সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজি গুদামে বিস্ফোরণ: ৭ জন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৬:২১
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি অবৈধ আতশবাজি গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে সাতজন নিহতের ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ১ জুলাই এসপার্টো এলাকার কাছে এই বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও দুইজন আহত হন। তদন্তে উঠে এসেছে, গুদামটিতে আইনবহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ আতশবাজি মজুত রাখা হয়েছিল।

 

প্রধান অভিযুক্ত স্যামুয়েল মাচাডো, যিনি ওই গুদামের মালিক এবং ইয়োলো কাউন্টি শেরিফ দপ্তরের সাবেক লেফটেন্যান্ট ছিলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি নিজের প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কার্যক্রম আড়াল করে আসছিলেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে যেখানে ১৩টি কনটেইনার ছিল, তা বেড়ে গত বছর ৫০টিতে পৌঁছায়।

 

এই ঘটনায় আরও যাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে তারা হলেন—কেনেথ চি, জ্যাক লি, গ্যারি চ্যান জুনিয়র এবং ডগলাস টোলেফসেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন আতশবাজি ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং গুদামটি ব্যবহার করতেন সংরক্ষণ ও বিক্রির কাজে।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মোট আটজনের বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হত্যা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অবৈধ বিস্ফোরক রাখা, বীমা জালিয়াতি, শিশু বিপন্ন করা এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা।

 

এ ঘটনায় স্যামুয়েল মাচাডোর স্ত্রী ট্যামি মাচাডোকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তবে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকি, বন্ধক জালিয়াতি এবং পরিবারের পাশে অবৈধ বিস্ফোরক রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

তদন্তকারীরা জানান, বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশপাশের বাড়ির দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা এটিকে ‘বোমা বিস্ফোরণের মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন।

 

ঘটনায় নিহতদের মধ্যে কয়েকজন গুদামের কর্মী ছিলেন। বিস্ফোরণের পর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজি উৎসব বাতিল করতে বাধ্য হয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দায়ীদের আদালতে হাজির করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আইলি ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে সহকর্মীর চায়ে রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগ উঠেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সহকর্মীর চায়ে বিষ মিশিয়ে চীনে পালানোর সময় লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার গবেষক

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠীর চায়ে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগে চীনা বংশোদ্ভূত এক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইলি ওয়াং নামের ৩২ বছর বয়সী ওই গবেষককে গত ৬ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সহকর্মীর গবেষণা ও পেটেন্ট নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। পরে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পর চীনে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বরাতে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ওয়াইয়োমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের লারামি ক্যাম্পাসে অণুজীববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর গবেষণা করছিলেন ওয়াং ও তাঁর সহপাঠী। আদালতের নথিতে ওই সহপাঠীকে ‘কে.টি.’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর গবেষণার সঙ্গে রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং পেটেন্টের বিষয় যুক্ত ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওয়াংয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো ছিল না। দুজনের গবেষণার ক্ষেত্র আলাদা হলেও একই কার্যালয় ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতেন তাঁরা।   ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন কে.টি. অস্বাভাবিক শারীরিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্ক গোমেলস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর থেকেই ওই শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়। নিজের ডেস্কে থাকা ছোট কফি মেশিনে চা তৈরি করে পান করার সময় তিনি অস্বাভাবিক স্বাদও অনুভব করতেন। মেশিনটি পরিষ্কার করলে সেই স্বাদ চলে যেত, যা নিয়ে তাঁর সন্দেহ তৈরি হয়।   পরে কে.টি.-এর স্ত্রী ও অন্যরা কফি মেশিনের পানিতে রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি পরীক্ষা করেন। তাঁদের সংগ্রহ করা নমুনায় অ্যাক্রিলামাইড নামের একটি রাসায়নিক শনাক্ত হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। অ্যাক্রিলামাইড বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহৃত হলেও নির্দিষ্ট মাত্রায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওয়াং অনলাইন বিপণনমাধ্যম ইবে থেকে এই রাসায়নিক দুবার কিনেছিলেন। তবে রাসায়নিকটি কেনা এবং সেটি সহকর্মীর চায়ে মেশানোর অভিযোগের মধ্যে যোগসূত্র আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি।   তদন্তের অংশ হিসেবে কে.টি. ও বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ তাঁদের যৌথ কার্যালয়ে নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করেন। পুলিশি হলফনামা অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বরের ভিডিওতে ওয়াংকে সহকর্মীর ডেস্ক ঘাঁটতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর ১ অক্টোবরের আরেকটি ভিডিওতে তাঁকে ডেস্কের নোটবুক নিয়ে নাড়াচাড়া করতে, সেগুলোর ছবি তুলতে এবং নিজের কাপ থেকে তরল নিয়ে সহকর্মীর মগ ধুতে দেখা গেছে বলে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন। এসব দৃশ্য ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত এগিয়ে নেয়।   তদন্তকারীদের ধারণা, সহকর্মীর গবেষণার নথি নিয়ে ওয়াংয়ের আগ্রহের বিষয়টিও ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। আদালতের নথি অনুযায়ী, কে.টি.-এর গবেষণায় ক্যানসার, স্নায়বিক রোগ ও জিনগত রোগের চিকিৎসায় নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সম্ভাবনা ছিল এবং সেই গবেষণার কয়েকটি পেটেন্টের আবেদন প্রক্রিয়াধীন ছিল। ওয়াং চীনে থাকাকালে একই ধরনের গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে গবেষণার তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ এবং রাসায়নিক প্রয়োগের অভিযোগের মধ্যে সম্পর্ক কী, তা বিচারপ্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হবে।   ওয়াশিংটন ও অন্যান্য মার্কিন সরকারি মহল বহু বছর ধরে চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগ তুলে আসছে। তবে ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে চলমান মামলাটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত ঘটনার অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। এ ঘটনায় চীন সরকারের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। তাই একজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে কোনো দেশের সামগ্রিক আচরণের প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।   ওয়াংকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর সঙ্গে একাধিক ল্যাপটপ, বহনযোগ্য ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ যন্ত্র এবং বিভিন্ন নথিপত্র ছিল বলে প্রসিকিউটরদের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সামগ্রী তদন্তকারীদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, অ্যাক্রিলামাইড কেনার পর ওয়াং ইবেকে তাঁর অ্যাকাউন্ট মুছে দেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছিলেন। আদালতের নথিতে তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবীর নাম উল্লেখ ছিল না। এপি ইমেইল ও লিংকডইনের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পায়নি।   মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ওয়াং লস অ্যাঞ্জেলেসে জামিন ছাড়াই আটক ছিলেন। ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক হামলা ও আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। ওয়াইয়োমিংয়ের অ্যালবানি কাউন্টির সার্কিট কোর্টের বিচারক রবার্ট স্যানফোর্ড প্রসিকিউটরদের আবেদনের পর তাঁর জামিনের অঙ্ক বাড়িয়ে ১৫ লাখ ডলার নগদ নির্ধারণ করেছেন। তাঁকে কবে ওয়াইয়োমিংয়ে নেওয়া হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোমেলস্কি এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে দুই শিক্ষার্থীই গবেষণা করতেন। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এবং অন্য শিক্ষার্থী এ ঘটনার জন্য দায়ী হয়ে থাকতে পারেন, এমন পরিস্থিতি তাঁর পেশাগত জীবনের অন্যতম বড় ধাক্কা। কে.টি. পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন কি না, সে বিষয়েও তিনি অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিক্ষার্থী ক্লান্তি, মনোযোগের সমস্যা এবং বাঁ হাতে অনুভূতি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গে ভুগছিলেন বলে অধ্যাপক জানিয়েছেন।   ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার ও যৌথ কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, গবেষণার গোপনীয়তা এবং সহকর্মীদের মধ্যে বিরোধ সামলানোর বিষয়গুলো সামনে এনেছে। তবে মামলার অভিযোগ ও তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়া জরুরি। ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয় এবং তাঁর পক্ষের বক্তব্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), দ্য গার্ডিয়ান।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২২:২১
নিউইয়র্কের কুইন্সে ১৪ বছর বয়সী মালাকি অ্যাডামস হত্যার ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কের কুইন্সে স্কুটার ছিনিয়ে নিতে ১৪ বছরের কিশোরকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১৭ বছরের সন্দেহভাজন

পোষা প্রাণী রাখার সুবিধাসহ আটটি সাশ্রয়ী অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন নেওয়া হচ্ছে নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং কানেক্ট ব্যবস্থায়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কের কুইন্সে মাসে মাত্র ৮৬৯ ডলার ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট, আবেদন করা যাবে ২ নভেম্বর পর্যন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থ ও সরকারি দায়িত্ব নিয়ে নতুন জরিপে নাগরিকদের মতামত উঠে এসেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

দেশের চেয়ে নিজের সম্পদ বাড়ানোয় ট্রাম্পের বেশি মনোযোগ, মনে করেন অধিকাংশ মার্কিন

কারাগারে ধর্মীয় অনুশীলন ও শিক্ষার সুযোগ কিছু বন্দির ব্যক্তিগত পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ জীবন গঠনের প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ইসলাম গ্রহণের হার বাড়ছে, ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বন্দি ইসলাম গ্রহণ করেছেন

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। কারাগারে থাকা অবস্থায় ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠা অনেক বন্দি ইসলাম গ্রহণ করছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ইসলামি শিক্ষাবিষয়ক সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে দেশটির সব কারাগারের ধর্মীয় পরিচয়ের হালনাগাদ তথ্য একত্র করা হয় না। ফলে এ পর্যন্ত কতজন বন্দি ইসলাম গ্রহণ করেছেন কিংবা প্রতি বছর কতজন এই ধর্ম গ্রহণ করছেন, তার নির্ভরযোগ্য জাতীয় হিসাব পাওয়া কঠিন।   যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটির কারাগারগুলোতে প্রতি বছর বহু বন্দি ইসলাম গ্রহণ করছেন। প্রতিবেদনে ইসলাম গ্রহণের কারণ, কারাগারে ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ এবং বন্দিদের জীবনে বিশ্বাসের ভূমিকা তুলে ধরা হয়। সেখানে টায়বা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা রামি নসুরের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দিদের ইসলামি শিক্ষা ও ধর্মীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন।   বন্দিদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন অনুমান প্রচলিত রয়েছে। কিছু পুরোনো হিসাব ও অনলাইন প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারগুলোতে কয়েক লাখ মুসলিম বন্দির কথা বলা হয়েছে। কোথাও কোথাও বছরে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার বন্দির ইসলাম গ্রহণের অনুমানও উল্লেখ করা হয়। তবে এসব সংখ্যার ভিত্তিতে দেশব্যাপী যাচাই করা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তাই ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার বন্দি ইসলাম গ্রহণ করেছেন, কিংবা প্রতি বছর নির্দিষ্টসংখ্যক বন্দি এ ধর্ম গ্রহণ করেন, এমন তথ্যকে নিশ্চিত জাতীয় পরিসংখ্যান হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।   যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে মুসলিম বন্দির অনুপাত সাধারণ জনসংখ্যার তুলনায় বেশি বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত মুসলিম অ্যাডভোকেটসের এক প্রতিবেদনে ৩৫টি অঙ্গরাজ্য ও সংশ্লিষ্ট বিচারব্যবস্থা থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব স্থানে কারাবন্দিদের প্রায় ৯ শতাংশ নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে সব অঙ্গরাজ্যের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে এই হারকে যুক্তরাষ্ট্রের সব কারাগারের নির্ভুল জাতীয় গড় হিসেবে ধরা যায় না।   কারাগারে ইসলাম গ্রহণের পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ নিয়ে আলোচনা করেছেন গবেষক, ধর্মীয় শিক্ষক ও কারাবন্দিদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। কারাগারের জীবন সাধারণত কঠোর নিয়ম, সীমিত স্বাধীনতা এবং পরিবার ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্নতার মধ্যে কাটে। এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে মানসিক স্থিরতা, জীবনের অর্থ এবং নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা খুঁজে পান। তবে প্রত্যেক বন্দির অভিজ্ঞতা এক নয়, আর ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্তও ব্যক্তিভেদে ভিন্ন কারণে হয়ে থাকে।   ইসলামের নিয়মিত ইবাদত ও জীবনাচরণ অনেক বন্দির কাছে শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন গঠনের একটি উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রমজানে রোজা রাখা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমে কেউ কেউ দৈনন্দিন জীবনে নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তোলেন। একই বিশ্বাসের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হওয়ায় তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক বন্ধনও গড়ে উঠতে পারে। কারাগারের সীমাবদ্ধ পরিবেশে এমন একটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কিছু বন্দির কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।   ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিবর্তনের সম্পর্কও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। কারাগারে থাকা অবস্থায় নিজের অতীত, সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে ভাবার সুযোগ পান অনেকে। তাঁদের কেউ কেউ ধর্মীয় শিক্ষা থেকে আত্মসংযম, দায়িত্ববোধ ও অন্যের প্রতি সহমর্মিতার শিক্ষা গ্রহণের কথা জানান। তবে শুধু ধর্ম গ্রহণ করলেই কারও আচরণ বদলে যাবে বা পুনরায় অপরাধে জড়ানোর ঝুঁকি কমবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা বিবেচনা করা প্রয়োজন।   এই ক্ষেত্রে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান টায়বা ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর লক্ষ্য কারাগারে থাকা এবং মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ইসলামি শিক্ষা, ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও পুনর্বাসনে সহায়তা দেওয়া। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, তারা বন্দিদের উপযোগী পাঠ্যক্রম তৈরি করেছে এবং চিঠিপত্র ও দূরশিক্ষণের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এর পাঠ্যক্রমে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, ধর্মীয় অনুশীলন, নৈতিকতা ও ব্যক্তিগত উন্নয়নের বিষয় রয়েছে।   টায়বা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো কারাগারের ভেতর থেকেই শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা। কারাগারে বই, শিক্ষক কিংবা ধর্মীয় শিক্ষার উপকরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বন্দি সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েন। এ ধরনের বাধা কমাতে সংস্থাটি দূরশিক্ষণ, পাঠ্যসামগ্রী এবং শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে। সংস্থাটির মতে, বন্দিদের শেখার সুযোগ তৈরি করা এবং মুক্তির পর সমাজে ফিরে আসার প্রস্তুতি নেওয়াই তাদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইসলাম গ্রহণের পর কিছু বন্দি নিজেদের আচরণ ও জীবন সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেন। প্রতিবেদনে মুহাম্মদ আমিন অ্যান্ডারসনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি দীর্ঘ কারাবাসের সময় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং পরে ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হন। ২০২৫ সালের ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, পূর্ণ সাজা শেষে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি টায়বা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগত পরিবর্তনের একটি উদাহরণ হলেও, সেটিকে সব বন্দির ক্ষেত্রে একই রকম ফলাফলের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না।   কারাগারে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রে বন্দিদের ধর্ম পালনের অধিকার থাকলেও বাস্তবে বিভিন্ন কারাগারে ধর্মীয় খাবার, প্রার্থনার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। মুসলিম বন্দিদের ধর্মীয় অনুশীলন নিয়ে প্রকাশিত গবেষণায়ও বিভিন্ন কারাগারে সুযোগ-সুবিধার অসমতার বিষয়টি উঠে এসেছে। ফলে ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি কারাবন্দিদের ধর্মীয় অধিকার এবং শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।   সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ইসলাম গ্রহণের ঘটনা ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত পরিচয়, সামাজিক বন্ধন ও পুনর্বাসনের মতো কয়েকটি বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে। কিছু বন্দি ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে শৃঙ্খলা ও আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে পান, আবার কেউ কেউ শিক্ষার মাধ্যমে মুক্তিজীবনের প্রস্তুতি নেন। তবে ইসলাম গ্রহণকারী বন্দির মোট সংখ্যা এবং বার্ষিক ধর্মান্তরের হার সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যের অভাব রয়েছে। তাই প্রচলিত বড় সংখ্যাগুলোকে নিশ্চিত পরিসংখ্যান হিসেবে না ধরে, যাচাই করা গবেষণা ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিষয়টি মূল্যায়ন করাই যুক্তিযুক্ত।   সূত্র: সিবিএস নিউজ, মুসলিম অ্যাডভোকেটস, টায়বা ফাউন্ডেশন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২০:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা, গাড়ি ব্যবহার, সন্তানদের শিক্ষা ও অবসর জীবনের ব্যয়সহ আমেরিকান ড্রিম পূরণে আজীবন খরচ ৫৩ লাখ ডলারের বেশি হতে পারে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকান ড্রিম’ পূরণে আজীবন খরচ ৫৩ লাখ ডলারের বেশি

নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, আইন পাসের অপেক্ষায়

নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, আইন পাসের অপেক্ষায়

ফুসফুসের অস্ত্রোপচারের পর পোপ লিওর ক্যানসার নিশ্চিত করল ভ্যাটিকান

ফুসফুসের অস্ত্রোপচারের পর পোপ লিওর ক্যানসার নিশ্চিত করল ভ্যাটিকান

বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছিল, এর মধ্যেই স্ত্রী-কন্যাকে গুলি করে হ ত্যা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার
বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছিল, এর মধ্যেই স্ত্রী-কন্যাকে গুলি করে হ ত্যা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার

যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ফ্রান্সিসকোর সাবেক ডেপুটি পুলিশ চিফ অ্যান ম্যানিক্স (৬৫) এবং তার ২৪ বছর বয়সী মেয়ে কেটি ম্যানিক্সকে গুলি করে হত্যা করেছেন অ্যানের স্বামী এবং সাবেক পুলিশ সার্জেন্ট কেভিন ম্যানিক্স (৬৮)। পরে তিনি নিজেও আত্মহত্যা করেন। গত রোববার রাতে মেরিন কাউন্টির একটি অভিজাত এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে শোক এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে নতুন কিছু তথ্য সামনে আনা হয়েছে।   অ্যান ম্যানিক্সের ভাতিজা ব্রেন্ডান ম্যানিক্স ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে তার খালা ও কাজিনকে স্মরণ করেন। তিনি তার খালা অ্যান ম্যানিক্সকে স্যান ফ্রান্সিসকো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (SFPD) একজন 'পথপ্রদর্শক' হিসেবে উল্লেখ করেন, যিনি বিভাগের অন্যান্য নারীদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন।   ব্রেন্ডান তার কাজিন কেটিকে একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী নার্স হিসেবে স্মরণ করেন, যিনি সর্বদা প্রিয়জনদের উৎসাহ দিতেন। একইসঙ্গে তিনি তার খালু কেভিন ম্যানিক্সের এই 'অর্থহীন সহিংস কাজের' তীব্র সমালোচনা করেন, যা তাদের পুরো পরিবারকে তছনছ করে দিয়েছে।   স্যান ফ্রান্সিসকো পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (SFPD) এবং মেরিন কাউন্টি শেরিফ অফিস এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার বিকেল ৫টার পর জরুরি কলে খবর পেয়ে তারা স্ট্রবেরি সার্কেল এলাকার একটি বাড়িতে পৌঁছায় এবং তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে। তবে কমিউনিটির জন্য কোনো হুমকি নেই বলে জানানো হয়েছে।   অ্যান ম্যানিক্স ২০১৮ সালে ফিল্ড অপারেশনস ব্যুরোর ডেপুটি চিফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৯ সালে স্পেশাল অপারেশনস ব্যুরোর দায়িত্ব পান। তিনি এসএফপিডি-র সোয়াট (SWAT) টিমে কাজ করা প্রথম নারী ছিলেন। অপরদিকে, কেভিন ম্যানিক্স ২৭ বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০১৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন। পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, অ্যান এবং কেভিনের মধ্যে সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না এবং সম্প্রতি তাদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়াও চলছিল। তবে পরিস্থিতি এতটা ভয়ানক রূপ নিতে পারে, তা কেউ ধারণাও করতে পারেননি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৮:১৮
ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা, ট্রেজারি বিভাগের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ

ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা, ট্রেজারি বিভাগের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক গয়না চুরি, অবশেষে আইসিইর হাতে ধরা পড়ল রোমানিয়ান দম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক গয়না চুরি, অবশেষে আইসিইর হাতে ধরা পড়ল রোমানিয়ান দম্পতি

মুক্তির আনন্দ টিকল মাত্র তিন মিনিট, আদালতের নির্দেশে ছাড়া পেয়েই ফের আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী

মুক্তির আনন্দ টিকল মাত্র তিন মিনিট, আদালতের নির্দেশে ছাড়া পেয়েই ফের আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী

0 Comments