- প্রচ্ছদ
- Topic
#তুরাগ_নদী
মায়ের ফোনে শেষ কণ্ঠবার্তায় বলেছিলেন, ‘মা, আমি আসছি।’ কিন্তু বাড়ি ফেরা হয়নি সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সৌরীর। ওই বার্তার পরদিন ঢাকার তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করা হয় ২৮ বছর বয়সী এই সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্টের ম রদেহ। তাঁর মৃ ত্যু ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)। একই এলাকায় পাওয়া গেছে একটি মোটরসাইকেল, যেটি তাহসিফের বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাহসিফের মৃ ত্যু কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বন্ধুর দাবি, কয়েকজন ব্যক্তির ধাওয়া খেয়ে তিনি নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে শ্বা সরোধ করে হ ত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলেও সন্দেহের কথা জানানো হয়েছে। তবে কোনো সম্ভাবনাই এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা শেষে মৃ ত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাহসিফের ছোটবেলার পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দীপের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা তুরাগ নদীর রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় কথা বলছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের ধাওয়া করেন। পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। আর দীপ সেখান থেকে পালিয়ে যান। দীপের দাবি, তাঁদের ধাওয়া করা ব্যক্তিরা পুলিশের সদস্য ছিলেন। তবে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পিবিআই তাঁর বক্তব্য যাচাই করছে। রাজাবাড়ী ঘাট এলাকাটি মা দকসেবী ও মা দক কারবারিদের আনাগোনার স্থান হিসেবে পরিচিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এ সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন, মা দক কারবারিদের ধাওয়া থেকে বাঁচতে গিয়ে তাহসিফ নদীতে পড়ে গিয়েছিলেন কি না। তবে ঢাকা ট্রিবিউনের ৩০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ভিন্ন একটি সন্দেহের কথা উঠে এসেছে। সূত্রটির দাবি, তাহসিফকে শ্বা সরোধ করে হ ত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তাহসিফের সঙ্গে থাকা দামি হাতঘড়ি ও মুঠোফোন অক্ষত ছিল। তাঁর পকেটে টাকাও পাওয়া গেছে। এ কারণে সাধারণ ছি নতাইয়ের উদ্দেশ্যে ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে শ্বা সরোধের সন্দেহ এখনো চূড়ান্ত ফরেনসিক সিদ্ধান্ত নয়। একইভাবে বন্ধুর দেওয়া ধাওয়া ও নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার বর্ণনাও যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্তে তাহসিফের নি খোঁজ হওয়ার আগের দিনের সিসিটিভি ফুটেজকে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে তাঁর সঙ্গে দীপের দেখা হয়। পরিবারের সদস্যরা সিসিটিভি ফুটেজে থাকা ব্যক্তিকে দীপ হিসেবে শনাক্ত করেছেন। ফুটেজে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটের দিকে দীপ সেখানে আসেন। কয়েক মিনিট পর তাহসিফ নিচে নেমে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা হাত মেলানোর পর দুটি আলাদা মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান। দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাঁরা মোটরসাইকেল মেরামতের একটি গ্যারেজে যান। এরপর উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান। পরে দুজন আলাদা হয়ে যান। তাঁদের শেষ দিকের চলাচল সম্পর্কে নিশ্চিত হতে দীপকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছেন তদন্তকারীরা। এর মধ্যে মোটরসাইকেল মেরামতের গ্যারেজ ও ওই রেস্তোরাঁও রয়েছে। তাঁদের যাতায়াতের সঙ্গে রাজাবাড়ী ঘাটে ঘটে যাওয়া ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পিবিআই। তদন্তে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠেছে নদীর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেল। ৩০ অক্টোবর শুক্রবার তুরাগ নদীর রাজাবাড়ী ঘাটের কাছাকাছি টঙ্গীর মাজারবস্তি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছিল। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে স্থানীয় চায়ের দোকানদার জুবাইদা বেগমের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, মোটরসাইকেলটি গত দুই দিন ধরে দোকানের কাছের রাস্তার পাশে পড়ে ছিল। কেউ সেটির মালিকানা দাবি না করায় বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে পুলিশ এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। মোটরসাইকেলটির পেছনে নম্বরপ্লেট না থাকাও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। তাহসিফের সঙ্গে নি খোঁজ হওয়া মোটরসাইকেলটির সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটির মিল রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাহসিফের পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাঁর শেষ কণ্ঠবার্তা নিয়ে। ২৮ অক্টোবর রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাঁর মায়ের মুঠোফোনে তাহসিফের নম্বর থেকে একটি ভয়েস মেসেজ আসে। সেখানে তিনি বাড়ি ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের দাবি, বার্তায় শোনা কণ্ঠস্বর তাহসিফের স্বাভাবিক কণ্ঠের মতো মনে হয়নি। এ কারণে বার্তাটি সত্যিই তিনি পাঠিয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে কণ্ঠবার্তার সত্যতা যাচাইয়ে কোনো চূড়ান্ত ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের ভাষ্য, ছেলে বাড়ি ফেরার কথা জানালেও আর ফিরে আসেননি। পরে পুলিশ তাঁদের তাঁর ম রদেহ উদ্ধারের খবর দেয়। ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদীর রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় ভাসমান অবস্থায় তাহসিফের ম রদেহ উদ্ধার করা হয়। টঙ্গী নদীপুলিশের সদস্যরা ম রদেহটি উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাহসিফের নাক দিয়ে র ক্ত বের হচ্ছিল এবং পেট ফুলে ছিল। তাঁর দুই হাত মাথার সামনের দিকে বাঁকানো অবস্থায় ছিল। তবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সঙ্গে থাকা মুঠোফোন ও হাতঘড়ির মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে ম রদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত না হওয়ায় মৃ ত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তাহসিফের মৃ ত্যু রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনায় এসেছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের একটি ভিডিওর কারণে। ওই দিন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে সামরিক উড়োজাহাজে তাঁর দেশত্যাগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ভিডিওটি ধারণের সঙ্গে তাহসিফের নাম জড়িয়ে যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁকে ভিডিওটির ধারণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের ২১ জুলাই একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তাহসিফকে প্রশ্ন করা হয়, ভিডিও ধারণের কারণে তিনি বিমানবাহিনীর চাকরি হারিয়েছিলেন কি না। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘হতে পারে’। তবে ভিডিওটি নিজে ধারণ করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। এর আগে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছিল, তাহসিফসহ দুজন কর্মকর্তাকে বিমানবাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে অবসর দেওয়া হয়েছিল। বিদেশি গো য়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছিল সংস্থাটি। তাহসিফের পরিবারের অভিযোগ, চাকরি ছাড়ার পরও তাঁকে বিভিন্নভাবে হয় রানি ও নজরদারির মধ্যে থাকতে হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে তাঁর মৃ ত্যুর কোনো সরাসরি যোগসূত্র এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সব মিলিয়ে তাহসিফের শেষ কণ্ঠবার্তা, বন্ধুর দেওয়া ধাওয়ার বিবরণ, নদীর কাছ থেকে মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং শ্বা সরোধের সন্দেহ—সবকিছুই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর মৃ ত্যু দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে, তা জানতে এখন ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও পিবিআইয়ের তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছে পরিবার।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।