বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতকে স্রেফ একটি লুটপাটের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সরকার গঠিত জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকার বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির প্রধান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী এবং অন্যান্য সদস্যরা এই খাতের ভয়াবহ আর্থিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০০৯ সালে পিডিবি-র লোকসান ছিল মাত্র ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে এসে অবিশ্বাস্যভাবে ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
আদানি পাওয়ার: দুর্নীতির সবচেয়ে বড় প্রতীক
কমিটির মতে, ভারতের আদানি পাওয়ারের সাথে ২৫ বছরের যে চুক্তি করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি। আদানির বিদ্যুতের দাম ভারতের অন্যান্য উৎসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ধরা হয়েছে। এর ফলে পুরো চুক্তির মেয়াদে বাংলাদেশের অতিরিক্ত লোকসান হবে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। বিস্ময়কর বিষয় হলো, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে যদি আদানির কোনো ক্ষতি হয়, সেই দায়ও বহন করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। এমন ‘সুস্থ মস্তিষ্কহীন’ চুক্তির পেছনে সরাসরি কয়েক মিলিয়ন ডলারের অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কমিটি।
ক্যাপাসিটি পেমেন্ট ও সিস্টেম লস
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক অদ্ভুত সত্য—দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৪ গুণ বাড়লেও আইপিপি বা বেসরকারি উৎপাদনকারীদের বিল বেড়েছে ১১ গুণ। এর মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখে টাকা দেওয়ার (ক্যাপাসিটি পেমেন্ট) হার বেড়েছে ২০ গুণ! বর্তমানে জাতীয় গ্রিডের প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ অব্যবহৃত, অথচ এর জন্য পিডিবিকে বছরে ১.৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত দণ্ড বা পেনাল্টি দিতে হচ্ছে।
শেখ হাসিনার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা
কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খান জানান, এই নজিরবিহীন দুর্নীতির প্রতিটি ধাপে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয় সরাসরি জড়িত ছিল। হুইসেল ব্লোয়ারদের মাধ্যমে সংগৃহীত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিরা এর বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের উৎকোচ গ্রহণ করেছেন। এই তথ্যগুলো সিঙ্গাপুরে আন্তর্জাতিক সালিশি মামলায় জেতার জন্য যথেষ্ঠ শক্তিশালী বলে মনে করছে কমিটি।
আদানির প্রতিক্রিয়া
এদিকে আদানি পাওয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রতিবেদনটি সম্পর্কে তাদের কিছু জানানো হয়নি। তবে তারা দাবি করেছে যে, তারা প্রতিযোগিতামূলক দামেই বিদ্যুৎ দিচ্ছে এবং বিপুল বকেয়া থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পর্যালোচনা কমিটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে হলে অবিলম্বে দুর্নীতিগ্রস্ত চুক্তিগুলো বাতিল করতে হবে এবং পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম অন্তত ৮৬ শতাংশ বাড়ানো ছাড়া আর কোনো পথ নেই। তবে উচ্চমূল্যের বিদ্যুতের এই বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে কি না, তা নিয়ে জনমনে তীব্র উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি। এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার : এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে প্রবাসীদের পাঠানো পোস্টাল ব্যালট দেশে আসতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ২৬ হাজার ২০টি প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে পৌঁছেছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে, (৪ ফেব্রুয়ারি) বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভোটারদের জন্য ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে প্রবাসীরা ৫ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৯টি ব্যালট গ্রহণ করেছেন। সংগৃহীত ব্যালটের মধ্যে ৪ লাখ ৭২ হাজার ৪১০ জন প্রবাসী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্দেশ্যে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৪৮ জন ভোটার পোস্ট অফিসে ব্যালট জমা দিয়েছেন। প্রাপ্ত ব্যালটগুলোর মধ্য থেকে এখন পর্যন্ত ৪১ হাজার ১৭৮টি ভোট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত ভোটারদের (যারা পোস্টাল ব্যালটের যোগ্য) জন্য ৬ লাখ ৬২ হাজার ১৯১টি ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৯১ জন ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ৯৬ হাজার ৬৩২ জন ভোট প্রদান করেছেন। অভ্যন্তরীণ ভোটারদের দেওয়া ব্যালটের মধ্যে ১২ হাজার ৯১৫টি ইতিমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা বুঝে পেয়েছেন। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রবাসীদের এই বিপুল অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক কমিশনার ও সাবেক শিল্প সচিব মো. আব্দুল হালিম এবং বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সবুর হোসেনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন। স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ: ৫ লাখ স্মার্ট মিটার স্থাপন প্রকল্পে বড় ধরণের অনিয়মের অভিযোগ। পালানোর শঙ্কা: বিশ্বস্ত সূত্রে দেশত্যাগের পরিকল্পনার খবর পেয়েই আদালতের এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা। তদন্তের স্বার্থে কড়াকড়ি: অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অভিযুক্তদের দেশে থাকা একান্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছে দুদক। আদালত সূত্রে জানা গেছে, 'পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের আওতায় ৫ লাখ স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন' শীর্ষক প্রকল্পের ক্রয় প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বর্তমানে অনুসন্ধানাধীন। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন এমন আশঙ্কায় দুদকের অনুসন্ধান টিম এই নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেছিল। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন।
জাতীয় নির্বাচন ওগণভোটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে জনগণের আস্থাওগণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনওগণভোট সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতাও ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সেনা সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। গতকাল ময়মনসিংহ সফরকালে সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন সেনাপ্রধান। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সভায় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলাও নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। সফরকালে সেনাবাহিনী প্রধান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েন করা সেনা সদস্যদের কার্যক্রম সরজমিন পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা কার্যক্রম আরো কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশিএসফরে তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রস্তাবিত ‘অলিম্পিক ভিলেজ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে তিনি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) একটি বিশেষ বোর্ড মিটিংয়ে সভাপতিত্ব করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জিওসি আর্টডক, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসিওঘাটাইল এরিয়া কমান্ডার, এনটিএমসি মহাপরিচালক, যুব ও ক্রীড়া সচিবসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ওঅসামরিক কর্মকর্তারা। এছাড়া ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এবং স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল