রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় ফুল দিতে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর এক শিক্ষকসহ পাঁচজনকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল প্রায় পৌনে ৫টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের একজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আ ক ম জামাল উদ্দিন। অন্য চারজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেননি।
রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অপারগ।
এর আগে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম কামাল নিজের ফেসবুক পোস্টে ধানমন্ডি ৩২-এ যাওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের শাসনামলে বঞ্চিত দাবি করে লেখেন, বিকেল ৪টায় সেখানে গিয়ে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন এবং অন্যদেরও যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
আসন্ন মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের পর সেনাবাহিনী নিয়মিত ব্যারাকে ফিরে যাবে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আজ রোববার সকালে ‘সিএএস দরবার’-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ের পরবর্তী রূপরেখা তুলে ধরেন। সেনাপ্রধান স্পষ্ট করেছেন যে, সংবিধান ও বেসামরিক প্রশাসনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাবে। দায়িত্ব পালনে ধৈর্য ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি পবিত্র কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পুরস্কৃত করেন।"
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের আইসিটি ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের পদত্যাগ ও দেশত্যাগের খবর নিয়ে শনিবার দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই তাঁর দেশ ছাড়ার খবর প্রকাশ পেলে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানা জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ এটিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কারও ‘প্রথম সেফ এক্সিট’ বলেও মন্তব্য করেন। চলমান বিতর্কের মধ্যেই রোববার রাত একটার দিকে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সেখানে তিনি লেখেন, গত সপ্তাহে কর্মক্ষেত্র থেকে ‘আনুষ্ঠানিক বিদায়’ নিয়েছেন। একই সঙ্গে জানান, তিনি ‘ছুটি চেয়ে যথাযথভাবে পরিবারের কাছে’ যাচ্ছেন এবং দেশে ফেরার জন্য ‘রিটার্ন টিকিট’ কাটা রয়েছে। অভিযোগ ও বিতর্ক এর আগে তাঁর অধীনস্থ মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া অবস্থায় হঠাৎ দেশত্যাগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি দাবি করেন, আইন ও নীতিমালায় পরিবর্তন আনার কারণে ‘একচেটিয়া ব্যবসায়ী, মাফিয়া ও চোরাকারবারিরা’ তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গেও আগেও তিনি একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান তাঁর দেশত্যাগকে ‘স্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে অভিযোগের প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন ওঠাকে তিনি ‘যৌক্তিক’ বলেও মনে করেন। নিয়োগ ও দায়িত্ব ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নভেম্বরে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আইসিটি পলিসি অ্যাডভাইজার হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৫ সালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন ছাত্র উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। এরপর ২০২৫ সালের ৫ মার্চ প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সবশেষ পদত্যাগ ও দেশত্যাগের আলোচনা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বেই ছিলেন। শনিবার সন্ধ্যা থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে খবর আসে, তিনি এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশ ছেড়েছেন। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিষয়টি বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করলেও তাঁর গন্তব্য সম্পর্কে কোনো তথ্য জানায়নি। ফেসবুক পোস্টেও তিনি গন্তব্য উল্লেখ করেননি। স্ট্যাটাসে দ্বৈত ভাষ্য? দেশত্যাগ নিয়ে তাঁর ফেসবুক পোস্টে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়। একদিকে তিনি ‘আনুষ্ঠানিক বিদায়’ নেওয়ার কথা বলেন, অন্যদিকে ‘ছুটি চেয়ে পরিবারের কাছে যাচ্ছি’ বলে উল্লেখ করেন। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি লেখেন, ৮, ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি আইসিটি, পিটিডি ও বিটিআরসি থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন। ১০ ফেব্রুয়ারি ছিল তাঁর শেষ কর্মদিবস। ওই দিন সহকর্মীদের সঙ্গে বিদায়ী অনুষ্ঠানও হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি নিজের আর্থিক ক্ষতি, নতুন চাকরির খোঁজ এবং পরিবারকে সময় দেওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। পাশাপাশি দাবি করেন, তিনি ‘এক টাকাও দুর্নীতি’ করেননি। তাঁর ভাষায়, “একটি শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা, নতুন প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতা এনেছি। পুরোনো আইন ও নীতিমালা পরিবর্তনে পাগলের মতো কাজ করেছি। বিশ্বাস না হলে পেশাদার গবেষণা সংস্থা ও অডিট ফার্ম দিয়ে যাচাই করুন।” পূর্ববর্তী বিতর্ক তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে একাধিক বিতর্ক সামনে আসে। গত বছরের মাঝামাঝি একটি বড় অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগ থাকা প্রকল্প চালু রাখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ চিঠি পাঠিয়ে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। তিনি তখন দাবি করেন, এটি ছিল সহযোগিতা চাওয়া, কোনো নির্দেশ নয়। এ ছাড়া মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-এ তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যকে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা তিনি স্বীকারও করেন। ১০ ডিসেম্বর তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সার্ক ফোয়ারা মোড়ে মোবাইল ব্যবসায়ীরা অবরোধ করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু হলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং বিশেষ গোষ্ঠী লাভবান হবে। দেশত্যাগ: স্বাভাবিক না প্রশ্নবিদ্ধ? নির্বাচনের দুই দিনের মধ্যে দেশত্যাগ করায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, অভিযোগগুলোর মুখোমুখি না হয়ে কেন তিনি বিদেশে গেলেন। বিবিসির প্রশ্নের জবাবে হোয়াটসঅ্যাপে তিনি জানান, ‘আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েই’ দেশ ছেড়েছেন। তিনি দাবি করেন, “সব আইন ও নীতিতে পরিবর্তন আনার কারণে একচেটিয়া ব্যবসায়ী ও মাফিয়ারা আমার পেছনে লেগেছে।” তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ‘মন্ত্রী’ যিনি কোনো লাইসেন্স দেননি। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিদেশ থেকে এসে দায়িত্ব নেওয়া কেউ মেয়াদ শেষে বিদেশে গেলে তাকে ‘পালানো’ বলা ঠিক নয়। তবে অভিযোগের প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাঁর বিরুদ্ধে যদি নির্ভরযোগ্য অভিযোগ থাকে, তবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করে প্রয়োজন হলে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশে বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধা না থাকলে কেবল অভিযোগের কারণে কাউকে আটকানো যায় না। তবে ভবিষ্যতে তদন্তের প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
পবিত্র রমজান মাসে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। আজকের এই যুগান্তকারী আদেশের ফলে পুরো রমজান মাসজুড়ে স্কুল বন্ধ থাকবে। বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল ও অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা। এর আগে রমজানে স্কুল খোলা রাখাকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রোজা রাখার কষ্ট ও শহরের তীব্র যানজটের কথা বিবেচনা করে এই রিটটি দায়ের করা হয়েছিল। রিট আবেদনকারীর মতে, স্বাধীনতার পর থেকেই রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা একটি প্রথা ও রীতি, যা আইনের অংশ হিসেবেই বিবেচিত।