আজকের পত্রিকার শিরোনামগুলোতে যুদ্ধের প্রভাব, বাণিজ্য, বিচারব্যবস্থা ও নিরাপত্তা ইস্যু
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব, ফ্লাইট বাতিল, আদালতে টাকা চাওয়ার অভিযোগ, কঙ্কাল চোরাচালান, পোশাক রফতানিতে চাপ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সে অনিয়ম এবং ভুয়া পাইলটের মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো-
নয়া দিগন্ত পত্রিকা: ‘জুলাই সনদ ও রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে উত্তপ্ত হতে পারে সংসদ’
জুলাই–আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। তবে শুরু থেকেই অধিবেশন উত্তপ্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গণভোটে পাস হওয়া জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সংসদে ওয়াকআউটও করতে পারেন জামায়াত–এনসিপি জোটের সংসদ সদস্যরা।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, স্পিকার প্যানেল গঠন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।
ডেপুটি স্পিকার পদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর একজনকে মনোনয়নের প্রস্তাব দিয়েছে সরকারদলীয় বিএনপি। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অবস্থান দেখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে দলটি।
এবারের অধিবেশনকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্ন। গণভোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন সংসদকে প্রথম ছয় মাস সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবেও কাজ করার কথা রয়েছে।
এ নিয়ে শপথ গ্রহণকে ঘিরে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, কারণ বিএনপি জোটের সংসদ সদস্যরা এখনো সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি, যদিও জামায়াত জোটের সদস্যরা দুই ধরনের শপথই গ্রহণ করেছেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনের পর সাপ্তাহিক ছুটির কারণে কার্যক্রম ১৫ ও ১৬ মার্চ চলবে। এরপর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অধিবেশন প্রায় ১৩ দিনের জন্য মুলতবি থাকতে পারে এবং ২৯ মার্চ আবার অধিবেশন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুগান্তর পত্রিকা: ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি- বছরে ১৩২৭ কোটি টাকা হারানোর শঙ্কা: সিপিডি’
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে বছরে প্রায় ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার আমদানি শুল্ক রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
ব্রিফিংয়ে সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বক্তব্য দেন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় সাড়ে চার হাজার পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে হবে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে আরও ২ হাজার ২১০টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সিপিডির মতে, এসব পণ্য থেকে বর্তমানে সরকারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আসে। ফলে চুক্তি কার্যকর হলে এই আয় কমে যেতে পারে। এছাড়া একতরফাভাবে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এবং এতে অন্য দেশগুলোকেও একই সুবিধা দেওয়ার চাপ তৈরি হতে পারে।
মানবজমিন পত্রিকা: ‘যুদ্ধের জেরে ৩৬৭ ফ্লাইট বাতিল’
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক আকাশপথে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ৩৬৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ১০ মার্চ একদিনেই অন্তত ৩২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে কুয়েত এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া, গালফ এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, জাজিরা, ফ্লাই দুবাই, বিমান বাংলাদেশ ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট। তবে একই সময়ে মোট ৩২৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি ভিসা জটিলতা ও যাতায়াত অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অনেকেই।
প্রথম আলো পত্রিকা: ‘টাকা চাওয়ার অভিযোগে তদন্ত শুরু’
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলার আসামিকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার জন্য এক কোটি টাকা দাবি করার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দল। এ ঘটনায় চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রথম আলো ও নেত্র নিউজের এক যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মামলার এক আসামিকে জামিন পাইয়ে দিতে একজন প্রসিকিউটর এক কোটি টাকা দাবি করেছেন। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, জামিনের জন্য টাকা চাওয়ার মতো অভিযোগ বিচারব্যবস্থার ওপর জনসাধারণের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
নিউ এইজ পত্রিকা: ‘কবরস্থান থেকে কঙ্কাল বিক্রি—ডেন্টাল শিক্ষার্থীসহ ৪ জন গ্রেপ্তার’
ঢাকায় কবরস্থান থেকে মানুষের কঙ্কাল সংগ্রহ করে অনলাইনে বিক্রির অভিযোগে দুই ডেন্টাল শিক্ষার্থীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৪৭টি মানব খুলি ও বিপুল পরিমাণ মানব অস্থি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ ইবনে মিজান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মনিপুরি পাড়া ও উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, তারা দেশজুড়ে সক্রিয় একটি সংগঠিত কঙ্কাল পাচার চক্রের সদস্য।
বণিক বার্তা পত্রিকা: ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ইউরোপে পোশাক রফতানিতে চাপ’
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালসহ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের রফতানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে পোশাক খাতের ওপর চাপ বাড়ছে। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে জরুরি সরবরাহের জন্য পোশাক আকাশপথে ইউরোপে পাঠানো হয়। কিন্তু সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ আকাশসীমা বন্ধ থাকায় সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।
আজকের পত্রিকা: ‘৮ হাজার আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্বরাষ্ট্রের সম্মতি ছাড়াই’
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র ছাড়াই অন্তত ৮ হাজার ১৭৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এসব লাইসেন্সের অধিকাংশই রাজনৈতিক নেতা–কর্মী ও তাদের স্বজনদের নামে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা: ‘জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার’
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা মাথায় রেখে বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, মার্চ মাসের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এপ্রিল–মে মাসের জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
কালের কণ্ঠ পত্রিকা: ‘বিমানে চার ‘ভুয়া’ পাইলটের অভিযোগ’
জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চারজন পাইলটের বিরুদ্ধে যোগ্যতা জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভ্যন্তরীণ তদন্তে দেখা গেছে, কেউ প্রয়োজনীয় উড়ানঘণ্টা পূরণ না করেই লাইসেন্স পেয়েছেন, আবার কেউ লগবুকে একই উড়ান সময় দুইবার দেখিয়ে ঘণ্টা বাড়িয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সংস্থাগুলোর নজরদারি বা নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি পদক্ষেপ। তিনি নিজেকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যদিও সংসদের স্পিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এখনো পাননি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়নের অনুরোধ জানান। চিঠিতে বলা হয়, এ ধরনের পদায়নের মাধ্যমে বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতি সরকারের কাছে উপস্থাপন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রচলিত কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। কারণ সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা আলাদা। বিরোধী দলের কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাকে সরাসরি সরকারি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব সেই বিভাজনকে অস্পষ্ট করে দিতে পারে। এই বিতর্ক অনেকের কাছে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর গঠিত দশম জাতীয় সংসদের পরিস্থিতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তখন জাতীয় পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দল হলেও দলের কয়েকজন সদস্য একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে একই দলের সদস্যরা সরকার ও বিরোধী উভয় ভূমিকায় ছিলেন যা রাজনৈতিক অস্বাভাবিকতা হিসেবে আলোচিত হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে প্রশ্ন তুলেছেন, বিরোধী দলের নেতা যদি তার উপদেষ্টাকে সরাসরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগের প্রস্তাব দেন, তবে তা বিরোধী রাজনীতির ভূমিকাকে দুর্বল করতে পারে। বর্তমান বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ডা. শফিকুর রহমান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, বিরোধী দলের নেতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষমতা কেবল সংসদের স্পিকারের হাতে। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে স্পিকার বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং পরে তা সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। যদিও জামায়াতের সংসদীয় দল তাকে তাদের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে বলে জানা গেছে, তবে সেই সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে কার্যকর হয়নি। এই বিলম্বের অন্যতম কারণ হলো সংসদের শীর্ষ পদে শূন্যতা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর থেকে স্পিকারের পদটি শূন্য রয়েছে। একই সময়ে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হওয়ায় তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। ফলে স্পিকার না থাকায় বিরোধী দলের নেতা স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও থেমে আছে। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ডা. শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর এটিই প্রথমবার কোনো জামায়াত প্রধানের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন বলে আলোচনা হয়। সেদিন তিনি নিজেকে “বিরোধী দলীয় নেতা” হিসেবে পরিচয় দেন এবং বলেন, এটি রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের অংশ হিসেবেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তবে স্পিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছাড়া এই দাবির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম জানিয়েছেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ইতোমধ্যে বৈঠকে নেতা, উপনেতা ও চিফ হুইপ নির্বাচন করেছেন। তবে স্পিকার না থাকায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ওই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর বিরোধী দলের নেতৃত্ব সম্পর্কিত বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হতে পারে। তাই রাজনৈতিকভাবে ডা. শফিকুর রহমান নিজেকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে উপস্থাপন করলেও আইনগত স্বীকৃতি পেতে তাকে এখনো সংসদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দেশের চার লাখের বেশি এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সুখবর এসেছে। সব প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই তারা নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ঈদ বোনাসের টাকা তুলতে পারবেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মাউশি জানিয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রস্তাবের চূড়ান্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুমোদন পাওয়ার কথা রয়েছে। অনুমোদন মিললেই পরবর্তী প্রযুক্তিগত ধাপগুলো সম্পন্ন করবে মাউশি কর্তৃপক্ষ। মাউশির অর্থ ও ক্রয় শাখার পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী জানান, পবিত্র ঈদের আগেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষকদের হাতে বোনাসের অর্থ পৌঁছে দিতে কাজ চলছে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন এলে আগামী বৃহস্পতিবার সেটি ‘আইবাস’ (iBAS++) সিস্টেমে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার বা সোমবারের (১৬ মার্চ) মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীরা নিজ নিজ ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারবেন।
নানা সাংগঠনিক সংকট ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ। ফলে নতুন নেতৃত্ব গঠন নিয়ে সংগঠনটির ভেতরে আলোচনা ও প্রত্যাশা—দুটোই বেড়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বে আসতে আগ্রহী কয়েকজন নেতা ইতোমধ্যে তৎপর হয়ে উঠেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নতুন কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। যে কোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। রোববার (৮ মার্চ) বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, দ্রুতই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি প্রকাশ করা হবে। তাঁর এ বক্তব্যের পর থেকেই সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কয়েকজন নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদেরই নতুন কমিটিতে গুরুত্ব দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন, তা নির্ভর করছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। এদিকে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিকে ঘিরে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও সংগঠনের জন্য দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব আসা উচিত। সভাপতি পদে আলোচনায় যারা ছাত্রদলের সম্ভাব্য নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পদকে ঘিরে কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, জহির রায়হান আহমেদ, সহ-সভাপতি মঞ্জরুল আলম রিয়াদ, তৌহিদুর রহমান আউয়াল এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকা এই নেতা একাধিকবার কারাবরণ করেছেন এবং হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। সংগঠনের ভেতরে তাকে পরিশ্রমী ও পরিচ্ছন্ন ছাত্রনেতা হিসেবেও অনেকেই বিবেচনা করেন। তার বিষয়ে আবেগঘন এক মন্তব্যে তার বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক লিখেছেন, “কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত আমার কাছে এক জীবন্ত যোদ্ধার নাম। ছাত্রলীগের তাড়া খেয়ে একসময় আমার কক্ষে আশ্রয় নিতে হয়েছিল তাকে। পরে আবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাই। তার জীবনে অনেক ঝড় গেছে। রাজনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিশ্রমী হওয়ায় বাসিত সফলতা অর্জন করবে বলে আমার বিশ্বাস।” অন্যদিকে সভাপতি পদপ্রত্যাশী কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত সম্পর্কে ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, “রাজপথের আন্দোলনে আমি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত ভাইয়ের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তার দৃঢ়তা, বিচক্ষণ নেতৃত্ব এবং সাহসিকতা তরুণ প্রজন্মের ছাত্ররাজনীতিতে এক অনুপ্রেরণার উৎস। বাসিত ভাই শুধু কার্যকর নেতা নন, তিনি একজন পরিশ্রমী ও গ্রহণযোগ্য নেতা।” এ ছাড়া সভাপতি পদে খোরশেদ আলম সোহেলও আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা, নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং শিক্ষার্থী-বান্ধব নেতৃত্বের কারণে সংগঠনের ভেতরে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল বলেন, “কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সংগঠনের গতিশীলতা ধরে রাখতে নতুন কমিটি হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান। যাকে যেখানে দায়িত্ব দেবেন, আমরা সেখানে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করব।” সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদেও কয়েকজন নেতার নাম সামনে এসেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামিম আক্তার শুভ। তবে সংগঠন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান সাধারণ সম্পাদক পদে এগিয়ে রয়েছেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন। এক ছাত্রনেতা বলেন, “আমান ভাই সংগঠনের মধ্যে সক্রিয় ও দক্ষ নেতৃত্বের জন্য পরিচিত। ছাত্রলীগের সময় তিনি একাধিকবার হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। আমরা আশা করি দল তার ত্যাগ ও নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করবে।” উল্লেখ্য, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান কমিটি ২০২৪ সালের ১ মার্চ গঠিত হয়েছিল। তখন রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়। শুরুতে এটি ছিল সাত সদস্যের আংশিক কমিটি, পরে ১৫ জুন ২৬০ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। গত ১ মার্চ দুই বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।