- প্রচ্ছদ
- Topic
আইওয়া
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে মৃত ছয় গ্রাহকসহ মোট সাতজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ২৮ হাজার ডলারের বেশি চুরির অভিযোগে একটি ক্রেডিট ইউনিয়নের নারী কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৩৮ বছর বয়সী আমান্ডা এন টিনচারের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরিয়ে নিজের নামে চেক তৈরি, ব্যক্তিগত ক্যাশঅ্যাপে অর্থ স্থানান্তর এবং নগদ অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে সাতটি অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ২৮ হাজার ৩২৬ ডলার ২৮ সেন্ট সরানোর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছয়টি অ্যাকাউন্টের মালিক মারা গিয়েছিলেন এবং অন্য একজন জীবিত ছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম কেডব্লিউকিউসির ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমান্ডা টিনচার আইওয়ার আইএইচ মিসিসিপি ভ্যালি ক্রেডিট ইউনিয়নে কর্মরত ছিলেন। তিনি ডেভেনপোর্ট শহরের বাসিন্দা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেটেনডর্ফ পুলিশ তাঁকে চুরি, প্রতারণা এবং ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। তবে ওই দিন বিকেলেই জামিনে মুক্তি পান তিনি। আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয় গত ২ জুলাই। ওই দিন ক্রেডিট ইউনিয়নের একজন কর্মকর্তা বেটেনডর্ফ পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী মৃত একজন গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে একাধিক সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। বিষয়টি জানার পর পুলিশ সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা শুরু করে। তদন্তকারীদের দাবি, আমান্ডা মৃত ওই গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময় অর্থ উত্তোলন করেন। পাশাপাশি নিজের নামে একাধিক ক্যাশিয়ার্স চেক তৈরি এবং ব্যক্তিগত ক্যাশঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করেন। ক্যাশিয়ার্স চেক হলো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ইস্যু করা বিশেষ ধরনের চেক, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, শুধু ওই একটি অ্যাকাউন্ট থেকেই ২১ হাজার ২৭৯ ডলার ৫১ সেন্ট সরানো হয়েছিল। অ্যাকাউন্টটির মালিক মারা যাওয়ার পর এসব সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ৩ জুলাই ক্রেডিট ইউনিয়নের কার্যালয়ে আমান্ডার সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তাঁকে সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই সময় তিনি মন্তব্য করেন, কী করা হয়েছে, তা বেশ পরিষ্কার। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া এই বক্তব্যকে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অপরাধ স্বীকারের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় আমান্ডা অন্য কোনো গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ক্রেডিট ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় আরও ছয়টি অ্যাকাউন্টে একই ধরনের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, সব মিলিয়ে সাতটি অ্যাকাউন্টে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছয়টি অ্যাকাউন্টের মালিক মারা গিয়েছিলেন। অন্য অ্যাকাউন্টটির মালিক জীবিত ছিলেন। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ২৮ হাজার ৩২৬ ডলার ২৮ সেন্ট সরানোর অভিযোগ রয়েছে আমান্ডার বিরুদ্ধে। তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের অভিযোগ, মৃত একজন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ হারানোর বিষয়টি তাঁর উত্তরাধিকারীরা বুঝতে পারার পর আমান্ডা সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেন। এ জন্য তিনি জীবিত একজন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরিয়ে মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, আগের লেনদেনের কারণে তৈরি হওয়া অর্থের ঘাটতি আড়াল করতেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। অর্থাৎ শুধু মৃত ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরানোর অভিযোগই নয়, অন্য গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আগের লেনদেন ঢাকার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, একাধিক অ্যাকাউন্টে একই ধরনের লেনদেন হওয়ার কারণে ঘটনাটি ধারাবাহিক আর্থিক অপরাধের অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ঠিক কত দিন ধরে এসব লেনদেন চলেছিল, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তদন্ত শেষে আমান্ডার বিরুদ্ধে প্রথম মাত্রার চুরি, ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং প্রথম মাত্রার প্রতারণামূলক কার্যক্রমের অভিযোগ আনা হয়েছে। আইওয়ার আইনে এসব অভিযোগ গুরুতর অপরাধ বা ফেলনি হিসেবে বিবেচিত। এ ছাড়া দ্বিতীয় মাত্রার চুরি এবং দ্বিতীয় মাত্রার প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি তৃতীয় মাত্রার চুরির চারটি এবং তৃতীয় মাত্রার প্রতারণার চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এগুলো গুরুতর মিসডিমিনার অপরাধের আওতায় পড়ে। তাঁর বিরুদ্ধে পঞ্চম মাত্রার চুরি এবং পঞ্চম মাত্রার প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন মাত্রার চুরি ও প্রতারণাসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। শুক্রবার পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর ওই দিন বিকেলে জামিনে মুক্তি পান আমান্ডা। আদালতের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তাঁর প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আমান্ডা আদালতে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী অবস্থান নিয়েছেন কিংবা তাঁর আইনজীবী কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি না, সে সম্পর্কেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ক্রেডিট ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হওয়ার পর পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য এবং পরবর্তী অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাকাউন্টগুলোর অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা মৃত গ্রাহকদের উত্তরাধিকারীরা তাঁদের প্রাপ্য অর্থ ফিরে পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে অভিযুক্ত কর্মী কীভাবে এসব অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থার কোন পর্যায়ে অনিয়ম ঘটেছিল, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আইওয়ার এই ঘটনায় মৃত ব্যক্তিদের আর্থিক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরানোর অভিযোগের পাশাপাশি জীবিত গ্রাহকের অর্থ ব্যবহার করে আগের লেনদেন আড়াল করার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তদন্তে সাতটি অ্যাকাউন্টে মোট ২৮ হাজার ডলারের বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে আমান্ডা টিনচার জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বারবার বর্ণবাদী অপমানের শিকার হওয়া এক কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষক আদালতের রায়ে ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। রবার্ট বেন্ডার নামের ওই শিক্ষক অভিযোগ করেছিলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানোর পরও শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ফেডারেল আদালতের জুরি তাঁর পক্ষে ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত দেন। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, শিক্ষার্থীদের আচরণগত সমস্যার ক্ষেত্রে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য মেরি স্যুর ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি আইওয়ার অটুমওয়া শহরের ইভান্স মিডল স্কুলের। রবার্ট বেন্ডার ২০২১ সালের জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে বিশেষ শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর দায়িত্ব ছিল আচরণগত সমস্যাযুক্ত শিক্ষার্থীদের পড়ানো। পাশাপাশি তিনি স্কুলের জুনিয়র ভার্সিটি ছেলেদের বাস্কেটবল দলের কোচ হিসেবেও কাজ করতেন। কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই বর্ণবাদী হয়রানির শিকার হতে শুরু করেন বেন্ডার। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এক শিক্ষার্থী অন্য শিক্ষকদের সামনে তাঁকে কৃষ্ণাঙ্গদের উদ্দেশে ব্যবহৃত অত্যন্ত অবমাননাকর একটি বর্ণবাদী শব্দ দিয়ে সম্বোধন করে। কিন্তু উপস্থিত সহকর্মীরা তখন কোনো হস্তক্ষেপ করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর প্রায় দুই সপ্তাহ পর আরেক শিক্ষার্থী একই ধরনের বর্ণবাদী শব্দ বারবার ব্যবহার করে তাঁকে অপমান করে। বেন্ডার বিষয়টি স্কুলের অধ্যক্ষ জেরি মিলার এবং সহকারী অধ্যক্ষ ডানা ওয়ারনেকেকে জানান। ওই শিক্ষার্থীকে অর্ধদিবস অথবা এক দিনের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও হয়রানি বন্ধ হয়নি। বেন্ডারের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় প্রতি সপ্তাহেই শিক্ষার্থীরা তাঁকে বর্ণবাদী ভাষায় অপমান করত। কখনো অন্য শিক্ষক কিংবা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সামনেও এমন ঘটনা ঘটেছে। এমনকি তাঁর কাছে বর্ণবাদী বার্তা লেখা ছোট কাগজও পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বেন্ডার স্কুল ডিস্ট্রিক্টের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক ডেভিড হারপারের কাছে অভিযোগ করেন। হারপার তাঁকে আশ্বস্ত করেন, এ ধরনের আচরণ সহ্য করা হবে না। কিন্তু বেন্ডারের দাবি, যথাযথ শাস্তির অভাবে শিক্ষার্থীরা আরও উৎসাহিত হয়ে একই ধরনের আচরণ চালিয়ে যায়। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, এক শিক্ষার্থী বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করায় তাকে সাময়িকভাবে আলাদা বসিয়ে রাখার শাস্তি দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সময় শিক্ষার্থীটির তদারকির দায়িত্বও দেওয়া হয় বেন্ডারকে। অভিযোগ অনুযায়ী, শাস্তি চলাকালেও ওই শিক্ষার্থী তাঁকে বর্ণবাদী ভাষায় অপমান করতে থাকে। শিক্ষার্থীদের শাস্তিসংক্রান্ত নথি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বেন্ডার। তাঁর অভিযোগ, এক শিক্ষার্থী মারামারি, অশালীন ভাষা ব্যবহার, নির্দেশ অমান্য এবং স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারণে একাধিকবার শাস্তি পেয়েছিল। অথচ বর্ণবাদী হয়রানির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সেই আচরণের উল্লেখ তার শাস্তির নথিতে ছিল না। ২০২২ সালের মার্চে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী স্কুলবাসের স্টপেজের কাছে বেন্ডারকে বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করে অপমান করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন অধ্যক্ষ জেরি মিলারের সামনেও একই আচরণ করে ওই শিক্ষার্থী। অধ্যক্ষ ঘটনাটি শুনেছেন বলে স্বীকার করলেও অতিরিক্ত শাস্তি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মিলারের ব্যাখ্যা ছিল, আচরণগত সমস্যাযুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রতিটি দিন নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ দেওয়া হয়। আগের দিনের আচরণের জন্য পরদিন একইভাবে শাস্তি বহাল রাখা হয় না। তবে এর এক সপ্তাহ পর অধ্যক্ষ ও অন্য কর্মীদের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহার করায় আরেক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এই দুই ঘটনার মধ্যে শাস্তির পার্থক্য মামলায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। বেন্ডারের অভিযোগ ছিল, স্কুল কর্তৃপক্ষ অন্য নিয়মভঙ্গের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিলেও তাঁর বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের ক্ষেত্রে একই গুরুত্ব দেয়নি। এদিকে বেন্ডারকে পরবর্তী সময়ে অন্য ধরনের শিক্ষাদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর বর্ণবাদী হয়রানির অভিযোগের সম্পর্ক রয়েছে। তবে স্কুল ডিস্ট্রিক্ট প্রতিশোধমূলক উদ্দেশ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার দক্ষতা উন্নত করতেই তাঁকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বেন্ডার অটুমওয়া হাই স্কুলে বদলি হন। এরপর ২০২৩ সালের জুনে ফেডারেল আদালতে মামলা করেন তিনি। মামলায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী হয়রানি বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট আদালতে যুক্তি দেয়, আচরণগত সমস্যাযুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের সহায়তা ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন। সব ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা যথাযথ নয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের জুনে মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট বিচারক স্টিফেন এইচ লোচার মামলাটি খারিজ করার জন্য স্কুল ডিস্ট্রিক্টের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে জুরি যুক্তিসংগতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রতিকূল কর্মপরিবেশ তৈরি হতে এবং তা অব্যাহত থাকতে দিয়েছিল। বিচার শুরুর আগে বেন্ডার বৈষম্য ও প্রতিশোধমূলক আচরণসংক্রান্ত পৃথক দাবিগুলো প্রত্যাহার করেন। ফলে মূল বিচারিক কার্যক্রমে বর্ণবাদী হয়রানির কারণে প্রতিকূল কর্মপরিবেশ তৈরি হওয়ার অভিযোগ গুরুত্ব পায়। চার দিন ধরে সাক্ষ্য গ্রহণের পর জুরি প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা আলোচনা করেন। এরপর বেন্ডারকে ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ১০০ ডলার করে শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণও নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে বিচারক লোচার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃত বিদ্বেষ কিংবা বেপরোয়া উদাসীনতার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বেন্ডারের পক্ষে দেওয়া ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলারের মূল ক্ষতিপূরণের রায় বহাল থাকে। আইওয়ার এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী আচরণের পাশাপাশি অভিযোগ পাওয়ার পর স্কুল প্রশাসনের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও আদালতে গুরুত্ব পেয়েছে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ, শাস্তিসংক্রান্ত নথি এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ পর্যালোচনার পর জুরি শিক্ষকের পক্ষে ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে নিজের ব্যক্তিগত বিদেশ সফরের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনুদান চাওয়ার অভিযোগে এক স্কুল শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্টেফানি মুলালি নামের ওই বদলি শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তার তহবিলে টাকা দিলে বিনিময়ে পরীক্ষায় তাদের অতিরিক্ত নম্বর (এক্সট্রা ক্রেডিট) দেওয়া হবে। স্কুলের নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে গত ২৯ মে ক্লিনটন কমিউনিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করে। প্রশাসনিক আইন বিচারক ডুয়েন গোল্ডেনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হাইস্কুলের ওই শিক্ষিকা ক্লাসের শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তারা তার ব্যক্তিগত 'গোফান্ডমি' অ্যাকাউন্টে অনুদান দিলে তাদের গ্রেডের সঙ্গে বাড়তি নম্বর যোগ করা হবে। শিক্ষিকার এমন প্রস্তাবে শিক্ষার্থীরা তার তহবিলে টাকা দিতে একপ্রকার মানসিক চাপের মুখে পড়েছিল। জানা যায়, জুলাই মাসে স্বামী নিককে নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে একটি 'মেডিকেল মিশন' বা চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে যাওয়ার জন্য ওই তহবিল খুলেছিলেন তিনি। সফরের খরচ মেটাতে ১ হাজার ৮০০ ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন মুলালি। তবে শেষ পর্যন্ত পাঁচ থেকে পঞ্চাশ ডলারের মধ্যে মাত্র ছয়টি অনুদান থেকে তিনি ১৪০ ডলার সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। বরখাস্ত হওয়া ওই শিক্ষিকা তার মুছে ফেলা তহবিল সংগ্রহের পেজে দাবি করেছিলেন, তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে ইকুয়েডর সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছেন, তবে এর জন্য বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। ফেসবুকেও তিনি লিখেছিলেন, চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত একটি সম্প্রদায়কে সাহায্য করার এই সুযোগটি ঈশ্বরের আশীর্বাদ। এই সফরে তিনি মূলত ভাষাগত বাধা দূর করতে দোভাষী হিসেবে কাজ করবেন এবং তার স্বামী আনুষঙ্গিক কাজে সহায়তা করবেন। শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি এটিকে নিজের শিক্ষার খরচ মেটানোর একটি অনন্য সুযোগ হিসেবেও তুলে ধরেছিলেন। তবে মহৎ উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও, শিক্ষিকাসুলভ পেশাদারি আচরণ লঙ্ঘন করে শিক্ষার্থীদের অনুদান দিতে প্ররোচিত করায় শেষ পর্যন্ত তাকে লজ্জাজনকভাবে চাকরি হারাতে হলো।
পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে ৮০ বছর আগে পড়ালেখা ছেড়ে দিতে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়ার পল লিটলকে। ১৯৪৬ সালে ডালাস সেন্টার হাইস্কুল থেকে তার স্নাতক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিবারকে সহায়তা করতে কাজ শুরু করায় আর পড়াশোনা শেষ করা হয়নি। অবশেষে ৯৮ বছর বয়সে এসে সেই অসম্পূর্ণ অধ্যায়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেলেন হাইস্কুলের ডিপ্লোমা সনদ। সম্প্রতি ডালাস সেন্টারের একটি নার্সিং হোমে লিটলকে চমকে দিতে হাজির হন স্থানীয় ডালাস সেন্টার-গ্রাইমস স্কুল জেলার কর্মকর্তারা। সেখানে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ১৯৪৬ সালের শ্রেণির জন্য সম্মানসূচক ডিপ্লোমা। এত বছর পর ডিপ্লোমা হাতে পেয়ে লিটল জানান, অবশেষে তিনি স্নাতক হওয়ার অনুভূতি পাচ্ছেন। স্কুলজীবন শেষ করতে না পারলেও শিক্ষার সঙ্গে লিটলের সম্পর্ক কখনো শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন তিনি কৃষিকাজ করেছেন। নিজের প্রয়াত স্ত্রী এলেনরকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। প্যানোরামা হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহায়তা করতে তিনি বহু বছর ধরে অর্থ দিয়ে আসছেন। প্যানোরামা স্কুল জেলার তত্ত্বাবধায়ক কেসি হিউবনার জানান, গত ১৫ থেকে ১৮ বছরে লিটল শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তা করেছেন। তার সহায়তায় ১৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এগিয়ে নেওয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে তাকে বিশেষভাবে পরিচিত করেছে। ডালাস সেন্টারে ফিরে নার্সিং হোমে থাকার সময়ও শিক্ষার প্রতি তার এই আগ্রহ অব্যাহত ছিল। নিজের যে স্কুলে পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ হয়নি, সেই ডালাস সেন্টার-গ্রাইমস শিক্ষা ফাউন্ডেশনে তিনি ৫০ হাজার ডলার দান করেছেন। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। স্কুল জেলার তত্ত্বাবধায়ক স্কট ব্লুম বলেন, ১৯৪৬ সালের শ্রেণির জন্য লিটলকে সম্মানসূচক ডিপ্লোমা দিতে পারা তাদের জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত। স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, শিক্ষার্থীদের জন্য তার দীর্ঘদিনের আর্থিক সহায়তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও প্রভাব ফেলবে। লিটল নিজেও শিক্ষার গুরুত্বের কথা বলেছেন। তার মতে, স্কুলের শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের পড়াশোনা শেষ করতে না পারলেও অন্যদের শিক্ষাজীবনে সহায়তা করে গেছেন তিনি। এ কারণেই ৯৮ বছর বয়সে পাওয়া ডিপ্লোমা শুধু তার নিজের শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বীকৃতিই নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য তার দীর্ঘদিনের অবদানেরও একটি বিশেষ স্বীকৃতি হয়ে উঠেছে। ১৯৪৬ সালে যে ডিপ্লোমা পাওয়ার কথা ছিল, সেটি হাতে পেতে পল লিটলকে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় আট দশক। পরিবারকে সহায়তা করার জন্য কৈশোরে পড়ালেখা ছাড়লেও শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ এবং শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার মানসিকতা কখনো থেমে থাকেনি। ৯৮ বছর বয়সে এসে সেই অসমাপ্ত অধ্যায় অবশেষে পূর্ণতা পেল।
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে স্কুলের শিক্ষা সফরে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে ১০ বছরের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আহমেদ ওসমান ও তার ২৪ বছর বয়সী শিক্ষিকা হান্নাহ জর্গেনসেন। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, আইওয়া সিটির বরলগ এলিমেন্টারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ‘স্কুল অব দ্য ওয়াইল্ড’ শিক্ষা সফরের সময় ম্যাকব্রাইড নেচার রিক্রিয়েশন এরিয়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। জনসন কাউন্টি শেরিফের অফিস জানায়, দুপুরের দিকে কোরালভিল রিজার্ভয়ার ও লেক ম্যাকব্রাইডের স্পিলওয়ে এলাকার পানিতে লোকজন থাকার খবর পেয়ে জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটের দিকে একজন প্রাপ্তবয়স্ককে পানি থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে বরলগ এলিমেন্টারির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক হান্নাহ জর্গেনসেন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এরপর পানিতে নিখোঁজ থাকা ১০ বছরের শিক্ষার্থী আহমেদ ওসমানকে খুঁজতে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালানোর পর অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরদিন বুধবার আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হলে দুপুর ১টা ২৪ মিনিটের দিকে কোরালভিল রিজার্ভয়ার থেকে আহমেদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শেরিফের অফিস জানায়, আহমেদ আইওয়া সিটির বাসিন্দা ছিল। ঘটনার সঠিক কারণ কী এবং কীভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী পানিতে পড়ে গেলেন, তা এখনো তদন্তাধীন। জনসন কাউন্টি শেরিফের অফিসের প্রকাশিত তথ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে আহমেদের বাবা মোহাম্মদ ওসমান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, তার ছেলে পানিতে পড়ে যাওয়ার পর হান্নাহ তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, আহমেদকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়েই হান্নাহ পানিতে পড়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত দুজনই মারা যান। এই বিবরণটি পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে; কর্তৃপক্ষ এখনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। হান্নাহ জর্গেনসেন বরলগ এলিমেন্টারিতে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি গার্নার এলিমেন্টারিতে প্যারাএডুকেটর হিসেবে কাজ করেছেন এবং সেখানে প্র্যাকটিকাম ও স্টুডেন্ট টিচিংও সম্পন্ন করেছিলেন। গার্নার এলিমেন্টারির পক্ষ থেকে তাকে শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নশীল ও নিবেদিত শিক্ষক হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। আহমেদের মৃত্যুতে আইওয়া সিটির বাংলাদেশি ও সুদানি কমিউনিটিতেও শোক নেমে এসেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে স্মরণ করে একটি ভিজিলের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে আহমেদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। স্বজন ও পরিচিতরা তাকে হাসিখুশি, ভদ্র ও বুদ্ধিমান শিশু হিসেবে স্মরণ করেন। তারা জানান, আহমেদ ফুটবল খেলতে ভালোবাসত। এদিকে ঘটনার পর আইওয়া সিটি কমিউনিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ‘স্কুল অব দ্য ওয়াইল্ড’ কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরবর্তী শিক্ষা সফরগুলো বাতিল করেছে। শিক্ষার্থী ও স্কুল স্টাফদের জন্য কাউন্সেলর এবং অতিরিক্ত সাপোর্ট স্টাফের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানে জনসন কাউন্টি মেট্রো ডাইভ টিম, স্থানীয় ফায়ার ও পুলিশ বিভাগ, আইওয়া ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস, আইওয়া স্টেট প্যাট্রোল, ইউএস আর্মি কর্পস অব ইঞ্জিনিয়ার্সসহ একাধিক সংস্থা অংশ নেয়। ঘটনাটির তদন্ত এখনো জনসন কাউন্টি শেরিফের অফিসের নেতৃত্বে চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে স্কুলের শিক্ষা সফর চলাকালে একটি জলাধার থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক ও তাঁর এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ম্যাকব্রাইড নেচার রিক্রিয়েশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন কোরালভিলের বোরলগ এলিমেন্টারি স্কুলের শিক্ষক হান্না জর্গেনসেন, বয়স ২৪ বছর, এবং শিক্ষার্থী আহমেদ ওসমান, বয়স ১০ বছর। তাঁদের মৃত্যুর পরিস্থিতি তদন্ত করছে জনসন কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে কোরালভিল জলাধারের পানি ছাড়ার স্থানের কাছে দুজন পানিতে থাকার খবর পায় কর্তৃপক্ষ। ওই দিনই হান্নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহমেদের মরদেহ পাওয়া যায় পরদিন। তাঁরা কীভাবে পানিতে পড়েছিলেন, তা কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করেনি। আইওয়া সিটি কমিউনিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, বোরলগ এলিমেন্টারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘স্কুল অব দ্য ওয়াইল্ড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেখানে গিয়েছিল। ঘটনার পর স্কুলের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সহায়তায় কাউন্সেলর রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আইওয়ার গভর্নর কিম রেনল্ডসও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ডালাস সেন্টারের ৯৮ বছর বয়সী পল লিটল জীবনের প্রায় আট দশক পর ফিরে পেলেন তাঁর হাইস্কুলের সনদ। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ না পেলেও দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করে যাওয়া এই প্রবীণকে বৃহস্পতিবার তাঁর নার্সিংহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদটি তুলে দেওয়া হয়। পল লিটল ১৯৪৬ সালে ডালাস সেন্টার হাইস্কুল থেকে স্নাতক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখন তিনি একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে স্কুল ছেড়ে কাজে যোগ দেন। এরপর আর পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ হয়নি তাঁর। বৃহস্পতিবার ডালাস সেন্টারের একটি নার্সিংহোমে তাঁকে চমকে দিয়ে হাইস্কুলের সনদ তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় স্কুল জেলার কর্মকর্তারা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। স্কুল জেলার সুপারিনটেনডেন্ট সনদ নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলে বিষয়টি দেখে বিস্মিত হয়ে যান পল। সনদ পাওয়ার পর পল বলেন, এটি তাঁর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। স্কুল ছেড়ে দেওয়ার পর পল কৃষিকাজ শুরু করেন। পরে তাঁর স্ত্রী এলিনরের সঙ্গে মিলে কাছের একটি হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের সহায়তা করাকে নিজেদের অন্যতম অগ্রাধিকার বানান। গত ১৫ থেকে ১৮ বছরে তিনি শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ধাপের পড়াশোনা ও জীবনের প্রস্তুতিতে সহায়তার জন্য নিয়মিত অর্থ দিয়েছেন। প্যানোরামা কমিউনিটি স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট কেসি হিউবনার জানান, পলের সহায়তায় এ পর্যন্ত ১৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছে। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এসব শিক্ষার্থীর নাম দিয়ে একটি বিশেষ তালিকাও তৈরি করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘পলের হল অব ফেম’। বয়সের শেষ প্রান্তে এসে পল আবার ডালাস সেন্টারে ফিরে আসেন এবং একটি নার্সিংহোমে বসবাস শুরু করেন। সেখানে যাওয়ার সময় তিনি শুধু নিজের স্মৃতি ও ছবিই সঙ্গে নিয়ে আসেননি, শিক্ষার্থীদের জন্যও রেখে গেছেন বড় ধরনের সহায়তা। তিনি স্থানীয় শিক্ষা ফাউন্ডেশনে ৫০ হাজার ডলার দান করেছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা স্কট ব্লাম বলেন, পলের মতো একজন অসাধারণ মানুষকে সম্মান জানাতে তাঁরা সামান্য ভূমিকা রাখতে পেরে আনন্দিত। তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান এখন যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছে, একসময় সেটিই হয়তো তাঁর নিজের শিক্ষাজীবনের অংশ হতে পারত। পল নিজে হাইস্কুলের শিক্ষা শেষ করতে পারেননি। জীবনের প্রয়োজনেই কিশোর বয়সে তাঁকে পড়াশোনা ছেড়ে কাজে নামতে হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী জীবনে নিজের সেই অসম্পূর্ণ শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতাকে অন্য শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরিতে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। ৮০ বছর পর পাওয়া হাইস্কুলের সনদ তাই পলের জন্য শুধু একটি শিক্ষাগত স্বীকৃতি নয়, তাঁর দীর্ঘ জীবনে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে আসার অবদানেরও একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে। সূত্র: স্থানীয় আইওয়া সংবাদমাধ্যম ও প্যানোরামা কমিউনিটি স্কুল
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের একটি 'ভুল বার্তা' ৭৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার জীবন বাঁচিয়েছে। ভাঙা পা নিয়ে বাড়ির সামনের রাস্তায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কাদায় আটকে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ওই ভুল বার্তার সূত্র ধরেই সেখানে পৌঁছান বিদ্যুৎকর্মীরা এবং তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন। আইওয়ার বুন কাউন্টির একটি নির্জন গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন পেনি লামার। গত ১০ জুন রাতে এলাকায় প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি হয়। পরদিন সকালে তিনি তার পোষা কুকুরগুলোকে বাইরে বের করতে এবং ঝড়ে বাড়ির কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা দেখতে বাইরে যান। ডায়াবেটিসের রোগী পেনি বাইরে যাওয়ার ঠিক আগেই ইনসুলিন নিয়েছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেসিসিআই এবং সিএনএন নিউজসোর্স-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেনি লামার বলেন, বাড়ির সামনের রাস্তায় বা ড্রাইভওয়েতে বিশাল এক কাদার স্তূপ ছিল। সেখানে পা পিছলে তিনি মারাত্মকভাবে পড়ে যান। পতন এতটাই আকস্মিক ছিল যে, তার পা শরীরের নিচে বেঁকে যায় এবং তিনি আর উঠতে পারেননি। পেনি লামারের স্বামী সে সময় কানাডায় ভ্রমণ করছিলেন। আর যেহেতু তারা একটি প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় থাকেন, তাই আশেপাশে এমন কোনো প্রতিবেশীও ছিলেন না, যিনি তাকে দেখতে পাবেন বা তার আর্তনাদ শুনতে পাবেন। উঠে দাঁড়াতে বা একটু নড়াচড়াও করতে পারছিলেন না তিনি। এভাবেই কাদায় শুয়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে যায়। পেনি বলেন, "সত্যি বলতে কী, আমি তখন ভাবছিলাম যে এভাবেই এখানে পড়ে থেকে আমাকে মরতে হবে।" কিন্তু ঠিক তখনই ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা। মিডল্যান্ড পাওয়ার কো-অপারেটিভের একটি ট্রাক অপ্রত্যাশিতভাবে তার বাড়ির ড্রাইভওয়েতে এসে থামে। মূলত, কোম্পানির সিস্টেম থেকে একটি স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম বা সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল যে, ওই বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কর্মীরা সেখানে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে পৌঁছে তারা দেখেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। বরং ড্রাইভওয়েতে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে আছেন ওই বৃদ্ধা। পেনি লামারের উরুর হাড় (ফিমার) মারাত্মকভাবে ভেঙে গিয়েছিল। ইনসুলিন নেওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় তার রক্তে শর্করার মাত্রাও বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছিল। এছাড়া অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তিনি মারাত্মক রক্তশূন্যতায় (অ্যানিমিয়া) ভুগছিলেন। বিদ্যুৎকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ কল করেন এবং উদ্ধারকারী দল না আসা পর্যন্ত তার পাশেই অবস্থান করেন। বর্তমানে পেনি লামার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার ক্ষতিগ্রস্ত পায়ে স্ক্রু ও রড বসিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। জীবন বাঁচানোর জন্য তিনি ওই বিদ্যুৎকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। নিজের বেঁচে যাওয়াকে এক অলৌকিক ঘটনা আখ্যা দিয়ে পেনি বলেন, "আমি মন থেকে বিশ্বাস করি যে সৃষ্টিকর্তা রহস্যময় উপায়ে কাজ করেন। এটি ছিল তার তেমনই এক রহস্যময় উপায় তিনিই মূলত বিদ্যুৎকর্মীদের কাছে ওই ভুল বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন।" এদিকে, মিডল্যান্ড পাওয়ার কো-অপারেটিভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যে কর্মীরা ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেছেন, তাদের এই মহান কাজের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা জানানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।