের নাগরিকত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

 

গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে ইলহান ওমর জানান, ডিএইচএস থেকে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি এবং তার বিয়ে বা অভিবাসন সংক্রান্ত কোনো তদন্তের বিষয়ে তিনি অবগত নন। ডানপন্থিরা সবসময় এমন অপপ্রচার চালায় বলে তিনি এই বিষয়টিকে পাত্তা দিচ্ছেন না। তবে মাইকেল ওয়াইল্ডস জানিয়েছেন, তদন্তের বিষয়ে ওমরের না জানাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

 

সরকার নিজেদের আইনি প্রক্রিয়া গুছিয়ে আনার আগে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই তদন্তের তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য নয়। পরিশেষে তিনি যোগ করেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও একজন কংগ্রেস সদস্যের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন কোনো অভিযোগ আনা অনুচিত এবং প্রসিকিউশনকে অবশ্যই সঠিক প্রমাণ সাপেক্ষে অগ্রসর হতে হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
কারাবন্দি নারীর অর্থ দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে ৬৫ হাজার ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সরকারি কর্মী
কারাবন্দি নারীর অর্থ দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে ৬৫ হাজার ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সরকারি কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কারাবন্দি এক নারীর আর্থিক বিষয়াদি দেখভালের দায়িত্ব পেয়ে প্রায় ৬৫ হাজার ডলার আত্মসাতের অভিযোগে জেসিকা এলিজাবেথ ম্যাকভে (৪৮) নামের এক সরকারি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত জেসিকা ফ্লোরিডার ১২তম জুডিশিয়াল সার্কিটের পাবলিক ডিফেন্ডার অফিসে ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।   সারাসোটা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মানাটি কাউন্টি জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় এক ভুক্তভোগী নারী ভরসা করে জেসিকাকে নিজের আর্থিক বিষয়াদি পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু এই বিশ্বাসের চরম অপব্যবহার করে জেসিকা অননুমোদিত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, ব্যাংক ট্রান্সফার, এটিএম থেকে অর্থ উত্তোলন এবং কেনাকাটার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন।   পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী জেলে থাকাকালীন তার অজান্তেই জেসিকা নিজের নামে খোলা একাধিক ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ করেছেন ওই নারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে। আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য ১৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে আইনজীবী নিয়োগের কথা বলে জেসিকা একটি 'পাওয়ার অব অ্যাটর্নি' নথিতে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর নেন।   কিন্তু পরবর্তীতে কোনো আইনজীবী নিয়োগ না করেই জেসিকা সেই অর্থ নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেন। গত ১৩ আগস্ট জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী যখন জেসিকার সঙ্গে দেখা করেন, তখন জেসিকা দাবি করেন যে, সাক্ষীরা যেন আদালতে হাজির না হন সেজন্য তিনি এক লাখ ডলার ঘুষ দিয়েছেন এবং সে কারণেই ওই নারী মুক্তি পেয়েছেন।   পরদিন ১৫ আগস্ট ব্যাংক স্টেটমেন্ট হাতে পাওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী তার অ্যাকাউন্টে এসব অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর ১৮ আগস্ট তিনি সারাসোটা পুলিশের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তে নামে কর্তৃপক্ষ।   ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে গত ২৩ সেপ্টেম্বর জেসিকার বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড থেফট, প্রতারণা ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরিসহ মোট পাঁচটি গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে সারাসোটা কাউন্টিতে জেসিকা ম্যাকভের বিচারকাজ চলছে এবং আগামী ৩০ অক্টোবর আদালতে তার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এই প্রতারণার শিকার আরও কেউ আছেন কি না, তা নিয়েও নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২০:১৬
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনে সরকারি তহবিলের ২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনে সরকারি তহবিলের ২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের অভিযোগ

নিউইয়র্কের বাফেলোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভ্রাম্যমাণ সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা

নিউইয়র্কের বাফেলোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভ্রাম্যমাণ সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা

ভাইকে বিয়ের অভিযোগ, ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব কি বাতিল করতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন?

ভাইকে বিয়ের অভিযোগ, ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব কি বাতিল করতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন?

চীন থেকে নকল ওজন কমানোর ওষুধ এনে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি, ৭১ বছরের জেলের মুখে দুই ভারতীয়
চীন থেকে নকল ওজন কমানোর ওষুধ এনে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি, ৭১ বছরের জেলের মুখে দুই ভারতীয়

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নকল ওষুধ পাচার এবং বিক্রির অভিযোগে দুই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ইন্ডিক্টমেন্ট) গঠন করেছে একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, অভিযুক্ত স্বপনদীপ রায় এবং ভিকি রামানচা চীন থেকে জনপ্রিয় ওজন কমানোর ওষুধ 'ওজেম্পিক'-এর নকল সংস্করণ পাচার করে মার্কিন ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে বিক্রি করতেন।   গত মঙ্গলবার ইতালি থেকে প্রত্যর্পণের পর ফ্লোরিডার আদালতে হাজির করা হলে স্বপনদীপ রায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত এই জালিয়াতি চক্রটি সক্রিয় ছিল। তারা নকল প্যাকেজিং, লেবেল ও নির্দেশিকা ব্যবহার করে ক্রেতাদের বোঝাতেন যে এগুলো আসল ওজেম্পিক ওষুধ।   মূলত রোগীদের প্রতি মাসে এই ওষুধের জন্য শত শত ডলার খরচ করতে হয়, আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তরা বিশাল ডিসকাউন্টে নকল ওষুধগুলো বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে বিক্রি করতেন।   এমনকি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) কিছু নকল ওজেম্পিক বাজেয়াপ্ত করে জনসতর্কতা জারি করার পরও এই চক্রটি তাদের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে গিয়েছিল।   অভিযুক্ত স্বপনদীপ রায় এবং ভিকি রামানচার বিরুদ্ধে নকল ওষুধ পাচার, প্রতারণার ষড়যন্ত্র এবং অবৈধভাবে বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। যদি তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়, তবে প্রত্যেককে সর্বোচ্চ ৭১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।   মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আমেরিকার ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থায় যারা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে, তাদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৮:৫০
ছোট্ট বয়সে বড় অর্জন, যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ৩০০ তরুণ উদ্ভাবকের তালিকায় আইজা হাসান

ছোট্ট বয়সে বড় অর্জন, যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ৩০০ তরুণ উদ্ভাবকের তালিকায় আইজা হাসান

৩৪ বছরের দাম্পত্যে ইতি টানতে আদালতে ক্রিস্টি নোয়েম, পেছনে স্বামীর নারীসাজের কেলেঙ্কারি

৩৪ বছরের দাম্পত্যে ইতি টানতে আদালতে ক্রিস্টি নোয়েম, পেছনে স্বামীর নারীসাজের কেলেঙ্কারি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের নিজ দেশের বদলে অন্য দেশে বিতাড়নে ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের নিজ দেশের বদলে অন্য দেশে বিতাড়নে ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি

পেনসিলভেনিয়ায় ডেটা সেন্টার বানাতে পরিবারপ্রতি ১০ হাজার ডলারের প্রস্তাব
পেনসিলভেনিয়ায় ডেটা সেন্টার বানাতে পরিবারপ্রতি ১০ হাজার ডলারের প্রস্তাব, তবু রাজি নন স্থানীয়রা

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ছোট শহরে বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে নর্থপয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট নামের একটি কোম্পানি। তবে বিপুল এই অর্থের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও শহরটির বেশিরভাগ বাসিন্দা এই প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন।   ডেটা সেন্টারগুলো মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ, জমি এবং অন্যান্য সম্পদের ব্যবহার করে থাকে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলো এ ধরনের প্রকল্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শুরু করেছে, যারই ধারাবাহিকতায় পেনসিলভেনিয়ার হ্যাজল টাউনশিপেও একই ধরনের অসন্তোষ দেখা গেছে।   ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নর্থপয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট পোকোনো পাদদেশের কাছাকাছি হ্যাজল টাউনশিপে প্রায় ১ হাজার ৩০০ একর জমির ওপর ১৫টি ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো সংবলিত একটি ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস নির্মাণ করতে চাইছে। গত জুন মাসে কোম্পানিটি শহরটির প্রায় সাড়ে চার হাজার পরিবারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই প্রস্তাব দেয়।   এজন্য কোম্পানিটি ৪৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়ে ২০২৭ সালের শেষের দিকে প্রথম ডেটা সেন্টারটি তাদের 'সার্টিফিকেট অব অকুপেন্সি' বা ব্যবহারের সনদ পেলেই কেবল পরিবারগুলো এই অর্থ পাবে। এছাড়া, আগামী ১৫ বছরে স্থানীয় পুলিশ বিভাগসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের উন্নয়নে আরও ১২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে কোম্পানিটি।   তবে প্রায় ১০ হাজার ৪৬০ জন বাসিন্দার এই শহরে ১০ হাজার ডলারের চেকও মানুষের উদ্বেগ কমাতে পারেনি। স্থানীয়দের প্রধান শঙ্কা হলো—নির্মাণকাজ, শব্দদূষণ এবং এর ফলে সম্পত্তির দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা। জেফ ফাসনাকট নামের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জানান, তার সম্পত্তির যে পরিমাণ মূল্যহ্রাস ঘটবে, তার তুলনায় এই ১০ হাজার ডলার একেবারেই নগণ্য।   এড নেগ্রা নামের আরেক অবসরপ্রাপ্ত বাসিন্দা মনে করেন, এই প্রস্তাব হিতে বিপরীত হতে পারে, কারণ অনেকেই এটিকে ‘ঘুষ’ হিসেবে দেখছেন। যদিও নর্থপয়েন্টের চিফ মার্কেটিং অফিসার ব্রেন্ট মাইলস দাবি করেছেন যে, গত বছর একটি জনসভায় স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতেই সরাসরি এই আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।   চার্লি লেশকোর মতো কিছু বাসিন্দা এই অর্থ দিয়ে গাড়ি কেনা বা বাড়ির ডাউনপেমেন্ট দেওয়ার স্বপ্ন দেখলেও, কার্ল মাজুসিয়াকের মতো অনেকেই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তাদের এলাকায় এই ডেটা সেন্টারের কোনো প্রয়োজন নেই। এদিকে ডেটা সেন্টার ও এআই প্রযুক্তির প্রসার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক বাড়ছে।   সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক-এর সাবেক গবেষক জ্যাকব ককসন এবং ইভান হুবিঙ্গার সতর্ক করেছেন যে, উন্নত এআই প্রযুক্তি আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে। এমন সতর্কবার্তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব বজায় রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওপেনএআই, মেটা এবং এনভিডিয়ার মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এআই-এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৬:৫০
২০ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনা, তার আগেই কেনিয়ায় বিতাড়িত নার্স

২০ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনা, তার আগেই কেনিয়ায় বিতাড়িত নার্স

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিনে মিলল ৬ মাসের শিশুকন্যার ম রদেহ, সন্দেহে আটক নারী

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিনে মিলল ৬ মাসের শিশুকন্যার ম রদেহ, সন্দেহে আটক নারী

ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন ধরপাকড় রুখতে নতুন আইনে সই গভর্নর নিউসমের

ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন ধরপাকড় রুখতে নতুন আইনে সই গভর্নর নিউসমের

0 Comments