পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা আলোচনার মধ্যেই নতুন একটি জটিলতার খবর সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন মজুতাগারগুলো আরও সুরক্ষিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিছু ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং প্রবেশপথগুলোকে এমনভাবে সুরক্ষিত করা হচ্ছে, যাতে সেখানে পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে যে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, তার একটি বড় অংশ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী পর্যায়ের কাছাকাছি বলে পশ্চিমা দেশগুলোর ধারণা। এই মজুতের পরিমাণ প্রায় আধা টন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগেও এই ভান্ডারগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বর্তমান অবস্থার মতো ছিল না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপায়ে ওই ইউরেনিয়াম জব্দ করার বিষয় বিবেচনা করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বশেষ পদক্ষেপ সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কারণ আলোচনায় থাকা প্রস্তাবগুলোর অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া, ধ্বংস করা অথবা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা।
এদিকে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে হোয়াইট হাউসও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বারবার ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতকে আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।
শুক্রবার মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশ একটি সম্ভাব্য চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। তার দাবি, চুক্তি সম্পন্ন হলে ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে এবং তা অপসারণ বা নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়াও শুরু হবে।
তবে সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও দেখা যাচ্ছে ভিন্নতা। এর মধ্যেই ইরানের একটি আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমে কথিত চুক্তির একটি খসড়া প্রকাশিত হওয়ার পর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি প্রতিবেদনে বর্ণিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে ওই ইউরেনিয়াম উদ্ধার বা স্থানান্তর করা আরও জটিল হয়ে উঠবে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাবেক কর্মকর্তা স্কট রোকার সিএনএনকে বলেন, এমন পরিস্থিতি বাস্তব হলে মজুত উপাদান যাচাই ও অপসারণের কাজ আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে যদি ইরানকে পুরো মজুতের হিসাব দিতে হয়, তাহলে সব উপাদান উদ্ধার করা সম্ভব কি না, সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে। তার মতে, কোনো অংশ যদি অপ্রাপ্য বলে দাবি করা হয়, তাহলে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সন্দেহ থেকেই যাবে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় অংশ মধ্য ইরানের Isfahan Nuclear Technology Center এলাকায় সংরক্ষিত থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই উপাদান জব্দ করার একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করেছিল। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে যদি কোনো সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাহলেও বাস্তবায়নের পর্যায়ে দীর্ঘ কারিগরি আলোচনা প্রয়োজন হবে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম শনাক্ত, যাচাই, অপসারণ এবং নিরাপদভাবে স্থানান্তরের মতো কাজ সম্পন্ন করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন হবে।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে আরও সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটার কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে ভারত সরকার। এ বিষয়ে জবাব দিতে মেটার বৈশ্বিক জননীতি বিভাগের প্রধানকে তলব করেছে দেশটির ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (মেইটি)। মেটা ইতোমধ্যে ঘটনাটিকে একটি প্রযুক্তিগত ভুল বলে স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, পোস্টটি ভুলবশত সীমাবদ্ধ হয়েছিল। পরে সেটি পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং এ ঘটনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে ভারত সরকার বলছে, শুধু ক্ষমা চাইলেই বিষয়টি শেষ হয়ে যাচ্ছে না; কীভাবে এমন ভুল হলো এবং ভবিষ্যতে এটি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুলাই। সেদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তরুণদের উদ্দেশে একটি সেলফি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করা হলে কিছু সময়ের জন্য সেটির দৃশ্যমানতা সীমিত হয়ে যায়। এর ফলে অনেক ব্যবহারকারী ভিডিওটি দেখতে পারেননি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস. কৃষ্ণান বলেন, মেটা ভুল স্বীকার করেছে, যা ইতিবাচক। কিন্তু তাদের দেওয়া ব্যাখ্যায় সরকার সন্তুষ্ট নয়। তার ভাষায়, “তারা বলেছে ভুল হয়েছে এবং ক্ষমাও চেয়েছে। কিন্তু কীভাবে এই ভুল হলো এবং ভবিষ্যতে এটি ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চাই।” সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, মেটা জানিয়েছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট যাচাই ব্যবস্থার একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে মূল পোস্টটিও ভুলবশত সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সরকারের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটির ব্যাখ্যা দিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। তাদের মতে, যদি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কারণেই এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে মেটার উচিত দ্রুত তাদের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি আরও নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য করা। কারণ, কোটি কোটি ব্যবহারকারীর তথ্যপ্রবাহ পরিচালনা করা একটি প্ল্যাটফর্মের কাছ থেকে এ ধরনের ভুল গ্রহণযোগ্য নয়। বিজেপি নেত্রী প্রীতি গান্ধী প্রথম প্রকাশ্যে এ ঘটনাটির সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিও কীভাবে সীমাবদ্ধ করা হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ভারতীয় নাগরিকরা কী দেখবেন বা দেখবেন না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কোনো বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেই। এই ঘটনার মধ্যেই ভারতে মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে ঘিরে সরকারি নজরদারি আরও বেড়েছে। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে প্রস্তাবিত ব্যবহারকারী নাম (ইউজারনেম) সুবিধা এবং ইনস্টাগ্রামে অবৈধ কনটেন্ট নিয়েও প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী ৩ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নীতিমালা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহি নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মেটাসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
অক্সফোর্ডের ভুয়া ডিগ্রি ও জাল সনদে যুক্তরাজ্যের এনএইচএস-এ ১৩ চাকরি, চার বছরের কারাদণ্ড ব্রিটিশ-বাংলাদেশির
প্রতি ৩ জন আমেরিকানের মধ্যে ২ জনই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিপক্ষে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র
আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন’ বলে প্যারিসের রাস্তায় ৩ নারীকে ছুরিকাঘাত
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনে একটি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। আহত আরেকজনকে দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসময় তারা দোকানের ভেতর ঘুমাচ্ছিলেন বলে জানা যায়। ক্লিপ এন ক্লিকস বিস্তারিত আসছে
২৭ বছর পর ভারতকে ইসরায়েলের গোপন সহযোগিতার তথ্য ফাঁস!
বোমা নয়, ইরানকে কাবু করবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা’: ইরান
জাপানে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে উত্তেজনা, অভিবাসন ইস্যুতে নতুন বিভাজনের আশঙ্কা
মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও জোকালো চত্বরের অদূরে সশস্ত্র হামলায় একজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সান্তো দোমিঙ্গো স্কয়ারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকে ‘সরাসরি লক্ষ্য করে চালানো আক্রমণ’ হিসেবে দেখছে দেশটির নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। মেক্সিকো সিটির নাগরিক নিরাপত্তা সচিবালয়ের তথ্যমতে, বেলিসারিও দোমিঙ্গেস ও রিপুবলিকা দে ব্রাসিল সড়কের সংযোগস্থলে মোটরসাইকেলে এসে হামলাকারীরা তিন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আহত দুই ব্যক্তি, দুজনেরই বয়স ৩৯ বছর, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার পরপরই মোটরসাইকেলে করে সন্দেহভাজন হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল ঘিরে অভিযান চালালেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা যায়নি। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল সান্তো দোমিঙ্গো স্কয়ার ঐতিহাসিক কেন্দ্রের একটি ব্যস্ত এলাকা, যা দীর্ঘদিন ধরে জাল নথি তৈরি ও বিক্রির জন্য পরিচিত। যদিও মেক্সিকো সিটির কিছু এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে, রাজধানীর পর্যটন ও প্রশাসনিক কেন্দ্রের এত কাছে এ ধরনের প্রকাশ্য বন্দুক হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। কর্তৃপক্ষ এখনও হামলার উদ্দেশ্য বা নিহত-আহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে প্রাথমিক তদন্তে এটিকে পূর্বপরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য থেকে বিরত রয়েছে মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ।
ভাঙা পায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার, হাসপাতালে নারীর মৃত্যু
কাজ ছাড়াই ২০ বছর সম্পূর্ণ বেতন দেয়ায় সেই কোম্পানির বিরুদ্ধেই করলেন মামলা