যুক্তরাষ্ট্রে জন্মহার আবারও ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ২০২৫ সালের সর্বশেষ অস্থায়ী তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে প্রায় ৩৬ লাখ ৬ হাজার ৪০০টি শিশুর জন্ম হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১ শতাংশ কম। একই সঙ্গে ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী প্রতি এক হাজার নারীর বিপরীতে জন্মের হার নেমে এসেছে ৫৩ দশমিক ১-এ, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এই তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (CDC) ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিসটিকস।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান নেওয়ার প্রবণতা কমছে এবং মানুষ আগের তুলনায় অনেক দেরিতে পরিবার গঠন করছেন। সর্বশেষ চূড়ান্ত হিসাবে দেশটির মোট প্রজনন হার (Total Fertility Rate) দাঁড়িয়েছে প্রতি নারীর জন্য প্রায় ১ দশমিক ৬ শিশু। অথচ দীর্ঘমেয়াদে অভিবাসন ছাড়া একটি দেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে সাধারণভাবে প্রয়োজন প্রতি নারীর গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১টি সন্তান। ফলে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সেই ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’-এর অনেক নিচে অবস্থান করছে।
সাম্প্রতিক আদমশুমারির তথ্যও দেখাচ্ছে, নারীরা আগের তুলনায় অনেক পরে মা হচ্ছেন। ২০২৪ সালে ৩০ থেকে ৩৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় ৪০ শতাংশের কখনো সন্তান হয়নি, যেখানে ২০১৪ সালে এই হার ছিল প্রায় ২৯ শতাংশ। একই সময়ে ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে সন্তান না থাকার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে গবেষকদের মতে, এর অর্থ এই নয় যে এসব নারী কখনোই মা হবেন না। বরং অনেকেই ব্যক্তিগত ও আর্থিক কারণে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। ২০২৫ সালে ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে জন্মহার কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু কম বয়সী নারীদের জন্মহার দ্রুত কমে যাওয়ায় সামগ্রিক প্রবণতা বদলায়নি।
জনসংখ্যাবিদদের মতে, অধিকাংশ আমেরিকান এখনো সন্তান চান। কিন্তু উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া, আর্থিক স্থিতিশীলতা, সাশ্রয়ী মূল্যের বাসস্থান, নির্ভরযোগ্য শিশু পরিচর্যা এবং সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলো অনেককে পরিবার গঠনের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে বাধ্য করছে। পাশাপাশি বিয়ের গড় বয়স বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে কম জন্মহার দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ ভবিষ্যতে কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে গেলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিশেষ করে সোশ্যাল সিকিউরিটির মতো ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে। কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা কমে গেলে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য অর্থায়নও আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
তবে জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জন্মহার বাড়ানোই সমাধান নয়। বরং যারা সন্তান নিতে চান, তারা যেন নিরাপদ সম্পর্ক, আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক সহায়তা পান—এমন পরিবেশ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মহার আবারও ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ২০২৫ সালের সর্বশেষ অস্থায়ী তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে প্রায় ৩৬ লাখ ৬ হাজার ৪০০টি শিশুর জন্ম হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১ শতাংশ কম। একই সঙ্গে ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী প্রতি এক হাজার নারীর বিপরীতে জন্মের হার নেমে এসেছে ৫৩ দশমিক ১-এ, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এই তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (CDC) ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিসটিকস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান নেওয়ার প্রবণতা কমছে এবং মানুষ আগের তুলনায় অনেক দেরিতে পরিবার গঠন করছেন। সর্বশেষ চূড়ান্ত হিসাবে দেশটির মোট প্রজনন হার (Total Fertility Rate) দাঁড়িয়েছে প্রতি নারীর জন্য প্রায় ১ দশমিক ৬ শিশু। অথচ দীর্ঘমেয়াদে অভিবাসন ছাড়া একটি দেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে সাধারণভাবে প্রয়োজন প্রতি নারীর গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১টি সন্তান। ফলে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সেই ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’-এর অনেক নিচে অবস্থান করছে। সাম্প্রতিক আদমশুমারির তথ্যও দেখাচ্ছে, নারীরা আগের তুলনায় অনেক পরে মা হচ্ছেন। ২০২৪ সালে ৩০ থেকে ৩৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় ৪০ শতাংশের কখনো সন্তান হয়নি, যেখানে ২০১৪ সালে এই হার ছিল প্রায় ২৯ শতাংশ। একই সময়ে ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে সন্তান না থাকার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে গবেষকদের মতে, এর অর্থ এই নয় যে এসব নারী কখনোই মা হবেন না। বরং অনেকেই ব্যক্তিগত ও আর্থিক কারণে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। ২০২৫ সালে ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে জন্মহার কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু কম বয়সী নারীদের জন্মহার দ্রুত কমে যাওয়ায় সামগ্রিক প্রবণতা বদলায়নি। জনসংখ্যাবিদদের মতে, অধিকাংশ আমেরিকান এখনো সন্তান চান। কিন্তু উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া, আর্থিক স্থিতিশীলতা, সাশ্রয়ী মূল্যের বাসস্থান, নির্ভরযোগ্য শিশু পরিচর্যা এবং সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলো অনেককে পরিবার গঠনের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে বাধ্য করছে। পাশাপাশি বিয়ের গড় বয়স বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে কম জন্মহার দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ ভবিষ্যতে কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে গেলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিশেষ করে সোশ্যাল সিকিউরিটির মতো ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে। কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা কমে গেলে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য অর্থায়নও আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তবে জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জন্মহার বাড়ানোই সমাধান নয়। বরং যারা সন্তান নিতে চান, তারা যেন নিরাপদ সম্পর্ক, আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক সহায়তা পান—এমন পরিবেশ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পরীক্ষায় নকলের সন্দেহে মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লিগভুক্ত ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কোর্সে গড় নম্বর ৯৬ শতাংশ থেকে নেমে ৪৮.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ১৮ জন শিক্ষার্থী কোর্স থেকে নাম প্রত্যাহার করেন এবং প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। ঘটনাটি উচ্চশিক্ষায় এআই ব্যবহারের নৈতিকতা এবং একাডেমিক সততা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনসাইড হায়ার এড-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রবার্তো সেরানো চলতি বসন্ত সেমিস্টারে ‘ওয়েলফেয়ার ইকোনমিক্স অ্যান্ড সোশ্যাল চয়েস থিওরি’ কোর্সে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো টেক-হোম মিডটার্ম পরীক্ষা নেন। পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর তিনি লক্ষ্য করেন, শিক্ষার্থীদের অনেক উত্তরপত্রে একই ধরনের ভাষা, গাণিতিক বিশ্লেষণ এবং প্রমাণ উপস্থাপনের ধরণ দেখা যাচ্ছে। তার সন্দেহ হয়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে উত্তর তৈরি করেছে। যদিও এ অভিযোগে কোনো শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে দোষী ঘোষণা করা হয়নি। এরপর অধ্যাপক সেরানো সিদ্ধান্ত নেন, চূড়ান্ত পরীক্ষা (ফাইনাল) হবে সম্পূর্ণ ইন-পার্সন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের জানান, মিডটার্ম ও ফাইনালের ফলাফলের মধ্যে বড় ধরনের অমিল দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে। এই ঘোষণার পর ১৮ জন শিক্ষার্থী কোর্স থেকে নাম প্রত্যাহার করেন। যারা ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেন, তাদের গড় নম্বর নেমে আসে ৪৮.৬ শতাংশে, যা ওই কোর্সের ইতিহাসে সর্বনিম্ন বলে দাবি করেন অধ্যাপক সেরানো। একই সঙ্গে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করতে ব্যর্থ হন। ঘটনার পর অধ্যাপক সেরানো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, সম্ভাব্য প্রতিটি একাডেমিক অসদাচরণের অভিযোগ আলাদাভাবে জমা দিতে বলা হয়েছে, যা এত বড় সংখ্যক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে একজন শিক্ষকের জন্য অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। অন্যদিকে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, একাডেমিক অসদাচরণের প্রতিটি অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী পৃথকভাবে তদন্ত করা হয় এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনারেটিভ এআই দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ইন-পার্সন পরীক্ষা, মৌখিক মূল্যায়ন, প্রকল্পভিত্তিক পরীক্ষা এবং এআই ব্যবহারের সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনাও দেখিয়ে দিয়েছে, এআই-নির্ভর যুগে একাডেমিক সততা রক্ষায় প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতি নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিলাসবহুল উপকূলীয় এলাকা হাম্পটনস-এ বাড়ির দাম আবারও নতুন রেকর্ড গড়েছে। সীমিত সংখ্যক বাড়ি বিক্রির জন্য বাজারে থাকা, ধনীদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওয়াল স্ট্রিটের উচ্চ বোনাসের প্রভাবে অঞ্চলটিতে আবাসন বাজারের মূল্য আরও বেড়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কভিত্তিক আবাসন মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান জনাথন মিলার অ্যাপ্রেইজাল প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, হাম্পটনসে একটি বাড়ির গড় বিক্রয়মূল্য এখন প্রায় ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো গড় মূল্য ৪০ লাখ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারের উচ্চমূল্যের আবাসন খাতে ক্রেতাদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বিলাসবহুল বাড়ির সরবরাহ সীমিত থাকায় দাম আরও দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবেদনটির প্রস্তুতকারী জনাথন মিলার বলেন, বাজারে কিছু নতুন বাড়ি বিক্রির জন্য এলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সরবরাহ এখনও অনেক কম। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র রয়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি বাড়ি বিক্রি হচ্ছে বিক্রেতার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি দামে। তার ভাষায়, "বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম বাড়ার ধারা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।" হাম্পটনসকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল আবাসিক এলাকা হিসেবে ধরা হয়। এই এলাকায় এখন ১৫ লাখ ডলারের কম দামে কার্যত কোনো বাড়িই পাওয়া যাচ্ছে না। সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন অবস্থান, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং নিউইয়র্ক শহরের নিকটবর্তী হওয়ায় বহু বছর ধরেই ধনী ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও হলিউড তারকাদের পছন্দের ঠিকানা এটি। পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, চলতি প্রান্তিকে হাম্পটনসের মধ্যম বাড়ির মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ লাখ ডলারে, যা গত বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। গত পাঁচ প্রান্তিকের মধ্যে এটি তৃতীয়বারের মতো নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে হাম্পটনসের বাইরে লং আইল্যান্ডের বাকি অংশেও বাড়ির দাম বাড়ছে, যদিও সেই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে ধীর। সেখানে মধ্যম বাড়ির মূল্য গত বছরের ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৭ লাখ ৬১ হাজার ডলারের বেশি হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে গড় বিক্রয়মূল্যও ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৯ লাখ ২২ হাজার ডলারে পৌঁছেছে, যা নতুন রেকর্ড। বিশ্লেষকদের মতে, হাম্পটনসের বিলাসবহুল আবাসন বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে ওয়াল স্ট্রিটের রেকর্ড পরিমাণ বোনাস। নিউইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলার থমাস ডিনাপোলির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ওয়াল স্ট্রিট প্রতিষ্ঠানের মুনাফা ৩০ শতাংশের বেশি বেড়ে ৬৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে কর্মীদের গড় বার্ষিক বোনাস বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। ফলে উচ্চ আয়ের ক্রেতারা এখন প্রচলিত গৃহঋণের ওপর নির্ভর না করে শেয়ারবাজারে অর্জিত সম্পদ এবং বোনাসের অর্থ ব্যবহার করে বাড়ি কিনছেন। এতে বিলাসবহুল আবাসনের বাজার আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হাম্পটনসে গত প্রান্তিকে ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের বাড়ি বিক্রির হার ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে লং আইল্যান্ডজুড়ে বিক্রি হওয়া প্রতি দুইটির মধ্যে একটিরও বেশি বাড়ি বিক্রেতার চাওয়া মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে, যা বাজারে শক্তিশালী চাহিদারই প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের চাহিদা অব্যাহত থাকবে এবং নতুন আবাসনের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়বে, ততদিন হাম্পটনসের আবাসন বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, জনাথন মিলার অ্যাপ্রেইজাল রিপোর্ট