খেলাধুলা

যুক্তরাষ্ট্রে টিকিটের আকাশচুম্বী দামের কারণে বিশ্বকাপে কোরিয়া-চেক ম্যাচে গ্যালারি ফাঁকা

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ২:৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মেক্সিকোর গুয়াদালাহারার আক্রন স্টেডিয়ামে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে কোরিয়ানরা। তবে বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টে মাঠের ফুটবল রোমাঞ্চ ছাপিয়ে সবার চোখ আটকে গেছে স্টেডিয়ামের হাজার হাজার খালি আসনের দিকে। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের জন্য নির্ধারিত ১৬টি ভেন্যুর মধ্যে আক্রন স্টেডিয়াম দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম হওয়ার পরও ম্যাচের সময় গ্যালারির একটি বিশাল অংশ সম্পূর্ণ দর্শকশূন্য ছিল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফিফা কর্তৃক টিকিটের আকাশচুম্বী ও অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণের কারণেই মূলত সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা এই ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।

 

মাঠের এই হতাশাজনক চিত্রের পেছনে মূল কারণ হিসেবে টিকিটের চড়া দামকেই দায়ী করছেন ফুটবল বোদ্ধারা। স্টেডিয়ামের নিচের স্তরের সাধারণ ক্যাটাগরির একেকটি টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫০০ মার্কিন ডলার। এছাড়া সাইডলাইনের উপরের সারিগুলোর টিকিটের মূল্য ছিল ৪০০ ডলার এবং বিশেষ হসপিটালিটি সিটের দাম ছিল ৫ হাজার ডলারেরও বেশি, যা সাধারণ সমর্থকদের সাধ্যের বাইরে। অথচ এই ম্যাচ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগেই দাবি করেছিলেন যে, আজ পর্যন্ত ৬০ লাখেরও বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে এবং ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য এবার বিশ্বজুড়ে অভূতপূর্ব চাহিদা তৈরি হয়েছিল।

 

বিশ্বকাপের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে মোট দর্শক সংখ্যা জানিয়েছে ৪৪ হাজার ৯৮৫ জন, যেখানে এই স্টেডিয়ামের মোট আসন ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ৬৬৪টি। কিন্তু মাঠের দৃশ্যমান ফাঁকা গ্যালারির সাথে ফিফার দেওয়া এই সংখ্যার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফিফার ঘোষিত এই দর্শক সংখ্যা কি কেবল বিক্রি হওয়া টিকিটের হিসাব নাকি স্টেডিয়ামের গেট দিয়ে প্রবেশ করা আসল দর্শকের সংখ্যা—সেই বিষয়ে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি কোনো সদুত্তর বা স্পষ্ট জবাব দিতে পারেনি।

 

টিকিট বিক্রির এই অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চেক প্রজাতন্ত্রের সমর্থক কম থাকার পেছনে আরেকটি বড় কারণ ছিল দলটির দেরিতে টিকিট পাওয়া। চেকিয়া গত মার্চ মাসে বেশ দেরিতে বিশ্বকাপের টিকিট হাতে পায় এবং তারা গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বেশি পথ পাড়ি দেওয়া দলগুলোর একটি। ফলে ভৌগোলিক দূরত্ব ও যাতায়াত জটিলতার কারণে চেক সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই হাতে গোনা। তবে মাঠের গ্যালারি ফাঁকা থাকলেও ম্যাচের ভেতর ফুটবলের রোমাঞ্চের কোনো কমতি ছিল না। প্রথমার্ধে কোনো দল গোলের দেখা না পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে এসেছে দুর্দান্ত ৩টি গোল, যেখানে শুরুতে গোল হজম করেও শেষ পর্যন্ত লড়াকু জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ কোরিয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

খেলাধুলা

View more
বিশ্বকাপ দেখতে কানাডায় গিয়ে অ্যাসাইলাম চাইলেন ১০ বাংলাদেশি
বিশ্বকাপ দেখতে কানাডায় গিয়ে অ্যাসাইলাম চাইলেন ১০ বাংলাদেশি

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভিজিট ভিসায় কানাডায় গিয়ে ১৭৫ জন দর্শনার্থী রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলামের আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ১০ জন বাংলাদেশি। কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ (আইআরসিসি) প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।   আইআরসিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ফিফা বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট অস্থায়ী বসবাসের আবেদন অনুমোদন পেয়েছিলেন ২৬ হাজার ১১১ জন। এর মধ্যে ১৭৫ জন পরবর্তীতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের আবেদন করেন। আবেদনকারীরা নিজেদের অস্থায়ী বসবাসের আবেদনে ফিফা বিশ্বকাপের দর্শনার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।   তথ্যে দেখা গেছে, আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫ জন ঘানার নাগরিক। এছাড়া মিশর ও কলম্বিয়া থেকে ১৫ জন করে, সেনেগাল থেকে ১০ জন এবং ইকুয়েডর থেকে ৫ জন আবেদন করেছেন।   বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে এমন কয়েকটি দেশের নাগরিকদের আবেদন, যাদের জাতীয় দল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জনই করতে পারেনি। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে কেনিয়া, চীন, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, বুরুন্ডি, নেপাল ও পাকিস্তান। এর মধ্যে কেনিয়া থেকে ১৫ জন, চীন, বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়া থেকে ১০ জন করে এবং বুরুন্ডি, নেপাল ও পাকিস্তান থেকে ৫ জন করে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।   জুন ও জুলাই মাসে টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারে বিশ্বকাপের মোট ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এই টুর্নামেন্ট উপলক্ষে বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ২৬ হাজারের বেশি ভিসা ইস্যু করেছিল কানাডা।   তবে আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে কতজন ফুটবলার, কোচ, কর্মকর্তা বা দলের সহায়তাকারী সদস্য ছিলেন, সে তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আইআরসিসি।   কানাডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব দর্শনার্থী এখনও বৈধ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আশ্রয়ের আবেদন করেননি, তাদের মধ্যে কেউ পরে আবেদন করলে মোট সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।   বিশ্বকাপ শুরুর আগেই কানাডা সরকার সতর্ক করেছিল, টুর্নামেন্ট শেষে দর্শনার্থীরা যাতে নিজ নিজ দেশে ফিরে যান, তা নিশ্চিত করতে ভিসা আবেদন কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছিল, কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে যদি কর্মকর্তারা মনে করেন তিনি ভ্রমণের আড়ালে কানাডায় থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাহলে তার ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে অথবা দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি নাও দেওয়া হতে পারে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ৫:৩৪
খেলোয়াড়দের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত হন নারী রেফারি মাথিলদে দেমোঁসে। ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল মাঠে পুরুষ খেলোয়াড়দের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে গুরুতর আহত নারী রেফারি

ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম হাফটাইম শোতে অংশ নিলেও কোনো পারফরম্যান্স ফি নেননি জাস্টিন বিবার, বিটিএস, শাকিরা ও ম্যাডোনাসহ বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শোতে বিটিএস, জাস্টিন বিবারসহ তারকারা কত পারিশ্রমিক পেলেন!

থিয়াগো মেসিতেই ২০৩০ বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা!

থিয়াগো মেসিতেই ২০৩০ বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা!

স্প্যানিশ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে সাফল্য উদযাপনের সময় তরুণ ফুটবল তারকা লামিনে ইয়ামাল। ছবি: সংগৃহীত
মাঠে গোল উদযাপন করতে গিয়ে সেজদা দেওয়ায় মুসলিমবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার স্পেনের ফুটবলার লামিন ইয়ামাল

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার মাঝেই স্পেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভয়াবহ হারে ইসলামফোবিয়া ও বর্ণবাদী আক্রোশ ছড়িয়ে পড়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দেশটির সরকারি পর্যবেক্ষণ সংস্থা ওবেরাক্স (OBERAXE) প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, জুন মাসজুড়ে অনলাইনে শনাক্ত হওয়া ৪০ হাজারের বেশি বিদ্বেষমূলক বার্তার একটি বড় অংশই খেলাধুলা এবং বিশেষ করে মুসলিম ফুটবলারদের লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এই নজিরবিহীন সাইবার আক্রমণের প্রধান শিকার হয়েছেন স্পেন জাতীয় দলের তরুণ উদীয়মান তারকা ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল।   ​স্পেনের জাতীয় অভিবাসন সচিবালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান 'স্প্যানিশ অবজারভেটরি অন রেসিজম অ্যান্ড জেনোফোবিয়া' (OBERAXE) তাদের সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং রিপোর্টে এই চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে ডিজিটাল মাধ্যমে সংগৃহীত মোট বিদ্বেষপূর্ণ ও উগ্র বার্তার প্রায় ১৬ শতাংশই সরাসরি ক্রীড়াঙ্গনকে কেন্দ্র করে ছড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, ক্রীড়া ক্ষেত্রটিকে স্পেনে সামাজিক বিভেদ ও উগ্রতা ছড়ানোর অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।   ​রিপোর্টে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে স্প্যানিশ নাগরিক এবং পিতৃসূত্রে মরক্কো ও মাতৃসূত্রে বিষুবীয় গিনির বংশোদ্ভূত তারকা লামিনে ইয়ামালের ওপর নেমে আসা অপপ্রচারের কথা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম গোল উদযাপনের সময় ইয়ামালের ইসলামী রীতি অনুযায়ী সেজদা দেওয়া থেকেই উগ্র গোষ্ঠীগুলোর ক্ষোভের সূচনা হয়। মাঠে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের এই স্বাভাবিক প্রকাশের পরপরই তাঁর নাগরিকত্ব, জাতীয় পরিচয় এবং স্প্যানিশ জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করার নৈতিক অধিকার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম আক্রমণাত্মক মন্তব্য ছড়াতে থাকে।   ​সরকারি পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইয়ামালকে উদ্দেশ্য করে "ঘৃণ্য আরব", "স্পেনে আরবদের স্থান নেই", "সে স্প্যানিশ হওয়ার যোগ্য নয়" এবং "আমাদের সাংস্কৃতিক শিকড়কে অপমান করা হয়েছে"—এমন নানা উগ্র বর্ণবাদী ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে।   ​বিষয়টি বিশ্লেষণ করে ওবেরাক্স তাদের প্রতিবেদনে এক কঠোর ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ফুটবল মাঠের এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে ক্রীড়াঙ্গন এখন আর কেবল কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে ব্যক্তিগত আক্রমণের জায়গা নয়, বরং এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্কিত গোটা ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রদায়কে নিগ্রহ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।   ​আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মানবাধিকার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পশ্চিমাপন্থী ডানপন্থী মতাদর্শ ও মুসলিমবিদ্বেষ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় তা এখন অ্যাথলেটদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাত হানছে। স্পেনের হয়ে অসাধারণ ফুটবল খেলার পরও একজন উদীয়মান মুসলিম তরুণ অ্যাথলেটের প্রতি এই ধরনের আচরণ বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ২৩:৫৬
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কাল্পনিক। ছবি:সংগৃহীত

৩৫০ মিটার উপরে হবে ২০৩৪ বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ? সৌদির ভাইরাল ‘স্কাই স্টেডিয়াম’ নিয়ে যা জানা গেছে

চিবুক সুন্দর করার সফল অস্ত্রোপচারের পর সম্পূর্ণ নতুন লুকে ধরা দিলেন ব্রাজিলীয় তারকা ভিনিসিউস জুনিয়র। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

বিশ্বকাপের পর মুখের সার্জারি করালেন ব্রাজিল ফুটবল তারকা ভিনিসিউস

ফাইনালে হারলেও বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য আর্জেন্টিনায় এক দিনের জাতীয় ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফাইনালে হারলেও জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা আর্জেন্টিনা প্রেসিডেন্টের

খেলার মাঠে ট্রাম্প।ছবি;সংগৃহীত
মঞ্চ ছাড়তে অনীহা ট্রাম্পের, বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফিফা সভাপতি

২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের আনন্দে যখন স্পেনের ফুটবলাররা মেতে উঠেছিলেন, তখনই পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে তৈরি হয় আলোচনার নতুন বিষয়। ট্রফি তুলে দেওয়ার পরও মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক।   বিশ্বকাপ ফাইনালের শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ট্রাম্প। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভিআইপি গ্যালারিতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশে বসে ম্যাচ উপভোগ করেন তিনি। স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় তার ছবি দেখানো হলে দর্শকদের একটি অংশ শিস ও বিদ্রুপের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানায়। তবে এসব উপেক্ষা করে তিনি ইনফান্তিনোর সঙ্গে আলাপচারিতায় ব্যস্ত ছিলেন।   ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতির সঙ্গে মঞ্চে ওঠেন ট্রাম্প। দুই দলের খেলোয়াড়দের গলায় পদক পরিয়ে দেওয়ার পর স্পেন অধিনায়ক রদ্রির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেন তিনি।   কিন্তু এরপরই শুরু হয় আলোচনার বিষয়টি। স্পেনের খেলোয়াড়রা যখন শিরোপা উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনও ট্রাম্প মঞ্চে অবস্থান করছিলেন। ফিফার কর্মকর্তারা তাকে কিছুটা সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন, যাতে খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবে উদযাপন করতে পারেন। তিনি কিছুটা পিছিয়ে গেলেও পুরোপুরি মঞ্চ ছাড়েননি।   ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও তাকে মঞ্চ থেকে নামানোর চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প স্পেনের খেলোয়াড়দের পাশেই দাঁড়িয়ে উদযাপনের মুহূর্তের অংশ হয়ে থাকেন।   এ ধরনের ঘটনা ট্রাম্পের জন্য নতুন নয়। এর আগেও ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে চেলসির শিরোপা উদযাপনের সময় তাকে খেলোয়াড়দের সঙ্গে মঞ্চে দেখা গিয়েছিল। সে সময় চেলসির অধিনায়ক রিস জেমস তাকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।   তবে এবার স্পেনের কোনো খেলোয়াড়কে ট্রাম্পের উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়নি। মঞ্চে তার অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন ও সমালোচনা—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা যাচ্ছে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ৭:২২
ছবি: লামিন ইয়ামাল (সংগৃহীত)

তিন সপ্তাহ দাড়ি-গোঁফ কাটবেন না লামিনে ইয়ামাল

ছবি: সংগৃহীত

উত্তাল প্রশান্ত মহাসাগরে ২,৪০০ মাইল একা পাড়ি দিয়ে ইতিহাস গড়লেন মার্কিন নারী

শেষ মুহূর্তের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতল স্পেন

শেষ মুহূর্তের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতল স্পেন

0 Comments