আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে 'Postal Vote BD' মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী ও দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত ভোটারদের ভোটদান কার্যক্রম পুরোদমে চলছে।
বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী ও অভ্যন্তরীণ ভোটারদের পাঠানো প্রায় ৯ লাখ পোস্টাল ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে জমা পড়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, প্রবাসীদের জন্য পাঠানো ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৮ হাজার ৫৭৯ জন ভোটার ব্যালট সংগ্রহ করেছেন এবং ৫ লাখ ১৫ হাজার ৬১৯ জন ভোট প্রদান সম্পন্ন করেছেন। বিদেশে ডাকবাক্সে জমা হওয়া ব্যালটগুলোর মধ্যে ৪ লাখ ৮১ হাজার ১৮৫টি বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে এবং এর মধ্যে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৬টি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তারা গ্রহণ করেছেন।
অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরেও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। বাংলাদেশ পোস্টের মাধ্যমে পাঠানো ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮টি ব্যালটের মধ্যে ৬ লাখ ১০ হাজার ৬৫০টি ভোটাররা গ্রহণ করেছেন। ভোটদান সম্পন্ন হয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৬৫টিতে এবং পোস্ট অফিসে জমা পড়েছে ৫ লাখ ৬১ হাজার ১৩৯টি ব্যালট। এর মধ্যে ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫১টি পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে প্রবাসী ও দেশি ভোটারদের পাঠানো ব্যালটগুলো দ্রুতগতিতে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
নির্বাচনী ইতিহাসে নতুন মাইলফলক! গত কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় এবার বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি বেড়েছে কয়েক গুণ। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে ঢাকায় পা রেখেছেন ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক। কেন এই নির্বাচন বিশ্বজুড়ে এতোটা গুরুত্বপূর্ণ? বিস্ময়কর সংখ্যা: ২০২৪ সালের দ্বাদশ নির্বাচনের তুলনায় এবার পর্যবেক্ষকের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। যেখানে ১০ম নির্বাচনে পর্যবেক্ষক ছিল মাত্র ৪ জন, সেখানে এবার সেই সংখ্যা ৩৯৪! বড় সংস্থার অংশগ্রহণ: এএনএফরেল, কমনওয়েলথ, আইআরআই এবং এনডিআই-এর মতো প্রভাবশালী সংস্থাগুলো সরাসরি মাঠে থাকছে। বিশ্বের ২১টি দেশের উপস্থিতি: পাকিস্তান, তুরস্ক, রাশিয়া, চীন এবং জাপানসহ বিশ্বের অন্তত ২১টি দেশ থেকে প্রতিনিধিরা এসেছেন এই নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণ করতে। স্বতন্ত্র সক্ষমতা: বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের অন্তত ৫১ জন প্রতিনিধি নিজস্ব উদ্যোগে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে শুরু করে সার্কভুক্ত দেশগুলো—সবার চোখ এখন বাংলাদেশের দিকে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে এই বিপুল সংখ্যক আন্তর্জাতিক উপস্থিতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এক নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে।
সারাদেশে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত মঞ্চ প্রস্তুত। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২৯৯টি আসনে ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে, মোট প্রার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। পুরুষ প্রার্থীর বিশাল আধিক্যের মাঝেও এবার নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। মোট ৮৩ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে দলীয় মনোনয়নে লড়ছেন ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২০ জন। অন্যদিকে, পুরুষ প্রার্থীর মধ্যে দলীয় ১ হাজার ৬৯২ জন এবং স্বতন্ত্র ২৫৩ জন রয়েছেন। তফসিল অনুযায়ী, আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সারাদেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে একযোগে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে একজন প্রার্থীর আকস্মিক মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ভোটের দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চলবে। তবে ভোটারদের জন্য সুখবর হলো, যদি বিকেল সাড়ে ৪টার পরও কোনো কেন্দ্রের সীমানার ভেতরে ভোটাররা লাইনে অপেক্ষমাণ থাকেন, তবে আইন অনুযায়ী তাদের প্রত্যেকের ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করার পর ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হবে। গণতন্ত্রের এই উৎসবে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে এবং নিজের পছন্দের প্রতিনিধি বেছে নিতে উন্মুখ হয়ে আছে পুরো বাংলাদেশ। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এক অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে কমিশন।
জাতীয় নির্বাচনের আর এক দিনও বাকি নেই। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচন অবশ্য একটা নতুন ইতিহাসের দুয়ারে এনে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশকে। সংস্কারের জন্য গণভোটও হবে এদিনই। এই গণভোট ও নির্বাচনের ঠিক এক দিন আগে শায়খ আহমাদুল্লাহ হ্যাঁ ভোটের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। আজ বুধবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি। তার কথা, ‘ইতিবাচক সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রশ্নে আমরা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে।’ তিনি দাবি জানিয়েছেন, সংস্কার যেন ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখেই কার্যকর করা হয়। তিনি বলেন, ‘একইসাথে সেই সংস্কার সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে কার্যকর করতে হবে। এক্ষেত্রে কোন প্রকার ব্যত্যয় যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করতে চূড়ান্ত সংস্কার কার্যক্রমে প্রতিনিধিত্বশীল আলেমদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নির্বাচিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ ভোট মানে শুধু পরিবর্তন নয়-হোক মূল্যবোধ অক্ষুন্ন রেখে পরিবর্তনের অঙ্গীকার।’ আগামীকাল দেশের ২৯৯টি আসনে এক যোগে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে ভোটের কার্যক্রম। এই ভোট গ্রহণ চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপার পাবেন। সাদা ব্যালট ও গোলাপি ব্যালট। তার মধ্যে সাদা ব্যালট পেপারটি হবে সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যালট। গোলাপি ব্যালট পেপারটিতে গণভোট হবে। সেখানেই হ্যাঁ বা না ভোট দেবেন ভোটাররা।