সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম পেশাদার সাংবাদিকতায় নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি জানান যে, তিনি ‘দ্য ডেইলি ওয়াদা’ নামক একটি সংবাদপত্রের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। কর্মজীবনের এই নতুন যাত্রায় তিনি সকলের দোয়া ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছেন।
উল্লেখ্য, দেশে নতুন সরকার গঠনের পর গত মঙ্গলবার তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এর ফলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন শফিকুল আলম। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে তিনি পুনরায় সরাসরি সাংবাদিকতায় ফেরার ঘোষণা দিলেন।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে নতুন সময়সূচি ও বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড। পবিত্র রমজানের প্রথম দিন থেকে শুরু করে ঈদুল ফিতরের আগের দিন পর্যন্ত সাপ্তাহিক কর্মদিবসগুলোতে এই নতুন নিয়ম কার্যকর থাকবে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিএমটিসিএল-এর পরিচালক এ কে এম খায়রুল আলম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ট্রেন চলাচলের নতুন সময়সূচি: নতুন সূচি অনুযায়ী, উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিলের উদ্দেশ্যে প্রথম ট্রেনটি ছাড়বে সকাল সাড়ে ৬টায় এবং সর্বশেষ ট্রেনটি ছাড়বে রাত সাড়ে ৯টায়। অন্যদিকে, মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তরের উদ্দেশ্যে প্রথম ট্রেনটি যাত্রা শুরু করবে সকাল সোয়া ৭টায় এবং দিনের শেষ ট্রেনটি ছাড়বে রাত ১০টা ১০ মিনিটে। কখন কতক্ষণ পর পর ট্রেন মিলবে (হেডওয়ে): যাত্রীদের ভিড় সামলাতে দিনের বিভিন্ন সময়ে ট্রেনের বিরতি বা হেডওয়েতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিলগামী ট্রেনগুলো সকাল ৮টা ১১ মিনিট থেকে ৯টা ৫৩ মিনিট এবং দুপুর ২টা ৫৭ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত প্রতি সাড়ে ৫ থেকে ৬ মিনিট অন্তর স্টেশনে থামবে। বাকি সময়ে ট্রেনের জন্য ৮ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। একইভাবে মতিঝিল থেকে উত্তরা অভিমুখী ট্রেনের ক্ষেত্রেও অফিস ও ইফতারের সময়ের কথা মাথায় রেখে হেডওয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইফতার নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা: রমজানে যাত্রীদের ইফতারের সুবিধার্থে এক অনন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আদেশে বলা হয়েছে, ইফতারের সময় পানি পান করার জন্য প্রত্যেক যাত্রী মেট্রো ট্রেন ও স্টেশন এলাকায় সর্বোচ্চ ২৫০ মিলিলিটার পানির বোতল বহন করতে পারবেন। তবে মেট্রোর পরিবেশ রক্ষায় স্টেশনের প্রবেশ ও বাহির গেট, প্ল্যাটফর্ম বা কনকোর্সে রাখা নির্ধারিত ডাস্টবিনে খালি বোতল ফেলতে হবে। পানি যেন ট্রেনের ভেতরে না পড়ে সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পানি ছাড়া অন্য কোনো খাবার মেট্রোরেলের ভেতরে বা স্টেশন এলাকায় গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, শুক্রবার, শনিবার এবং অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে মেট্রোরেল চলাচলের সময়সূচি আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে। রমজানে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে যাত্রীদের এই নতুন নিয়মগুলো মেনে চলার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অনাচার-অনিয়মের সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। রমজান উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। এই মাসে মানুষের ভোগান্তি বাড়ানো উচিত নয়। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় এই মাসকে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের সময় হিসেবে বিবেচনা না করতে। দ্রব্যমূল্য যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারণ উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চায়। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বা ক্রেতা-বিক্রেতার স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো ধরনের পরামর্শ ও অভিযোগ গ্রহণে সরকার প্রস্তুত। তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার, ভোটের মাধ্যমেই জনগণ সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। রমজানে ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি অপচয় রোধে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনা প্রয়োজনে কিংবা অতিরিক্ত গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহার পরিহার করাও ইবাদতের অংশ। তিনি আরও বলেন, সরকারের মন্ত্রী ও বিএনপির এমপিদের দিয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিএনপি থেকে নির্বাচিত কোনো এমপি সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধাও নেবেন না। এসব সিদ্ধান্ত মহানবীর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ অনুসরণের প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দেবেন। বিএনপি দলীয় সূত্র ও নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভাষণটি রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে সম্প্রচারিত হবে। এর আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ভাষণ দেবেন। অনিবার্য কারণে তা পিছিয়ে রাত পৌনে ১০টায় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর এটি তার প্রথম আনুষ্ঠানিক দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য। প্রথম কর্মদিবসে সকালেই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কর্মদিবস শুরু করেন। এরপর তিনি জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিকেলে সচিবালয়ে নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আজকের ভাষণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।