- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই বিক্রিকে কেন্দ্র করে ঢাকার বাংলাবাজারে প্রকাশনা সংস্থা দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বিক্রয়কেন্দ্রে তালা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। বিক্রয়কেন্দ্রের দুই কর্মীকে কিছু সময় আটকে রাখার অভিযোগও উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে দুই যুবক বিক্রয়কেন্দ্রে এসে বইটি কিনতে চান। কর্মীরা বই বের করে দিলে ওই যুবকেরা সেটি বিক্রির বিষয়ে আপত্তি জানান এবং বইটি নিষিদ্ধ বলে দাবি করেন। পরে আরও কয়েকজনকে জড়ো করে বিক্রয়কেন্দ্রের শাটার নামিয়ে তালা দেওয়া হয়। বিক্রয়কেন্দ্রের কর্মী আমিনুল ইসলাম ও হুমায়ূন কবীরকে আটকে রাখার অভিযোগ সম্পর্কে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের থানায় নেওয়া হয়নি। ফরিদাবাদ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি বলেও জানান তিনি। ইউপিএল এক বিবৃতিতে বলেছে, বইটি নিষিদ্ধ করার কোনো সরকারি বা আদালতের পদক্ষেপের কথা তাদের জানা নেই। এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। অন্যদিকে ওসি মতিউর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের পর বইটি আর ছাপানো হয়নি এবং সেটি আর বিক্রি না করার শর্তে দুই কর্মীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বই বিক্রি বন্ধের এই শর্তের আইনি ভিত্তি সম্পর্কে প্রতিবেদনে পুলিশের কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সূত্র: প্রথম আলো
বাংলাদেশের এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগে কয়েকটি মার্কিন কোম্পানি আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তাঁর দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর নাম বা কোনো বিনিয়োগ চুক্তির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর জানায়, সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার ইস্ট পালো আল্টোতে প্রযুক্তি খাতের প্রধান নির্বাহী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গোলটেবিল আলোচনায় বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়। এআই ও ডেটা অবকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি, গবেষণা এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর ছিল আলোচনার বিষয়। ববি হাজ্জাজ বলেন, এই আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ প্রয়োজন। প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে বলেও তিনি মত দেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদও ছিলেন। এই গোলটেবিলের আগের দিন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ও সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি পেশাজীবীদের পৃথক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির বরাতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সেখানে এআই, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, দক্ষ জনশক্তি ও অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ কনস্যুলেট আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে পরবর্তী সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছে। ওই সংলাপের বিজ্ঞপ্তিতে ১০০ কোটি ডলারের কোনো বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির উল্লেখ নেই। বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর খাত গড়ে তোলার আলোচনা আগে থেকেই চলছে। সরকারি বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চিপের নকশা, সংযোজন ও পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে একটি টাস্কফোর্স গঠনের কথা জানিয়েছিল। তাই নতুন আলোচনার পরের যাচাইযোগ্য ধাপ হবে নির্দিষ্ট কোম্পানি, প্রকল্প, অর্থায়নের কাঠামো ও সময়সূচি প্রকাশ।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, আগামী চার বছরের মধ্যে সবার কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রংপুরে তিনি এ কথা বলেন। কার্ড বিতরণে কাউকে বাদ দেওয়া হবে না বোঝাতে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, একই সময়ের মধ্যে কৃষকদের কাছেও কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে তাঁর বক্তব্যে কার্ড বিতরণের বিস্তারিত পরিকল্পনা বা সময়সূচি উল্লেখ করা হয়নি। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জরিপ করা সব পরিবারকে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নিয়মিত নগদ সহায়তা পাবেন নির্বাচিত পরিবারগুলো। ফলে কার্ড পাওয়া এবং নগদ সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি এক নয়। এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচির সমালোচনা করে মীর শাহে আলম অভিযোগ করেন, বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য তারা অহেতুক কর্মসূচি নিচ্ছে। তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য বক্তব্যে তুলে ধরা হয়নি। জ্বালানি তেলের সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, সংকট থাকলে ১১ দল লং মার্চ করল কীভাবে। লং মার্চে সমস্যার সমাধান হলে বিএনপি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত লং মার্চ করত বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। সূত্র: সময় টিভি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৭০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে উইংসুট পরে লাফিয়ে গ্যাব রেইলি নামের ২৭ বছর বয়সী এক দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে ক্যাশ কাউন্টির লিথামস হলো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ক্যাশ কাউন্টি শেরিফের অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মিলভিল ক্যানিয়নের পূর্বে আট থেকে দশজনের একটি দলের সঙ্গে বেস জাম্পিং করছিলেন রেইলি। লাফ দেওয়ার পর তাঁর উইংসুট থেকে পর্যাপ্ত উড্ডয়নশক্তি তৈরি হয়নি। দ্রুতগতিতে মাটিতে আঘাত লাগলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। পরে সল্ট লেক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট রেইলির পরিচয় নিশ্চিত করে। বিভাগটি জানিয়েছে, তিনি চার বছর ধরে সেখানে দমকলকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। বেস জাম্পিংয়ে পাহাড়, সেতু বা ভবনের মতো স্থির উঁচু স্থান থেকে লাফ দেওয়া হয়। শেরিফের অফিস জানিয়েছে, রেইলি এ ধরনের জাম্পিংয়ে অভিজ্ঞ ছিলেন।
সংবিধান সংশোধন নিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকে অষ্টম সংশোধনী বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন দৈনিক কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা। অন্যদিকে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের বিধান এবং রাষ্ট্রের নামের ‘গণপ্রজাতন্ত্রী’ শব্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিউ এজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর। রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে সম্পাদক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে কমিটির তৃতীয় বৈঠকে তাঁরা এসব মত দেন। সন্তোষ শর্মা সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী বাতিলের প্রস্তাব দেন। সংবিধানের চরিত্রে একাত্তরের চেতনা, বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা এবং সম্প্রীতির বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার আরও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলেন তিনি। নূরুল কবীর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রসঙ্গ তুলে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার জন্য সাংবিধানিক বিধানের প্রয়োজন হয় না; সুরক্ষা প্রয়োজন সংখ্যালঘুদের। সংবিধানে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী’ শব্দের ‘প্রজা’ অংশ নিয়েও আপত্তি জানান তিনি। নাগরিকদের মর্যাদা প্রকাশ করে, এমন বিকল্প শব্দ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। ১৯৮৮ সালে আনা অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়। ফলে সংশোধনীটি বাতিলের প্রস্তাব রাষ্ট্রধর্মের বিধান নিয়ে আলোচনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তবে বৈঠকে দেওয়া মতামতগুলো এখনো কমিটির সুপারিশ বা সংসদের সিদ্ধান্ত নয়। সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে। রোববারের বৈঠকে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের পাশাপাশি প্রেস ক্লাব, সংবাদ সংস্থা ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। সূত্র: ফ্রাইডে পোস্ট
স্পেসএক্সের স্টারশিপ প্রথমবার পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছে ২৬টি স্টারলিংক স্যাটেলাইট স্থাপন করেছে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের স্টারবেস থেকে উৎক্ষেপণের পর রকেটটির ওপরের অংশ প্রশান্ত মহাসাগরে নামে। তবে ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়ায় প্রায় ১০ ঘণ্টার পরিকল্পিত পরীক্ষা তিন ঘণ্টার মধ্যেই শেষ করে স্পেসএক্স। এটি ছিল স্টারশিপের চতুর্দশ পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন। প্রায় ৪০ তলা ভবনের সমান উচ্চতার রকেটটি দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। নিচের সুপার হেভি বুস্টার স্টারশিপকে মহাকাশের পথে তুলে দেওয়ার পর নিজেও সমুদ্রে নামে। উড্ডয়নের সময় স্টারশিপের একটি ইঞ্জিন আগেভাগে বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও যানটি কক্ষপথে পৌঁছে নতুন প্রজন্মের ২৬টি স্টারলিংক স্যাটেলাইট ছাড়তে সক্ষম হয়। ইঞ্জিনের সমস্যার কারণে পরিকল্পিত ছয়বার পৃথিবী প্রদক্ষিণ না করিয়ে যানটিকে আগেই ফিরিয়ে আনা হয়। সাগরে নামার পর স্টারশিপটি কাত হয়ে আগুনে পুড়ে যায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো দৃশ্য দেখে রকেটটি উৎক্ষেপণের পরপরই ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে হতে পারে। বাস্তবে এর আগেই সেটি কক্ষপথে পৌঁছায় এবং স্যাটেলাইট স্থাপনের কাজ শেষ করে। অবশ্য সমুদ্রে নামা ও আগুনে পুড়ে যাওয়া দেখায়, রকেটটির পুনর্ব্যবহারযোগ্য অংশ অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। স্টারশিপকে ভবিষ্যতে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এবং চাঁদে মানুষ পাঠানোর কাজে ব্যবহার করতে চায় স্পেসএক্স। এবারের পরীক্ষায় কক্ষপথে পৌঁছানো ও স্যাটেলাইট স্থাপন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও ইঞ্জিনের সমস্যার কারণ এবং যানটিকে অক্ষত ফেরানোর সক্ষমতা পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর জন্য বড় বিষয় হয়ে থাকছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে ঔপন্যাসিক স্টিফেন কিংয়ের কয়েকটি মন্তব্য আবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়াচ্ছে। তবে এগুলো নতুন বক্তব্য নয়। পরমাণু অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগের কথাটি কিং লিখেছিলেন ২০১৭ সালে; ট্রাম্পের ব্যক্তিত্ব ও ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া নিয়ে তাঁর সমালোচনা এসেছিল ২০২২ সালের এক সাক্ষাৎকারে। ২০১৭ সালের মে মাসে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, কিং সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, তাঁর হাতে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতা থাকার বিষয়টি নিজের লেখা যেকোনো ভয়ের গল্পের চেয়েও ভীতিকর। কিংয়ের বক্তব্যের বিষয় ছিল ওই ক্ষমতা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ; ট্রাম্পকে তিনি নিজের সব কাল্পনিক দানবের চেয়ে ভয়ংকর বলেছেন, এমন ভাষা ব্যবহার করেননি। ২০২২ সালে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিং ট্রাম্পকে ‘ভয়াবহ প্রেসিডেন্ট’ ও ‘ভয়াবহ মানুষ’ বলে অভিহিত করেন। সে সময় ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ছিলেন না। একই সাক্ষাৎকারে কিং বলেন, তাঁর মতে ট্রাম্প ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে না পেরে মার্কিন গণতন্ত্র উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ট্রাম্পকে ‘সোসিওপ্যাথ’ বলাটিও কিংয়ের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, কোনো চিকিৎসাগত নির্ণয় নয়। ট্রাম্প সম্পর্কে কিং পরে আরও মন্তব্য করেছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি ট্রাম্পকে ‘একটি ভয়ের গল্প’ বলে বর্ণনা করেন। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ঘুরতে থাকা বক্তব্যগুলো কিংয়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমালোচনার অংশ হলেও, ২০১৭ ও ২০২২ সালের কথাগুলোকে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা বিভ্রান্তিকর।
হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলে নিউ ইয়র্কে চিকিৎসা কোথায় পাবেন, তা নিয়ে অনেক অভিবাসীর দুশ্চিন্তা থাকে। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা খরচের ভয়ে চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। শহরের সরকারি কর্মসূচি ও কয়েকটি ফ্রি ক্লিনিকে যোগ্যতা অনুযায়ী বিনামূল্যে বা কম খরচে সেবা পাওয়া যায়। তবে সব জায়গায় সব চিকিৎসা ফ্রি নয়। প্রথম ঠিকানা এনওয়াইসি কেয়ার। যাঁরা হেলথ ইন্স্যুরেন্সের যোগ্য নন বা তা বহন করতে পারেন না, তাঁদের জন্য নিউ ইয়র্ক সিটির এই কর্মসূচি। সদস্যরা এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের মাধ্যমে প্রাইমারি কেয়ার ডাক্তার, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কম দামে ওষুধ পেতে পারেন। খরচ আয়ের ওপর নির্ভর করে। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস সদস্য হওয়ার বাধা নয়। জানতে বা আবেদন করতে ফোন করুন ৬৪৬-৬৯২-২২৭৩ নম্বরে; বাংলায় সহায়তা চাইতে পারেন। দ্বিতীয় ঠিকানা এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কুইন্সের এলমহার্স্ট হাসপাতাল ও কুইন্স হাসপাতালও এই নেটওয়ার্কের অংশ। ইন্স্যুরেন্স না থাকলে সেখানে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসিসট্যান্স বা ‘অপশনস’ কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চান। আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী বিল কমতে পারে। ফাইন্যান্সিয়াল কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলতে ৮৪৪-৬৯২-৪৬৯২ নম্বরে ফোন করে ৩ চাপুন। হাসপাতালের সেবা মাত্রেই ফ্রি হবে, এমন ধারণা নিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। তৃতীয় ঠিকানা ম্যানহাটনের উইল কর্নেল কমিউনিটি ক্লিনিক, ৫০৫ ইস্ট ৭০তম স্ট্রিট। ইন্স্যুরেন্সবিহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এই স্টুডেন্ট পরিচালিত ক্লিনিকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রাইমারি কেয়ার দেওয়া হয়। বর্তমানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টেলিমেডিসিন এবং নির্দিষ্ট শনিবার সকালে সরাসরি সেবা দেওয়ার তথ্য রয়েছে। নতুন রোগীকে আগে অ্যাপয়েন্টমেন্টের আবেদন করতে হয়; অপেক্ষাও থাকতে পারে। ফোন ৬৪৬-৯৬২-৯২২২। চতুর্থ ঠিকানা ব্রুকলিন ফ্রি ক্লিনিক। ইন্স্যুরেন্সবিহীন রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও সেবার ধরন আগে নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে গর্ভকালীন চিকিৎসার জন্য ক্লিনিকটি সরাসরি সেবা দেওয়ার পরিবর্তে অন্য কেন্দ্রের তথ্য দেয়। তাই সেখানে যাওয়ার আগে নিজের চিকিৎসার প্রয়োজনটি জানিয়ে যোগাযোগ করা জরুরি। পঞ্চম ঠিকানা নিউ ইয়র্ক সিটি হেলথ ডিপার্টমেন্টের ক্লিনিকগুলো। যৌনস্বাস্থ্য, যক্ষ্মা পরীক্ষা ও চিকিৎসা এবং টিকাদানের জন্য আলাদা ক্লিনিক রয়েছে। এসব সেবার অনেকগুলো বিনামূল্যে বা কম খরচে পাওয়া যায়; তবে এগুলো সাধারণ সব রোগের প্রাইমারি কেয়ার ক্লিনিক নয়। কাছের কেন্দ্র, খরচ ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়ম জানতে ৩১১ নম্বরে ফোন করা যায়। এনওয়াইসি কেয়ারে ভর্তির সময় পরিচয়, নিউ ইয়র্ক সিটিতে বসবাস ও আয়ের প্রমাণ চাইতে পারে। পাসপোর্ট বা বিদেশি পরিচয়পত্রও পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কাগজপত্র নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে আগে ফোন করে নিজের পরিস্থিতি জানান। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের কারণে চিকিৎসা পাওয়া যাবে না, এমনটি ধরে নেওয়ার কারণ নেই। বাংলাভাষী ডাক্তার চাইলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সময় দোভাষী বা বাংলায় সেবার ব্যবস্থা আছে কি না জেনে নিন। বেসরকারি চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়ার আগে ফি এবং এনওয়াইসি কেয়ারের সেবা সেখানে প্রযোজ্য কি না নিশ্চিত করুন। আর জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সাধারণ ক্লিনিকের অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষা না করে ইমার্জেন্সি রুমে যান বা ৯১১ নম্বরে কল করুন।
নিউইয়র্কে খাবার খেয়ে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা ঠেকাতে নতুন কৌশল নিয়েছেন কিছু রেস্তোরাঁ মালিক। পুলিশে অভিযোগ করার পাশাপাশি তারা নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ ও গ্রাহকদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। উদ্দেশ্য হচ্ছে ঘটনাটি জনসমক্ষে আনা এবং বকেয়া বিল পরিশোধে অভিযুক্তদের চাপ তৈরি করা। কয়েকটি ঘটনায় এমন পোস্ট প্রকাশের পর দ্রুত বিল পরিশোধও হয়েছে। তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে কি না, তার নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান নেই, কারণ অনেক রেস্তোরাঁ ছোট অঙ্কের ক্ষতির ঘটনায় পুলিশে অভিযোগই করে না। ব্রঙ্কসের মট হ্যাভেন এলাকায় তালাভেরা ক্যান্টিনার মালিক ব্রিটনি কারিনিও সম্প্রতি এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। গত ৫ মে, যুক্তরাষ্ট্রে সিনকো দে মায়ো উদ্যাপনের দিন, তিন নারী তার রেস্তোরাঁয় এসে টাকোস, চিপস, গুয়াকামোলে এবং চারটি ফ্রোজেন মার্গারিটা অর্ডার করেন। কারিনিওর ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার ও পানীয় নেওয়ার পর তারা ১১২ ডলারের বিল পরিশোধ না করে চলে যান। সেদিন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রেস্তোরাঁর বিল হিসাবের ব্যবস্থা সমস্যায় থাকায় বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়েনি। পরে অফলাইনে সম্পন্ন লেনদেন যাচাই করতে গিয়ে তিনি বকেয়া বিলটি দেখতে পান। এরপর নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কারিনিও দেখতে পান, দলটির একজন নারী বিলের ট্রে নিজের ব্যাগের নিচে সরিয়ে রাখছেন। তিনি বলেন, তিন বছর ধরে রেস্তোরাঁ পরিচালনার মধ্যে এটাই ছিল এ ধরনের প্রথম ঘটনা। পুলিশে ফোন করার বদলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ছবি ও ফুটেজ প্রকাশ করেন এবং জানান, বিল পরিশোধ করা হলে তিনি বিষয়টি আর এগিয়ে নিতে চান না। পোস্ট দেওয়ার পর ওই দলের একজনের বড় ভাই রেস্তোরাঁয় এসে পুরো ১১২ ডলারের বিল পরিশোধ করেন। কারিনিও নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, খাবার খেয়ে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবসায়ীদের এমন ঘটনার কথা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি উপায় তৈরি করেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ছোট অঙ্কের বিলের ক্ষেত্রে পুলিশে অভিযোগ করার পর তদন্ত, ফুটেজ দেখানো এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় সময় দিতে হয়। তাই তিনি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন। লং আইল্যান্ড সিটির ভিয়েতনামি রেস্তোরাঁ শেফ পাপার মালিক জন ট্রুংও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তার দাবি, ফাহমিদা সুলতানা নামে একজন খাদ্যবিষয়ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্মাতা প্রায় ২০০ ডলারের খাবার ও পানীয়ের বিনিময়ে তার রেস্তোরাঁর প্রচার করবেন বলে একটি সমঝোতা করেছিলেন। ট্রুংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি খাবার গ্রহণের পর কর্মীদের মাত্র ৬ ডলার বকশিশ দিয়ে চলে যান এবং প্রতিশ্রুত প্রচারণামূলক ভিডিও প্রকাশ করেননি। পরে ট্রুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে ঘটনাটি তুলে ধরেন। সেই ভিডিও প্রকাশের পর ওই নারী একটি তীব্র সমালোচনামূলক পর্যালোচনা প্রকাশ করেছিলেন, যা পরে মুছে ফেলা হয়। এসব দাবির বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য এক নয়। নিউইয়র্কে খাবার খেয়ে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে পেই ‘লু’ চুংয়ের ঘটনাও রয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে তিনি পিটার লুগার, ফ্রাঁসি ও মিশির মতো রেস্তোরাঁয় বিল না দেওয়ার অভিযোগে একাধিকবার গ্রেপ্তার হন এবং মোট সাতবার গ্রেপ্তারের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব ঘটনায় ওঠা অভিযোগগুলোর বিচারিক ফলাফল আলাদা বিষয়। পরে তাকে বিচার মোকাবিলার উপযুক্ত নয় বলে ঘোষণা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট মামলার অভিযোগ বাতিল করা হয়েছিল বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছিল। নিউইয়র্ক শহরের বাইরেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পকিপসির এরিন ও’নিলস পাব অ্যান্ড গ্রিল সম্প্রতি ৪১ ডলারের একটি বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করে। মালিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিডিওতে এক নারী ও তার সঙ্গে থাকা এক পুরুষকে বিলের সঙ্গে থাকা একটি কার্ড নিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। পোস্ট দেওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে একজন ওই পুরুষের ছবি ও পরিচয় জানিয়ে রেস্তোরাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ভিডিওটি প্রায় ৮ লাখবার দেখা হয় এবং ব্যবসাটির নতুন অনুসারীও বাড়ে। মালিকের মতে, ঘটনাটি তাদের জন্য এক ধরনের বিনামূল্যের প্রচারণায় পরিণত হয়। অন্যদিকে, কিছু প্রতিষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বদলে নিজেদের রেস্তোরাঁয় তথাকথিত ‘ওয়াল অব শেম’ তৈরি করেছে। ব্রঙ্কসের ইউএমআই হটপট সুশি অ্যান্ড সিফুড বুফে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগে কিছু গ্রাহকের ছবি ও বকেয়া রসিদ প্রদর্শন করছে। তবে কোনো ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি সত্যিই অর্থ না দিয়ে চলে গেছেন কি না, তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করলে বিভ্রান্তি বা অন্য ধরনের আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে। নিউইয়র্কের আইনে রেস্তোরাঁর খাবার ও সেবার মূল্য ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়াকে ‘থেফট অব সার্ভিসেস’ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ধরা হয়। নিউইয়র্কের আদালতের নির্দেশিকায় রেস্তোরাঁর বিল না পরিশোধকে নিউইয়র্ক পেনাল ল-এর ১৬৫.১৫ ধারার আওতায় রাখা হয়েছে। এটি ক্লাস এ মিসডিনিমারের অন্তর্ভুক্ত এবং বর্তমান আইনে এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ৩৬৪ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে বাস্তবে ছোট অঙ্কের বকেয়া বিল নিয়ে পুলিশি প্রক্রিয়ায় সময় ও শ্রম দেওয়ার বিষয়টি অনেক ব্যবসার জন্য বড় বিবেচনা। সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের জন জে কলেজ অব ক্রিমিনাল জাস্টিসের সহযোগী অধ্যাপক ক্রিস্টোফার হারম্যান নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ৭৫ বা ১৫০ ডলারের একটি বিলের জন্য রেস্তোরাঁকে ব্যবসা থামিয়ে পুলিশ ডাকতে হতে পারে, কর্মকর্তাদের অপেক্ষা করতে হতে পারে, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ দিতে হতে পারে এবং কর্মীদের বক্তব্যও দিতে হতে পারে। তাই অনেক মালিক সম্ভাব্য ক্ষতির তুলনায় এই প্রক্রিয়ার ব্যয় ও সময় বিবেচনা করে পুলিশে অভিযোগ না করার সিদ্ধান্ত নেন। এ কারণে এই সমস্যার প্রকৃত বিস্তার সরকারি অপরাধের পরিসংখ্যানে পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে না। হারম্যান বলেন, অনেক রেস্তোরাঁ ঘটনা রিপোর্ট না করায় সরকারি তথ্য অসম্পূর্ণ থেকে যায়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের এক মুখপাত্রও নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে খাবার খেয়ে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা বিভাগটি এত নির্দিষ্টভাবে আলাদা করে সংরক্ষণ করে না। ফলে এই প্রবণতা কতটা বেড়েছে, সে বিষয়ে বর্তমানে অনেক তথ্যই ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনার ওপর নির্ভর করছে। রেস্তোরাঁ ব্যবসার সীমিত লাভের কারণে এ ধরনের ছোট ক্ষতিও অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ন্যাশনাল রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, একটি সাধারণ রেস্তোরাঁর কর-পূর্ব মুনাফার হার প্রায় ৫ শতাংশের মতো। একই হিসাবে ১১২ ডলারের সমপরিমাণ কর-পূর্ব মুনাফা অর্জন করতে প্রায় ২ হাজার ২৪০ ডলারের বিক্রি প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ ১১২ ডলারের একটি বিল না দেওয়া কেবল ওই দিনের একটি খাবারের দাম হারানো নয়, এটি সেই অর্থের সমপরিমাণ লাভ অর্জনের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত বিক্রির প্রয়োজন তৈরি করতে পারে। হারম্যানের পরামর্শ, এমন ঘটনায় রেস্তোরাঁ মালিকদের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ, বিলের রসিদ এবং কর্মীদের বক্তব্য সংরক্ষণ করা উচিত। একই ব্যক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে রেস্তোরাঁগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়ও তদন্তে কাজে আসতে পারে। তার মতে, আলাদা আলাদা ছোট ঘটনা একত্র হয়ে কোনো পুনরাবৃত্ত আচরণের ধরন স্পষ্ট করতে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখাও জরুরি। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
চীনের মাধ্যমে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কাজে ব্যবহৃত সংবেদনশীল প্রযুক্তির যন্ত্রাংশ পাঠানোর ঘটনায় ৪৪ বছর বয়সী এক ইরানি নাগরিককে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। রেজা দিনদার, যিনি রেন্দা দিনদার নামেও পরিচিত, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের ওপর আরোপিত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষ স্বীকারের পর এই সাজা পেয়েছেন। ওয়াশিংটনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার ফেডারেল আদালতে ২৫ সেপ্টেম্বর বিচারক রিকার্ডো এস. মার্টিনেজ এই সাজা ঘোষণা করেন। আদালতের নথি ও মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দিনদারকে ১০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। কারাদণ্ড শেষ হওয়ার পর আরও তিন বছর তাকে আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। তিনি একটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশে পণ্য রপ্তানি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য পাচারের দুটি করে অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলাটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এক দশকেরও বেশি আগে, তবে অভিযুক্তকে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের সামনে আনতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। মামলার সূত্রপাত ২০১১ ও ২০১২ সালের একটি বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড থেকে। মার্কিন বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় দিনদার ও তার সহযোগীরা ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তিনটি সামরিক সোনার ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেন। তারা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জানিয়েছিলেন, এসব সরঞ্জাম চীনের একটি কোম্পানি ব্যবহার করবে। কিন্তু প্রকৃত পরিকল্পনা ছিল চীনের মাধ্যমে যন্ত্রাংশগুলো ইরানে পাঠানো। দিনদার ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চীনের শিয়ান শহরে নিউ পোর্ট সোর্সিং সলিউশন্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। মার্কিন আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই কোম্পানির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য সংগ্রহের প্রকৃত গন্তব্য গোপন করা হয়েছিল। মার্কিন সরবরাহকারীকে চীনকে চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে জানানো হলেও পণ্যগুলো শেষ পর্যন্ত ইরানে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। এই কৌশলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রসিকিউটররা জানান। মার্কিন আইন অনুযায়ী, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরানে পণ্য, প্রযুক্তি বা সেবা রপ্তানি কিংবা পুনরায় রপ্তানি করা নিষিদ্ধ। এমনকি তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হতে পারে, যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষ জানে বা জানার যথেষ্ট কারণ থাকে যে পণ্যটি শেষ পর্যন্ত ইরানে যাবে। এই মামলায় চীনকে মধ্যবর্তী গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। মামলায় দিনদারের বিরুদ্ধে প্রথমবার অভিযোগ গঠন করা হয় ২০১৪ সালের আগস্টে। এরপর এক দশকেরও বেশি সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতের বাইরে ছিলেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে পানামা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর প্রায় ছয় সপ্তাহ পর তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেন। সাজার শুনানিতে বিচারক মার্টিনেজ উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট অপরাধের ঘটনা এক দশকেরও বেশি আগে ঘটেছিল এবং দিনদার পানামার কারাগারে উল্লেখযোগ্য সময় কাটিয়েছেন। এই বিষয়টিও সাজা নির্ধারণের সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি কৌঁসুলিরা ১৮ মাসের কারাদণ্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ধরনের লঙ্ঘন ঠেকাতে শাস্তির মাধ্যমে কার্যকর প্রতিরোধ তৈরি করা প্রয়োজন। মামলাটি তদন্ত করেছে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের শিল্প ও নিরাপত্তা ব্যুরোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগকারী দপ্তর এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। দিনদারকে গ্রেপ্তার ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়ায় মার্কিন বিচার বিভাগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তর পানামা সরকারের সঙ্গে কাজ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগও এ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মামলাটি দেখিয়েছে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠালেও যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন প্রযোজ্য হতে পারে, যদি পণ্যের প্রকৃত গন্তব্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশ হয়। বিশেষ করে সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য সংবেদনশীল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এসব নিয়ন্ত্রণকে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। দিনদারের সাজা সেই দীর্ঘদিনের মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে এসেছে। সূত্র: মার্কিন বিচার বিভাগ (U.S. Department of Justice), ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ওয়াশিংটন
১০০ বছরেরও বেশি সময় পর পৃথিবীতে নতুন একটি পেঙ্গুইন প্রজাতির আনুষ্ঠানিক শনাক্তকরণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের দুর্গম কের্গেলেন দ্বীপপুঞ্জে বসবাসকারী এই পেঙ্গুইনের বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে Pygoscelis kerguelensis। গবেষকদের মতে, এতদিন এটিকে পরিচিত জেন্টু পেঙ্গুইনেরই একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও জিনগত ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের বিশ্লেষণে এটি স্বতন্ত্র প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কের্গেলেন দ্বীপপুঞ্জ দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের একটি অত্যন্ত প্রত্যন্ত অঞ্চল, যা স্থায়ীভাবে বসবাসকারী নিকটতম জনবসতি থেকে প্রায় ২ হাজার মাইল দূরে। এই ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে সেখানকার পেঙ্গুইন জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন গবেষকদের নজরের বাইরে ছিল। চিলি ও যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির গবেষকদের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক দল এই জনগোষ্ঠীর ওপর বিস্তারিত গবেষণা চালিয়ে নতুন প্রজাতিটির পরিচয় নিশ্চিত করে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Communications Biology-তে। গবেষকেরা জেন্টু পেঙ্গুইনের বিভিন্ন উপনিবেশ থেকে সংগৃহীত জিনগত তথ্যের সঙ্গে তাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য, খাদ্যাভ্যাস, প্রজননের সময়, আচরণ এবং বসবাসের পরিবেশ তুলনা করেছেন। পুরো জিনগত কাঠামোর তথ্য বিশ্লেষণে ১০টি প্রজনন উপনিবেশের ৬৪টি পেঙ্গুইনের নমুনা ব্যবহার করা হয়। এতে দেখা যায়, আগে একটি প্রজাতি হিসেবে বিবেচিত জেন্টু পেঙ্গুইন আসলে চারটি স্বতন্ত্র বিবর্তনীয় ধারায় বিভক্ত। নতুন শনাক্ত হওয়া কের্গেলেন পেঙ্গুইন ছাড়াও গবেষকেরা উত্তরাঞ্চলীয়, দক্ষিণাঞ্চলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় জেন্টু পেঙ্গুইনকে পৃথক প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলীয় প্রজাতি মূলত দক্ষিণ আমেরিকার ফকল্যান্ড বা মালভিনাস ও মার্তিয়ো দ্বীপ এলাকায় দেখা যায়। দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রজাতি অ্যান্টার্কটিকা ও আশপাশের এলাকায় বিস্তৃত। আর পূর্বাঞ্চলীয় প্রজাতির আবাস ক্রোজে, মেরিয়ন ও ম্যাককুয়ারি দ্বীপপুঞ্জে। দেখতে চার ধরনের জেন্টু পেঙ্গুইনের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। তবে গবেষকেরা জিনগত বিশ্লেষণে স্পষ্ট পার্থক্য পেয়েছেন। শারীরিক গঠন, আকার, ডাক, খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশগত অভিযোজনের কিছু পার্থক্যও তাদের আলাদা বিবর্তনীয় পরিচয়ের পক্ষে প্রমাণ দিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই জনগোষ্ঠীগুলো অতীতে কখনো কখনো পরস্পরের সঙ্গে জিন বিনিময় করলেও দীর্ঘ সময় ধরে ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও নিজ নিজ পরিবেশে অভিযোজনের কারণে আলাদা পথে বিবর্তিত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, কের্গেলেন অঞ্চলের পেঙ্গুইনদের মধ্যে বিশেষভাবে উচ্চ জিনগত বৈচিত্র্য রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, অতীতের বরফযুগগুলোতে এই দ্বীপপুঞ্জ পেঙ্গুইনদের জন্য এক ধরনের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় টিকে থাকার কারণেই এই জনগোষ্ঠীর নিজস্ব জিনগত বৈশিষ্ট্য গড়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষণাটি শুধু নতুন একটি প্রজাতির পরিচয় নিশ্চিত করেনি, পেঙ্গুইনদের বিবর্তন কীভাবে ঘটেছে সে সম্পর্কেও নতুন তথ্য দিয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, জেন্টু পেঙ্গুইন সাধারণত মাছ, ক্রিল, স্কুইড ও কাটলফিশসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার খায়। ফলে খাবারের সন্ধানে তাদের খুব দূরে যেতে হয় না এবং তারা বছরের পর বছর একই প্রজনন এলাকায় ফিরে আসে। বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোতে দীর্ঘদিন একই পরিবেশে বসবাসের ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীগুলোর আচরণ ও পরিবেশগত অভিযোজন ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে যায়। জিনগত বিশ্লেষণে চার প্রজাতির পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনের মধ্যেও পার্থক্য পাওয়া গেছে। অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলে বসবাসকারী দক্ষিণাঞ্চলীয় জেন্টু পেঙ্গুইনের জিনে শরীরের তাপ উৎপাদন, চর্বি ও শক্তি সঞ্চয় এবং আলোর পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলীয় জেন্টু পেঙ্গুইনের ক্ষেত্রে শক্তি-সাশ্রয়ী বিপাকক্রিয়া ও ডুব দেওয়ার সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগত বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে। নতুন প্রজাতি শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি সংরক্ষণনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন গবেষকেরা। কারণ আগে একই প্রজাতির অংশ হিসেবে বিবেচিত জনগোষ্ঠীগুলোর আলাদা পরিবেশগত প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি থাকতে পারে। গবেষণায় ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিস্থিতির মডেল বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, চার প্রজাতির মধ্যে তিনটির উপযুক্ত আবাসস্থল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। বিপরীতে অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেন্টু পেঙ্গুইনের বিস্তৃতি কিছু ক্ষেত্রে বাড়তেও পারে। গবেষকেরা তাই ভবিষ্যৎ সংরক্ষণমূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থার তালিকায় চার প্রজাতিকে আলাদাভাবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, কোনো প্রাণীর ভেতরে থাকা এমন গোপন জৈববৈচিত্র্য শনাক্ত করা গেলে প্রতিটি জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা সংরক্ষণ পরিকল্পনা নেওয়া সম্ভব হয়। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর নতুন পেঙ্গুইন প্রজাতির এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দক্ষিণ মহাসাগরের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণাকেও নতুনভাবে সাজাচ্ছে। সূত্র: Communications Biology, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের স্টেটেন আইল্যান্ডে পার্সেল ডেলিভারি দিতে যাওয়া এক নারীকে বন্দুকের মুখে ধর্ষণের অভিযোগে চৌদ্দ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডঙ্গান হিলস এলাকায় গত ৯ সেপ্টেম্বর ঘটে যাওয়া এই নির্মম যৌন নিপীড়নের ঘটনায় গত সোমবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, সাঁইত্রিশ বছর বয়সী ভুক্তভোগী নারী এবং অভিযুক্ত কিশোর একে অপরের সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিলেন। ভয়ংকর এই ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল এবং পুলিশ সন্দেহভাজনের একটি স্কেচ প্রকাশ করে তাকে খুঁজছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ছয়টার দিকে ডঙ্গান হিলস অ্যাভিনিউ এবং জেফারসন স্ট্রিট এলাকায় ওই নারী একটি পার্সেল ডেলিভারি দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে মাস্ক এবং হুডি পরা ওই কিশোর তার পথ রোধ করে দাঁড়ায়। অভিযুক্ত কিশোরের উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট এবং ওজন দুইশ পাউন্ডের কাছাকাছি হওয়ায় সে শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী ছিল। আচমকা সে ওই নারীর মাথায় বন্দুক দিয়ে আঘাত করে এবং এরপর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। জঘন্য এই অপরাধ সংঘটিত করার পরপরই ওই কিশোর ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে ওই নারী ঘটনার সময় নির্দিষ্ট কোনো ডেলিভারি কোম্পানির হয়ে কাজ করছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। অন্যদিকে বয়স কম হওয়ায় অভিযুক্ত কিশোরের নাম বা পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। তবে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হামলা, যৌন নিপীড়ন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা, জোরপূর্বক স্পর্শ করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট ও পুলিশ
অতিথিদের ফেলে যাওয়া স্যুটকেস এবার আর আবর্জনা হিসেবে ফেলে দিচ্ছে না টোকিওর একটি হোটেল। সেগুলোকে রূপান্তর করা হচ্ছে সবজি ও ভেষজ চাষের পাত্রে। টোকিওর চিয়োদা ওয়ার্ডে অবস্থিত হোটেল নিওয়া টোকিওর ছাদে এভাবেই গড়ে উঠেছে একটি ব্যতিক্রমী বাগান, যেখানে উৎপাদিত কিছু সবজি ও ভেষজ আবার হোটেলের রেস্তোরাঁয় অতিথিদের খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। হোটেলটি ২০২২ সালে ‘ইকো-নিওয়া’ নামে পরিবেশবান্ধব একটি উদ্যোগ শুরু করে। এর লক্ষ্য ছিল হোটেলের বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করা এবং ছাদে বাগান গড়ে তোলা। শুরুতে কফি বিন বহনে ব্যবহৃত শণজাতীয় বস্তা গাছ লাগানোর পাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এসব বস্তা যথেষ্ট টেকসই না হওয়ায় মাটি বেরিয়ে যেত এবং পানি ধরে রাখার ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছিল। পরে অতিথিদের ফেলে যাওয়া স্যুটকেস ব্যবহার করার ধারণা আসে। হোটেলের মহাব্যবস্থাপক কাজুয়া ওকাওয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রায় ১০টি স্যুটকেস অতিথিরা হোটেলে রেখে যান। হোটেলের প্রায় ৯০ শতাংশ অতিথিই বিদেশি। করোনাভাইরাস মহামারির পর জাপানে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করলে ফেলে যাওয়া স্যুটকেসের সংখ্যাও বেড়েছে। মালিককে ফেরত দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এসব স্যুটকেস সংরক্ষণ করা হয়। সেই সময়ের মধ্যে কেউ নিতে না এলে উপযোগী স্যুটকেসগুলোর কিছু বাগানের কাজে ব্যবহার করা হয়। ছাদবাগান প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ইয়োকো তাকাতা জানান, বিশেষ করে প্লাস্টিকের তৈরি এমন স্যুটকেস, যেগুলোর চাকা অক্ষত রয়েছে, গাছ লাগানোর জন্য বেশ কার্যকর। স্যুটকেসের কাঠামো মাটি ও পানি ধরে রাখতে পারে। পাশাপাশি চাকা ও হাতল থাকায় প্রয়োজন হলে সেগুলো সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানো যায়। ফলে সাধারণ আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেওয়ার বদলে পুরোনো স্যুটকেসগুলোকে ব্যবহার করে শহরের মধ্যেই নতুন করে সবজি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে হোটেলটির ছাদবাগানে প্রায় ৪০ ধরনের সবজি ও ভেষজ উৎপাদন করা হচ্ছে। হোটেলের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, অতিথিদের ফেলে যাওয়া স্যুটকেসসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত উপকরণ ব্যবহার করে এসব ফসল চাষ করা হয়। বাগান থেকে পাওয়া কিছু সবজি ও ভেষজ হোটেলের দুটি রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা হয়। তবে ফসলের মৌসুমের ওপর নির্ভর করে রেস্তোরাঁয় ছাদবাগানের উৎপাদিত খাবারের প্রাপ্যতা পরিবর্তিত হতে পারে। ছাদবাগানের উৎপাদিত খাবার অতিথিদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করছে। তাকাতা বলেন, অতিথিরা যখন জানতে পারেন যে তাদের খাবারে ব্যবহৃত উপকরণ কিছুক্ষণ আগেই হোটেলের ছাদ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, তখন তারা আনন্দিত হন। আবার অনেক অতিথি প্রথমবার হোটেলে এসে জানতে পারেন যে ভবনের ছাদেই একটি সবজির বাগান রয়েছে। শহরের ব্যস্ত পরিবেশের মধ্যে এমন একটি উদ্যোগ হোটেলের অতিথিদের জন্যও আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করছে। হোটেলের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম অবশ্য শুধু স্যুটকেস পুনর্ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। হোটেলের চারটি বাগান থেকে সংগ্রহ করা শুকনো পাতা প্রক্রিয়াজাত করে মাটির উর্বরতা বাড়ানোর উপাদান তৈরি করা হয়। রান্নাঘরের জৈব বর্জ্য ও খাবারের ডিমের খোসাও বাগানের কাজে ব্যবহার করা হয়। ২০২৪ সাল থেকে হোটেলের ছাদে মৌমাছি পালনের উদ্যোগও রয়েছে এবং সেখান থেকে উৎপাদিত মধু হোটেলের খাবার ও পানীয়তে ব্যবহার করা হয়। পরিত্যক্ত স্যুটকেসকে গাছ লাগানোর পাত্র হিসেবে ব্যবহারের ধারণাটি এর আগে থেকেই হোটেলটির পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ ছিল। ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, হোটেলের ছাদে স্যুটকেস ব্যবহার করে বেগুন, টমেটো, মরিচ, তরমুজ, শিসো ও তুলসিসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হচ্ছিল। তখন ছাদবাগানে প্রায় ২০ ধরনের ফসল চাষের কথা জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে উদ্যোগটি আরও বিস্তৃত হয়ে বর্তমানে প্রায় ৪০ ধরনের সবজি ও ভেষজ উৎপাদনের পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন হোটেল কর্তৃপক্ষ এই ধারণাকে স্থানীয় পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। কাছাকাছি স্কুলগুলোতে কর্মশালার আয়োজন করে পুরোনো স্যুটকেস কীভাবে গাছ লাগানোর পাত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তা শেখানোর কথা ভাবছে তারা। প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত ইয়োকো তাকাতা জানিয়েছেন, অতিথিদের সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাও তাদের লক্ষ্য। হোটেল নিওয়া টোকিওর ‘ইকো-নিওয়া’ প্রকল্পটি মূলত একটি সাধারণ বর্জ্যকে নতুন কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ। পরিত্যক্ত স্যুটকেসের মতো সহজে ফেলে দেওয়া একটি উপকরণকে ব্যবহার করে শহরের ছাদে খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশ সচেতনতা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করছে হোটেলটি। জাপানের হোটেলটির নিজস্ব তথ্যেও স্যুটকেস পুনর্ব্যবহার করে সবজি ও ভেষজ চাষ এবং সেগুলো রেস্তোরাঁয় ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সূত্র: দ্য জাপান টাইমস, হোটেল নিওয়া টোকিও
ইরানে বাধ্যতামূলক হিজাব না পরে গান গাওয়ার অভিযোগে গায়িকা পারাস্তো আহমাদির ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা বহাল রেখেছে দেশটির একটি আপিল আদালত। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, উচ্চ আদালত কোনো শুনানি ছাড়াই আপিল খারিজ করে আগের সাজা বহাল রাখে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে হাতাকাটা পোশাক পরে গান গাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। ২৯ বছর বয়সী পারাস্তো আহমাদি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি সংগীতানুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করেন। অনুষ্ঠানে তিনি মাথায় হিজাব পরেননি এবং হাতাকাটা পোশাক পরেছিলেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখো মানুষ তা দেখেন। এরপর ইরানের বিচার বিভাগ তার বিরুদ্ধে দেশটির আইন ও সাংস্কৃতিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেয়। দেশটিতে নারীদের প্রকাশ্যে গান পরিবেশনের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে এবং তাদের হিজাব ও শালীন পোশাক পরার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। চলতি বছরের জুনে কোম শহরের একটি ফৌজদারি আদালত আহমাদি ও তার ব্যান্ড এবং অনুষ্ঠান নির্মাণ দলের আরও আট সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতের অভিযোগ ছিল, তারা প্রকাশ্যে অশালীন ও অনৈতিক উপাদান প্রচারের মাধ্যমে ‘জনসাধারণের শালীনতায় আঘাত’ করেছেন। মামলায় আহমাদিসহ সংশ্লিষ্টদের ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের দুই বছরের জন্য দৃশ্যশ্রাব্য কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আহমাদির আইনজীবীরা আপিল করে বলেন, ওই সংগীতানুষ্ঠান আয়োজন করাই কোনো অপরাধ ছিল না। তাদের একজন বিবিসিকে জানান, একই অভিযোগে জরিমানা বা তুলনামূলক কম শাস্তির সুযোগ থাকলেও নিম্ন আদালত কঠোরতম শাস্তিগুলোর একটি দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আপিল আদালতের শুনানি করার সুযোগ থাকলেও আদালত কোনো শুনানি করেনি এবং আগের রায় বহাল রেখেছে। আইনজীবীদের ধারণা, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকানোর জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করাই এই রায়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে। প্রাথমিক রায়ের খবর প্রকাশের পর ইরানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। নির্বাসিত ইরানি গায়িকা গুগুশ ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহমাদির প্রতি সমর্থন জানিয়ে নারীদের নিজেদের জীবন ও পোশাক সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতার কথা বলেন। সংগীতশিল্পী হোসেইন আলিজাদেহও আহমাদির পরিবর্তে নিজে ৭০ বেত্রাঘাতের শাস্তি নিতে প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছিলেন। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও এই সাজার সমালোচনা করে বেত্রাঘাতকে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর শাস্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইরানে নারীদের পোশাকসংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিষয়টি নতুন নয়। দেশটির আইনে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো নারী ও কিশোরীদের চুল হিজাব দিয়ে ঢেকে রাখতে এবং শরীরের গঠন আড়াল করে এমন ঢিলেঢালা পোশাক পরতে বলা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশটির অনেক নারী প্রকাশ্যে হিজাব না পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হিজাব ঠিকভাবে না পরার অভিযোগে নৈতিকতা পুলিশের আটক করা ২২ বছর বয়সী কুর্দি-ইরানি তরুণী আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০২২ সালের ওই বিক্ষোভে অনেক নারী প্রকাশ্যে হিজাব খুলে ফেলেন বা মাথার কাপড় বাতাসে উড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে শত শত মানুষ নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। এরপরও ইরানের বিভিন্ন শহরে অনেক নারী প্রকাশ্যে হিজাব না পরেই চলাফেরা করছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার, সতর্কবার্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া এবং অন্যান্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে। হিজাবসংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে এর আগেও বেত্রাঘাতের সাজা কার্যকর হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কুর্দি-ইরানি অধিকারকর্মী রোয়া হেশমতিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিজাব ছাড়া একটি ছবি প্রকাশের ঘটনায় ‘জননৈতিকতা লঙ্ঘনের’ অভিযোগে ৭৪ বার বেত্রাঘাত করা হয় বলে কুর্দি মানবাধিকার সংগঠন হেংগাও জানিয়েছিল। হেশমতি পরে জানান, তেহরানের একটি প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এক নারী কর্মকর্তা জোর করে তার মাথায় স্কার্ফ পরিয়ে দেন এবং পরে একজন পুরুষ কর্মকর্তা তাকে বেত্রাঘাত করেন। পারাস্তো আহমাদির মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইরানে নারীদের পোশাক ও প্রকাশ্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ইরানের রক্ষণশীল রাজনীতিক ও এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য গোলামালি হাদ্দাদ-আদেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে হিজাববিষয়ক বিধিনিষেধ কার্যকর করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ আপাতত আগের মতো মনোযোগ দিতে পারছে না। তবে দেশটির প্রচলিত আইন ও বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। আহমাদির বিরুদ্ধে রায়ের ফলে ইরানে নারী শিল্পীদের প্রকাশ্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। তার আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আপিল আদালতে কোনো শুনানি না করেই আগের সাজা বহাল রাখা হয়েছে। এখন ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা কার্যকর হবে কি না এবং মামলাটির বিরুদ্ধে আরও কোনো আইনি পদক্ষেপের সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে নজর রয়েছে। সূত্র: বিবিসি, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
যুক্তরাষ্ট্রে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স কিংবা পিএইচডি করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধারাবাহিক ধাপে সম্পন্ন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট, সিলেকশন ও অফার লেটার, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা, আই-২০, সেভিস ফি, ডিএস-১৬০, ভিসা ফি এবং শেষ পর্যন্ত ভিসা ইন্টারভিউ, প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে শিক্ষার্থীকে সেভিস অনুমোদিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হবে। প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীকে গ্রহণ করলে তাকে সেভিসে নিবন্ধন করা হয় এবং এরপর প্রতিষ্ঠান আই-২০ ইস্যু করে। আই-২০ পাওয়ার পর শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি সহজভাবে বুঝতে হলে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি ধাপে প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে। প্রথম ধাপ: বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন - শুরুতেই শিক্ষার্থীকে নিজের একাডেমিক যোগ্যতা, পছন্দের বিষয়, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গবেষণা করতে হবে। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং অ্যাপ্লিকেশনের নিয়ম আলাদা হতে পারে। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের মেজর বা গবেষণার সুযোগ রয়েছে, টিউশন ফি কত, স্কলারশিপ বা ফাইন্যান্সিয়াল এইডের সুযোগ আছে কি না, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কেমন এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের সুযোগ রয়েছে, এসব বিষয় যাচাই করে নিজের জন্য উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি করা উচিত।y এডুকেশনইউএসএ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শুরুর অন্তত ১২ থেকে ১৮ মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম নিয়ে গবেষণা শুরু করার পরামর্শ দেয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো একক অফিসিয়াল কলেজ র্যাংকিং নেই। শিক্ষার্থীর একাডেমিক, আর্থিক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের সঙ্গে যে বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে ভালোভাবে মেলে, সেটিই তার জন্য উপযুক্ত হতে পারে। দ্বিতীয় ধাপ: বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট - বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করার পর প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী অ্যাপ্লিকেশন প্রস্তুত করতে হবে। ট্রান্সক্রিপ্ট, পরীক্ষার ফলাফল, ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণ, সুপারিশপত্র, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, সিভি বা গবেষণাসংক্রান্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয় বা সব প্রোগ্রামের জন্য একই ধরনের ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয় না। তাই যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা হচ্ছে, তাদের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন নির্দেশনা অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয় ধাপ: বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন ও অফার লেটার - অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট করার পর বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীর একাডেমিক রেকর্ড, যোগ্যতা এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করবে। বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন গ্রহণ করলে শিক্ষার্থীকে সাধারণত একটি অফার লেটার বা অ্যাডমিশন লেটার দেওয়া হয়। এই পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিতে হতে পারে এবং ভর্তি নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু কাজ সম্পন্ন করতে হতে পারে। চতুর্থ ধাপ: আই-২০ - অফার লেটার পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর তথ্য সেভিসে নিবন্ধন করে এবং এরপর ফর্ম আই-২০ ইস্যু করে। আই-২০ শিক্ষার্থী নিজে তৈরি করেন না। সেভিস অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত কর্মকর্তা শিক্ষার্থীর জন্য আই-২০ ইস্যু করেন। এতে শিক্ষার্থীর প্রোগ্রাম, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেভিস আইডিসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, আই-২০ পাওয়ার পর এবং সেভিসে নিবন্ধন সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা কনস্যুলেটে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় আই-২০ দেখাতে হয়। পঞ্চম ধাপ: সেভিস ফি- আই-২০ পাওয়ার পর এফ-১ শিক্ষার্থীদের সেভিস আই-৯০১ ফি পরিশোধ করতে হয়। বর্তমানে এফ ও এম শিক্ষার্থীদের সেভিস ফি ৩৫০ ডলার। সেভিস ফি পরিশোধের রসিদ অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। পরবর্তী ভিসা প্রক্রিয়ায় এই রসিদ প্রয়োজন হতে পারে। ষষ্ঠ ধাপ: ডিএস-১৬০ - এরপর শিক্ষার্থীকে ডিএস-১৬০ পূরণ করতে হবে। ডিএস-১৬০ হলো যুক্তরাষ্ট্রের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন। ডিএস-১৬০ পূরণ করার সময় আই-২০ সামনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে থাকা সেভিস আইডি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রয়োজন হবে। নাম, জন্মতারিখ, পাসপোর্টের তথ্য, শিক্ষাগত তথ্য, ভ্রমণের উদ্দেশ্যসহ সব তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। ডিএস-১৬০ সাবমিট করার পর এর কনফার্মেশন পেজ সংরক্ষণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ডিএস-১৬০-এর তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে অ্যাপ্লিকেশন সংশোধন এবং ভিসা ইন্টারভিউ পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন হতে পারে। সপ্তম ধাপ: ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফি ও ইন্টারভিউ স্কেডিউল - ডিএস-১৬০ সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীকে প্রযোজ্য ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফি পরিশোধ করতে হবে। বর্তমানে এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসার নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফি ১৮৫ ডলার। ফি পরিশোধের পর সংশ্লিষ্ট ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে ইন্টারভিউয়ের তারিখ নিতে হবে। তবে ডিএস-১৬০, ফি পরিশোধ এবং ইন্টারভিউ স্কেডিউলের সুনির্দিষ্ট ক্রম দূতাবাসভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান গ্লোবাল ভিসা ওয়েট টাইম তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় এফ, এম ও জে ক্যাটাগরির পরবর্তী ইন্টারভিউ অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষার সময় বর্তমানে অর্ধ মাসের কম দেখানো হচ্ছে। তবে এই তথ্য নিয়মিত পরিবর্তিত হয় এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রাপ্যতা মৌসুম ও আবেদনকারীর সংখ্যার ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের আগেভাগেই ভিসা প্রক্রিয়া শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অষ্টম ধাপ: ভিসা ইন্টারভিউ - ইন্টারভিউয়ের দিন শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। এর মধ্যে পাসপোর্ট, ডিএস-১৬০ কনফার্মেশন পেজ, ভিসা ফি পরিশোধের প্রমাণ, আই-২০ এবং সেভিস ফি পরিশোধের রসিদ গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী একাডেমিক ও আর্থিক ডকুমেন্টও প্রস্তুত রাখা উচিত। কনস্যুলার অফিসার শিক্ষার্থীর একাডেমিক প্রস্তুতি, কেন যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে চান, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং কোন প্রোগ্রামে পড়বেন, পড়াশোনার খরচ কীভাবে বহন করবেন এবং পড়াশোনা শেষে পরিকল্পনা কী, এসব বিষয়ে জানতে পারেন। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ডকুমেন্টও চাওয়া হতে পারে। তাই ইন্টারভিউয়ের আগে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়, প্রোগ্রাম, মেজর, পড়াশোনার খরচ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। মুখস্থ করা উত্তর দেওয়ার চেয়ে নিজের বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত ও সত্য উত্তর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনকারীদের অনলাইন প্রেজেন্সও বর্তমানে ভিসা ভেটিংয়ের অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, এফ-১ ও এম-১সহ শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অনলাইন প্রেজেন্স রিভিউ করা হতে পারে। ফলে ভিসা অ্যাপ্লিকেশনে দেওয়া তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সবশেষে মনে রাখতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার পাওয়া মানেই স্টুডেন্ট ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। একইভাবে আই-২০ পাওয়াও ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়। ভিসা ইন্টারভিউতে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত ডকুমেন্ট বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি তাই হওয়া উচিত ধারাবাহিকভাবে: প্রথমে নিজের জন্য উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজা, এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট, সিলেকশন হলে অফার লেটার পাওয়া, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিয়ে আই-২০ সংগ্রহ, সেভিস ফি পরিশোধ, ডিএস-১৬০ সম্পন্ন, ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফি পরিশোধ, ইন্টারভিউ স্কেডিউল নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট নিয়ে ভিসা ইন্টারভিউ দেওয়া। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিটি ধাপে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা। ভিসা প্রক্রিয়ার নিয়ম, ফি এবং ইন্টারভিউয়ের সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সর্বশেষ সরকারি তথ্য যাচাই করেই পরবর্তী ধাপে যাওয়া উচিত।
যুক্তরাজ্যে শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য বন্ধ থাকা একটি কর্মসূচি আবার চালু করছে দেশটির সরকার। নিরাপদ ও বৈধ পথে যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের যুক্তরাজ্যে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়াই এর লক্ষ্য। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন করে চালু হওয়া কর্মসূচিতে শুরুতে কয়েকশ শরণার্থীকে নেওয়া হবে এবং এদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হতে পারেন আফগান নারী ও কিশোরী এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী। সোমবার লিভারপুলে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, অভিবাসন ব্যবস্থায় ন্যায্যতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। একই সঙ্গে যুদ্ধ, নিপীড়ন ও সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য নিরাপদ ও বৈধ পথ চালু রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নতুন কর্মসূচির আওতায় প্রথম শরণার্থীদের চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যে আসার কথা রয়েছে। নতুন পরিকল্পনাটি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং ইন্টারন্যাশনাল রিফিউজি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। ইউএনএইচসিআর বিভিন্ন দেশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থীদের শনাক্ত ও মূল্যায়নের মাধ্যমে পুনর্বাসনের জন্য সুপারিশ করবে। এর আগে যুক্তরাজ্যের আফগানিস্তানভিত্তিক একটি পুনর্বাসন পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হলো। সরকার জানিয়েছে, নতুন কর্মসূচির পাশাপাশি শরণার্থীদের জন্য আরও তিনটি নিরাপদ ও বৈধ পথ চালু করা হচ্ছে। এসব ব্যবস্থায় স্থানীয় সম্প্রদায়, বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান শরণার্থীদের যুক্তরাজ্যে আসার ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারবে। স্থানীয় সম্প্রদায় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবাসন, সমাজে একীভূত হওয়া এবং কাজ খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে। অক্টোবর থেকে দাতব্য ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রদায়ভিত্তিক পৃষ্ঠপোষক হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবে। এই ব্যবস্থায় প্রথম শরণার্থীরা আগামী বছরের শরতে যুক্তরাজ্যে আসতে পারেন। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শরণার্থী শিক্ষার্থীদের পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারবে। কর্মসংস্থানভিত্তিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের বসন্তে এবং ওই পথেও পরবর্তীতে শরণার্থীদের যুক্তরাজ্যে আসার সুযোগ তৈরি হবে। যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, নতুন পুনর্বাসন কর্মসূচি ও তিনটি পৃষ্ঠপোষকতা পথ মিলিয়ে শুরুতে শরণার্থীর সংখ্যা কয়েকশ হবে। পরে অনিয়মিত অভিবাসন কমার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা বছরে কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তবে প্রতি বছর মোট কতজনকে এসব বৈধ পথে নেওয়া হবে, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট সীমা বা সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। সরকার বলছে, এর মাধ্যমে একদিকে ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থীদের জন্য বৈধ পথ রাখা হবে, অন্যদিকে অনিয়মিত পথে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ নিরুৎসাহিত করা হবে। শাবানা মাহমুদ বলেন, যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা মানুষের প্রতি ব্রিটিশ জনগণের মানবিক দায়িত্ববোধ এখনো রয়েছে। তবে তার মতে, শরণার্থী গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে এবং নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। যেসব সম্প্রদায় নতুন শরণার্থীদের গ্রহণ করবে, তাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সক্ষমতাও থাকতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই উদ্যোগের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য সরকার অভিবাসন ব্যবস্থায় বেশ কিছু কঠোর পরিবর্তনও আনছে। বৈধ পথে আসা কিছু অভিবাসীর স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির জন্য অপেক্ষার সময় বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। লেবার পার্টির ভেতর থেকেও এসব পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। হাউজিং সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনার সম্প্রতি বলেছেন, কিছু প্রস্তাবের কারণে অভিবাসীদের জন্য আগের নিয়মের তুলনায় নতুন বাস্তবতা তৈরি হতে পারে এবং তিনি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। সরকারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া ১২ মাসে যুক্তরাজ্যের নিরাপদ ও বৈধ মানবিক পথগুলোতে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৩০টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই ছিল যুক্তরাজ্যে আগে থেকেই অবস্থানরত মানুষের থাকার অনুমতি বাড়ানোর বিষয়। একই সময়ে শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে যুক্তরাজ্যে নেওয়ার কার্যক্রমও অব্যাহত ছিল। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, নতুন পুনর্বাসন নীতির আওতায় যারা আসবেন, তাদের পাঁচ বছরের মধ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। সরকার এটিকে অনিয়মিত পথে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার তুলনায় একটি নিয়ন্ত্রিত ও বৈধ বিকল্প হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে সরকার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অনিয়মিত অভিবাসন কমানোর পদক্ষেপও চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। সূত্র: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে মা ও মায়ের প্রেমিককে হত্যার ঘটনায় জুলিয়া এগলার নামে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে ৫০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে হত্যাকাণ্ডের সময় তার বয়স ছিল ১৬ বছর। শুক্রবার আদালতে তিনি দ্বিতীয়-স্তরের হত্যার দুটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। সমঝোতার ভিত্তিতে করা এই দোষ স্বীকারের পর তাকে ৫০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যার মধ্যে অন্তত ২৫ বছর কারাগারে থাকতে হবে। এরপর অঙ্গরাজ্যের আইনে তার সাজা পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৭ জুলাই ফ্লোরিডার পাম বে শহরের বেনচোর রোডের একটি বাড়িতে। নিহতরা হলেন এগলারের মা কেলি ম্যাককলম, বয়স ৩৮ বছর, এবং মায়ের প্রেমিক ম্যাথিউ সেজনরক, বয়স ২২ বছর। পুলিশ জানিয়েছে, এগলার ওই রাতে ৯১১ নম্বরে ফোন করে দাবি করেছিলেন, এক অজ্ঞাত ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে তাদের ওপর হামলা করেছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে পাওয়া বিভিন্ন আলামত তার বর্ণনার সঙ্গে মিলছিল না। পরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, বাড়িতে জোর করে প্রবেশের কোনো চিহ্ন ছিল না এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামতও এগলারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। তার মায়ের রিভলভার, একটি ছুরি এবং রক্তের দাগসহ অন্যান্য আলামত তদন্তকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পুলিশ বলেছে, এগলার প্রথমে হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতি বা বাড়িতে অনুপ্রবেশের ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সাজানো হয়েছিল। পাম বে পুলিশের নথি অনুযায়ী, এগলার মায়ের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। এর মধ্যে তার লিঙ্গ পরিবর্তন নিয়ে মায়ের আপত্তি এবং মায়ের ২২ বছর বয়সী সেজনরকের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও মতবিরোধ ছিল। তদন্তকারীদের কাছে এগলার জানিয়েছিলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল এবং একপর্যায়ে তিনি মানসিকভাবে চরম অবস্থায় পৌঁছে যান। মামলার শুরুতে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রথম-স্তরের হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। পুলিশের নথিতে হত্যাকাণ্ডের রাতের ঘটনাপ্রবাহেরও বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এগলার দম্পতির বাড়িতে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন এবং তারা প্রবেশ করার পর তাদের গুলি করেন। সেজনরক গুলিবিদ্ধ হয়ে বাথরুমের দিকে চলে গেলে তার ওপরও হামলা চালানো হয়। পরে ঘটনাস্থলে গুলির খোসা ও ছুরিসহ বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায়। পুলিশ ও প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, উভয় ভুক্তভোগীর মৃত্যু ঘটনাস্থলেই হয়। হত্যার পর এগলার পুলিশকে জানান, এক ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে বাড়ির কাচের দরজা ভেঙে ঢুকেছিল। কিন্তু তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের কাচ ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করে তার বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাস্থলের অবস্থান এবং জোর করে প্রবেশের কোনো স্পষ্ট চিহ্ন না থাকায় ওই বর্ণনা টেকেনি। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে এগলার হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং ঘটনাটিকে অন্যভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করার কথাও জানান। মামলাটি পরে ব্রেভার্ড কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরির সামনে যায় এবং ২০২৪ সালের আগস্টে এগলারের বিরুদ্ধে প্রথম-স্তরের পরিকল্পিত হত্যার দুটি অভিযোগে অভিযোগপত্র গঠন করা হয়। তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছিল। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনাও শেষ করেন। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ বিচার এড়াতে প্রসিকিউশনের সঙ্গে সমঝোতায় দ্বিতীয়-স্তরের হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এই সমঝোতা ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের অনুমোদন পেয়েছিল বলে স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর ব্রেভার্ড কাউন্টির সার্কিট জজ মিশেল ন্যাবারহাউস এগলারকে ৫০ বছরের কারাদণ্ড দেন। সাজা ঘোষণার সময় এগলার আদালতে নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন তিনি অনুশোচনা ও শোকের মধ্যে থাকেন এবং নিজেকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানান। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫ বছর পর তার সাজা পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হবে। কারাদণ্ডের পর তাকে আরও ২০ বছর তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে এবং মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আদালতে নিহত ম্যাথিউ সেজনরকের ভাই ডাস্টিনও বক্তব্য দেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি ঘটনাস্থলের মাত্র ৭৫ ফুট দূরে ছিলেন এবং গুলির শব্দকে আতশবাজির শব্দ মনে করেছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, তার ভাই তখন প্রাণের জন্য লড়াই করছিলেন। ডাস্টিন বলেন, এই ঘটনায় শুধু তার ভাইকেই হারাননি, তাদের পরিবারের বাড়িও সেই ঘটনার কারণে স্থায়ীভাবে বদলে গেছে। তার ভাষায়, কোনো সাজাই তার ভাইকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। সূত্র: ফ্লোরিডার ১৮তম জুডিশিয়াল সার্কিটের স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়, ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো
১৯৭৯ সালে পবিত্র কাবার বর্তমান দরজা তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন থাইল্যান্ডের নাগরিক আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব। বর্তমানে ৭৮ বছর বয়সী আবদুল্লাহ সম্প্রতি সৌদি আরব সফরে গিয়ে সেই ঐতিহাসিক কাজের স্মৃতি তুলে ধরেছেন। সৌদি আরবের বাদশাহর অতিথি হিসেবে তিনি দেশটিতে অবস্থান করছেন বলে দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন জানিয়েছে। আবদুল্লাহর বর্ণনা অনুযায়ী, সে সময় থাইল্যান্ড থেকে তিনজন কাঠমিস্ত্রি ও তিনজন স্বর্ণকারকে সৌদি আরবে নিয়ে আসা হয়েছিল। আরবি ভাষায় দক্ষ হওয়ায় তিনি দলের অনুবাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ছয় কারিগরের কাজের সমন্বয়ও করেন। মক্কার প্রধান স্বর্ণকার শেখ আহমদ ইব্রাহিম বদর তাকে এই কাজে যুক্ত করেন বলে তিনি জানিয়েছেন। দরজার নকশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সিরীয় স্থপতি মুনির আল-জুন্দি। কাবার পুরোনো দরজার মাপ নেওয়ার পর মক্কায় একটি বিশেষ কর্মশালায় নতুন দরজা তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রথমে কাঠের কাঠামো তৈরি করা হয়, পরে তাতে স্বর্ণের কাজ করা হয়। সৌদি আরবের সরকারি তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট সৌদিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালে বাদশাহ খালিদের শাসনামলে কাবার দরজা পরিবর্তন করা হয় এবং এতে ২৮০ কেজি খাঁটি স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়েছিল। দরজাটি তৈরিতে প্রায় ১২ মাস সময় লেগেছিল। আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, দরজায় আল্লাহর ১৫টি সুন্দর নামও খোদাই করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছয়টি এক পাশে, ছয়টি অন্য পাশে এবং তিনটি ওপরের অংশে রাখা হয়। দরজায় কোরআনের আয়াতসহ বিভিন্ন ইসলামী নকশা ও আরবি ক্যালিগ্রাফিও রয়েছে। সৌদি আরবের তথ্য অনুযায়ী, দরজার অলংকরণে উঁচু করে খোদাই করা নকশা, কোরআনের আয়াত এবং আল্লাহ ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নামও রয়েছে। দরজা স্থাপনের সময়টিও ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো দরজা সরিয়ে নতুন দরজা বসানোর কাজ চলার সময় নিচে মুসল্লি ও ওমরাহ পালনকারীরা তাওয়াফ করছিলেন। কারিগররা ওপরের অংশে কাজ করছিলেন, আর নিচে কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ চলতে থাকে। ১৩৯৯ হিজরির ২২ জিলকদ, যা ১৯৭৯ সালের অক্টোবরে পড়ে, নতুন দরজাটি স্থাপন করা হয়। বর্তমানে কাবার যে স্বর্ণখচিত দরজাটি দেখা যায়, সেটিই ১৯৭৯ সালে স্থাপন করা হয়েছিল। সৌদি সরকারের তথ্যভিত্তিক সৌদিপিডিয়া বলছে, দরজাটিতে ব্যবহৃত স্বর্ণের পরিমাণ ২৮০ কেজি এবং এটি ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ বিশুদ্ধ স্বর্ণ। দরজাটি তৈরির জন্য বিশেষ কর্মশালা স্থাপন করা হয়েছিল এবং এর নকশা ও অলংকরণে উন্নত কারুশিল্পের ব্যবহার করা হয়। আবদুল্লাহ বর্তমানে সৌদি আরবে বাদশাহর অতিথি হিসেবে সফর করছেন। মদিনার একটি হোটেলে সাক্ষাৎকারের সময় তিনি ১৯৭৯ সালের সেই কাজের স্মৃতিচারণ করেন। তার এই অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আসার পর কাবার বর্তমান দরজা তৈরির পেছনে থাইল্যান্ডের ছয় কারিগরের অংশগ্রহণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সূত্র: দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন, সৌদিপিডিয়া
খ্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে দুই শতাব্দীর মধ্যে প্রথমবার কোনো নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেবে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য টেনেসি। ১৯৯৫ সালে সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় দণ্ডিত পাইক বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী। নাশভিল, টেনেসি: যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২০০ বছর পর প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। ৫০ বছর বয়সী খ্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড আগামী বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর কার্যকর করার কথা রয়েছে। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৮২০ সালের পর টেনেসিতে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে সহপাঠী ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন পাইক। তারা দুজনই নক্সভিলের জব কর্পসে পড়াশোনা করতেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, পাইক মনে করতেন স্লেমার তার প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছেন। এ কারণে পাইক ও তার প্রেমিক টাডারিল শিপ স্লেমারকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে নির্যাতন ও হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার নৃশংসতা, জড়িতদের অল্প বয়স এবং নিহতের শরীরে শয়তানবাদ-সংশ্লিষ্ট একটি প্রতীক খোদাই করার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। মামলায় শিপ স্বীকার করেছিলেন যে তিনিই স্লেমারের শরীরে পেন্টাগ্রাম বা পাঁচকোণা তারকা আকৃতির প্রতীকটি খোদাই করেছিলেন। পাইক তার অপরাধের দায় অস্বীকার করেননি। তবে তার আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছেন, ১৮ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উপযুক্ত নয়। তাদের দাবি, শৈশব থেকেই পাইক গুরুতর নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও অবহেলার শিকার হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে তার বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার শনাক্ত হয়। পাইকের আইনজীবী স্টিফেন ফেরেলের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই পাইক যৌন নির্যাতনের শিকার হন এবং ১১ ও ১৭ বছর বয়সে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। তার আইনজীবীদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণের সময় বিচারকদের সামনে তার শৈশবের এসব পরিস্থিতি ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথেষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। ক্ষমা প্রার্থনার আবেদনে পাইক নিজের অপরাধের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, তিনি তখন মানসিকভাবে অসুস্থ ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী ছিলেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের ভয়াবহতা বুঝতে তার অনেক বছর লেগেছে। তিনি স্বীকার করেছেন, তার কর্মকাণ্ডে একটি পরিবারের সন্তান, বোন ও বন্ধুকে হারাতে হয়েছে। পাইকের আইনজীবীরা আরও বলছেন, বর্তমানে কিশোর-কিশোরীদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও শৈশবের মানসিক আঘাতের প্রভাব সম্পর্কে আগের তুলনায় অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক তথ্য জানা যায়। তাদের মতে, অপরাধের সময় পাইকের বয়স এবং তার শৈশবের পরিস্থিতি মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার কারণ হওয়া উচিত। মামলায় পাইকের প্রেমিক টাডারিল শিপের বয়স ছিল ১৭ বছর। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে প্যারোলের সুযোগ রাখা হয়েছিল। ২০২৫ সালে তার প্যারোলের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। আরেক কিশোর সহযোগী হিসেবে দায় স্বীকার করে পরীক্ষামূলক মুক্তির সাজা পেয়েছিল। টেনেসির গভর্নর বিল লি সোমবার জানিয়েছেন, তিনি পাইকের সাজা মওকুফ করবেন না। এর পর পাইকের আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেছেন। এর আগে টেনেসি সুপ্রিম কোর্টও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ বন্ধ করেনি। ২৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক রায়ে আদালত জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি নিয়ে পাইকের করা চ্যালেঞ্জ সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। এদিকে নিহত কোলিন স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ মেয়ের মৃত্যুর পর প্রায় তিন দশক ধরে অপেক্ষা করছেন। তিনি পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার ভাষ্য, কোলিন মাত্র ১৯ বছর বয়সে মারা যান এবং বড় হয়ে ওঠার সুযোগ পাননি। মার্টিনেজ জানান, তার মেয়ে স্পেশাল অলিম্পিকসে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন, রোলার স্কেটিং পছন্দ করতেন এবং কম্পিউটার নিয়ে কাজ করার পেশাগত স্বপ্ন ছিল। কোলিনের হত্যাকাণ্ড নক্সভিল শহরেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় তাকে ধারালো বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয় এবং বড় একটি পাথর বা অ্যাসফল্টের টুকরা দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। ঘটনাটি ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকের তথাকথিত ‘স্যাটানিক প্যানিক’ বা শয়তানবাদ নিয়ে সামাজিক আতঙ্কের আলোচনাকেও উসকে দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা তুলনামূলকভাবে বিরল। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড পুনরায় কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ জন নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা ওই সময়ের মোট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রায় ১ শতাংশ। ২০২৩ সালে মিসৌরিতে অ্যাম্বার ম্যাকলাফলিনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার লিসা মন্টগোমেরির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, যা প্রায় সাত দশকের মধ্যে কোনো নারী ফেডারেল বন্দির প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ছিল। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের হিসাবে, আধুনিক মৃত্যুদণ্ডের যুগে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮, ১৯ বা ২০ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য ২৭৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তবে এই বয়সসীমার ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বর্তমানে ক্রমেই বিরল হয়ে এসেছে। পাইক ১৯৯৬ সালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর প্রায় ৩০ বছর ধরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন। তার মৃত্যুদণ্ড বুধবার কার্যকর হলে টেনেসির ইতিহাসে ২০০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার (DPIC)
যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের চার বছর বয়সী শিশু এলেনা। সাধারণ শিশুর মতোই খেলাধুলা আর পরিবারের সঙ্গে পাহাড়ের ট্রেইলে হেঁটে আনন্দময় শৈশব কাটছিল তার। কিন্তু হঠাৎই নিচের মাড়ির বাঁ পাশে দাঁতব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিলে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। মা সারাহ লাপোস্তাতো শুরুতে ভেবেছিলেন হয়তো নতুন দাঁত উঠছে কিংবা খাবারের কণা আটকে সাধারণ সংক্রমণ হয়েছে। তাৎক্ষণিক দন্তচিকিৎসক ও ওরাল সার্জনের শরণাপন্ন হলে এক্স-রে রিপোর্টেও তেমন আশঙ্কাজনক কিছু মেলেনি; মাড়িতে খাবারের টুকরো আটকে থাকা বা সাধারণ সিস্ট ধারণা করে ছয় সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যথা কমার বদলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ফুটবল খেলে বেড়ানো দুরন্ত শিশুটি একপর্যায়ে তীব্র ক্লান্তিতে বিছানা থেকেই উঠতে পারছিল না। এর মধ্যে চোখের চারপাশে অচেনা কালশিটে দাগ দেখা দিলে মা সারাহ দেরি না করে এলেনাকে জরুরি ভিত্তিতে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। রক্ত পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতার লক্ষণ ধরা পড়ার পর দ্রুত পাঠানো হয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে নিবিড় পরীক্ষার পর চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য স্তব্ধ করে দেয় বাবা-মাকে—এলেনার পেটে সফটবলের সমান আকারের একটি টিউমার ধরা পড়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, সে নিউরোব্লাস্টোমা নামের একটি বিরল ও মারাত্মক ক্যানসারে আক্রান্ত। রোগ শনাক্তের সময় এলেনার শরীরে ক্যানসার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। চিকিৎসা পরিভাষায় যার তীব্রতা মাপার 'কুরি স্কোর' ছিল ৩০-এর মধ্যে ২৫। পরবর্তী এক বছর এই ছোট্ট শিশুর ওপর দিয়ে চলে চিকিৎসার এক কঠিন ঝড়। একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার, পাঁচ দফা কেমোথেরাপি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আওতায় চার দফা ইমিউনোথেরাপি, পেট থেকে টিউমার অপসারণ, দুটি স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট এবং ১২ দিনের রেডিয়েশন থেরাপি সহ্য করতে হয় তাকে। চিকিৎসার চরম সংকটময় সময়ে দুই দফা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (আইসিইউ) লড়তে হয়েছে তাকে। চিকিৎসার ব্যয়ভার ও স্বাস্থ্যবীমা সচল রাখতে মা-বাবা উভয়েই পুরো সময় চাকরি ধরে রাখেন। হাসপাতালের লম্বা সময় আর ঘরের বড় মেয়ের দেখভালের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে এক নতুন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান তারা। দীর্ঘ ও অবিরাম চিকিৎসার সুফল মিলতে শুরু করেছে এলেনার শরীরে; রেডিয়েশন শেষ হওয়ার পর তার কুরি স্কোর ২৫ থেকে নাটকীয়ভাবে নেমে এসেছে মাত্র ১-এ। বর্তমানে সে চিকিৎসার তৃতীয় ধাপে ইমিউনোথেরাপি নিচ্ছে এবং সামনের এমআইবিজি স্ক্যানে এই স্কোর শূন্যে নেমে আসবে—এমন আশাতেই বুক বাঁধছেন চিকিৎসকরা।