গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতে বড়সড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার আতা ৬ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৭টায় উপজেলার ঘুড়িদহ গ্রামে আয়োজিত এক বিশাল যোগদান সভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।
এ সময় তার সঙ্গে সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মমিতুল হক নয়নসহ প্রায় ৬ শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপির পতাকাতলে আসেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাকে ‘বড় চমক’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সাঘাটায় এমন দলবদল জাতীয় পার্টির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
আতাউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সাঘাটা ও গাইবান্ধার রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি একাধারে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মতো একজন হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগে জাপার সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও ৬নং ঘুড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ তুলিপের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যোগদান সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ফারুক আলম সরকার। তিনি নবাগত নেতাকর্মীদের ফুলের তোড়া দিয়ে দলে বরণ করে নেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল এবং শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আরশাদুল কবির রাঙ্গা।
এছাড়াও বক্তব্য দেন- কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান সোহাগসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
বক্তারা বলেন, জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বিএনপির আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে এই যোগদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন নেতাকর্মীদের নিয়ে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করা হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত সাঘাটায় এই দলবদলের ফলে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর একযোগে বিএনপিতে যোগদান আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
নেত্রকোণা-৩ আসনের (কেন্দুয়া–আটপাড়া) কেন্দুয়ায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের গারাউন্দ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতরা হলেন গড়াডোবা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হালিম ও ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য মোনতাজ মিয়া। তাঁদের বাড়ি দেওপাড়া গ্রামে। তাঁরা বিএনপির প্রার্থীর সমর্থক বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনী আলোচনা ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হন। গুরুতর আহত দুজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। অন্যরা স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মেহেদী মাকসুদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেনাবাহিনীর সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত হন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ৩টার দিকে হায়দরগঞ্জ বাজারে ভয়াবহ আগুন লাগে। প্রথমে মাছ বাজারের একটি গলি থেকে আগুনের সূত্রপাত হলেও দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের ফলে মুদি দোকান, তেল মিল, ইলেকট্রনিক পণ্য, খেলনা ও কার্পেটের দোকানসহ মোট আটটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হতাহতের কোনো খবর পাওয়া না গেলেও ব্যবসায়ীরা জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার বেশি হতে পারে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর ও রায়পুরের দুটি ইউনিট রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রায়পুর ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। প্রত্যক্ষদর্শী ছাইয়্যেদ তাহের ইজ্জুদ্দীন এবং ব্যবসায়ী আবু ইউসুফ বলেন, তারা তখন বাজারে উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ চিৎকার শুনে দৌড়ে এসে দেখেন আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। রায়পুর ও লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও তরুণরাও আগুন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেন।
দেশের সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙক্ষা, ক্ষোভ আর স্বপ্নের এক বিশাল দস্তাবেজ এখন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দপ্তরে। ১৩তম সাধারণ নির্বাচন ও 'জুলাই জাতীয় সনদ' গণভোটকে সামনে রেখে 'দেশের চাবি, আপনার হাতে' স্লোগানে দেশজুড়ে যে প্রচারণা চালানো হয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে 'ভোটের গাড়ি'র বিশেষ জনমত বাক্সে জমা পড়েছে ৪০ হাজার ২০৬ জন সাধারণ মানুষের হাতে লেখা মন্তব্য। দেশের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদরের প্রায় ২ হাজার ১৬৯টি স্পট থেকে সংগৃহীত এসব চিরকুটে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন, রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিসহ উঠে এসেছে মানুষের ব্যক্তিগত দুঃখ-দুর্দশার চিত্র। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ২১৬টি মন্তব্য জমা পড়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে ৬ হাজার ৬টি, রাজশাহী থেকে ৫ হাজার ৭৩৮টি, খুলনা থেকে ৪ হাজার ৬৭৮টি, রংপুর থেকে ৩ হাজার ৬০৫টি, বরিশাল থেকে ২ হাজার ১২৪টি, ময়মনসিংহ থেকে ১ হাজার ৭৯৯টি এবং সিলেট থেকে ১ হাজার ৬৫১টি মন্তব্য এসেছে। গাজীপুরের ১০ বছর বয়সী শিশু রাফা যেমন নিরাপদ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছে, তেমনি ঠাকুরগাঁওয়ের এক দিনমজুর জানিয়েছেন সিন্ডিকেটের কারণে গরুর মাংস কিনে খেতে না পারার তীব্র কষ্টের কথা। কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের ভোটাররা সুষ্ঠু পরিবেশ ও কর্মক্ষেত্রে ছুটি নিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ চেয়েছেন। বরিশালের সাদিক শিক্ষকদের মানোন্নয়নের দাবি তুলেছেন, আর পিরোজপুর থেকে এসেছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তার দাবি। অন্যদিকে দিনাজপুরের নারীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং দ্রুততম সময়ে ধর্ষণের রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। জনগণের কোনো রকম রাখঢাক ছাড়া লেখা এসব সাবলীল ও আবেগঘন মন্তব্য পড়ে প্রধান উপদেষ্টা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। তিনি জনগণের এই অকৃত্রিম ভালোবাসাকে অমূল্য সম্পদ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাই কোনো প্রকার কাটছাঁট ছাড়াই প্রশংসা, পরামর্শের পাশাপাশি সব সমালোচনা ও নিন্দাও অবিকৃতভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।