আগামীকাল শনিবার মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে। ৩০ দিন রোজার পর মুসলিমরা এদিন আনন্দ ও ধর্মীয় উৎসাহের সঙ্গে ঈদের নামাজ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দেশের কোথাও ১৪৪৭ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই শনিবার (২১ মার্চ) সারাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বৈঠকে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ সভাপতিত্ব করেন। এই বছরের ঈদ উদযাপনে রাজধানীসহ সারাদেশে সকল ধর্মপ্রাণ মুসল্লির জন্য যথাযথ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল বা অন্য কোনো কারণে জামাত সেখানে সম্ভব না হলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের প্রধান জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতীব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক ইমামতি করবেন। বিকল্প ইমাম হিসেবে ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী প্রস্তুত থাকবেন। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, ওজু ও নামাজের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আগারগাঁওয়ে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদেও সকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সংসদ সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের মতো পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে—সকাল ৭টা থেকে শুরু করে বেলা পৌনে ১১টায় শেষ হবে। প্রথম জামাতে সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় জামাতে পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, তৃতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মো. জাকির হোসেন, চতুর্থ জামাতে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির ধর্মীয় প্রশিক্ষক মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী এবং পঞ্চম জামাতে মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ইমামতি করবেন। বিকল্প ইমাম হিসেবে মাওলানা শহীদুল ইসলাম প্রস্তুত থাকবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে—সকাল ৮টায় প্রথম ও ৯টায় দ্বিতীয় জামাত। কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠে দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তিন লাখেরও বেশি মুসল্লি অংশ নেন। ঈদ উদযাপনের জন্য জাতীয় ও স্থানীয় সরকার, সিটি কর্পোরেশন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বেসরকারি সংস্থা সমূহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ঢাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ডিএমপি সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি মনিটরিং, ব্যারিকেড, পেট্রোলিং ও মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি ছুটির সঙ্গে সাথে সব সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কারাগার, শিশু ও বৃদ্ধ নিবাসসহ অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনও যথাযথভাবে ঈদ উদযাপন করবে। সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে পার্ক, জাদুঘর ও দর্শনীয় স্থানে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সারাদেশে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপভোগ করবেন, আনন্দ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে এই মুসলিম উৎসব উদযাপন হবে।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে একাধিক জামাতের আয়োজন রাখা হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ঈদের দিন এখানে মোট পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার সকালে ধারাবাহিকভাবে জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে। প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান। দ্বিতীয় জামাতে দায়িত্ব পালন করবেন পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। তৃতীয় জামাতে ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর উপ-পরিচালক মাওলানা মো. জাকির হোসেন। চতুর্থ জামাতে থাকবেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির প্রশিক্ষক মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী। সবশেষ পঞ্চম জামাতে ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। এছাড়া প্রয়োজনে বিকল্প হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য মাওলানা শহীদুল ইসলাম প্রস্তুত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান–এর মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে ধর্মীয় আয়োজনেও। এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) আল-জাজিরা–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা দিয়েছে—এ বছর খোলা মাঠ বা বড় উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামাত আয়োজন করা হবে না। গালফ নিউজ–এর তথ্য অনুযায়ী, রমজান শেষে ঈদের নামাজ সাধারণত বড় খোলা ময়দান বা ঈদগাহে বিপুল মুসল্লির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়, যা দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্য। তবে চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বড় জমায়েত এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ। জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। আল-জাজিরা–এর দুবাই প্রতিনিধি জেইন বাসরভি জানান, উন্মুক্ত স্থানে ঈদের নামাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তটি দেখায় যে, চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও ধর্মীয় অনুশীলনে গভীর প্রভাব ফেলছে। এদিকে, নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ভোরে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। কুয়েত জানিয়েছে, তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে রয়েছে এবং একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার ফলে আগুন লাগে। অন্যদিকে, বাহরাইন জানিয়েছে, তাদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, যার একটি গুদামে পড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সৌদি আরবও জানিয়েছে, তারা একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলে বেশ কিছু ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় উপসাগরীয় দেশগুলো নির্দেশ দিয়েছে, এবারের ঈদের নামাজ শুধুমাত্র মসজিদের ভেতরে সীমাবদ্ধ রাখতেই হবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে র্যাব এবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পর্যাপ্ত নজরদারি এবং প্রস্তুতি নিশ্চিত করেছে, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারে। শুক্রবার (২০ মার্চ) র্যাবের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কর্নেল ইফতেখার আহমেদ ঢাকা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন করেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। র্যাব জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। র্যাবের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাসমূহ: সারাদেশে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ব্যাটালিয়নগুলোতে পর্যাপ্ত র্যাব সদস্য মোতায়েন রয়েছে। কন্ট্রোল রুম, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ, ফুট ও মোবাইল পেট্রোল, ভেহিক্যাল স্ক্যানার, চেকপোস্ট, অবজারভেশন পোস্ট এবং সিসিটিভি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। যাত্রী এবং সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারে, এজন্য বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল, ফেরিঘাট এবং গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগম স্থানে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। টিকিট নিয়ে কারসাজি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় ঈদগাহসহ গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহগুলোতে নিরাপত্তা সুইপিং এবং সিসিটিভি কভারেজ নিশ্চিত করা হয়েছে। বাসস্থান, কর্মস্থল, শপিংমলসহ অন্যান্য স্থানে চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। অনলাইনে গুজব বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে র্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। র্যাব আশা করছে, দেশের মানুষ উৎসবের আনন্দে অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে।
সৌদি আরবের সঙ্গে সময় মিলিয়ে সাতক্ষীরার অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ এবারও একদিন আগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকাল ৮টায় সদর উপজেলার কুশখালী বাউকোলা এলাকায় তারা ঈদের জামাতে অংশ নেন। এদিন কুশখালী বাউকোলা মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন মাওলানা মহব্বত আলী। ইসলামকাটি, গোয়ালচত্বর, ভোঁদড়া, ঘোনা, ভাড়খালী, মিরগিডাঙ্গা ও পাইকগাছাসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মুসল্লিরা এতে অংশগ্রহণ করেন। নামাজ শেষে খুতবায় ধর্মীয় বক্তব্যে জানানো হয়, শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হিসেবে তারা এদিন ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। স্থানীয়দের মতে, তারা রমজান শুরু করেছিলেন একদিন আগে, তাই ঈদও পালন করছেন সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে। এ বছর অন্যান্য সময়ের তুলনায় মুসল্লিদের উপস্থিতিও ছিল বেশি। খুতবায় আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে যেন সবাই একসঙ্গে একই দিনে ঈদ উদযাপন করতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন। স্থানীয় মুসল্লিদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক যুগ ধরে তারা সৌদি আরবের সময়সূচি অনুসরণ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই তারা ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। শাওয়াল মাসের চাঁদ বৃহস্পতিবার দেখা না যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ শুক্রবার ঈদ পালনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এই উপলক্ষে সৌদি আরব-এর মসজিদুল হারাম এবং মসজিদে নববী-তে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন-এর বিভিন্ন মসজিদেও ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে কিছু দেশে খোলা ঈদগাহে জামাতের আয়োজন সীমিত বা বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে আজই অস্ট্রেলিয়া এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশেও ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। অন্যদিকে, এশিয়ার বেশ কিছু দেশ—যেমন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, লিবিয়া ও মরক্কো—শাওয়ালের চাঁদ না দেখা যাওয়ায় শনিবার ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার মাঠ প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের কয়েকটি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রসঙ্গত, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি জেলার বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন ডিসি নিয়োগের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের আগে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মাঠ প্রশাসনে সমন্বয় আনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক পর্যায়ে এটি প্রথম বড় পরিবর্তন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর ১ মার্চ গাজীপুর, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া, নেত্রকোনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসিদের প্রত্যাহার করা হয়। যদিও প্রত্যাহার করা কর্মকর্তাদের এখনও অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে নিয়োগ দেওয়া হয়নি; তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) রাখা হয়েছে। প্রত্যাহারকৃত জেলা প্রশাসকরা হলেন— গাজীপুরের মোহাম্মদ আলম হোসেন, পঞ্চগড়ের কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, কুষ্টিয়ার মো. ইকবাল হোসেন, নেত্রকোনার মো. সাইফুর রহমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ। উল্লেখ্য, তারা গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, এই পাঁচ জেলার পাশাপাশি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং সরকারের নীতি বাস্তবায়নে দ্রুতই নতুন জেলা প্রশাসকরা দায়িত্ব নেবেন। জেলা প্রশাসকরা সরকারের প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে জেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভূমি প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয় সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মাঠ প্রশাসনে গতি ফেরাতে নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত সুবিধা দিতে সরকার একদিন অতিরিক্ত ছুটি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ১৮ মার্চ (বুধবার) নির্বাহী আদেশে এই ছুটি ঘোষণা করা হতে পারে। বিষয়টি ৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৬ মার্চ অফিস করার পর থেকেই কার্যত ঈদের ছুটিতে যোগ দিতে পারবেন। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পাঁচ দিনের সাধারণ ছুটি থাকবে। ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায়, যদি ১৮ মার্চ অতিরিক্ত ছুটি দেওয়া হয়, তবে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি হবে। এছাড়া, ঈদের ছুটির পর ২৪ ও ২৫ মার্চ (মঙ্গলবার ও বুধবার) অফিস খোলা থাকলেও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের ছুটি রয়েছে। পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটি ২৭ ও ২৮ মার্চ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি ২৪ ও ২৫ মার্চ ব্যক্তিগত ছুটি নেন, তবে ১৭ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা ১২ দিনের দীর্ঘ ছুটি নেওয়া সম্ভব হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। পবিত্র রমজান মাস ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আগামী ৩ মার্চ থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ৯ মার্চ পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে এই টিকিট বিক্রয় কার্যক্রম। যাত্রী ভোগান্তি কমাতে গতবারের মতো এবারও ঈদযাত্রার শতভাগ টিকিট শুধুমাত্র অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রেলওয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। যাত্রীদের সুবিধার্থে নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। সূচি অনুযায়ী, ৩ মার্চ পাওয়া যাবে ১৩ মার্চের টিকিট। পর্যায়ক্রমে ৪ মার্চ ১৪ তারিখের, ৫ মার্চ ১৫ তারিখের, ৬ মার্চ ১৬ তারিখের, ৭ মার্চ ১৭ তারিখের, ৮ মার্চ ১৮ তারিখের এবং ৯ মার্চ ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। অন্যদিকে ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১৩ মার্চ থেকে, যা চলবে ১৯ মার্চ পর্যন্ত। ১৩ মার্চ পাওয়া যাবে ২৩ মার্চের ফিরতি টিকিট। এভাবে পর্যায়ক্রমে ১৯ মার্চ পর্যন্ত ২৯ মার্চের ফিরতি টিকিট বিক্রি করা হবে। রেলওয়ে জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক সফর নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews