- প্রচ্ছদ
- Topic
ডিপোর্টেশন
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩০ বছর আগে তৈরি করা বিশেষ ‘এলিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্ট’ প্রথমবারের মতো ব্যবহার করে এক আফগান নারীকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ৪৭ বছর বয়সী নাজিরা হাজি জাদাকে ‘এলিয়েন টেররিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করে ডিপোর্ট করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। তবে তিনি কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত হননি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০২৪ সালের নির্বাচনের দিন যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনায় পরিবারের সদস্যদের সহায়তা করেছিলেন। নাজিরা হাজি জাদা টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে বসবাসকারী যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয় ১৫ জুলাই ২০২৬। এর আগে জুলাই মাসে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৩০ জুলাই বিশেষ আদালতের প্রথম শুনানিতে হাজির করা হয়। এই আদালত ১৯৯৬ সালে কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হলেও এরপর প্রায় তিন দশক ধরে কোনো মামলায় ব্যবহার করা হয়নি। এই বিশেষ আদালত তৈরির উদ্দেশ্য ছিল এমন অ-মার্কিন নাগরিকদের দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা, যাদের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে এবং সেই তথ্য প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয়। প্রচলিত অভিবাসন আইনের আওতায় কাউকে বহিষ্কার করতে যে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, এই আদালতে তার কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। বিশেষ করে সরকারের কাছে থাকা গোপন বা শ্রেণিবদ্ধ তথ্য পুরোপুরি অভিযুক্ত ব্যক্তির সামনে প্রকাশ না করেই তা ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। নাজিরার মামলায় তাঁর আইনজীবীরা শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত শ্রেণিবদ্ধ প্রমাণ তাঁরা পুরোপুরি দেখতে বা পরীক্ষা করতে পারছেন না। ফলে নাজিরার বিরুদ্ধে সরকারের অভিযোগ যথাযথভাবে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। প্রতিরক্ষা পক্ষ আদালতের এই প্রক্রিয়াকে যথাযথ আইনি অধিকার বা ‘ডিউ প্রসেস’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও দাবি করেছে। মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, নাজিরা তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ হাজি জাদা এবং জামাতা নাসির আহমাদ তাওহেদির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি আইএস-অনুপ্রাণিত হামলার পরিকল্পনায় সহায়তা করেছিলেন। পরিকল্পনাটি ছিল ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের দিন ব্যাপক প্রাণহানির উদ্দেশ্যে হামলা চালানো। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে ও জামাতা পরে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি হন। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আবদুল্লাহ এবং তাওহেদি ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন। তদন্তকারীদের অভিযোগ ছিল, তারা নির্বাচনের দিন হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে অস্ত্র ও গুলি সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। আবদুল্লাহ তখন ১৭ বছর বয়সী ছিলেন। পরে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং ১৫ বছরের কারাদণ্ড পান। তাঁর জামাতা তাওহেদিও আইএসকে সহায়তার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র সংগ্রহসংক্রান্ত সন্ত্রাসবাদী অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। নাজিরার বিরুদ্ধে অবশ্য কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে অভিবাসন ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত এই বিশেষ আদালতের মাধ্যমে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, সরকারের হাতে থাকা প্রমাণের মধ্যে প্রায় অর্ধ টেরাবাইট নথি নাজিরার আইনজীবীদের দেওয়া হয়েছিল। তবে মামলার সঙ্গে শ্রেণিবদ্ধ তথ্যও জড়িত ছিল, যা পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। মামলাটি শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে যায়নি। আদালতের নথি অনুযায়ী, নাজিরা গত আগস্টে নিজেকে ‘এলিয়েন টেররিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত মেনে নেন এবং আপিলের অধিকারও ছেড়ে দেন। এরপর বিশেষ আদালতের প্রধান বিচারক জোয়ান এন. এরিকসেন ২০ আগস্ট তাঁর বহিষ্কারের আদেশ অনুমোদন করেন। আদেশটি নাজিরা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে পৌঁছানোর পর ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়। নাজিরার আইনজীবীরা স্পষ্ট করেছেন, তাঁর বহিষ্কারে সম্মতি দেওয়াকে এই বিশেষ আদালতের বৈধতার প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁদের অভিযোগ, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের এমন একটি আদালতের সামনে হাজির করা হচ্ছে যেখানে সরকারের ব্যবহৃত সব প্রমাণ তাদের বা তাদের আইনজীবীদের দেখানো হয় না। তারা মনে করেন, ভবিষ্যতে এই আদালতের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন উঠলে এটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চে ঘটনাটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যারা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা প্রশ্রয় দেয়, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা উচিত নয়। তাঁর মতে, এই প্রথম মামলাটি দেখিয়েছে যে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় বিচার বিভাগ প্রয়োজনীয় সব আইনি উপায় ব্যবহার করতে পারে। নাজিরার মামলার মধ্য দিয়ে প্রায় তিন দশক নিষ্ক্রিয় থাকা এই বিশেষ আদালত কার্যত প্রথমবারের মতো ব্যবহার হলো। তবে এই আদালত ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে ব্যবহার করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মামলাটি দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আদালতের সাংবিধানিক ক্ষমতা ও গোপন প্রমাণ ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে যে দীর্ঘ আইনি লড়াই হতে পারত, সেটিও আপাতত হয়নি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তাদের ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী ও নির্বাসন (ডিপোর্টেশন) নীতির অংশ হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় সামরিক সদস্যদের অন্তত ৫০ জন পিতা-মাতা এবং স্বামী বা স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে অন্তত ছয়জনকে এরই মধ্যে নিজ দেশে ফেরত (ডিপোর্ট) পাঠানো হয়েছে। সরকারিভাবে এই ধরপাকড়ের কোনো নির্দিষ্ট হিসাব না থাকলেও, এপির মতে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। কয়েক দশক ধরে মার্কিন সেনাদের পরিবারের সদস্যদের নির্বাসনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য একটি দ্বিদলীয় ঐকমত্য ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সামরিক বাহিনীর সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে যখন এসব পরিবারের সদস্যরা নিজেদের আইনি বৈধতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন, তখনই তাদের মাসের পর মাস আটকে রাখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি ও মনোবলকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রিয়জনদের হারিয়ে অনেক সেনাসদস্য মানসিক সহায়তাহীন হয়ে পড়েছেন, সন্তানদের দেখাশোনার কেউ নেই, এমনকি অনেকের বদলি বা মোতায়েনও (ডিপ্লয়মেন্ট) পিছিয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। টেক্সাসের ফোর্ট ব্লিসে কর্মরত আর্মি সার্জেন্ট হেদার লিওনেল তুরসিওস জুয়ারেজের স্ত্রীকে গত জুলাই মাসে তাদের ছয় বছরের মেয়ের সামনেই আটক করা হয়। অন্যদিকে, এয়ার ফোর্স টেকনিক্যাল সার্জেন্ট ওয়েন্ডি গ্বেভের বাবাকে আইনি বৈধতা সংক্রান্ত একটি সাধারণ সাক্ষাৎকারের সময় আটক করে মেক্সিকোতে নির্বাসন দেওয়া হয়েছে। একই রকম পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন আর্মি স্টাফ সার্জেন্ট অ্যালেক্সিস জারামিলো। তার ব্রাজিলিয়ান স্ত্রীকে একটি সাধারণ অ্যাপয়েন্টমেন্ট থেকে আটক করার পর, তিনি এখন ছুটিতে থেকে একাই তার পাঁচ বছর বয়সী সৎ ছেলেকে দেখাশোনা করছেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাস্তবায়িত নতুন অভিবাসন নীতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, কেবল সামরিক বাহিনীতে চাকরি করলেই অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের পরিণতি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কাজের মূল্যায়ন তারা করলেও, এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাউকে আইনি মর্যাদা দেয় না। অথচ, আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, সেনাবাহিনী এবং ন্যাশনাল গার্ডের মতো বাহিনীগুলো এখনো নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি বিজ্ঞাপনে প্রচার করছে। এই কঠোর নীতির কারণে খোদ সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যেই অপরাধবোধ ও হতাশা তৈরি হচ্ছে। ইউএস আর্মি স্পেশালিস্ট রোমেরো রালিওস, যিনি এর আগে মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তার নিজের বাবাকেই সম্প্রতি আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় চরম অনুতপ্ত রালিওস জানান, এটি হয়তো তার কর্মফল। যে বর্ডার প্যাট্রলে কাজ করে তিনি অন্য পরিবারগুলোকে ভেঙেছেন, আজ নিজের পরিবার ভাঙার পর সেই যন্ত্রণাই তিনি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।
বেলারুশীয় ডেন্টিস্ট প্রেমিকাকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে রাখার জন্য এক অভিনব ও প্রতারণামূলক পথ বেছে নিয়েছিলেন প্রয়াত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টিন। স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রেমিকাকে নির্বাসন (ডিপোর্টেশন) থেকে বাঁচাতে তিনি এক ভুয়া সমকামী বিয়ের আয়োজন করেছিলেন। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) কর্তৃক প্রকাশিত বেশ কিছু গোপন ইমেইল এবং 'নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, এপস্টিনের ওই প্রেমিকার নাম কারিনা শুলিয়াক (৩৭)। ২০১০ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে ২০১২ সালে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ডেন্টিস্ট্রিতে ভর্তির আবেদন করার সময় তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ২০১৩ সালের মার্চ মাসে শুলিয়াককে পাঠানো এক ইমেইলে এপস্টিন লেখেন, "আমার মনে হয় এখন তোমার একজন আমেরিকান প্রেমিকা খুঁজে নেওয়ার সময় এসেছে। গ্রিন কার্ড পাওয়ার সবচেয়ে দ্রুততম উপায় হবে সমকামী বিয়ে।" এরপর এপস্টিন নিজেই তার এক ৩০ বছর বয়সী নারী সহকারীকে শুলিয়াকের সাথে বিয়ের জন্য নির্বাচন করেন। নিউ ইয়র্কে সমকামী বিয়ে বৈধ হওয়ার সুযোগ নিয়ে ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর সিটি ক্লার্ক অফিসে আইনগতভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর শুলিয়াকের গ্রিন কার্ডের আবেদন সফলভাবে প্রক্রিয়াধীন হয় এবং ২০১৮ সালের মে মাসে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। এর ঠিক পরের বছরই ওই নারী সহকারীর সাথে তার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। 'হাউস কমিটি অন ওভারসাইট অ্যান্ড গভর্নমেন্ট রিফর্ম'-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এপস্টিন মূলত তার ওই সহকারীকে এই বিয়েতে বাধ্য করেছিলেন। বিয়ের পর ওই সহকারী যখন জানতে পারেন যে মাত্র কয়েকদিন পরই শুলিয়াকের ডিপোর্টেশন শুনানি হতে যাচ্ছে, তখন তিনি হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। কমিটি এই বিয়েকে নিছক 'প্রতারণামূলক' বলে আখ্যায়িত করেছে। তাদের মতে, কেবল শুলিয়াককে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনি বৈধতা দিতেই এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে কমিটি তার নাগরিকত্ব বাতিলের কোনো সুপারিশ করেনি। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে ২০১৫ সালে স্নাতক সম্পন্ন করা শুলিয়াক ছিলেন এপস্টিনের জীবনের শেষ প্রেমিকা। ২০১৯ সালে জেলের ভেতর আত্মহত্যার মাত্র দু'দিন আগে সই করা উইলে এপস্টিন তার এই প্রেমিকাকে ১০০ মিলিয়ন ডলার, ৩২ ক্যারেটের একটি আংটি এবং প্যারিস ও পাম বিচসহ নিজের বিতর্কিত ‘পেডো আইল্যান্ড’ ও নিউ মেক্সিকোর জোরো র্যাঞ্চ লিখে দিয়েছিলেন। ২৮৮ মিলিয়ন ডলারের সেই উইলে শুলিয়াক ছাড়াও গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল এবং এপস্টিনের ভাই মার্কের নাম ছিল। উল্লেখ্য, শুলিয়াকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি, এমনকি তাকে এপস্টিনের ভুক্তভোগী হিসেবেও আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। শুলিয়াকের আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, ম্যানহাটনের জেলে মৃত অবস্থায় উদ্ধারের আগের দিনও এপস্টিন শুলিয়াকের সাথে কথা বলেছিলেন। ফোনে তিনি জানিয়েছিলেন যে তার বিরুদ্ধে আনা ফেডারেল যৌন অপরাধের অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি হতে সময় লাগবে এবং তিনি শুলিয়াককে মানসিকভাবে শক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।