সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

টপ কলেজ

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকিব খন্দকারের বিশেষ সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
আপনার সন্তানকে হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ডের মতো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন?

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী আকিব খন্দকারের বিশেষ সাক্ষাৎকার | কলেজে ভর্তি, এসএটি, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ, সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড ও বৃত্তি নিয়ে অভিভাবকদের জন্য ধাপে ধাপে দিকনির্দেশনা   ইন্টারভিউর ভিডিও দেখুন আকিবের বিশেষ সাক্ষাৎকার: সন্তানকে আইভি লিগ বা টপ কলেজে ভর্তির বিষয়ে   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক শিক্ষার্থী মেধাবী, পরিশ্রমী এবং সম্ভাবনাময়। কিন্তু শুধু ভালো ফলাফল করলেই যে এমআইটি, হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, ইয়েল কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত হয়, বিষয়টি তেমন নয়। কখন থেকে কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি শুরু করতে হবে, কোন বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে হবে, কীভাবে এসএটি বা এসিটি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে, কোন ধরনের এক্সট্রা ক্যারিকালম কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া উচিত এবং প্রবন্ধে নিজের অভিজ্ঞতা কীভাবে তুলে ধরতে হবে এসব বিষয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি।   অনেক পরিবার সন্তানকে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর স্বপ্ন দেখলেও ভর্তি প্রক্রিয়ার জটিলতা, সঠিক তথ্যের অভাব কিংবা ব্যয়বহুল কোচিং সমস্যায় পড়ে। অথচ আগে থেকে পরিকল্পনা করে এগোলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, আবেদন প্রস্তুতি এবং স্কলারশিপের সুযোগ খুঁজে দেখার জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারে।   এ বিষয়গুলো নিয়ে আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন আকিব খন্দকার। তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং সম্প্রতি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের কথা জানিয়েছেন। নিজের কলেজে ভর্তির সময় স্ট্যানফোর্ড, প্রিন্সটন, কর্নেল, ভ্যান্ডারবিল্ট, রাইস, কার্নেগি মেলন ও জর্জিয়া টেকের মতো একাধিক শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে হার্ভার্ড, ইয়েল ও ইউসি বার্কলেসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেতে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করেছেন বলে জানান আকিব।   বর্তমানে তিনি রেডি কলেজ প্রেপ অ্যাকাডেমির (Ready College Prep) মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি, আবেদন প্রস্তুতি, এসএটি ও এসিটি পরীক্ষা, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ এবং একাডেমিক পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছেন। আমেরিকা বাংলার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেছেন, কখন থেকে প্রস্তুতি শুরু করা উচিত, অভিভাবকেরা কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন এবং কীভাবে শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করা যায়।   নিচে সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর তুলে ধরা হলো।   প্রশ্ন ১: প্রথমেই আপনার পরিচয় এবং রেডি কলেজ প্রেপ অ্যাকাডেমি সম্পর্কে জানতে চাই। আকিব খন্দকার: আসসালামু আলাইকুম। আমি আকিব খন্দকার। আমি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক সম্পন্ন করেছি এবং সম্প্রতি সেখান থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও শেষ করেছি। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময় স্ট্যানফোর্ড, প্রিন্সটন, কর্নেল, ভ্যান্ডারবিল্ট, রাইস, কার্নেগি মেলন এবং জর্জিয়া টেকের মতো একাধিক শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলাম।   পরবর্তী সময়ে আমি আরও অনেক শিক্ষার্থীকে তাদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করেছি। তাদের মধ্যে হার্ভার্ড, ইয়েল, প্রিন্সটন ও ইউসি বার্কলেসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরাও রয়েছে।   এই অভিজ্ঞতা থেকেই রেডি কলেজ প্রেপ শুরু করেছি। আমার উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশি কমিউনিটির শিক্ষার্থীরা যেন অনুমাননির্ভরভাবে নয়, বরং একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের জন্য উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে পারে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর দক্ষতা, আগ্রহ ও লক্ষ্য আলাদা। তাই সবার জন্য একই পরিকল্পনা অনুসরণ না করে শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী দিকনির্দেশনা দেওয়াকে আমি গুরুত্ব দিই।   প্রশ্ন ২: রেডি কলেজ প্রেপের মাধ্যমে আপনি কী কী সেবা দিয়ে থাকেন? আকিব খন্দকার: আমাদের প্রধানত চার ধরনের সেবা রয়েছে। প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সামগ্রিক প্রস্তুতি। শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি, স্কুলের ক্লাস ও এক্সট্রা ক্যারিকুলাম কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা, আবেদনের সময়সীমা অনুসরণ এবং সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি এসব বিষয়ে সহযোগিতা করা হয়।   দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ ও আবেদনপত্র তৈরির দিকনির্দেশনা। এর মধ্যে মূল ব্যক্তিগত প্রবন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক অতিরিক্ত প্রবন্ধ এবং সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের তালিকা কীভাবে উপস্থাপন করতে হবে, তা অন্তর্ভুক্ত।   তৃতীয়ত, এসএটি ও এসিটি পরীক্ষার প্রস্তুতি। শিক্ষার্থীর অনুশীলনী পরীক্ষার ফলাফল এবং দুর্বলতার জায়গাগুলো বিশ্লেষণ করে প্রস্তুতির পরিকল্পনা তৈরি করা হয়।   চতুর্থত, গণিত, বিজ্ঞান, লেখালেখি, ইতিহাস এবং এপি (AP) বিষয়সহ স্কুলের বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত পাঠদানের সুযোগ রয়েছে। পঞ্চম শ্রেণি থেকে কলেজ পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী এই সহায়তা দেওয়া হয়।   পরিবার চাইলে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে পারে, আবার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরামর্শও নিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই শিক্ষার্থীর লক্ষ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজানোর সুযোগ রয়েছে।   প্রশ্ন ৩: এই সেবা কি শুধু হার্ভার্ড বা স্ট্যানফোর্ডের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য? আকিব খন্দকার: না, একেবারেই নয়। আমি ১১ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে হার্ভার্ড, ইয়েল, প্রিন্সটন ও পেনের মতো আইভি লিগের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেতে সহায়তা করেছি। তবে আমার কাজ শুধু এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।   আমি ইউসিএলএ, জর্জিয়া টেক, ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়া এবং ওহাইও স্টেটের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতিতেও শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছি।   আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষার্থীর জন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়টি উপযুক্ত। শুধু বিখ্যাত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াই চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। শিক্ষার্থী যেখানে ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারবে, নিজের দক্ষতা বিকশিত করতে পারবে এবং ভবিষ্যতের পেশাগত জীবনের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে, সেই বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।   প্রশ্ন ৪: কোনো শিক্ষার্থীর সব বিষয়ে সর্বোচ্চ গ্রেড না থাকলে কিংবা এসএটি স্কোর প্রত্যাশামতো না হলে কি আপনি তাকে সহায়তা করতে পারবেন? আকিব খন্দকার: অবশ্যই। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শুরুটা এক রকম হয় না। কারও গণিত বা বিজ্ঞানে অতিরিক্ত সহায়তা দরকার হতে পারে, কারও এসএটি স্কোর বাড়ানো প্রয়োজন হতে পারে, আবার কেউ নিজের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা আবেদনপত্রের প্রবন্ধে কীভাবে তুলে ধরবে, তা বুঝতে পারে না।   আমি প্রথমে শিক্ষার্থীর বর্তমান অবস্থা বোঝার চেষ্টা করি। এরপর তার প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করা হয়।   একজন শিক্ষার্থীর উদাহরণ দিতে পারি, যার এসএটি স্কোর তিন মাসের মধ্যে ১১৫০ থেকে ১৪২০ তে উন্নীত হয়েছিল। তবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ফলাফল আলাদা হতে পারে। কারও কতটা উন্নতি হবে, তা তার প্রাথমিক দক্ষতা, অনুশীলন, সময় এবং ধারাবাহিকতার ওপর নির্ভর করে।   আমার বিশ্বাস, শিক্ষার্থী কোথা থেকে শুরু করছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু তার জন্য সঠিক পরিকল্পনা তৈরি করা এবং নিয়মিত সেই পরিকল্পনা অনুসরণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   প্রশ্ন ৫: কোনো পরিবার আপনার সঙ্গে কাজ শুরু করলে পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে এগোয়? আকিব খন্দকার: সাধারণত পাঁচটি ধাপে আমরা কাজ করি।   প্রথম ধাপে ১৫ মিনিটের একটি বিনা মূল্যের প্রাথমিক আলোচনা হয়। সেখানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীর লক্ষ্য, আগ্রহ এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়।   দ্বিতীয় ধাপে শিক্ষার্থীর প্রকৃত দক্ষতা বোঝার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী অনুশীলনী পরীক্ষার ফলাফল, লেখার নমুনা কিংবা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য মূল্যায়ন করা হয়।   তৃতীয় ধাপে নির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং সাপ্তাহিক সময়সূচিসহ একটি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। চতুর্থ ধাপে নিয়মিত সেশন অনুষ্ঠিত হয়। পঞ্চম ধাপে প্রতি চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়।   এভাবে অভিভাবকেরা জানতে পারেন, তাদের সন্তান কোন পর্যায়ে রয়েছে, কী ধরনের উন্নতি হচ্ছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত।   প্রশ্ন ৬: অভিভাবকদের কখন থেকে সন্তানের কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি নিয়ে ভাবা উচিত? আকিব খন্দকার: অনেক অভিভাবক যতটা দেরিতে শুরু করেন, বাস্তবে তার চেয়ে আগে প্রস্তুতি শুরু করা ভালো। নবম ও দশম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা কোন বিষয় পড়বে, কী ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে এবং নিজেদের আগ্রহ কীভাবে বিকশিত করবে এসব সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   একাদশ শ্রেণি সাধারণত প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ পর্যায়ে এসএটি বা অ্যাক্ট পরীক্ষার প্রস্তুতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি এবং শিক্ষার্থীর সামগ্রিক আবেদনপত্রের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দেওয়া যায়।   দ্বাদশ শ্রেণির আগের গ্রীষ্মকাল ব্যক্তিগত প্রবন্ধ তৈরির জন্য উপকারী হতে পারে। কারণ স্কুল শুরু হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অন্যান্য দায়িত্ব বেড়ে যায়।   তবে কেউ যদি ইতিমধ্যে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে, তার জন্যও সুযোগ শেষ হয়ে যায় না। শিক্ষার্থীর বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব। এমনকি যারা অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থানান্তরের কথা ভাবছে, তাদেরও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা করা যায়।   প্রশ্ন ৭: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো অভিভাবকেরা প্রায়ই উপেক্ষা করেন? আকিব খন্দকার: অনেক অভিভাবক মূলত জিপিএ এবং পরীক্ষার ফলাফলের ওপর মনোযোগ দেন। এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক আবেদনকারীরই ভালো ফলাফল থাকে। ফলে শিক্ষার্থীর আগ্রহ, উদ্যোগ, অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত গল্পও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   একজন শিক্ষার্থী কী নিয়ে আগ্রহী, সে কী ধরনের কাজ করেছে, কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে এবং তার অভিজ্ঞতা থেকে কী শিখেছে এসব বিষয় তার আবেদনপত্রকে আরও ব্যক্তিগত ও অর্থবহ করে তুলতে পারে।   আমি শিক্ষার্থীদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও আগ্রহ চিহ্নিত করতে এবং সেগুলো নিজেদের ভাষায় তুলে ধরতে সহায়তা করি। আমি শিক্ষার্থীদের হয়ে প্রবন্ধ লিখে দিই না। বরং বিষয় নির্বাচন, ভাবনা গুছিয়ে নেওয়া, লেখার কাঠামো তৈরি এবং সম্পাদনার মাধ্যমে তাদের নিজস্ব বক্তব্য স্পষ্ট করতে সাহায্য করি।   শিক্ষার্থীর নিজের কণ্ঠস্বর ও অভিজ্ঞতা অক্ষুণ্ন রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।   প্রশ্ন ৮: আপনি কি যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোন অঙ্গরাজ্যের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করেন? আকিব খন্দকার: আমার অধিকাংশ সেশন অনলাইনে জুম বা গুগল মিটের মাধ্যমে হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের পরিবারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।   এ ছাড়া বাংলাদেশে থাকা এমন শিক্ষার্থীদেরও সহায়তা করি, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া, পরীক্ষার ধরন, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ এবং আর্থিক সহায়তার নিয়ম সম্পর্কে তাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।   আমার সেশনের সময়সূচি সাধারণত সপ্তাহের কর্মদিবসে বিকেল ও সন্ধ্যায় এবং সপ্তাহান্তে সুবিধা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়।   প্রশ্ন ৯: পরামর্শ নেওয়ার জন্য অভিভাবক যোগাযোগ করবেন, নাকি শিক্ষার্থী নিজেই যোগাযোগ করতে পারবে? আকিব খন্দকার: দুজনের যেকোনো একজন যোগাযোগ করতে পারেন। অনেক সময় অভিভাবকেরা প্রথমে যোগাযোগ করেন, কারণ সন্তানের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের কিছু প্রশ্ন থাকে। আবার উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী কিংবা কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে।   প্রাথমিক আলোচনায় সম্ভব হলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থী দুজনেরই অংশগ্রহণ করা ভালো। এতে অভিভাবকেরা পরিকল্পনা সম্পর্কে বুঝতে পারেন, পাশাপাশি শিক্ষার্থীও নিজের লক্ষ্য ও দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পায়।   আমি চাই, শিক্ষার্থী যেন নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকে। কারণ শেষ পর্যন্ত পড়াশোনা, প্রস্তুতি এবং আবেদন প্রক্রিয়ার মূল দায়িত্ব শিক্ষার্থীকেই নিতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।   প্রশ্ন ১০: আগ্রহী অভিভাবকেরা কীভাবে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন? আকিব খন্দকার: প্রথম ধাপ হলো একটি বিনা মূল্যের ১৫ মিনিটের আলোচনা। অভিভাবক অথবা শিক্ষার্থী যোগাযোগ করে নিজেদের লক্ষ্য, বর্তমান অবস্থা এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা নিয়ে কথা বলতে পারেন। এই আলোচনার উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীর প্রয়োজন বোঝা এবং আমাদের সেবা তার জন্য উপযুক্ত কি না, তা নির্ধারণ করা।   আমার ওয়েবসাইট হলো readycollegeprep.com। এ ছাড়া ফোন বা খুদে বার্তার মাধ্যমে (404) 990-9914 নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।   প্রতিবছর সীমিতসংখ্যক পরিবারের সঙ্গে কাজ করি, যাতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে যথেষ্ট সময় ও মনোযোগ দেওয়া যায়। যেসব অভিভাবক সন্তানের কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি নিয়ে ভাবছেন, তারা আগ্রহী হলে প্রাথমিক আলোচনার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।   অভিভাবকদের জন্য শেষ কথা - আকিব খন্দকারের সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যেখানে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর আগ্রহ, অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ এবং পরিকল্পিত প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে কোনো পরামর্শদাতা বা প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কিংবা বৃত্তি নিশ্চিত করতে পারে না। প্রতিটি শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সুযোগও ভিন্ন হয়।   বাংলাদেশি কমিউনিটির যেসব অভিভাবক সন্তানের উচ্চশিক্ষা নিয়ে পরিকল্পনা করছেন, তারা অভিজ্ঞ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পরামর্শদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভর্তি নীতিমালা, এসএটি বা এসিটি সংক্রান্ত নিয়ম এবং আর্থিক সহায়তার শর্ত যাচাই করা উচিত।   রেডি কলেজ প্রেপ অ্যাকাডেমি সম্পর্কে জানতে: ওয়েবসাইট—readycollegeprep.com; ফোন বা খুদে বার্তা—(404) 990-9914। প্রাথমিক ১৫ মিনিটের আলোচনা বিনা মূল্যে দেওয়া হয় বলে আকিব জানিয়েছেন। অন্যান্য সেবার ফি ও শর্ত সরাসরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনে নেওয়া যাবে।   সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা, সঠিক তথ্য এবং সময়মতো দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য তাই শুধু স্বপ্ন দেখা নয়, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাওয়াও জরুরি।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০