জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, “যে সংবিধান ফ্যাসিবাদকে প্রতিষ্ঠা করে, সেই সংবিধান আমরা চাই না।” বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় চাঁদপুর প্রেস ক্লাব কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদর উপজেলা শাখা। এতে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিদ্যমান সংবিধান দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার অভিযোগ, এই সংবিধানের কাঠামোর মধ্য দিয়েই অতীতে স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংবিধানে পরিবর্তন আনতে পারলে ভবিষ্যতে স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, একটি রাজনৈতিক দল পুনরায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে, যা প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। এ সময় অবৈধভাবে ঠিকাদারি কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া কোনো ধরনের কাজ করতে না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং স্থানীয়দের এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, অতীতের মতো এখনো প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কাজ নেওয়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, যা বন্ধ করা জরুরি।
সংস্কার সভা (রিফর্ম অ্যাসেম্বলি) গঠনের উদ্যোগ না নেওয়া হলে আগামী ১২ মার্চ সংসদ ভবনের সামনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, সংসদের পাশাপাশি সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার জন্য আলাদা অধিবেশন প্রয়োজন। সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে বহু মানুষের ত্যাগ ও রক্ত রয়েছে। সেই বাস্তবতায় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংস্কার সভা গঠনের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সংসদের অধিবেশন শুরু হলেও কেবল সংসদের ভেতরের কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংস্কার সভা গঠন জরুরি। পাটওয়ারী আরও বলেন, ১২ মার্চ যদি সংসদ ভবনের সামনে যেতে বাধা দেওয়া হয়, তবুও আন্দোলনকারীরা পিছু হটবেন না। অতীতে আন্দোলনের সময় দমন-পীড়ন সত্ত্বেও তারা রাজপথে থেকেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও বক্তব্য দেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বাড়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া খুলনা শহরের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না। তরুণদের এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার কারণে রমনা থানার বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে এ শোকজ জারি করা হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, “রোববার সকালে আপনি দলের অনুমতি না নিয়ে স্বপ্রণোদিতভাবে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে। সুতরাং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।” এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে অপরাধমূলক ভয়ভীতি দেখানো ও মানহানি করার অভিযোগ এনে এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে রমনা থানার বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় তাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত। রোববার (৮ মার্চ) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে রমনা থানার বিএনপির বর্তমান সভাপতি মো. আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযুক্ত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম আমির জানান, সকালে আদালতে মামলার আবেদন জমা দেওয়ার পর শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মির্জা আব্বাসের কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনের সময় এবং পরে তিনি বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে মির্জা আব্বাসকে নিয়ে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি বক্তব্য কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সেখানে মির্জা আব্বাসকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসব বক্তব্য ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত সম্মান ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব বক্তব্য প্রচার করে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কালিমা লেপনের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন করা হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে এ আবেদন করেন রাজধানীর রমনা থানার বিএনপির বর্তমান সভাপতি মো. আশরাফুল ইসলাম। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম আমির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতে মামলার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং বেলা ১১টার দিকে এ আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মির্জা আব্বাসের কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনের আগে ও পরে তিনি বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমে মির্জা আব্বাসকে নিয়ে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়, গত ৫ মার্চ ফেসবুকে দেওয়া একটি বক্তব্য বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়, যেখানে মির্জা আব্বাসকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব মন্তব্য প্রচার করে মির্জা আব্বাসের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব বক্তব্যকে মানহানিকর এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে কথোপকথনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি জানান, অনুষ্ঠানে তিনি সকল গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাদের, ইফতার পরিবেশনকারী কর্মী এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের সঙ্গে মুসাফাহ করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে তিনি নিজের জন্য দোয়া চেয়েছিলেন এবং আমির তাকে ‘দোয়া ও দাওয়াহ দুইটাই’ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলার সময় নাসীরুদ্দীন জানান, বাসার বুয়া প্রতিদিন ফ্যামিলি কার্ড চাইছে, যা নির্বাচনে জেতার একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি ইতিমধ্যেই শুরু করেছেন এবং খুব শিগগিরই সারা দেশে চালু হবে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মঈন খানের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি জানতে পেরেছিলেন, তিনি ভালো আছেন এবং বাসায় আসার আমন্ত্রণ দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনকে তিনি শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য স্মরণ করান। এছাড়া, তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে বাসায় ইফতারের জন্য দাওয়াত দেন। ইফতার শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায় নেওয়ার সময় আব্বাস তাকে ‘দুষ্টুমি করবা না’ বলে সতর্ক করেন। নাসীরুদ্দীন জবাবে উল্লেখ করেন, ছোট ভাইয়ের সিট এভাবে কেড়ে না দিয়েও ছেড়ে দেয়া যেত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও আলোচনায় এসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তারাবির নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নির্বাচনে পর্দার আড়ালের নানা প্রস্তাব ও চাপের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। ঢাকা-৮ আসনের এই প্রার্থী স্পষ্ট করে বলেন, "আমাদের মেরে ফেললে মেরে ফেলুক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা আমরা বন্ধ করব না।" নির্বাচন চলাকালীন সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেন, সেই সময় অনেক 'ক্রিমিনাল', প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং এমনকি প্রশাসনের কিছু লোকও তাকে আপসের প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি বলেন, "প্রশাসনের লোকজন এসে বলেছিল মুখ বন্ধ রাখলে জিতিয়ে দেবে। কিন্তু আমি কারও সঙ্গে ডিল বা আপস করিনি।" উল্লেখ্য, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে লড়ে তিনি বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাসের কাছে পরাজিত হন। তবে পুরো প্রচারণাজুড়ে আক্রমণাত্মক ও সাহসী মন্তব্যের জন্য তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত ছিলেন। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপির এই নেতা উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, "আপনারা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ভ্যানগার্ড হয়ে দাঁড়ান। আমরা রমজানজুড়ে সন্ত্রাসীদের কাছে হেদায়েতের দাওয়াত দিয়ে যাব।" ভবিষ্যতে ভোট চুরির চেষ্টা হলে কঠোর প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, "কেউ ভোট চুরি করতে আসলে তার হাত-পা ভেঙে দেব। এটা ওসমান হাদির আসন, এখানে আমরা ইনসাফের বাংলাদেশ কায়েম করব।" আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি কৌশলী উত্তর দেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, "নির্বাচন আমাদের মূল টার্গেট না। আমাদের লক্ষ্য হলো বিদ্যমান পচা সিস্টেমের পরিবর্তন করা।" তাঁর এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নির্বাচনের ফলাফলে দমে না গিয়ে তিনি এবং তাঁর দল আগামীতে মাঠের রাজনীতি ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ও প্রক্রিয়া নিয়ে এবার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর দাবি, নির্বাচনে কারা কতটি আসন পাবে, তা জনগণের ভোটের ওপর নয় বরং আগে থেকেই একটি বিশেষ ছকে নির্ধারিত ছিল। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কারামুক্ত ২৪ জন প্রবাস ফেরত বাংলাদেশিদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "জনগণ আমাদের ওপর অগাধ ভরসা রেখেছিল। একজন ৯০ বছরের বৃদ্ধা কথা বলতে পারেন না, তবুও সাভার থেকে আমাকে ভোট দিতে এসেছিলেন। একজন ক্যান্সারের রোগী জীবন বাজি রেখে ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এই সাধারণ মানুষের আবেগ আর পবিত্র ভোটগুলো তারা সুপরিকল্পিতভাবে চুরি করেছে।" তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যে ভোট চুরি হয়েছে, তার জন্য সংশ্লিষ্টদের জনগণের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। নির্বাচনে এনসিপির সাফল্যের কৃতিত্ব প্রবাসীদের দিয়ে তিনি বলেন, "এনসিপি ও ১১ দলীয় জোট যেসব আসনে জয়ী হয়েছে, তার পেছনে প্রবাসীদের ভোট ও সমর্থনের বড় অবদান রয়েছে। প্রবাসীরা যেমন গণঅভ্যুত্থানে এগিয়ে এসেছিলেন, তেমনি ব্যালটেও ‘শাপলা কলি’র পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাঁদের এই ঋন বাংলাদেশ কোনোদিন শোধ করতে পারবে না।" নতুন সরকার গঠন ও বিরোধী দলের সাথে বর্তমান সখ্যতাকে কটাক্ষ করে এনসিপি নেতা বলেন, "এখন আমরা নতুন এক ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ দেখতে পাচ্ছি। জনগণের কাছে যাওয়ার আগে তারা বিরোধী দলীয় নেতার বাসায় যাতায়াত নিয়ে ব্যস্ত। জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া এই সখ্যতা ভিত্তিহীন।" আগামী দিনের মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, "নির্বাচনের নামে আপনারা অনেক চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজকে সংসদে ঢুকিয়েছেন। তাদের কোনোভাবেই মন্ত্রণালয় দেবেন না। আপনারা যে ভোট চুরি করেছেন তাতেই সীমাবদ্ধ থাকেন, এবার যেন সিনাচুরি করতে যাবেন না।" তিনি অভিযোগ করেন যে, বিভিন্ন বিতর্কিত ব্যক্তিরা ইতোমধ্যেই যোগাযোগ, গৃহায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পাওয়ার জন্য লবিং শুরু করেছেন। সবশেষে, সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সামাজিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঘোষণা করেন যে, পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রুখতে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে এনসিপি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে ভোট ডাকাতি হলে মির্জা আব্বাসের 'রাজত্ব খানখান' করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি সেখানে বিএনপি'র কর্মী-সমর্থকদের প্রতি আঙুল তুলে বলেন, এনসিপি'র নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে ঢাকার রেলওয়ে কলোনী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করে বের হওয়ার পথে তাদের ওপর 'আঘাত' করা হয় এবং সেনাবাহিনীর সামনেই তার 'মাথায় আঘাত' করা হয়। তিনি বলেন, এরপর সেনাবাহিনীকে তারা অভিযোগ জানালে সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধার করে পাঠিয়ে দেয়। "আমাদের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র আছে দুইটা। রেলওয়ে কলোনী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র ও মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্র। সেখানে ভোট ডাকাতির মহোৎসব চলছে। তারা আমাদের গায়ে পড়ে মারামারি করে ঢাকা-৮ আসনের ভোট বানচাল করতে চাচ্ছে," দাবি এই এনসিপি নেতার। এসময় তিনি মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ করে বলেন, "মির্জা আব্বাস যদি হারার ভয়ে থাকেন, আমি আপনাকে বলবো – খেলায় থাইকেন না। ভোট বানচাল করবেন না। অনেকগুলো মানুষ গণতন্ত্র রক্ষার জন্য জীবন দিয়েছে"। তিনি এসময় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, তাদের ওপর আঘাত করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পাল্টা আঘাত করার ইচ্ছা ছিল না তাদের। কিন্তু তাদেরকে যদি মারতে আসা হয়, তাহলে এবার উল্টো পক্ষকে মার খেতেও হবে। "এখন সময় প্রতিরোধের। যদি ঢাকা-৮'এ ভোট ডাকাতি হয়, তাহলে মির্জা আব্বাসের যেই রাজত্ব আছে, আল্লাহ'র কসম করে বলছি, সেই রাজত্ব আমরা খানখান করে দিবো। তছনছ করে দিবো। (নির্বাচনে জয়ী) হই বা না হই, বিএনপি নামক দলটিকে বাংলাদেশ থেকে আমরা নিশ্চিহ্ন করে দিবো"।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বাসার ঠিকানা খুঁজেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নাসীরুদ্দীনের নির্বাচনী বুথে গিয়ে দলীয় কর্মীদের কাছে তার বাসার ঠিকানা জানতে চান তিনি। জানা যায়, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের নির্বাচনী প্রচারণার সময় নয়ন ওই বুথে যান। এ সময় নয়ন বলেন, “আব্বাস ভাইয়ের সালাম নেবেন। পাটওয়ারীর খবর কী? উনি ছাত্র রাজনীতি করেছেন, আমিও ছাত্র রাজনীতি করে আসছি। এই এলাকাতেই আমার বাসা। পাটওয়ারীর বাসা খুঁজছিলাম তার বাসা কোন দিকে?” তিনি আরও বলেন, “নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যেহেতু এই এলাকার প্রার্থী, তাই তার বাসার ঠিকানা জানা দরকার। তিনি যদি আমার প্রতিবেশী হন, তাহলে পরিচিত থাকবেন। ভবিষ্যতে কোনো প্রয়োজনে সেবা নিতে তার কাছে যেতে হতে পারে সেজন্যই ঠিকানাটি জানতে চেয়েছি।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে সরকারের একটি নির্দিষ্ট মহল ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই ঐক্য’ আয়োজিত ‘র্যালি ফর বাংলাদেশ’ কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “গতকাল রাজপথে যে অমানবিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তার দায় সরাসরি এই সরকারকে নিতে হবে। ইনকিলাব মঞ্চের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ যেভাবে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের কিছু অতি উৎসাহী লোক সরকারের ইশারায় এই ঘটনা ঘটিয়ে মূলত নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।” তিনি অবিলম্বে এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান। কর্মসূচিতে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির খুনি ও গণহত্যাকারীদের ভারতে আশ্রয় লাভ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থায় (আইসিসি) ভারতের একাধিপত্য এবং আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ভারতীয় ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, “আমরা চাই শহীদ হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের (UN) মাধ্যমে হোক। ইনকিলাব মঞ্চ সরকার থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা চেয়েছিল, কিন্তু তার বদলে তাদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।” ‘র্যালি ফর বাংলাদেশ’ কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিনিধি রিয়াদুস জুবাহ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের জিএস আব্দুল আলিম আরিফসহ জুলাই ঐক্যের শীর্ষ সংগঠকরা। বক্তারা দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখতে এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের অন্যতম আলোচিত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাকে নিয়ে করা ‘ডার্বি নাসির’ কটাক্ষের নেপথ্য কারণ খোলাসা করেছেন। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই রহস্য উন্মোচন করেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের একটি অংশ সুপরিকল্পিতভাবে তাকে এই নামে ডাকতে শুরু করে। নামের উৎস সম্পর্কে তিনি বলেন, এই শব্দটির অবতারণা হয়েছিল মূলত ছাত্রদলের এক কর্মীর মাধ্যমে। নাসীরুদ্দীন বলেন, "একবার ছাত্রদলের এক ভাইকে ডার্বি সিগারেটের প্যাকেটের ভেতরে গাঁজা ভরে খেতে দেখে আমি তাকে বাধা দিয়েছিলাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এসব কি আপনারা বন্ধ করতে পারেন না? সেই ঘটনার জের ধরে তাদের মধ্যে আমার প্রতি তীব্র ক্ষোভ জন্মায়।" তিনি আরও যোগ করেন, পরবর্তীতে তিনি যখন সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, তখন ওই অংশটি পরিকল্পিতভাবে তাকে বিদ্রূপ করতে ‘ডার্বি’ শব্দটি ব্যবহার করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ঢাকা-৮ আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির হেভিওয়েট নেতা মির্জা আব্বাস। নির্বাচনের প্রচারণা যখন তুঙ্গে, তখন নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এমন নেতিবাচক প্রচারণার জবাব দিয়ে সরাসরি জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরলেন এনসিপির এই শীর্ষ নেতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি বিরোধীদের অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের সহানুভূতি অর্জনের চেষ্টা করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি প্রচারণার মাঠ গরম করে তুলেছেন ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও স্থানীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া আজীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, কিন্তু বর্তমানে তাঁর নাম ব্যবহার করে খোদ তারেক রহমানই গণতন্ত্রকে হত্যা করছেন।” তিনি দাবি করেন, বিএনপির বর্তমান রাজনীতি জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নয়, বরং ক্ষমতা দখলের এক নতুন কৌশলে রূপ নিয়েছে। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লিখিত বিভিন্ন সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিএনপি এখন ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ড দেওয়ার যেসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। সাধারণ মানুষ এখন সচেতন, এসব সস্তা প্রলোভনে তাঁরা পা দেবেন না।” বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ঢাকা-৮ আসনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মির্জা আব্বাসকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন। নাসীরুদ্দীন তাঁকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “এই আসনে কোনো সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজের স্থান হবে না। আমরা অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে লড়াই শুরু করেছি, সেখানে কোনো আপস করা হবে না।” নিজের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, “আমি এই মাটির সন্তান। যদি আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেন, তবে ঢাকা-৮ আসন হবে সন্ত্রাসমুক্ত ও আধুনিক এক জনপদ। ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ও জনকল্যাণে উন্নয়ন কাজ করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।” শাহবাগ ও রমনা এলাকায় তাঁর এই গণসংযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস