- প্রচ্ছদ
- Topic
ধর্ষণ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এক বাসিন্দার বিরুদ্ধে ম্যাসাচুসেটসের ন্যানটুকেটে নিজের বিলাসবহুল ইয়টে এক নারী কর্মীকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। ৫৪ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ান ব্র্যাডলি উইলিয়ামস নামের ওই ব্যক্তির স্ত্রী, দুই বছরের সন্তান এবং আয়া ফ্লোরিডায় ফিরে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি এই জঘন্য কাণ্ডটি ঘটান বলে অভিযোগ। ৯ আগস্ট রাতের ওই ঘটনায় গত শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ন্যানটুকেটের পুলিশ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২২ বছর বয়সী ভুক্তভোগী তরুণীটি গত জুন মাস থেকে উইলিয়ামসের 'কাইমেরা' নামের ইয়টটিতে ডেকহ্যান্ড হিসেবে কাজ করছিলেন। ৯ আগস্ট বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে উইলিয়ামসের পরিবার ইয়ট ছেড়ে যাওয়ার পর তিনি ওই তরুণীকে একটি সুন্দর জায়গায় ডিনারে যাওয়ার প্রস্তাব দেন এবং তাকে একটি ড্রেস পরতে বলেন। তরুণীটি ড্রেস পরে এলে উইলিয়ামসের হাবভাব দেখে তিনি প্রথমবারের মতো অস্বস্তি বোধ করেন। ডিনারের সময় উইলিয়ামস বারবার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন এবং বিল পরিশোধের সময় তার স্ত্রীর কাছে লেনদেনের তথ্য গোপন রাখতে তরুণীর কার্ড ব্যবহার করেন। পরে তিনি নগদ ৫০০ ডলার তুলে ওই তরুণীকে দেন, যদিও বিল ছিল মাত্র ২৫০ ডলার। রাত আটটার দিকে তরুণীটি ইয়টে ফিরে আসার পর তিনি ঘুমাতে যেতে চাইলেও উইলিয়ামস জোরাজুরি করে তাকে একটি রাম (মদ) পান করান। তরুণীর অভিযোগ, ওই পানীয় পানের পরই তিনি মাথা ঘোরা অনুভব করেন এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। এরপর উইলিয়ামস জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন। পরদিন সকালে ওই তরুণী নিজেকে উইলিয়ামসের বিছানায় নগ্ন ও রক্তাক্ত অবস্থায় আবিষ্কার করেন। তিনি দ্রুত ইয়ট থেকে নেমে তার কোম্পানি ন্যানটুকেটের মালিক ম্যাক্স শাপিরোকে ঘটনাটি জানালে তিনি কোনো সাহায্য করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তরুণীটি পদত্যাগ করে হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষা করান। ১ সেপ্টেম্বর ফরেনসিক রিপোর্টে তার শরীরে পুরুষের ডিএনএ পাওয়ার পর উইলিয়ামসকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাবেক মার্কিন নৌবাহিনীর সাবমেরিন কমান্ডার হিসেবে পরিচিত উইলিয়ামস আদালতে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে তাকে ৫০ হাজার ডলার নগদ বা ৫ লাখ ডলার শিউরিটি বন্ডে জামিনের শর্তে রাখা হয়েছে এবং তার আইনজীবী জানিয়েছেন, উইলিয়ামসের স্ত্রী জামিনের অর্থ নিয়ে ন্যানটুকেটে আসছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এক পাষণ্ড বাবার বিরুদ্ধে নিজের ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ ও গর্ভবতী করার ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি নির্জন রাস্তা থেকে ওই কিশোরীর নবজাতকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্তমানে অভিযুক্ত ৩৮ বছর বয়সী সার্জিও গালভেস পেরেজ তার কিশোরী মেয়েকে নিয়ে পলাতক রয়েছেন। মন্টেরে কাউন্টি শেরিফ অফিস নিশ্চিত করেছে যে, পেরেজ ওই কিশোরী এবং মৃত নবজাতক উভয়েরই জন্মদাতা বাবা। তদন্তকারীরা নিহত ওই নবজাতকের নাম রেখেছেন ‘অ্যাঞ্জেলিতো’। গত ১ আগস্ট মস ল্যান্ডিংয়ের কাছের একটি নির্জন রাস্তার পাশ থেকে নবজাতকের মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় শিশুটির নাড়ি যুক্ত ছিল এবং শরীরে আঘাতের সুস্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়। এই ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে তার সন্তানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তার জড়িত থাকার বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করা হলো, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটির বয়স যখন মাত্র ১৩ বছর, তখনই পেরেজ তাকে ধর্ষণ করে গর্ভবতী করে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে নিজ পরিবারের সদস্যের সঙ্গে অজাচার এবং নাবালিকার ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মন্টেরে কাউন্টির শেরিফ টিনা নিয়েতো জানান, পলাতক ওই কিশোরী চরম বিপদের মধ্যে থাকতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। তিনি বলেন, "সে মাত্র ১৪ বছরের একটি শিশু। যদিও সে এই হত্যা মামলার সন্দেহভাজন, কিন্তু দিনশেষে সে নিজেও একজন ভুক্তভোগী।" পুলিশ দ্রুত মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার জবানবন্দি শুনতে চায় এবং পাষণ্ড বাবাকে আইনের আওতায় আনতে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছে। ফ্লক ক্যামেরার ফুটেজের সাহায্যে পুলিশ পেরেজ ও তার স্ত্রী ওফেলিয়া গার্সিয়া ওর্তেগার নামে নিবন্ধিত একটি গাড়ি শনাক্ত করে, যা এই তদন্তে বড় অগ্রগতি এনে দেয়। ইতোমধ্যে শিশু বিপন্ন করার অভিযোগে ওর্তেগাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাবেক ট্যাক্সিচালক গুরমিত সিংয়ের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। ২০১১ সালে ট্যাক্সিতে এক নারী যাত্রীকে ছুরি দেখিয়ে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় ২০১৪ সালে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সিং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ওই অপরাধের তথ্য গোপন করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালত গত ২৬ আগস্ট সিংয়ের ন্যাচারালাইজেশন বাতিলের আদেশ দেন। বিচার বিভাগ সোমবার, ৩১ আগস্ট এ তথ্য প্রকাশ করে। গুরমিত সিং ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছয় মাসের অস্থায়ী ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। পরে কয়েক বছর অনুমোদনহীনভাবে দেশটিতে থাকার পর পারিবারিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০০০ সালের জুনে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ডধারী হন। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের মে মাসে, মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার কয়েক সপ্তাহ আগে, সিং ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ করছিলেন। এক নারী যাত্রী ট্যাক্সিতে ঘুমিয়ে পড়লে তিনি তাকে এমন একটি স্থানে নিয়ে যান যেখানে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না। ঘুম থেকে উঠে ওই নারী দেখতে পান, সিং তার ওপর চেপে বসে আছেন এবং তার গলায় ছুরি ধরে রেখেছেন। এরপর সিং ওই নারীকে বেঁধে ও মুখ বন্ধ করে ধর্ষণ করেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভোরে ওই নারী ট্যাক্সি থেকে পালিয়ে রাস্তায় গিয়ে সাহায্য চান। অপরাধের কয়েক মাস পরও সিং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় এসব তথ্য গোপন রাখেন। ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালে নিউইয়র্কে তিনি প্রথম ডিগ্রির ধর্ষণ এবং যৌন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ হিসেবে দ্বিতীয় ডিগ্রির অপহরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। আদালত তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সিংয়ের ন্যাচারালাইজেশন বাতিলের জন্য মামলা করে। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই ফেডারেল আদালত তার নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেন, নাগরিকত্ব অপরাধীদের জন্য কোনো সুরক্ষা নয়। বিচার বিভাগের ভাষ্য, সিং নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধের তথ্য গোপন করায় তিনি আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না। আদেশ অনুযায়ী, সিংকে তার ভুলভাবে পাওয়া নাগরিকত্বের নথি হস্তান্তর করতে হবে। তিনি বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। নাগরিকত্ব বাতিলের পর কারাদণ্ড শেষ হলে তার অভিবাসন সংক্রান্ত পরবর্তী ব্যবস্থা কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি নেভি জাহাজে ধর্ষণের অভিযোগ করা এক বেসামরিক নারী ইঞ্জিনিয়ারের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছেন নিউ জার্সির এক ফেডারেল বিচারক। অভিযোগটি কর্মক্ষেত্রে সংঘটিত ‘ইনজুরি’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় বিষয়টি ফেডারেল কর্মী ক্ষতিপূরণ আইনের আওতায় পড়বে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। মামলাটি করেছিলেন এলসি ডোমিঙ্গেজ। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ইতালির ব্রিনদিসিতে অবস্থানরত মার্কিন নেভির দ্রুতগতির পরিবহন জাহাজ ইউএসএনএস কারসন সিটিতে কাজ করার সময় জাহাজটির ক্যাপ্টেন তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ডোমিঙ্গেজের দাবি, ঘটনাটি তার নিজ কেবিনে এবং কর্মঘণ্টার বাইরে ঘটেছিল। ডোমিঙ্গেজ ২০২৩ সালে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিষয়টি যথাযথভাবে মোকাবিলা করা হয়নি। তার আইনজীবীরা যুক্তি দেন, জাহাজে থাকা তার চাকরির অংশ হলেও ব্যক্তিগত কেবিনে যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে কোনোভাবেই চাকরির দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়। অন্যদিকে মার্কিন সরকার যুক্তি দেয়, ডোমিঙ্গেজের কর্মস্থল ছিল জাহাজটি এবং চাকরির কারণে তাকে সেখানে থাকতে হতো। ফলে জাহাজে অবস্থানকালে তার ওপর যে কোনো ব্যক্তিগত ক্ষতি ফেডারেল কর্মী ক্ষতিপূরণ আইনের আওতায় পড়তে পারে। এ কারণে দেওয়ানি আদালতের পরিবর্তে কর্মী ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে সরকার দাবি করে। শেষ পর্যন্ত শ্রম বিভাগের সিদ্ধান্তের পর আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। ডোমিঙ্গেজের আইনজীবীরা এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে তীব্রভাবে দ্বিমত জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিজের কেবিনে ঘুমন্ত অবস্থায় যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়াকে কোনোভাবেই একজন কর্মীর চাকরির দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। ঘটনাটির বিষয়ে অপরাধমূলক তদন্তও হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএস কোস্ট গার্ডের তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া যায় যে, ক্যাপ্টেন এমন এক যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন যেখানে সংশ্লিষ্ট নারী সম্মতি দেওয়ার অবস্থায় ছিলেন না। তবে এ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। মার্কিন নেভির বর্তমান নীতিতে যৌন নির্যাতনকে স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নেভাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটিভ সার্ভিস বা এনসিআইএস নেভি ও মেরিন কর্পসের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে। ডোমিঙ্গেজের মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বেসামরিক কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ কীভাবে আইনি কাঠামোর মধ্যে বিবেচিত হবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে কর্মস্থলে সংঘটিত অপরাধ এবং কর্মী ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার সীমারেখা নিয়ে এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও আইনি বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
জার্মানির একটি আদালত ১৯৯৪ সালে মার্কিন পর্যটক অ্যামি লোপেজকে (২৪) ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে শুক্রবার ৮১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। দীর্ঘ ৩২ বছর পর ডিএনএ প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির ফলেই চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় দেওয়া সম্ভব হয়েছে। জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোবলেঞ্জের রাইন নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক এহরেনব্রেইটস্টাইন দুর্গের কাছে ওই মার্কিন পর্যটকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল স্থানীয় কয়েকজন শিশু। চলতি বছরের শুরুতে কোবলেঞ্জ পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ভুক্তভোগীকে শ্বাসরোধ করার পাশাপাশি পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত এবং একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। হত্যার পর দীর্ঘ তিন দশক পুলিশ অপরাধীকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলেও, অবশেষে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি বৃদ্ধাশ্রম থেকে 'হ্যান্স এস' নামের ওই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৯৯ সালে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তার ডিএনএ পুলিশের কাছে সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে সেই জিনগত তথ্য মুছে ফেলা হলেও, পুলিশ সন্দেহভাজন বৃদ্ধের নতুন লালার নমুনা সংগ্রহ করে। প্রসিকিউটররা জানান, এই নমুনার সাথে নিহত লোপেজের পোশাকে পাওয়া ডিএনএ-র হুবহু মিল পাওয়া যায়। কোবলেঞ্জের আঞ্চলিক আদালত প্রমাণ পেয়েছে যে, অভিযুক্ত হ্যান্স এস ইয়ুথ হোস্টেলের রাস্তা দেখানোর অজুহাতে লোপেজকে একটি নির্জন পথে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করে। আদালত জানিয়েছে, অপরাধের মাত্রা এতটাই গুরুতর যে অপরাধীর আগাম মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। বিচারকের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মূলত ধর্ষণের জন্য কোনো শিকার খুঁজছিল এবং দুর্ভাগ্যবশত টেক্সাস থেকে ঘুরতে আসা লোপেজ ভুল সময়ে ভুল জায়গায় উপস্থিত ছিলেন। প্রসিকিউটর অফিস জানায়, কয়েক দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা এই কোল্ড কেসের সুরাহা করতে তদন্তকারীরা লোপেজের পোশাক এবং প্রায় ১ হাজার ৬০০টি নমুনা পুনরায় পরীক্ষা করেন। পরবর্তীতে একটি পুরুষ ডিএনএ পাওয়ার পর ২০২৪ সালে পুলিশ অপরাধীকে ধরতে আড়াই হাজার ইউরো পুরস্কার ঘোষণা করে। এছাড়া 'আকতেনজাইচেন এক্সওয়াই' নামের একটি ট্রু-ক্রাইম প্রোগ্রামে মামলাটি প্রচারের পর স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই রহস্যের জট খুলতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই ঐতিহাসিক মামলায় নিহতের পরিবার সহ-বাদী হিসেবে যুক্ত ছিল।
পূর্ব লন্ডনের একটি পার্কে প্রথম ডেটে গিয়ে তারার আকাশ দেখার সময় এক তরুণীকে ছুরি দেখিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় দুই আফগান নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট বার্কিং পার্কে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় খান আগাহ ও নূরুল্লাহ আহমদজাই নামে দুই ব্যক্তি তরুণী ও তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষকে আক্রমণ করেন। আদালতে মামলার বিচার শেষে দুজনকেই একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ওই তরুণী ও তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষ সেদিন প্রথমবারের মতো দেখা করেছিলেন। তাঁরা পার্কে বসে তারার আকাশ দেখছিলেন। ওই সময় দুজন হামলাকারী তাঁদের কাছে গিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। একজন হামলাকারী ওই পুরুষের গলায় ছুরি ধরে তাঁকে ভয় দেখান এবং পুলিশকে খবর দিলে হত্যার হুমকি দেন। অন্যজন তরুণীকে ধর্ষণ করেন। পরে দুজন নিজেদের ভূমিকা বদলে নেন এবং পালাক্রমে ওই তরুণীকে যৌন নির্যাতন করেন বলে আদালতে জানানো হয়। মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ভয়াবহ ছুরি দেখিয়ে সংঘটিত যৌন হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। আদালতকে জানানো হয়, হামলাকারীরা ওই নারী ও তাঁর সঙ্গীকে সম্পূর্ণ অপরিচিত অবস্থায় আক্রমণ করেছিলেন। তরুণীকে আদালতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে হয়। দীর্ঘ ও কঠিন জেরার মধ্যেও তিনি ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য দেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাঁর সাহসের প্রশংসা করা হয়। দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখানো, যৌন নিপীড়ন এবং বেআইনিভাবে আটকে রাখাসহ একাধিক অভিযোগ ছিল। বিচার শেষে দুজনকেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালতের কার্যক্রমে আরও উঠে আসে, নূরুল্লাহ আহমদজাই ২০২৩ সালে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন। পরে তিনি সরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকা আবাসনে ছিলেন। তাঁর আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল বলে মামলার তথ্য থেকে জানা যায়। খান আগাহ কীভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। দুজনের সাজা পরে ঘোষণা করার কথা রয়েছে। আদালতের সাম্প্রতিক কার্যক্রমেও তাঁদের মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নথিভুক্ত হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মেগান লেলিয়ট ভুক্তভোগী নারীর সাহসের প্রশংসা করেছেন। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে। সাজা ঘোষণার পর দুই আসামিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি পূর্ব লন্ডনে পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে মামলার সঙ্গে অভিবাসন পরিস্থিতির বিষয়টি যুক্ত হলেও অপরাধের দায় ব্যক্তিগতভাবে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির ওপরই বর্তায়।
পাকিস্তানের লাহোরের গাজীবাদ থানায় মানসিক প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক সহকারী উপ-পরিদর্শককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা, তদারকিতে ব্যর্থতা এবং প্রশাসনিক অবহেলার অভিযোগে থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও)সহ মোট ৭৮ জন পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। লাহোর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তা তদন্ত শাখার এএসআই ইমরান। অভিযোগ রয়েছে, একটি মামলার তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে তরুণীর পরিবারকে জানিয়ে তিনি তাকে মোটরসাইকেলে করে গাজীবাদ থানা প্রাঙ্গণে নিয়ে যান। পরে থানার ভেতরের একটি কক্ষে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত এএসআই ইমরানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ডিআইজি (অপারেশনস) ফয়সাল কামরানের নির্দেশে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঘটনার রাতে তিনি নিজে গাজীবাদ থানা পরিদর্শন করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরও দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত না করার কারণে থানার এসএইচওসহ পুরো স্টাফকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন। বরখাস্ত হওয়া সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন একজন এসএইচও, দুইজন সাব-ইনস্পেক্টর, আটজন এএসআই, ফ্রন্ট ডেস্কের কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মচারীসহ মোট ৭৮ জন। ডিআইজি ফয়সাল কামরান বলেন, থানার ভেতরে কী ঘটছে সে বিষয়ে এসএইচওর পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকা উচিত। দুর্বল তদারকি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লাহোর পুলিশের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, থানায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা এবং পেশাদার কর্মপরিবেশ বজায় রাখা এসএইচও ও সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এদিকে বরখাস্তের পর গাজীবাদ থানার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে আলী জেব দস্তগীরকে নতুন স্টেশন হাউস অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত এএসআই ইমরানের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে সংঘটিত একাধিক ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত এক পলাতক সন্দেহভাজনের মাগশট প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। একই সঙ্গে তাকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জনসাধারণের কাছে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। এনওয়াইপিডি জানায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্রঙ্কস এলাকায় সংঘটিত একাধিক ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে যাতে কেউ তাকে শনাক্ত করতে পারলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে পারেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সন্দেহভাজনকে নিজ উদ্যোগে আটকানোর চেষ্টা না করে সরাসরি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, মামলাগুলোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে গোয়েন্দারা কাজ করছেন। কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রকাশিত মাগশটের মাধ্যমে জনগণের সহায়তায় সন্দেহভাজনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা গোপনীয়ভাবে জানানো যাবে এবং তথ্যদাতার পরিচয় সুরক্ষিত রাখা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত গ্রাহাম প্ল্যাটনার ১১ মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করে সিনেট নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভিডিওতে প্ল্যাটনার নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করেন। তবে তাঁর বক্তব্যকে অনেক সমালোচক “বাস্তবতা-বিবর্জিত” বলে অভিহিত করেছেন। কেউ কেউ তাঁকে “আত্মমুগ্ধ সমাজবিরোধী” (narcissistic sociopath) বলেও মন্তব্য করেছেন। প্ল্যাটনারের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগ এখনো বিচারাধীন। এ বিষয়ে আদালতের কোনো চূড়ান্ত রায় হয়নি।
ময়মনসিংহ নগরীতে মাকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে তার নিজ বাসায় ঢুকে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৫ জুলাই) সকালে নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোড সংলগ্ন ৩৬ বাড়ি কলোনি এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত যুবকের নাম রাজিব আহমেদ রুবেল (৩৫)। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপুরে নিহতের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে অভিযুক্ত চার ছেলেকে আটক করে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রাজিব নগরীর আর কে মিশন রোড এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। প্রায় এক মাস আগে সে আকুয়া ৩৬ বাড়ি কলোনির ওই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠে এবং নিজের বন্ধুদের নিয়ে বসবাস শুরু করে। অভিযুক্ত ওই বন্ধুরা সবাই সম্পর্কে আপন ভাই। অভিযোগ উঠেছে, গত শুক্রবার রাজিব তাদের মাকে ধর্ষণ করে। পরদিন শনিবার ওই নারীকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মায়ের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতনের চরম প্রতিশোধ নিতেই ওই চার ভাই মিলে রাজিবকে গলা কেটে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারাই মূলত ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ লাশ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল অর্থাৎ নিহতের মাথার পাশ থেকে একটি মদের বোতলও জব্দ করেছে। ময়মনসিংহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল জানান, ধর্ষণের শিকার ওই নারীর চার ছেলে মিলে রাজিবকে হত্যা করেছে বলে তারা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন। ইতিমধ্যেই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম ওই নারী ও তার দুই ছেলেকে হাসপাতাল থেকে হেফাজতে নিয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সার্বিক তদন্তে নেমেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন এবং জোরকদমে কাজ শুরু করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত শেষে দ্রুতই এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো সম্ভব হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
এক নারীকে অপহরণ করে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা, শারীরিক নির্যাতন এবং ধর্ষণের অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত গগনদীপ সিংকে ৩৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ব্রিটেনের একটি আদালত। বিচারক তাকে ২৮ বছর কারাভোগের পাশাপাশি আরও ছয় বছর বর্ধিত তত্ত্বাবধানে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সাজা ঘোষণার পর জানানো হয়েছে, অন্তত ১৮ বছর কারাভোগের আগে তিনি প্যারোলের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। সাজা শেষে তাকে যুক্তরাজ্য থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ও মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩৪ বছর বয়সী গগনদীপ সিং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুইটি ধর্ষণ, অপহরণ, বেআইনিভাবে আটক রাখা এবং গুরুতর শারীরিক ক্ষতির উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ইলিংওয়ার্থ ক্রাউন কোর্টে। শুক্রবার আদালত তার সাজা ঘোষণা করেন। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের জুনে। সে সময় ২৪ বছর বয়সী এক নারী থাইল্যান্ড থেকে যুক্তরাজ্যে আসেন। পরে তাকে একটি স্যুটকেস বহনের বিষয়ে সন্দেহজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বার্মিংহাম বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে পশ্চিম লন্ডনের হ্যানওয়েলের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাড়িতে তাকে এক দিনেরও বেশি সময় আটকে রাখা হয়। এই সময় তিনি ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। আদালত শুনেছে, গগনদীপ সিং ওই নারীকে দুইবার ধর্ষণ করেন। পাশাপাশি তাকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা ধরনের সহিংস আচরণের মুখোমুখি করা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও কাউকে কিছু না বলার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, ঘটনার পর ভয়, মানসিক আঘাত এবং নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভুক্তভোগী শুরুতে পুরো ঘটনা প্রকাশ করতে চাননি। তবে তার মা এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সহায়তায় তিনি ধীরে ধীরে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিতে সক্ষম হন। মামলার তদন্তে নেতৃত্ব দেওয়া ডিটেকটিভ কনস্টেবল সীতারা আবদুল ভুক্তভোগীর সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই মামলায় ভুক্তভোগী যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, তা কল্পনা করাও কঠিন। তবু তিনি সামনে এসে তদন্তে সহযোগিতা করেছেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর ওপর এমন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল যে তিনি নিজের জীবন নিয়েও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তাকে নীরব রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের সমর্থন এবং পুলিশের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত সত্য প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে। তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ভুক্তভোগীর মায়ের সংরক্ষণ করা আলামত থেকে। পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় মেয়ের পরা পোশাক তিনি যত্ন করে সংরক্ষণ করেছিলেন। পরবর্তীতে ফরেনসিক পরীক্ষায় ওই পোশাক থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে গগনদীপ সিংয়ের মিল পাওয়া যায়। এই প্রমাণই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। পুলিশের মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভুক্তভোগী বলেন, শুরুতে তিনি পুলিশের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছিলেন। তার আশঙ্কা ছিল অভিযোগ করলে তিনি এবং তার পরিচিতরা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। তবে তার মা তাকে সাহস জুগিয়েছেন এবং আইনি সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহ দিয়েছেন। নিজের মায়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার মা কখনো হাল ছাড়েননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য পুলিশের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংরক্ষণ করেছেন এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্রও যত্নসহকারে রেখে দিয়েছেন। ভুক্তভোগী আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের মনে রাখতে হবে যে অপরাধের দায় কখনোই ভুক্তভোগীর নয়। কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও মানুষ নতুন করে জীবন শুরু করতে পারে এবং ন্যায়বিচারের জন্য এগিয়ে আসতে পারে। ভুক্তভোগীর মা পুলিশের পেশাদার ও মানবিক আচরণের প্রশংসা করে বলেন, মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিষয়টি দেখেছেন এবং পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছেন। তার ভাষায়, এই রায়ের মাধ্যমে অন্তত একটি বিষয় নিশ্চিত হয়েছে যে সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ একজন ব্যক্তি এখন আর সাধারণ মানুষের মধ্যে নেই। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বলছে, এই মামলাটি দেখিয়েছে যে ভুক্তভোগী, পরিবার এবং তদন্তকারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে তারা নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ভয় বা সামাজিক চাপ উপেক্ষা করে আইনগত সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।