সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সহজ ভাষায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর জীবনী লেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শনিবার (৭ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, কয়েক বছর আগে হজ পালন করার পর ধর্মীয় বিষয়ে জানার প্রতি তার আগ্রহ বেড়ে যায়। সে সময় তিনি মহানবী (সা.)–এর জীবনী নিয়ে বেশ কয়েকটি বই পড়েন এবং সেখান থেকেই সহজ ভাষায় নবীজির জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি বই লেখার প্রবল ইচ্ছা তার মনে জন্ম নেয়। আসিফ নজরুল বলেন, সম্ভাব্য বইটিতে তিনি শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ নয়, মানুষের পথপ্রদর্শক হিসেবে মহানবী (সা.)–এর ভূমিকার পাশাপাশি ব্যবসা, যুদ্ধ পরিচালনা, কূটনীতি, রাষ্ট্র পরিচালনা ও মানবাধিকারের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার অসামান্য সাফল্য তুলে ধরতে চান। তবে তিনি স্বীকার করেন, এটি একটি বড় ও কঠিন কাজ। তবুও সাহস করে তিনি এ বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু দেশে সরকার পরিবর্তনের পর তার ব্যক্তিগত জীবনেও বড় পরিবর্তন আসে, ফলে লেখালেখি তো দূরের কথা, বিষয়টি নিয়ে ভাবার মতো সময়ও তিনি পাননি। বর্তমানে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে তার মনে সেই পুরোনো ইচ্ছা আবার জেগে উঠেছে এবং ইনশাআল্লাহ তিনি কাজটি শুরু করবেন। পোস্টের শেষে তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল তার বিরুদ্ধে ছড়ানো দুর্নীতির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, এক বছর আগে ইউটিউবে একটি গুজব ছড়ানো হয় যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনেছেন এবং পরিবারসহ সেখানে চলে গেছেন। কিন্তু তিনি জানান, এমন কোনো সম্পত্তি তার নেই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কেউ বাড়ি কিনলে তার রেকর্ড থাকে এবং তা গোপন রাখা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিক, ইউটিউবার ও সংশ্লিষ্টদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন—যদি যুক্তরাষ্ট্রে তার বাড়ির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তা প্রকাশ করতে। তার দাবি, এই চ্যালেঞ্জ দেওয়ার প্রায় আট মাস পার হলেও কেউ তার নামে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বাড়ি বা সম্পত্তির প্রমাণ দেখাতে পারেনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ তো দূরের কথা, বিশ্বের অন্য কোনো দেশেও তার কোনো বাড়ি বা সম্পত্তি নেই। আসিফ নজরুল আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের পর হঠাৎ করে তার ও কয়েকজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে নতুন করে দুর্নীতির গুজব ছড়ানো শুরু হয়েছে। প্রথমে কিছু অনলাইন মাধ্যমে এসব প্রচারিত হয়, পরে তা বিভিন্ন মাধ্যমে কপি করে ছড়ানো হয়। ফেসবুক পোস্টে তিনি তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেন— প্রথমত, তিনি দাবি করেন, জীবনে কখনো কোনো ধরনের দুর্নীতি করেননি। সরকারি দায়িত্বে থাকাকালে বা অন্য সময়েও তিনি এক টাকাও দুর্নীতি করেননি এবং তার কোনো নতুন ব্যাংক হিসাব বা সম্পদ তৈরি হয়নি। দ্বিতীয়ত, তিনি স্বজনপ্রীতির অভিযোগও অস্বীকার করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি দায়িত্বে থাকাকালে প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলেও সেখানে তার কোনো আত্মীয়কে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তৃতীয়ত, তিনি এলাকাপ্রীতির অভিযোগও নাকচ করেন। উপদেষ্টা থাকাকালে তিনি নিজের গ্রাম বা বেড়ে ওঠা এলাকায় যাননি বলেও উল্লেখ করেন। তবে নিয়ম মেনে লালবাগ শাহী মসজিদের উন্নয়ন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ উন্নয়নে অনুদান আনতে সহায়তা করেছেন বলে জানান। পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, বহু বছর ধরে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপবাদ দেওয়া হয়েছে, তবে তিনি বিশ্বাস করেন সত্য শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা হিসেবে রাজধানীর হেয়ার রোডের যে সরকারি বাসায় ছিলেন আসিফ নজরুল, নতুন সরকার দায়িত্বগ্রহণ করায় সেটি ছাড়ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে বাসা ছাড়ার কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, বাসাটির প্রতি মায়া জন্মে গেছে। আসিফ নজরুল লিখেছেন, হেয়ার রোডের এই বাসায় ওঠার সময় জায়গাটি খুব বড় হওয়ায় আপন মনে হয়নি এবং শুরুতে সবার মন খারাপ ছিল। সরকারি বাসায় ওঠার কারণে সন্তানদেরও মন খারাপ হয়েছিল, কারণ ফুলার রোডের বন্ধুদের থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে বাসা ছাড়ার সময় এই জায়গার প্রতি মায়া তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, দু-একদিনের মধ্যে তারা বাসাটি ছেড়ে যাবেন। ঝোপঝাড়, রোদ-ছায়া, চিলের ডানা আর বিশাল আকাশের জন্য এই বাসার প্রতি আলাদা মায়া অনুভব করছেন বলে জানান তিনি। পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, বিদায় হেয়ার রোড। অন্তর্বর্তী সরকারে আইন উপদেষ্টার পাশাপাশি আসিফ নজরুল প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা এবং পরে ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন। তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ কার্যকর হলে তিনি ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।
আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল নিজের দায়িত্বকালের দুই বছরের গুরুত্বপূর্ণ কাজের বিবরণ সম্প্রতি ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১২টায় তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘আসিফ নজরুল কি করেছে?’ শিরোনামে পোস্টে এ সব তথ্য তুলে ধরেন। আসিফ নজরুল জানান, মন্ত্রণালয়ে তিনি সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্বে না থাকলেও প্রতিটি কর্মকাণ্ডে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন এবং গভীর রাতে পর্যন্ত অফিসে থাকেন, সপ্তাহান্তেও কাজ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সমালোচনা করতে চাইলে করুক, তবে আগে কার্যক্রমগুলো জেনে নিক। কী কাজ করা হয়েছে? ১. আইনি সংস্কার: আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশ: গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা, সাক্ষীর সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ, ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা প্রবর্তন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ: যোগ্যতা ও সুযোগের ভিত্তিতে বিচারপতি নিয়োগের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব বিচার বিভাগের হাতে। বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ: দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, ভার্চুয়াল শুনানি, অনলাইন মামলা ব্যবস্থাপনা। মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন: OPCAT বাস্তবায়ন, কমিশনার নিয়োগে স্বচ্ছতা। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ: তদন্ত, শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের সংজ্ঞা নির্ধারণ। জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ: প্রতিরোধকারীদের সুরক্ষা, মামলা প্রত্যাহার ও নতুন মামলা দায়ের নিষিদ্ধ। দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন সংশোধন: গ্রেফতার, রিমান্ড ও বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন: পৃথক ট্রাইব্যুনাল, সাক্ষী সুরক্ষা ও দ্রুত বিচার। সাইবার সুরক্ষা, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, বিবাহ নিবন্ধন, DCC, পুলিশ সংস্কার, টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধনীসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২. প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া উন্নয়ন। তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন, অনলাইন সাক্ষ্যগ্রহণ ও ই-কজলিস্ট কার্যক্রম। ই-ফ্যামিলি কোর্ট, অনলাইন বেইলবন্ড, আদালতের নাম সংশোধন, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত পৃথকীকরণ। নিবন্ধন অধিদপ্তরের ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিতকরণ। ৩. হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার: জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ও সাইবার আইনের আওতায় দায়ের প্রায় ২৪,০০০ মামলা প্রত্যাহার। রাজনৈতিক, হয়রানিমূলক মামলা থেকে মুক্তি পায় লক্ষাধিক মানুষ। ৪. গণহত্যার বিচার ও প্রসিকিউশন সহায়তা: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক ও প্রসিকিউটরদের নিয়োগ, বিচার প্রক্রিয়ার তদারকি। চারটি মামলার রায়, আরও ছয়টি মামলার বিচার চূড়ান্ত পর্যায়ে। ৫. দৈনন্দিন কার্যক্রম: দুই বছরে মন্ত্রণালয়ে ২,২৮১টি নথি নিষ্পত্তি। ৫৭৮টি বিষয়ে আইনি মতামত প্রদান। ১২৭টি অধ্যাদেশ ও এক আদেশ কোডিফাই করা হয়েছে। প্রায় ৫,৫০০ আইন কর্মকর্তাকে নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতি সহ নতুন বিচারক নিয়োগ। আসিফ নজরুলের পোস্টের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, আইন মন্ত্রণালয় এই দুই বছরে আইনি সংস্কার, ডিজিটালাইজেশন ও জনগণের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেনি বাংলাদেশ, তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে কোনো শাস্তি বা আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে না। বরং বাংলাদেশকে ২০২৮–২০৩১ সালের মধ্যে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগও প্রদান করা হচ্ছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই বিশ্বকাপে অন্যান্য দল মাঠে থাকলেও বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আফসোস সৃষ্টি করেছিল। লাহোরে আইসিসি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর এ বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা আসে। বিশ্বকাপে না খেললেও বিসিবির প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হবে এবং টুর্নামেন্টের লাভের অংশও পাবে বাংলাদেশ। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বৈঠকের পর মন্তব্য করেন, বিসিবি যে ক্রিকেট ডিপ্লোমেসি দেখিয়েছে, তার জন্য আইসিসি কোনো শাস্তি দিচ্ছে না। বরং ভবিষ্যতে একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক করা হচ্ছে। এটা একটি দারুণ অর্জন। দেশের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় নেওয়া এই সিদ্ধান্ত উদাহরণ হয়ে থাকবে। সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশকে কলকাতা ও মুম্বাইয়ে চারটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বিসিবি ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ করেছিল। আইসিসি ও বিসিবি নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ অংশ নিতে পারেনি। আসিফ নজরুল আরও বলেন, “এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটার ও বিসিবি নিয়েছে। দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে যে ত্যাগ স্বীকার করা হয়েছে, তা যুগান্তকারী উদাহরণ। শুধু আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট নয়, দেশের ঐতিহ্যবাহী এবং মাঠপর্যায়ের খেলাগুলোকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।”
বাংলাদেশ থেকে ‘গুম’ নামক মানবাধিকারবিরোধী ঘৃণ্য অপরাধকে চিরতরে বিলুপ্ত করার অঙ্গীকার করেছেন আইন ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গুমের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ এবং এই লক্ষ্য অর্জনে যে আইনি ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে, তা আগামী সরকারগুলোকেও অনুসরণ করতে হবে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সে (বিলিয়া) মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার এবং গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা তাদের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা ও সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সশরীর উপস্থিত ছিলেন শিল্প এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান Khan। সভায় ২০১২ সালে গুমের শিকার হওয়া বিএনপি নেতা ফিরোজ খানের স্ত্রী আমেনা আক্তার বৃষ্টি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের গুম হওয়া পরিবারগুলোর জন্য কী করে গেল? আমরা চাই এই সরকার এমন কিছু করে যাক যাতে আগামী সরকার আমাদের পাশে থাকতে বাধ্য হয়।" ভুক্তভোগীদের এই আর্তনাদের জবাবে আসিফ নজরুল সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করতে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। মতবিনিময় সভায় গুম থেকে ফিরে আসা সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মারুফ জামান, শিক্ষক ইকবাল চৌধুরী, রহমত উল্লাহ এবং কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান তাদের নিখোঁজ থাকাকালীন শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কথা বর্ণনা করেন। তারা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর যথাযথ পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আশ্বস্ত করেন যে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ প্রণয়ন এবং নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন এক নতুন আইনি যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে কোনো অপরাধীই পার পাবে না।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে আকস্মিক বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের প্রতি এই অনন্য সংহতি প্রদর্শনের জন্য পাকিস্তান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক এবং ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আসিফ নজরুল তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অত্যন্ত বলিষ্ঠ কণ্ঠে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। গত বুধবার পাকিস্তান মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে শাহবাজ শরিফ স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। কারণ খেলার মাঠে কোনো ধরনের রাজনীতি থাকা উচিত নয়। আমরা খুব ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমি মনে করি এটি একটি অত্যন্ত উপযুক্ত এবং সঠিক সিদ্ধান্ত।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভেন্যু পরিবর্তন ইস্যুতে আইসিসি ও বাংলাদেশের মধ্যে সৃষ্ট টানাপোড়েনের জেরে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আগেই তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছিল। এবার খোদ দেশটির প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান থেকে ভারতকে বয়কটের ঘোষণা দেওয়ায় বিশ্ব ক্রিকেটে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের এই ধন্যবাদ বার্তা দুই দেশের ক্রীড়া ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন এক মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, “আমলারা বাংলাদেশে প্রকৃতিগতভাবে সংস্কারবিরোধী।” তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এটি কি তাদের ব্যক্তিগত দোষ, নাকি প্রশাসনিক সিস্টেমের ত্রুটি, এবং বলেছেন, “আমি জানি না।” সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন। বইটির লেখক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। আমলাদের কাজে হতাশা প্রকাশ করে আসিফ নজরুল বলেন, “আমাদের এখানে যারা তরুণ অফিসার আছে, তাদের স্নেহ করি। আমি তাদের বলি, ‘তুমি কেরানি নও, তুমি অফিসার। স্বাধীন বিচার-বুদ্ধি ও ক্ষমতা থাকতে হবে।’” উপদেষ্টা আরও জানান, প্রশাসনেও থাকাকালীন তিনি জনপ্রিয় ছিলেন, কিন্তু এখন দীর্ঘ সময় কাজ করার পরও দিনে দিনে নানা সমালোচনা সহ্য করতে হয়। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির গল্প অনেক সময় বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না এবং এগুলো শেষ পর্যন্ত বিনোদনের উপকরণে পরিণত হয়। আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি বই কেবল স্মৃতিকথা নয়, এটি রাষ্ট্র, মানবিকতা এবং নাগরিক দায়িত্ব নিয়ে গভীর অন্তর্দৃষ্টি দেয়। তিনি আরও বলেন, এমন লেখা আরও বেশি পাঠকের কাছে পৌঁছানো উচিত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। আরও বক্তব্য রাখেন তথ্য ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।