সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
রাজনীতি

‘আল্লাহর অশেষ রহমত’ আমার উপরে বিএনপির ট্যাগ নেই!রুমিন ফারহানার বিস্ফোরক মন্তব্য

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ২:৩৪
রুমিন ফারহানা
রুমিন ফারহানা

বিএনপির সঙ্গে নিজের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, বিএনপির ‘ট্যাগ’ বহন করতে হচ্ছে না—এটিকে তিনি ‘আল্লাহর অশেষ রহমত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

 

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেন রুমিন ফারহানা। সেখানে লেখা ছিল, ‘আল্লাহর অশেষ রহমত যে আমাকে এই ট্যাগ অর্থাৎ বিএনপির ট্যাগ বহন করতে হচ্ছে না।’ পোস্টটির সঙ্গে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘আল্লাহর কসম।’

 

তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির সঙ্গে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনা নতুন মন্তব্যটির প্রেক্ষাপটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

 

রুমিন ফারহানা দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিকবিষয়ক দায়িত্বেও ছিলেন। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থানের বিরোধ তৈরি হয়। ওই আসনটি বিএনপি জোটের শরিক জামিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থীকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

 

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি তাকে বহিষ্কার করে। একই সময়ে আরও কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

এরপর ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রুমিন ফারহানা। নির্বাচনী ফলাফলে তিনি জয়ী হন। নির্বাচনের আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের নির্বাচনী লড়াই এবং দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়েও কথা বলেছিলেন।

 

নির্বাচনের সময়ও তার সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। দ্য ডেইলি স্টারের নির্বাচনী প্রতিবেদনে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

 

রুমিন ফারহানার বর্তমান মন্তব্যটি মূলত তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতার ওপর আলোকপাত করছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিএনপির সঙ্গে ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক সম্পর্ক কী হবে, সে বিষয়ে নতুন কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা জানাননি।

 

এর আগে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পরও রুমিন ফারহানা বিভিন্ন বক্তব্যে দলটির রাজনীতি, নেতৃত্ব এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কথা বলেছেন। ২০২৬ সালের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তিনি তার এলাকার মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন। একই সময়ে তিনি নিজের বিরুদ্ধে নেওয়া সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ন্যায়সংগততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন।

 

অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে তার বহিষ্কারের কারণ হিসেবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং নির্বাচনী সিদ্ধান্ত অমান্যের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তার দলীয় রাজনীতির অতীত ও বর্তমান অবস্থানের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় রুমিন ফারহানার সর্বশেষ মন্তব্যও এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। তবে তার বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য বা ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তার পরবর্তী বক্তব্য এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

 

রুমিন ফারহানা বর্তমানে জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নির্বাচিত স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পান।

 

তার সর্বশেষ বক্তব্যে বিএনপির সঙ্গে নিজের বর্তমান দূরত্বকে তিনি যে ভাষায় তুলে ধরেছেন, সেটিই মূলত রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেননি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

রাজনীতি

View more
রুমিন ফারহানা
‘আল্লাহর অশেষ রহমত’ আমার উপরে বিএনপির ট্যাগ নেই!রুমিন ফারহানার বিস্ফোরক মন্তব্য

বিএনপির সঙ্গে নিজের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, বিএনপির ‘ট্যাগ’ বহন করতে হচ্ছে না—এটিকে তিনি ‘আল্লাহর অশেষ রহমত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেন রুমিন ফারহানা। সেখানে লেখা ছিল, ‘আল্লাহর অশেষ রহমত যে আমাকে এই ট্যাগ অর্থাৎ বিএনপির ট্যাগ বহন করতে হচ্ছে না।’ পোস্টটির সঙ্গে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘আল্লাহর কসম।’   তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির সঙ্গে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনা নতুন মন্তব্যটির প্রেক্ষাপটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।   রুমিন ফারহানা দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিকবিষয়ক দায়িত্বেও ছিলেন। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থানের বিরোধ তৈরি হয়। ওই আসনটি বিএনপি জোটের শরিক জামিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থীকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি তাকে বহিষ্কার করে। একই সময়ে আরও কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   এরপর ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রুমিন ফারহানা। নির্বাচনী ফলাফলে তিনি জয়ী হন। নির্বাচনের আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের নির্বাচনী লড়াই এবং দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়েও কথা বলেছিলেন।   নির্বাচনের সময়ও তার সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। দ্য ডেইলি স্টারের নির্বাচনী প্রতিবেদনে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।   রুমিন ফারহানার বর্তমান মন্তব্যটি মূলত তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতার ওপর আলোকপাত করছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিএনপির সঙ্গে ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক সম্পর্ক কী হবে, সে বিষয়ে নতুন কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা জানাননি।   এর আগে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পরও রুমিন ফারহানা বিভিন্ন বক্তব্যে দলটির রাজনীতি, নেতৃত্ব এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কথা বলেছেন। ২০২৬ সালের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তিনি তার এলাকার মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন। একই সময়ে তিনি নিজের বিরুদ্ধে নেওয়া সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ন্যায়সংগততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন।   অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে তার বহিষ্কারের কারণ হিসেবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং নির্বাচনী সিদ্ধান্ত অমান্যের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তার দলীয় রাজনীতির অতীত ও বর্তমান অবস্থানের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় রুমিন ফারহানার সর্বশেষ মন্তব্যও এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। তবে তার বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য বা ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তার পরবর্তী বক্তব্য এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।   রুমিন ফারহানা বর্তমানে জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নির্বাচিত স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পান।   তার সর্বশেষ বক্তব্যে বিএনপির সঙ্গে নিজের বর্তমান দূরত্বকে তিনি যে ভাষায় তুলে ধরেছেন, সেটিই মূলত রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেননি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ২:৩৪
পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: সংগৃহীত

গণতন্ত্র ধ্বংস করতে বিরোধী দল নতুন চক্রান্তে লিপ্ত: শহীদ উদ্দীন এ্যানি

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর, ডিএমপি কমিশনার

ককটেল বিস্ফোরণ ইস্যুতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন, জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত: ডিএমপি কমিশনার

বিএনপির নেতা কর্মী

তারেক রহমানের প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ, নিউইয়র্কে প্রবাসী বিএনপির ব্যতিক্রমী স্বাগত

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ঘিরে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
শেখ হাসিনার জন্মদিনে ভারতে একাধিক আয়োজন, বিজেপি ও কংগ্রেস নেতাদের আমন্ত্রণ

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ঘিরে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসব আয়োজনে বিজেপির মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে আমন্ত্রণ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কারা উপস্থিত থাকবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়।   দ্য ওয়ালের খবর অনুযায়ী, কলকাতায় নাগরিক সমাজের উদ্যোগে একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতেও আরও অনুষ্ঠানের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। আয়োজন ও অতিথিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তাই সম্ভাব্য অতিথিদের উপস্থিতি নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।   প্রতিবেদনের শিরোনামে শেখ হাসিনার ‘৮০তম জন্মদিন’ বলা হলেও তাঁর প্রকাশিত জন্মতারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭। সে হিসাবে এ বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁর বয়স হবে ৭৯ বছর।   ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি এবং ভারত থেকে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে ভারতে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনেও নজর কাড়ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১:৩৮
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

মুক্তিযুদ্ধকে ‘আলু-পটোলের’ মতো পণ্য হিসেবে বিক্রি করেছেন শেখ হাসিনা: রিজভী

মীর শাহে আলম

নাহিদ-হাসানাত-পাটওয়ারীকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক নামের প্রসঙ্গ টানলেন মীর শাহে আলম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

ফ্যামিলি কার্ডে ভিআইপি-সাধারণের ভেদ নেই, জুবাইদাও পাবেন: মীর শাহে আলম

রবিউল ইসলাম নয়ন।
‘ককটেলের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, কামানের মুখ পেরিয়েই রাজপথে এসেছি’: নয়ন

ককটেল কিংবা সহিংসতার ভয় দেখিয়ে যুবদলকে দমিয়ে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা হলে তা রাজপথে মোকাবিলার কথাও বলেছেন তিনি।    ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে নয়ন এসব কথা বলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর)। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘নৈরাজ্যের’ অভিযোগ তুলে এ কর্মসূচির আয়োজন করে যুবদল। এখানে ‘নৈরাজ্য’ শব্দটি আয়োজক ও বক্তাদের রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।    সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ককটেল নিক্ষেপসংক্রান্ত বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নয়ন বলেন, “ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলকে ককটেলের ভয় দেখাবেন না।” এরপর তিনি দাবি করেন, সংগঠনটির নেতাকর্মীরা অতীতে কামান, চায়না রাইফেল ও একে-৪৭ রাইফেলের গুলির মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।    বক্তব্যে অতীতের রাজনৈতিক সংঘাতের প্রসঙ্গও টেনে আনেন নয়ন। তাঁর দাবি, একসময় পল্টন ময়দানে পুলিশ বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে দীর্ঘ সময় গুলি চালিয়েছিল। একপর্যায়ে পুলিশের গুলি শেষ হয়ে গেলে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা পুলিশ সদস্যদের ব্যারাকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন। নয়নের এই বর্ণনার স্বাধীন যাচাই সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে দেওয়া হয়নি।    রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশে নয়ন আরও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন। যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি যুবদলের নেতাকর্মীরা বাঁশের লাঠি হাতে নিলে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করার কথা বলেন। একই বক্তব্যে যুবদলের দিকে ‘চোখ তুলে তাকালে’ সহিংস পরিণতির হুমকিও দেন তিনি।    অন্যদিকে ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়ন দাবি করেন যুবদল শৃঙ্খলা বজায় রেখে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন এবং নেতাকর্মীদের রাজপথে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।    নয়নের বক্তব্যের সময় সমাবেশে উপস্থিত যুবদল নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায় বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাঁর বক্তব্যটি ২২ সেপ্টেম্বর রাতে এবং ২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসে।    এদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও সামনে এসেছে। ইত্তেফাকের রাজনীতি পাতায় এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পাটওয়ারীর বক্তব্য খণ্ডিত ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। ফলে ককটেল প্রসঙ্গে নয়নের বক্তব্যটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১০:২২
প্রধানমন্ত্রী'র তথ্য উপদেষ্টা।

ককটেল বিস্ফোরণে টলবে না সরকার, অস্থিরতা ছড়িয়ে লাভ হবে না: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তেলের দাম বাড়লেও অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কম, দাবি রিজভীর

দেশে লংমার্চ, বিদেশে জামায়াতের ৩৪ এমপি

দেশে লংমার্চ, বিদেশে জামায়াতের ৩৪ এমপি - সফর ঘিরে সমালোচনা

0 Comments