আমেরিকা

অরেগন এ মায়ের হাত থেকে ৭ বছরের শিশুকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় এক নগ্ন ব্যক্তির

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৪, ২০২৬ ১:৫৬
অরেগন এ মায়ের হাত থেকে ৭ বছরের শিশুকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা
অরেগন এ মায়ের হাত থেকে ৭ বছরের শিশুকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডে নদীতীরবর্তী একটি পার্কে বেড়াতে এসে দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হলো একটি পর্যটক পরিবার। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নগ্ন অবস্থায় থাকা এক ব্যক্তি সাত বছরের এক শিশুকন্যাকে তার মায়ের কাছ থেকে জোর করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত পথচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

 

পোর্টল্যান্ড পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে টম ম্যাককল ওয়াটারফ্রন্ট পার্কে এক নগ্ন ব্যক্তি দৌড়াদৌড়ি করছেন এবং পথচারীদের হয়রানি করছেন—এমন একাধিক অভিযোগ আসে। একজন কলকারী জানান, ওই ব্যক্তি তাকে মাথায় ঘুষি মারারও চেষ্টা করেন। তবে সে সময় অন্য জরুরি ঘটনায় ব্যস্ত থাকায় পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি।

 

প্রায় ১২ মিনিট পর আরেকটি জরুরি ফোনে জানানো হয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি সাত বছরের শিশুকন্যার হাত ধরে তাকে তার মায়ের কাছ থেকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাছের উইলামেট নদীতে সাঁতার কাটতে থাকা সন্দেহভাজনকে আটক করে।

 

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম ৩১ বছর বয়সী ড্যানিয়েল ভেসি। তার বিরুদ্ধে প্রথম ও দ্বিতীয় ডিগ্রির অপহরণের চেষ্টা, প্রথম ডিগ্রির কাস্টডিয়াল ইন্টারফিয়ারেন্স, তৃতীয় ডিগ্রির হামলা এবং হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে মাল্টনোমা কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়েছে।

 

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ভেসি শিশুটির একটি হাত ধরে টানতে শুরু করলে তার মা অন্য হাত ধরে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। টানাহেঁচড়া এতটাই তীব্র ছিল যে একপর্যায়ে শিশুটি মাটি থেকে ওপরে উঠে যায়।

 

এ সময় শিশুটির বাবা এবং আশপাশে থাকা কয়েকজন পথচারী দ্রুত এগিয়ে এসে অভিযুক্তকে ঘুষি, থাপ্পড় ও ধাক্কা দিয়ে শিশুটিকে তার কবল থেকে মুক্ত করেন। একজন পথচারী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেপার স্প্রেও ব্যবহার করেন।

 

পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটি গুরুতর আহত হয়নি। ঘটনাস্থলে চিকিৎসাকর্মীরা তাকে পরীক্ষা করে শরীরে থাকা সামান্য আঁচড়ের চিকিৎসা দেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন পড়েনি।

 

শিশুটির পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, তারা অন্য একটি অঙ্গরাজ্য থেকে পোর্টল্যান্ডে বেড়াতে এসেছিলেন। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের মতে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
অরেগন এ মায়ের হাত থেকে ৭ বছরের শিশুকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা
অরেগন এ মায়ের হাত থেকে ৭ বছরের শিশুকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় এক নগ্ন ব্যক্তির

যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডে নদীতীরবর্তী একটি পার্কে বেড়াতে এসে দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হলো একটি পর্যটক পরিবার। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নগ্ন অবস্থায় থাকা এক ব্যক্তি সাত বছরের এক শিশুকন্যাকে তার মায়ের কাছ থেকে জোর করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত পথচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।   পোর্টল্যান্ড পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে টম ম্যাককল ওয়াটারফ্রন্ট পার্কে এক নগ্ন ব্যক্তি দৌড়াদৌড়ি করছেন এবং পথচারীদের হয়রানি করছেন—এমন একাধিক অভিযোগ আসে। একজন কলকারী জানান, ওই ব্যক্তি তাকে মাথায় ঘুষি মারারও চেষ্টা করেন। তবে সে সময় অন্য জরুরি ঘটনায় ব্যস্ত থাকায় পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি।   প্রায় ১২ মিনিট পর আরেকটি জরুরি ফোনে জানানো হয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি সাত বছরের শিশুকন্যার হাত ধরে তাকে তার মায়ের কাছ থেকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাছের উইলামেট নদীতে সাঁতার কাটতে থাকা সন্দেহভাজনকে আটক করে।   গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম ৩১ বছর বয়সী ড্যানিয়েল ভেসি। তার বিরুদ্ধে প্রথম ও দ্বিতীয় ডিগ্রির অপহরণের চেষ্টা, প্রথম ডিগ্রির কাস্টডিয়াল ইন্টারফিয়ারেন্স, তৃতীয় ডিগ্রির হামলা এবং হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে মাল্টনোমা কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়েছে।   পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ভেসি শিশুটির একটি হাত ধরে টানতে শুরু করলে তার মা অন্য হাত ধরে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। টানাহেঁচড়া এতটাই তীব্র ছিল যে একপর্যায়ে শিশুটি মাটি থেকে ওপরে উঠে যায়।   এ সময় শিশুটির বাবা এবং আশপাশে থাকা কয়েকজন পথচারী দ্রুত এগিয়ে এসে অভিযুক্তকে ঘুষি, থাপ্পড় ও ধাক্কা দিয়ে শিশুটিকে তার কবল থেকে মুক্ত করেন। একজন পথচারী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেপার স্প্রেও ব্যবহার করেন।   পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটি গুরুতর আহত হয়নি। ঘটনাস্থলে চিকিৎসাকর্মীরা তাকে পরীক্ষা করে শরীরে থাকা সামান্য আঁচড়ের চিকিৎসা দেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন পড়েনি।   শিশুটির পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, তারা অন্য একটি অঙ্গরাজ্য থেকে পোর্টল্যান্ডে বেড়াতে এসেছিলেন। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের মতে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৪, ২০২৬ ১:৫৬
ফিনিক্সজুড়ে ধুলিঝড়ের সতর্কতা

ফিনিক্সজুড়ে ধুলিঝড়ের সতর্কতা, ঘণ্টায় ৩৫ মাইল বেগে এগোচ্ছে বিশাল ধুলোর দেয়াল

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়া পরিবার

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়া পরিবার, শেষ বিদায়ের সব খরচ বহন করলেন অজ্ঞাত দাতা

ইরানি বংশসূত্রে আটক পুরো পরিবার

গ্রিন কার্ড থাকলেও উপায় নেই: ইরানি বংশসূত্রে আটক পুরো পরিবার

পলাতক আসামি ধরতে গিয়ে গুলিতে নিহত মার্কিন ডেপুটি ইউএস মার্শাল
পলাতক আসামি ধরতে গিয়ে গুলিতে নিহত মার্কিন ডেপুটি ইউএস মার্শাল, সন্দেহভাজন আটক

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের আলেকজান্দ্রিয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়ে গুলিতে নিহত হয়েছেন এক ডেপুটি ইউএস মার্শাল। সোমবার বিকেলে অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।   মার্কিন ইউএস মার্শালস সার্ভিস জানিয়েছে, রোববার নয়, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ৩টার দিকে র্যাপিডস প্যারিশ শেরিফের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এবং ইউএস মার্শালস ভায়োলেন্ট অফেন্ডার টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা আলেকজান্দ্রিয়ার রাটল্যান্ড রোড এলাকায় এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের অভিযান পরিচালনা করছিলেন। এ সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং এতে এক ডেপুটি ইউএস মার্শাল প্রাণ হারান।   ইউএস মার্শালস সার্ভিস জানিয়েছে, অভিযানে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ডেপুটি মার্শালের হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে এফবিআই। অন্যদিকে গোলাগুলির ঘটনাটি নিয়ে পৃথক তদন্ত করছে র্যাপিডস প্যারিশ শেরিফের কার্যালয়।   এফবিআইয়ের নিউ অরলিন্স ফিল্ড অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাস্থলে আলেকজান্দ্রিয়া পুলিশ বিভাগ, র্যাপিডস প্যারিশ শেরিফের কার্যালয় এবং লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে তারা। তদন্ত চলমান থাকায় এ মুহূর্তে ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হচ্ছে না।   মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস (এটিএফ)-এর সাবেক অ্যাসোসিয়েট ডেপুটি ডিরেক্টর টম চিট্টাম বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি। কারণ, যাদের গ্রেপ্তার করতে যাওয়া হয় তারা সাধারণত জানে যে তাদের খোঁজা হচ্ছে এবং অনেকেই আত্মসমর্পণের পরিবর্তে প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।   যুক্তরাষ্ট্রে ইউএস মার্শালস সার্ভিস ফেডারেল আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, বিচার বিভাগের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং উচ্চ ঝুঁকির অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এ ধরনের অভিযানে প্রাণহানার ঘটনা দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৪, ২০২৬ ০:২০
সেলিব্রিটির ছবি দিয়ে Facebook-এ বিনিয়োগের ফাঁদ

সেলিব্রিটির ছবি দিয়ে Facebook-এ বিনিয়োগের ফাঁদ, অবসরের সঞ্চয় হারালেন মার্কিন দম্পতি

লটারির মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীরা বিভিন্ন আকারের অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ পাবেন। ছবি: সংগৃহীত

নিউ ইয়র্কে সাশ্রয়ী মূল্যে ফ্ল্যাট কেনার সুবর্ণ সুযোগ, ২ হাজার ডলারের কমেই কেনা যাবে নিজস্ব ফ্ল্যাট

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহ আরও বিস্তৃত করার প্রস্তুতি চলছে। ছবি: সংগৃহীত

ভিসা যাচাইয়ে ১০ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া তথ্য, বিদেশি কর্মী নিয়োগে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ঋণ অনুমোদনের আগে আবেদনকারীর আয় ও পরিশোধ সক্ষমতা আরও সতর্কভাবে যাচাইয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
কাগজপত্রহীন কর্মীদের ঋণে বাড়তি যাচাই, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোকে নতুন সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি নেই—এমন ব্যক্তিদের ঋণ দেওয়ার সময় আয় ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা আরও সতর্কভাবে যাচাই করতে ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়নগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে তিনটি ফেডারেল আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে এই নির্দেশনা নতুন কোনো আইন নয় এবং কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের ঋণ দেওয়া নিষিদ্ধও করা হয়নি।   Office of the Comptroller of the Currency, Federal Deposit Insurance Corporation এবং National Credit Union Administration সোমবার যৌথভাবে নির্দেশনাটি প্রকাশ করে। সংস্থাগুলো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে কাজের আইনি অনুমোদন নেই—এমন কোনো ঋণগ্রহীতার আয় তুলনামূলকভাবে অনিশ্চিত হতে পারে। ফলে তাঁর ঋণ পরিশোধের উৎসও ব্যাংকের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনুমোদনহীন কর্মসংস্থান থেকে আয় করা ব্যক্তি চাকরি হারাতে পারেন, ভবিষ্যতে বৈধভাবে কাজ করতে না-ও পারেন অথবা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণের মুখে পড়তে পারেন। এসব কারণে নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে গেলে বাড়ি, গাড়ি, ব্যক্তিগত ঋণ বা অন্য কোনো ঋণের কিস্তি পরিশোধ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।    তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ব্যাংকগুলোকে কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির আবেদনকারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যান করতে বলেনি। বরং ঋণ দেওয়ার আগে আবেদনকারীর আয় কতটা স্থিতিশীল, চাকরি ধরে রাখার সম্ভাবনা, বিদ্যমান ঋণের চাপ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করতে বলা হয়েছে।    নির্দেশনাটি বাধ্যতামূলক নতুন বিধি নয়। এতে ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়নগুলোকে তাদের বিদ্যমান ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণের ঝুঁকি শনাক্ত, পরিমাপ, পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে এবং নিরাপদ ঋণ যাচাই পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।    এ পদক্ষেপের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রত্যেক অভিবাসী বা অ-নাগরিকের ঋণ আবেদন বাড়তি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। নির্দেশনাটি বিশেষভাবে তাঁদের আয় নিয়ে, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগত কর্মানুমতি ছাড়া কাজ করছেন। গ্রিন কার্ডধারী, বৈধ ওয়ার্ক পারমিটধারী, কর্মভিসাধারী কিংবা অন্যভাবে কাজের অনুমোদন থাকা ব্যক্তিদের একই শ্রেণিতে রাখা হয়নি।    Reuters জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোকে সব হিসাবধারীর নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন আগে আরও কঠোর ব্যবস্থা বিবেচনা করছে বলে ব্যাংক খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত নির্দেশনা ঋণ যাচাইয়ের ঝুঁকির ওপর জোর দিলেও সবার নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করেনি।    নির্দেশনাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মে মাসে সই করা “Restoring Integrity to America’s Financial System” নির্বাহী আদেশের আলোকে জারি করা হয়েছে। ওই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে অপসারণযোগ্য বা প্রবেশে অযোগ্য ব্যক্তিদের আর্থিক সেবা ও ঋণ দেওয়ার কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বলা হয়েছিল।   নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ব্যাংক ও ঋণদাতাদের Consumer Financial Protection Bureau-এর ৮ জুনের নির্দেশনাও বিবেচনা করতে বলেছে। সেখানে Truth in Lending Act এবং Equal Credit Opportunity Act-এর অধীনে ঋণগ্রহীতার পরিশোধ সক্ষমতা যাচাই ও বৈষম্য না করার আইনি দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ ঋণের ঝুঁকি যাচাই করা গেলেও আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ভোক্তা সুরক্ষা ও বৈষম্যবিরোধী আইন মানতে হবে।    নতুন নির্দেশনার বাস্তব প্রভাব ব্যাংক ও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণ আবেদনের সময় কাজের অনুমতি, চাকরির স্থায়িত্ব এবং আয়ের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে বেশি প্রমাণ চাইতে পারে। তবে নির্দেশনায় সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একক কোনো নথি বা আলাদা নাগরিকত্ব যাচাই ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়নি।    যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বৈধ কর্মানুমতির নথি হালনাগাদ রাখা। গাড়ি, বাড়ি বা ব্যক্তিগত ঋণের আবেদন করার সময় চাকরির চিঠি, সাম্প্রতিক পে-স্টাব, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ট্যাক্স রিটার্ন এবং বৈধ কাজের অনুমতির প্রমাণ প্রস্তুত থাকলে আয় ও পরিশোধ সক্ষমতা দেখানো সহজ হতে পারে।   কেউ বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও শুধু জাতীয়তা বা অভিবাসী পরিচয়ের কারণে ঋণ আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলে মনে করলে ঋণদাতার কাছ থেকে প্রত্যাখ্যানের লিখিত কারণ চাইতে পারেন। কারণ নতুন নির্দেশনা ব্যাংকগুলোকে সামগ্রিকভাবে অভিবাসীদের ঋণ বন্ধ করার অনুমতি দেয়নি; এটি মূলত আয় ও ঋণ পরিশোধের ঝুঁকি যথাযথভাবে যাচাইয়ের নির্দেশনা।   সোমবারের ঘোষণার পর এখন নজর থাকবে ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়নগুলো নির্দেশনাটি বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করে। অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে কাগজপত্রহীন কর্মীদের ঋণ পাওয়া কঠিন হতে পারে, তবে কোনো আবেদন শুধু অভিবাসন পরিচয়ের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার নতুন নিয়ম জারি হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ২২:৪৮
মিশিগানে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস প্রাদুর্ভাবের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে লেটুস ও সালাদ শাকসবজি তদন্ত করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত

মিশিগানে সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের প্রাদুর্ভাব, লেটুস কেনা ও খাওয়ায় সতর্কতার পরামর্শ

নিউইয়র্কে Jobs NYC-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুটি বড় চাকরি মেলা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে বিশাল কর্মী নিয়োগ মেলা, অন-স্পট ইন্টারভিউ ও সরাসরি চাকরির সুবর্ণ সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের অধীন ইউএসসিআইএস এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। ছবি: সংগৃহীত

শেষ মুহূর্তে বাড়ল কয়েক লাখ অভিবাসীর ওয়ার্ক পারমিট

0 Comments