- প্রচ্ছদ
- Topic
শিক্ষক
রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার ভোর পর্যন্ত নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ইয়াবা সেবনের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। আটক দুজন একই এলাকার বাসিন্দা এবং নিহত পরিবারের পরিচিত বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ প্রথমে সীমান্ত নামে এক ব্যক্তির বাসায় ইয়াবা সেবন করে। সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তারা পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যায়। সেখানে তারা আবার ইয়াবা সেবন করছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে তাদের দেখতে পান এবং সেখানে কেন এসেছে তা জানতে চান। নিজেদের পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তারা গণপতি চক্রবর্তীর গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে বলে পুলিশের দাবি। চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাদের ২৫ বছর বয়সী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর নিচতলায় থাকা ১২ বছর বয়সী আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকেও হত্যা করা হয়। পুলিশের দাবি, সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে প্রিয়মের বন্ধুত্ব ছিল। তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করত। ফলে প্রিয়ম অভিযুক্তদের চিনত এবং তাকে জীবিত রাখলে পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সিদ্ধার্থ প্রিয়মকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ দুজন মিলে শিশুটিকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করে। পরে বালিশ চাপা দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পরও বাড়িতে বেশ কিছু সময় অবস্থান করে অভিযুক্তরা। তারা বাথরুমে গোসল করে, ডাইনিং টেবিলে রাখা খেজুর ও শসা খায় এবং সেখানেই আবার ইয়াবা সেবন করে। কিছু সময় চেয়ারে বসে বিশ্রাম নেওয়ার পর সুযোগ বুঝে পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ আরও জানায়, মুগ্ধ সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কাজ করে। তারা খুশি ওরফে প্রশান্ত নামে এক মাদক কারবারির কাছ থেকে প্রতি পিস ৩৫০ টাকা দরে ইয়াবা কিনেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করা হয়। পরে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পুলিশের দাবি, মন্দিরের পেছনে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে এসব স্বর্ণালংকার লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। আটক দুজনের দেখানো জায়গা থেকে সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব আলামত যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আটক দুজনের সম্পৃক্ততা আরও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। আটক দুজন বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজে পড়াশোনা করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন ইসরাত জাহান। ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে শুরু হওয়া তাঁর শিক্ষাজীবনের পথ পেরিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ পর্যন্ত। সেখানে পূর্ণ তহবিলের সহায়তায় স্নাতকোত্তর শেষ করার পর তিনি পিএইচডির জন্য ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইনে ভর্তি হন এবং মেমফিসে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতাও করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যেও তাঁর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এবং পরবর্তী সময়ে পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ইসরাত। সুযোগ না পেয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন বলে নিজেকে কখনো পিছিয়ে থাকা মনে করেননি। বরং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। শিক্ষাজীবনের শুরুটাও তাঁর জন্য খুব সহজ ছিল না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পড়াশোনায় দীর্ঘ সেশনজটের কারণে ২০১০ সালে শুরু করা স্নাতক পড়াশোনার চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে তাঁকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। পরে এক বন্ধুর পরামর্শে বিদেশে উচ্চশিক্ষার কথা ভাবেন তিনি। তখন ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করলেও ইংরেজিতে কথা বলা ও অনেক বিষয় বুঝতে তাঁর সমস্যা হতো। সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত চেষ্টা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য জিআরই পরীক্ষাও দেন দুইবার। প্রথমবার প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর দ্বিতীয়বার আরও প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেন। এরপর শুরু হয় উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজার পালা। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাগত পটভূমি বিবেচনা করা হবে, কোথায় জিআরই বাধ্যতামূলক নয় এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের মতো বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে কি না, এসব তথ্য তিনি বিভিন্ন উচ্চশিক্ষাবিষয়ক গ্রুপ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে খুঁজে বের করেন। পরে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল রেখে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। সেই চেষ্টার ফল আসে ইউনিভার্সিটি অব মেমফিস থেকে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পূর্ণ তহবিলের সহায়তায় স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ পান ইসরাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে স্নাতক এবং ২০১৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০২২ সালে ইউনিভার্সিটি অব মেমফিস থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তাঁর স্নাতকোত্তর গবেষণার বিষয় ছিল বাংলাদেশি নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে প্রজনন আচরণের সম্পর্ক। স্নাতকোত্তর শেষ করার পর ইসরাত ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইনের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রোফাইলে তাঁর গবেষণার আগ্রহের মধ্যে নারীর স্বাস্থ্য, জনমিতি, স্বাস্থ্য বৈষম্য ও চিকিৎসা সমাজবিজ্ঞান উল্লেখ রয়েছে। একই প্রোফাইলে ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসে সমাজবিজ্ঞানের দুটি কোর্স পড়ানোর তথ্যও রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর ইসরাত জাহান পিএইচডির জন্য ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইনে যান। মেমফিস বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে তাঁর পদ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অ্যাডজাঙ্কট ইনস্ট্রাক্টরের তথ্যও রয়েছে। একসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজে পড়াশোনা করাকে ঘিরে নানা ধরনের কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল ইসরাতকে। সেই পথ পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষকতায় পৌঁছানোর গল্পটি দেখায়, শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শুধু কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে না। নিজের দক্ষতা তৈরি, সঠিক তথ্য খোঁজা এবং সুযোগের জন্য ধারাবাহিক চেষ্টা করাও উচ্চশিক্ষার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলগুলোতে এইচ-১বি ভিসায় বিদেশি শিক্ষক ও কর্মী নিয়োগ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। আগামী বছর অঙ্গরাজ্য আইনসভায় এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব তোলার কথা জানিয়েছেন তিনি। টেক্সাসে সরকারি স্কুলগুলোতে বর্তমানে ৩৪০ জনের বেশি এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মী রয়েছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী রয়েছেন ডালাস ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টে বা ডালাস আইএসডিতে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১৭১ জন এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মী কাজ করছেন। এইচ-১বি ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন এমন পেশায় বিদেশি কর্মীদের সাময়িকভাবে নিয়োগের সুযোগ দেয়। শিক্ষা খাতেও স্থানীয়ভাবে যোগ্য কর্মী পাওয়া কঠিন হলে স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলো এই ভিসার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ করতে পারে। ডালাস আইএসডি জানিয়েছে, তারা মূলত যেসব পদে স্থানীয়ভাবে শিক্ষক পাওয়া কঠিন, সেসব পদ পূরণে এইচ-১বি ভিসা ব্যবহার করে। বিশেষ করে ইংরেজি-স্প্যানিশ দ্বিভাষিক শিক্ষা ও বিশেষ শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডালাস আইএসডির তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষকদেরও টেক্সাসের নির্ধারিত শিক্ষক সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার মতো শর্ত পূরণ করতে হয়। অর্থাৎ এই ভিসায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের স্থানীয় শিক্ষকদের মতোই নির্দিষ্ট যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। তবে গভর্নর অ্যাবটের প্রস্তাবের পেছনে শুধু শিক্ষক নিয়োগের বিষয় নয়, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় বিদেশি প্রভাব কমানোর বিষয়টিও রয়েছে। তিনি টেক্সাসের সরকারি স্কুলগুলোতে বিদেশি সরকার বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উপহার ও অর্থায়নের ওপরও আরও কঠোর বিধিনিষেধ চান। অ্যাবটের উদ্যোগের সমর্থকদের যুক্তি, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি স্কুলে স্থানীয় কর্মীদের চাকরির সুযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, এইচ-১বি নিয়োগ বন্ধ হলে শিক্ষক সংকটে থাকা স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলো আরও চাপে পড়তে পারে। বিশেষ করে টেক্সাসে দ্বিভাষিক শিক্ষা ও বিশেষ শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে যোগ্য শিক্ষক পাওয়া অনেক স্কুলের জন্য ইতিমধ্যেই বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ হলে এসব শূন্য পদ পূরণে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নতুন ব্যবস্থা নিতে হবে। এইচ-১বি নিয়োগ নিয়ে অ্যাবটের অবস্থানও নতুন নয়। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি টেক্সাসের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য সংস্থা ও সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নতুন এইচ-১বি আবেদন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবার সরকারি স্কুলগুলোতেও একই ধরনের বিধিনিষেধ আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি। তবে প্রস্তাবটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। আগামী বছর টেক্সাস আইনসভায় এটি উত্থাপনের পর আইনপ্রণেতাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে সরকারি স্কুলে বিদেশি শিক্ষক ও অন্যান্য এইচ-১বি কর্মীদের ভবিষ্যৎ। ফলে টেক্সাসে একদিকে স্থানীয় কর্মীদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়ানোর দাবি, অন্যদিকে শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন—এই দুই অবস্থানের মধ্যেই নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে এইচ-১বি কর্মসূচি।
যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলোতে শুধু শিক্ষক নয়, প্রশাসনিক সহকারী, স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, বিকল্প শিক্ষক, ক্যাফেটেরিয়া কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ থাকে। বেশিরভাগ ডিস্ট্রিক্টের নিজস্ব চাকরির পেজ বা অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলেও স্কুল সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী, অভিভাবক সমন্বয়কসহ বিভিন্ন স্কুলভিত্তিক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। চাকরি খুঁজতে প্রথমে যে স্কুল ডিস্ট্রিক্টে কাজ করতে চান, সেটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। গুগলে শহর বা কাউন্টির নামের সঙ্গে ‘স্কুল ডিস্ট্রিক্ট চাকরি’ অথবা ডিস্ট্রিক্টের নামের সঙ্গে ‘চাকরি’ লিখে খুঁজলে সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের চাকরির পেজ পাওয়া যায়। তবে আবেদন করার আগে ওয়েবসাইটটি যে সত্যিই সংশ্লিষ্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সরকারি ওয়েবসাইট, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘চাকরি’, ‘নিয়োগ’, ‘মানবসম্পদ’ বা ‘চাকরির সুযোগ’ ধরনের বিভাগ খুঁজতে হবে। এরপর ‘বর্তমান শূন্যপদ’, ‘চাকরি খুঁজুন’ বা ‘আবেদন করুন’ অপশনে গিয়ে খালি পদগুলো দেখা যায়। চাকরি খোঁজার সময় শুধু শিক্ষক পদে সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই। শিক্ষকতার লাইসেন্স না থাকলেও অনেক ডিস্ট্রিক্টে বিভিন্ন সহায়ক পদে আবেদন করা যায়। যেমন স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, বিকল্প শিক্ষক, অফিস সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী, ক্যাফেটেরিয়া কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মীর পদ থাকতে পারে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলের চাকরির তালিকায় শিক্ষক ও স্কুল প্রশাসনের পাশাপাশি অন্যান্য স্কুলভিত্তিক চাকরির আলাদা বিভাগও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সেখানে স্কুল সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী ও অভিভাবক সমন্বয়কের মতো পদও পাওয়া যায়। চাকরির বিজ্ঞপ্তি খোলার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যোগ্যতার শর্ত পড়া। সেখানে সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স বা সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত উল্লেখ থাকে। কিছু পদে বিশেষ পেশাগত লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হলেও সব স্কুলের চাকরিতে শিক্ষকতার লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না। যোগ্যতা মিলে গেলে ‘আবেদন করুন’ অপশনে ক্লিক করে অনলাইন আবেদন শুরু করতে হবে। অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্ট নিজস্ব আবেদন ব্যবস্থা ব্যবহার করে, আবার কেউ অন্য নিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন নেয়। আবেদন করার সময় সাধারণত একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয় এবং নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। জীবনবৃত্তান্ত বা রেজুমে আপলোড করাও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু পদে আবেদনকারীর কাছ থেকে কভার লেটার, শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র, পেশাগত লাইসেন্স বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। শুধু রেজুমে জমা দিলেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া উচিত নয়। অনেক ডিস্ট্রিক্টে অনলাইন ফর্মের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শেষে আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন করার আগে কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য রেজুমের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা, অফিস পরিচালনা, কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা, দলগত কাজ, যোগাযোগ দক্ষতা বা সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা থাকলে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত। আবেদনের সময় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি আছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিজের প্রকৃত কর্মসংস্থান ও অভিবাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক তথ্য দিতে হবে। কোনো তথ্য অনুমান করে বা ভুলভাবে দেওয়া উচিত নয়। স্কুল ডিস্ট্রিক্টে চাকরির ক্ষেত্রে অপরাধমূলক রেকর্ড যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করা পদে নিয়োগের আগে অতিরিক্ত যাচাই বা আঙুলের ছাপ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। নির্দিষ্ট পদে কী ধরনের যাচাই লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের চাকরির বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ নির্দেশনায় উল্লেখ থাকে। কিছু ডিস্ট্রিক্টে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পর একই প্রোফাইল ব্যবহার করে একাধিক চাকরিতে আবেদন করা যায়। ফলে প্রথমবার আবেদন করার সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও রেজুমে ভালোভাবে প্রস্তুত করে রাখলে পরবর্তী পদগুলোতে আবেদন করা তুলনামূলক সহজ হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর বিষয়টি সেখানেই শেষ নয়। অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের অনলাইন পোর্টালে আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখা যায়। কোথাও আবার ই-মেইলের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপের খবর দেওয়া হয়। তাই আবেদন করার পর নিয়মিত ই-মেইল এবং অপ্রয়োজনীয় মেইলের ফোল্ডারও দেখা জরুরি। ডালাসের মতো বড় স্কুল ডিস্ট্রিক্টে অনলাইনে আবেদন করার পাশাপাশি চাকরির মেলা ও নিয়োগ অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়। সেখানে চাকরিপ্রার্থীরা রেজুমে ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতার প্রমাণ নিয়ে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেতে পারেন। যারা শিক্ষক নন বা যাদের শিক্ষকতার লাইসেন্স নেই, তাদের জন্য স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সহায়ক কর্মী, অশিক্ষক পদ, স্কুলভিত্তিক পদ, প্রশাসনিক পদ, শ্রেণিকক্ষ সহকারী বা অন্যান্য কর্মী বিভাগের চাকরিগুলো বিশেষভাবে দেখা যেতে পারে। এসব বিভাগে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদ থাকতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। সব স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিয়োগের নিয়ম এক নয়। শিক্ষক, কাউন্সেলর, নার্স বা বিশেষায়িত পেশার ক্ষেত্রে রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স বা সনদ প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নির্দিষ্ট পদের যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল ডিস্ট্রিক্টে চাকরি খোঁজার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিজের এলাকার পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সরকারি ওয়েবসাইট খুঁজে বের করা, চাকরির বিভাগে গিয়ে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল আছে এমন পদ বেছে নেওয়া, যোগ্যতার শর্ত পড়া, রেজুমে ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা এবং অনলাইনে আবেদন সম্পূর্ণভাবে জমা দেওয়া। শুধু শিক্ষক পদ খুঁজলে অনেক চাকরির সুযোগ চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। তাই নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, অফিস কর্মী, বিকল্প শিক্ষক, পরিবারবিষয়ক কর্মী এবং অন্যান্য সহায়ক পদও খুঁজে দেখা যেতে পারে।
মাত্র তিন দিনের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর সাড়ে তিন বছরেও কর্মস্থলে ফেরেননি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সরকারি মার্চেন্টস একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. জিল্লুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নেননি তিনি। দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২২ আগস্ট থেকে তিন দিনের ছুটি নেন জিল্লুর রহমান। পরদিন ২৩ আগস্ট তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন। এরপর আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার পদটি এখনো শূন্য ঘোষণা করা হয়নি। এর আগেও ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন জিল্লুর রহমান। সে সময় বিদ্যালয় থেকে দুই মাসের ছুটি নিলেও প্রায় পাঁচ মাস চার দিন পর দেশে ফেরেন বলে বিদ্যালয় সূত্রের দাবি। ওই সফরের ক্ষেত্রেও বিদেশ যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশে ফেরার পর তিনি সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন বলেও বিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে। প্রধান শিক্ষকের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাদের ভাষ্য, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকলে শুধু দাপ্তরিক কাজ নয়, শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনাতেও এর প্রভাব পড়ে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা ফারুকী জানিয়েছেন, জিল্লুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তিনি কবে দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগ দেবেন, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নতুন নয়। ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন দাশ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। বর্তমান রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউসার জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশে যেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। জিল্লুর রহমান সেই অনুমতি নেননি বলে তাদের কাছে থাকা তথ্যে জানা গেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র মিত্রও জানিয়েছেন, চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া এভাবে বিদেশে অবস্থানের সুযোগ নেই। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জিল্লুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। রায়পুর সরকারি মার্চেন্টস একাডেমি ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর আগের এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান শিক্ষকসহ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক পদে শূন্যতা এবং প্রশাসনিক সংকটের কথাও উঠে এসেছিল।
নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন। স্কুলে ঢুকতেই শিক্ষকদের সামনে অদ্ভুত এক দৃশ্য - একজনের দিকে তাকালে ঠিক একই চেহারার আরেকজন! একজন-দুজন নয়, একই এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এবার একসঙ্গে স্কুলজীবন শুরু করছে ৯ জোড়া যমজ শিশু। স্কটল্যান্ডের ইনভারক্লাইডে এমন ঘটনাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ইনভারক্লাইডের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাইমারি ওয়ানে যাত্রা শুরু করার কথা এই ১৮ শিশুর। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে ১৪ আগস্ট গ্রিনকের আরডগোয়ান প্রাইমারি স্কুলে তাদের একত্রিত করা হয়। ইনভারক্লাইড কাউন্সিলের আয়োজনে সেখানে নতুন ইউনিফর্ম পরে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ায় যমজ শিশুরা। তবে ইনভারক্লাইডে এত যমজ শিশুর স্কুলে যাওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। যমজের সংখ্যার কারণে এলাকাটি বহুদিন ধরেই মজার ছলে ‘টুইনভারক্লাইড’ নামে পরিচিত। ২০১৩ সাল থেকে এখানকার স্কুলগুলোতে মোট ১৭৬ জোড়া যমজ ভর্তি হয়েছে - অর্থাৎ গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১২ জোড়া। এবারের ৯ জোড়া যমজও একই একটি স্কুলে ভর্তি হচ্ছে না। ইনভারক্লাইডের ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভাগ হয়ে তারা স্কুলজীবন শুরু করবে। এর মধ্যে আরডগোয়ান প্রাইমারি, সেন্ট মাইকেলস প্রাইমারি এবং গুরক প্রাইমারিতে দুই জোড়া করে যমজ ভর্তি হচ্ছে। বাকি তিন জোড়া যাবে লেডি অ্যালিস, সেন্ট জোসেফস এবং সেন্ট জনস প্রাইমারি স্কুলে। ফলে তিনটি স্কুলের শিক্ষকদের জন্য প্রথম দিনটা একটু বেশিই মজার হতে পারে - একই ক্লাস বা স্কুলে একসঙ্গে দুই জোড়া যমজকে চিনে রাখতে হবে তাদের। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি এখন আর বিস্ময়ের নয়। বরং নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে যমজ শিশুদের একত্র করে ছবি তোলা গত ১৩ বছরে ইনভারক্লাইডের একটি বার্ষিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। ইনভারক্লাইড কাউন্সিলের শিক্ষা ও কমিউনিটিবিষয়ক কনভেনার কাউন্সিলর জিম ক্লোকার্টি বলেছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষ ঘনিয়ে আসার অন্যতম পরিচিত সংকেত হয়ে উঠেছে স্কুলে ভর্তি হতে যাওয়া যমজ শিশুদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো। তার ভাষায়, এই আয়োজন শিশুদের স্কুলে যাওয়ার উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্যও প্রথম দিনের আগে এক ধরনের প্রস্তুতি। এবার ৯ জোড়া যমজ নিয়ে আলোচনা হলেও ইনভারক্লাইডের রেকর্ড আরও চমকপ্রদ। ২০১৫ সালে এক শিক্ষাবর্ষেই এখানকার স্কুলে প্রাইমারি ওয়ানে ভর্তি হয়েছিল রেকর্ড ১৯ জোড়া যমজ। ২০২৩ সালেও সংখ্যাটি ছিল ১৭ জোড়া - যা ছিল ওই সময় পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য ইনভারক্লাইডে যমজ শিশুর হার তুলনামূলক বেশি হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেনি। ফলে ‘টুইনভারক্লাইড’ নামটি কোনো আনুষ্ঠানিক ভৌগোলিক নাম নয় - দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক যমজ শিশুর স্কুলে ভর্তি হওয়ার কারণেই এলাকাটি এই মজার ডাকনাম পেয়েছে। নতুন ইউনিফর্ম, নতুন ক্লাস আর নতুন বন্ধুদের সঙ্গে মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ১৮ শিশুর নতুন অধ্যায়। তবে অন্য শিক্ষার্থীদের তুলনায় তাদের প্রথম দিনটির একটি বাড়তি আকর্ষণ থাকছেই - পাশে থাকবে দেখতে প্রায় একই রকম নিজের ভাই অথবা বোন। আর শিক্ষকদের জন্য চ্যালেঞ্জটা সম্ভবত অন্য জায়গায় - নতুন শিক্ষার্থীদের নাম মনে রাখার পাশাপাশি এবার ঠিকঠাক চিনে রাখতে হবে ৯ জোড়া যমজকেও।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ওপর ছুরি হামলার ঘটনায় দ্রুত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে কয়েকজন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হামলার পর তারা অভিযুক্ত সহপাঠীকে মাটিতে ফেলে নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় শেরিফের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে আরও বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার লি কাউন্টির জোনসভিল মিডল স্কুলে। অভিযুক্ত ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী ছুরি দিয়ে একজন শিক্ষককে আঘাত করে বলে অভিযোগ উঠেছে। লি কাউন্টির শেরিফ গ্যারি পারসন্স জানান, শিক্ষককে আঘাত করার পরপরই কয়েকজন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এগিয়ে আসে। তারা হামলাকারীকে মাটিতে ফেলে ধরে রাখে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শেরিফ পারসন্স বলেন, "শিক্ষার্থীরা প্রশংসার দাবিদার। তাদের দ্রুত পদক্ষেপ সম্ভবত আরও বড় ক্ষতি ঠেকিয়েছে। অন্তত শিক্ষকের জীবন রক্ষা করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।" শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, আহত শিক্ষক প্রাণঘাতী নয় এমন আঘাত পেয়েছেন। তার ক্ষতস্থানে সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থী ও কর্মীরা নিরাপদ ছিলেন। হামলার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আর কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের রান্নাঘর থেকে একটি রান্নার ছুরি নিয়ে এসেছিল। সেই ছুরি দিয়েই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর ১২ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর জখমের উদ্দেশ্যে হামলা এবং মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। কেন এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সম্ভাব্য কারণ এবং হামলার পেছনের প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে। ভার্জিনিয়ার এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে হাইস্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী সাধারণ একটি লেখা পড়তে ও ছোট একটি বাক্য লিখতে হিমশিম খাওয়ায় ক্লাসরুমেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি শিক্ষক ড্যারিয়াস উইলিয়ামস। হিউস্টনের হুইটলি হাইস্কুলে নতুন শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় দিনের এই অভিজ্ঞতা নিয়ে তার প্রকাশ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের পড়া ও লেখার দক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের হুইটলি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন উইলিয়ামস। স্কুলের স্টাফ ডিরেক্টরিতে তাকে ক্যারিয়ার অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন শিক্ষক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিআরসি ও ফক্স ২৬ হিউস্টন তার বক্তব্য এবং স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। উইলিয়ামসের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাসে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুটি অনুচ্ছেদ পড়তে দেওয়া হয়েছিল। এরপর সেই লেখার ভিত্তিতে একটি ছোট বাক্য সম্পন্ন করার কাজ দেন তিনি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লেখাটি ব্যাখ্যাও করেন এবং কীভাবে উত্তর দিতে হবে, সে বিষয়ে সহায়তা করেন। কিন্তু এরপরও কয়েকজন শিক্ষার্থী কাজটি শেষ করতে পারেনি বলে জানান উইলিয়ামস। তার দাবি, এমন শিক্ষার্থীও তার ক্লাসে রয়েছে যারা ঠিকমতো পড়তে কিংবা লিখতে পারছে না। পরিস্থিতি দেখে তিনি এতটাই বিচলিত হন যে পরে লাঞ্চের সময় একটি ভিডিওতে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। উইলিয়ামস বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে পরিস্থিতি, প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা এবং উত্তর দেওয়ার জন্য সহায়তা দেওয়ার পরও তারা কয়েকটি শব্দ বসিয়ে একটি বাক্য সম্পন্ন করতে পারেনি। দ্বাদশ শ্রেণিতে পৌঁছানোর পরও শিক্ষার্থীদের এমন মৌলিক দক্ষতায় ঘাটতি দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তবে উইলিয়ামসের অভিজ্ঞতা তার নিজের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে এবং এটি হুইটলি হাইস্কুলের সব দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীর পড়া ও লেখার সক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করে না। কতজন শিক্ষার্থী ওই কাজটি করতে পারেনি, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, হুইটলি হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য একাডেমিক অগ্রগতি করেছে। শক্তিশালী পাঠদান, উচ্চ প্রত্যাশা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার মাধ্যমে এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে বলে ডিস্ট্রিক্টের বক্তব্য। একই সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, কিছু শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত একাডেমিক সহায়তা প্রয়োজন। শিক্ষক ও স্কুলের নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে হিউস্টন আইএসডি। হুইটলি হাইস্কুল দীর্ঘদিন ধরেই একাডেমিক পারফরম্যান্সের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্কুলটির সামগ্রিক রেটিংয়ে উন্নতি হয়েছে। হিউস্টন ক্রনিকলের তথ্য অনুযায়ী, একসময় ব্যর্থতার পর্যায়ের রেটিং পাওয়া স্কুলটি পরে বি রেটিংয়ে উন্নীত হয়েছে। যদিও স্টেট অব টেক্সাস অ্যাসেসমেন্টস অব অ্যাকাডেমিক রেডিনেস বা স্টার পরীক্ষার ফলাফলে এখনও দুর্বলতার জায়গা রয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর উইলিয়ামসের শিক্ষকতার যোগ্যতা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে। এর জবাবে তিনি জানান, তার ব্যাচেলর ডিগ্রি রয়েছে, তিনি মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়ছেন এবং টেক্সাসে একাধিক টিচিং সার্টিফিকেশনও অর্জন করেছেন। একটি ক্লাসরুমের অভিজ্ঞতা দিয়ে পুরো টেক্সাস বা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থার অবস্থা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মৌলিক পড়া ও লেখার দক্ষতা নিয়ে একজন শিক্ষকের এমন প্রকাশ্য উদ্বেগ দেশটির স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের লিটারেসি, শেখার ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তা নিয়ে চলমান আলোচনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সাউথ বেন্ড এলাকার অ্যাডামস হাই স্কুলের জনপ্রিয় এক শিক্ষিকা এবং তার ছোট ভাই লেক মিশিগানে ডুবে মারা গেছেন। ঘটনাটি স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পুরো সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ডব্লিউএনডিইউ (WNDU)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত শিক্ষিকার নাম হান্নাহ জভেইগ (২১)। তিনি সাউথ বেন্ডের অ্যাডামস হাই স্কুলে ‘লাইফ স্কিলস’ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য জীবনদক্ষতা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার সঙ্গে লেকে ছিলেন ১৮ বছর বয়সী ছোট ভাই ইয়োসেফ জভেইগ। পানিতে ডুবে দুজনই মারা যান। কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করেনি। কী পরিস্থিতিতে তারা পানিতে ডুবে যান, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। অ্যাডামস হাই স্কুলের অধ্যক্ষ জিম সাইটজ হান্নাহকে স্মরণ করে বলেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহানুভূতিশীল, নিবেদিতপ্রাণ এবং শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একজন শিক্ষক। তিনি জানান, প্রায় দুই বছর আগে হান্নাহ তাকে একটি ই-মেইল পাঠিয়ে জানিয়েছিলেন যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করতে যাচ্ছেন এবং অ্যাডামস হাই স্কুলে ‘লাইফ স্কিলস’ শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী। সেই ই-মেইল থেকেই তার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি আন্তরিকতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। গত বছর শিক্ষকতা শুরু করার পর খুব অল্প সময়েই তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সহকর্মীদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন। অধ্যক্ষের ভাষায়, একজন ‘লাইফ স্কিলস’ শিক্ষককে সকালে শিক্ষার্থীরা স্কুলবাস থেকে নামার পর থেকে বিকেলে বাসে ওঠা পর্যন্ত তাদের সার্বিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। হান্নাহ এ দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতেন। জিম সাইটজ বলেন, হান্নাহ তার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। অনেক ক্ষেত্রেই অন্য যেকোনো শিক্ষকের তুলনায় তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে বেশি কথা বলতেন, যাতে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। তার অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাউথ বেন্ড কমিউনিটি স্কুল করপোরেশন তাকে ‘রুকি টিচার অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় ভূষিত করে। সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হান্নাহ সব সময় অন্যদের এগিয়ে নিতে কাজ করতেন। স্কুলে বিভিন্ন উদ্যোগ আয়োজনের পাশাপাশি সহকর্মীদের সাফল্যও তিনি সবার সামনে তুলে ধরতেন। নিজের অর্জনের চেয়ে অন্যের সাফল্যকে গুরুত্ব দেওয়াই ছিল তার স্বভাব। পরিবারের ঘনিষ্ঠদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ছোট ভাই ইয়োসেফ ছিলেন হান্নাহর জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা। শিক্ষকতা পেশাকে ভালোবাসার অন্যতম কারণ হিসেবেও তিনি ভাইয়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাই অনেকের মতে, জীবনের শেষ যাত্রাতেও ভাই-বোন একসঙ্গেই রয়ে গেলেন। ঘটনার পর অ্যাডামস হাই স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই হান্নাহকে একজন মানবিক, কর্মঠ এবং শিক্ষার্থীদের জীবন বদলে দিতে নিবেদিত শিক্ষক হিসেবে স্মরণ করছেন।
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় একটি দাখিল মাদরাসার মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রায় দুই দশক ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জামায়াতের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য মাদরাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। অভিযুক্ত মো. মহিউদ্দিন তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি। অভিযোগে বলা হয়েছে, একই নামের সুযোগ নিয়ে তিনি মৃত শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি অর্থ উত্তোলন করেছেন। মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান বিষয়টি সামনে এনে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে ওই মাদরাসায় নিয়োগ পান মো. মহিউদ্দিন। পরে তার মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী মো. মহিউদ্দিনকে বিধিবহির্ভূতভাবে ওই মাদরাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরও তথ্য গোপন করে ২০০৬ সালের নিয়োগে মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা উত্তোলন শুরু হয়। এমনকি ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও কপিতেও মৃত শিক্ষকের ওই ব্যাংক হিসাব থেকেই বেতন-ভাতা উত্তোলনের তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। মাদরাসার সুপার মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর বিষয়টি তার নজরে আসে। এরপর তিনি বিষয়টি লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তার দাবি, গত ২০ বছরে সরকারের লাখ লাখ টাকা অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়ে থাকতে পারে। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং সরকারের অর্থও পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. মহিউদ্দিন দাবি করেন, হিসাব নম্বর এক হলেও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি বেতন তোলেননি। তবে কোন হিসাব থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন—এ প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগের বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বলে বিবেচিত নয়। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে বিদ্যালয়ের লকডাউন মহড়ার সময় শিক্ষার্থীদের শাস্তি দিতে তাদের পিঠের ওপর পা রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত এক শিক্ষককে দুই বছরের প্রবেশনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে থাকা শিক্ষকতার লাইসেন্স স্বেচ্ছায় জমা দিতে হবে। এছাড়া রাগ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মূল্যায়নে অংশ নেওয়া, ৯০ ঘণ্টা সমাজসেবা করা, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনার চিঠি লেখা এবং জরিমানা ও আদালতের বিভিন্ন ফি হিসেবে ২ হাজার ২৫০ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিনেসোটার অটার টেইল কাউন্টির আন্ডারউড এলাকার ৪৯ বছর বয়সী শিক্ষক জেসন লাওয়েল রজার্সের বিরুদ্ধে শিশুদের প্রতি বিদ্বেষমূলক শাস্তি দেওয়ার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। স্থানীয় আদালত মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে তার বিরুদ্ধে 'স্টে অব অ্যাডজুডিকেশন' মঞ্জুর করেন। অর্থাৎ তিনি দোষ স্বীকার করলেও আপাতত আনুষ্ঠানিক দণ্ডাদেশ স্থগিত থাকবে। প্রবেশন চলাকালে আদালতের সব শর্ত মেনে চললে অভিযোগগুলো খারিজ হয়ে যাবে। তবে শর্ত ভঙ্গ করলে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারবেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্ডারউড স্কুলে লকডাউন মহড়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। এক ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তদন্তকারীদের জানান, মহড়ার সময় তিনি উপুড় হয়ে মেঝেতে শুয়ে ছিলেন। তখন শিক্ষক জেসন রজার্স তার পিঠের ওপর দুই পা দিয়ে দাঁড়ান। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়, রজার্সের ওজন ৩৫০ পাউন্ডেরও বেশি, যা প্রায় ১৫৯ কিলোগ্রামের সমান। ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থী তীব্র পিঠের ব্যথায় ভুগতে থাকে এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তদন্ত চলাকালে রজার্স স্বীকার করেন, তিনি শুধু ওই একজন নন, আরও দুই শিক্ষার্থীর পিঠেও পা রেখেছিলেন। তার দাবি ছিল, কয়েকজন শিক্ষার্থী লকডাউন মহড়াকে গুরুত্ব দিচ্ছিল না। তাদের সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই তিনি এমনটি করেছিলেন। তবে তদন্তকারী সংস্থার মতে, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা শিশুদের প্রতি শারীরিক শাস্তির শামিল। ঘটনার পর ২০২৫ সালের মার্চে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর আন্ডারউড স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। এরপর থেকে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন ছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রবেশন চলাকালে রজার্সকে শিক্ষকতার লাইসেন্স ত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি তাকে রাগ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে, সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নিতে হবে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে স্থগিত থাকা অভিযোগে আনুষ্ঠানিক দণ্ডাদেশ কার্যকর হতে পারে। মার্কিন শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যালয়ে জরুরি পরিস্থিতির মহড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরিচালিত হলেও তা পরিচালনার সময় শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিকর কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষকদের আচরণবিধি এবং বিদ্যালয়ের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি স্কুলে শ্রেণিকক্ষে মানবসদৃশ (হিউম্যানয়েড) রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) শিক্ষক-সহকারী আনার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সেনেকা জাতিগোষ্ঠীর অ্যালেগেনি অঞ্চলে অবস্থিত সালামানকা হাইস্কুলে এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি শুরু করতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে শিক্ষকেরা এই উদ্যোগকে ‘অযৌক্তিক’ বলে আখ্যায়িত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, মানুষের মতো দেখতে রোবট এনে মূলত মহান শিক্ষকতা পেশাকে চরমভাবে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি, স্থানীয় আদিবাসীদের একাংশও এই প্রকল্পটিকে তাদের সংস্কৃতির প্রতি চরম উদাসীনতা হিসেবে দেখছেন। ‘স্যালি’ নামের এই হিউম্যানয়েড রোবটটি তৈরি করেছে টরন্টোভিত্তিক কোম্পানি রিয়েলবোটিকস, যার দাম পড়েছে ৫৭ হাজার ৫৯০ মার্কিন ডলার। সালামানকা হাইস্কুলের পরিচালনাকারী ক্যাটারাগাস কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথমবারের মতো এ ধরনের হিউম্যানয়েড রোবট ও এআই শিক্ষক-সহকারী ব্যবহার করতে যাচ্ছে। রিয়েলবোটিকস এম-সিরিজের এই রোবটটি স্বাভাবিক কথোপকথন, মুখের অভিব্যক্তি ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা দেবে। যেসব শিক্ষার্থীর এটি ব্যবহারের অনুমতি থাকবে, তারা চাইলে দিনে ২৪ ঘণ্টাই ভার্চ্যুয়ালি এই রোবটের সহায়তা নিতে পারবে বলে কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। তবে অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সালামানকা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ওই হাইস্কুলের শিক্ষক লেসি পিহলব্লাড। রিয়েলবোটিকসের সফটওয়্যার ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণ, তথ্য সংগ্রহের ধরন এবং রোবটটির রেকর্ডিং ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য যখন শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে সরে আসার কথা ভাবছে, তখন এমন উদ্যোগকে চরম ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন তিনি। আরও মানুষের মতামত নেওয়ার আগ পর্যন্ত স্কুল ডিস্ট্রিক্টকে এই রোবট ও সফটওয়্যারের ব্যবহার স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এই শিক্ষক নেতা। শিক্ষক নেতাদের মতে, শিশুদের সামাজিক বিকাশের জন্য মানবিক সম্পর্ক অত্যন্ত জরুরি। সালামানকা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের মূল সংগঠন ‘নিউইয়র্ক স্টেট ইউনাইটেড টিচার্স’-এর সভাপতি মেলিন্ডা পারসনের মতে, অল্প বয়সী শিক্ষার্থীরা কেবল মানুষের সঙ্গে মিশতে এবং দ্বন্দ্ব মেটাতে শিখছে। এমন সময়ে তাদের সামনে প্রাণহীন যন্ত্র দাঁড় করিয়ে দেওয়া মোটেও ভালো কোনো বুদ্ধি নয়। অন্যদিকে, সালামানকা হাইস্কুলের প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী আদিবাসী আমেরিকান। এমন একটি স্কুলে হিউম্যানয়েড রোবট পরীক্ষার স্থান হিসেবে বেছে নেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যদিও এ বিষয়ে সেনেকা জাতিগোষ্ঠীর নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে অলিভিয়া মেরি স্মিথ নামের এক শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০২২ সালে 'টিচার অব দ্য ইয়ার' বা বর্ষসেরা শিক্ষিকার খেতাব পাওয়া এই নারীকে সম্প্রতি সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা এমন গুরুতর ও বিকৃত আচরণের অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সান হেরাল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওশান স্প্রিংস মিডল স্কুলে কর্মরত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। এর প্রায় এক মাস আগে পুলিশ প্রথম এই ঘটনার বিষয়ে গোপন তথ্য পেয়েছিল। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বয়স কত, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট কিছু জানানো হয়নি। ওশান স্প্রিংস মিডল স্কুলে বর্ষসেরা শিক্ষিকা হওয়ার পর সম্প্রতি তাকে নিকটস্থ ওক পার্ক এলিমেন্টারি স্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষিকা হিসেবে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন অপরাধ করায় তার বিরুদ্ধে 'সেক্সুয়াল ব্যাটারি' বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। মিসিসিপির আইন অনুযায়ী এই অপরাধ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে যৌন উদ্দেশ্যে শিশুকে প্ররোচিত করার অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর ওশান স্প্রিংস স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কর্মকর্তারা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএলওএক্স-কে জানিয়েছেন, তারা এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করছেন। শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং কর্মীদের আশ্বস্ত করে তারা জানান, অত্যন্ত গুরুত্ব ও সতর্কতার সঙ্গে এই ঘটনার আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের একটি উচ্চবিদ্যালয়ের এক শিক্ষক অপ্রাপ্তবয়স্ক এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে একাধিক ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক জেসি হিউবেল (৩৭) স্বেচ্ছায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। মোনমাউথ কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিস মঙ্গলবার জানায়, হিউবেল ফ্রিহোল্ড টাউনশিপ হাই স্কুলের শিক্ষক। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে তার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয় এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তখন ১৮ বছরের কম বয়সী ছিলেন। তদন্তকারীরা জানান, অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনাগুলো নিউ জার্সির ফ্রিহোল্ড টাউনশিপ, ইংলিশটাউন, ম্যানালাপান টাউনশিপ এবং রেড ব্যাংক—এই চারটি এলাকায় সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে প্রতিটি এলাকায় পৃথকভাবে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। হিউবেলের বিরুদ্ধে প্রতিটি এলাকায় একটি করে ‘শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার’ অভিযোগ এবং দ্বিতীয়-ডিগ্রির যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও বিচার সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনগত এখতিয়ার অনুযায়ী পরিচালিত হবে। মোনমাউথ কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান। অভিযুক্ত শিক্ষকের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কারও কাছে অতিরিক্ত তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে, সিবিএস নিউজ নিউইয়র্ক জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানতে জেসি হিউবেলের আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।