আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের পরবর্তী সরকার। তবে নির্বাচিত নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর কোথায় বসবাস করবেন, তা এখনও চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।
সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নতুন সরকারের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। যদিও উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি একাধিক বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে, নিরাপত্তা, বাস্তবতা এবং খরচের কারণে সেগুলো কার্যকর হয়নি।
১৯৭৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবন জনতার দখলে চলে যায়। পরবর্তীতে সরকার গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তর করে, ফলে এটি আর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহার উপযোগী নয়।
বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যমুনা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে বসবাস করছেন। সরকারি সূত্র বলছে, নতুন সরকার গঠিত হলে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীও আপাতত এই যমুনা ভবন থেকেই দায়িত্ব শুরু করবেন।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণে বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করা হয়েছিল। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করার প্রস্তাব থাকলেও নিরাপত্তা ও বাস্তবতার কারণে তা কার্যকর হয়নি। গুলশানের জাপান দূতাবাসের পরিত্যক্ত বাড়ি বা শেরেবাংলা নগরের সাবেক বাণিজ্যমেলার খালি জায়গা পরিদর্শন করা হলেও নকশা ও জটিলতার কারণে সেগুলোর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কমিটি তাদের প্রতিবেদনে হেয়ার রোডের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও আশপাশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোকে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করেছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ বলেন, “নতুন প্রধানমন্ত্রী আপাতত যমুনায় থাকবেন—এমনটাই ধরে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকার জাতীয় ঈদগাহে দেশের প্রধান ঈদ জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এ জামাতে শান্তি ও সম্প্রীতির আহ্বান জানানো হয়। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ঈদগাহে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং কয়েক মিনিট পর রাষ্ট্রপতি সেখানে উপস্থিত হন। প্রধান এই জামাতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন। নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। নামাজ শেষে খুতবা ও মোনাজাতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে সহিংসতা ও সংঘাত নিরসনের জন্য দোয়া করা হয়। এবারের ঈদ এমন এক সময়ে উদ্যাপিত হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ঈদের বার্তা নতুন করে আশা ও সম্প্রীতির আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বৃষ্টি ও ঝড়ের আশঙ্কা থাকলেও ঈদের সকালে আকাশ মেঘলা থাকলেও নামাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। সকাল থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে জাতীয় ঈদগাহে। প্রবেশের সময় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়; আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হয় এবং পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় রাখা হয়। জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, আশপাশের সড়ক ও খোলা জায়গাসহ প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টা থেকে পর্যায়ক্রমে একাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ শনিবার (২১ মার্চ) সারা দেশে কালবৈশাখী ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (২০ মার্চ) এক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ঈদের দিন রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট—সব বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোনো কোনো এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বৃষ্টির প্রভাবে ঈদের দিন ও রাতে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে পরদিন রবিবার (২২ মার্চ) থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। নদীপথে চলাচলকারী ও ঘরমুখো মানুষের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আজ দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত যশোর, খুলনা, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রামসহ বেশ কিছু অঞ্চলে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও সিলেট অঞ্চলেও ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। ঈদের সকালে নামাজ ও উৎসবের পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও আবহাওয়ার এই প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের মানুষকে একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রচারিত এক টেলিভিশন বার্তায় তিনি বলেন, রমজান মাসের শিক্ষা ও সংযমের আদর্শকে ধারণ করে সবাই যেন পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ উদযাপন করেন। রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) বার্তাটি সম্প্রচার করে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর আসে মুসলিম উম্মাহর জন্য ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা নিয়ে। সমাজের সব স্তরের মানুষের মাঝে যেন ঈদের আনন্দ সমানভাবে পৌঁছে যায়—সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় তিনি দেশের জনগণসহ বিশ্বের মুসলিমদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে সবাইকে ঈদ মোবারক বলেন।