বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আজ শুরু হচ্ছে নতুন এক পর্ব। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। একই অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করবেন।
এর আগে সকাল ১০টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। তিন দফায়, প্রতি দফায় ১০০ জন করে নবনির্বাচিত সদস্য শপথ নেবেন।
সাধারণত বঙ্গভবন-এর দরবার হলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে এবার দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনুষ্ঠানটি উন্মুক্ত পরিসরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে অস্থায়ী মঞ্চ ও ভিভিআইপি জোন প্রস্তুত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। পরে সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন এলাকা ও আশপাশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, খেজুরবাগান ক্রসিং থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং গণভবন ক্রসিং থেকে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত লেক রোডে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নগরবাসীকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এর মাধ্যমে দলটি ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরে আসছে।
অন্যদিকে ৬৮টি আসন নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দলটির সংসদীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান।
ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এর মাধ্যমে একটি অন্তর্বর্তী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘৩১ দফা’ ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করেছেন তারেক রহমান। বিশ্লেষকদের মতে, আজকের শপথ গ্রহণ সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রায় ৩৫ বছর পর বাংলাদেশ একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে। ১৯৯১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা-এর নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হয়েছে।