ইরানের ড্রোন হামলায় নিহত ৬ সেনা, নিরাপত্তা দাবিতে পেন্টাগনকে চ্যালেঞ্জ মার্কিন সেনাদের
গত ১ মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে ইরানের একটি ড্রোন হামলায় মার্কিন রিজার্ভ বাহিনীর ৬ সদস্য নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটিকে প্রথম বড় ধরনের মার্কিন সামরিক প্রাণহানি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই হামলাকে ঘিরে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ও ঘটনাস্থলে থাকা সেনাদের বক্তব্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি স্থাপনায় ইরানি ড্রোন আঘাত হেনেছে, যা উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে প্রবেশ করেছিল।
কিন্তু আহত সেনাদের ভাষ্য ভিন্ন। তারা জানিয়েছেন, হামলার আগে সতর্ক সংকেত দেওয়া হলেও পরে ‘অল ক্লিয়ার’ ঘোষণা করা হয়। সেই ঘোষণার কিছু সময় পরই ড্রোনটি সরাসরি আঘাত হানে। তাদের দাবি, যে স্থাপনাটিকে সুরক্ষিত বলা হচ্ছে, বাস্তবে সেটি ছিল তুলনামূলকভাবে দুর্বল এবং তারা যথেষ্ট প্রস্তুত ছিলেন না।
একজন সেনা সদস্যের বর্ণনায়, বিস্ফোরণের মুহূর্তটি ছিল ভয়াবহ—চারপাশ কেঁপে ওঠে, ধোঁয়া ও ধুলায় ঢেকে যায় পুরো এলাকা।
হামলার পর উদ্ধার তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আহত সেনাদের অভিযোগ, দ্রুত সহায়তা না পেয়ে তারা নিজেরাই প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে বাধ্য হন এবং পরে বেসামরিক যানবাহনে করে হাসপাতালে যেতে হয়।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সেনাদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলার সময় কার্যকর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল কিনা, তা স্পষ্ট নয়—কারণ কোনো সতর্ক সংকেত শোনা যায়নি।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনার পর মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কেন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সেনাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়া রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।
সূত্র: এনডিটিভি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreদক্ষিণ লেবাননের বিনত জবাইল জেলায় অবস্থিত তিনটি খ্রিষ্টান শহর রমেইশ, দেবেল ও আইন এবেলে চলাচলে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এসব শহরের বাসিন্দাদের নির্ধারিত কনভয় ছাড়া একা যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ফলে কয়েক হাজার মানুষ কার্যত সীমিত চলাচলের মধ্যে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে আশরাক আল আওসাত জানিয়েছে, তিন শহরে প্রবেশ বা বের হওয়ার আগে বাসিন্দাদের গাড়ির তথ্য ও যাত্রীদের পরিচয় নিবন্ধন করতে হচ্ছে। এরপর লেবাননের সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী ইউনিফিলের সমন্বয়ে নির্ধারিত কনভয়ের মাধ্যমে তাদের চলাচল করতে হচ্ছে। প্রতিদিন অন্তত একটি কনভয়ে কয়েকটি গাড়ি বা বাস শহরগুলোর একটি থেকে বের হয়। কনভয়গুলো দক্ষিণ তীর এলাকার উপকূলীয় সড়ক দিয়ে নাকুরা হয়ে বিনত জবাইলের শহরগুলোতে যায়। লেবাননের সেনাবাহিনী প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ইসরায়েলি সীমান্তের কাছাকাছি কুলাইলে পর্যন্ত কনভয়কে নিরাপত্তা দেয়। এরপর ইউনিফিলের গাড়ি তাদের সঙ্গে থাকে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, যাত্রীদের পরিচয় যাচাই এবং গাড়িতে তল্লাশির পর ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। কোনো গাড়িকে একা চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ভ্যাটিকানও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। লেবাননে নিযুক্ত ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপ করে খ্রিষ্টান শহরগুলোর বাসিন্দাদের চলাচলে ইসরায়েলের বিধিনিষেধ বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে দক্ষিণ লেবাননের মারজায়ুন জেলার খ্রিষ্টান শহরগুলোতে একই ধরনের বিধিনিষেধ নেই। কুলাইয়া, জেদিদেত মারজায়ুন, বুর্জ আল-মুলুক ও দেইর মিমাসের বাসিন্দারা তুলনামূলকভাবে স্বাধীনভাবে যাতায়াত করতে পারছেন। তারা পূর্ব লেবাননের পশ্চিম বেকা হয়ে হাসবায়া এবং সেখান থেকে মারজায়ুনের দিকে যাতায়াত করছেন। এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর স্থাপনা ও বাড়িঘর ধ্বংসের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে আশরাক আল আওসাত জানিয়েছে, ইসরায়েলি টহল দলের সঙ্গে বিস্ফোরক বহনকারী ট্রাকও দেখা যাচ্ছে। এসব বিস্ফোরক ব্যবহার করে দখল করা এলাকাগুলোর পরিত্যক্ত বা লুট করা বাড়িঘর ধ্বংস করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। মারজায়ুন জেলার মাইস আল-জাবাল শহরে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা সবচেয়ে বেশি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তাদের দাবি, শহরটিতে ৫ হাজারের বেশি বাড়িঘর ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে এবং এখন মাত্র কয়েক ডজন আবাসিক ইউনিট অবশিষ্ট রয়েছে। সাম্প্রতিক ধ্বংসের মধ্যে একটি স্কুল কমপ্লেক্সও রয়েছে। ইরাক সরকারের সহায়তায় তৈরি ওই কমপ্লেক্সের পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি বাড়িও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ধ্বংস হওয়া ভবনগুলোর কংক্রিট গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং সেখান থেকে রডসহ ধাতব সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এদিকে লেবাননের সরকারি ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের পশ্চিমাঞ্চলেও ইসরায়েলি হামলা ও গোলাবর্ষণ বেড়েছে। মানসুরি ও তাইর হারফার ওয়াদি হাসান এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। মানসুরি ও মাজদাল জউনে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের খবরও পাওয়া গেছে। বিনত জবাইল জেলার আইনাতা ও বেইত লিফেও ইসরায়েলি বাহিনী গোলাবর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। যুদ্ধবিমান থেকে মানসুরি ও তাইর হারফার উপকণ্ঠে হামলার খবরও পাওয়া গেছে।
ইরান ও ওমানের হরমুজ প্রণালি খোলার আলোচনায় ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার কমল তেলের দাম
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের বিশাল গুদাম আগুনে পুড়ে ধ্বংস
‘ঈদ মোবারক’ লিখে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি
চাঁদে মানুষ পৌঁছানোর ঐতিহাসিক অভিযানের পেছনে যে জটিল গাণিতিক হিসাবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, সেই কাজের অন্যতম নেপথ্য কারিগর নাসার গণিতবিদ ক্যাথরিন জনসন ১০১ বছর বয়সে মারা গেছেন। ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। ক্যাথরিন জনসন নাসার শুরুর যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘হিউম্যান কম্পিউটার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তখন আধুনিক কম্পিউটার ব্যবহারের আগে জটিল মহাকাশযাত্রার হিসাব মানুষই হাতে করে বের করতেন। ১৯৫৩ সালে তিনি ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি ফর অ্যারোনটিকসের ল্যাংলি ল্যাবরটরিতে কাজ শুরু করেন। পরে প্রতিষ্ঠানটি নাসায় রূপান্তরিত হলে তিনি মহাকাশ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ গণিতবিদ হয়ে ওঠেন। ১৯৬১ সালে নভোচারী অ্যালান শেপার্ডের ঐতিহাসিক মহাকাশযাত্রার গতিপথ নির্ধারণে তাঁর হিসাব ব্যবহার করা হয়। পরের বছর জন গ্লেন পৃথিবীর কক্ষপথে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে নাসার ইলেকট্রনিক কম্পিউটারের হিসাবও তিনি হাতে পুনরায় যাচাই করেন। গ্লেনের অনুরোধ ছিল, জনসন হিসাব সঠিক বললেই তিনি মহাকাশযাত্রায় যাবেন। মিশনটি সফল হয়। চাঁদে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। নাসার তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপোলো কর্মসূচিতে চাঁদের কক্ষপথে থাকা কমান্ড ও সার্ভিস মডিউলের সঙ্গে লুনার মডিউলের অবস্থান সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজনীয় হিসাবেও তিনি কাজ করেন। নাসা বলেছে, তাঁর গাণিতিক অবদান মানুষকে চাঁদে পৌঁছানোর পথ তৈরি করতে সহায়তা করেছে। শুধু মহাকাশ গবেষণায় অবদান নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণ ও লিঙ্গ বৈষম্যের সময় একজন আফ্রিকান-আমেরিকান নারী হিসেবে জনসনের ক্যারিয়ারও ছিল ব্যতিক্রমী। ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম দেন। তাঁর জীবন ও কাজ নিয়ে পরে ‘হিডেন ফিগারস’ বই ও চলচ্চিত্রও তৈরি হয়। ১৯৮৬ সালে নাসা থেকে অবসর নেওয়ার আগে ল্যাংলি রিসার্চ সেন্টারে তিনি ৩৩ বছর কাজ করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণিত ও বিজ্ঞান নিয়ে তাঁর অবদান নাসার ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। নাসা তাঁর মৃত্যুর পর ক্যাথরিন জনসনকে এমন একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে স্মরণ করে, যাঁর দক্ষতা ও সাহস মহাকাশ অনুসন্ধানের পাশাপাশি নারী ও আফ্রিকান-আমেরিকানদের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন দরজা খুলে দিয়েছিল।
ইরানি গুপ্তহত্য'র শঙ্কায় ফ্লোরিডা থেকে দ্রুত ইসরাইলে ফেরেন নেতানিয়াহুর ছেলে
পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা এলাকায় আঘাত হেনেছিল ভারতের ড্রোন, লক্ষ্য ছিল রাডার
বিড়ালের ডাক ভেবে এগিয়ে যেতেই আবর্জনার স্তূপে মিলল নবজাতক
দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাং শহরে একটি সম্মেলনে যোগ দিতে চেয়েছিলেন কেনিয়ার ড্যানিয়েল ওলোমায়ে ওলে সাপিত। কিন্তু গন্তব্যের নামের সামান্য ভুলে তার যাত্রা শেষ হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দেশে। দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ের বদলে ভুল করে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের টিকিট কেটে ফেলেছিলেন তিনি। সেখানে পৌঁছানোর পর কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। ঘটনাটি ঘটে ২০১৪ সালে। কেনিয়ার মাসাই সম্প্রদায়ের সদস্য সাপিত তখন জীববৈচিত্র্যবিষয়ক একটি জাতিসংঘ সম্মেলনে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাং যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তার ভ্রমণ সংস্থা গন্তব্যের নাম গুলিয়ে পিয়ংচ্যাংয়ের পরিবর্তে পিয়ংইয়ংয়ের টিকিট করে দেয়। দুই শহরের নামের উচ্চারণ ও বানানে মিল থাকায় ভুলটি সময়মতো ধরা পড়েনি। সাপিতের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানে ওঠার পরও তিনি বুঝতে পারেননি যে গন্তব্য ভুল হয়েছে। বিমানটি যখন অবতরণের দিকে যাচ্ছিল, তখন জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে তার সন্দেহ হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার আধুনিক ও ঘনবসতিপূর্ণ নগরীর বদলে নিচে তার চোখে পড়ে তুলনামূলক ছোট একটি বিমানবন্দর ও ভিন্ন ধরনের পরিবেশ। পরে উত্তর কোরিয়ার সুনান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর ভুলটি তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। সেখানে বিপুলসংখ্যক সামরিক সদস্য ও উত্তর কোরিয়ার নেতাদের ছবি দেখতে পান তিনি। তখনই বুঝতে পারেন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ে নয়, উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে এসে পৌঁছেছেন। উত্তর কোরিয়ায় বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। সাপিতের কাছে বৈধ উত্তর কোরীয় ভিসা না থাকায় দেশটির কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকে কয়েক ঘণ্টা আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তিনি কীভাবে ভুল করে সেখানে পৌঁছেছেন, তা ব্যাখ্যা করার সুযোগ পান। সাপিতকে শেষ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে তার আগে তাকে একটি নথিতে স্বাক্ষর করতে হয় এবং প্রায় ৫০০ ডলার জরিমানা ও নতুন টিকিটের খরচ দিতে হয় বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এরপর তাকে সঠিক গন্তব্য দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সাপিত পরে ঘটনাটি বর্ণনা করে বলেন, পিয়ংইয়ং ও পিয়ংচ্যাংয়ের নামের মধ্যে বিভ্রান্তি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে বিদেশিদের জন্য দুই নামের মিল সহজেই ভুলের কারণ হতে পারে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দক্ষিণ কোরিয়াতেও বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়। কারণ পিয়ংচ্যাং ও পিয়ংইয়ংয়ের নামের মিল নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল। পিয়ংচ্যাং দক্ষিণ কোরিয়ার গ্যাংওন প্রদেশের একটি শহর, আর পিয়ংইয়ং উত্তর কোরিয়ার রাজধানী। দুই শহর একই দেশ বা একই ধরনের গন্তব্য নয়, বরং দুই ভিন্ন রাষ্ট্রে অবস্থিত। পিয়ংচ্যাংয়ের নাম নিয়ে বিভ্রান্তি কমাতে পরে দক্ষিণ কোরিয়া শহরটির ইংরেজি বানানকে বিশেষভাবে “PyeongChang” হিসেবে প্রচার শুরু করে। নামের মাঝখানে বড় হাতের ‘C’ ব্যবহারের উদ্দেশ্য ছিল পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে পার্থক্য আরও স্পষ্ট করা। ২০১৮ সালের শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজনের সময় এই বানানটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। ২০১৮ সালের শীতকালীন অলিম্পিকের আয়োজক শহর ছিল পিয়ংচ্যাং। অলিম্পিকের প্রচারণার সময় আয়োজকেরা বিদেশি দর্শকদেরও সতর্ক করেছিলেন, যেন নামের মিলের কারণে কেউ ভুল করে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের দিকে না চলে যান। পিয়ংচ্যাং ও পিয়ংইয়ংয়ের বিভ্রান্তির এই ঘটনা শুধু একটি ভ্রমণ ভুলের গল্প নয়, দুই কোরিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণেও এটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়া technically একই কোরীয় উপদ্বীপে অবস্থিত হলেও তাদের মধ্যে সীমান্ত বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত সীমান্ত। ফলে একটি দেশের নির্ধারিত গন্তব্যের বদলে অন্য দেশের রাজধানীতে ভুল করে পৌঁছে যাওয়া সাধারণ ভ্রমণভুলের মতো সহজ বিষয় নয়। ড্যানিয়েল ওলোমায়ে ওলে সাপিত পরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। জাতিসংঘের নথিতেও তাকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সাপিতের এই অভিজ্ঞতা পরে পিয়ংচ্যাংয়ের নামের বানান পরিবর্তনের আলোচনাতেও উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, পিয়ংচ্যাংকে আলাদা করে চেনাতে ইংরেজি বানানে বড় হাতের ‘C’ ব্যবহার করলে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে বিভ্রান্তি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। একটি ভুল টিকিট কীভাবে একজন যাত্রীর গন্তব্যই বদলে দিতে পারে, সাপিতের ঘটনা তারই বিরল উদাহরণ। দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সাধারণ ভ্রমণ পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে গিয়েছিল বিশ্বের অন্যতম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রের রাজধানীতে। কয়েক ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ, জরিমানা ও নতুন টিকিটের পর অবশেষে তিনি নিজের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ পান। এই ঘটনার পর পিয়ংচ্যাংয়ের নাম উচ্চারণ বা লেখার সময় সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে আলোচনায় আসে। কারণ পিয়ংচ্যাং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে পার্থক্য মাত্র কয়েকটি অক্ষরের হলেও, ভুল গন্তব্যে পৌঁছালে তার পরিণতি যে কতটা ভিন্ন হতে পারে, সাপিতের অভিজ্ঞতাই তার সবচেয়ে স্মরণীয় উদাহরণ। সংবাদসূত্র: ইউপিআই ও দ্য কোরিয়া টাইমস।
৩ হাজার ৪০০ চুমুর দিয়ে সাজানো গাড়ি, শেষ পর্যন্ত গুনতে হলো জরিমানা
সাত বছর পর ভারতে শি জিনপিং, ৪০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে সফরের সম্ভাবনা