সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খ্রিস্টা পাইক। ছবি: সংগৃহীত
২০০ বছর পর প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি

খ্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে দুই শতাব্দীর মধ্যে প্রথমবার কোনো নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেবে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য টেনেসি। ১৯৯৫ সালে সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় দণ্ডিত পাইক বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী।   নাশভিল, টেনেসি: যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২০০ বছর পর প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। ৫০ বছর বয়সী খ্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড আগামী বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর কার্যকর করার কথা রয়েছে। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৮২০ সালের পর টেনেসিতে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।   ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে সহপাঠী ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন পাইক। তারা দুজনই নক্সভিলের জব কর্পসে পড়াশোনা করতেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, পাইক মনে করতেন স্লেমার তার প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছেন। এ কারণে পাইক ও তার প্রেমিক টাডারিল শিপ স্লেমারকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে নির্যাতন ও হত্যা করেন।   হত্যাকাণ্ডটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার নৃশংসতা, জড়িতদের অল্প বয়স এবং নিহতের শরীরে শয়তানবাদ-সংশ্লিষ্ট একটি প্রতীক খোদাই করার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। মামলায় শিপ স্বীকার করেছিলেন যে তিনিই স্লেমারের শরীরে পেন্টাগ্রাম বা পাঁচকোণা তারকা আকৃতির প্রতীকটি খোদাই করেছিলেন।   পাইক তার অপরাধের দায় অস্বীকার করেননি। তবে তার আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছেন, ১৮ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উপযুক্ত নয়। তাদের দাবি, শৈশব থেকেই পাইক গুরুতর নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও অবহেলার শিকার হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে তার বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার শনাক্ত হয়।   পাইকের আইনজীবী স্টিফেন ফেরেলের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই পাইক যৌন নির্যাতনের শিকার হন এবং ১১ ও ১৭ বছর বয়সে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। তার আইনজীবীদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণের সময় বিচারকদের সামনে তার শৈশবের এসব পরিস্থিতি ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথেষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।   ক্ষমা প্রার্থনার আবেদনে পাইক নিজের অপরাধের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, তিনি তখন মানসিকভাবে অসুস্থ ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী ছিলেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের ভয়াবহতা বুঝতে তার অনেক বছর লেগেছে। তিনি স্বীকার করেছেন, তার কর্মকাণ্ডে একটি পরিবারের সন্তান, বোন ও বন্ধুকে হারাতে হয়েছে।   পাইকের আইনজীবীরা আরও বলছেন, বর্তমানে কিশোর-কিশোরীদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও শৈশবের মানসিক আঘাতের প্রভাব সম্পর্কে আগের তুলনায় অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক তথ্য জানা যায়। তাদের মতে, অপরাধের সময় পাইকের বয়স এবং তার শৈশবের পরিস্থিতি মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার কারণ হওয়া উচিত।   মামলায় পাইকের প্রেমিক টাডারিল শিপের বয়স ছিল ১৭ বছর। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে প্যারোলের সুযোগ রাখা হয়েছিল। ২০২৫ সালে তার প্যারোলের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। আরেক কিশোর সহযোগী হিসেবে দায় স্বীকার করে পরীক্ষামূলক মুক্তির সাজা পেয়েছিল।   টেনেসির গভর্নর বিল লি সোমবার জানিয়েছেন, তিনি পাইকের সাজা মওকুফ করবেন না। এর পর পাইকের আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেছেন। এর আগে টেনেসি সুপ্রিম কোর্টও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ বন্ধ করেনি। ২৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক রায়ে আদালত জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি নিয়ে পাইকের করা চ্যালেঞ্জ সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম।   এদিকে নিহত কোলিন স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ মেয়ের মৃত্যুর পর প্রায় তিন দশক ধরে অপেক্ষা করছেন। তিনি পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার ভাষ্য, কোলিন মাত্র ১৯ বছর বয়সে মারা যান এবং বড় হয়ে ওঠার সুযোগ পাননি। মার্টিনেজ জানান, তার মেয়ে স্পেশাল অলিম্পিকসে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন, রোলার স্কেটিং পছন্দ করতেন এবং কম্পিউটার নিয়ে কাজ করার পেশাগত স্বপ্ন ছিল।   কোলিনের হত্যাকাণ্ড নক্সভিল শহরেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় তাকে ধারালো বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয় এবং বড় একটি পাথর বা অ্যাসফল্টের টুকরা দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। ঘটনাটি ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকের তথাকথিত ‘স্যাটানিক প্যানিক’ বা শয়তানবাদ নিয়ে সামাজিক আতঙ্কের আলোচনাকেও উসকে দিয়েছিল।   যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা তুলনামূলকভাবে বিরল। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড পুনরায় কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ জন নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা ওই সময়ের মোট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রায় ১ শতাংশ। ২০২৩ সালে মিসৌরিতে অ্যাম্বার ম্যাকলাফলিনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার লিসা মন্টগোমেরির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, যা প্রায় সাত দশকের মধ্যে কোনো নারী ফেডারেল বন্দির প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ছিল।   ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের হিসাবে, আধুনিক মৃত্যুদণ্ডের যুগে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮, ১৯ বা ২০ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য ২৭৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তবে এই বয়সসীমার ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বর্তমানে ক্রমেই বিরল হয়ে এসেছে। পাইক ১৯৯৬ সালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর প্রায় ৩০ বছর ধরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন। তার মৃত্যুদণ্ড বুধবার কার্যকর হলে টেনেসির ইতিহাসে ২০০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার (DPIC)

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ২০:৪৯
সাধারণ দাঁতব্যথা থেকে ধরা পড়ল ভয়াবহ ক্যানসার, বাঁচার লড়াই ৪ বছরের এলেনার
সাধারণ দাঁতব্যথা থেকে ধরা পড়ল ভয়াবহ ক্যানসার, বাঁচার লড়াই ৪ বছরের এলেনার

যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের চার বছর বয়সী শিশু এলেনা। সাধারণ শিশুর মতোই খেলাধুলা আর পরিবারের সঙ্গে পাহাড়ের ট্রেইলে হেঁটে আনন্দময় শৈশব কাটছিল তার। কিন্তু হঠাৎই নিচের মাড়ির বাঁ পাশে দাঁতব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিলে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। মা সারাহ লাপোস্তাতো শুরুতে ভেবেছিলেন হয়তো নতুন দাঁত উঠছে কিংবা খাবারের কণা আটকে সাধারণ সংক্রমণ হয়েছে।   তাৎক্ষণিক দন্তচিকিৎসক ও ওরাল সার্জনের শরণাপন্ন হলে এক্স-রে রিপোর্টেও তেমন আশঙ্কাজনক কিছু মেলেনি; মাড়িতে খাবারের টুকরো আটকে থাকা বা সাধারণ সিস্ট ধারণা করে ছয় সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।   কিন্তু ব্যথা কমার বদলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ফুটবল খেলে বেড়ানো দুরন্ত শিশুটি একপর্যায়ে তীব্র ক্লান্তিতে বিছানা থেকেই উঠতে পারছিল না। এর মধ্যে চোখের চারপাশে অচেনা কালশিটে দাগ দেখা দিলে মা সারাহ দেরি না করে এলেনাকে জরুরি ভিত্তিতে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। রক্ত পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতার লক্ষণ ধরা পড়ার পর দ্রুত পাঠানো হয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে।   সেখানে নিবিড় পরীক্ষার পর চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য স্তব্ধ করে দেয় বাবা-মাকে—এলেনার পেটে সফটবলের সমান আকারের একটি টিউমার ধরা পড়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, সে নিউরোব্লাস্টোমা নামের একটি বিরল ও মারাত্মক ক্যানসারে আক্রান্ত।   রোগ শনাক্তের সময় এলেনার শরীরে ক্যানসার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। চিকিৎসা পরিভাষায় যার তীব্রতা মাপার 'কুরি স্কোর' ছিল ৩০-এর মধ্যে ২৫। পরবর্তী এক বছর এই ছোট্ট শিশুর ওপর দিয়ে চলে চিকিৎসার এক কঠিন ঝড়।   একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার, পাঁচ দফা কেমোথেরাপি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আওতায় চার দফা ইমিউনোথেরাপি, পেট থেকে টিউমার অপসারণ, দুটি স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট এবং ১২ দিনের রেডিয়েশন থেরাপি সহ্য করতে হয় তাকে। চিকিৎসার চরম সংকটময় সময়ে দুই দফা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (আইসিইউ) লড়তে হয়েছে তাকে।   চিকিৎসার ব্যয়ভার ও স্বাস্থ্যবীমা সচল রাখতে মা-বাবা উভয়েই পুরো সময় চাকরি ধরে রাখেন। হাসপাতালের লম্বা সময় আর ঘরের বড় মেয়ের দেখভালের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে এক নতুন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান তারা। দীর্ঘ ও অবিরাম চিকিৎসার সুফল মিলতে শুরু করেছে এলেনার শরীরে; রেডিয়েশন শেষ হওয়ার পর তার কুরি স্কোর ২৫ থেকে নাটকীয়ভাবে নেমে এসেছে মাত্র ১-এ।   বর্তমানে সে চিকিৎসার তৃতীয় ধাপে ইমিউনোথেরাপি নিচ্ছে এবং সামনের এমআইবিজি স্ক্যানে এই স্কোর শূন্যে নেমে আসবে—এমন আশাতেই বুক বাঁধছেন চিকিৎসকরা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৯:৫৩
কিয়েভে ভয়াবহ রুশ হা মলা,  আ গুনে পুড়ল বিজ্ঞান একাডেমির ঐতিহাসিক ভবন; নি হত ৭
কিয়েভে ভয়াবহ রুশ হা মলা, আ গুনে পুড়ল বিজ্ঞান একাডেমির ঐতিহাসিক ভবন; নি হত ৭

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে দিনের বেলায় নতুন করে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। সোমবার চালানো এই হামলায় ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসের একটি ঐতিহ্যবাহী ভবনে আগুন ধরে যায় এবং দেশজুড়ে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। কিয়েভ শহরের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, একাডেমি ভবনে হামলায় এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন।   এদিন কিয়েভের বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, অফিস, ডেটা সেন্টারের পাশাপাশি একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এবং গ্যাস স্টেশনেও আঘাত হেনেছে রুশ বাহিনী।   রাজধানী ছাড়াও ইউক্রেনের অন্যান্য শহরেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। মধ্যাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোর একটি অফিসে ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।   অন্যদিকে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভের মেয়র ইহর তেরেখভ জানিয়েছেন, সেখানে একটি ৯ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবনে রুশ হামলায় ১১ শিশুসহ অন্তত ৪৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।   বেসামরিক স্থাপনায় এই ভয়াবহ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি রাশিয়াকে সাধারণ মানুষের ওপর 'সন্ত্রাস' চালানোর দায়ে অভিযুক্ত করেছেন।   সাম্প্রতিক হামলায় বাজার ও স্কুলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জেলেনস্কি বলেন, বিশ্বের যেকোনো জায়গায় এ ধরনের লক্ষ্যবস্তু বেছে নেওয়াকে এককথায় সন্ত্রাসবাদ বলা হয়।   এসব হামলায় রাশিয়ার কোনো সামরিক উদ্দেশ্য নেই; এটি কেবলই ইউক্রেনের জনগণের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং সমাজের সর্বোচ্চ ক্ষতি সাধনের একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৯:৩৪
গাজায় ই সরায়েলের কার্যক্রম ‘বিশ্ববিবেকের কলঙ্ক’, বললেন ব্রিটিশ মন্ত্রী মিলিব্যান্ড
গাজায় ই সরায়েলের কার্যক্রম ‘বিশ্ববিবেকের কলঙ্ক’, বললেন ব্রিটিশ মন্ত্রী মিলিব্যান্ড

গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েল সরকারের চলমান কার্যক্রমকে 'বিশ্ববিবেকের জন্য এক বিরাট কলঙ্ক' বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও লেবার পার্টির শীর্ষ নেতা এড মিলিব্যান্ড। লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, ইসরায়েল যতই নিরাপত্তাজনিত হুমকির মুখে থাকুক না কেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা এই চরম বর্বরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।    সম্মেলনে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা জানান মিলিব্যান্ড। এ বিষয়ে কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। লেবার পার্টির নতুন নীতিমালার আলোকে পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের উচ্ছেদ এবং গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের মতো গুরুতর বিষয়গুলো এখন জোরালোভাবে সামনে আনা হচ্ছে।   শুধু মৌখিক প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ না থেকে, ইসরায়েলের ওইসব অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা এবং সেখানে ব্রিটিশ অর্থায়ন ও নির্মাণ খাতের যেকোনো সহায়তা বন্ধ করার মতো কঠোর ঘোষণাও দিয়েছেন এই নেতা।   তবে মিলিব্যান্ড তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের এই কঠোর অবস্থান বা প্রতিবাদ সাধারণ ইসরায়েলি জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং ইসরায়েল সরকারের আগ্রাসী ভূমিকার বিরুদ্ধে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ রুদ্ধ করার যেকোনো চক্রান্ত দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করতে তারা বদ্ধপরিকর।   সামাজিক ন্যায়বিচার ও অন্যায়ের প্রতিবাদের পারিবারিক মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অন্যায়ের সামনে নীরব থাকার কোনো সুযোগ নেই এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বিশ্ব নিশ্চিত করা সবার নাগরিক দায়িত্ব।   বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যবোধ ফিকে হয়ে যায় না—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের জাতীয় আদর্শ রক্ষায় সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি জলবায়ু সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও বাণিজ্য স্বার্থে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৯:৯
নিউইয়র্কে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে মাদক খাইয়ে সংঘবদ্ধ ধ র্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ৭ শিক্ষার্থী
নিউইয়র্কে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে মাদক খাইয়ে সংঘবদ্ধ ধ র্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ৭ শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিখ্যাত কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালে সংঘটিত একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের (গ্যাং রেপ) অভিযোগের তদন্ত পুনরায় শুরু করেছেন প্রসিকিউটররা। সম্প্রতি ভুক্তভোগী নারী নতুন করে একটি দেওয়ানি (সিভিল) মামলা দায়ের করলে ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সোমবার টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন নতুন করে তদন্ত শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি জানান, তার কার্যালয় সাতজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ গঠনের জন্য মামলাটি গ্র্যান্ড জুরির কাছে উপস্থাপন করবে।   দুই বছর আগে কেন এই ঘটনার ফৌজদারি তদন্ত এগোয়নি—তার ব্যাখ্যায় ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জানান, ওই সময় ক্যাম্পাসের পুলিশের কাছে দেওয়া ভুক্তভোগীর প্রাথমিক জবানবন্দির সঙ্গে বর্তমান মামলার অভিযোগের বেশ পার্থক্য রয়েছে। সে সময় ভুক্তভোগী তার মাদক গ্রহণ ও শারীরিক সম্পর্ককে 'স্বেচ্ছায় এবং সম্মতিসূচক' বলে উল্লেখ করেছিলেন।   তবে ভুক্তভোগীর আইনজীবী থমাস জিউফ্রা সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, পুলিশ রিপোর্টের সঙ্গে বর্তমান দাবির কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই। শুরুতে যথাযথভাবে ও গভীরভাবে তদন্ত না করার জন্য তিনি উলটো ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন।   বিশ্ববিদ্যালয়টির 'চি ফি' (Chi Phi) ফ্র্যাটার্নিটির সাত সদস্য এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলায় দাবি করা হয়েছে, ঘটনার সময় ২০ বছর বয়সী ওই ছাত্রীকে অতিরিক্ত মদ ও মাদক পান করিয়ে বেসামাল করে তোলা হয়েছিল।   তিনি যখন সম্মতি দেওয়ার মতো শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় ছিলেন না, ঠিক তখনই তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়। এমনকি স্ন্যাপচ্যাটের একটি গ্রুপ চ্যাটের মাধ্যমে অন্যান্য সদস্যদেরও এই পাশবিকতায় অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়েছিল বলে মামলায় প্রমাণসহ উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র কাইল কিম্বল জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন করে। তিনি আরও জানান, ২০২৪ সাল থেকেই অভিযুক্ত ফ্র্যাটার্নিটি সংগঠনটিকে ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সে সময় নিজস্ব তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার ও সাময়িক বরখাস্তসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের একজনের আইনজীবী জেরেমি স্যালান্ড দাবি করেছেন, তার মক্কেল কেবল স্ন্যাপচ্যাট গ্রুপে একটি অপরিণত মন্তব্য করেছিলেন, এর বাইরে তিনি কোনো অপরাধে জড়িত নন।   তাই তারা যেকোনো সুষ্ঠু তদন্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ফ্র্যাটার্নিটি হলো মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরুষ শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধাসহ বিশেষ ক্লাব।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৮:৪৩
মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে গিয়ে মিশিগানে বাংলাদেশি বাবার মর্মান্তিক মৃত্যু
মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে গিয়ে মিশিগানে বাংলাদেশি বাবার মর্মান্তিক মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়ারেন শহরে মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে গিয়ে তারই চালানো গাড়ির ধাক্কায় ৬২ বছর বয়সী বাংলাদেশি বাবা মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের মৃত্যু হয়েছে। রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ওয়ার্নার অ্যাভিনিউয়ের ২৪ হাজার ব্লকের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   ওয়ারেন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় আব্দুর রহিম তার ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাচ্ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ক্লিকঅনডেট্রয়েট জানিয়েছে, মেয়েটি তখন গাড়ি পার্ক করার অনুশীলন করছিল। একপর্যায়ে গাড়িটি তার বাবাকে ধাক্কা দেয় এবং থামার আগে তাকে অল্প দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুর রহিমকে কাছের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।    পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ১৮ বছর বয়সী মেয়েটি ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। প্রাথমিকভাবে পাওয়া আলামত মেয়েটির দেওয়া ঘটনার বিবরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনায় মাদক বা অ্যালকোহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।    ঘটনাটি তদন্ত করছে ওয়ারেন পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক ক্র্যাশ রিকনস্ট্রাকশন ইউনিট। দুর্ঘটনা সম্পর্কে তথ্য থাকলে তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।    ওয়ারেন পুলিশ এখনো নিহত ব্যক্তির নাম বা পারিবারিক পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে আমেরিকা বাংলার কমিউনিটি সূত্রে নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আব্দুর রহিম এবং তার বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।   পরিবার ও কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে বড় মেয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন আব্দুর রহিম। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন। তার ছেলে বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। ঢাকার ধানমন্ডিতে তাদের পারিবারিক বাড়ি রয়েছে বলেও জানা গেছে।   মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আব্দুর রহিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।   যে বাবা মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ড্রাইভিং শেখানোর সময়ই ঘটে গেল তার জীবনের শেষ দুর্ঘটনা।   পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৮:২৩
নিউইয়র্কে তীব্র গরম মোকাবিলায় মামদানির উদ্যোগ, রোপণ করা হলো ১৮ হাজার গাছ
নিউইয়র্কে তীব্র গরম মোকাবিলায় মামদানির উদ্যোগ, রোপণ করা হলো ১৮ হাজার গাছ

নিউইয়র্কে প্রচণ্ড গরম কেবল অস্বস্তির বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও। সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গরমের কারণে বা গরমে বিদ্যমান অসুস্থতা বেড়ে গিয়ে বছরে আনুমানিক ৫০০ নিউইয়র্কবাসীর মৃত্যু হয়। এই বাস্তবতায় ২০২৬ অর্থবছরে শহরজুড়ে ১৮ হাজার ২৬১টি গাছ লাগানোর তথ্য জানিয়েছে পার্কস বিভাগ - ২০১৬ সালের পর এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ।    সিটি কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন গাছের বেশির ভাগ লাগানো হয়েছে প্রচণ্ড গরমের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে। তালিকায় আছে ব্রাউনসভিল, মট হেভেন, ইস্ট হারলেম ও সাউথ ওজোন পার্ক। ব্রাউনসভিল ও ইস্ট হারলেমে গরমের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য এ বছর নতুন শীতল আশ্রয়কেন্দ্রও চালু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।    কেন এসব এলাকায় গাছ জরুরি, তার ব্যাখ্যা মিলেছে সিটির কম্পট্রোলারের এক প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের সব এলাকায় গাছের ছায়া সমান নয়। সাউথ ব্রঙ্কস ও সেন্ট্রাল ব্রুকলিনের কিছু এলাকায় গাছের আচ্ছাদন কম, আর সেখানে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও গরমজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি।    তবে গাছ লাগানোর সংখ্যা বাড়লেই দ্রুত বেশি ছায়া মিলবে, এমন নয়। কম্পট্রোলারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরে গাছের আচ্ছাদন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে আগে লাগানো গাছের বেড়ে ওঠা। নতুন গাছ টিকিয়ে রাখতে প্রথম কয়েক বছর নিয়মিত পানি দেওয়া, মাটি ও গোড়ার পরিচর্যা জরুরি। পরিচর্যায় কর্মী ও অর্থের ঘাটতির কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।    নিউইয়র্কের লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে শহরের ৩০ শতাংশ জমি গাছের ছায়ার আওতায় আনা। তাই ১৮ হাজার গাছ লাগানোর পরের প্রশ্ন হলো - গাছগুলো কতটা টিকে থাকবে এবং যেসব পাড়ায় ছায়ার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, সেখানকার বাসিন্দারা কতটা সুফল পাবেন। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৮:১২
ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউইয়র্ক টাইমস কর্মকর্তাকে গুলি করে হ ত্যা, কয়েক মিনিটেই শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রেপ্তার
ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউইয়র্ক টাইমস কর্মকর্তাকে গুলি করে হ ত্যা, কয়েক মিনিটেই শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ডাবলিনে নিউইয়র্ক টাইমসের গেমস বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত জোনাথন ম্যাককিনসে (৪০) প্রতিষ্ঠানটির ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শনিবার বিকেলে ডাবলিন স্পোর্টস গ্রাউন্ডের পার্কিং লটে এই ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে নিহতের শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ম্যাককিনসে নিউইয়র্ক টাইমসে কর্মরত ছিলেন বলে প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন।   ডাবলিন পুলিশ সার্ভিস জানায়, শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৮ মিনিটের দিকে স্পোর্টস কমপ্লেক্সের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় টহলরত এক পুলিশ সার্জেন্ট পার্কিং লটে এক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঠিক একই সময়ে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ একাধিক কল আসতে শুরু করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ম্যাককিনসের একাধিক গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্পটেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় ঘটনাস্থলে থাকা সন্দেহভাজন দুজনকে দ্রুত আটক করে পুলিশ। পরে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়—তারা হলেন ম্যাককিনসের শ্বশুর শৌয়ং ঝাং (৭৭) এবং শাশুড়ি শিলিং চেন (৭৭)। তারা দুজনই ডাবলিনের বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে সান্তা রিটা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আগামী বুধবার ইস্ট কাউন্টি হল অব জাস্টিসে তাদের হাজির করার কথা রয়েছে।   চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি পুলিশ। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় নতুন করে কোনো সন্দেহভাজন নেই এবং জননিরাপত্তার জন্য আর কোনো হুমকি নেই। এদিকে, মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজের হাতে আসা আদালতের নথিপত্র থেকে জানা গেছে, নিহত ম্যাককিনসে বেশ কয়েকটি আইনি জটিলতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন।   ২০২৫ সালের অক্টোবরে তার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছিল, যার প্রাক-শুনানি গত ১০ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা ছিল। এছাড়া ম্যাককিনসে এবং তার স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাং উভয়ের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা ও সন্তানের হেফাজত নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা ছিল। এমনকি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিবাহবিচ্ছেদেরও আবেদন করেছিলেন, যার শুনানি আগামী ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৭:৫০
এফবিআইয়ের শীর্ষ ১০ পলাতক আসামির তালিকায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের গোল্ডি ব্রার, ধরিয়ে দিলে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার
এফবিআইয়ের শীর্ষ ১০ পলাতক আসামির তালিকায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের গোল্ডি ব্রার, ধরিয়ে দিলে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার

খুন, চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসার মতো গুরুতর কেন্দ্রীয় অপরাধে অভিযুক্ত সতীন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রারকে নিজেদের শীর্ষ ১০ পলাতক আসামির (টেন মোস্ট ওয়ান্টেড) তালিকায় যুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাজুড়ে খুন, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে টার্গেট কিলিং, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্র ও মাদক পাচারের মতো অসংখ্য সহিংস অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এই গ্যাংস্টারের বিরুদ্ধে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত গোল্ডি ব্রারকে উত্তর আমেরিকায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রীয় আদালতে তার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ, চাঁদাবাজির মাধ্যমে বাণিজ্যে হস্তক্ষেপ এবং অবৈধ মাদক মজুত ও বিতরণের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।   এফবিআইয়ের সহকারী পরিচালক গ্র্যান্ডি জানিয়েছেন, গোল্ডি ব্রার একজন অত্যন্ত বিপজ্জনক ব্যক্তি এবং তাকে গ্রেপ্তার করা এফবিআই ও তাদের সহযোগী সংস্থাগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ কারণেই তাকে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় যুক্ত করে তার সন্ধানে ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রতিটি এফবিআই-অধিভুক্ত ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফোনে তার ছবি ও তথ্য প্রচার করা হবে বলে জানান তিনি।   ১৯৫০ সালে এফবিআইয়ের 'টেন মোস্ট ওয়ান্টেড' তালিকা চালুর পর থেকে গোল্ডি ব্রার এই তালিকার ৫৪৩তম পলাতক আসামি। লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলে অপরাধ সংঘটনের দায়ে এ পর্যন্ত ২৮ জনকে এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের অন্যান্য প্রান্তে অপরাধ করে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩৬ জন আসামি। এফবিআইয়ের তথ্যমতে, গোল্ডি ব্রার চরম সহিংস এবং সবসময় সশস্ত্র থাকেন।   তিনি মূলত ক্যালিফোর্নিয়া এবং কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে আত্মগোপন করে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে এফবিআইয়ের টোল-ফ্রি নম্বর (১-৮০০-২২৫-৫৩২৪), স্থানীয় এফবিআই কার্যালয়, নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস অথবা তাদের ওয়েবসাইটে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৭:২৩
কিডনি দিতে স্ত্রীর ভারতে রওয়ানা: মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানশিক্ষক মন্দিরা রানী
কিডনি দিতে স্ত্রীর ভারতে রওয়ানা: মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানশিক্ষক মন্দিরা রানী

স্বামীর জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরল ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বরিশালের এক স্কুলশিক্ষক। দীর্ঘদিনের কিডনি রোগে আক্রান্ত স্বামী সুদাম পালকে সুস্থ করে তুলতে নিজের কিডনি নিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন স্ত্রী মন্দিরা রানী পাল। কিডনি প্রতিস্থাপনের সব আইনি ও চিকিৎসাজনিত প্রক্রিয়া শেষে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে ভারতের দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন এই শিক্ষক দম্পতি।   বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা সুদাম পাল ২০০৩ সাল থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। পরের বছর পটুয়াখালীর গলাচিপার মেয়ে মন্দিরা রানীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরই মন্দিরা রানীও প্রধানশিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি কটকস্থল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে হৃদম পাল বর্তমানে সম্মান প্রথম বর্ষে এবং মেয়ে রাই পাল অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে।   ২০১৯ সালে সুদাম পাল কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সম্প্রতি দিল্লির ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। সম্ভাব্য সব জায়গায় ডোনার খুঁজেও ব্যর্থ হওয়ার পর, স্বামীর জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন স্ত্রী মন্দিরা রানী। এরপর আদালত এবং আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যাবতীয় জটিল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন তিনি।   আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের কিডনি প্রতিস্থাপনের মূল প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে, স্ত্রীর এমন নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। নেটিজেনরা মন্দিরা রানীর মানবিকতার প্রশংসার পাশাপাশি এই দম্পতির সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনা করছেন। দেশবাসীর কাছে নিজেদের সফল চিকিৎসার জন্য দোয়া চেয়েছেন এই শিক্ষক দম্পতি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৬:৪২
নিউইয়র্কের রাস্তায় প্রায় ৫ হাজার গৃহহীন, আশ্রয়কেন্দ্রসহ সংখ্যা দেড় লাখের কাছাকাছি
নিউইয়র্কের রাস্তায় প্রায় ৫ হাজার গৃহহীন, আশ্রয়কেন্দ্রসহ সংখ্যা দেড় লাখের কাছাকাছি

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মেগাসিটি নিউইয়র্কে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। নিউইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলারের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে শহরটিতে রাস্তা, পার্ক বা সাবওয়ের মতো উন্মুক্ত স্থানে বসবাসকারী গৃহহীনের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারে পৌঁছেছে।   তবে সরকারি ও বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের হিসাব ধরলে নিউইয়র্ক সিটির মোট গৃহহীন জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার। গত ১০ মার্চ রাতে পরিচালিত ‘হোমলেস আউটরিচ পপুলেশন এস্টিমেট’ বা হোপ জরিপে উন্মুক্ত স্থানে থাকা ৪ হাজার ৯৯১ জনকে শনাক্ত করা হয়, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। তীব্র শীতের কারণে এবার নির্ধারিত সময়ের বদলে মার্চ মাসে এই জরিপটি চালানো হয়েছিল।   স্টেট কম্পট্রোলার থমাস ডিনাপোলির কার্যালয়ের প্রতিবেদন বলছে, ২০১৯ সালের তুলনায় শহরে মোট গৃহহীনের সংখ্যা প্রায় ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমান অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, মোট গৃহহীন জনসংখ্যার ৯৭ শতাংশই কোনো না কোনো ধরনের আশ্রয়কেন্দ্রের সহায়তা পাচ্ছেন।   রাস্তার গৃহহীনদের সংখ্যা কয়েক হাজার হলেও, সামগ্রিক গৃহহীন জনসংখ্যার তুলনায় তা তুলনামূলক কম। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালে উন্মুক্ত স্থানে থাকা গৃহহীনের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৫৮৮ জন, যা ২০২৫ অর্থবছরে বেড়ে ৪ হাজার ৫০৪ জন এবং ২০২৬ সালের জরিপে প্রায় পাঁচ হাজারে উন্নীত হয়েছে।   নিউইয়র্ক স্টেটের সার্বিক চিত্রও বেশ হতাশাজনক। যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পুরো স্টেটে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৬০ জন। যদিও ২০২৪ সালের তুলনায় মোট সংখ্যা ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে, তবে স্টেটের ২৫টি গৃহহীনতা-সেবা অঞ্চলের মধ্যে ১৭টিতেই এই সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।   আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষসহ বিশাল এই গৃহহীন জনগোষ্ঠী প্রমাণ করে যে, সাশ্রয়ী মূল্যের বাসস্থানের অভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি আবাসন সংকট নিউইয়র্ক সিটি তথা পুরো স্টেটের জন্যই এখন অন্যতম প্রধান এক চ্যালেঞ্জ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৬:২৫
নিউইয়র্কে আকাশছোঁয়া বাড়ির দাম, ৫ লাখ ডলার কম দামে বাড়ি কিনতে ফিলাডেলফিয়ায় ছুটছেন বাসিন্দারা
নিউইয়র্কে আকাশছোঁয়া বাড়ির দাম, ৫ লাখ ডলার কম দামে বাড়ি কিনতে ফিলাডেলফিয়ায় ছুটছেন বাসিন্দারা

আকাশছোঁয়া আবাসন ব্যয়ের হাত থেকে বাঁচতে নিউইয়র্কের বাসিন্দারা এখন তাদের পরিচিত প্রতিবেশী শহর ফিলাডেলফিয়াকে বেছে নিচ্ছেন। রিয়েল এস্টেট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান রেডফিনের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিউইয়র্ক মেট্রো এলাকায় একটি সাধারণ বাড়ির দাম প্রায় ৮ লাখ ৩২ হাজার ডলার।   অন্যদিকে নিউইয়র্ক থেকে মাত্র ৯০ মাইল দক্ষিণের শহর ফিলাডেলফিয়ায় একটি বাড়ির দাম গড়ে ৩ লাখ ৯ হাজার ডলার। প্রায় ৫ লাখ ২৩ হাজার ডলারের এই বিশাল ব্যবধানের কারণেই নিউইয়র্কারদের কাছে ফিলাডেলফিয়া এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য।   রেডফিনের তথ্যমতে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে নিউইয়র্ক ছেড়ে অন্য শহরে যাওয়ার খোঁজ করেছেন ২৭ হাজার ১৪৩ জনেরও বেশি মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০০টি মেট্রো শহরের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শহরত্যাগের হার, যেখানে ২৮ হাজার ৬৫২ জনের শহরত্যাগের হার নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস।   তবে নিউইয়র্ক ছেড়ে যাওয়া মানুষদের কাছে ফিলাডেলফিয়ার পাশাপাশি ফ্লোরিডাও দারুণ জনপ্রিয়। স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো, মিয়ামি ও টাম্পার মতো রৌদ্রোজ্জ্বল শহরগুলোতে সবচেয়ে বেশি মানুষ নিউইয়র্ক থেকে পাড়ি জমাচ্ছেন।   রাজ্য হিসেবেও ফ্লোরিডা এখন স্থানান্তরের শীর্ষে রয়েছে; দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রায় ৩৮ হাজার ৯২২ জন মানুষ সেখানে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন, যা পরবর্তী তিনটি জনপ্রিয় রাজ্য অ্যারিজোনা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও টেনেসির সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। অন্যদিকে, রাজ্যভিত্তিক শহরত্যাগের হারে ক্যালিফোর্নিয়ার পরই নিউইয়র্কের অবস্থান।   মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বর্তমানে ঘরে বসে বা হাইব্রিড মডেলে কাজের সুযোগ প্রসারিত হওয়ার কারণেই আমেরিকানদের মধ্যে নিজেদের রাজ্য ছেড়ে সস্তা ও দূরবর্তী এলাকাগুলোতে পাড়ি জমানোর এই নতুন প্রবণতা তৈরি হয়েছে।   রেডফিন জানিয়েছে, দেশজুড়ে তাদের ব্যবহারকারীদের ১৮.৭ শতাংশই নিজেদের বর্তমান মেট্রো এলাকার বাইরে বাড়ি খুঁজছেন, যা ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ। যদিও বাসা খোঁজার এই প্রবণতা বেড়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে বাড়ি কেনার হার ধীর হওয়ায় বাস্তব স্থানান্তরের সংখ্যা এখনো মহামারি চলাকালীন সময়ের তুলনায় কম রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৬:১৬
মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির যুব নেতৃত্ব পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি তাহমিদ
মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির যুব নেতৃত্ব পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি তাহমিদ

অভিবাসী পরিচয়কে শক্তিতে রূপান্তর করে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে নিজের বলিষ্ঠ অবস্থান তৈরি করেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণ সংগঠক তাহমিদ চৌধুরী। কমিউনিটির ক্ষমতায়ন, তৃণমূলের মানুষকে সংগঠিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে জনসেবামূলক কাজে উজ্জীবিত করার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অর্জন করেছেন মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্মানজনক ‘বেস্ট অব দ্য ওয়েস্ট ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’।   মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জমকালো এক আয়োজনে তাহমিদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন রাজ্যের লেফটেন্যান্ট গভর্নর গারলিন গিলক্রিস্ট এবং ওয়াশটেনো কাউন্টির প্রসিকিউটর এলি সাভিত। মঞ্চে সে সময় ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকার, মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান কার্টিস হার্টেল, মার্কিন কংগ্রেসওম্যান হিলারি স্কলটেন এবং মিশিগান সিনেটের মেজরিটি লিডার উইনি ব্রিংকসের মতো শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।   ম্যাকম্ব কাউন্টি ও মিশিগানের ১০ম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক অধিকার এবং তরুণদের সামাজিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ।   এমন বড় স্বীকৃতির মুহূর্তেও তৃণমূলের সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাহমিদ চৌধুরী। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, এই সম্মাননা তার একার কোনো ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে তার শিক্ষক, মেন্টর, সহযোগী সংগঠক এবং নিরলস স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত শ্রম ও ভালোবাসা।   তরুণদের সাথে নিয়েই আগামী দিনে জনকল্যাণমূলক কাজ আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের সভাপতি জাবেদ চৌধুরী ও উপদেষ্টা সুমন কবিরসহ বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাকে অনুপ্রাণিত করেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৫:৫০
নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের জয়যাত্রা, কাজ করছেন এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা
নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের জয়যাত্রা, কাজ করছেন এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে (এনওয়াইপিডি) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে। কয়েক দশক আগে এই বাহিনীতে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি হাতেগোনা থাকলেও, বর্তমানে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এনওয়াইপিডি-র প্রায় ৩৩ হাজার ইউনিফর্মধারী সদস্যের মধ্যে এখন এক হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।   এর পাশাপাশি পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন বেসামরিক পদেও কাজ করছেন আরও প্রায় দেড় হাজার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মী। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অভিবাসী সম্প্রদায়ের আকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ বিভাগেও তাদের এই সম্মানজনক বিস্তৃতি ঘটেছে।   বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শামসুল হক ২০০৪ সালে যখন এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন, তখন সেখানে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য। তার মতে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশি ও মুসলিম তরুণদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।   ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো শামসুল হকের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশোনা শেষে বেসরকারি খাতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু ৯/১১-এর হামলার পর পরিবারের সংশয়কে পেছনে ফেলে তিনি পুলিশ একাডেমিতে ভর্তির সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। নিজ একাগ্রতার জোরে তিনি চলতি বছরের শুরুতে অবসরে যাওয়ার আগে নিউইয়র্ক পুলিশের ইতিহাসে প্রথম দক্ষিণ এশীয় এবং প্রথম মুসলিম লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ইতিহাস গড়েন।   নতুন অভিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নিউইয়র্ক পুলিশে প্রবেশের একটি দারুণ কার্যকর ধাপ হলো বাহিনীর বেসামরিক পদগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব না থাকলেও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, স্কুল নিরাপত্তা কিংবা জরুরি সেবা নম্বরের অপারেটর হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান অভিবাসীরা।   পরবর্তীতে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর এই পূর্ব-অভিজ্ঞতার আলোকে তারা সহজেই পুলিশ একাডেমিতে আবেদন করে ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ পান। শামসুল হকের হিসাব অনুযায়ী, নিউইয়র্ক পুলিশের প্রায় ৬০ শতাংশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তা এই পথ অনুসরণ করেই মূল বাহিনীতে এসেছেন। এর মাধ্যমে তারা আগে থেকেই পুলিশের কর্মপরিবেশ ও দায়িত্বের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান, যা তাদের পেশাগত জীবনে দারুণ সহায়ক হয়।   কেবল সংখ্যাতেই নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে নিউইয়র্ক পুলিশের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠনের বর্তমান সভাপতি সার্জেন্ট এরশাদুর সিদ্দিকের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১০ জন গোয়েন্দা (ডিটেকটিভ), ৮২ জন সার্জেন্ট, ২০ জন লেফটেন্যান্ট এবং চারজন ইন্সপেক্টর অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন।   কর্মরত এসব কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত নিজ কমিউনিটির তরুণ ও নতুন অভিবাসীদের এই সম্মানজনক পেশায় আসতে উৎসাহিত করছেন। উল্লেখ্য, বৈচিত্র্যময় নিউইয়র্ক পুলিশের বর্তমান ইউনিফর্মধারী সদস্যদের মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ, ৩৩ শতাংশ হিস্পানিক, ১৭ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ এবং ১২ শতাংশ এশীয়। একসময়ের সীমিত উপস্থিতি থেকে আজকের এই হাজার ছাড়ানো সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসী কমিউনিটির পেশাগত সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৭:৪
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা তৈরির ঘোষণা ট্রাম্পের, প্রকল্পে ১৫ বিলিয়ন ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা তৈরির ঘোষণা ট্রাম্পের, প্রকল্পে ১৫ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা (স্টিল প্ল্যান্ট) নির্মাণের মেগা প্রকল্প ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিনেসোটাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘মেসাবি মেটালিকস’ আইওয়া অঙ্গরাজ্যে এক হাজার ৫০০ কোটি (১৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ব্যয়ে এই বিশালাকার কারখানাটি গড়ে তুলবে। সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের কথা জানান।   হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০-এর দশকের পর যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত হতে যাওয়া প্রথম কোনো মেগা স্টিল প্ল্যান্ট হতে চলেছে এটি। ২০৩০ সালের মধ্যে পুরোপুরি উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করছে প্রতিষ্ঠানটি। চালু হওয়ার পর এই কারখানা থেকে বছরে ৭৫ লাখ বা তার বেশি টন ইস্পাত উৎপাদিত হবে এবং আইওয়াতে অন্তত এক হাজার ৭৫০ জনের স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   আইওয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এই কারখানাটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ইস্পাত তৈরির প্রধান কাঁচামাল হিসেবে লৌহ আকরিক আসবে মিনেসোটায় মেসাবি মেটালিকসেরই নতুন ২৫০ কোটি ডলারের একটি খনি থেকে।   বিদেশে উৎপাদিত পণ্যের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে দেশীয় ইস্পাত শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই বিশাল বিনিয়োগ আসছে। ওভাল অফিসে এই ঘোষণাকালে দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান জন জোভানোভিচ, মেসাবি মেটালিকসের শীর্ষ নির্বাহী এবং আইওয়ার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা উপস্থিত ছিলেন।   হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স জানান, এই কারখানা মার্কিন সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলোতেও কাঁচামাল সরবরাহে বড় ভূমিকা রাখবে।   আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র ৪০ দিনেরও কম সময় বাকি থাকতে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের ঘোষণা এলো। আইওয়ায় গভর্নর পদ, সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে এবার ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। এরই মধ্যে স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর এসেছে, মেসাবি মেটালিকসকে কর ছাড় দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করতে অঙ্গরাজ্যটির আইনপ্রণেতাদের আইনসভার বিশেষ অধিবেশনে ডাকার প্রস্তুতি চলছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৫:৫
যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য করা হবে: মোজতবা খামেনির হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য করা হবে: মোজতবা খামেনির হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তেই হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, এটিই তার প্রথম প্রকাশ্য বিবৃতি। এক কড়া বার্তায় তিনি মার্কিন বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগের এই চরম হুঁশিয়ারি দেন।   বিবৃতিতে খামেনি দাবি করেন, ইরানি বীর যোদ্ধাদের পালটা আঘাতে পর্যুদস্ত হয়ে মার্কিন বাহিনী এখন আর আরব সাগরের বাইরে আসার সাহস পাচ্ছে না। খুব শিগগিরই এই সাগরও তাদের উপস্থিতি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।   এরপর গত মার্চ মাসে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই একই হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন বলে গুঞ্জন রয়েছে, যার কারণে দীর্ঘ সময় তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।   এদিকে, চলমান এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সাইডলাইনে ইরান একটি সাত দফা শান্তি প্রস্তাবও উত্থাপন করেছে। এই প্রস্তাবের অংশ হিসেবে তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে রাজি আছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও, চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে আরও আলোচনা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:৪৬
মাত্র ১১ বছরেই দাবায় বিশ্বরেকর্ড, সর্বকনিষ্ঠ নারী গ্র্যান্ডমাস্টার ব্রিটিশ-ভারতীয় বোধনা
মাত্র ১১ বছরেই দাবায় বিশ্বরেকর্ড, সর্বকনিষ্ঠ নারী গ্র্যান্ডমাস্টার ব্রিটিশ-ভারতীয় বোধনা

দাবার জগতে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে ১১ বছর বয়সী ব্রিটিশ-ভারতীয় কিশোরী বোধনা শিবনন্দন। সম্প্রতি উজবেকিস্তানের সমরকন্দে অনুষ্ঠিত ৪৬তম দাবা অলিম্পিয়াডে ইংল্যান্ডের হয়ে অংশ নিয়ে সে 'ওমেন গ্র্যান্ডমাস্টার' (ডব্লিউজিএম) খেতাব অর্জন করেছে। ইন্টারন্যাশনাল চেস ফেডারেশন (ফিদে) নিশ্চিত করেছে যে, এই সম্মানজনক খেতাব অর্জনকারী বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী দাবাড়ু এখন বোধনা। দাবা অলিম্পিয়াডে বিশ্বের বাঘা বাঘা খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ১১টি গেমের মধ্যে ৮ পয়েন্ট অর্জন করে সে তার তৃতীয় ও চূড়ান্ত ‘নর্ম’ পূরণ করেছে।   এই বিশ্বরেকর্ড গড়ার পথে বোধনা ভেঙে দিয়েছে দীর্ঘদিনের পুরোনো একটি রেকর্ড। এর আগে ২০০২ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে এই খেতাব জিতে সর্বকনিষ্ঠ নারী গ্র্যান্ডমাস্টার হয়েছিলেন ইউক্রেন ও রাশিয়ার হয়ে খেলা ক্যাটেরিনা লাগনো। পরবর্তীতে চীনের হাউ ইয়েফানও ১২ বছর বয়সে এই খেতাব জিতেছিলেন।   তবে সবাইকে ছাড়িয়ে মাত্র ১১ বছর বয়সেই শীর্ষ বোর্ডের খেলায় নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে বোধনা। পড়াশোনার পাশাপাশি দাবায় এমন নজরকাড়া সাফল্যের পর লিচেস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কিশোরী জানায়, শনিবার নর্ম অর্জনের বিষয়টি বুঝতে পারলেও সে যে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে এই রেকর্ড গড়েছে, তা সে জানত না। তবে খবরটি শোনার পর সে দারুণ আনন্দিত।   বোধনার দাবা খেলার শুরুটা হয়েছিল বেশ চমকপ্রদভাবে। করোনা মহামারির সময় তার বাবার এক বন্ধু ভারতে যাওয়ার আগে নিজেদের বাড়িতে একটি দাবা বোর্ডসহ কিছু জিনিসপত্র রেখে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই দাবার ঘুঁটিগুলোর প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয় পাঁচ বছর বয়সী বোধনার।   এখন দাবা খেলাকে সে এতটাই উপভোগ করে যে, এটি তার গণিত ও হিসাব-নিকাশের মতো স্কুলের পড়াশোনাতেও সাহায্য করছে বলে জানায় সে। ব্রিটিশ রাজনীতিক র‍্যাচেল রিভস এক্সে (সাবেক টুইটার) এই খুদে সুপারস্টারের সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে এখানেই থেমে থাকতে রাজি নয় বোধনা; ফিদে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সে স্পষ্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সে খেলা চালিয়ে যেতে এবং আরও নতুন ইতিহাস তৈরি করতে চায়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:২৯
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, প্রেস রুম ভেঙে সুইমিং পুল বানানোর ইঙ্গিত
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, প্রেস রুম ভেঙে সুইমিং পুল বানানোর ইঙ্গিত

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বের জেরে হোয়াইট হাউসের 'জেমস এস. ব্র্যাডি প্রেস ব্রিফিং রুম' ভেঙে পুনরায় সেখানে একটি সুইমিং পুল তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ বর্তমান প্রেস রুম এবং স্বর্ণখচিত একটি সুইমিং পুলের 'আগে ও পরে' অবস্থার ছবি পোস্ট করে তিনি গণমাধ্যমকে একপ্রকার উপহাস করেছেন।   সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকো'র সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পরপরই এই ঘটনা ঘটলো।   সম্প্রতি মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ টিমোথি কেলি এক আদেশে হোয়াইট হাউসকে নির্দেশ দিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন অন্তত আগামী দুই সপ্তাহের জন্য ওই তিন সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে হোয়াইট হাউসের পুলভুক্ত শীর্ষ পাঁচটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক—এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স নিউজ এবং এনবিসি—সাময়িকভাবে তাদের অংশগ্রহণ বন্ধ রেখেছে। এর ফলে গত সপ্তাহের শুরুর দিকে ট্রাম্পের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বেশ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল।   হোয়াইট হাউসের বর্তমান প্রেস রুমটির নিচে মূলত একটি ইনডোর সুইমিং পুলের কাঠামো রয়েছে। পোলিওতে আক্রান্ত হওয়ার পর ১৯৩৩ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের জন্য এই পুলটি নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে হ্যারি ট্রুম্যান, জন এফ. কেনেডি এবং লিন্ডন জনসনের মতো প্রেসিডেন্টরাও এটি নিয়মিত ব্যবহার করতেন।   এরপর সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন পুলটির ওপরে ফ্লোরিং করে বর্তমান ব্রিফিং রুমটি তৈরি করেন, যা পরে রোনাল্ড রিগ্যানের প্রেস সেক্রেটারি জেমস ব্র্যাডির নামে নামকরণ করা হয়। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট রিগ্যানের ওপর গুপ্তহত্যার চেষ্টাকালে জেমস ব্র্যাডি গুরুতর আহত হয়েছিলেন।   দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর হোয়াইট হাউস ও এর আশেপাশে ব্যাপক সংস্কার কাজে হাত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাম রুম, নর্থ পোরটিকো, ৪০ কোটি ডলারের বলরুম এবং সাউথ লনে নতুন হেলিপ্যাড নির্মাণ তার উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ। এছাড়া ওয়াশিংটন ডিসিতে লিঙ্কন মেমোরিয়ালের ভাস্কর্যগুলোর সংস্কারেও তিনি কাজ করছেন।   তবে সাংবাদিকদের জন্য প্রেস রুমটি সংস্কারের কোনো ইচ্ছা তার নেই। গত বছর এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বেশ রসিকতার সুরেই বলেছিলেন, "আমি এটি করতে চাই না। আমি চাই না আপনারা এখানে আরামে থাকুন।"

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:১৮
যুক্তরাষ্ট্রে ‘আগে ছাঁটাই, পরে বিদেশি নিয়োগ’—এইচ-১বি ইস্যুতে বিস্ফোরক মন্তব্য ভ্যান্সের
যুক্তরাষ্ট্রে ‘আগে ছাঁটাই, পরে বিদেশি নিয়োগ’—এইচ-১বি ইস্যুতে বিস্ফোরক মন্তব্য ভ্যান্সের

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতেই এইচ-১বি (H-1B) ভিসা চালু করা হয়েছিল, কম বেতনে মার্কিন কর্মীদের বদলি হিসেবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য নয়। সম্প্রতি এই ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার নিয়ে কোম্পানিগুলোকে এভাবেই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের দেশীয় কর্মী ছাঁটাই করে এই ভিসার অধীনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে, তাদের ওপর নজরদারি ও কড়াকড়ি আরও বাড়ানো হবে।   জেডি ভ্যান্স ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক কোম্পানি কর্মী সংকটের অজুহাত দেখিয়ে এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করে। অথচ তাদের অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, তারা এর আগেই হয়তো পাঁচ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তার মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করে, তবে শূন্যস্থান পূরণে তাদের বিদেশি কর্মীর খোঁজ করা উচিত নয়।   উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, ৬০ হাজার ডলার বেতনের একজন মার্কিন হিসাবরক্ষককে ছাঁটাই করে যদি ৪৫ হাজার ডলারে একজন বিদেশি হিসাবরক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে তা এই ভিসা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে যারা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবেন, কেবল তাদেরই এই ভিসা পাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।   ভাইস প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যার কিছুদিন আগেই (১৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। ওই আদেশে শ্রম, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এইচ-১বি ভিসার আবেদন পর্যালোচনার সময় কোম্পানিগুলো মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করেছে কি না বা করার পরিকল্পনা করছে কি না, তা যেন খতিয়ে দেখা হয়।   পাশাপাশি, পূর্বের আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে আইনি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   কংগ্রেসের মাধ্যমে আইন সংশোধনের জন্য অপেক্ষা না করে ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি প্রশাসনিক পর্যায়ে এই পরিবর্তনগুলো আনছে বলে জানিয়েছেন ভ্যান্স। ভিসা ব্যবস্থায় বিদ্যমান জালিয়াতি রোধে তারা কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।   এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কর্মীদের ক্ষেত্রে এই ভিসার আবেদনে ১ লাখ ডলার ফি প্রদানের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। তবে আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি স্বীকার করে ভ্যান্স জানান, প্রশাসনের নেওয়া এইচ-১বি সংক্রান্ত বেশ কিছু পদক্ষেপ এরই মধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
পেনসিলভানিয়ায় ডেটা সেন্টারের জন্য পরিবারপ্রতি ১০ হাজার ডলারের প্রস্তাব, তবুও নারাজ বাসিন্দারা
পেনসিলভানিয়ায় ডেটা সেন্টারের জন্য পরিবারপ্রতি ১০ হাজার ডলারের প্রস্তাব, তবুও নারাজ বাসিন্দারা

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার একটি শহরের কাছে ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এক ডেভেলপার কোম্পানি। স্থানীয়দের রাজি করাতে প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার নগদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। হেজেল টাউনশিপের ১০ হাজার ৪৬০ জন বাসিন্দাকে চিঠি দিয়ে নর্থপয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি এই প্রস্তাব দেয়।   শহরটির গড় পারিবারিক আয় যেখানে ৬০ হাজার ডলার, সেখানে মোট ৪৫ মিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রস্তাব স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা হতে পারতো। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, এই অর্থ দিয়ে অনায়াসেই কয়েক মাসের বাসাভাড়া বা দীর্ঘদিনের মুদি ও জ্বালানি খরচ মেটানো সম্ভব।   এত লোভনীয় প্রস্তাবের পরও বেশিরভাগ বাসিন্দা এটি প্রত্যাখ্যান করছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ডেটা সেন্টারটি নির্মিত হলে এলাকায় শব্দ ও আলোক দূষণ বাড়বে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসারে ব্যাপক হারে চাকরি হারানোর ভয় তো রয়েছেই। প্রস্তাবটিকে অনেকেই ডেটা সেন্টারের অনুমোদন পাওয়ার জন্য নিছক ‘ঘুষ’ হিসেবে দেখছেন।   ডেটা সেন্টারের প্রস্তাবিত এলাকার কাছের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জেফ ফাসনাচট জানান, ডেটা সেন্টার হলে তার সম্পত্তির যে পরিমাণ দাম কমবে, এই ১০ হাজার ডলার তার কাছে কিছুই নয়। আরেক বাসিন্দা এড নেগ্রা মনে করেন, সরাসরি নগদ অর্থের এই প্রস্তাব ডেভেলপারদের জন্য বুমেরাং হতে পারে, কারণ এতে মানুষের মনে সন্দেহ আরও বাড়ছে।   যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে জনমত ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। গত মে মাসের একটি গ্যালাপ জরিপে দেখা যায়, মানুষ তাদের এলাকায় ডেটা সেন্টারের চেয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকেও বেশি সমর্থন করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেভেলপাররা স্থানীয় উৎসবগুলোতে স্পন্সর করার পাশাপাশি স্কুল বা ফায়ার সার্ভিস তহবিলে কোটি কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার চেষ্টা করছে। নর্থপয়েন্টের চিফ মার্কেটিং অফিসার ব্রেন্ট মাইলস জানান, স্থানীয়দের 'এতে আমাদের কী লাভ'—এমন প্রশ্নের জবাবেই এই নগদ অর্থের প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে।   আগামী ১৫ বছরে শহরের পুলিশ বিভাগসহ অন্যান্য খাতে আরও ১২০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। চার্লি লেশকোর মতো বয়োজ্যেষ্ঠ কেউ কেউ বাড়ি বা গাড়ি কেনার আশায় এই প্রস্তাবে কিছুটা আগ্রহী হলেও, কার্ল মাজুসিয়াকের মতো অনেকেই শেষ পর্যন্ত এটি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, এলাকায় এমন স্থাপনার কোনো প্রয়োজন নেই।   ডেটা সেন্টার নিয়ে স্থানীয়দের এই প্রবল আপত্তির প্রভাব পড়েছে রাজনীতিতেও। জনমতকে গুরুত্ব দিয়ে উভয় দলের নেতারাই এখন ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। টেক্সাসের রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ডেটা সেন্টারের অনুমোদন সাময়িক স্থগিত করেছেন এবং নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট গভর্নর ক্যাথি হচুল বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।   অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর জশ শাপিরো ডেভেলপারদের 'শোষণমূলক' আখ্যা দিয়ে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে তাদের কোনো গোপনীয়তা চুক্তি (এনডিএ) সই করার ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৩:৪০