- প্রচ্ছদ
- Topic
চিকিৎসক
৫১ বছর বয়সে অবশেষে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৫৩ ব্যাচের এই শিক্ষার্থী ২০০২ সালে এমবিবিএস শেষ করার কথা থাকলেও পড়াশোনায় ২৪ বছরের বিরতির পর ২০২৬ সালে চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষায় পাস করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর চূড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস পরীক্ষার ফল ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়। হাবিবুল্লাহ ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৫৩ ব্যাচে ভর্তি হন। শুরুতে পড়াশোনায় ভালো করলেও একপর্যায়ে নানা জটিলতায় তিনি পিছিয়ে পড়েন। এক শিক্ষকের সঙ্গে বিরোধ, জুনিয়রদের সঙ্গে ক্লাস করার অস্বস্তি এবং পারিবারিক নানা সংকট ধীরে ধীরে তার পড়াশোনায় ছেদ তৈরি করে। একসময় তিনি আর পড়াশোনায় ফিরবেন না বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এর সঙ্গে ছিল পারিবারিক ও আর্থিক চাপ। তাঁর বাবা আবু বকর সিদ্দিক ছিলেন চিকিৎসক এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিভিল সার্জনের দায়িত্ব পালন করেছেন। বড় পরিবারের দায়িত্ব ও সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যেই হাবিবুল্লাহর বেড়ে ওঠা। তাঁর বাবা মারা যান ২০০০ সালে এবং মা মারা যান ২০১৬ সালে। দীর্ঘ ২৪ বছর পর ২০২৩ সালে আবার পড়াশোনা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন হাবিবুল্লাহ। সে সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ছিলেন অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলু। তাঁর সঙ্গে দেখা করে পড়াশোনা শেষ করার ইচ্ছার কথা জানান হাবিবুল্লাহ। দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় ভর্তি হতে প্রায় ২ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হয়। এর মধ্যে ১ লাখ টাকা নিজে দেন হাবিবুল্লাহ। বাকি টাকা জোগাড়ে পাশে দাঁড়ান তাঁর কে-৫৩ ব্যাচের বন্ধু, শিক্ষক ও অন্যরা। এরপর আবার পড়াশোনা শুরু করে শেষ পর্যন্ত এমবিবিএস সম্পন্ন করেন তিনি। চূড়ান্ত পরীক্ষায় পাস করার পর হাবিবুল্লাহ তাঁর বন্ধু ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। দীর্ঘ বিরতির পরও তাদের সহযোগিতা ও নিজের দৃঢ় সংকল্পই তাকে স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি। অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলুর মতে, হাবিবুল্লাহর দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিই এই সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের কেউ বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে পড়লে তাদের প্রতি শিক্ষকদের আরও মনোযোগী হওয়া এবং কার্যকর মেন্টরশিপ ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। এখন ইন্টার্নশিপ শুরু করার অপেক্ষায় আছেন হাবিবুল্লাহ। ভবিষ্যতে সাইকিয়াট্রিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার আগ্রহ থেকেই এই বিষয়ে এগোতে চান তিনি। সূত্র: প্রথম আলো
ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন চিকিৎসক ডা. ইরফান মাহমুদ। কিন্তু জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ থাকায় শরীরে স্যালাইন চলা অবস্থাতেই আবার চেয়ারে বসে রোগীদের চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে তাকে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতের এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। রাত প্রায় ১২টার দিকে জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ ছিল। চিকিৎসকের কক্ষের সামনে রোগী ও স্বজনদের অপেক্ষার মধ্যে খবর আসে, দায়িত্বে থাকা ডা. ইরফান মাহমুদ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কর্তব্যরত নার্স তাকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন। একপর্যায়ে হাতে ক্যানুলা লাগানো অবস্থাতেই জরুরি বিভাগের রোগীদের চিকিৎসা দিতে বসেন তিনি। কালবেলার প্রতিবেদনে ডা. ইরফান মাহমুদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাত সাড়ে ১২টার দিকে দুই থেকে তিনবার বমি হওয়ার পর তিনি অসুস্থ বোধ করেন। তখন তার রক্তচাপ ৬০/৯০-এ নেমে যায় বলে জানান তিনি। পরে নার্সরা তাকে স্যালাইন দেন। তবে জরুরি বিভাগে কয়েকজন গুরুতর রোগী আসায় স্যালাইন চলা অবস্থাতেই তাদের চিকিৎসা দিতে হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। ফলে সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকদের ওপর চাপ বেশি। ডা. ইরফান মাহমুদ জানান, হাসপাতালে ৮৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১৭ জন। কনসালট্যান্ট ছাড়া পাঁচজন চিকিৎসক দুই শিফটে জরুরি বিভাগের রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। পরে রাত প্রায় ৩টার দিকে অন্য একজন চিকিৎসক জরুরি বিভাগের দায়িত্ব নিলে ডা. ইরফান মাহমুদ বাসায় ফেরেন। তিনি বর্তমানে কিছুটা সুস্থ বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন। হাসপাতালে একজন চিকিৎসক নিজে অসুস্থ থাকা অবস্থায় স্যালাইন চলতে চলতেই রোগী দেখার ঘটনায় চিকিৎসক সংকট এবং জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত কর্মচাপের বিষয়টি সামনে এসেছে। সূত্র: সময় নিউজ ডট টিভি
ফ্যাশনে জনপ্রিয় ক্ল’ ক্লিপ গাড়ি দুর্ঘটনার সময় গুরুতর মাথা ও ঘাড়ের আঘাতের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থ্রেডসে চিকিৎসকদের এক আলোচনায় বিষয়টি সামনে আসে। তাদের মতে, দুর্ঘটনার সময় মাথা জোরে সিটের হেডরেস্টে আঘাত করলে মাথার পেছনে লাগানো ক্ল’ ক্লিপের দাঁত বা শক্ত অংশ মাথার ত্বকে ঢুকে যেতে পারে। জরুরি চিকিৎসক ডোরিয়ান ও’লিয়ারি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় মাথা জোরে পেছনের দিকে ছিটকে গেলে ধাতব ক্ল’ ক্লিপ মাথা, ঘাড় ও মাথার ত্বরে গুরুতর আঘাত করতে পারে। এমনকি ক্লিপ মাথার ত্বকে আটকে গিয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে এবং সেটি অপসারণে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। একজন অবসরপ্রাপ্ত আইসিইউ নার্সও একই ধরনের ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় ক্ল’ ক্লিপ মাথার খুলিতে ঢুকে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। আর একজন ডেথ ইনভেস্টিগেটর জানিয়েছেন, গাড়ি চালানোর সময় তিনি নিজে কখনো ক্ল’ ক্লিপ পরেন না। এই আশঙ্কার পেছনে বাস্তব ঘটনার উদাহরণও রয়েছে। ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জিনা পানেসার একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। তার গাড়ি উল্টে যাওয়ার সময় মাথায় থাকা চুলের ক্লিপটি মাথায় ঢুকে যায়। এতে তার মাথার খুলি, মুখ ও চোখের চারপাশে গুরুতর আঘাত লাগে। অস্ট্রেলিয়াতেও একই ধরনের আরেকটি ঘটনা সামনে এসেছে। ২২ বছর বয়সী ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার এল্লা কার্টার গাড়ি দুর্ঘটনায় প্লাস্টিকের ক্ল’ ক্লিপ পরা অবস্থায় গুরুতর কনকাশনে আক্রান্ত হন। তিনি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেন। ক্ল’ ক্লিপ মূলত দ্রুত চুল বাঁধার সুবিধার জন্য ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় অনুষঙ্গ। ১৯৮০-এর দশক থেকেই এর ব্যবহার রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজার দশকের ফ্যাশনের জনপ্রিয়তার সঙ্গে এটি আবারও তরুণদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ফিরে এসেছে। তবে চিকিৎসকদের সতর্কতা মূলত গাড়িতে ক্ল’ ক্লিপ ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে। দুর্ঘটনার সময় মাথা ও হেডরেস্টের মাঝখানে শক্ত কোনো বস্তু থাকলে সেটি আঘাতের মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই গাড়ি চালানো বা যাত্রার সময় এ ধরনের শক্ত ক্লিপের পরিবর্তে নিরাপদ বিকল্প ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
ডান পায়ের পুরোনো সমস্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তীব্র শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত দুদিন ধরে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছেন না। চিকিৎসকের পরামর্শে ইতোমধ্যে ইনজেকশন নেওয়া শুরু করেছেন এবং টানা তিন সপ্তাহ এই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন তার এক স্বজন। রোববার রাতে সাবেক রাষ্ট্রপতির ওই স্বজন জানান, গত দুদিন ধরে মো. সাহাবুদ্দিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে ডান পায়ের পুরোনো সমস্যাটি নতুন করে তীব্র হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তিনি দুদিন ধরে খুবই অসুস্থ। ডান পায়ের পুরোনো সমস্যা বেড়েছে। ইতোমধ্যে ইনজেকশন নিয়েছেন।’ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এই ইনজেকশন একবার নিয়েই শেষ হচ্ছে না। টানা তিন সপ্তাহ তাকে চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন ওই স্বজন। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টানা তিন সপ্তাহ তাকে এই ইনজেকশন নিতে হবে। এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছেন না।’ তবে তার পায়ের সমস্যার সুনির্দিষ্ট রোগ নির্ণয়, কী ধরনের ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে কিংবা নতুন করে কোনো হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। ফলে পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা তথ্যের বাইরে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে অন্য কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা জানিয়ে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে তিনি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন। সে সময় রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা তার অটোনমিক নিউরোপ্যাথি শনাক্ত করেছিলেন। এই সমস্যার কারণে মাঝেমধ্যে তিনি সাময়িকভাবে জ্ঞান হারাতেন। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র ২৪ জুলাই বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পৌঁছানো হয়। বিকেল ৫টা ১ মিনিটে পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পরে সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশ করে তার পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন। মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। কিন্তু স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের পর বঙ্গভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসায় ওঠেন সাবেক রাষ্ট্রপতি। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিচ্ছেন। নতুন করে ডান পায়ের সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় আপাতত তার স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন সপ্তাহ চিকিৎসকের নির্ধারিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে তাকে।
নিউইয়র্কে মরণব্যাধিতে আক্রান্ত এবং চিকিৎসকদের মতে ছয় মাসের কম আয়ু বাকি থাকা প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের জন্য ‘মেডিকেল এইড ইন ডাইং’ আইন কার্যকর হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) থেকে কার্যকর হওয়া এই আইনের আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে রোগীরা চিকিৎসকের প্রেসক্রাইব করা ওষুধ স্বেচ্ছায় গ্রহণ করে জীবনের অবসান ঘটানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই আইন কেবল সেইসব নিউইয়র্কবাসীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যাদের চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন যে তাদের জীবনসীমা ছয় মাস বা তার কম। আবেদনকারীকে অবশ্যই মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে এবং ওষুধ নিজেকেই গ্রহণ করতে হবে; অন্য কেউ তা প্রয়োগ করতে পারবেন না। আইন অনুযায়ী, রোগীকে প্রথমে মৌখিকভাবে আবেদন জানাতে হবে, পরে লিখিত আবেদন করতে হবে, যেখানে দুইজন সাক্ষীর স্বাক্ষর থাকবে। একজন চিকিৎসক ও একজন পরামর্শক চিকিৎসককে রোগীর অবস্থা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর মূল্যায়নও বাধ্যতামূলক। প্রেসক্রিপশন দেওয়ার পর ওষুধ সংগ্রহের আগে অন্তত পাঁচ দিনের অপেক্ষার বিধান রাখা হয়েছে। আইনটির সমর্থকদের দাবি, এটি মরণাপন্ন রোগীদের অসহনীয় কষ্ট থেকে মুক্তি এবং জীবনের শেষ সময়ে মর্যাদাপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেবে। অন্যদিকে বিরোধীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, এমন আইন দুর্বল ও অসহায় রোগীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং এর অপব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে। গভর্নর ক্যাথি হোকুল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আইনটিতে স্বাক্ষর করেন। তার ভাষ্য ছিল, এই আইন নিউইয়র্কবাসীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও জীবনের শেষ পর্যায়ে মর্যাদাপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা বিতর্ক ও আইন প্রণয়নের প্রচেষ্টার পর এটি কার্যকর হলো। এই আইনের মাধ্যমে নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রের সেই অঙ্গরাজ্যগুলোর তালিকায় যুক্ত হলো, যেখানে কঠোর আইনি শর্তের অধীনে ‘মেডিকেল এইড ইন ডাইং’ বা চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের সুযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যে একজন উর্বরতা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ এনে দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রোগীর সম্মতি ছাড়াই সন্তান ধারণের চিকিৎসার সময় তিনি দাতার শুক্রাণুর পরিবর্তে নিজের শুক্রাণু ব্যবহার করেছিলেন। বহু বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। দ্য ফোরাম অব ফার্গো-মুরহেড-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই ওয়ার্ড কাউন্টি আদালতে দায়ের করা মামলায় টাশিনা গ্রিভস, জানাই নেলসন রেমন্ড এবং তাদের মা জিন অ্যান নেলসন বাদী হয়েছেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে সন্তান ধারণে সমস্যার কারণে জিন অ্যান নেলসন চিকিৎসক ডেনিস লুটজের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তিনি কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতির মাধ্যমে গর্ভধারণ করেন। প্রথমবার গর্ভধারণের পর গর্ভপাত হলেও পরবর্তী দুটি গর্ভধারণে ১৯৮৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি টাশিনা গ্রিভস এবং ১৯৮৬ সালের ২২ মে জানাই নেলসন রেমন্ডের জন্ম হয়। সে সময় লুটজ নর্থ ডাকোটার মিনোট শহরে চিকিৎসা করতেন। মামলায় বলা হয়েছে, চিকিৎসক নেলসনকে জানিয়েছিলেন যে, তার স্বামী ওয়ারেন নেলসনের শুক্রাণুর সঙ্গে একজন দাতার শুক্রাণু মিশিয়ে ব্যবহার করলে স্বামীর জিনগত বৈশিষ্ট্য বহনকারী সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। তবে বাদীপক্ষের দাবি, এই ব্যাখ্যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, দাতার শুক্রাণু ব্যবহার না করে চিকিৎসক নিজের শুক্রাণুই ব্যবহার করেন এবং বিষয়টি কখনোই রোগীকে জানাননি। মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো ভুল, দুর্ঘটনা বা চিকিৎসাগত সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং রোগীর অধিকার সম্পর্কে সচেতন থেকেও ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করা হয়েছে। সম্প্রতি ডিএনএ পরীক্ষা করার পর টাশিনা গ্রিভস ও জানাই নেলসন রেমন্ড জানতে পারেন, তাদের জৈবিক বাবা আসলে চিকিৎসক ডেনিস লুটজ। বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানান, এই তথ্য জানার পর দুই নারী এবং তাদের মা গভীর মানসিক আঘাত, পরিচয়সংকট এবং আবেগগত ক্ষতির শিকার হয়েছেন। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষায় আরও কয়েকজন সম্ভাব্য সৎ ভাইবোনের অস্তিত্বের ইঙ্গিত মিলেছে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, একই চিকিৎসকের মাধ্যমে অন্য রোগীদের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই ঘটনা শুধু তিনজন বাদীর অধিকার লঙ্ঘনের বিষয় নয়; বরং একই সময়ে চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়া অন্য রোগীরাও একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়ে থাকতে পারেন, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়। ডেনিস লুটজের বিরুদ্ধে প্রতারণা, চিকিৎসাগত অননুমোদিত হস্তক্ষেপ, রোগীর প্রতি বিশ্বাসভঙ্গ, ইচ্ছাকৃত মানসিক ক্ষতি এবং জৈবিক পিতৃত্ব গোপন করার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী কেলেন বুবাক এক বিবৃতিতে বলেন, “এই মামলার মূল বিষয় হলো রোগীর সম্মতি, প্রজনন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার, চিকিৎসকের প্রতি আস্থা এবং সন্তানদের নিজেদের জৈবিক পরিচয় ও চিকিৎসা-ইতিহাস জানার অধিকার।” তিনি আরও বলেন, “অভিযোগগুলো চিকিৎসা সেবার সবচেয়ে সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলোর একটির সঙ্গে জড়িত। নেলসন পরিবার শুধু জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই সামনে আসেনি, তারা আশঙ্কা করছে অন্য পরিবারও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।” এ কারণে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তার আইন কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মামলায় বাদীপক্ষ ৫০ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ এবং জুরি বিচারের আবেদন জানিয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, বর্তমানে ডেনিস লুটজ নিউ মেক্সিকোতে বসবাস করেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ডাকোটার মেডিকেল স্কুলের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড ডডস এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে লুটজ বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিভাগের প্রধান। তবে তিনি বলেন, মামলার মাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় আগে জানত না। ব্যক্তিগত আইনি বিষয় বা কর্মী-সংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য না করার নীতির কারণে এ মুহূর্তে তাদের আর কোনো বক্তব্য নেই। অন্যদিকে, লুটজের আইনজীবীর কাছে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে।
ভারতের হরিয়ানার পানিপথে ভাঙা পায়ের হাড়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসানোর পর এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তাদের অনুমতি ছাড়াই হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহত গুড্ডি দেবী সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ের হাড় ভেঙে গত ২৪ জুলাই পানিপথের একটি বেসরকারি পার্ক হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিবারের দাবি, তাকে অর্থোপেডিক চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হলেও পরদিন চিকিৎসকেরা তাদের জানান যে তার হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসানো হয়েছে। গুড্ডি দেবীর ছেলে কুলদীপ অভিযোগ করেন, স্টেন্ট বসানোর আগে পরিবারের কোনো সদস্যের সম্মতি নেওয়া হয়নি। এমনকি সম্মতিপত্রে পরিবারের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরিবারের ভাষ্য, চিকিৎসকদের অবহেলা, প্রতারণা এবং অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের কারণেই গুড্ডি দেবীর মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ করেন স্বজনরা। ঘটনার পর পানিপথের সেক্টর ২৯ থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, পার্ক হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বপ্না তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি জানিয়েছেন, পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া হবে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় কোনো বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে এক মর্মান্তিক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডে এক দন্তচিকিৎসকের বিরুদ্ধে নিজের দুই অল্পবয়সী ছেলেকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এরপর তিনি নিজের ডেন্টাল ক্লিনিকে অগ্নিসংযোগ করেন এবং শেষ পর্যন্ত গাড়িতে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারীরা জানান, ঘটনাটি কয়েকটি স্থানে ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত হয়। প্রথমে ওই চিকিৎসকের দুই শিশুপুত্রকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তার মালিকানাধীন ডেন্টাল চেম্বারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। এর কিছু সময় পর একটি জ্বলন্ত গাড়ি থেকে ওই চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করে জরুরি সেবা কর্মীরা। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলগুলো থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারীরা পারিবারিক, ব্যক্তিগত ও আর্থিক বিষয়সহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন। তবে এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের নির্দিষ্ট কারণ বা কোনো সুইসাইড নোটের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, অভিযুক্ত চিকিৎসককে তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একজন পেশাজীবী হিসেবে চিনতেন এবং এমন ঘটনার কথা কল্পনাও করতে পারেননি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
নিজেদের জন্মভূমির হাজারো হৃদরোগীর জীবন বাঁচাতে ২৬ লাখ ডলার মূল্যের আধুনিক চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী দুই চিকিৎসক। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে কর্মরত এই চিকিৎসক দম্পতি তাদের অলাভজনক সংস্থা Heart Attack Ethiopia-এর মাধ্যমে ইথিওপিয়ায় জীবনরক্ষাকারী হৃদরোগ চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠাচ্ছেন। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পিডমন্ট হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. টেসফায়ে টেলিলা এবং মোরহাউস স্কুল অব মেডিসিনের শিক্ষক ডা. অবসিনেট মেরিড। দুজনই ইথিওপিয়ায় জন্মগ্রহণ করলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য, নিজ দেশের মানুষকে উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়া। তাদের এই মিশনে প্রায় ২৬ লাখ ডলার মূল্যের কার্ডিয়াক ক্যাথেটার, অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম ইথিওপিয়ায় নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক দম্পতির প্রতিষ্ঠিত সংস্থা Heart Attack Ethiopia জানিয়েছে, এটি তাদের পঞ্চম মানবিক চিকিৎসা মিশন। এবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী এতে অংশ নিচ্ছেন। তারা ইথিওপিয়ায় গিয়ে প্রায় ২০০ জন রোগীর হৃদরোগের জটিল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা দেবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় চিকিৎসকদের উন্নত প্রশিক্ষণও প্রদান করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে দেশটি নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে। ডা. টেসফায়ে টেলিলা জানান, ইথিওপিয়ায় পর্যাপ্ত হৃদরোগ চিকিৎসা না পাওয়ায় তার এক নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই তাকে এই উদ্যোগ নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যে চিকিৎসা সহজলভ্য, ইথিওপিয়ায় এখনো তা অনেক মানুষের নাগালের বাইরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথিওপিয়ায় এটি কোনো যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত সংকট নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, কার্ডিয়াক সার্জন এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। ফলে হাজারো রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকেন এবং অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে প্রাণ হারান। চিকিৎসক দম্পতি আশা প্রকাশ করেছেন, এই মানবিক উদ্যোগ শুধু তাৎক্ষণিকভাবে শত শত রোগীর জীবন বাঁচাতেই নয়, বরং ভবিষ্যতে ইথিওপিয়ার হৃদরোগ চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাজধানীর শাহবাগে একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে এক নারী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে টানা তিন দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর শুক্রবার বিকেলে তার ফ্ল্যাটে গিয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিহত ডা. ফারা ফেরদৌস (২৭) খুলনার ফুলতলা উপজেলার পয়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য অধ্যয়ন করছিলেন। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুনের পর থেকে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। একাধিকবার ফোন করেও কোনো সাড়া না পেয়ে শুক্রবার বিকেলে স্বজনরা শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের আবাসিক ভবনে তার ফ্ল্যাটে যান। সেখানে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। পরে শাহবাগ থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা খুলে ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, উদ্ধারকালে মরদেহে পচন ধরেছিল। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। শাহবাগ থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। ডা. ফারা ফেরদৌসের আকস্মিক মৃত্যুতে সহপাঠী, শিক্ষক ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনো ধরনের অনুমান বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইডে অবস্থিত একটি স্কিন-কেয়ার ক্লিনিকের চিকিৎসক স্যাম সানৌফিকে নারী রোগীদের যৌন নির্যাতনের দায়ে চিকিৎসা পেশা থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৫৫ বছর বয়সী এই নিউপোর্ট বিচ ফিজিশিয়ান রিভারসাইড কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের সাথে চুক্তির মাধ্যমে তিনজন অচেতন রোগীকে যৌন নির্যাতনের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি ফৌজদারি মামলার সমাপ্তি ঘটল। রিভারসাইড হল অফ জাস্টিসে জুরি বিচার শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এই দোষ স্বীকারের চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে আনা বাকি নয়টি গুরুতর অভিযোগ (ফেলোনি) প্রত্যাহার করে নেন। সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক জশলিন পুলিয়াম তাকে দুই বছরের প্রবেশন বা নজরদারি, আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং 'যৌন অপরাধী' (সেক্স অফেন্ডার) হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নিবন্ধনের কঠোর শর্তের কারণেই তিনি আর কখনোই তার মেডিকেল লাইসেন্স ফিরে পাবেন না এবং কোনো রোগীর চিকিৎসাও করতে পারবেন না। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের মুখপাত্র জন হল এক বিবৃতিতে জানান, এই আসামির সাজা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসা পেশা থেকে তাকে চিরতরে দূরে রাখাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভুক্তভোগীরা এই বিচারের রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন; কারণ এর ফলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি আর কোনো রোগীর ক্ষতি করতে পারবেন না। আদালত তিন ভুক্তভোগী নারীর সুরক্ষার জন্য ক্রিমিনাল প্রোটেক্টিভ অর্ডারও জারি করেছেন, আদালতের নথিতে যাদের নাম গোপন রেখে শুধুমাত্র সি.এফ., জে.ভি. এবং কে.টি. আদ্যক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৩ সালের জুনে ব্রকটন এভিনিউতে অবস্থিত 'টাইমলেস স্কিনকেয়ার লেজার ক্লিনিক প্রাইমারি কেয়ার'-এ পরামর্শ নিতে এসে এক নারী নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ আনলে কর্তৃপক্ষ প্রথমবার সানৌফিকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ১ মিলিয়ন ডলার মুচলেকায় তিনি জামিন পান। তদন্ত চলাকালে ২০১৭ এবং ২০২১ সালের আরও কয়েকজন নারী একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে সামনে আসেন, যার ফলে পরের মাসে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, কিছু ভুক্তভোগী নারী সাক্ষ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করায় প্রসিকিউশনকে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল, কারণ ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যায় না। ক্যালিফোর্নিয়া মেডিকেল বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনিয়ান স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা এই চিকিৎসক ২০০৯ সালের মার্চ মাস থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত ছিলেন। তবে ফি পরিশোধ না করার কারণে ২০২৪ সালে তার লাইসেন্সটি স্থগিত হয়ে যায়। রিভারসাইড কাউন্টিতে এর আগে তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।