আমেরিকা

নিউ ইয়র্কে ফের সহিংসতা: ছুরিকাঘাতে আহত তিন, পুলিশের গুলিতে নিহত হামলাকারী

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১:৪৭
ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মিডটাউন ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনালে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে সাবওয়ে প্ল্যাটফর্মে এক ব্যক্তি বড় আকৃতির ছুরি (ম্যাশেটি) নিয়ে হামলা চালিয়ে তিনজনকে আহত করেছেন। পরবর্তীতে পুলিশের গুলিতে ওই হামলাকারী নিহত হন।


নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (NYPD) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী ব্যক্তি প্রথমে একটি সাবওয়ে ট্রেনের ভেতর অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। এরপর তিনি ট্রেন থেকে নেমে প্ল্যাটফর্মে আসেন এবং হাতে থাকা বড় ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে শুরু করেন।


পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীকে অস্ত্র নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ওই ব্যক্তি নির্দেশ অমান্য করে পুলিশের দিকে তেড়ে এলে কর্মকর্তারা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


এই হামলায় তিনজন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৪ ও ৬৫ বছর বয়সী দুই পুরুষ এবং ৭০ বছর বয়সী এক নারী রয়েছেন। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।


নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘বিবেচনাহীন সহিংসতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে হামলাকারীকে প্রতিহত করার জন্য সাহসী পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।


প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত হামলাকারীর বিরুদ্ধে আগেও বেশ কিছু অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল। পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এর আগেও তাকে বিভিন্ন সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল।


পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, এখন পর্যন্ত এই ঘটনার সাথে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে এবং ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই স্টেশনে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলায় প্রবাসী দর্শকদের ভিড় ও বইয়ের স্টল । ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে শেষ হলো ৩৫তম আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা

নিউইয়র্কে চার দিনব্যাপী নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬ শেষ হয়েছে সোমবার (২৫ মে) রাতে। মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এবারের মেলা ছিল ৩৫তম আসর। জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে আয়োজিত এই মেলায় প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও প্রবাসী সংস্কৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।   মেলার চার দিনের মধ্যে প্রায় আড়াই দিন বৃষ্টি ও শীতল আবহাওয়া বিরাজ করলেও দর্শক ও বইপ্রেমীদের উপস্থিতি থেমে থাকেনি। তবে ঠান্ডা ও বৃষ্টির কারণে স্টল মালিক ও প্রকাশকদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।   এবারের বইমেলার আয়োজন ছিল দুইটি অংশে বিভক্ত। মূল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা অনুষ্ঠিত হয় হলের ভেতরে, আর বইয়ের স্টলগুলো ছিল খোলা মাঠে। ফলে বৃষ্টি ও ঠান্ডায় অনেক সময় প্রকাশক ও বিক্রেতাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।   তবে শেষ দিনের আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে অনুকূলে থাকায় দর্শক সমাগম বাড়ে এবং বই বিক্রিও কিছুটা বৃদ্ধি পায়। কিছু প্রতিষ্ঠান বিক্রিকে সন্তোষজনক বলে জানিয়েছে।   এবারের মেলার উদ্বোধন করেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নাচ, গান, নাটক, আবৃত্তি, আলোচনা, বিতর্ক, আড্ডা, মোড়ক উন্মোচন এবং বই পরিচিতিসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল পুরো মেলায়।   প্রায় প্রতিটি পর্বেই বিপুল সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহকে আরও একবার তুলে ধরে।   ঢাকা থেকে অনন্যা, ইত্যাদি, অঙ্কুর, নালন্দা, বাতিঘরসহ একাধিক প্রকাশনা সংস্থা এবারের বইমেলায় অংশ নেয়। তাদের সঙ্গে ছিল মুক্তধারার নিজস্ব স্টলও। লেখকের ব্যক্তিগত সংগ্রহের অংশ হিসেবে অঙ্কুর প্রকাশনীর স্টলে নয়টি বই প্রদর্শিত হয়। প্রকাশকের স্বত্বাধিকারী মেসবাহউদ্দিন আহমদও মেলায় উপস্থিত ছিলেন। বিক্রির দিক থেকে কিছু বই ভালো সাড়া পেয়েছে। বিশেষ করে “গণবাহিনীর দিনগুলি”, “বাংলা কেন ৪৭-এ স্বাধীন হলো না” এবং “বীরোত্তম কর্নেল তাহের ও লাল নভেম্বর” বইগুলো বেশি বিক্রি হয় বলে জানা গেছে।   প্রকাশকরা জানান, প্রবাসে বই পড়ার সময় সীমিত হলেও বইপ্রেমী একটি নির্দিষ্ট শ্রেণি নিয়মিত বই সংগ্রহ করেন। অনেকেই আগে থেকেই পছন্দের বই অর্ডার করে রাখেন।   তবে অনেক ক্ষেত্রে বই বিক্রি থেকে যাতায়াত ও আয়োজন খরচও ওঠে না। তবুও প্রবাসীদের মধ্যে বাংলা বই ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ ধরে রাখতে প্রকাশকরা নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন।   আয়োজন ঘিরে কিছু সাংগঠনিক বিভাজন ও ভিন্ন মেলা আয়োজনের বিষয়ও সামনে আসে। তবে প্রত্যাশার বিপরীতে মূল বইমেলায় দর্শক ও অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতি কমেনি, বরং স্বাভাবিক ধারায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।   মেলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা বইমেলার আয়োজন অব্যাহত রেখেছেন, যা প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ২৩:৫৯
সম্মাননা গ্রহণ করছেন লেফটেন্যান্ট ফজিলাতুন নেছা | ছবি: বাংলাদেশী আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন

এনওয়াইপিডির সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লেফটেন্যান্ট ফজিলাতুন নেছা

আমেরিকায় রাতারাতি ধনী হওয়ার নতুন পথ । গ্রাফিক্স আমেরিকা বাংলা

যেভাবে রাতারাতি ধনী হচ্ছে আমেরিকায় মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় সর্বোচ্চ আয়ের পেশা চক্ষু চিকিৎসা, বছরে আয় সাড়ে তিন লাখ ডলার

নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র, জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে স্বল্প আয়ের বাসিন্দাদের ভাড়া কমাতে নতুন আবাসন পরিকল্পনা, ১০ বছরে ২ লাখ ঘর গড়ার পরিকল্পনা

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সবচেয়ে কম আয়ের ভাড়াটেদের জন্য ভাড়ার বোঝা কমাতে একটি নতুন আবাসন পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার এই পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। এতে "অত্যন্ত স্বল্প আয়ের" বাসিন্দারা, অর্থাৎ চার সদস্যের পরিবারে বার্ষিক আয় ৫০,৮৮০ ডলার বা তার কম, নগর-ভর্তুকির অ্যাপার্টমেন্টে আয়ের ৩০ শতাংশের বদলে কেবল ২৫ শতাংশ ভাড়া দেবেন।   নগর গৃহায়ন সংরক্ষণ ও উন্নয়ন বিভাগের (এইচপিডি) কমিশনার দিনা লেভি বলেছেন, "আমরা ভাবছি 'কার জন্য সাশ্রয়ী' এই প্রশ্নটা নিয়ে।" তিনি জানান, নতুন ভাড়ার হার কার্যকর হবে জুন ২০২৬ বা তার পরে অর্থায়ন চূড়ান্ত হওয়া এইচপিডি-অর্থায়িত নতুন প্রকল্পগুলোতে। ভাউচার ব্যবহারকারী পরিবারগুলো এর আওতায় পড়বেন না।   "যখন শ্রমজীবী মানুষদের এই শহর থেকে ঠেলে বের করা হচ্ছে, তখন অর্ধেক পদক্ষেপ বা দেরি করার সুযোগ নেই। এই পরিকল্পনা আবাসন সংকটের জরুরিতাকে সেভাবেই মোকাবিলা করছে যেভাবে দরকার।" জোহরান মামদানি, মেয়র, নিউ ইয়র্ক সিটি   দশ বছরে ২ লাখ ঘর মামদানি প্রশাসন আগামী দশ বছরে দুই লাখ সাশ্রয়ী ঘর নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, পরবর্তী দুই বছরে প্রতি বছর আট হাজার নতুন সাশ্রয়ী অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করা হবে, যা আগের দুই বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে বছরে প্রায় দুই হাজার ৪০০টি অ্যাপার্টমেন্ট হবে এলাকার মধ্যমান আয়ের ৩০ শতাংশ বা তার কম উপার্জনকারীদের জন্য এবং এক হাজার ৬০০টি হবে মধ্যমান আয়ের ৩১ থেকে ৫০ শতাংশ উপার্জনকারী পরিবারের জন্য।   কমিশনার লেভি জানিয়েছেন, বিদ্যমান সাশ্রয়ী আবাসন সংরক্ষণ, গৃহমালিকানার সুযোগ তৈরি এবং মূলধনি তহবিল ছাড়াই কর সুবিধার মাধ্যমে নির্মাণ ত্বরান্বিত করে দুই লাখ ঘরের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।   এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রশাসন বছরে এক হাজার নতুন প্রবীণ আবাসন তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের গড়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। নতুন কৌশলে শুধু বয়স্কদের জন্য আলাদা প্রকল্পের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের মানুষের জন্য মিশ্র প্রজন্মভিত্তিক আবাসন নির্মাণও করা হবে।   "ফেডারেল সরকার সাশ্রয়ী আবাসনে তাদের দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। সেকশন ৮-এ সম্প্রসারণ হচ্ছে না, বরং কোথাও কোথাও কমছে। তাই মিশ্র প্রজন্মের প্রকল্পগুলো সেকশন ৮ না বাড়িয়েই বেশি প্রবীণ আবাসন তৈরির পথ দেখাচ্ছে।" দিনা লেভি, কমিশনার, এইচপিডি   পরিকল্পনায় আবাসনের বিভিন্ন দিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান সাশ্রয়ী অ্যাপার্টমেন্ট রক্ষা করা, নতুন অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ, ভবন বিধি প্রয়োগ এবং নতুন আবাসন নির্মাণ উৎসাহিত করতে ভূমি ব্যবহারে পরিবর্তন আনা। প্রথম পর্যায়ের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং পরিকল্পনার বিভিন্ন ধাপ ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হবে বলে কমিশনার জানিয়েছেন।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ১৮:২৫
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, বেড়েছে প্রশ্ন ও কঠিন হয়েছে উত্তর

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, বেড়েছে প্রশ্ন ও কঠিন হয়েছে উত্তর

মিশিগানে বাংলা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি ঘোষণা । ছবি: সংগৃহীত

মিশিগানে বাংলা প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব সভাপতি সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সাহেল

ছবি: অ্যাশলে স্যাটানোস্কি

ফ্লোরিডা কিজ: যুক্তরাষ্ট্রের অনন্য প্রবালদ্বীপমালা

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি (ডানে বিশ্বকাপ ২০২৬, টিকিটের ছবি) । ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বিশ্বকাপ টিকিট লটারিতে ব্যাপক সাড়া, মাত্র ৩ মিনিটে শেষ নিবন্ধন

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে নিউইয়র্কে টিকিট লটারির নিবন্ধনে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই নির্ধারিত দৈনিক আবেদনসীমা পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে কর্তৃপক্ষ নতুন আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।   নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির উদ্যোগে সাধারণ বাসিন্দাদের জন্য স্বল্পমূল্যে বিশ্বকাপ ম্যাচের টিকিট নিশ্চিত করতে এই লটারির আয়োজন করা হয়। মেয়রের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান, নিবন্ধন শুরুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক মানুষ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করায় আবেদনসীমা দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়।   এই কর্মসূচির আওতায় নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন মোট ১ হাজার বিশ্বকাপ টিকিট সংগ্রহ করেছে। প্রতিটি টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ ডলার, যা আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় অনেক কম। লটারিতে নির্বাচিত ব্যক্তিরা সর্বোচ্চ দুটি টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন।   এছাড়া নির্বাচিতদের জন্য নিউইয়র্ক থেকে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম পর্যন্ত বিনামূল্যে বাসসেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে আগ্রহ বাড়ছে। কম দামে টিকিট পাওয়ার সুযোগ থাকায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই লটারি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা গেছে। অনেকেই অল্প সময়ের মধ্যে নিবন্ধন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি টিকিট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।   উল্লেখ্য, আগামী ফুটবল বিশ্বকাপ যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক শহরগুলোতে ইতোমধ্যে নিরাপত্তা, পরিবহন ও দর্শকসেবা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ১৫:৩৫
ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলেসে ৪০তম ফোবানার আয়োজন নিয়ে এক নজরে বিস্তারিত সব তথ্য

ডেমোক্র্যাট নেতা ও বর্তমান স্টেট সিনেটর নাবিলা ইসলাম | ছবি: সংগৃহীত

জর্জিয়ায় রানঅফ নির্বাচনে লড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর নাবিলা ইসলাম পার্কস

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনে শীর্ষে মেক্সিকো, বাংলাদেশিদের অবস্থান কোথায়

0 Comments