আতশবাজি

ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় অনাগত সন্তানের জন্য সাজানো ঘরে আতশবাজি ছুঁড়ে আগুন, অভিযুক্ত ৩ কিশোরী

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার সিট্রাস হাইটস এলাকায় একটি বাড়ির ভেতরে জ্বলন্ত আতশবাজি ছুঁড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগে তিন কিশোরীর বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগের মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্যাক্রামেন্টোর উত্তরে অবস্থিত ওই এলাকায় গত ৩০ জুন এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।   সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ওই তিন কিশোরী একটি আতশবাজি জ্বালিয়ে সেটি সরাসরি বাড়ির একটি বেডরুমে নিক্ষেপ করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী বাড়ির মালিকরা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ওই কক্ষটি তাদের অনাগত সন্তানের জন্য যত্ন করে সাজানো হয়েছিল, যে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পৃথিবীতে আসার কথা।   খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন কেবল একটি ম্যাট্রেসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে সক্ষম হন। তবে আগুনের তীব্রতায় নবজাতকের জন্য কিনে রাখা কম্বল, বিছানা (ক্রিব) এবং ছোট ছোট জামাকাপড়সহ ঘরের ভেতরের সবকিছু সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কেন ওই কিশোরীরা নির্দিষ্ট করে এই বাড়িটিতেই এমন ভয়ংকর হামলা চালাল, তার পেছনের উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
অবৈধ আতশবাজি বিস্ফোরণে গুরুতর আহত কিশোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজি বিস্ফোরণে দুই কিশোরের হাত গুরুতর জখম, তদন্তের দাবি পরিবারের

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় অবৈধ আতশবাজি বিস্ফোরণে দুই কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের একজনের হাতের একাধিক আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং চিকিৎসকেরা তার হাত রক্ষার চেষ্টা করছেন। ঘটনাটির পর অবৈধ আতশবাজির উৎস খুঁজে বের করতে পুলিশের প্রতি তদন্তের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।   দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট ও সিবিএস নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ জুলাই অরেঞ্জ কাউন্টির অ্যানাহাইমে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের একজনের মা মারিয়া এসকালান্তে জানান, তার যমজ ছেলেদের একজন এবং তার এক বন্ধু রাস্তা থেকে পাওয়া একটি অবৈধ আতশবাজিতে আগুন দিলে সেটি মুহূর্তেই তাদের হাতে বিস্ফোরিত হয়।   বিস্ফোরণে তার ছেলের ডান হাতের কয়েকটি আঙুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তার দুই হাতেই ব্যান্ডেজ করা রয়েছে। মারিয়া এসকালান্তে বলেন, তার ছেলে অন্তত দুই মাস হাসপাতালে থাকতে পারে। চিকিৎসকেরা পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাত বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। তবে অবশিষ্ট আঙুলগুলোতে স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন না থাকলে কিছু আঙুল কেটে ফেলতে হতে পারে বলেও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।   তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন, কিন্তু এখনই কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না। প্রথমে তারা দেখবেন অবশিষ্ট আঙুলে পর্যাপ্ত রক্ত সঞ্চালন রয়েছে কি না। সেটির ওপরই পরবর্তী চিকিৎসা নির্ভর করবে। ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা আহত কিশোরের যমজ ভাই পুরো বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখেছেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।   ঘটনার পর মারিয়া এসকালান্তে অ্যানাহাইমের সাউথ মাউন্টেন ভিউ অ্যাভিনিউ এলাকায় ঘটনাস্থলে ফিরে যান। সেখানে তিনি অবৈধ আতশবাজির বিভিন্ন অংশ খুঁজে পান। এরপর তিনি অ্যানাহাইম পুলিশ বিভাগের প্রতি এই অবৈধ আতশবাজি কোথা থেকে বিক্রি হচ্ছে, তা খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। তার দাবি, অন্য আহত কিশোরের মা তাকে জানিয়েছেন যে প্রতি বছর ওই এলাকায় অবৈধ আতশবাজি বিক্রি হয়। তাই এ বিষয়ে পুলিশকে আরও কঠোর তদন্ত চালানো উচিত।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে আহত অপর কিশোরের দুই হাতও গুরুতরভাবে জখম হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজির কারণে প্রতিবছরই বহু দুর্ঘটনা ঘটে। ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ-এর ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, আতশবাজি-সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় ওই বছর অঙ্গরাজ্যজুড়ে ৭১৮ জন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন এবং আরও ২০০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।   এছাড়া সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ায় নিষিদ্ধ আতশবাজির বড় একটি অংশ পাশের নেভাডা অঙ্গরাজ্য থেকে অবৈধভাবে নিয়ে আসা হচ্ছে। গত বছরও স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে অবৈধ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আতশবাজি বিস্ফোরণে আট বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পরও ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
আতশবাজির পর ওয়াশিংটনে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ছবি: সংগৃহীত
৮ লাখ ৫০ হাজার আতশবাজির পর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বড় শহর ওয়াশিংটন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছিল অস্বাস্থ্যকর বাতাস

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল আতশবাজির প্রদর্শনীর পর কয়েক ঘণ্টার জন্য বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরে পরিণত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি। বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র ৪০ মিনিটের আতশবাজির প্রদর্শনী শহরজুড়ে বায়ুদূষণের মাত্রা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে কর্তৃপক্ষ জনস্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করতে বাধ্য হয়।   বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্ল্যারিটি মুভমেন্ট মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজি প্রদর্শনীর পর বাতাসে ক্ষুদ্র কণার (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম) ঘনত্ব স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৬ দশমিক ৭ গুণ বেড়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটি ওয়াশিংটনজুড়ে স্থাপিত ২৬টি বায়ুমান পর্যবেক্ষণ যন্ত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল প্রকাশ করেছে। এসব যন্ত্র স্থানীয় জ্বালানি ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়।   গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, শহরের প্রতিটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বায়ুর মান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যাকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) 'সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে বিবেচনা করে। কয়েকটি এলাকায় দূষণের মাত্রা এর চেয়েও বেশি ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আতশবাজি প্রদর্শনী শেষ হওয়ার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর, রোববার ভোর ৪টার দিকে দূষণের মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর আরও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বায়ুদূষণ উচ্চমাত্রায় স্থায়ী ছিল। পরিস্থিতির কারণে ওয়াশিংটন ডিসি কর্তৃপক্ষ 'কোড রেড' সতর্কতা জারি করে।   সতর্কবার্তায় বলা হয়, প্রবীণ, শিশু এবং শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য বাইরের বাতাস স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি সাধারণ মানুষও স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।   গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ওয়েস্ট পোটোম্যাক পার্কে আতশবাজি নিক্ষেপের একটি প্রধান স্থান থাকার পাশাপাশি রাতের আবহাওয়ার কারণে ধোঁয়া ওই এলাকায় আটকে থাকায় দূষণ বেশি হয়েছে। ক্ল্যারিটি মুভমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড লু বলেন, দূষিত বাতাস সম্ভবত প্রতিবেশী ভার্জিনিয়ার আর্লিংটন এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সেখানে পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণ যন্ত্র না থাকায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তার ভাষায়, এই ঘটনাই দেখিয়ে দেয় কেন তাৎক্ষণিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করা জরুরি। পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকলে বড় ধরনের দূষণের ঘটনা অনেক সময় অজানাই থেকে যায়। বিশ্লেষকরা আরও বলেছেন, রোববার সন্ধ্যায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বাতাসের দূষণ কিছুটা কমে আসে এবং সম্ভাব্য আরও বড় সংকট এড়ানো সম্ভব হয়।   এবারের স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ আতশবাজি প্রদর্শনীর আয়োজন করে ট্রাম্প-সমর্থিত অলাভজনক সংস্থা ফ্রিডম ২৫০। আয়োজকদের দাবি, শনিবার রাত ১১টায় শুরু হওয়া প্রদর্শনীতে রাজধানীর ১০টি স্থান থেকে ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি আতশবাজি ফোটানো হয়। তুলনামূলকভাবে ওয়াশিংটনে সাধারণ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রায় ১৭ হাজার আতশবাজি ব্যবহার করা হয়।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রদর্শনীকে 'তার দেখা সবচেয়ে দর্শনীয় আতশবাজির অনুষ্ঠান' বলে মন্তব্য করেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার এয়ারনাউ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, আতশবাজি প্রদর্শনীর পর কিছু সময়ের জন্য বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে ওয়াশিংটনের বায়ুমান ছিল সবচেয়ে খারাপ।   এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স বলেন, এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের সবচেয়ে বড় আতশবাজির প্রদর্শনী। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছরই স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজির পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে স্বল্প সময়ের জন্য বায়ুদূষণ বেড়ে যায়। এবারের ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়।   অন্যদিকে আমেরিকান লাং অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর প্রায় ৩০ কোটি পাউন্ড আতশবাজি ব্যবহার করা হয়। এসব আতশবাজি থেকে সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইডসহ ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন গ্যাস ও সূক্ষ্ম কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।   পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় আকারের আতশবাজির প্রদর্শনী স্বল্প সময়ের জন্য হলেও বায়ুমানের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের জন্য এ ধরনের দূষণ তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
মেরিল্যান্ডের হলিউড শহরে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আগুনে পুড়তে থাকা বাড়িতে ১০ বছরের সন্তানকে খুঁজতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে আগুনে পুড়তে থাকা নিজের বাড়িতে ১০ বছর বয়সী সন্তানকে খুঁজতে আবারও ভেতরে প্রবেশ করে প্রাণ হারিয়েছেন এক বাবা। পরে জানা যায়, শিশুটি নিরাপদেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল। এদিকে তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের সময় ব্যবহৃত আতশবাজির অবশিষ্টাংশ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।   মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের অফিস অব দ্য স্টেট ফায়ার মার্শাল জানিয়েছে, রোববার রাতে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রায় ৬০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত হলিউড শহরের একটি দ্বিতল বাড়িতে আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।   জরুরি ফোন পেয়ে একাধিক অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির ভেতরে একটি শিশু আটকা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।   ফায়ার মার্শালের কার্যালয় জানায়, আগুন লাগার পর শিশুটির বাবা তাকে খুঁজে বের করার জন্য আবারও বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর দমকলকর্মীরা বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেন।   পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, ১০ বছর বয়সী শিশুটি আগেই নিরাপদে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং সে শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে।   তদন্তকারীরা নিহত ব্যক্তিকে বাড়ির মালিক এবং শিশুটির বাবা হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তবে পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করবে মেরিল্যান্ড অফিস অব দ্য চিফ মেডিকেল এক্সামিনার।   আগুন লাগার কারণ এখনো তদন্তাধীন। তবে স্টেট ফায়ার মার্শালের কার্যালয় জানিয়েছে, ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া স্পার্কলার আতশবাজি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় পরিবারটি বাড়ির বাইরে মাটিতে ব্যবহারযোগ্য স্পার্কলার আতশবাজি ব্যবহার করেছিল। পরে সেগুলো বাড়ির পেছনের ঢাকা বারান্দায় রাখা একটি ময়লার পাত্রে ফেলে দেওয়া হয়।   তদন্তকারীদের ধারণা, ফেলে দেওয়ার পরও আতশবাজিগুলোতে পর্যাপ্ত তাপ থেকে যেতে পারে। সেই তাপ ময়লার পাত্রে থাকা দাহ্য বস্তুতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সেখান থেকেই আগুন দ্রুত পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।   ঘটনার পর ফায়ার কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, ব্যবহারের পর নিভে গেছে মনে হলেও আতশবাজি দীর্ঘ সময় তাপ ধরে রাখতে পারে। তাই ব্যবহৃত আতশবাজি বা স্পার্কলার ফেলে দেওয়ার আগে ভালোভাবে পানিতে ভিজিয়ে নিতে হবে। এরপর সেগুলো বাইরে আগুন-প্রতিরোধী পাত্রে কিছু সময় ঠান্ডা করে তারপর ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।   ভারপ্রাপ্ত স্টেট ফায়ার মার্শাল জেসন মাউব্রে এক বিবৃতিতে বলেন, "এই পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তদন্ত চললেও সবাইকে মনে রাখতে হবে, আতশবাজির প্রদর্শনী শেষ হলেও এর ঝুঁকি শেষ হয় না। ব্যবহারের পর সঠিকভাবে আতশবাজি নিষ্পত্তি করলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।"

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
শিকাগোতে অবতরণের সময় আতশবাজির আঘাতে পড়ে ডেল্টা এয়ারলাইন্সের এয়ারবাস এ৩১৯ উড়োজাহাজ। ছবি: সংগৃহীত
শিকাগোয় নামার আগে আতশবাজির আঘাতে ডেল্টার উড়োজাহাজ, অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়াল

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে আতশবাজির উৎসব চলাকালে একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। শিকাগোতে অবতরণের প্রস্তুতির সময় ডেল্টা এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে আতশবাজির আঘাত লাগে। তবে পাইলটের দক্ষতায় উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং এতে থাকা ৫২ জন যাত্রী ও ৬ জন ক্রু সদস্যের কেউ আহত হননি।   বিবিসি জানিয়েছে, শনিবার রাতে ডেল্টা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১০৭৬ জর্জিয়ার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে ইলিনয়ের শিকাগো মিডওয়ে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়। স্থানীয় সময় রাত প্রায় সাড়ে ৮টার দিকে অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি একটি আতশবাজির সংস্পর্শে আসে।   ডেল্টা এয়ারলাইন্সের একজন মুখপাত্র জানান, অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি সম্ভবত একটি আতশবাজির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এরপরও বিমানটি নিরাপদে রানওয়েতে অবতরণ করে এবং নিজস্ব শক্তিতে গেট পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের অডিওতেও ঘটনাটির উল্লেখ রয়েছে। সেখানে পাইলট বলেন, "আমাদের উড়োজাহাজে একটি আতশবাজি আঘাত করেছে। প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় আমরা একটি বড় ধাক্কা অনুভব করেছি। আশা করছি এটি নিচ থেকে ছোড়া একটি মর্টার ধরনের আতশবাজি ছিল।"   ঘটনার আগে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা পাইলটকে জানান, বিমানবন্দরের অবতরণপথের কাছাকাছি বেশ কয়েকটি বাড়ি থেকে আতশবাজি ছোড়া হচ্ছে এবং এ ধরনের একাধিক অভিযোগ ইতোমধ্যেই পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি শিকাগো পুলিশকে জানানো হয়েছে। শিকাগো পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি একটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে উড়োজাহাজের বাইরের অংশের রঙের সামান্য ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।   অন্যদিকে ডেল্টা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, অবতরণের পর এয়ারবাস এ৩১৯ উড়োজাহাজটি বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়। এতে কাঠামোগত বা নিরাপত্তাজনিত কোনো ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)-ও ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে প্রতিবছর বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বড় আকারে আতশবাজির প্রদর্শনী হয়। পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও বিপুল পরিমাণ আতশবাজি ফোটানো হয়, যা অনেক সময় পর্যাপ্ত তদারকি ছাড়াই পরিচালিত হয়।   এবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ বিভিন্ন শহরে বিশেষ আয়োজন করা হয়। ওয়াশিংটন ন্যাশনাল মলে ৪০ মিনিটব্যাপী আতশবাজির প্রদর্শনীর জন্য কাছাকাছি রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দরে কয়েক ঘণ্টার জন্য উড়োজাহাজ চলাচলও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজির প্রদর্শনীর সময় ব্রুকলিন ব্রিজের কয়েকটি অংশে আগুন দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজির প্রদর্শনীর মাঝেই ব্রুকলিন ব্রিজে আগুন

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী মেসির ফোর্থ অব জুলাই আতশবাজির প্রদর্শনী চলাকালে ব্রুকলিন ব্রিজের কয়েকটি অংশে অল্প সময়ের জন্য আগুন ধরে যায়। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   শনিবার (৪ জুলাই) রাতে ইস্ট রিভারের ওপর আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে ব্রুকলিন ব্রিজ থেকেও আতশবাজি নিক্ষেপ করা হচ্ছিল। এ সময় সেতুর অন্তত তিনটি স্থানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, আতশবাজি আকাশে বিস্ফোরিত হওয়ার পাশাপাশি সেতুর একটি অংশ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং সেখানে আগুন জ্বলছে।   নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, আগুনের ঘটনাগুলো প্রায় এক মিনিটের মধ্যেই নিভে যায়। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া সেতুর কতটা ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এবারের আতশবাজির আয়োজন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আয়োজনগুলোর একটি। নিউইয়র্কের আকাশ আলোকিত করতে ৮৫ হাজারের বেশি আতশবাজি ব্যবহার করা হয়। ইস্ট রিভার, হাডসন নদী এবং ব্রুকলিন ব্রিজসহ ২০০টিরও বেশি স্থান থেকে আতশবাজি ও আলোক প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।   ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আগুনের দৃশ্য দেখা গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আতশবাজির প্রদর্শনীর সময় ব্যবহৃত পাইরোটেকনিক সরঞ্জাম থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।   নিউইয়র্কে স্বাধীনতা দিবসের এই আয়োজন দেখতে হাজারো মানুষ ইস্ট রিভার ও ব্রুকলিন ব্রিজের আশপাশে জড়ো হয়েছিলেন। আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হয়নি এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আতশবাজির প্রদর্শনী শেষ হয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজির বিস্ফোরণে নিহত ৮ বছর বয়সী জেসমিন এনগুয়েন | ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ আতশবাজির বিস্ফোরণে ৮ বছরের শিশুর মৃত্যু, এক বছর পর অভিযুক্ত পারিবারিক বন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনের সময় অবৈধ আতশবাজির বিস্ফোরণে ৮ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রায় এক বছর পর অভিযুক্ত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।   অরেঞ্জ কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৪৭ বছর বয়সী আর্ল ডিকাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার বুয়েনা পার্কে প্রতিবেশীদের নিয়ে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তার ছোড়া অবৈধ আতশবাজির বিস্ফোরণেই মারা যায় ৮ বছর বয়সী জেসমিন এনগুয়েন।   তদন্তে জানা গেছে, জেসমিন, তার মা হ্যালি এনগুয়েন এবং ৭ বছর বয়সী বোন ডিকাস্ত্রোর বাড়ির ড্রাইভওয়েতে দাঁড়িয়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আতশবাজির প্রদর্শনী দেখছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ডিকাস্ত্রো প্রায় ৪০০ ডলারের একটি অবৈধ ‘কেক’ ধরনের আতশবাজি জ্বালান। পেশাদার মানের বিস্ফোরকযুক্ত এই আতশবাজি ব্যবহারের জন্য বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে সেটি বিকল হয়ে মর্টার শেল সরাসরি ড্রাইভওয়ের দিকে ছুটে আসে। এতে উপস্থিত লোকজন প্রাণ বাঁচাতে বাড়ির ভেতরে ছুটে যান।   জেসমিনের মা হ্যালি এনগুয়েন অরেঞ্জ কাউন্টি রেজিস্টারকে বলেন, “সবকিছু এত দ্রুত ঘটেছিল। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দের দিন মুহূর্তেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। অনেকের জুতার ভেতর দিয়েও রক্ত বের হচ্ছিল।”   জেসমিন পরিবারের সঙ্গে এমন একটি টেবিলের পাশে বসেছিল, যেখানে আরও কিছু অব্যবহৃত আতশবাজি রাখা ছিল। বিস্ফোরণের ফলে সেগুলোতেও আগুন ধরে যায়। বাড়ির ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার আগেই গুরুতর আহত হয় শিশুটি। পরে তাকে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া আরভিন মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি।   হ্যালি এনগুয়েন নিজেও ওই বিস্ফোরণে আহত হন। তিনি বলেন, “আমি ভাবতেই পারিনি ও আর থাকবে না। আমি কিছুই করতে পারিনি। মাসের পর মাস শুধু বসে থেকেছি। এখন আমি তাকে জড়িয়ে ধরতে পারি না, তার কণ্ঠও শুনতে পাই না। সবকিছু অনেক বেশি নীরব।”   শোকের মধ্যেও হ্যালি এনগুয়েন আগে জানিয়েছিলেন, তিনি ডিকাস্ত্রোর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ চান না। তার ভাষায়, “আমি কোনো অভিযোগ আনার পক্ষে নই। এটা সত্যিই একটি দুর্ঘটনা ছিল।” তবে প্রসিকিউটররা ভিন্ন অবস্থান নেন। ডিকাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, বেপরোয়াভাবে আগুন লাগিয়ে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি এবং ১০০ পাউন্ডের বেশি অবৈধ আতশবাজি রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।   কেন ঘটনার প্রায় এক বছর পর অভিযোগ গঠন করা হলো, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। দোষী সাব্যস্ত হলে ডিকাস্ত্রোর সর্বোচ্চ ছয় বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।   অরেঞ্জ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি টড স্পিটজার বলেন, “অবৈধ আতশবাজি কেনা ও ব্যবহার করার মধ্যে কোনো দুর্ঘটনা নেই। আট বছরের একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং যার কারণে এই মৃত্যু ঘটেছে, তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। কয়েক সেকেন্ডের আনন্দ কোনো শিশুর জীবন বা আজীবনের শোকের বিনিময়ে হতে পারে না।”

তাবাস্সুম জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজি গুদামে বিস্ফোরণ: ৭ জন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি অবৈধ আতশবাজি গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে সাতজন নিহতের ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ১ জুলাই এসপার্টো এলাকার কাছে এই বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও দুইজন আহত হন। তদন্তে উঠে এসেছে, গুদামটিতে আইনবহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ আতশবাজি মজুত রাখা হয়েছিল।   প্রধান অভিযুক্ত স্যামুয়েল মাচাডো, যিনি ওই গুদামের মালিক এবং ইয়োলো কাউন্টি শেরিফ দপ্তরের সাবেক লেফটেন্যান্ট ছিলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি নিজের প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কার্যক্রম আড়াল করে আসছিলেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে যেখানে ১৩টি কনটেইনার ছিল, তা বেড়ে গত বছর ৫০টিতে পৌঁছায়।   এই ঘটনায় আরও যাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে তারা হলেন—কেনেথ চি, জ্যাক লি, গ্যারি চ্যান জুনিয়র এবং ডগলাস টোলেফসেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন আতশবাজি ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং গুদামটি ব্যবহার করতেন সংরক্ষণ ও বিক্রির কাজে।   অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মোট আটজনের বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হত্যা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অবৈধ বিস্ফোরক রাখা, বীমা জালিয়াতি, শিশু বিপন্ন করা এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা।   এ ঘটনায় স্যামুয়েল মাচাডোর স্ত্রী ট্যামি মাচাডোকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তবে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকি, বন্ধক জালিয়াতি এবং পরিবারের পাশে অবৈধ বিস্ফোরক রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।   তদন্তকারীরা জানান, বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশপাশের বাড়ির দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা এটিকে ‘বোমা বিস্ফোরণের মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন।   ঘটনায় নিহতদের মধ্যে কয়েকজন গুদামের কর্মী ছিলেন। বিস্ফোরণের পর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজি উৎসব বাতিল করতে বাধ্য হয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দায়ীদের আদালতে হাজির করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Unknown এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

ফিলাডেলফিয়ায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মাহফুজুল হক | ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ডোরড্যাশে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মাহফুজুল হক

তাবাস্সুম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০