জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় করা মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার সকালে প্রসিকিউশনের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে এই আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
শরীফ ওসমান হাদি এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ওই জবানবন্দি দিয়েছিলেন।
এরইমধ্যে মঙ্গলবার এই মামলায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজন আসামির বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী এম এ রাজ্জাক সাক্ষ্য দেন, এর মধ্য দিয়েই মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
মঙ্গলবার এই মামলায় প্রসিকিউশন লিখিতভাবে সূচনা বক্তব্য দেয়। তারা সেটি পাঠ করে শোনায়নি। সাধারণত সূচনা বক্তব্য চিফ প্রসিকিউটর বা তার পক্ষে পাঠ করে শোনানো হয়।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
তবে এই মামলার সব আসামিই পলাতক রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে শরীফ ওসমান হাদি নির্বাচনী গণসংযোগ চালানোর সময় গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
ঢাকার একটি আদালত টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। আদালতের আদেশ প্রদান করেন মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ। দুদকের দাখিলকৃত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আদালত এই সিদ্ধান্ত নেন। টিউলিপ সিদ্দিক ছাড়াও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালত আগামী ৮ মার্চ আসামিদের গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। মামলাটি গুলশান এলাকার একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ ও লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেট। তবে এবার তারা সড়কপথ নয়, বরং পাহাড়ি ঝিরির প্রবল স্রোতকে ব্যবহার করেছে গাছ পাচারের মাধ্যম হিসেবে। গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছন দিয়ে প্রবাহিত ঝিরিতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২২-২৩ সেশনের একদল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ভ্রমণে বের হন। বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন ঝিরির কাছে পৌঁছালে তারা পানির তীব্র গর্জনের সাথে বিপুল পরিমাণ গাছের গুঁড়ি ভেসে যেতে দেখেন। মুহূর্তেই শিক্ষার্থীরা সেই দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নজরে আসার পরপরই সক্রিয় হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দফতরের সুপারভাইজার শাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টহল টিম এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ঝিরি ধরে বেশ কিছুদূর অনুসন্ধানের পর একের পর এক গাছের গুঁড়ি খুঁজে পাওয়া যায়। অভিযানে মোট ৭৪টি মূল্যবান গাছের গুঁড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা সুপারভাইজার শাহেদুল ইসলাম জানান, প্রশাসক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমান উল্লাহর নির্দেশনায় দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়। উদ্ধারকৃত গাছগুলো যেন পুনরায় কেউ সরিয়ে নিতে না পারে, সেজন্য রাতেই ঘটনাস্থলে ৮ সদস্যের একটি বিশেষ নিরাপত্তা টিম মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী সংবাদমাধ্যমকে জানান, জব্দকৃত গাছগুলো মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে থেকে পাচার হয়ে আসছিল। বনবিভাগের যথাযথ অনুমতি ও মালিকানার প্রমাণ ছাড়া এই কাঠগুলো স্থানান্তর করা আইনত দণ্ডনীয়। তিনি আরও বলেন, যদি কেউ সুনির্দিষ্ট ক্লিয়ারেন্স বা বৈধ মালিকানা দাবি না করে, তবে নিলাম কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে এই ৭৪টি গুঁড়ি দ্রুত নিলামে তোলা হবে। উল্লেখ্য, গত বছরও প্রায় একই কায়দায় ঝিরি ব্যবহার করে গাছ পাচারের ঘটনা ঘটেছিল। বারবার এই ধরনের পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বনজ সম্পদ রক্ষায় ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর ও নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আট বছরেরও বেশি সময় গুম থাকার পর মুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ হাজির হয়ে নিজের ওপর চলা অমানুষিক নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী। শেখ হাসিনা ও সাবেক-বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিতে গিয়ে তিনি তুলে ধরেন ‘আয়নাঘর’ বা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলের (জেআইসি) অন্তরালের বীভৎস কাহিনী। জবানবন্দিতে আমান আযমী জানান, ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট মগবাজারের বাসা থেকে তাকে তুলে নেওয়ার সময় তিনি অপহরণকারীদের মধ্যে ডিজিএফআই কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মকছুরুলকে চিনতে পেরেছিলেন। অপহরণের পর তাকে হাতকড়া পরিয়ে, চোখ বেঁধে এবং মুখে যমটুপি পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় কচুক্ষেতে অবস্থিত ডিজিএফআই কমপ্লেক্সের ১১ নম্বর সেলে। আযমী বলেন, "২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা ২৯০৮ দিন আমি আকাশ দেখিনি, চাঁদ-সূর্য দেখিনি, মেঘ-বৃষ্টির ছোঁয়া পাইনি। দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে আমাকে একটি অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আটকে রাখা হয়েছিল।" তিনি আরও জানান, সেলের ভেতর সার্বক্ষণিক কৃত্রিম শব্দ বা যান্ত্রিক আওয়াজ তৈরি করা হতো যাতে বন্দিদের আর্তনাদ বাইরে না যায় এবং ভেতর থেকে বাইরের কোনো শব্দ না শোনা যায়। নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সেখানের খাবার ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। আট বছরে একদিনও তিনি তৃপ্তি করে খেতে পারেননি। দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টি ও চিকিৎসার অভাবে তিনি চারবার অজ্ঞান হয়ে যান এবং একিউট কিডনি ইনফেকশনসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হন। এমনকি টয়লেটে যাওয়ার সময়ও তাকে যমটুপি পরিয়ে হাতকড়া লাগিয়ে নেওয়া হতো। জবানবন্দিতে তিনি স্পষ্ট করেন, ডিজিএফআই কমপ্লেক্সের দক্ষিণে অবস্থিত অফিসার্স মেস-বি এবং আশেপাশের আজানের শব্দ শুনে তিনি নিশ্চিত হয়েছিলেন যে তাকে কচুক্ষেতেই রাখা হয়েছে। জবানবন্দি অপূর্ণ থাকায় আজ পুনরায় ট্রাইব্যুনালে তার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। এর আগে, ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার তার অবৈধ বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে তাকে সসম্মানে অবসরে পাঠায়।