যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় এসাইলাম আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর দেশটি আবার সীমিত পরিসরে কিছু আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। নিউজ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত নভেম্বরে এক আফগান অভিবাসীর গুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য গুলিবিদ্ধ হন এবং তাঁদের মধ্যে একজন পরে মারা যান। এই ঘটনার পরই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে প্রায় সব অ্যাসাইলাম আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেয়।
ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জানিয়েছে, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন শুধুমাত্র যেসব দেশকে “কম ঝুঁকিপূর্ণ” হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, সেসব দেশের আবেদনকারীদের মধ্য থেকে সীমিত আকারে আবেদন গ্রহণ করা হবে। তবে প্রতিটি আবেদনকারীকেই কঠোর নিরাপত্তা যাচাই এবং অতীত ইতিহাস (ব্যাকগ্রাউন্ড চেক) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
যদিও কোন কোন দেশ এই “কম ঝুঁকিপূর্ণ” তালিকায় রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। তবে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা অন্যান্য বিধিনিষেধের আওতায় আছে, সেসব দেশের নাগরিকদের আবেদন আপাতত গ্রহণ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসী ভিসা (ইমিগ্র্যান্ট ভিসা) প্রক্রিয়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে স্থগিত রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত মূলত স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের উদ্দেশ্যে যাওয়া আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য—যেমন পারিবারিক বা চাকরিভিত্তিক ভিসা। তবে এটি অ্যাসাইলাম প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, কারণ আশ্রয় একটি আলাদা আইনি ব্যবস্থা।
বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে অ্যাসাইলাম আবেদন বর্তমানে গ্রহণ করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো দেশ যদি নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে, তাহলে সেই দেশের আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তবে বাংলাদেশ এই তালিকায় পড়বে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ওই হামলার ঘটনার পর প্রশাসন আগের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে এবং আরও কঠোর অভিবাসন নীতি চালু করে। এর ফলে অ্যাসাইলাম আবেদন প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে আরও কিছু দেশকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকা দেশগুলোর আবেদনকারীরা আবার আবেদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর থাকবে এবং অনুমোদন পাওয়া এখনও কঠিন হতে পারে।
এছাড়া, নতুন নিয়ম অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থীদের আরও বেশি যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকাকালে তাঁদের কাজের সুযোগেও কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি শহরে অভিবাসন আইন প্রয়োগও জোরদার করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস (৪ জুলাই) উপলক্ষে এবার রেকর্ডসংখ্যক মানুষ ভ্রমণে বের হচ্ছেন। দেশটির বৃহত্তম মোটরগাড়ি ও ভ্রমণ সংস্থা AAA–এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৭ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত অন্তত ৫০ মাইল বা তার বেশি দূরত্বে ভ্রমণ করবেন প্রায় ৭ কোটি ২২ লাখ (৭২.২ মিলিয়ন) মানুষ। এটি গত বছরের তুলনায় সামান্য বেশি এবং স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ভ্রমণসংখ্যার অন্যতম। পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রায় ৬ কোটি ১৪ লাখ মানুষ ব্যক্তিগত গাড়িতে যাত্রা করবেন। এছাড়া ৫৮ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী অভ্যন্তরীণ বিমান ব্যবহার করবেন এবং আরও প্রায় ৪৯ লাখ মানুষ ট্রেন, বাস ও ক্রুজে ভ্রমণ করবেন। পরিবহন বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান INRIX সতর্ক করেছে, ছুটির সময় আন্তঃরাজ্য মহাসড়ক এবং বড় শহরগুলোর প্রবেশপথে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতেও যাত্রীচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভ্রমণকারীদের উদ্দেশে AAA পরামর্শ দিয়েছে, সম্ভব হলে সকালেই যাত্রা শুরু করতে এবং ব্যস্ত সময় এড়িয়ে চলতে। যাঁরা সড়কপথে ভ্রমণ করবেন, তাঁদের গাড়ির টায়ার, ব্যাটারি ও অন্যান্য যান্ত্রিক অবস্থা আগেই পরীক্ষা করে নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি সেন্টার ফর ইনোভেশন থ্রু ডাটা ইন্টেলিজেন্স (সিআইডিআই)-এর নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে ভারতী শর্মার নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। ৩০ জুন দেওয়া এক ঘোষণায় মেয়র জানান, তথ্যনির্ভর জনসেবা ও উদ্ভাবনী ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে শর্মাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মেয়র মামদানি বলেন, ভারতী শর্মা তার পুরো কর্মজীবনে তথ্য-উপাত্তকে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বৈশ্বিক কোভিড-১৯ মহামারির সময় নিউইয়র্ক সিটির জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় তার নেতৃত্ব এবং সরকারি সেবাকে আরও কার্যকর করতে আধুনিক ডাটাভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা সিটি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ভারতী শর্মার নেতৃত্বে নিউইয়র্ক সিটি আরও উন্নত ও ফলপ্রসূ সেবা দিতে সক্ষম হবে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক ডেপুটি মেয়র ড. হেলেন আর্টিয়াগা বলেন, ভারতী শর্মার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা শহরজুড়ে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার সমন্বিত সমাধান বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বিশ্বাস করেন, শর্মা নিউইয়র্কবাসীর জন্য কার্যকর সমাধান তৈরিতে অসাধারণ নেতৃত্ব দেবেন। নবনিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক ভারতী শর্মা বলেন, এই দায়িত্বে নিউইয়র্ক সিটির মানুষের সেবা করার সুযোগ পাওয়া তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। তিনি বলেন, সিআইডিআই এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে সরকার, তথ্য এবং মানুষের জীবনের বাস্তব প্রভাব একসঙ্গে কাজ করে। শর্মা বলেন, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কাজ করার অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন, সঠিক তথ্য কিংবা তথ্যের অভাব মানুষের জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। তিনি শুনতে, নতুন উদ্যোগ গড়ে তুলতে এবং তথ্যনির্ভর জনসেবা আরও কার্যকর করতে কাজ করবেন বলে জানান। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত সেন্টার ফর ইনোভেশন থ্রু ডাটা ইন্টেলিজেন্স বিভিন্ন সিটি সংস্থার মধ্যে যৌথ গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে জনসেবার ঘাটতি চিহ্নিত করে এবং সেবার মান উন্নয়নে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সংস্থাসহ বিভিন্ন সরকারি অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য, গবেষণা ও সহযোগিতার মাধ্যমে নীতিনির্ধারণ এবং সেবা প্রদানের কার্যকারিতা বাড়িয়ে থাকে। ভারতী শর্মা সর্বশেষ এনওয়াইসি হেলথ প্লাস হসপিটালসে সিনিয়র ডিরেক্টর অব ডাটা অ্যান্ড এআই স্ট্র্যাটেজিক এনাবলমেন্ট অ্যান্ড অপারেশনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম পৌর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার এ প্রতিষ্ঠানের অধীনে ৭০টিরও বেশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং ১১টি তীব্র চিকিৎসাসেবা হাসপাতাল রয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় তিনি পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য কোভিড-১৯ ইন্টেলিজেন্স হাব প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন। এর মাধ্যমে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের সক্ষমতা, জরুরি বিভাগের সেবা, হাসপাতালের শয্যা প্রাপ্যতা, রোগীর চাপ মোকাবিলার পরিকল্পনা, ভেন্টিলেটর সরবরাহসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। এছাড়া নিউইয়র্ক সিটির কোভিড পরীক্ষা ও টিকাদান কেন্দ্রগুলোর অপেক্ষার সময়-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড তৈরিতেও তিনি নেতৃত্ব দেন। মহামারির পর তিনি ডাটা চ্যাম্পিয়ন প্রোগ্রাম চালু করেন, যা পরে পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ৩০০-এর বেশি প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করে। পাশাপাশি তিনি ডাটা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ৫০০-এর বেশি কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে বছরে আনুমানিক ৪ দশমিক ৭৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল তথ্য ব্যবহারে এনওয়াইসি হেলথ প্লাস হসপিটালসের ডাটা গভর্ন্যান্স কাঠামো জাতীয় পর্যায়ে প্রশংসা পেয়েছে। ভারতী শর্মা ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি ডিগ্রির পাশাপাশি হফস্ট্রা ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার অব হেলথ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং হ্যারিসবার্গ ইউনিভার্সিটি থেকে ইনফরমেশন সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে মাস্টার অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এনওয়াইসি হেলথ প্লাস হসপিটালস/এলমহার্স্টের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ড. লরা ইয়াভিকোলি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির কঠিন সময়ে ভারতী শর্মার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল তার। তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে শর্মা স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেছেন। রিজেনেরনের প্রধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মকর্তা দিব্যা পাঠক বলেন, ভারতী শর্মা নতুন প্রজন্মের ডাটা ও এআই নেতৃত্বের অন্যতম উদাহরণ। বৃহৎ স্বাস্থ্যব্যবস্থায় দায়িত্বশীল ও কার্যকরভাবে তথ্য ব্যবহারের যে মডেল তিনি তৈরি করেছেন, তা সরকারি খাতের ভবিষ্যতের জন্য একটি মানদণ্ড হয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও স্টেট আইডি কার্ড পাওয়ার নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কর্মরত অনেক অস্থায়ী ভিসাধারীর জন্য টেক্সাসে প্রথমবার ড্রাইভিং লাইসেন্স বা স্টেট আইডি সংগ্রহ করা আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিবাসন আইনজীবীরা। প্রস্তাবটি দিয়েছে টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি (DPS)। সংস্থাটি রিয়েল আইডি (REAL ID)-সংক্রান্ত নিয়ম সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে পরিচয় প্রমাণের জন্য বিদেশি পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মেয়াদোত্তীর্ণ বা কার্যকর—যেকোনো ভিসা গ্রহণ করা হয়, যদি আবেদনকারীর কাছে বৈধ ফর্ম আই-৯৪ (Form I-94) থাকে। এই নথির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার অনুমতির তথ্য যাচাই করা হয়। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নিয়ম থেকে "মেয়াদোত্তীর্ণ" শব্দটি বাদ দেওয়া হবে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে পরিচয়পত্র হিসেবে বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হলে তাতে কার্যকর (Valid) মার্কিন ভিসা থাকতে হবে। টেক্সাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো অঙ্গরাজ্যের নিয়মকে ফেডারেল রিয়েল আইডি বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। এ বিষয়ে জনমত গ্রহণ করা হচ্ছে এবং আগামী ২৬ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ মতামত দিতে পারবেন। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউস্টনভিত্তিক অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান রেড্ডি নিউম্যান ব্রাউন পিসি (Reddy Neumann Brown PC)। প্রতিষ্ঠানটির মতে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে অনেক বৈধ অভিবাসী অপ্রয়োজনীয় জটিলতার মুখে পড়বেন। আইনজীবীরা বলছেন, ভিসা এবং বৈধ অভিবাসন মর্যাদা এক বিষয় নয়। পাসপোর্টে থাকা ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেয়। কিন্তু দেশে প্রবেশের পর একজন ব্যক্তি কতদিন বৈধভাবে থাকতে পারবেন, তা নির্ধারণ করে ফর্ম আই-৯৪ অথবা পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (USCIS)-এর অনুমোদন। উদাহরণ হিসেবে তারা বলেন, একজন এইচ-১বি (H-1B) কর্মীর পাসপোর্টে থাকা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু ইউএসসিআইএসের অনুমোদনের কারণে তিনি আরও কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার রাখতে পারেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এমন একজন ব্যক্তি মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাসহ বৈধ আই-৯৪ দেখিয়ে টেক্সাসের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই সুযোগ আর থাকবে না। রেড্ডি নিউম্যান ব্রাউন পিসি এক বিশ্লেষণে বলেছে, এই পরিবর্তনের ফলে অনেক বৈধ অভিবাসী পরিচয় প্রমাণে সমস্যায় পড়তে পারেন, যদিও ফেডারেল সরকারের সেভ (SAVE) তথ্যভান্ডারের মাধ্যমে তাদের পরিচয় ও অভিবাসন মর্যাদা সহজেই যাচাই করা সম্ভব। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এই সংশোধনী কার্যকর হলে বৈধভাবে অস্থায়ী অভিবাসন মর্যাদা ধরে রাখা অনেক মানুষের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে, শুধুমাত্র তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নিয়ম সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে টেক্সাসে নতুন আসা এবং প্রথমবার ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনকারীদের ওপর। তবে যাদের ইতোমধ্যে টেক্সাসের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে এবং সময়মতো সেটি নবায়ন করবেন, তারা সাধারণত আগের লাইসেন্স ব্যবহার করেই পরিচয় প্রমাণ করতে পারবেন। এদিকে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট ডালাস আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়েছে, সম্ভব হলে পাসপোর্টে থাকা মার্কিন ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই টেক্সাসের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে। বিশ্ববিদ্যালয়টি আরও জানিয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে অভিবাসন মর্যাদা পরিবর্তন বা মেয়াদ বৃদ্ধি করেছেন, তারা কিছু ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএসের অনুমোদনপত্র ব্যবহার করতে পারবেন বলে ডিপিএস থেকে নির্দেশনা পাওয়া গেছে। রেড্ডি নিউম্যান ব্রাউন পিসি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এমন বাসিন্দাদের আগামী ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে প্রস্তাবিত নিয়মের ওপর মতামত জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, একটি বৈধ পাসপোর্ট এবং বর্তমান ফেডারেল অভিবাসন নথি, যেমন কার্যকর ফর্ম আই-৯৪, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীর পরিচয় প্রমাণে যথেষ্ট হওয়া উচিত, পাসপোর্টে থাকা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও।