দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এক ব্যতিক্রমী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এখন থেকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারও নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করবেন তিনি।
মূলত জনস্বার্থে প্রশাসনের কাজে স্থবিরতা কাটাতে এবং সরকারি সেবা আরও ত্বরান্বিত করতেই তার এই বিশেষ উদ্যোগ।
ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই প্রধানমন্ত্রী জনবান্ধব ও মিতব্যয়ী সরকার গঠনের লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সংসদ সদস্যরা আগের মতো শুল্কমুক্ত গাড়ি এবং প্লট ব্যবহারের সুবিধা পাবেন না।
একইসাথে মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিলাসিতা বর্জন করে রাষ্ট্রীয় খরচ কমিয়ে আনার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এমন জনকল্যাণমুখী ও সাহসী সিদ্ধান্ত সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে যেকোনো প্রার্থী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনিয়মের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে আবেদন করতে পারেন। সেই আইনি প্রক্রিয়া সুগম করতেই এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা ও বিচারিক এখতিয়ার হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চে এই আবেদনগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের কার্যতালিকায় (কজ লিস্ট) এই বেঞ্চের বিচারিক এখতিয়ার সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে: ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (২০০১ সালের সংশোধনসহ) অনুযায়ী নির্বাচনী আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে। এই বেঞ্চে স্থানান্তরিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল ও আবেদনপত্রের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গেজেট প্রকাশ ও বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই বিজয়ী সংসদ সদস্যদের নাম ও পরিচয়সহ গেজেট প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার রাতে এই গেজেট জারি করেন। আইন অনুযায়ী, এই গেজেট প্রকাশের দিন থেকেই ট্রাইব্যুনালে আবেদনের সময়সীমা গণনা শুরু হবে। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় আপাতত দুটি আসনের গেজেট স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। তবে সমান্তরালভাবে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে অনেককেই।
দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এক ব্যতিক্রমী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এখন থেকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারও নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করবেন তিনি। মূলত জনস্বার্থে প্রশাসনের কাজে স্থবিরতা কাটাতে এবং সরকারি সেবা আরও ত্বরান্বিত করতেই তার এই বিশেষ উদ্যোগ। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই প্রধানমন্ত্রী জনবান্ধব ও মিতব্যয়ী সরকার গঠনের লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সংসদ সদস্যরা আগের মতো শুল্কমুক্ত গাড়ি এবং প্লট ব্যবহারের সুবিধা পাবেন না। একইসাথে মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিলাসিতা বর্জন করে রাষ্ট্রীয় খরচ কমিয়ে আনার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এমন জনকল্যাণমুখী ও সাহসী সিদ্ধান্ত সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
সুন্দরবন ও উপকূলীয় সাগর এলাকায় বনদস্যুদের একের পর এক অপহরণের ঘটনায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে দুবলার চরের হাজারো জেলে সাগর ও বনাঞ্চলের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। দ্রুত দস্যু দমন না হলে বন বিভাগের রাজস্ব আদায় ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলীয় জেলে ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সম্প্রদায় চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত না থাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে জেলেরা মাছ ধরা স্থগিত করেছেন। মৌসুমের শেষ সময়ে এসে আয় না থাকায় তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন—খালি হাতে বাড়ি ফেরার আশঙ্কা করছেন অনেকে। বর্তমানে অধিকাংশ জেলে চরে অলস সময় কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। তার অভিযোগ, সুন্দরবন ও সাগর এলাকায় জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে চারটি বনদস্যু চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্র জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে। অর্থ দিতে না পারলে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে অনেককে। আলোরকোলে অবস্থানরত রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, আগে বলা হতো ‘জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ’, এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘সাগরে ডাকাত’। গত দুই সপ্তাহে বহু জেলে অপহৃত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমানে শতাধিক জেলে দস্যুদের কব্জায় থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সর্বশেষ সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান জানান, দস্যু আতঙ্কে অনেক জেলে মাছ ধরার অনুমতিপত্র (পাস) নিতে আসছেন না। এতে মাসিক রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। জেলেদের নিরাপত্তা জোরদারে বনরক্ষীরা কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।