বেসরকারি বিমান সংস্থা নভোএয়ার কক্সবাজার ভ্রমণে আকর্ষণীয় একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। মাত্র ১,৮১৮ টাকা মাসিক কিস্তিতে দুই রাতের এই ভ্রমণ সুবিধা পাওয়া যাবে। অফারটি আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চালু থাকবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। এই প্যাকেজটি নিতে হলে অন্তত দুইজনের জন্য বুকিং করতে হবে। প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত সুবিধার মধ্যে রয়েছে কক্সবাজারে যাওয়া-আসার বিমান টিকিট (সব ধরনের ট্যাক্স ও সারচার্জসহ), হোটেলে থাকা, বিমানবন্দর থেকে হোটেলে যাতায়াত এবং সাহ্রি অথবা ইফতারের ব্যবস্থা। ছয় মাসে কিস্তিতে অর্থ পরিশোধ করা যাবে এবং এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো সার্ভিস চার্জ বা সুদ দিতে হবে না। দেশের শীর্ষ ২৪টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তির আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে গ্রাহকেরা এ প্যাকেজ কিনতে পারবেন। ভ্রমণকারীরা কক্সবাজারের ১৫টি হোটেলের মধ্যে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী আবাসন বেছে নিতে পারবেন। নির্বাচিত হোটেলের ধরন ও রুমের মান অনুযায়ী প্যাকেজের মূল্য পরিবর্তিত হবে। তালিকাভুক্ত হোটেলের মধ্যে রয়েছে সি প্যালেস, উইনডি টেরেস, গ্রেস কক্স স্মার্ট হোটেল, হোটেল কল্লোল, নিসর্গ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ, বেস্ট ওয়েস্টার্ন বে হিল, কক্স টুডে, লং বিচ হোটেল, ওশান প্যারাডাইস, গ্রিন নেচার রিসোর্ট অ্যান্ড সুইট, সীগাল হোটেল, রামাদা, ডেরা রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা এবং সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা। এ ছাড়া নভোএয়ারের ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার প্রোগ্রাম ‘স্মাইলস’-এর সদস্যরা ভ্রমণের মাধ্যমে পয়েন্ট অর্জন করতে পারবেন। নির্দিষ্ট পরিমাণ পয়েন্ট জমা হলে তারা বিনামূল্যে টিকিটসহ বিভিন্ন সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। অংশীদার বিভিন্ন ব্র্যান্ড থেকেও বিশেষ ছাড় পাওয়া যাবে। নভোএয়ারের ওয়েবসাইটে নিবন্ধনের মাধ্যমে সহজেই স্মাইলস সদস্য হওয়া যায়। বর্তমানে নভোএয়ার ঢাকা থেকে কক্সবাজার ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার-১ আসনের রাজনৈতিক ময়দান এখন টালমাটাল। গত সোমবার চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুকের শেষ নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী তীব্র আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, "এই নির্বাচনে যারা চিহ্নিত ঋণখেলাপি ও ব্যাংক লুটেরাদের মনোনয়ন দিয়েছে, তাদের ন্যূনতম রাজনৈতিক লজ্জা হওয়া উচিত। জামায়াতে ইসলামী এমন এক সংগঠন যেখানে কোনো চাঁদাবাজ বা লুটেরার ঠাঁই নেই।" তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই দেশে ভয়ের রাজনীতির কবর রচিত হয়েছে, তাই কোনো হুমকি-ধমকিতে জনগণ কান দেবে না। জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক চকরিয়া ও পেকুয়ার উন্নয়নের একটি বিশাল ‘রোডম্যাপ’ পেশ করেন। তিনি নির্বাচিত হলে তার প্রধান কাজগুলোর মধ্যে থাকবে: পেকুয়ায় একটি সরকারি কলেজ ও সোনালী ব্যাংক স্থাপন। চট্টগ্রাম-ক্সবাজার মহাসড়ককে আধুনিক ৬ লেনে উন্নীত করা। উপকূলীয় ইউনিয়নগুলো নিয়ে ‘মাতামুহুরী’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন উপজেলা গঠন। চকরিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ। লবণ চাষিদের ওপর দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। আব্দুল্লাহ আল ফারুক ঘোষণা করেন যে, তার লক্ষ্য একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামুক্ত জনপদ গড়ে তোলা যেখানে প্রতিটি মানুষ মর্যাদা নিয়ে বাস করবে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে এই জনপদের আমূল পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। কক্সবাজার জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আখতার আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশিষ্ট ইসলামী গবেষক মাওলানা আলী হাসান ওসামাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে চকরিয়ার এই শেষ জনসভাটি এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোঁড়া গুলিতে আহত ৯ বছর বয়সী শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনানকে বাঁচানো যায়নি। শনিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হুজাইফার মা সাবেকুন নাহার ও চাচা শওকত আলী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই হুজাইফা রাজধানীর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এর আগে গত ১১ জানুয়ারি হোয়াইক্যং তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় বাবা জসিম উদ্দিনের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে মিয়ানমার প্রান্ত থেকে ছোঁড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয় শিশু হুজাইফা। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে উখিয়ার গয়ালমারা এলাকার একটি এনজিও হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেস্থেশিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ সে সময় গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচার করা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে হুজাইফার মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। তবে মস্তিষ্কের চাপ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য হুজাইফাকে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানে শিশুটি। প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে আরাকান আর্মির ছোঁড়া গুলিতে বাংলাদেশি দুই কিশোর আহত হয়েছে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের জিমংখালী ও কাঞ্জর পাড়ার মাঝামাঝি নাফ নদী সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। আহত কিশোরা হলো- টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জর পাড়ার শেখ কামালের ছেলে মো. সোহেল (১৬) এবং একই এলাকার মো. ইউনুসের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (১৭)। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র জানান, সকালে স্থানীয় কিশোর সোহেল ও ওবায়দুল্লাহ নাফ নদীর জিমংখালী ও কাঞ্জর পাড়ার মাঝামাঝি সীমান্তে যায়। এক পর্যায়ে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির ছোঁড়া গুলিতে ওই দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের মাথা, হাত ও পায়ে গুলি লেগেছে। তিনি বলেন, তবে আঘাতের ধরণ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, গুলির আঘাত কোনো ভারী অস্ত্রের নয়। এর আগে ১৩ জানুয়ারি টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্তে আরাকান আর্মির ছোঁড়ার গুলিতে সুমাইয়া হুজাইফা (১১) নামের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে সে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। তার পরের দিন ওই এলাকায় মিয়ানমারের পোঁতা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি যুবক পা হারান।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা