বি স্ফো র ক-সংক্রান্ত আইনের আওতায় মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে পাঁচজন আ টক
যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আমেরিকান সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটির কাছে স ন্ত্রা স ও বি স্ফো র ক-সংক্রান্ত আইনে পাঁচজনকে আ টক করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। রোববার সকালে আমেরিকার আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় সন্দেহজনক তিনটি যানবাহন চলাচলের খবর পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাদের আ টক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আ টক পাঁচজনের বিরুদ্ধে বি স্ফো র ক আইনের আওতায় অ প রা ধের সন্দেহ রয়েছে। পাশাপাশি তাদের স ন্ত্রা সী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সঙ্গেও জড়িত থাকার সন্দেহে আ টক করা হয়েছে। তারা এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
ঘটনার পর ফেয়ারফোর্ডের কাছের উইলফোর্ড এলাকার কয়েকটি বাড়ি খালি করে দেওয়া হয়। এলাকাটিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান শুরু করা হয়েছে। উইলফোর্ড আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে।
ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত বি স্ফো র ক-নিরাপত্তা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্দেহজনক যানবাহনগুলো পরীক্ষা করছে। যানবাহনগুলোর চারপাশে প্রায় ৪০০ মিটার নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ৮৫টি পরিবারের সদস্যদেরও এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল রিচার্ড ওকোনে জানান, স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঘাঁটির দিকে যাওয়া তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন সম্পর্কে পুলিশকে জানানো হয়। পরে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আ টক করা হয়। স্থানীয় পুলিশ কাউন্টার টে র রি জ ম পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় করে কাজ করছে।
আরএএফ ফেয়ারফোর্ড আমেরিকান বিমানবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক কর্মকাণ্ডেও ঘাঁটিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেখানে বি-১ ল্যান্সার ও বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেসের মতো মার্কিন বি মান অবস্থান করেছে।
ঘটনার বিষয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সন্দেহভাজনদের দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। তার দাবি, তারা আমেরিকান বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষ তি করার পরিকল্পনা করছিল। তবে এ ঘটনায় কোনো উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত করেনি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
সন্দেহভাজনদের সঙ্গে ইরানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে—এমন কোনো প্রমাণও এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ঘটনাটি নিয়ে অনুমাননির্ভর মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ধৈর্যের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, জরুরি সাড়াদানকারী দল ও সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজন হলে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিব শাবানা মাহমুদও ঘটনাস্থলে কাজ করা জরুরি সেবা কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে থাকা আমেরিকান বিমানবাহিনীর ৫০১তম কমব্যাট সাপোর্ট উইং জানিয়েছে, ঘটনাটির পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। আরএএফ লাকেনহিথের ৪৮তম ফাইটার উইং জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তারা বিস্তারিত জানাতে পারবে না। তবে লাকেনহিথ, মাইল্ডেনহল ও ফেল্টওয়েল ঘাঁটি নিয়ে গঠিত এলাকায় সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিজিটর ভিসায় ভ্রমণ অনুমোদিত নয় বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। বি-১ ও বি-২ ভিসা মূলত ব্যবসায়িক কাজ, পর্যটন, ছুটি কাটানো, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসার মতো অস্থায়ী ভ্রমণের জন্য দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণকে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বলা হয়। এই উদ্দেশ্যকে ভ্রমণের প্রধান কারণ হিসেবে নিয়ে ভিজিটর ভিসা ব্যবহার করা যাবে না। বি-১ ভিসা সাধারণত অস্থায়ী ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে বি-২ ভিসা পর্যটন, অবকাশযাপন, আত্মীয় বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসার মতো উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়। ভিসার আবেদন যাচাইয়ের সময় মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তারা আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, নিজ দেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক, সফর শেষে দেশে ফেরার অভিপ্রায় এবং ভ্রমণের খরচ বহনের সক্ষমতা বিবেচনা করেন। এ ক্ষেত্রে চাকরি, পরিবার বা নিজ দেশে ফেরার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। তবে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে বি-২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা এবং চিকিৎসা ও ভ্রমণের খরচ বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার পরও দেশটিতে প্রবেশের নিশ্চয়তা থাকে না। বিমানবন্দর বা সীমান্তে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের কর্মকর্তারা ভ্রমণকারীর কাগজপত্র ও ভ্রমণের উদ্দেশ্য যাচাই করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এ ছাড়া অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই ভিসার আবেদন করার সময় ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য সঠিকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
বি স্ফো র ক-সংক্রান্ত আইনের আওতায় মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে পাঁচজন আ টক
একসময় পানি আনতে হতো পার্ক থেকে, আজ সেই শহরেই চিকিৎসক দুই ভাই
ক্যালিফোর্নিয়ায় পরপর দুই ভূ ক ম্পন, কেঁপে উঠল বিস্তীর্ণ এলাকা
কয়েক মাসের অনিশ্চয়তার পর ইরাকে নগদ মার্কিন ডলারের নিয়মিত চালান অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে বাগদাদ। ইরাক সরকারের মুখপাত্র হায়দার আল-আবুদি জানিয়েছেন, নতুন একটি নগদ ডলারের চালান আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে পৌঁছাবে। তবে চালানটির পরিমাণ এবং নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হয়নি। ইরাকি সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের ধারাবাহিক আলোচনার ফলেই এই সমঝোতা হয়েছে। গত জুলাইয়ে ওয়াশিংটন সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ট্রেজারি সেক্রেটারিসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন আল-জাইদি। অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক জোরদার করা ছিল ওই সফরের অন্যতম প্রধান বিষয়। নতুন সমঝোতার লক্ষ্য ইরাকের বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটানো এবং স্থানীয় বাজারে ডলারের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা। একই সঙ্গে ডলার কোথায় যাচ্ছে এবং কী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার ওপর নজরদারি আরও কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাগদাদ। ইরাকি সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার ঠেকানো, ডলার বিতরণে নজরদারি বাড়ানো এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করে ধীরে ধীরে ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে দেশটি। কেন বন্ধ হয়েছিল ডলারের চালান গত এপ্রিলে ইরাকে নগদ ডলার পাঠানোর নিয়মিত প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় প্রায় ৫০ কোটি ডলারের একটি নগদ চালানও আটকে দেওয়া হয়েছিল। ইরান-সমর্থিত স শ স্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব এবং অবৈধ আর্থিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডলার ইরান ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর কাছে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল ওয়াশিংটনের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। তবে জুলাইয়ের শুরুতেই পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। রয়টার্স নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে জানিয়েছিল, কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর যুক্তরাষ্ট্র সীমিত আকারে নগদ ডলারের বিমান চালান আবার শুরু করেছে। সে সময় হোয়াইট হাউস, পররাষ্ট্র দপ্তর ও ট্রেজারি প্রকাশ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি এবং রয়টার্সও স্বাধীনভাবে তথ্যটি যাচাই করতে পারেনি। এ কারণে এখনকার ঘোষণাকে একেবারে প্রথমবার ‘ডলার পাঠানো আবার শুরু’ বলা পুরোপুরি সঠিক হবে না। বরং সর্বশেষ সমঝোতা ইরাকে নিয়মিত ও অব্যাহত নগদ ডলার সরবরাহ নিশ্চিত করার নতুন ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরাকের জন্য মার্কিন ডলার এত গুরুত্বপূর্ণ কেন ইরাক এখনো বড় পরিসরে নগদনির্ভর অর্থনীতি। দেশটির তেল রপ্তানি থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসাবে রাখা হয়। সেখান থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী নগদ ডলার ইরাকে পাঠানো হয়। ডলারের সরবরাহ কমে গেলে ইরাকের অনানুষ্ঠানিক বাজারে ডলারের বিপরীতে দিনারের ওপর চাপ বাড়তে পারে। আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে এর প্রভাব পণ্যের দামেও পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের প্রবাহ বাড়ার প্রত্যাশার মধ্যে ইরাকি দিনারের অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী হওয়ার খবরও এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতায় তাই একদিকে ইরাকের বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটানোর চেষ্টা হচ্ছে, অন্যদিকে ডলার যেন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে না পৌঁছায়, সে জন্য আর্থিক নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে। এখন নজর থাকবে আগামী কয়েক দিনের দিকে। ইরাকি সরকার বলছে, নতুন নগদ ডলারের চালান শিগগিরই পৌঁছাবে। তবে কত অর্থ আসছে এবং ভবিষ্যতে কী ব্যবধানে চালান পাঠানো হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোয় বাড়িভাড়া কমছে, ডিএইচএসের দাবি
দৈনন্দিন খরচ মেটাতে শেয়ারবাজারের টাকায় বাড়ছে ধনী আমেরিকানদের নির্ভরতা
আমেরিকায় জীবনযাপনের মানে শীর্ষে যে অঙ্গরাজ্য, তলানিতে যারা
নিউইয়র্ক সিটির বাইরে গেলেই এখনো তুলনামূলক কম দামে নিজের বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক হাউজিং মার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, বিংহ্যামটন, রচেস্টার, সিরাকিউজ, ইউটিকা ও বাফালোতে বাড়ির দাম নিউইয়র্ক সিটির তুলনায় অনেক কম। দীর্ঘদিন ভাড়া দেওয়ার পর এসব শহরে বাড়ি কিনেছেন এমন কয়েকজন প্রবাসীর অভিজ্ঞতাও দেখাচ্ছে, সামর্থ্য ও জীবনযাপনের সঙ্গে মিল থাকলে নিউইয়র্ক স্টেটের অন্য শহরেও বাড়ি কেনার সুযোগ খোঁজা যেতে পারে। এর একটি উদাহরণ জি নাহার। দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে ভাড়া থাকার পর সম্প্রতি তিনি বিংহ্যামটনে নিজের সামর্থ্যের মধ্যে একটি ছোট বাড়ি কিনেছেন। এখন নিজের পছন্দ অনুযায়ী নতুন বাড়িটি সাজিয়ে নিচ্ছেন। আমেরিকা বাংলাকে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে জি নাহার বলেন, নিউইয়র্কে এত বছর ভাড়া দিতে যে অর্থ খরচ করেছেন, তার কিছুটা যদি আগে বাড়ি কেনার দিকে দিতে পারতেন, তাহলে হয়তো আরও আগেই নিজের একটি বাড়ি হয়ে যেত। দেরিতে হলেও এখন নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে—এটাই তার কাছে বড় বিষয়। নিজের বাড়ি হওয়ায় সেটিকে নিজের মতো করে সাজানোর সুযোগও পাচ্ছেন তিনি। তার অভিজ্ঞতা বিশেষ করে তাদের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে, যারা নিউইয়র্কে বহু বছর ধরে ভাড়া দিচ্ছেন, কিন্তু নিউইয়র্ক সিটির বাড়ির দাম দেখে কেনার কথা ভাবছেন না। বিংহ্যামটন নিউইয়র্ক সিটি থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরে হলেও এটি নিউইয়র্ক স্টেটেরই একটি শহর। ফলে শহর বদলালে জীবনযাপনের ধরন, যাতায়াত, চাকরি ও কমিউনিটির সুযোগে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে যোগ্য ক্রেতারা স্টেটভিত্তিক কিছু বাড়ি কেনার কর্মসূচি ও কর সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। বিংহ্যামটনের বাড়ির বাজার এখনো তুলনামূলক কম দামের। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে সেখানে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৯০ ডলার। তবে এক বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ বাজারটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী হলেও দাম বাড়ছে। বিংহ্যামটনে মুসলিম কমিউনিটিরও উপস্থিতি রয়েছে। ইসলামিক অর্গানাইজেশন অব দ্য সাদার্ন টিয়ারসহ বিভিন্ন ইসলামিক প্রতিষ্ঠান সেখানে নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা ও কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে নিউইয়র্ক সিটি থেকে দূরে গিয়েও মুসলিম পরিবারগুলো ধর্মীয় ও সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ পেতে পারে। শুধু বিংহ্যামটন নয়, বাফালোর অভিজ্ঞতাও একই ধরনের চিত্র তুলে ধরে। দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে ভাড়া থাকার পর সম্প্রতি বাফালোতে নিজের বাড়ি কিনেছেন প্রবাসী মামুন চৌধুরী। মামুন চৌধুরীর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, তিনি যদি আরও আগে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, তাহলে কয়েক বছর আগে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ পেতেন। এখন তাকে আগের তুলনায় কিছুটা বেশি দামে বাড়ি কিনতে হয়েছে। তার মতে, দুই বছর আগে বা তারও কিছু আগে একই ধরনের বাড়ি আরও কম দামে কেনার সুযোগ ছিল। তবে বর্তমান বাজার নিয়েও তার অভিজ্ঞতা হলো, বাফালোতে এখনো তুলনামূলক যুক্তিসংগত দামে বাড়ি খুঁজে পাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ যারা এখনো বাড়ি কেনেননি, তাদের জন্য বাজার পুরোপুরি নাগালের বাইরে চলে যায়নি। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে বাফালোর বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৮৪৮ ডলার। এক বছরে দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। সেখানে একটি বাড়ি বিক্রি হতে গড়ে প্রায় ১৫ দিন লাগছে। বাফালোতে বাংলাদেশি কমিউনিটিরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠন, মসজিদ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে দাম ছাড়াও কমিউনিটি, ধর্মীয় পরিবেশ ও সামাজিক যোগাযোগ অনেক পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তালিকার আরেকটি শহর রচেস্টার। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে রচেস্টারে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬৮ ডলার। এক বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে ৮ শতাংশ। বাড়িগুলো গড়ে মাত্র ১০ দিনে বিক্রি হচ্ছে, যা বাজারে ক্রেতাদের চাহিদার ইঙ্গিত দেয়। সিরাকিউজে একই সময়ে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ১১০ ডলার। এক বছরে দাম বেড়েছে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। সেখানে বাড়ি বাজারে থাকার গড় সময় ২৬ দিন। অন্যদিকে ইউটিকায় বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ২ লাখ ৯ হাজার ৮৬১ ডলার, যা এক বছরে ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। সেখানে বাড়ি বিক্রি হতে গড়ে ৩৫ দিন সময় লাগছে। পাঁচ শহরের বাজারে পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—নিউইয়র্ক সিটির বাইরে গেলে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি পাওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে শুধু বাড়ির দাম দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। মর্টগেজের সুদ, ডাউন পেমেন্ট, প্রপার্টি ট্যাক্স, বাড়ির মালিকের ইন্স্যুরেন্স, বাড়ির অবস্থা, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এবং চাকরির সুযোগও হিসাব করতে হবে। বিশেষ করে বর্তমান মর্টগেজের সুদের হার বাড়ি কেনার মোট খরচে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ফ্রেডি ম্যাকের হিসাবে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের নির্দিষ্ট হারের মর্টগেজের গড় হার ছিল ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগে এটি ছিল ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। নিউইয়র্ক স্টেটের কিছু বাড়ির মালিকানা কর্মসূচিও যোগ্য ক্রেতাদের জন্য কাজে আসতে পারে। যেমন, সনিমা ডিপিএএল প্লাস ২০২৬ কর্মসূচিতে যোগ্য স্বল্প আয়ের ক্রেতাদের ডাউন পেমেন্ট, ক্লোজিং খরচ এবং নির্দিষ্ট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের খরচে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ রয়েছে। এই কর্মসূচির জন্য পরিবারের আয় নির্ধারিত এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশের মধ্যে হতে হবে এবং তহবিল শেষ হয়ে গেলে কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া নিউইয়র্ক স্টেটের স্টার কর্মসূচির আওতায় যোগ্য মালিকের বসবাস করা প্রাথমিক বাড়ির জন্য প্রপার্টি ট্যাক্স সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী বেসিক স্টার ক্রেডিটের আয়ের সীমা ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত। তবে এটি মূলত স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ট্যাক্সের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং যোগ্যতার নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। তাই বিংহ্যামটন, রচেস্টার, সিরাকিউজ, ইউটিকা কিংবা বাফালোতে বাড়ি কিনলেই নিউইয়র্ক সিটির সব সুবিধা পাওয়া যাবে—এমন নয়। বরং এসব শহরে বসবাসের খরচ, চাকরি, যাতায়াত, কমিউনিটি ও স্থানীয় সুযোগ-সুবিধা আলাদা করে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে যোগ্য হলে নিউইয়র্ক স্টেটের প্রযোজ্য বাড়ি কেনার কর্মসূচি ও কর সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। জি নাহার ও মামুন চৌধুরীর অভিজ্ঞতা এই আলোচনায় আরেকটি দিক তুলে ধরে। একজন দীর্ঘদিন ভাড়া দেওয়ার পর বিংহ্যামটনে নিজের সামর্থ্যের মধ্যে বাড়ি কিনেছেন। অন্যজন বাফালোতে বাড়ি কিনে মনে করছেন, আরও আগে সিদ্ধান্ত নিলে হয়তো কম দামে কেনার সুযোগ পেতেন। তাদের অভিজ্ঞতা থেকে অন্তত এটুকু বোঝা যায়, নিউইয়র্ক সিটির বাইরে তুলনামূলক কম দামের কিছু বাজার এখনো রয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে প্রত্যেক পরিবারের আয়, সঞ্চয়, ঋণের সক্ষমতা, চাকরি ও জীবনযাপনের পছন্দের ওপর। তবে নিউইয়র্কে যারা দীর্ঘদিন ধরে রেন্ট দিচ্ছেন এবং নিউইয়র্ক সিটির বাইরে বসবাসের সুযোগ বিবেচনা করতে পারেন, তাদের জন্য বিংহ্যামটন, রচেস্টার, সিরাকিউজ, ইউটিকা ও বাফালো হাউজিং মার্কেটের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি শহর হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে নরইস্টারের তাণ্ডব, ১ জনের মৃত্যু ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
সরকারি ওয়েবসাইটে এআই এজেন্টের অস্বাভাবিক আচরণ, কাজ থামাল ওপেনএআই