নো কিংস

কাস্টম মিস ক্লেয়ার সুলিভান পোশাকে রামা দুয়াজি এবং পাশে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানী। ছবি: পৃষ্ঠা ছয়
নকল জার্সি দিয়ে তৈরি পোশাকে নজর কাড়লেন নিউইয়র্কের ফার্স্ট লেডি রামা দুওয়াজি

নিউইয়র্ক নিক্সের বিজয় উদযাপন প্যারেডে বিশেষভাবে তৈরি ফ্যাশন পোশাকে নজর কাড়লেন শহরের ফার্স্ট লেডি রামা দুওয়াজি। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ওই প্যারেডে তিনি নকশা করা একটি পোশাক পরিধান করেন, যা এনবিএ ফাইনালের নকল মার্চেন্ডাইজ টি-শার্ট ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।   স্থানীয় ডিজাইনার মিস ক্লেয়ার সুলিভানের তৈরি ওই এক-কাঁধা পোশাকটি সাদা, কমলা ও নীল রঙের একাধিক টি-শার্ট কেটে, সেলাই ও বাঁধনের মাধ্যমে অসমমিত নকশায় প্রস্তুত করা হয়। বিভিন্ন অংশ জোড়া লাগিয়ে পোশাকটির বিশেষ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।   ২৮ বছর বয়সী রামা দুওয়াজি পোশাকটির সঙ্গে কালো মিডি স্কার্ট পরেন। তিনি গলায় স্তরবিন্যাস করা স্বর্ণালঙ্কার, কমলা রঙের ঝুলন্ত কানের দুল এবং কালো নাইকি এয়ার রিফট স্নিকার্স পরিধান করেন।   ডিজাইনার ক্লেয়ার সুলিভান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একই ধরনের আরেকটি সংস্করণ শেয়ার করেন, যেখানে স্কার্টের পরিবর্তে সাদা টিউল টিউটু ব্যবহার করা হয়। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, “Knicks in five LFG NYC।”   পোশাকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিভিন্ন সেলিব্রিটি ও ফ্যাশন ব্যক্তিত্ব প্রশংসা জানিয়ে মন্তব্য করেন। অ্যাডিসন রে লেখেন, “R u kidding”, লিসা রিনা লেখেন, “So good!!!!”, এবং এলা এমহফ লেখেন, “Holy S—TTTTT।”   ডিজাইনারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের স্থানীয় সংযোগ এবং নিক্স সমর্থন থেকেই এই নকশার ধারণা তৈরি হয়। বিভিন্ন রঙের টি-শার্ট সংগ্রহ করে তিনি পোশাকটি প্রস্তুত করেন।   নিক্সের বিজয় উদযাপনের অংশ হিসেবে রামা দুওয়াজির এই উপস্থিতি তার সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত জনসম্মুখ উপস্থিতিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জানুয়ারিতে স্বামীর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি তুলনামূলকভাবে কম জনসম্মুখে এসেছেন।   হিউস্টনে জন্ম নেওয়া রামা দুওয়াজি একজন শিল্পী ও অ্যানিমেটর হিসেবে কাজ করেন। তিনি নিউইয়র্কের প্রথম জেন-জি এবং প্রথম মুসলিম ফার্স্ট লেডি হিসেবে পরিচিত। শহরের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও তিনি সাধারণত তুলনামূলকভাবে ব্যক্তিগত জীবনধারা বজায় রাখেন।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিক্ষোভ, রাস্তায় লাখো মানুষ
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিক্ষোভ, রাস্তায় লাখো মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘নো কিংস’ শিরোনামে আয়োজিত বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ মার্চ) দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমে আসেন সাধারণ নাগরিকরা।   এতে তারা ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এই কর্মসূচি ‘নো কিংস’ নামে সংগঠিত হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সব ৫০টি অঙ্গরাজ্য থেকেই মানুষ অংশ নেয়। আয়োজকদের দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন ছাড়িয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের বড় ধরনের গণবিক্ষোভগুলোর একটি। এর আগেও গত বছরের অক্টোবরে একই নামে একটি আন্দোলন হয়েছিল।   তবে এবারের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে ঘিরে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে। সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করতে চাইছেন, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   ‘নো কিংস’ স্লোগানের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীরা বোঝাতে চান, যুক্তরাষ্ট্রে একক কর্তৃত্বের কোনো স্থান নেই। এ ছাড়া অভিবাসন নীতি কঠোর করা, গর্ভপাত সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং পরিবেশ ইস্যু—এসব বিষয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।   সূত্র: এএফপি

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পবিরোধী ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানে হামলা এবং অভ্যন্তরীণ নীতির প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিরুদ্ধে ‘নো কিংস’ স্লোগানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যমের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে ফিলাডেলফিয়া শহরের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের বড় সমাবেশ। আয়োজকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের তিন হাজারের বেশি শহরে এই কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, এটি দেশটির ইতিহাসে একদিনে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পরিণত হতে পারে।   আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন মুভঅন–এর নির্বাহী পরিচালক কেটি বেথেল বলেন, “আমাদের সদস্যরা শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নামছেন, কারণ তারা একটি ভালো ভবিষ্যতে বিশ্বাস করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যক্রম দেখে তারা আর নীরব থাকতে পারছেন না।”   তিনি আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন দেশের ভেতরে ও বাইরে এমন নীতি গ্রহণ করছে, যা জনগণের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আয়োজকদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এবং সরকারের অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।   জানা গেছে, গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর বিচার বিভাগ ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিবাদ থেকেই ‘নো কিংস’ আন্দোলনের সূচনা।   অন্যদিকে, অতীতে এই আন্দোলন নিয়ে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপহাস করেছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে এআই-নির্ভর মিমে ট্রাম্পকে মুকুট পরিহিত অবস্থায় দেখানো হয়। ট্রাম্প নিজেও একটি কাল্পনিক ছবি শেয়ার করেছিলেন, যেখানে তাকে ‘কিং ট্রাম্প’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপ এবং অভ্যন্তরীণ নীতির সমালোচনাকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা হাতে বিক্ষোভকারীরা ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে । ছবি: রয়টার্স
ইরানে হামলার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নজিরবিহীন ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ

ইরানে সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে এক নজিরবিহীন ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। লাখো মার্কিন নাগরিক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও প্রশাসনের স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন। বিক্ষোভে মূল স্লোগান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ‘নো কিংস’ বা ‘আমাদের কোনো রাজা নেই’।   দেশের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ৩ হাজার ২০০-এর বেশি শহরে এ বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ ইয়র্ক, শিকাগোসহ বড় শহরগুলোতে ইতিমধ্যেই বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করেছেন। আয়োজকদের দাবি, এটি এক দিনে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় অহিংস প্রতিবাদের ঘটনা হতে যাচ্ছে।   ‘নো কিংস’ আন্দোলন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণ ও বিচার বিভাগসহ কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর ওপর তার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, ট্রাম্প নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থাপন করতে চাইছেন, যা সংবিধানের পরিপন্থী।   ইন্ডিভিজিবল প্ল্যাটফর্মের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিয়া গ্রিনবার্গ জানান, এবার বিক্ষোভের বিশেষত্ব হলো ছোট শহরগুলোতেও তা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আইডাহো, ইউটাহ ও ওয়াইমিং-এর মতো রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যগুলোতেও বিক্ষোভ চলবে।   হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন এসব বিক্ষোভকে তুচ্ছ করে বলেছেন, ‘ট্রাম্পবিরোধীদের মানসিক উন্মাদনা নিরাময়ের চিকিৎসা প্রয়োজন’। তবে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) মনে করছে, এই গণজোয়ারের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন নতিস্বীকার করতে বাধ্য হবে।   চলতি বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল বিক্ষোভ ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করবে।   ওয়াশিংটনে শুক্রবার জন এফ কেনেডি পারফর্মিং আর্টস সেন্টারের সামনে শিল্পী, সাংবাদিক ও লেখকরা সমবেত হন। অস্কারজয়ী অভিনেত্রী ও অধিকারকর্মী জেন ফন্ডা বলেন, ‘যখন ভয় জেঁকে বসে, তখন নীরবতা ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের এখনই স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’ সমাবেশে শিল্পীদের ওপর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ, বই নিষিদ্ধ ও গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপকে ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।   দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে সরকারের পক্ষে ও ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের প্রতিবাদে ৮৫০-এর বেশি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে পশ্চিমা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংহতির আড়ালে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর কঠোর দমন চলছে। মার্চ পর্যন্ত ২৭ দিনে প্রায় ১,৪৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   ইরানের বর্তমান সংঘাত ও বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ১,৯০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং অন্তত ২০,০০০ আহত হয়েছেন।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০