ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ আসনে বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। লাঙল প্রতীকে নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় ভোটের ন্যূনতম সংখ্যাক ভোটও তিনি পাননি। আসনটি থেকে সর্বসাকুল্যে ৩ হাজার ৩৭৫ ভোট পেয়েছেন তিনি। যার ফলে নির্বাচনি আইন অনুযায়ী তার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মাসুদুর রহমান মোল্লার স্বাক্ষরিত ফলাফল শিট থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৫২টি। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর জামানত রক্ষার জন্য মোট বৈধ ভোটের অন্তত আট ভাগের এক ভাগ বা ১২.৫ শতাংশ ভোট পাওয়া প্রয়োজন। সেই হিসেবে, জামানত টিকিয়ে রাখতে শামীম হায়দার পাটোয়ারীর প্রয়োজন ছিল ২৬ হাজার ৬৫৬ ভোট। কিন্তু তিনি পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৩৭৫ ভোট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ভোটারদের প্রভাবিত করতে নগদ টাকা বিতরণের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার চাঁদপুর এলাকায় লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে টাকা বিলানোর সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন জাতীয় পার্টির দুই নেতা। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোমরাদহ ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলীর মালিকানাধীন একটি মিল চাটালের গোডাউন ঘরে গোপনে ভোটারদের জড়ো করে টাকা বিতরণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এনএম ইশফাকুল কবীর তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযান চালান। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে উপস্থিত ভোটাররা দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আটক হন জাতীয় পার্টির দুই নেতা। ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হলে ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন টাকা বিতরণের সত্যতা স্বীকার করে কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরবর্তীতে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর ২৭ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে আশরাফ আলীকে ৫ হাজার টাকা এবং শাহিনকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এন এম ইশফাকুল কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের যেকোনো অভিযোগ মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পীরগঞ্জের এই ঘটনাটি পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ ভোটারদের মাঝে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ প্রশংসিত হচ্ছে।
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতে বড়সড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার আতা ৬ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৭টায় উপজেলার ঘুড়িদহ গ্রামে আয়োজিত এক বিশাল যোগদান সভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। এ সময় তার সঙ্গে সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মমিতুল হক নয়নসহ প্রায় ৬ শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপির পতাকাতলে আসেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাকে ‘বড় চমক’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সাঘাটায় এমন দলবদল জাতীয় পার্টির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। আতাউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সাঘাটা ও গাইবান্ধার রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি একাধারে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মতো একজন হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগে জাপার সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও ৬নং ঘুড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ তুলিপের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যোগদান সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ফারুক আলম সরকার। তিনি নবাগত নেতাকর্মীদের ফুলের তোড়া দিয়ে দলে বরণ করে নেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল এবং শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আরশাদুল কবির রাঙ্গা। এছাড়াও বক্তব্য দেন- কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান সোহাগসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। বক্তারা বলেন, জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বিএনপির আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে এই যোগদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন নেতাকর্মীদের নিয়ে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করা হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত সাঘাটায় এই দলবদলের ফলে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষকদের মতে, বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর একযোগে বিএনপিতে যোগদান আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
আসন্ন গণভোটে ‘না’ ব্যালটে সিল মারতে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। সোমবার মধ্যরাতে (রাত ১টার দিকে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক জরুরি ভিডিও বার্তায় তিনি এই ঘোষণা দেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘চরম সংকটকাল’ অভিহিত করে তিনি সংবিধান নিয়ে সুপরিকল্পিত প্রতারণা ও সামাজিক বন্ধন ছিঁড়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন। জিএম কাদের তাঁর বক্তব্যে বলেন, “গণভোট নিয়ে আমার স্পষ্ট বার্তা—আপনাদের ‘না’ ভোট দিতে হবে। বিভ্রান্তিকর ৪টি বিবৃতির আড়ালে সংবিধানের ৩৮টি পরিবর্তন লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা আশঙ্কা করি, এতে দেশে এক ভয়াবহ সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে।” তিনি দাবি করেন, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পূর্ব-নির্ধারিত এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য শহীদদের আত্মত্যাগের আবেগকে কাজে লাগিয়ে এই অস্বচ্ছ ও বেআইনি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। জুলাই আন্দোলনে জাতীয় পার্টির সক্রিয় ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রথম থেকে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে ছিলাম। রংপুরে আমাদের মিরাজুল ও মানিকের মতো কর্মীরা শহীদ হয়েছে, শত শত নেতা-কর্মী জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে। শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরাও অঙ্গীকারাবদ্ধ, কিন্তু সংস্কার হতে হবে সংবিধানসম্মত ও স্বচ্ছ উপায়ে।” দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, “আজ আমাদের মাতৃভূমি এক মৃত্যুপুরী। মন্দির-গির্জা ও মাজারে হামলা হচ্ছে, প্রতিপক্ষকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, অথচ রাষ্ট্র নির্বিকার। কয়েক মাসে শত শত কারখানা বন্ধ হয়েছে, বাড়ছে বেকারত্ব। এমনকি নারীদের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে চলাফেরা আজ ‘শকুনের নখরে’ বন্দি।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটি একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রের’ পূর্বলক্ষণ ছাড়া আর কিছুই নয়। নির্বাচনী বার্তায় তিনি ভোটারদের লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “লাঙ্গল মানেই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ এবং ১৯৭১-এর চেতনার বিজয়। আজ দেশ ‘আমরা এবং তারা’—এই ভয়াবহ বিভাজনে বিভক্ত। আমাদের এই বিভাজন ভাঙতে হবে।” তিনি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল ধর্ম ও জাতিসত্তার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার ডাক দেন। অরাজকতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে এবং দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে লাঙ্গল প্রতীকের বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, একটি দল দেশটাকে পাকিস্তান বানাতে চায়। তারা মা-বোনদের অসম্মান করছেন এবং আজকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক পরিবর্তন করছেন। এই দেশটাকে বাঁচাতে পারে একমাত্র জাতীয় পাটি। সেই সঙ্গে সুন্দরগঞ্জের মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারবে জাতীয় পার্টি। তাই লাঙলে ভোট দিতে হবে। মঙ্গলবার রাতে ধুবনী কঞ্চিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী সভায় প্রাধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই সরকার দেশ চালাতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। মবের ভয়ে এই সরকার বিচার করতে পারছেন না। যারা ৭১ এর চেতনাকে ধুলিসাৎ করেছেন, তাদের বিচার এই দেশের মাটিতে হবে। দেশের জন্য সকল রাজনৈতিক দল আন্দোলন করেছে। সকল দলের ভুলত্রুটি আছে, সেজন্য কোনো দলকে নিষিদ্ধ করা রাজনৈতিক সমাধান হতে পারে না। শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, দেশে সুশাসন নেই। দেশ একটি ক্লান্তি লগ্নে দাড়িয়ে আছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য জাতীয় পার্টিকে ভোট দিতে হবে। দেড় বছরে সরকার এই দেশকে নরকে পরিণত করেছে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে মবকে মোকাবিলা করার আহ্বান জানান। সুন্দরগঞ্জের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য লাঙলে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাতে হবে। তাহলে সুন্দরগঞ্জের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবেন। জাপা মহাসচিব বলেন, নির্বাচিত হলে ধুবনী কঞ্চিবাড়িকে একটি আলাদা উপজেলা করব। এটি আমার একটি অসমাপ্ত কাজ। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পাটির সাবেক এমপি মো. ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশা, উপজেলা জাতীয় পাটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান মন্ডল প্রমুখ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।