নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মদনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সাবস্টেশনে ট্রান্সফরমারে বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাবস্টেশনের জি-২ (G2) ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যাওয়ায় আশপাশের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে ট্রান্সফরমারটিতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে জি-২ ট্রান্সফরমারটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মদনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের এজিএম মোমেন সরকার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সফরমারের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প হিসেবে সোনারগাঁও ফিডার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হলেও সেখানেও কারিগরি ত্রুটির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। ট্রায়াল দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর চেষ্টা করা হবে। এদিকে, বন্দর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার সঞ্জয় খান জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে বিস্ফোরণের পরই আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করার চেষ্টা করা হবে।
সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও সময়নিষ্ঠার অভাবে শাস্তির মুখে পড়লেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসের তিন কর্মকর্তা। বুধবার সকালে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামালের আকস্মিক পরিদর্শনে অফিস তালাবদ্ধ পাওয়ার পর দ্রুত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানান, অভিযুক্ত তিনজনকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষাপট বুধবার সকালে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সরকার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি দেখেন অফিসের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। প্রতিমন্ত্রী দীর্ঘ ৩০ মিনিট বাইরে অপেক্ষা করার পর একজন কর্মচারী এসে তালা খোলেন, তবে তখনও মূল কর্মকর্তারা অনুপস্থিত ছিলেন। যারা শাস্তির আওতায় এলেন দায়িত্বে অবহেলার দায়ে শাস্তিমূলক বদলি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন: মো. নাসির উদ্দিন: ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (আড়াইহাজারে বদলি)। মো. ওমর ফারুক: উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (আড়াইহাজারে বদলি)। জান্নাতী: অফিস সহকারী (বন্দর উপজেলায় বদলি)। প্রতিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, জনগণের সেবায় বিঘ্ন ঘটানো বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এমন উদাসীনতা সরকারের জনসেবামূলক লক্ষ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি বা দায়িত্বহীনতার কোনো স্থান নেই।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চুরির অভিযোগ তুলে তিন নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে চুল কেটে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার ডহরগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার তিন নারীকে পরে পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্যাতিত তিন নারী মধ্যবয়সী। তাঁদের মধ্যে দুজনের বাড়ি খুলনায় এবং একজন কুমিল্লায়। তাঁরা রূপগঞ্জে ভাড়া থাকতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে সুনির্দিষ্ট ঠিকানা ও পেশা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ডহরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়ার বাড়িতে সোনার চেইন চুরির অভিযোগ তুলে স্থানীয় কয়েকজন তিন নারীকে আটকে রাখেন। অভিযোগের একপর্যায়ে তাঁদের গাছের সঙ্গে বেঁধে চুল কেটে দেওয়া হয় এবং মারধর করা হয়। এ ঘটনার দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একটি ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, তিন নারীকে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এক ব্যক্তি কাঁচি দিয়ে এক নারীর চুল কেটে দিচ্ছেন। ওই সময় ভুক্তভোগীরা চুল না কাটার অনুরোধ জানাচ্ছিলেন। অন্য একটি ভিডিওতে একটি ভবনের ভেতরে তাঁদের বেঁধে রেখে মারধরের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অভিযুক্ত সেলিম মিয়া দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীর গলায় থাকা সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর সময় তিন নারীকে আটক করা হয়। তবে পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী ইসলাম বলেন, তিন নারী পুলিশের কাছে চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা কাজের খোঁজে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, চুরি অভিযোগ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কাউকে বেঁধে রাখা, মারধর বা চুল কেটে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। উভয় পক্ষ চাইলে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাত ১০টা পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পৃথক পাঁচটি মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ এই আদেশ প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই পাঁচটি মামলার মধ্যে চারটি ছিল হত্যা মামলা। মামলাগুলো ফতুল্লা থানায় দায়ের করা হয়েছিল—যার মধ্যে বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াসিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সদর মডেল থানায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা অন্য একটি মামলায়ও তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে। আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন ও মোতাহার হোসেন সাজু। উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ মে ভোররাতে শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবন 'চুনকা কুটির' থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ইতিপূর্বে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও পরবর্তীতে আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। সর্বশেষ ১৮ নভেম্বর তাকে আরও পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ উচ্চ আদালত থেকে এই জামিনাদেশ এলো।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ–৪ (সদর উপজেলা) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এবারের নির্বাচনে ব্যালটে থাকছে না বিএনপির ধানের শীষ কিংবা জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। তবুও বহুমুখী প্রার্থী ও বিদ্রোহী অংশগ্রহণে আসনটিতে ভোটের লড়াই ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসেন কাসেমী। তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ‘খেজুরগাছ’। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন আব্দুল্লাহ্ আল আমিন, যার প্রতীক ‘শাপলা কলি’। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দল এবং একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির সাবেক প্রভাবশালী দুই নেতা—দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহ্ আলম এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে তৃণমূল পর্যায়ে তাঁদের শক্ত অনুসারী থাকায় ভোটের সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ফতুল্লা, মাসদাইরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব প্রার্থীই ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত পরিবেশ এবং নির্বাচনের পর যাঁকে সব সময় পাশে পাওয়া যাবে—এমন প্রার্থীই তাঁদের অগ্রাধিকার। মনির হোসেন কাসেমী বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির নেতা-কর্মীরাও তাঁর পক্ষে মাঠে নেমেছেন এবং তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজেদের জনপ্রিয়তা ও গণসংযোগের শক্তির কথা তুলে ধরে বিজয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন। এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ্ আল আমিন বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মানুষ বিকল্প শক্তির দিকে তাকাচ্ছে, যা এ আসনে ভোটের লড়াইকে আরও বহুমাত্রিক করেছে। সব মিলিয়ে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার অনুপস্থিতিতেও নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে ভোটের উত্তাপ কমেনি। বরং একাধিক জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণে এ আসনটি পরিণত হয়েছে এবারের নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ধানের শীষের প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতার গাড়িতে গুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আড়াইহাজার বাজারের অদূরে সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, হামলার শিকার ব্যক্তি মাহমুদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আমির হোসেন। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তাঁর বাড়ি মাহমুদপুরের শ্রীনিবাসদী গ্রামে। ঘটনার সময় তিনি তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন। তাঁর পাশে বসা ছিলেন তাঁর বন্ধু মাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান। ওসি বলেন, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। সাদেকুর রহমান জানান, তাঁরা দিনভর মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারণা চালান। প্রচারণা শেষে আড়াইহাজার বাজারে গাড়ির টিভি মনিটর মেরামত করে বাড়ি ফেরার পথে গোপালদী-মাহমুদপুর বাইপাস সড়কে একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই যুবক চলন্ত অবস্থায় তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছোড়ে। চলন্ত গাড়িতে থাকায় গুলি তাঁদের শরীরে লাগেনি। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর নিকটবর্তী দলীয় নেতা-কর্মীদের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি নিয়ে তাঁরা থানায় যান। হামলাকারী দুই যুবকের বয়স অনূর্ধ্ব ৩০ বছর এবং তাঁদের কারও মাথায় হেলমেট ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন। ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, “হামলা ও গুলি চালানোর অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস