আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এদিন সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে বৈঠক শুরু হবে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় অর্পিত ক্ষমতাবলে আগামী ১২ মার্চ, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম (২০২৬ সালের প্রথম) অধিবেশন আহ্বান করেছেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ প্রদান করেন। ভাষণে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম, সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়। পরে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সদস্য ইতোমধ্যে শপথ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন। আগামী ১২ মার্চ স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাচ্ছে। ওই অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। নিরঙ্কুশ জয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে তারেক রহমান ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন। পাশাপাশি দল-সমর্থিত আরও ১০ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে—কে হচ্ছেন সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং সরকারদলীয় চিফ হুইপ। স্পিকার পদে আলোচনায় যাঁরা দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, স্পিকার পদে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। নরসিংদী-২ আসন থেকে পাঁচবার নির্বাচিত এই প্রবীণ রাজনীতিক এখনও সরকারের কোনো দায়িত্বে নেই। পরিষ্কার ভাবমূর্তি ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে তাকে এ পদের জন্য শক্ত প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসেবেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে দলের ভেতরে মত রয়েছে। এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নামও আলোচনায় আছে। বরিশাল-৩ আসন থেকে নির্বাচিত এই নেতা সাংবিধানিক ও নির্বাচনি আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ হওয়ায় স্পিকার পদে তাকে উপযুক্ত মনে করছেন অনেকে। আরও একটি নাম ঘুরছে আলোচনায়—সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ-সদস্য ড. এম ওসমান ফারুক। অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা তাকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। ধারণা করা হচ্ছে, এই তিনজনের মধ্য থেকেই স্পিকার নির্বাচন হতে পারে। ডেপুটি স্পিকার ও চিফ হুইপ নিয়ে জল্পনা ডেপুটি স্পিকার পদে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ভোলা-১ আসনের ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং নোয়াখালী-১ আসনের ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের নাম শোনা যাচ্ছে। এঁরা প্রত্যেকেই দলে প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় বলে পরিচিত। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সরকারদলীয় চিফ হুইপ পদেও কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে। নোয়াখালী-২ আসনের জয়নুল আবদিন ফারুক এবং নোয়াখালী-৩ আসনের বরকত উল্লাহ বুলু সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। জয়নুল আবদিন ফারুক ছয়বারের সংসদ-সদস্য এবং নবম সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ছিলেন। অন্যদিকে বরকত উল্লাহ বুলুও পাঁচবারের সংসদ-সদস্য; অতীতে তিনি বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্পিকার পদের গুরুত্ব বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব। সংসদ অধিবেশন পরিচালনা, কার্যপ্রণালী বিধি প্রয়োগ, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সদস্যদের অধিকার সুরক্ষায় স্পিকার কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। ফলে এ পদে এমন ব্যক্তিকেই বেছে নেওয়া হয়, যার মধ্যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংবিধানিক জ্ঞান ও প্রশাসনিক দক্ষতার সমন্বয় রয়েছে। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও চিফ হুইপ পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গেজেট প্রকাশের পর সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন রঙ দেখা দিয়েছে। বর্তমান সংসদে প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হিসাব অনুযায়ী, বিএনপি ও তাদের মিত্ররা সম্ভাব্যভাবে ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেতে পারে ১৩টি আসন, যার মধ্যে জামায়াত এককভাবে ১১টি আসনের প্রার্থী দিতে পারবে। জামায়াতের সম্ভাব্য নারী প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নীতিনির্ধারণী ফোরামে হবে। প্রার্থী বাছাইয়ে মেধা, যোগ্যতা, সংগঠনের দায়িত্ব, অভিজ্ঞতা এবং পরিবারের ত্যাগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দলীয় শীর্ষ নেতা জানান, জোট টিকিয়ে রাখার কৌশলগত বিষয়ও এ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ভোট দেবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। প্রতিটি দল বা জোট তাদের প্রাপ্ত সাধারণ আসনের অনুপাতে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে। একক প্রার্থী থাকলে ভোট নেওয়ার প্রয়োজন হবে না; তবে একাধিক প্রার্থী থাকলে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্তরা নির্বাচিত হবেন। একটি আসন পেতে ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। জামায়াতের আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য নারী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. আমিনা বেগম রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য শাহান আরা বেগম এবং সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ব্যারিস্টার সাবিকুন্নাহার মুন্নী। এর বাইরে আলোচনায় রয়েছেন সাঈদা রুম্মান, খন্দকার আয়েশা খাতুন, ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, কাজী মারিয়া ইসলাম বেবি, রাবেয়া খানম, ডা. শিরিন আক্তার রুনা, তানহা আজমি, নার্গিস খান, কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তার ও আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন। অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, “নারীরা দলের আমির হতে না পারলেও সংরক্ষিত নারী আসনে যোগ্যদের মনোনয়ন দেওয়া হবে।” দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামীর মোট সদস্য সংখ্যা এক লাখের বেশি, যার মধ্যে ৫৭ শতাংশ পুরুষ ও ৪৩ শতাংশ নারী। মহিলা বিভাগের সদস্যসংখ্যা প্রায় অর্ধলাখ এবং দেশে প্রায় চার লাখ কর্মী ও অসংখ্য সহযোগী সদস্য রয়েছে। এদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক নারী রয়েছে, যারা ইসলামি ও আধুনিক জ্ঞান সমৃদ্ধ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) তিনি গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নতুন সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো এই অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি একটি শোক প্রস্তাবও আনা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংসদ নেতা হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ২৫ অথবা ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে বলে সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়, যা তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শক্রমে করে থাকেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে। সে হিসেবে আগামী ১৪ মার্চের মধ্যেই নতুন সংসদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। পূর্ববর্তী কয়েকটি নির্বাচনে দেখা গেছে, আগের সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই নতুন সংসদের অধিবেশন শুরু হয়েছে। তবে এবার সংসদ শূন্য থাকায় অধিবেশন শুরু করতে দীর্ঘ অপেক্ষার প্রয়োজন নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে ২৫ বা ২৬ ফেব্রুয়ারি অধিবেশন শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। যদিও সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেননি। সংবিধান অনুসারে, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ প্রদান করেন। তার আগে ভাষণের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। প্রথম অধিবেশনের বেশির ভাগ সময়ই রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এবার অধিবেশন পরিচালনা নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন এবং তার আগে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হন। তাদের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ায় এবার সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, সে বিষয়ে কার্যপ্রণালি বিধিতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। অতীতে ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদে জ্যেষ্ঠ সদস্যের সভাপতিত্বে স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন করার নজির রয়েছে। এবারও তেমন কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হতে পারে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিনে জ্যেষ্ঠ কোনো সদস্যের সভাপতিত্বে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন ও শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন এবং তার ভাষণের মাধ্যমে দিনের অধিবেশন মুলতবি করা হতে পারে। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয় এবং ২৯৭টির ফল ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী, তাদের জোটসঙ্গী দল, ইসলামী আন্দোলন ও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচিত হয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নির্বাচিত করা হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা মনোনীত করা হয়েছে। নতুন সংসদে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
যদি গণভোট বাতিল হয়ে যায়, তাহলে এই নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি সরকারি দল বিএনপিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদ কার্যকর করার আহ্বান জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেও ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, তা সত্ত্বেও গণতন্ত্র ও দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে তারা এই ফলাফল মেনে নিয়ে এগোতে চেয়েছেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কার্যকর করতে এনসিপি শপথ গ্রহণ করেছে। তবে শপথের প্রথম দিনেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সরকারি দল বিএনপি শপথ গ্রহণ না করে জনগণের সঙ্গে এবং সংস্কারের পক্ষের মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৬টি আসনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। আর এই ফলাফলের ভিত্তিতেই এখন শুরু হয়েছে সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের হিসাব-নিকাশ। কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমান সংসদীয় কাঠামো অনুযায়ী বিএনপি জোট ৩৫টি এবং জামায়াত জোট ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে। আসনের গাণিতিক সমীকরণ: আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে হলে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের অন্তত ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য থাকতে হয়। গেজেট অনুযায়ী, বিএনপি জোট ২১১টি এবং জামায়াত জোট ৭৪টি আসন পাওয়ায় তারা যথাক্রমে ৩৫ ও ১৩টি সংরক্ষিত আসনের দাবিদার। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করায় তারাও একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার যোগ্যতা রাখছেন। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা যদি অন্য কোনো জোটে যোগ দেন, তবে এই হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে। খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—এই দলগুলো এককভাবে প্রয়োজনীয় আসন না পেলেও অন্য কোনো জোটকে সমর্থনের মাধ্যমে সংরক্ষিত আসনের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারবে। ঝুলে থাকা চার আসন ও আইনি প্রক্রিয়া: বর্তমানে চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের গেজেট হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে। এছাড়া বগুড়া-৬ আসন শূন্য ঘোষণা এবং শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। এই চারটি আসনের ফলাফল পরবর্তীতে ঘোষিত হলে সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত সংখ্যায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। নির্বাচন ও শপথের সময়সূচী: সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। সেই হিসেবে আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এই নির্বাচনে ভোট দেবেন। জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত নারী আসন) আইন-২০০৪ অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রাপ্ত আসন সংখ্যার ভিত্তিতে একক প্রার্থী মনোনয়ন দিলে সাধারণত ভোটের প্রয়োজন হয় না। তবে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হলে সংসদ ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করে নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। আগামী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে দল বা জোটগুলোকে তাদের প্রার্থী তালিকা কমিশনে জমা দিতে হবে।
তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল চারটার পর মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল–এর নেতারা উল্লেখযোগ্য। শেখ হাসিনা–এর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী প্রশাসন প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালন করে। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়। শপথ নেওয়া ২৫ জন সদস্য হলেন: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আফরোজা খানম রিতা, মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম, শেখ রবিউল আলম, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ও খলিলুর রহমান।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।