ফিলিস্তিনের সরকারি সংস্থা প্যালেস্টাইন সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ স্ট্যাটিকস জানিয়েছে, চলমান গাজা যুদ্ধের ফলে নারীদের মধ্যে বিধবার সংখ্যা ও বেকারত্ব উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট গভীর হয়েছে এবং স্বাস্থ্যখাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ফিলিস্তিনে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ শতাংশ নারী হবে, যার সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ ৪০ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ১৬ লাখ ৯০ হাজার নারী পশ্চিম তীরে এবং প্রায় ১০ লাখ ৬০ হাজার নারী গাজা উপত্যকায় বসবাস করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ২২ হাজার ৫৭ জন নারী তাদের স্বামীকে হারিয়েছেন। ফলে নারী-প্রধান পরিবারের হার যুদ্ধের আগে ১২ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
শ্রমবাজারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গাজায় নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার মাত্র ১৭ শতাংশ, আর নারীদের বেকারত্বের হার বেড়ে ৯২ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে পুরুষদের বেকারত্বের হার ৮১ শতাংশ।
অন্যদিকে পশ্চিম তীরে নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ প্রায় ১৯ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের অংশগ্রহণ ৭২ শতাংশ। সেখানে বেকারত্বের হার নারীদের মধ্যে ২৭ শতাংশ এবং পুরুষদের মধ্যে ২৮ শতাংশ।
১৯ থেকে ২৯ বছর বয়সী ডিপ্লোমা বা উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৭৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নারীদের বেকারত্ব ৮৬ শতাংশ এবং পুরুষদের ৭০ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কারণে পরিবার, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নারী ও শিশুদের ওপর।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ইরান ও লেবাননের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। একই সময়ে ইরানও পাল্টা হামলার দাবি করেছে, যার ফলে পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পরপরই সেখানে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে ওই বিস্ফোরণের তীব্রতা দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননে ইসরায়েলের হামলার মাত্রা বেড়েছে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ চলমান সংঘাতে সক্রিয় হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে প্রায় প্রতিদিন বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের দাবি, এসব অভিযানে মূলত হেজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা করা হচ্ছে। এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরানের ভেতরেও কিছু সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালিয়েছে। এদিকে হরমুজ প্রণালীর কাছে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইরানের ১৬টি মাইন পাতা জাহাজ ধ্বংস করে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও হেজবুল্লাহ এই চার পক্ষের সরাসরি সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করছে।
ওয়াশিংটন, ১০ মার্চ: রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য গোয়েন্দা সহযোগিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কে সরাসরি আশ্বস্ত করেছে মস্কো। রাশিয়ার কর্মকর্তারা টেলিফোনে আলোচনায় জানিয়েছেন, তারা ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ বা ঘাঁটি সংক্রান্ত কোনো তথ্য সরবরাহ করছে না। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার জানান, সম্প্রতি ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এর মধ্যে এক টেলিফোন আলাপ হয়। সেই সময় রুশ পক্ষ স্পষ্টভাবে জানায় যে, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন, যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক অবস্থান সম্পর্কিত কোনো গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। উইটকফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার এই বক্তব্যকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে, তবে বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এমন তথ্য আদান-প্রদান হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সন্দেহের কারণ : সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয় যে, রাশিয়া হয়তো ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। এই কারণে ওয়াশিংটন আগে থেকেই মস্কোকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে, ইরানের সঙ্গে সামরিক বা গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করা হলে তা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। উত্তেজনার প্রেক্ষাপট : যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং রাশিয়াকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই টেলিফোন আলাপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইরান সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ বাড়লে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সংক্ষেপে: রাশিয়া ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগির অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং সরাসরি ট্রাম্পকে জানিয়েছে—এমন কোনো সহযোগিতা চলছে না, তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
চলমান ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এছাড়া এ পর্যন্ত সাত সেনার মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স মঙ্গলবার দুটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। উল্লেখযোগ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য প্রদান করেনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হতাহতের সংখ্যা কম হলেও বাস্তবে আহত সেনার সংখ্যা অনেক বেশি। যুদ্ধের এই পর্যায়ে এ ধরনের আহত ও নিহতের সংখ্যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।