সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

পোষা প্রাণী

মালিকের হাঁটার ধরন নকল করছে বিলি
মালিকের মতোই খুঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করল কুকুর, চিকিৎসায় ৪০০ ডলার খরচের পর মিলল মজার ব্যাখ্যা

ব্রিটেনের এক ব্যক্তির পায়ে চোট লাগার পর তাঁর পোষা কুকুরও খুঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করে। প্রিয় পোষা প্রাণীটির এমন আচরণ দেখে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান মালিক। কুকুরটির পায়ে কোনো সমস্যা হয়েছে কি না, তা জানতে পশুচিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান তিনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও এক্স-রে করাতে খরচ হয় প্রায় ৪০০ ডলার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে ব্যাখ্যা সামনে আসে, তা অবাক করার পাশাপাশি অনেকের মুখে হাসিও ফুটিয়েছে।   ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা রাসেল জোনস ও তাঁর পোষা কুকুর বিলিকে ঘিরে। ২০২১ সালে তাঁদের এই গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কুকুরের আচরণ নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক কৌতূহল। ঘটনার শুরু রাসেলের গোড়ালিতে চোট পাওয়ার পর। হাঁটাচলা করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে পা ফেলতে পারছিলেন না তিনি। চলাফেরার জন্য ক্রাচের সাহায্য নিতে হচ্ছিল তাঁকে। চোটের কারণে রাসেল যখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন, তখন তাঁর পোষা কুকুর বিলিও সামনের একটি পা তুলে হাঁটতে শুরু করে। মালিকের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বিলির এই অস্বাভাবিক হাঁটার ধরন দেখে মনে হচ্ছিল, কুকুরটিরও বুঝি পায়ে ব্যথা হয়েছে। প্রথম দিকে বিষয়টি রাসেলের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রিয় কুকুরটির পায়ে সত্যিই কোনো আঘাত লেগেছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তিনি পশুচিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। বিলির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করার পাশাপাশি এক্স-রেও করানো হয়। সব মিলিয়ে রাসেলের খরচ হয় প্রায় ৪০০ ডলার। কিন্তু পরীক্ষায় বিলির খুঁড়িয়ে হাঁটার পেছনে কোনো স্পষ্ট শারীরিক সমস্যা খুঁজে পাননি চিকিৎসকেরা। এরপর তাঁরা ধারণা দেন, বিলি হয়তো তার মালিকের হাঁটার ধরন অনুকরণ করছে। এই ধারণার পেছনে আরেকটি মজার বিষয় ছিল। বাড়িতে খেলাধুলা করার সময় বিলিকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দেখা যেত বলে জানা যায়। অথচ মালিকের পাশে হাঁটার সময়ই তার খুঁড়িয়ে চলার বিষয়টি বেশি চোখে পড়ত। ফলে কুকুরটির আচরণ নিয়ে চিকিৎসকদের ধারণাটি আরও আলোচনার জন্ম দেয়। তবে বিলি ঠিক কী কারণে এমন করছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। সে সচেতনভাবে মালিকের হাঁটার ভঙ্গি নকল করছিল, নাকি অন্য কোনো কারণে এমন আচরণ করছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। চিকিৎসকদের ধারণাটি ছিল মূলত তার শারীরিক পরীক্ষার ফলাফল ও আচরণ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে। ২০২১ সালে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই বিলির আচরণকে মালিকের প্রতি মমতা ও সঙ্গ দেওয়ার একটি মজার উদাহরণ হিসেবে দেখেন। পোষা কুকুরের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কতটা গভীর হতে পারে, তা নিয়েও শুরু হয় আলোচনা। কুকুর মানুষের আচরণ ও চলাফেরার ধরন অনুকরণ করতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে এমন আচরণের পেছনে একই কারণ থাকে না। বিলির গল্পও তাই একদিকে যেমন হাস্যরসের, অন্যদিকে তেমনি মানুষ ও পোষা প্রাণীর সম্পর্ক নিয়ে ভাবার মতো একটি ঘটনা। রাসেলের প্রায় ৪০০ ডলার খরচের এই অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত শুধু কুকুরের চিকিৎসার গল্প হয়ে থাকেনি। বরং মালিকের পাশে খুঁড়িয়ে হাঁটা বিলি হয়ে উঠেছে মানুষ ও তার পোষা প্রাণীর বন্ধনের এক স্মরণীয় উদাহরণ।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
মহাসড়ক থেকে উদ্ধার হওয়া বিড়ালছানা সুইপ
চার লেনের ব্যস্ত মহাসড়ক পেরিয়ে বিড়ালছানাকে উদ্ধার, এরপর সামনে এল হৃদয়ছোঁয়া গল্প

ব্যস্ত মহাসড়কের গার্ডরেলের নিচে প্রায় চোখের আড়ালে লুকিয়ে ছিল ছোট্ট একটি বিড়ালছানা। পাশ দিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে যাচ্ছিল একের পর এক গাড়ি। যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারত প্রাণীটি। এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে বিড়ালছানাটির দুটি ছোট কান চোখে পড়ে উদ্ধারকর্মী টাজের। এরপর আর দেরি করেননি তিনি। চার লেনের ব্যস্ত সড়ক পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে যান অসহায় প্রাণীটিকে বাঁচাতে। সেই উদ্ধার অভিযানের মধ্য দিয়েই শুরু হয় ছোট্ট বিড়ালটির জীবনের নতুন অধ্যায়।   ঘটনাটি শুধু একটি প্রাণী উদ্ধারের গল্প নয়, বরং বিপদের মুখে থাকা একটি অসহায় প্রাণীর জন্য একজন মানুষের সাহসিকতা, মমতা ও দায়িত্ববোধের উদাহরণ। বিড়ালছানাটিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার পর জানা যায়, তার শারীরিক অবস্থাও ছিল বেশ নাজুক। উদ্ধারকর্মী টাজ যখন গার্ডরেলের নিচে বিড়ালছানাটিকে দেখতে পান, তখন প্রাণীটি ছিল ভীতসন্ত্রস্ত। চারপাশে দ্রুতগতির যানবাহন থাকায় তার জন্য বিপদ ছিল আরও বেশি। ছোট্ট প্রাণীটি কখন কোথায় চলে যায়, সেই আশঙ্কাও ছিল। তাই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ নেন টাজ। চার লেনের যানবাহনপূর্ণ সড়ক পার হয়ে সতর্কতার সঙ্গে গার্ডরেলের নিচে হাত বাড়িয়ে বিড়ালছানাটিকে উদ্ধার করেন তিনি। তবে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসার পরও স্বস্তির সুযোগ ছিল না। বিড়ালছানাটির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখা যায়, সে পানিশূন্যতায় ভুগছিল এবং তার ওজনও স্বাভাবিকের তুলনায় কম ছিল। প্রয়োজন ছিল যথাযথ চিকিৎসা, পুষ্টিকর খাবার এবং নিয়মিত যত্নের। মহাসড়কের তাৎক্ষণিক বিপদ থেকে রক্ষা পেলেও সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য তাকে আরও একটি কঠিন পথ পাড়ি দিতে হতো। বিড়ালছানাটির নাম রাখা হয় সুইপ। এরপর শুরু হয় তার সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াই। প্রয়োজনীয় যত্ন, ভালোবাসা ও ধৈর্যের মাধ্যমে ধীরে ধীরে উন্নতি করতে থাকে তার শারীরিক অবস্থা। যে ছোট্ট প্রাণীটি একসময় মহাসড়কের পাশে অসহায় অবস্থায় লুকিয়ে ছিল, সে ধীরে ধীরে ফিরে পেতে শুরু করে স্বাভাবিক জীবনের প্রাণচাঞ্চল্য। বর্তমানে সুইপ বেশ সুস্থ, চঞ্চল এবং প্রাণবন্ত। তার মধ্যে রয়েছে নিজস্ব ব্যক্তিত্বের প্রকাশ। সে বেশ ডাকাডাকি করে এবং নিজের উপস্থিতি জানান দিতে ভালোবাসে। বিপজ্জনক সড়কের পাশে অনিশ্চিত অবস্থায় পড়ে থাকা বিড়ালছানাটির জীবনে এখন অনেকটাই বদল এসেছে। কিন্তু তার জীবনের গল্পের শেষ অধ্যায় এখনো বাকি। সুইপের জন্য প্রয়োজন এমন একটি স্থায়ী পরিবার, যারা তাকে ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখবে এবং নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেবে। উদ্ধার ও সুস্থতার পর এখন তার অপেক্ষা একটি চিরস্থায়ী আশ্রয়ের। একটি সাহসী উদ্ধার অভিযান সুইপের জীবন বদলে দিয়েছে। এখন তার জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হতে পারে এমন একটি পরিবার, যেখানে সে আর কখনো একা বা অসহায় বোধ করবে না। মহাসড়কের বিপজ্জনক গার্ডরেলের নিচ থেকে শুরু হওয়া তার নতুন যাত্রা পূর্ণতা পাবে সেই দিন, যেদিন সে খুঁজে পাবে নিজের ভালোবাসার ঘর।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১৪:০
তুষারাবৃত পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হলো লুলুকে
আলাস্কায় তুষারধসে মালিকের কাছ থেকে হারিয়ে যায় লুলু, ৫০ ঘণ্টা পর মিলল জীবিত

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় তুষারধসের পর মালিকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল লুলু নামের একটি কুকুর। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দুই দিনেরও বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর তাকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় খুঁজে পেয়েছেন উদ্ধারকারীরা। প্রায় ৫০ ঘণ্টার উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে লুলুকে উদ্ধারের ঘটনাটি এখন তার মালিক ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কাছে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার স্মৃতি হয়ে আছে।   লুলু একটি হ্যাস্কিডুডল জাতের কুকুর। তার মালিক লরেন পাডাওয়ার চলতি মাসের শুরুতে ফেসবুকে এই উদ্ধারের ঘটনা তুলে ধরেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর লুলুর আরেক মালিক ব্রায়ান ও তাঁর এক hiking সঙ্গী আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ এলাকার চুগাচ স্টেট পার্কে পাহাড়ে হাঁটতে গিয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ তুষারধস শুরু হয়। এতে ব্রায়ান ও তাঁর সঙ্গী পাহাড়ের ঢাল বেয়ে প্রায় ৫০০ ফুট নিচে চলে যান। তুষারধসের ঘটনায় দুজনই গুরুতর আহত হন। পাডাওয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়, ব্রায়ানের সঙ্গীর চোয়াল ভেঙে যায়, মেরুদণ্ডের একটি কশেরুকায় ফাটল ধরে এবং হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। আহত অবস্থায় তাঁরা দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন। নিজেদের চেষ্টায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসার মতো পরিস্থিতি তাঁদের ছিল না। পরে উদ্ধারকারীরা ব্রায়ান ও তাঁর সঙ্গীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। কিন্তু সেই সময় লুলুকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তুষারধসের মধ্যে কুকুরটি ঠিক কোথায় ছিল, সে আহত হয়েছে কি না কিংবা তুষারের নিচে চাপা পড়েছে কি না—কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছিলেন না। লুলুর স্বভাব সম্পর্কে পাডাওয়ার জানান, সে পাহাড়ে ঘুরতে ভালোবাসে। সামনে এগিয়ে গিয়ে উঁচু জায়গা থেকে চারপাশ দেখতে পছন্দ করে। তবে স্বভাবে সে কিছুটা চুপচাপও। তুষারধসের পর এমন একটি বিশাল ও দুর্গম এলাকায় তার অবস্থান খুঁজে বের করা যে কঠিন হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল স্বাভাবিকভাবেই। ঘটনার সময় পাডাওয়ার দেশের বাইরে ছিলেন। তাই দূরে থেকেও তিনি লুলুকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম সংগঠিত করেন। নিখোঁজ হওয়ার সময় লুলুর গলায় একটি অ্যাপল এয়ারট্যাগ ছিল। তবে সেই ডিভাইস থাকা সত্ত্বেও প্রথম দফার অনুসন্ধানে কুকুরটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে অনুসন্ধানে যুক্ত হন ২০ জনেরও বেশি মানুষ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী, পাহাড়ে হাঁটার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি, হেলিকপ্টারচালক এবং ড্রোন পরিচালনাকারীরা। লুলুর এয়ারট্যাগ থেকে পাওয়া সংকেত অনুসন্ধানকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। তবে পাহাড়ি এলাকার দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে সংকেতের অবস্থান ধরে কুকুরটির কাছে পৌঁছানো সহজ ছিল না। প্রাথমিক অবস্থানও প্রকৃত জায়গা থেকে বেশ দূরে ছিল। প্রায় ৫০ ঘণ্টা পর হেলিকপ্টার নিয়ে অনুসন্ধানে বের হন আমান্ডা বার্কার ও ডেভ বেকেট। আকাশ থেকে তুষারে ঢাকা পাহাড়ের গায়ে লুলুকে দেখতে পান তাঁরা। এরপর হেলিকপ্টারটি প্রায় ২০ মিনিটের পথ দূরে অবতরণ করে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে লুলুর কাছে পৌঁছান উদ্ধারকারীরা। উদ্ধারকারীরা কাছে গিয়ে লুলুর নাম ধরে ডাকতেই সে সাড়া দেয়। কুকুরটিকে তখন সজাগ অবস্থায় দেখা যায় এবং সে ঘেউ ঘেউ করছিল। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পরও তাকে জীবিত দেখতে পাওয়া অনুসন্ধানকারীদের জন্য ছিল স্বস্তির মুহূর্ত। পরে তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়। লুলুর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার একটি পায়ের আঙুল ভেঙেছে এবং একটি দাঁতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব আঘাত ছাড়া সে মোটামুটি সুস্থ ছিল। দীর্ঘ সময় তুষারাবৃত পাহাড়ে একা থাকার পরও তার বেঁচে ফেরাকে সৌভাগ্যজনক বলেই মনে করছেন তার মালিক ও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত ব্যক্তিরা। ঘটনার সময় বিদেশে থাকা পাডাওয়ার দূর থেকেই উদ্ধার প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। লুলুকে খুঁজে পেতে যাঁরা সাহায্য করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে আমান্ডা বার্কার ও ডেভ বেকেটের সাহস, দক্ষতা এবং আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন। তাঁর ভাষায়, এই কঠিন সময়ে মানুষের সহযোগিতা ও উদারতা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। লুলুর সন্ধান পাওয়ার ঘটনা শুধু তার পরিবারের জন্যই স্বস্তির নয়, উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সবার জন্যও আবেগঘন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশে একটি পোষা প্রাণীকে খুঁজে বের করতে প্রযুক্তির সংকেতের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত চেষ্টা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, এই ঘটনাও তার উদাহরণ।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
পোষা প্রাণীর উপস্থিতি রাতে শব্দ, নড়াচড়া বা তাপের কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, বলছে গবেষণা

পোষা কুকুর বা বিড়ালকে পাশে নিয়ে ঘুমানো অনেকের কাছেই স্বস্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করে। তবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে, রাতে পোষা প্রাণীর সঙ্গে একই ঘরে বা একই বিছানায় ঘুমানোর অভ্যাস ঘুমের মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো মানুষের মধ্যে ঘুমের মান তুলনামূলকভাবে খারাপ এবং অনিদ্রার উপসর্গ বেশি দেখা যায়। তবে গবেষণাটি এমন অভ্যাসকে সরাসরি ঘুমের সমস্যার কারণ হিসেবে প্রমাণ করেনি।   গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের ঘুমের অভ্যাস নিয়ে প্রশ্নপত্র পূরণ করতে দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক জানিয়েছিলেন, রাতের অন্তত কিছু সময় তারা পোষা প্রাণীর সঙ্গে একই ঘরে ঘুমান। গবেষণায় ‘পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো’ বলতে একই বিছানায় শোয়া বোঝানো হয়নি শুধু, একই ঘরে রাতের কিছু সময় ঘুমানোও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।   এরপর গবেষকেরা পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো এবং না ঘুমানো ব্যক্তিদের ঘুমের অভ্যাস তুলনা করেন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, পোষা প্রাণীর সঙ্গে একই ঘরে ঘুমানো ব্যক্তিদের ঘুমের মান কম এবং অনিদ্রার উপসর্গ তুলনামূলক বেশি। বয়স, লিঙ্গসহ বিভিন্ন জনমিতিক পার্থক্য হিসাব করার পরও এই সম্পর্ক দেখা যায়। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, প্রশ্নপত্রভিত্তিক এই গবেষণা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোর কারণেই ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়েছে।   পোষা প্রাণীর ধরন বিবেচনা করলে গবেষণায় আরও একটি পার্থক্য পাওয়া যায়। কুকুরের সঙ্গে একই ঘরে ঘুমানোর ক্ষেত্রে ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া গেলেও বিড়ালের ক্ষেত্রে একই ধরনের সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোর প্রভাব সব প্রাণীর ক্ষেত্রে একই হতে পারে না। প্রাণীর নড়াচড়া, শব্দ, আকার এবং রাতে মানুষের ঘুমের মধ্যে তাদের আচরণও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন।   গবেষণার একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো অংশগ্রহণকারীদের ৯৩ শতাংশ মনে করেছিলেন, তাদের পোষা প্রাণী ঘুমের ওপর হয় ইতিবাচক নয়তো নিরপেক্ষ প্রভাব ফেলে। অর্থাৎ যারা নিজেদের ঘুমের মান নিয়ে সমস্যায় ছিলেন, তাদের অনেকেই সেই সমস্যার সঙ্গে পোষা প্রাণীর উপস্থিতির কোনো সম্পর্ক দেখেননি। গবেষকদের মতে, এই বিষয়টি ইঙ্গিত দিতে পারে যে অনেক মানুষ রাতে পোষা প্রাণীর কারণে ঘুমের ওপর তৈরি হওয়া সূক্ষ্ম ব্যাঘাত সম্পর্কে সচেতন নন।   তবে এর অর্থ এই নয় যে পোষা প্রাণী মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বরং দিনের বেলায় পোষা প্রাণী মানুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় বিভিন্নভাবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের সঙ্গে সময় কাটানো নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিতে পারে, দৈনন্দিন রুটিন ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং একাকিত্ব কমিয়ে সঙ্গ ও মানসিক স্বস্তি দিতে পারে। তাই পোষা প্রাণীর সামগ্রিক উপকারিতা এবং রাতে ঘুমের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।   গবেষকদের মতে, রাতে পোষা প্রাণী একই ঘরে থাকলে শব্দ, নড়াচড়া কিংবা শরীরের তাপমাত্রার মতো বিষয় ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে কেউ যদি ঘুমাতে যাওয়ার পর বারবার জেগে ওঠেন বা গভীর ঘুমে যেতে সমস্যা হয়, তাহলে ঘরের পরিবেশের এসব বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পোষা প্রাণীর উপস্থিতি মানসিক স্বস্তি দিলেও একই সময়ে তাদের ঘুমের ধারাবাহিকতায় সূক্ষ্ম ব্যাঘাত তৈরি হতে পারে।   তবে গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এটি ছিল জরিপভিত্তিক গবেষণা, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ঘুমের অভ্যাস সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। ফলে তাদের ঘুমের সমস্যা পোষা প্রাণীর কারণে হয়েছে কি না, তা সরাসরি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের সঙ্গী, সন্তান বা অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমাতেন কি না, সেই বিষয়টিও আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।   গবেষণাটির ফল প্রকাশিত হয় আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Scientific Reports-এ। গবেষণাপত্রটির শিরোনাম ছিল “Co-sleeping with pets, stress, and sleep in a nationally-representative sample of United States adults”। গবেষণার প্রধান লেখক ব্রায়ান এন. চিন ট্রিনিটি কলেজের মনোবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক। পরবর্তী সময়ে তিনি The Conversation-এ গবেষণার ফল ও এর তাৎপর্য নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন, যা পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম পুনঃপ্রকাশ করেছে।   যারা পোষা প্রাণীকে সঙ্গে নিয়েই ঘুমাতে চান, তাদের জন্য গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সাধারণ পরামর্শ দিয়েছেন। ঘুমানোর জায়গাটি যেন মানুষ ও পোষা প্রাণী উভয়ের জন্য যথেষ্ট প্রশস্ত হয়, তা নিশ্চিত করা যেতে পারে। বিছানার চাদর ও অন্যান্য কাপড় নিয়মিত পরিষ্কার ও পরিবর্তন করা এবং পোষা প্রাণীর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট রাতের রুটিন তৈরি করাও সহায়ক হতে পারে। তবে কোন অভ্যাস সবচেয়ে কার্যকর, তা নির্ধারণ করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।   সব মিলিয়ে গবেষণাটি পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোকে নিষিদ্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। বরং এটি দেখিয়েছে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোর অভ্যাসের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আরও সতর্কভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে কারও নিয়মিত ঘুমে সমস্যা থাকলে এবং রাতে পোষা প্রাণী একই ঘরে থাকলে, ঘুমের পরিবেশ ও অভ্যাসের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। ভবিষ্যতের গবেষণায় আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে কোন ধরনের মানুষ বা কোন ধরনের পোষা প্রাণীর ক্ষেত্রে এই প্রভাব বেশি দেখা যায়, সেটিও স্পষ্ট হতে পারে।   সূত্র: Scientific Reports, The Conversation

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিফিকা সৈকতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ডগ সার্ফিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয় বিভিন্ন প্রজাতির কুকুর। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে কুকুরদের বিশ্ব সার্ফিং প্রতিযোগিতা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে আবারও বসেছে বিশ্বের অন্যতম ব্যতিক্রমী সার্ফিং প্রতিযোগিতা। এবারের 'ওয়ার্ল্ড ডগ সার্ফিং চ্যাম্পিয়নশিপ'-এ বিভিন্ন জাত ও আকারের কয়েক ডজন কুকুর সার্ফবোর্ডে চড়ে ঢেউ জয়ের লড়াইয়ে অংশ নিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।   শনিবার উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিফিকা সৈকতে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় শত শত দর্শক ভিড় করেন। ল্যাব্রাডর, স্প্যানিয়েল, বুলডগ, মিনিয়েচার পিনশারসহ বিভিন্ন প্রজাতির কুকুর রঙিন সার্ফবোর্ডে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের ঢেউ পাড়ি দেয়। নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি কুকুরের গায়ে ছোট লাইফ জ্যাকেট পরানো হয়েছিল।   আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কুকুর সার্ফিং প্রতিযোগিতা। এখানে শুধু ঢেউয়ে ভেসে থাকা নয়, বরং কুকুর কতক্ষণ সার্ফবোর্ডে ভারসাম্য ধরে রাখতে পারে, কত বড় ঢেউ সফলভাবে অতিক্রম করে এবং সার্ফিংয়ের সময় তাদের আত্মবিশ্বাস কেমন, সেসব বিষয় বিবেচনা করে বিচারকেরা নম্বর দেন।   প্রতিযোগিতার সময় কুকুরগুলোর প্রশিক্ষকেরা উপযুক্ত ঢেউ ধরতে তাদের সহায়তা করেন। এরপর কুকুরগুলো নিজেরাই সার্ফবোর্ডে দাঁড়িয়ে ঢেউয়ের ওপর ভেসে চলে। কোনো কুকুর পানিতে পড়ে গেলে নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করেন।   শুধু প্রতিযোগিতাই নয়, আয়োজনের অংশ হিসেবে পোষা প্রাণী দত্তক গ্রহণ কার্যক্রম এবং প্রাণী কল্যাণে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার জন্য তহবিল সংগ্রহের ব্যবস্থাও রাখা হয়।   প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া মিনিয়েচার পিনশার প্রজাতির কুকুর 'রাস্টি'-র মালিক সোফিয়া স্যাডলোভস্কি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, মাত্র চার মাস বয়স থেকেই রাস্টির সার্ফিংয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। একদিন ছবি তোলার জন্য তাকে সার্ফবোর্ডে দাঁড় করানো হয়েছিল। কিন্তু সে বোর্ড থেকে নামতেই চাইছিল না। সোফিয়ার ভাষায়, "আমি তাকে সমুদ্রের একটি ঢেউয়ে ছেড়ে দিই, আর সে নিজেই সার্ফ করতে শুরু করে।"   সবুজ রঙের একটি লাইফ জ্যাকেট পরে রাস্টি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। একপর্যায়ে একটি ঢেউয়ে সার্ফবোর্ড উল্টে গেলে সে পানিতে পড়ে যায়। তবে পাশে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন।   সোফিয়া আরও জানান, রাস্টি শুধু ঢেউয়ের সঙ্গেই নয়, ক্যানসারের সঙ্গেও লড়াই করেছে। তার দাবি, তিনি এবং তার পোষা কুকুর দুজনই ক্যানসারকে পরাজিত করেছেন। এবারের প্রতিযোগিতায় ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের কুকুরদের জন্য আলাদা বিভাগ ছিল। এছাড়া মানুষ ও কুকুর একসঙ্গে একই সার্ফবোর্ডে অংশ নেওয়ার 'ট্যান্ডেম' বিভাগও দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।   সান ফ্রান্সিসকো থেকে প্রায় ১৬ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত প্যাসিফিকা শহরে প্রতিবছর এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রীড়া, বিনোদন এবং প্রাণী কল্যাণকে একসঙ্গে তুলে ধরার জন্য এটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০