সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#ডিজিটালনিরাপত্তা

সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট বন্ধ, বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটা আর ঝুঁকিই বা কী

বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো কতটা সুরক্ষিত, সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতি কেমন এবং এ ধরনের আক্রমণ হলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।   বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি সেবা, আর্থিক লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগের বড় একটি অংশ ইন্টারনেটনির্ভর। ফলে কোনো বড় ধরনের সাইবার হামলা হলে শুধু ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যাওয়াই নয়, গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন সেবা ব্যাহত হওয়া এবং তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। সাইবার হামলার ধরন অনুযায়ী এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। কোনো হামলায় ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়তে পারে। আবার কোনো আক্রমণের লক্ষ্য হতে পারে ব্যক্তিগত তথ্য, প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নথি কিংবা আর্থিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা ভেঙে দেওয়া। এতে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, ব্যাংকিং সেবা, অনলাইন লেনদেন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। এসব ব্যবস্থায় দুর্বলতা থাকলে সাইবার অপরাধীরা তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার করা, নিয়মিত দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম দ্রুত মোকাবিলা করার সক্ষমতা থাকা জরুরি। সাইবার হামলা প্রতিরোধে শুধু প্রযুক্তিগত সুরক্ষা যথেষ্ট নয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সচেতনতা, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত হালনাগাদ করা, তথ্যের ব্যাকআপ রাখা এবং হামলার পর দ্রুত সেবা পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় থাকলে সম্ভাব্য ক্ষতি কমানো সহজ হতে পারে। তবে বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট বন্ধের আশঙ্কা বা সাইবার হামলার খবর থাকলেই বাংলাদেশের সব অনলাইন সেবা তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। প্রকৃত ঝুঁকি নির্ভর করে হামলার ধরন, লক্ষ্যবস্তু, ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর। বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটা কার্যকর, তা মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্কতা, নিরাপত্তাব্যবস্থার সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য হামলার প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রস্তুতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে নিয়মিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ডিজিটাল সেবা যত বাড়ছে, সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বও তত বাড়ছে। তাই সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, দ্রুত সতর্কতা এবং কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
ফোনে অচেনা মেসেজ? এক ক্লিকেই বিপদ—সতর্ক থাকুন, অন্যকেও সতর্ক করুন
ফোনে এই মেসেজ এলেই সাবধান! মুহূর্তেই ফাঁ দে ফেলছে প্র তা রকরা

ফোনে হঠাৎ ভেসে উঠল অচেনা একটি মেসেজ—‘আপনার জন্য চাকরির সুযোগ’, ‘সহজ শর্তে ঋণ’, কিংবা এমন কোনো প্রস্তাব, যার জন্য আপনি কখনো আবেদনই করেননি। কৌতূহলবশত অনেকে মেসেজটি খুলে দেখেন, কেউ আবার সঙ্গে থাকা লিংকে ক্লিক করেন। আর এই সামান্য অসতর্কতাকেই কাজে লাগিয়ে মুহূর্তের মধ্যে মানুষকে ফাঁ দে ফেলছে প্র তা রকরা।   নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনকল ও খুদে বার্তা এখন প্র তা রকদের মানুষের কাছে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। শুধু প্র তা রণার সংখ্যা বাড়ছে তা নয়, প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে প্র তা রকরা আগের তুলনায় অনেক দ্রুত এবং বড় পরিসরে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বেটার বিজনেস ব্যুরোর নতুন এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক তদন্তকারী দল ২০২২ সাল থেকে পাওয়া প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার প্র তা রণার অভিযোগ বিশ্লেষণ করেছে। এতে দেখা গেছে, প্র তা রকরা মানুষের কাছে পৌঁছাতে এমন অনেক বৈধ ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করছে, যেগুলো সাধারণ মানুষ ও বৈধ ব্যবসার ক্ষেত্রেও নিয়মিত ব্যবহৃত হয়।   প্র তা রণার নতুন হাতিয়ার প্রযুক্তি   বেটার বিজনেস ব্যুরোর মুখপাত্র জশ প্লানোস বলেন, প্র তা রণা এখন একটি অত্যন্ত লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে। প্র তা রকরা তাদের কার্যক্রমকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যেগুলো সহজলভ্য এবং ব্যবহারে বড় কোনো বাধা নেই।   প্র তা রণার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ভার্চুয়াল ও ইন্টারনেটভিত্তিক ফোন নম্বর, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক খুদে বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা, সহজে ওয়েবসাইট তৈরির সরঞ্জাম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কণ্ঠস্বর ও ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা।   এর ফলে একজন প্র তা রককে প্রতিটি সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ করতে হচ্ছে না। প্রযুক্তির সাহায্যে অল্প সময়েই হাজারো মানুষের কাছে একই ধরনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।   নম্বর বদলালেই কি প্র তা রক বদলে যায়?   প্র তা রকদের আরেকটি কৌশল নিয়েও সতর্ক করেছে বেটার বিজনেস ব্যুরো। কোনো একটি ফোন নম্বর বন্ধ হয়ে গেলে বা মানুষ সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করতে শুরু করলে প্র তা রকরা দ্রুত নতুন নম্বর ব্যবহার করতে পারে।   তাই নতুন বা অপরিচিত নম্বর থেকে মেসেজ এলেই সেটিকে নতুন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। একই প্র তা রণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই বারবার নম্বর পরিবর্তন করে নতুন করে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।   চাকরি ও ঋণের মেসেজে বিশেষ সতর্কতা   বিশেষ করে এমন মেসেজ নিয়ে সতর্ক করেছে বেটার বিজনেস ব্যুরো, যেখানে এমন চাকরি বা ঋণের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কখনো আবেদন করেননি।   এ ধরনের মেসেজের সঙ্গে অনেক সময় একটি লিংকও দেওয়া থাকতে পারে। সেখানে ক্লিক করে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া, কোনো ফরম পূরণ করা কিংবা আর্থিক তথ্য শেয়ার করা হলে প্র তা রকরা সেটি পরবর্তী প্র তা রণায় ব্যবহার করতে পারে।   তাই অপ্রত্যাশিত চাকরি বা ঋণের মেসেজ এলে কথোপকথন চালিয়ে না যাওয়াই নিরাপদ। অচেনা প্রেরকের পাঠানো কোনো লিংকেও ক্লিক না করার পরামর্শ দিয়েছে বেটার বিজনেস ব্যুরো।   আইনও কি প্র তা রকদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পারছে না?   প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে বর্তমান টেলিযোগাযোগ আইন তাল মেলাতে পারছে না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   জশ প্লানোসের মতে, বিদ্যমান অনেক টেলিযোগাযোগ বিধি এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছিল, যখন ল্যান্ডলাইন ফোনই ছিল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। বর্তমান সময়ে খুদে বার্তা, ভার্চুয়াল নম্বর এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এসব নিয়মের পরিধি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।   তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেলিমার্কেটিং বিক্রয়বিধি এবং টেলিফোন ভোক্তা সুরক্ষা আইনের মতো বিদ্যমান বিধি আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগের সুপারিশ করেছেন, যাতে খুদে বার্তাও আরও শক্তিশালী সুরক্ষার আওতায় আসে।   এখনই যে সতর্কতাটি নিতে পারেন   প্র তা রণা ঠেকাতে খুব জটিল কোনো প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই। বেটার বিজনেস ব্যুরোর পরামর্শ, নিজের মুঠোফোনের অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা শনাক্ত করার ব্যবস্থা চালু করে রাখুন। এতে সন্দেহজনক কল ও মেসেজ শনাক্ত বা ফিল্টার করতে সহায়তা মিলতে পারে।   তবে শুধু এই ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে ব্যবহারকারীকেও সচেতন থাকতে হবে। অচেনা নম্বর, অপ্রত্যাশিত চাকরি বা ঋণের অফার, সন্দেহজনক লিংক কিংবা জরুরি ভিত্তিতে তথ্য চাওয়া—এসবকে সতর্কতার সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।   কারণ প্র তা রকরা নম্বর বদলাতে পারে, নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারে, এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্য কণ্ঠস্বর বা ভিডিওও তৈরি করতে পারে।   তাই ফোনে আসা কোনো মেসেজ যতই আকর্ষণীয় হোক, যাচাই না করে তাতে সাড়া দেওয়া বা অচেনা লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
মাইকের গেমিং চ্যানেলের বিজ্ঞাপনে ১ লাখ ১৮ হাজার ডলার খরচ
৯ বছরের শিশুর ইউটিউব বিজ্ঞাপনে বাবার কোম্পানির ১ লাখ ১৮ হাজার ডলার খরচ

মাত্র ২০ ডলারের একটি ইউটিউব বিজ্ঞাপন প্রচারণা থেকে শুরু। এরপর প্রায় তিন সপ্তাহে ৯ বছর বয়সী এক শিশুর গেমিং চ্যানেলের প্রচারে বাবার কোম্পানির ক্রেডিট কার্ড থেকে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ডলার খরচ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার বাবা। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘মাইটি মাইক প্লেজ’ চ্যানেলকে ঘিরে। তবে পুরো অর্থের খরচ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।   শিশুটির নাম মাইক। সে মাইনক্রাফট ও রোবলক্সের গেমিং ভিডিও তৈরি করে। তার বাবা ডেভ জানান, ভিডিওগুলোতে দর্শক কম আসায় তিনি ছেলেকে ইউটিউবের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থায় একটি ছোট প্রচারণা তৈরি করে দেখিয়েছিলেন। ওই প্রথম প্রচারণার বাজেট ছিল প্রায় ২০ ডলার। পরে ছেলে নিজেই একই পদ্ধতিতে আরও বিজ্ঞাপন চালাতে শুরু করে বলে বাবার দাবি।   বড় সমস্যাটি তৈরি হয় পেমেন্ট তথ্য সংরক্ষিত থাকায়। বাবার কোম্পানির ক্রেডিট কার্ডের তথ্য একটি গুগল অ্যাকাউন্টে আগে থেকেই যুক্ত ছিল। ফলে পরবর্তী বিজ্ঞাপন প্রচারণাগুলো চালানোর সময় একই পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব হয়। বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, মাইক বুঝতে পারেনি যে প্রতিটি প্রচারণার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ কেটে যাচ্ছে।   প্রায় তিন সপ্তাহ পর বিষয়টি ধরা পড়ে। বাবাকে কোম্পানির ম্যানেজার, করপোরেট কর্মকর্তা ও অর্থ বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে ডেকে বিজ্ঞাপন বাবদ হওয়া বিপুল খরচের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। পরে তিনি ছেলের চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করে পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করেন।   বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অবশ্য ভিডিওগুলোর দর্শক বেড়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। কয়েকটি প্রচারিত ভিডিও প্রায় ২ লাখ করে ভিউ পেয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞাপনে পাওয়া ভিউয়ের সঙ্গে প্রকৃত দর্শক বা দীর্ঘমেয়াদি চ্যানেল প্রবৃদ্ধির সম্পর্ক আলাদাভাবে যাচাই করা হয়নি।   ঘটনার সর্বশেষ আপডেটে বাবার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি চাকরি হারিয়েছেন এবং অর্থ পরিশোধের বিষয়ে চাপের মুখে রয়েছেন। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্বাধীন কোনো বক্তব্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই চাকরি হারানো এবং পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার দায়—দুটিকেই আপাতত বাবার বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।   ঘটনাটি অনলাইন বিজ্ঞাপনে পেমেন্ট তথ্য ব্যবহারের ঝুঁকিও সামনে এনেছে। বিশেষ করে কোনো শিশুর ব্যবহৃত অ্যাকাউন্টে কোম্পানি বা পরিবারের বড় অঙ্কের পেমেন্ট পদ্ধতি সংরক্ষিত থাকলে ব্যয়ের সীমা, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ এবং আলাদা পেমেন্ট ব্যবস্থা রাখার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। পরিবারটি এখন সংরক্ষিত পেমেন্ট তথ্য সরানো এবং ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর কথা জানিয়েছে।   সোর্স: ইন্ডিয়া টুডে, ইউওএল।  

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
শিশুদের ছবি ব্যবহার করে এআই ডিপফেক তৈরির পর স্কুলকে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ—বাড়ছে উদ্বেগ
স্কুলের ওয়েবসাইটের ছবি থেকেই যৌন ডিপফেক, এরপরই চাঁদাবাজির ফাঁদ!

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্কুলকে লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে যৌনধর্মী ডিপফেক ছবি তৈরি করছে অপরাধী চক্র। পরে এসব ছবি ব্যবহার করে স্কুল কর্তৃপক্ষকে ব্ল্যাকমেইল করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রায় অর্ধেক স্কুলপ্রধান জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ছবি ক্ষতিকর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের ঘটনাও রয়েছে। একই সঙ্গে অর্ধেকের বেশি স্কুলপ্রধান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, স্কুলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত শিক্ষার্থীদের ছবিও এআইয়ের অপব্যবহারের ঝুঁকিতে রয়েছে। শিশু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনে শিশুদের যৌনধর্মী ডিপফেক ছবি তৈরির ঘটনা এখন ‘মহামারি’র মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্কুলগুলোও অপরাধীদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। এআইভিত্তিক শিশু সুরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইডোসের উদ্যোগে পরিচালিত ‘ইন প্লেইন সাইট’ শীর্ষক প্রতিবেদনের জন্য যুক্তরাজ্যের ৫০০টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ওপর জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, ৪৯ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ছবি অপব্যবহার, বিকৃত করা বা চাঁদাবাজির চেষ্টার অন্তত একটি ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন। এ ছাড়া ৫৪ শতাংশ শিক্ষক জানিয়েছেন, স্কুলের প্রকাশিত ছবিগুলো এআইয়ের অপব্যবহারের শিকার হতে পারে—এ নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত উদ্বেগ রয়েছে। ৪৫ শতাংশ শিক্ষক জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ছবি অপব্যবহারের অভিযোগে তাদের স্কুলে অভিভাবকদের কাছ থেকে সরাসরি অভিযোগও এসেছে। যুক্তরাজ্যের সাবেক জাতীয় শিশু সুরক্ষা পুলিশিং প্রধান সাইমন বেইলি বলেন, সংগঠিত অপরাধী চক্রগুলো স্কুলপ্রধানদের এমনভাবে টার্গেট করছে, যাতে তাদের ওপর থাকা চাপ ও দুর্বলতার জায়গাগুলো তারা কাজে লাগাতে পারে। তিনি বলেন, অনেক স্কুলপ্রধানই প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। অপরাধীরা এই স্বাভাবিক প্রবণতাকেই কাজে লাগাচ্ছে। তার আশঙ্কা, অনেক স্কুল এমন ঘটনার শিকার হলেও তা কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছে না; বরং বিষয়টি নিজেদের মধ্যেই সামলানোর চেষ্টা করছে। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি জানা যাচ্ছে না। আইডোসের প্রতিষ্ঠাতা ক্যারোল অসবোর্ন বলেন, শুধু অপরাধী চক্রই নয়, যৌন অপরাধীরাও স্কুলের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ব্যবহার করে শিশুদের যৌন নির্যাতনের ভুয়া ছবি তৈরি করছে। এমনকি শিশুরাও অন্য শিশু এবং শিক্ষকদের ছবি ব্যবহার করে ডিপফেক তৈরি করছে। অসবোর্ন বলেন, এসব ঘটনা যে বাড়ছে তা তিনি জানতেন, তবে এত বেশি স্কুল এর শিকার হয়েছে—জরিপের ফল দেখে তিনি নিজেই বিস্মিত হয়েছেন। তার মতে, অনেক স্কুল এখনো মনে করছে তাদের সঙ্গে এমন কিছু ঘটবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এসব ঘটনা ইতোমধ্যে ঘটছে এবং স্কুলগুলোকে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে। এর আগে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) এবং ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন (আইডব্লিউএফ) অভিভাবকদের সন্তানদের ছবি অনলাইনে প্রকাশের বিষয়ে সতর্ক করেছিল। আইডব্লিউএফের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড্যান সেক্সটন বলেন, শিশুদের ছবি অনলাইনে প্রকাশ না করতে অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া তার জন্যও অস্বস্তিকর। তবে অনলাইনে প্রকাশিত ছবির অপব্যবহার ঠেকানোর কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় সতর্ক থাকা ছাড়া আপাতত আর কোনো বিকল্প দেখছেন না তিনি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০